অভিব্যক্তি অভিযোজন

অভিব্যক্তি অভিযোজন (চতুর্থ অধ্যায়) – মাধ্যমিক দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান প্রশ্ন ও উত্তর | West Bengal Madhyamik Class 10th Life Science Question and Answer  complete

MCQ প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – অভিব্যক্তি অভিযোজন (চতুর্থ অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer :

  1. ক্যাকটাসের কাঁটা যে অঙ্গের রূপান্তর সেটি হলো

(A) কাণ্ড /

(B) মূল /

(C) পাতা /

(D) ফুল

Ans: (C) পাতা

  1. আধুনিক ঘোড়ার নাম হলো—

(A) ইওহিপ্পাস /

(B) মেরিচিপ্পাস /

(C) ইকুয়াস /

(D) মেসোহিপ্পাস

Ans: (C) ইকুয়াস

  1. নীচের কোনটি আন্তঃপ্রজাতি সংগ্রামকে নির্দেশ করে তা শনাক্ত করো

(A) মশার লার্ভা খাওয়ার জন্য গাপ্পি মাছদের মধ্যে সংগ্রাম

(B) ইঁদুর ধরে খাওয়ার জন্য সাপ ও পেঁচার মধ্যে সংগ্রাম

(C) একই জায়গার ঘাস খাওয়ার জন্য একদল হরিণদের মধ্যে সংগ্রাম

(D) হরিণ শিকারের জন্য একটি জঙ্গলের বাঘদের মধ্যে সংগ্রাম ।

Ans: (B) ইঁদুর ধরে খাওয়ার জন্য সাপ ও পেঁচার মধ্যে সংগ্রাম

  1. ল্যামার্কের তত্ত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত শব্দগুচ্ছটি সঠিকভাবে নিরুপণ করো

(A) অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম

(B) প্রকরণের উৎপত্তি

(C) অর্জিত গুণের বংশানুসরণ

(D) প্রাকৃতিক নির্বাচন ।

Ans: (C) অর্জিত গুণের বংশানুসরণ

  1. পায়রার ফুসফুসের সঙ্গে যুক্ত বায়ুথলির সংখ্যা—

(A) 7 /

(B) 9 /

(C) 11 /

(D) 13

Ans: (B) 9

  1. নীচের কোন প্রাণীটি বিশেষ নৃত্যভঙ্গি দ্বারা নিজ দলের অন্য সদস্যদের সাথে খাদ্যের উৎস সংক্রান্ত তথ্য আদান প্রদান করে তা শনাক্ত করো (A) শিম্পাঞ্জি

(B) আরশোলা

(C) ময়ূর

(D) মৌমাছি ।

Ans: (D) মৌমাছি ।

  1. তিমির ফ্লিপার , পাখির ডানা ও মানুষের হাত হলো—

(A) সমসংস্থ অঙ্গ /

(B) সমবৃত্তীয় অঙ্গ /

(C) নিষ্ক্রিয় অঙ্গ /

(D) কোনোটিই নয় ।

Ans: (A) সমসংস্থ অঙ্গ

  1. কুমিরের হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের সংখ্যা

(A) 2 /

(B) 3 /

(C) 4 /

(D) 13

Ans: (C) 4

  1. ‘ ফিলোজফিক জুলজিক ‘ গ্রন্থটির লেখক হলেন

(A) মেন্ডেল /

(B) ডারউইন /

(C) অ্যারিস্টটল /

(D) ল্যামার্ক

Ans: (D) ল্যামার্ক

  1. সমসংস্থ অঙ্গ হলো—

(A) তিমির প্যাডেল , পাখির ডানা ও মানুষের হাত /

(B) পতঙ্গের ডানা /

(C) পাখির ডানা /

(D) উপরের কোনোটিই নয়

Ans: (A) তিমির প্যাডেল , পাখির ডানা ও মানুষের হাত

  1. জীবন সৃষ্টির সময় আদিম পরিবেশে নীচের কোনটি অনুপস্থিত ছিল ?

(A) CH , /

(B) NH , /

(C) CO ,

(D) O² ,

Ans: O²

  1. শ্বাসমূল ( নিউম্যাটাফোর ) দেখা যায়-

(A) পদ্ম /

(B) সুন্দরী /

(C) ক্যাকটাস /

(D) সবক’টিতে

Ans: (B) সুন্দরী

  1. মৌমাছির চক্রাকার নৃত্য সাহায্য করে—

(A) বাসস্থান সন্ধানে /

(B) প্রজননের জন্য /

(C) খাদ্যের সন্ধানে /

(D) শত্রুর হাত থেকে বাঁচার জন্য

Ans: (C) খাদ্যের সন্ধানে

  1. বাষ্পমোচন হ্রাসে পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হয়—

(A) পদ্ম /

(B) ওপানশিয়া /

(C) সুন্দরী /

(D) সবক’টিতে

Ans: (B) ওপানশিয়া

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – অভিব্যক্তি অভিযোজন (চতুর্থ অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer : 

  1. একটি জীবন্ত জীবাশ্ম উদ্ভিদের উদাহরণ দাও । 

Ans: গিংক্‌গো বাইলোবা ।

  1. আলুর স্ফীতকন্দ ও ফণীমনসার পর্ণকাণ্ড কী জাতীয় অঙ্গ ? 

Ans: সমসংস্থ অঙ্গ ।

  1. মৌমাছিদের ভাষা 1967 খ্রিস্টাব্দে কোন বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেন ? 

Ans: কার্ল ভন ফ্রিশ ।

  1. জীবাশ্ম বিষয়ক বিদ্যাকে কী বলে ? 

Ans: প্রত্ন জীববিদ্যা বাপ্যালিওণ্টলজি ।

  1. মানুষের একটি নিষ্ক্রিয় অঙ্গের নাম লেখো । 

Ans: অ্যাপেনডিক্স ।

  1. প্রথম উৎপন্ন নিউক্লিক অ্যাসিডটির নাম কী ? 

Ans: RNAT .

  1. উভচর প্রাণীর হৃৎপিণ্ডে কয়টি প্রকোষ্ঠ ? 

Ans: তিনটি ।

  1. ডারউইন কোন গ্রন্থে তাঁর ‘ প্রাকৃতিক নির্বাচনবাদ ’ – এর ব্যাখ্যা দেন ? 

Ans: ‘ অন দ্য অরিজিন অব স্পেসিস বাই মিস অব ন্যাচারাল সিলেকশন ’ গ্রন্থে ।

  1. বিবর্তনের ফলে উৎপন্ন কার্যহীন অঙ্গকে কী বলে ? 

Ans: নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলে ।

  1. জীবের উৎপত্তি সম্পর্কিত জৈবরাসায়নিক মতবাদের প্রশ্ন : প্রবক্তা কে ? 

Ans: ওপারিন ও হ্যালডেন ।

  1. বায়োজেনি কী ? 

Ans: আদিম কোশের উৎপত্তি ও জীবনের বিবর্তনের ঘটনা ।

  1. প্রাকৃতিক নির্বাচনবাদের প্রবক্তা কে ? 

Ans: চার্লস ডারউইন ।

  1. কুমিরের হৃৎপিণ্ডে প্রকোষ্ঠ সংখ্যা কত ? 

Ans: চার প্রকোষ্ঠ ।

  1. কোশের অগ্রদূত কাকে বলা হয় ? 

Ans: কোয়াসারভেটকে ।

  1. মৌমাছির বার্তা আদান প্রদানে কোন কোন নৃত্য সাহায্য করে ? 

Ans: চক্রাকার নৃত্য ও ওয়াগ্‌টেল নৃত্য ।

  1. ‘ ব্যবহার ও অপব্যবহার ‘ কার মতবাদ ? 

Ans: ল্যামার্কের ।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – অভিব্যক্তি অভিযোজন (চতুর্থ অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer : 

  1. মৌমাছিদের বার্তা আদান – প্রদান কৌশল সংক্ষেপে লেখো । 

Ans: মৌমাছিদের সামাজিক জীব বলে । এদের মধ্যে বার্তা আদান – প্রদানের উন্নত প্রক্রিয়া দেখা যায় । যেসব শ্রমিক মৌমাছি খাবার সন্ধান করে তাদের স্কাউট বলে । খাবারের সন্ধান পেলে শ্রমিক মৌমাছি দুই প্রকার নৃত্য করে—

চক্রাকার নৃত্য : যখন খাদ্যের উৎস 100 মিটারের মধ্যে ।

ওয়াল নৃত্য : যখন খাদ্যের উৎস 100 মিটারের বেশি তখন এই প্রকার নৃত্য করে । এটি দেখতে ইংরেজি 8 – এর মতো ।

  1. উটের জলক্ষয় কমানোর দু’টি অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো । 

Ans: উটের জলক্ষয় কমানোর অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য – এদের চামড়া রোমযুক্ত এবং পুরু আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে । ফলে বাষ্পীভবন কম হয় । ও এরা রেচন পদার্থকে শুষ্ক ইউরিক হিসেবে দেহ থেকে ত্যাগ করে । দেহে জলের পরিমাণ কমে গেলে এরা ঘন মূত্র ত্যাগ করে এবং দেহের জল সংরক্ষণ করে ।

  1. উটের RBC- এর অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য লেখো । 

Ans: উটের RBC ( লোহিত রক্তকণিকা ) ডিম্বাকার এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত হয় । উটের ডিহাইড্রেশনের সময় অভিস্রবণীয় চাপের তারতম্য বা বেশি পরিমাণে জলগ্রহণ করলেও অভিস্রবণীয় চাপের কম বা বেশিতে RBC ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না । কারণ RBC- র পর্দার প্রসারণ ক্ষমতা অনেক বেশি ।

  1. সমসংস্থ অঙ্গ কাকে বলে ? উদাহরণ দাও 

Ans:  যেসব অঙ্গ উৎপত্তি ও গঠনগতভাবে এক কিন্তু কার্যগতভাবে আলাদা তাদের সমসংস্থ অঙ্গ বলে ।

উদাহরণ : পাখির ডানা , মানুষের হাত ।

  1. জীব বিবর্তন বা জৈব অভিব্যক্তি কাকে বলে ?

Ans: যে মন্থর অথচ গতিশীল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূর্বপুরুষ অর্থাৎ উদ্‌ংশীয় সরল জীব থেকে নতুন ধরনের অপেক্ষাকৃত জটিল জীবের উদ্ভব ঘটে তাকে জীব বিবর্তন বা জৈব অভিব্যক্তি বলে ।

  1. দুইটি জীবন্ত জীবাশ্ম উদ্ভিদের উদাহরণ দাও ।

Ans: জীবন্ত জীবাশ্ম উদ্ভিদ – সাইকাস , গিংক্‌গো বাইলোবা ।

  1. বায়োজেনেটিক সূত্র কাকে বলে ? 

Ans: হেকেল বায়োজেনেটিক সূত্রের প্রবক্তা । তাঁর মতানুসারে প্রতিটি জীব ভ্রুণ অবস্থায় খুব অল্পসময়ের জন্য হলেও পূর্বপুরুষের আকৃতি ও গঠনকে পুনরাবৃত্তি করে , একে ‘ অনটোজেনি রিপিটস ফাইলোজেনি ‘ বা বায়োজেনেটিক সূত্র বলে ।

  1. জীবাশ্ম কাকে বলে ? 

Ans: জীবের সম্পূর্ণ দেহ বা দেহের কোনো অংশ লক্ষ লক্ষ বছর ধরে পাললিক হ º = শিলাস্তরে চাপা পড়ে থাকার ফলে জীবের সামগ্রিক বা দেহাংশের ছাপ বা ছাঁচ সংরক্ষিত হন থাকলে তাকে জীবাশ্ম বলে ।

  1. অপসারী অভিব্যক্তি কাকে বলে ? 

Ans: উৎপত্তি ও গঠনগতভাবে একইরকমের অঙ্গযুক্ত জীবদেহে বিভিন্ন পরিবেশে অভিযোজনের জন্য যে বিবর্তন দেখা যায় তাকে অপসারী অভিব্যক্তি বলে । উদাহরণ : ঘোড়ার অগ্রপদ , মানুষের হাত , তিমির ফ্লিপার ইত্যাদি অঙ্গের উৎপত্তি ও গঠন একই কিন্তু কাৰ্য আলাদা ৷

  1. ভেনাস হৃৎপিণ্ড কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।

Ans: মাছের তৃৎপিণ্ডে সর্বদা কার্বন ডাই – অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত প্রবাহিত হয় । তাই মাছের হৃৎপিণ্ডকে ভেনাস হৃৎপিণ্ড বলে ।

  1. জীবন্ত জীবাশ্ম কাকে বলে ? 

Ans: যেসকল জীব বহুবছর ধরে কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমসাময়িক ও সমগোত্রীয় জীব অনেক আগেই পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে , তাদের জীবন্ত জীবাশ্ম বা লিভিং ফসিল বলে ।

উদাহরণ : পেরিপেটাস নামক সন্ধিপদ প্রাণী , সিলাকান্ধ নামক মাছ , হংসচঞ্জু নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী ইত্যাদি হলো জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ ।

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – অভিব্যক্তি অভিযোজন (চতুর্থ অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer : 

  1. ল্যামার্কের অভিব্যক্তি সংক্রান্ত তত্ত্বের প্রতিপাদ্যের প্রধান দুটি বিষয় বর্ণনা করো । হৃৎপিন্ডের তুলনামূলক অংঙ্গসংস্থান কীভাবে অভিব্যক্তি মতবাদের স্বপক্ষে প্রমাণ হিসাবে কাজ করে ? 

Ans: 1. অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহারের সূত্র : পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজিত হওয়ার সময় কোনো কোনো অঙ্গ খুব বেশি ব্যবহার হওয়ার ফলে সবল ও সুগঠিত হয় । অন্যদিকে , কোনো কোনো অঙ্গ কম ব্যবহার হওয়ায় ধীরে ধীরে দুর্বল হয় এবং অবলুপ্ত হয়ে যায় । এটি অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহারের সূত্র নামে পরিচিত ।

  1. অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার সূত্র : ল্যামার্কের মতে পরিবেশে অভিযোজিত হওয়ার সময় যেসব বৈশিষ্ট্য অর্জিত হয় বা উৎপন্ন হয় তা বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হয় এবং জীবের বিবর্তনে সাহায্য করে । এটি অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার সূত্র বা অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ সূত্র নামে পরিচিত ।

যে মন্থর অথচ গতিশীল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূর্বপুরুষ অর্থাৎ উদ্বংশীয় সরল জীব থেকে নতুন ধরনের অপেক্ষাকৃত জটিল জীবের উদ্ভব ঘটে , তাকে বিবর্তন বা জৈব অভিব্যক্তি বলে ।

বিভিন্ন মেরুদণ্ডী প্রাণীর হৃৎপিণ্ডের তুলনামূলক অঙ্গসংস্থান থেকে অভিব্যক্তির প্রমাণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় । মাছ , উভচর , সরীসৃপ , পক্ষী ও স্তন্যপায়ীর হৃৎপিণ্ড ক্রমান্বয়ে জটিল থেকে জটিলতর হয়েছে । মাছের হৃৎপিণ্ড একটি অলিন্দ ও একটি নিলয় নিয়ে গঠিত । অলিন্দ দু’টি পর্দা দিয়ে পৃথক থাকায় দূষিত ও বিশুদ্ধ রক্ত পৃথক থাকে কিন্তু নিলয়ে একটি প্রকোষ্ঠ থাকায় দুইপ্রকার রক্ত মিশে যায় । সরীসৃপের দু’টি অলিন্দ এবং নিলয়টি অর্ধবিভক্ত , তাই দুইপ্রকার রক্ত পৃথক করার প্রবণতা লক্ষ করা যায় । পক্ষী ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর হৃৎপিণ্ড দু’টি অলিন্দ ও দুটি নিলয়যুক্ত , তাই দূষিত ও বিশুদ্ধ রক্ত পৃথকভাবে প্রবাহিত হয় । হৃৎপিণ্ডের গঠনগত পরিবর্তন থেকে সিদ্ধান্তে আসা যায় যে এরা সকলেই একই উদ্‌ংশীয় জীব থেকে উদ্ভূত হয়েছে এবং পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজনের ফলে ক্রমশ জটিল থেকে জটিলতর হয়েছে ।

  1. বিবর্তনের সপক্ষে ঘোড়ার জীবাশ্মের গুরুত্ব সংক্ষেপে বর্ণনা করো । 

Ans: ঘোড়ার বিবর্তন : আধুনিক যুগের ঘোড়া ইকুয়াস ইওসিন যুগের ইওহিপ্পাস নামক শিয়ালের মতো জীব থেকে সৃষ্টি হয়েছে । ঘোড়ার বিবর্তনের মুখ্য বৈশিষ্ট্যগুলি হলো

  1. ইওহিপ্পাস : ইওসিন যুগে সৃষ্টি হয় । উচ্চতা 40 cm । এদের অগ্রপদে চারটি ও পশ্চাদ্‌পদে তিনটি আঙুল ছিল । পেষকদাঁত খাঁজবিহীন । ইওহিপ্পাস থেকে মেসোহিপ্পাসের আবির্ভাব হয় ।
  2. মেসোহিপ্পাস : অলিগোসিন যুগে আবির্ভাব ঘটে । উচ্চতা 60 cm । দেখতে ভেড়ার মতো , অগ্র ও পশ্চাদ্‌পদে তিনটি আঙুল এবং মাঝের আঙুল মজবুত এবং লম্বা । তৃণভূমিতে বাস করত । মেসোহিপ্পাস থেকে মেরিচিপ্পাসের উৎপত্তি হয় ।
  3. মেরিচিপ্পাস : মায়োসিন যুগে আবির্ভাব ঘটে । অগ্র ও পশ্চাপদে আঙুলের সংখ্যা তিনটি কিন্তু শুধু মাঝেরটি মাটি স্পর্শ করত । উচ্চতা 100 cm , পেষক ও পুরপেষক ক্রাউনযুক্ত । এদের থেকে প্লিওহিপ্পাসের উৎপত্তি হয় ।
  4. প্লিওহিপ্পাস : প্লায়োসিন যুগে আবির্ভাব ঘটে । উচ্চতা 108 cm , মাঝের আঙুল লম্বা , মজবুত এবং খুরযুক্ত । দেখতে অনেকটা আধুনিক ঘোড়ার মতো । প্লিওহিপ্পাস থেকে বর্তমান ঘোড়ার আবির্ভাব হয় ।
  5. ইকুয়াস ( আধুনিক ঘোড়া ) : প্লিস্টোসিন যুগে আবির্ভাব হয় । উচ্চতা 1.5-16 | মিটার , মাঝের আঙুল মজবুত ও ক্ষুরযুক্ত । পেষক ও পুরুপেষক ক্রাউনযুক্ত ।
  6. জীবনের রাসায়নিক উৎপত্তির সংক্ষিপ্ত রূপরেখা মিলার ও ঊরের পরীক্ষার সাহায্যে বর্ণনা করো । 

Ans: মিলার ও ঊরের পরীক্ষা প্রমাণ করে জীবনের রাসায়নিক উৎপত্তি সঠিক । তার জন্য তারা একটি বড়ো গোলাকার কাঁচের ফ্লাক্সে CH ,, NH , ও H , গ্যাস 2 : 2 : 1 অনুপাতে নিয়ে জলীয় বাষ্পে রেখে , অন্য একটি গোলতল কাঁচের ফ্লাক্স থেকে ফোটানো জলীয় বাষ্প নলের সাহায্যে ঐ বড়ো ফ্লাক্সে পাঠান । এরপর বড়ো ফ্লাক্সে টাংস্টেন ইলেকট্রোডের সাহায্যে 60,000 ভোল্টের বিদ্যুৎ পাঠান । এবার ঘনীভবন যন্ত্রে উৎপন্ন হওয়া জৈব যৌগ U আকৃতির নলে জলীয় মাধ্যমে জমা হয় । প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এই ঘটনা ঘটার পরে তারা উৎপন্ন জৈব যৌগগুলি শনাক্ত করে । তারা পেলেন গ্লাইসিন , অ্যালানিন ইত্যাদি অ্যামাইনো অ্যাসিড । এমনকী তাঁরা অ্যাডেনিনও পেয়েছিলেন ।

এই পরীক্ষা থেকেই রাসায়নিক সংশ্লেষবাদ , জীবন উৎপত্তির ক্ষেত্রে বড় প্রমাণ সত্য হিসাবে পরিগণিত হয় । অর্থাৎ সরল যৌগ থেকেই ধীরে ধীরে জটিল জৈব যৌগের উৎপত্তি ।

  1. নয়া ডারউইনবাদ বলতে কী বোঝায় ? ডারউইনবাদের ত্রুটি উল্লেখ করো । 

Ans: ভাইসম্যান , হুগো দ্য ভ্রিস , গোল্ডস্মিথ , হ্যালডেন প্রমুখ বিজ্ঞানী ডারউইনের তত্ত্বকে বা মতবাদকে নতুন করে আণবিক জীববিদ্যা , জেনেটিক্স , বাস্তুবিদ্যা প্রভৃতির আলোকে বর্ণনা করেছেন যা নয়া ডারউইনবাদ বা আধুনিক সংশ্লেষণবাদ [ Modern Synthetic Theory ] নামে পরিচিত ।

ডারউইনবাদের ত্রুটি : 1) ডারউইন দেহকোশ ও জননকোশের প্রকরণকে পৃথক করতে পারেননি । 2) ডারউইন প্রকরণের বর্ণনা করলেও প্রকরণের উৎপত্তির কারণ বর্ণনা করেননি । 2) ডারউইন যোগ্যতমের উদ্বর্তন বর্ণনা করলেও এর কারণ সঠিকভাবে বর্ণনা করতে পারেননি । 4) ডারউইন পরিব্যক্তি বা মিউটেশনকে ‘ প্রকৃতির খেলা ‘ বলেছিলেন ।

  1. জলজ অভিযোজনে রুই মাছের পটকার এবং খেচর প্রাণী হিসেবে পায়রার বায়ুথলির গুরুত্ব আলোচনা করো । 

Ans: রুই মাছের পটকার ভূমিকা : রুই মাছের জলজ অভিযোজনে পটকা অন্যতম ভূমিকা পালন করে । রুই মাছের পটকা দেহগহ্বরে অবস্থান করে । পটকা দুই প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট । অগ্রপ্রকোষ্ঠে রেড গ্রন্থি থাকে যা গ্যাস সৃষ্টি করে এবং পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠে রেটিয়া মিরাবিলিয়া গ্রন্থি থাকে যা গ্যাস শোষণ করে । পটকাতে গ্যাস উৎপন্ন হলে দেহ হালকা হয় এবং মাছ জলে ভাসে । আবার পটকাতে গ্যাস শোষিত হলে দেহ ভারী হয় এবং মাছ জলের নীচে নেমে যায় । এইভাবে মাছের পটকা মাছকে জলে ভাসতে এবং জলের নীচে নামতে সাহায্য করে ।

পায়রার বায়ুথলির ভূমিকা : বায়ুতে ওড়ার জন্য পায়রার বায়ুথলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । পায়রার ফুসফুসের সঙ্গে 9 টি বায়ুথলি ( Air Sac ) যুক্ত থাকে । বায়ুথলিগুলি বায়ুপূর্ণ থাকার জন্য দেহ হালকা হয় , ফলে সহজেই পায়রা উড়তে পারে । বায়ুথলি ওড়ার সময় দেহের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে ।

  1. অভিব্যক্তির সপক্ষে পরোক্ষ প্রমাণ হিসেবে মেরুদণ্ডী প্রাণীদের অগ্রপদের সদৃশ ব্যাখ্যা করো । 

অথবা , সমসংস্থ অঙ্গ বলতে কী বোঝায় ? উদাহরণ দিয়ে বোঝাও । 

Ans: সমসংস্থ অঙ্গ : বিভিন্ন প্রকার প্রাণীর যে সকল অঙ্গ উৎপত্তিগত ও গঠনগতভাবে একই কিন্তু কার্য আলাদা তাদের সমসংস্থ অঙ্গ বা হোমোলোগাস অর্গান ( Homologous organ ) বলে ।

উদাহরণ : পাখির ডানা , বাদুড়ের ডানা , সিল বা তিমির অগ্রপদ ( ফ্লিপার ) , ঘোড়ার অগ্রপদ এবং মানুষের অগ্রপদ ( হাত ) হলো সমসংস্থ অঙ্গ । কারণ এদের উৎপত্তি ও গঠন একই রকমের । প্রত্যেকটি অঙ্গ হিউমেরাস , রেডিয়াস ও আলনা , করপাল , মেটাকরপাল এবং ফ্যালেঞ্জস অস্থি নিয়ে গঠিত এবং প্রত্যেকটি পেকটোরাল গার্ডেল নামক হাড়ের সঙ্গে যুক্ত । বিভিন্ন প্রকার কাজ করে , যেমন— পাখি ও বাদুড়ের অগ্রপদ ওড়ার জন্য , তিমির অগ্রপদ ( ফ্লিপার ) সাঁতার কাটার জন্য , ঘোড়ার অগ্রপদ দৌড়ানোর জন্য , মানুষের অগ্রপদ বিভিন্ন প্রকার কাজ করার জন্য ব্যবহার হয় ।

সমসংস্থ অঙ্গগুলি থেকে বোঝা যায় যে উক্ত জীবগুলির উৎপত্তি একই জায়গা থেকে অর্থাৎ পূর্বপুরুষ একই কিন্তু বিভিন্ন পরিবেশে বসবাসের জন্য অভিযোজনের ফলে বিভিন্ন অঙ্গের গঠনগত পরিবর্তন হয়েছে ।

  1. ল্যামার্কের মতবাদের সপক্ষে এবং বিপক্ষে একটি করে উদাহরণ দাও । ল্যামার্কবাদের সঙ্গে ডারউইনবাদের পার্থক্য লেখো । 

Ans: ল্যামার্কবাদের সপক্ষে উদাহরণ : ল্যামার্কের মতে বহুবছর আগে ছোটো গলাযুক্ত জিরাফের আবির্ভাব হয়েছিল । পরবর্তীকালে ঘাস ও ছোটো উদ্ভিদ হ্রাস পাওয়ার কারণে খাদ্যাভাব দেখা দেয় , ফলে জিরাফ উঁচু গাছের পাতা খাওয়ার চেষ্টা করে এবং কালক্রমে লম্বা গলা ও লম্বা পাযুক্ত জিরাফের আবির্ভাব হয় ।

ল্যামার্কের মতবাদের বিপক্ষে উদাহরণ : বিজ্ঞানী ভাইসম্যান ইঁদুরের ওপরে পরীক্ষা করে ল্যামার্কের মতবাদকে ভুল বলে যুক্তি দেন । তিনি প্রথমে একজোড়া ইঁদুর দম্পতির লেজ কেটে দেন এবং প্রজনন ঘটান । দেখা গেল অপত্যদের লেজ আছে । তিনি এইভাবে 35 জনু পর্যন্ত লেজ কাটলেন , তা সত্ত্বেও লেজবিহীন ইঁদুর সৃষ্টি করা সম্ভব হয়নি ।

  1. জীবাশ্ম কাকে বলে ? জীবাশ্মের গুরুত্ব লেখো ।

Ans: জীবাশ্ম : দীর্ঘকাল যাবৎ ভূগর্ভের পাললিক শিলাস্তরে চাপা পড়ে থাকা জীবের সমগ্র দেহ বা আংশিক দেহ বা ছাপকে জীবাশ্ম বলে । জীবাশ্ম সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে প্রত্নজীববিদ্যা বা প্যালেনটোলজি বলে ।

জীবাশ্মের গুরুত্ব – 1) জীবাশ্ম অভিব্যক্তির প্রত্যক্ষ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে ।

2) জীবাশ্ম আধুনিক যুগের জীবের পূর্বপুরুষের অস্তিত্ব খুঁজে পেতে সাহায্য করে ।

3) জীবাশ্ম প্রাণী বা উদ্ভিদের বয়স ও সৃষ্টির সময়কাল জানতে সাহায্য করে ।

4) জীবাশ্ম লুপ্ত প্রাণী ও উদ্ভিদের ভৌগোলিক বিস্তার জানতে সাহায্য করে ।

5) জীবাশ্ম দু’টি ভিন্ন গোষ্ঠীর প্রাণী বা উদ্ভিদের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী জীবের অধ্যয়নে এবং এক প্রকার জীব থেকে অপর প্রকার জীবের উৎপত্তির বিষয়ে ধারণা দিতে সাহায্য করে ।

  1. অভিযোজন কাকে বলে ? অভিযোজনের তিনটি গুরুত্ব লেখো । 

Ans: সংজ্ঞা : পরিবর্তনশীল পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার জন্য জীবদেহের গঠনগত , শারীরবৃত্তীয় এবং আচরণগত স্থায়ী পরিবর্তন যা বিবর্তনে সাহায্য করে তাকে অভিযোজন বলে । — অভিযোজনের গুরুত্ব বা উদ্দেশ্য 1) পরিবর্তনশীল পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করে । 2) অভিযোজন প্রতিকূল পরিবেশকে সহজে অতিক্রম করতে সাহায্য করে । 3) অভিযোজন জীবকে আত্মরক্ষায় সাহায্য করে ।

  1. জাঙ্গল উদ্ভিদ বা জেরোফাইট কাকে বলে ? ক্যাকটাসের অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো । 

Ans: জেরোফাইট : ক্যাকটাস জাতীয় উদ্ভিদ যেমন ফণীমনসা , শতমূলী ইত্যাদি | শুষ্ক ও বালুকাময় পরিবেশে জন্মায় । এদের জাঙ্গল বা জেরোফাইট বলে । এদের অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্যগুলি হলো—

কাণ্ড : 1) কাণ্ড রসালো , সবুজ ও চ্যাপ্টা । একে পর্ণকাণ্ড বলে ( ফণীমনসা ) । খর্বাকার এবং কাষ্ঠল হয় । 2) বাষ্পমোচন রোধ করার জন্য কাণ্ডের ত্বক পুরু , কিউটিকলযুক্ত ।

মূল :  1) মূল সুগঠিত , দীর্ঘ ও শাখাপ্রশাখাযুক্ত ।

পাতা : 1) বাষ্পমোচনের হার কমানোর জন্য পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত ।

  1. নিম্নলিখিত অঙ্গগুলির অভিযোজনগত গুরুত্ব উল্লেখ করো । – 1) সুন্দরীর শ্বাসমূল , 2) ক্যাকটাসের পাতা , 3) রুই মাছের পটকা , 4) পায়রার বায়ুথলি । 

Ans: 1. সুন্দরীর শ্বাসমূল : লবণাক্ত মাটিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকায় বেশ কিছু শাখা – প্রশাখা , মূল মাটির উপরে উঠে আসে । এদের শ্বাসমূল বলে । শ্বাসমূলের অসংখ্য ছিদ্র দিয়ে উদ্ভিদ অক্সিজেন গ্রহণ করে ।

  1. ক্যাকটাসের পাতা : বাষ্পমোচন রোধ করার জন্য ক্যাকটাসের পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হয়েছে ।
  2. রুই মাছের পটকা : রুই মাছের পটকা মাছকে জলের উপরে ভাসতে ও জলের নীচে নামতে সাহায্য করে ।
  3. পায়রার বায়ুথলি : পায়রার বায়ুথলি দীর্ঘক্ষণ ওড়ার সময় অতিরিক্ত অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং দেহের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে ।
  4. উটের লোহিত রত্তকণিকার আকৃতি : উটের লোহিত রক্তকণিকা তুলনামূলকভাবে বড়ো , ডিম্বাকার ও নিউক্লিয়াসযুক্ত । ফলে উট অভিস্রবণীয় চাপের তারতম্য সহ্য করতে পারে । বেশি পরিমাণে জলগ্রহণ করলেও লোহিত রক্তকণিকা ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না ।

=====================================

অভিব্যক্তি ও অভিযোজন (অধ্যায়-৪)

এক কথায় উত্তর দাও : (মান – 1) দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান – অভিব্যক্তি ও অভিযোজন (অধ্যায়-৪) সাজেশন | WBBSE Class 10th Life Science Suggestion

  1. আনুমানিক কতদিন আগে জীবের উৎপত্তি ঘটেছিল ?

Answer : আনুমানিক 300 কোটি বছর আগে জীবের উৎপত্তি ঘটেছিল ।

  1. প্ৰথম সৃষ্ট দুটি হাইড্রোকার্বনের নাম লেখো ।

Answer : প্রথম সৃষ্ট দুটি হাইড্রোকার্বন হল—মিথেন (CH4),অ্যাসিটিলিন (C2H2) ইত্যাদি ।

  1. মাইক্রোস্ফিয়ার প্রবক্তা তত্ত্বের কে ?

Answer : মাইক্রোস্কিয়ার তত্বের প্রবক্তা হলেন বিজ্ঞানী ফক্স (1965) ।

  1. ঘোড়ার আদি পূর্বপুরুষের নাম কী ?

Answer : আদি পূর্বপুরুষের নাম হল ইওহিপ্পাস ।

  1. ইওহিপ্পাস কোন যুগের জীবাশ্ম ?

Answer : ইওহিপ্পাস হল ইওসিন যুগের জীবাশ্ম ।

  1. প্রাকৃতিক নির্বাচনবাদের প্রবক্তা কে ?

Answer : প্রাকৃতিক নির্বাচনবাদের প্রবক্তা হলেন চার্লস রবার্ট ডারউইন ।

  1. হোমোলজি কাকে বলে ?

Answer : জীবের অভ্যন্তরীণ গঠন সাদৃশ্যযুক্ত সমরূপ অঙ্গের সৃষ্টির ঘটনাকে হোমোলজি বলে ।

  1. কোন শ্রেণির প্রাণীর হৃৎপিন্ড দু-প্রকোষ্ঠ যুক্ত ?

Answer : মৎস্য শ্রেণির প্রাণীর হৃৎপিন্ড দু-প্রকোষ্ঠ যুক্ত হয় ।

  1. কীরূপ বিবর্তনের ফলে সমসংস্থ অঙ্গের উৎপত্তি হল ?

Answer : অভিসারী বিবর্তনের ফলে সমসংস্থ অঙ্গের উৎপত্তি ঘটে ।

  1. দুটি প্রাণী জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ দাও ।

Answer : দুটি প্রাণী জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ হল সিলাকান্থ পেরিপেটাস ।

  1. সরীসৃপ ও পক্ষীর সংযোগী জীবাশ্মটির নাম কী ?

Answer : সরীসৃপ ও পক্ষীর সংযোগী জীবাশ্মটির নাম হল আর্কিওপটেরিক্স ।

  1. মানুষের চোখে অবস্থিত লুপ্ত অঙ্গ কোনটি ?

Answer : মানুষের চোখে অবস্থিত লুপ্তপ্ৰায় অগাহল নিকটিটেটিং পর্দা ।

  1. ঘোড়ার বিজ্ঞানসম্মত নাম কী ?

Answer : Equus equus ।

  1. পত্রযুক্ত ক্যাকটাস পত্ররন্ধ্রের প্রকৃতি কী ?

Answer : পত্ৰযুক্ত ক্যাকটাসে পত্ররন্ধ্রগুলি নিমজিত প্রকৃতির হয় ।

  1. পায়রার ফুসফুসের সঙ্গে কতগুলি বায়ুথলি বা এয়ার স্যাক যুক্ত থাকে ?

Answer : পায়রার ফুসফুসের সঙ্গে 9টি বায়ুথলি বা এয়ার স্যাক যুক্ত থাকে ।

  1. অস্থিবিশিষ্ট মাছেদের পটকার অগ্রপ্রকোষ্ঠে অবস্থিত গ্যাস উৎপাদনকারী অঙ্গটির নাম কী ?

Answer : অস্থিবিশিষ্ট মাছেদের পটকার অগ্রপ্রকোষ্ঠে অবস্থিত গ্যাস উৎপাদনকারী অঙ্গটির নাম হল রেড গ্ল্যান্ড ।

  1. উটের RBC-র বৈশিষ্ট্য কী যা জল নিরুদন হ্রাস করে ?

Answer : উটের RBC বড়ো, ডিম্বাকার ও নিউক্লিয়াসযুক্ত যা জল নিরুদন হ্রাস করে ।

  1. মৌমাছির কয়প্রকার নৃত্য দেখা যায় ?

Answer : মৌমাছির চক্রাকার নৃত্য এবং ‘৪’ আকৃতির ওয়াগটেল নৃত্য দেখা যায় ।

  1. মিলার ও উরের পরীক্ষার প্রধান উপাদানগুলি কী ছিল ?

Answer : মিলার ও উবের পরীক্ষার প্রধান উপাদানগুলি হল মিথেন, অ্যামোনিয়া ও হাইড্রোজেন ।

  1. ‘প্রাকৃতিক নির্বাচন’ কার মতবাদ ?

Answer : ‘প্রাকৃতিক নির্বাচন’ ডারউইন-এর মতবাদ ।

  1. আধুনিক ঘোড়ার আদি পূর্বপুরুষের নাম কী ছিল ?

Answer : আধুনিক ঘোড়ার আদি পূর্বপুরুষের নাম ছিল ইয়োহিপ্পাস ।

  1. কোন প্রাণীর হৃৎপিণ্ডকে ভেনাস হৃৎপিণ্ড বলে ?

Answer : মাছের হৃৎপিণ্ডকে ভেনাস হৃৎপিণ্ড বলে ।

  1. পায়রার বায়ুথলির সংখ্যা কটি ?

Answer : পায়রার বায়ুথলির সংখ্যা 9 টি।

  1. শ্বাসমূল কোন গাছে দেখা যায় ?

Answer : শ্বাসমূল সুন্দরী গাছে দেখা যায় ।

  1. ‘বায়োজেনেটিক সূত্র’-এর প্রবক্তা কে?

Answer : ‘বায়োজেনেটিক সূত্র’-এর প্রবক্তা হলেন হেকেল ।

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : (মান – 1) দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান – অভিব্যক্তি ও অভিযোজন (অধ্যায়-৪) সাজেশন | WBBSE Class 10th Life Science Suggestion

  1. ‘রাসায়নিক বিবর্তনবাদের’ স্রষ্টা হলেন – a. ওপারিন b. হ্যাসলে c. হ্যালডেন d. হ্যালডেন এবং ওপারিন

Answer :[d] হ্যালডেন এবং ওপারিন

  1. কোয়াসারভেট তত্ত্বের প্রবক্তা ছিলেন – a. হ্যালডেন b. ওপারিন c. ফক্স d. হ্যাসলে

Answer :[b]ওপারিন

3.বিবর্তন সংক্রান্ত ‘প্রাকৃতিক নির্বাচনবাদ’ -এর প্রবক্তা হল – a. ল্যার্মাক b. হেকেল c. হুগো দ্য ভ্রিস d. ডারউইন

Answer :[d] ডারউইন

  1. আধুনিক ঘোড়া হল – a. ইওহিপ্পাস b. ইকুয়াস c. মেসোহিপ্পাস d. প্লায়োহিপ্পাস

Answer :[b] ইকুয়াস

  1. অর্ধবিভক্ত নিলয় দেখা যায় যে শ্রেণির প্রাণীদের তা হল – a. মৎস্য b. উভচর c. সরীসৃপ d. পক্ষী ও স্তন্যপায়ী

Answer :[c] সরীসৃপ

  1. ডারউইনবাদের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়টি হল – a. অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহার b. অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম c. প্রাকৃতিক নির্বাচন d. উত্তরাধিকার

Answer :[c] প্রাকৃতিক নির্বাচন

  1. একটি অলিন্দ ও একটি নিলয় নিয়ে গঠিত হৃৎপৃন্ডযুক্ত প্রাণীটি হল – a. মাছ b. ব্যাং c. সাপ d. কুমির

Answer :[a] মাছ

  1. ইঁদুর নিয়ে পরীক্ষা করে ল্যামার্কের তত্ত্বকে ভুল প্রমাণিত করেন – a. ভাইসমান b. হুগো দ্য ভ্রিস c. ডারউইন d. ভাইসম্যান

Answer :[d] ভাইসম্যান

  1. রাইনিয়া যে দুটি উদ্ভিদ বিভাগের সংযোগী উদ্ভিদ সেটি হল – a. ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটা b. টেরিডোফাইটা ও জিমনোস্পার্ম c. জিমনোস্পার্ম ও আর্কিওস্পার্ম d. একবীজপত্রী ও দ্বিবীজপত্রী

Answer :[a] ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটা

  1. অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ মতবাদটির প্রবর্তক হলেন – a. ডারউইন b. ভাইসম্যান c. ল্যামার্ক d. ডানিকেন

Answer :[c] ল্যামার্ক

  1. আর্কিওপটেরিক্স-এর জীবাশ্ম যে দুটি শ্রেণির প্রাণীর মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে তা হল – a. সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ী b. পক্ষী ও স্তন্যপায়ী c. উভচর ও সরীসৃপ d. সরীসৃপ ও পক্ষী

Answer :[d] সরীসৃপ ও পক্ষী

  1. যে সকল উদ্ভিদ রুক্ষ, শুষ্ক, উষর পরিবেশে জন্মায় তাদের বলে – a. হ্যালোফাইট b. মেসোফাইট c. হাইড্রোফাইট d. জেরোফাইট

Answer :[d]জেরোফাইট

  1. নিউম্যাটোফোর দেখা যায় – a. আম গাছে b. ফণীমনসাতে c. পাইন গাছে d. সুন্দরী গাছে

Answer :[d] সুন্দরী গাছে

  1. মৌমাছির বাৰ্তা প্রদানের নৃত্যের মহড়া দেখতে – a. ‘S’ আকৃতির b. ‘6’ আকৃতির।c. ‘৪’ আকৃতির d. ‘0’ আকৃতির।

Answer :[c] ‘8’আকৃতির

  1. মাছের দেহের দুপাশে অবস্থিত ‘v’ আকৃতির পেশিকে বলে – a. কোরাকো ব্রাকিয়ালিস b. পেক্টোরালিস c. বাইসেপস d. মায়োটোম পেশি

Answer :[d] মায়োটোম পেশি

  1. মাছের পটকায় অবস্থিত বিশেষ রক্তজালকটি হল – a. রেডগ্রন্থি b. পেকটিন c. নিউম্যাটিক নালি d. রেটিয়া মিরাবিলিয়া

Answer :[d] রেটিয়া মিরাবিলিয়া

  1. যে অভিযোজিত বৈশিষ্ট্য সুন্দরী গাছে দেখা যায় না,তা হলো – a. শ্বাসমূল b. বীজযুক্ত ফল c. পুরু কিউটিকলযুক্ত পাতা d. জরায়ুজ অস্কুরোদগম

Answer :[d] জরায়ুজ অস্কুরোদগম

  1. ‘যোগ্যতমের উদৰ্তন’ কথাটির সমর্থক কে? – a. ডারউইন b. ল্যামার্ক c. ডি-ভ্রিস d. স্পেনসার

Answer :[a] ডারউইন

  1. ডারউইন তত্ত্বের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়টি হল- a. পৃথভবন b. স্বাধীন বণ্টন। c. প্রাকৃতিক নির্বাচন d. উত্তরাধিকার

Answer :[c] প্রাকৃতিক নির্বাচন।

  1. ঘোড়ার আদি পূর্বপুরুষ কোনটি ? – a. প্লায়োহিপ্পাস b. মেসোহিপ্পাস c. ইওহিপ্পাস d. ইকুয়াস

Answer :[c] ইওহিপ্পাস

  1. পটকার কোথায় রেড গ্ৰন্থি থাকে ? – a. অগ্র প্রকোষ্ঠে b. পশ্চাদ প্রকোষ্ঠে c. উভয় প্রকোষ্ঠে

Answer :[d] কোনোটিই নয়

  1. শ্বাসমূল থাকে – a. সুন্দরী গাছে b. বট গাছে c. ক্যাকটাস উদ্ভিদে d. পদ্ম গাছে

Answer :[a]সুন্দরী গাছে

  1. উটের রক্তকণিকা শতকরা কত শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে – a. 240% b. 260% c. 215% d. 200%

Answer :[a] 240%

  1. নিউম্যাটোফোর হল – a. কান্ডরন্ধ্র b. পত্ররন্ধ্র c. শ্বাসরন্ধ্র . কোনোটিই সঠিক নয়

Answer :[c] শ্বাসরন্ধ্র

শূন্যস্থান পূরণ করো: (মান – 1) দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান – অভিব্যক্তি ও অভিযোজন (অধ্যায়-৪) সাজেশন | WBBSE Class 10th Life Science Suggestion

  1. Evolution শব্দটির আক্ষরিক অর্থ ক্রমবিকাশ __________ ।

Answer :[ক্রমবিকাশ]

  1. জীবনের উৎপত্তি সম্পর্কে আধুনিক মতবাদের প্রবক্তা ________ ।

Answer :[বিজ্ঞানী হেকেল]

  1. প্রথম প্রাণের সৃষ্টি হয়েছিল ________ ।

Answer :[সমুদ্র জলে]

  1. জৈব রাসায়নিক মতবাদের সত্যতা প্রমাণ করেন বিজ্ঞানী ________ ।

Answer :[উরে ও মিলার]

  1. পৃথিবীর প্রথম জীবকোশ হল ________ ।

Answer :[কোয়াসারভেট]

  1. উচ্চ উস্নতায় পদার্থের দ্রুত প্রসারণকে ________ ।

Answer :[বিগ ব্যাং]

  1. জীববিদ্যা শব্দটি প্রথম প্রবর্তন করেন। ________ ।

Answer :[ল্যামার্ক]

  1. যোগ্যতমের উদৰ্তন মতবাদের প্রবক্তা ________ ।

Answer :[ডারউইন]

  1. জার্মপ্লাজম তত্ত্বের প্রবক্তা ________ ।

Answer :[ভাইসম্যান]

  1. হুগো দ্য ভ্রিস হলেন ________ প্রবক্তা ।

Answer :[মিউটেশন তত্ত্বের]

  1. ________ অভিব্যক্তি ও অভিযোজন অভিব্যক্তির ফলে সমসংস্থ অঙ্গ গঠিত হয় ।

Answer :[অপসারী]

  1. ________ একটি জীবন্ত জীবাশ্ম ।

Answer :[প্লাটিপাস]

  1. পাখির ডানা ও বাদুড়ের ডানা ________ অঙ্গের উদাহরণ ।

Answer :[সমবৃ্ত্তিয়]

  1. ঘোড়ার প্রাচীনতম আদিপুরুষের জীবাশ্মটির নাম ________ ।

Answer :[ইয়োহিপ্পাস]

  1. ________ হল আধুনিক ঘোড়া।

Answer :[ইকুয়াস]

  1. ________ হল মায়োসিন যুগের ঘোড়া ।

Answer :[মেরিচিহিপ্পাস]

  1. মানুষের অ্যাপেনডিক্স একটি ________ অঙ্গ ।

Answer :[লুপ্তপ্রায়]

  1. অস্তিত্বের জন্য জীবন সংগ্রাম হল ________ ।

Answer :[ডারউনের]

  1. ­­­­­­­­________­­­ একটি মিসিং লিংক ।

Answer :[আর্কিওপটেরিক্স]

  1. ক্যাকটাসের কাণ্ডকে______বলে ।

Answer :[পর্ণকাণ্ড]

  1. রুইমাছের পাখনা সংখ্যা______ ।

Answer :[সাতটি]

  1. শ্বাসমূল দেখা যায়_______গাছে।

Answer :[সুন্দরী]

  1. পায়রার চোখে_________ থাকায় দৃষ্টি শক্তি প্রখর হয় ।

Answer :[পেকটিন]

  1. পায়রার হৃৎপিন্ডে প্রকোষ্ঠ সংখ্যা________।

Answer :[চারটি]

  1. ‘মৌমাছির ভাষা’ আবিষ্কার করেন_________বিজ্ঞানী

Answer :[কার্ল ভন ফ্রিশ]

  1. ভৌত শুষ্ক মৃত্তিকা হল_______ মৃত্তিকা।

Answer :[বালুকাময়]

  1. মৌমাছির নৃত্য_______ প্রকার ।

Answer :[দুই]

  1. উটের দেহে জল পাওয়া যায়_______ বিপাকেরফলে ।

Answer :[ফ্যাট]

  1. একটি গৌণ খেচর অভিযোজিত প্রাণী হল ______ ।

Answer :[উরুক্কু মাছ]

  1. আধুনিক ঘোড়ার নাম________।

Answer :[ইকুয়াস]

  1. নিউম্যাটোফোর থাকে________উদ্ভিদে।

Answer :[সুন্দরী]

  1. ‘অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহার’______ সূত্র।

Answer :[ল্যামার্কের]

নীচের বিবৃতিগুলি সত্য না মিথ্যা লেখো : (মান – 1) দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান – অভিব্যক্তি ও অভিযোজন (অধ্যায়-৪) সাজেশন | WBBSE Class 10th Life Science Suggestion

  1. Evolution কথাটির অর্থ ক্রমবিকাশ । [T]
  2. অভিব্যক্তি যদি জীবের ক্রমবিকাশের ফল হয় তবে অভিযোজন হল এর কারণ । [T]
  3. ওপারিন ও হ্যালডেন জীবের জৈব রাসায়নিক উৎপত্তি সম্পর্কে মতবাদ প্রকাশ করেন । [T]
  4. প্রায় 400 কোটি বছর আগে পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছিল । [F]
  5. কার্বনিফেরাস যুগে উভচর থেকে সরীসৃপের সৃষ্টি হয় । [T]
  6. অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ ল্যামার্কের মতবাদ। [T]
  7. হুগো দ্য ভ্রিস মিউটেশন তত্ত্বের প্রবক্তা । [T]
  8. কুমিরের হৃৎপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠ যুক্ত । [T]
  9. মাছের হৃৎপিণ্ড ভেনাস হৃৎপিণ্ড । [T]
  10. প্লিওহিসাসের অপর নাম হায়ারোকোথেরিয়াম । [F]
  11. ডারউইন রচিত মানব বিবর্তন সম্বন্ধীয় গ্রন্থটি হল ‘দ্য ভিসেন্ট অফ ম্যান’ । [T]
  12. সায়ানোজেন মতবাদের প্রবক্তা লুই পাস্তুর । [F]
  13. প্রাণের উৎপত্তির জন্য নিউক্লিক অ্যাসিড সবচেয়ে প্রয়োজনীয় । [T]
  14. জীবের স্বতঃস্ফূৰ্ত উদ্ভবতত্ত্বের প্রথম বিরোধিতা করেন বিজ্ঞানী পাস্তুর । [F]
  15. উট পাখির লুপ্তপ্ৰায় অগটি হল ডানা । [T]
  16. একটি অমেরুদণ্ডী জীবন্ত জীবাশ্বের উদাহরণ স্কেনোডন । [F]
  17. জৈব অভিব্যক্তির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও বলিষ্ঠ প্রমাণ হল জিবাশ্ম । [T]
  18. প্রথম সৃষ্ট নিউক্লিক অ্যাসিড হল RNA । [T]
  19. মেসোজোয়িক যুগে মানুষের আবির্ভাব ঘটে । [F]
  20. সিডনি ফক্স মাইক্লোস্কিয়ারের নাম কোয়াসারভেট । [F]
  21. লিমিউলাস একটি উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ । [F]
  22. জাঙ্গল উদ্ভিদের উদাহরণ হল সুন্দরী । [F]
  23. ক্যাকটাসের কাণ্ডকে ফাইলোক্লেড বলে। [T]
  24. পায়রার পিত্তাশয় থাকে না । [T]
  25. সুন্দরী গাছের শ্বাসমূল দেখা যায় । [T]
  26. উটের কুঁজে সঞ্চিত প্রোটিন বিপাক ক্রিয়ায় বিশ্লিষ্ট হয়ে জল উৎপন্ন করে । [F]
  27. উটের ফুসফুসের সঙ্গে বায়ুথলি যুক্ত থাকে । [F]
  28. উটের রক্তে অবস্থিত গ্লোবিউলিন প্রোটিন দেহে জলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে । [F]
  29. উটের RBC গোলাকার না ডিম্বাকার হওয়ায় RBC-এর প্রকৃত আয়তন প্রায় 240-250% বৃদ্ধি পায়। [T]
  30. পরজীবীর দ্বারা সৃষ্ট রোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শিম্পাঞ্জি অ্যাসিপিলিয়ান রুডিস নামক ঔষধি গাছ ব্যবহার করে । [T]
  31. রানি মৌমাছির উদরে ন্যাসোনভ গ্রন্থি থাকে যা থেকে ফিরোমোন নিঃসরণ করে । [F]
  32. খাদ্যের উৎস 100 মিটারের বেশি দূরত্বে থাকলে মৌমাছি ওয়াগল নৃত্য পরিবেশন করে । [T]
  33. উটের চক্ষুপল্লব লম্বা লম্বা লোম দ্বারা ঘেরা থাকে । [T]
  34. আধুনিক ঘোড়ার পূর্বপুরুষ হল ইওহিপ্পাস । [T]
  35. ক্যাকটাস জেরোফাইট উদ্ভিদ । [T]

বিসদৃশ শব্দটি বেছে লেখো : (মান – 1) দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান – অভিব্যক্তি ও অভিযোজন (অধ্যায়-৪) সাজেশন | WBBSE Class 10th Life Science Suggestion

  1. প্রোটিন, হাইড্রোজেন, মিথেন, অ্যামোনিয়া ।Answer :[প্রোটিন]
  2. কক্সিস, অগ্ন্যাশয়, উপপল্লব, অ্যাপেনডিক্স ।Answer :[অগ্ন্যাশয়]
  3. ভাইসম্যান, ফোর্ড, রাইট, স্পেনসার ।Answer :[স্পেনসার]
  4. ঘোড়ার অগ্রপদ, মানুষের অগ্রপদ, প্রজাপতির ডানা ।Answer :[প্রজাপতির ডানা]
  5. শালুক, পদ্ম, পানিফল, ফণীমনসা ।Answer :[ফণিমনসা]
  6. পায়রা, বাদুড়, চামচিকা, উড়ুক্ক মাছ ।Answer :[উড়ুক্ক মাছ]
  7. রুইমাছ, পটকা, মাকু আকৃতি, চক্রাকার নৃত্য ।Answer :[চক্রাকার নৃত্য]
  8. মৌমাছি, মৌভাষা, ওয়াটার স্যাক, ওয়াগটেল নৃত্য ।Answer :[ওয়াটার স্যাক]

অন্তর্গত বিষয়টি খুঁজে বার করো : (মান – 1) দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান – অভিব্যক্তি ও অভিযোজন (অধ্যায়-৪) সাজেশন | WBBSE Class 10th Life Science Suggestion

  1. যোগ্যতমের উদবর্তন, প্রাকৃতিক নির্বাচন, ডারইউনবাদ, অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম ।Answer :[ডারইউনবাদ]
  2. জীবন্ত জীবাশ্ম, সিলাকান্থ, লিমিউলাস, স্ফেনোডন ।Answer :[জীবন্ত জীবাশ্ম]
  3. ভেদ, যোগ্যতমের উদবর্তন, ডারউইনবাদ, প্রাকৃতিক নির্বাচন ।Answer :[ডারউইনবাদ]
  4. পেকটিন, বায়ুথলি, পায়রা , নিউমেটিক অস্থি ।Answer :[পায়রা]
  5. লবণাম্বু উদ্ভিদ, ঠেসমূল, শ্বাসমূল, জরায়ুজ অকুরোদঙ্গম ।Answer :[লবণাম্বু উদ্ভিদ]
  6. অৰ্ধকঠিন মূত্র, ডিম্বাকার RBC, ওয়াটার স্যাক, উটের অভিযোজন ।Answer :[উটের অভিযোজন]

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : (মান – 2) দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান – অভিব্যক্তি ও অভিযোজন (অধ্যায়-৪) সাজেশন | WBBSE Class 10th Life Science Suggestion

  1. অভিব্যক্তি বা জৈব অভিব্যক্তি বা জীব বিবর্তন কাকে বলে ?

Answer : যে মন্থর ও গতিশীল ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় কোনো সরল উদ্রবংশীয় জীব থেকে ক্রমান্বয়ে জিনগত ভাবে ভিন্ন নতুন জটিলপ্রজাতির উদ্ভব হয়, তাকে অভিব্যক্তি বলে ।

  1. কোয়াসারভেট কী ?

Answer : ওপারিন (1920)-এর মতে প্রোটিন যৌগগুলি উত্তপ্ত তরল স্যুপ থেকে পৃথক হয়ে একত্রীভূত হয়ে যে দ্বিতীয় আবরণযুক্ত ও প্রোটিন, লিপিড ও কার্বোহাইড্রেট দ্বারা গঠিত কোলয়েড জাতীয় পদার্থ গঠন করেছিল তাকে কোয়াসারভেট বলা হয়। এর থেকে আদিমতম কোশ বা প্রোটোসেল উৎপন্ন হয়েছিল ।

  1. নিউক্লিক অ্যাসিড কীভাবে গঠিত হয়েছিল ।

Answer : গরম তরল স্যুপের মধ্যস্থ নিউক্লিওটাইডগুলি যুক্ত হয়েনিউক্লিক অ্যাসিড গঠিত হয়েছিল। বিজ্ঞানীরা অনুমান করেন প্রথমে RNA গঠিত হয়েছিল, এবং পরে DNA গঠিত হয় ।

  1. যোগ্যতমের উদবর্তন বলতে কী বোঝো ?

Answer : ডারউইনের মধ্যে ত্রিধারা জীবন সংগ্রামের পথে যে সব জীব সহায়ক বা অনুকূল অভিযোজনমূলক বৈশিষ্ট্য অর্জন করে, তারাই জীবন সংগ্রামে জয়ী হয় এবং বেঁচে থাকার অধিকারী হয়; অন্যরা কালক্রমে অবলুপ্ত হয়। জীবন সংগ্রামে এই উত্তরণকে যোগ্যতমের উদবর্তন বলে ।

  1. জীবাশ্ম কী ?

Answer : ভূগর্ভে সুদীর্ঘকাল যাবৎ সংরক্ষিত অধুনালুপ্ত প্রাচীন সামগ্রিক জীবের বা জীবদেহাংশের প্রস্তরীভূত অবস্থা অথবা জীবের সম্পূর্ণ দেহ বা দেহাংশের ছাপ ও ছাঁচ অথবা প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষিত সম্পূর্ণ জীবদেহ বা দেহাংশকে জীবাশ্ম বা ফসিল বলে ।

  1. উদ্ভিদের সমসংস্থ অঙ্গের উদাহরণ দাও এবং তাদের মধ্যে গঠনগত সাদৃশ্যগুলি লেখো ।

Answer : উদ্ভিদের কয়েকটি সমসংস্থ অঙ্গ হলো: -আদা, আলু, ওল, পেয়াজ ইত্যাদি। এগুলি সবই ভুনিম্নস্থ কাণ্ড। এদের মধ্যে সাদৃশ্যগুলি হল –পর্ব, পর্বমধ্য, মুকুল,শল্কপত্র ইত্যাদি ।

  1. মৎস্য, উভচর, সরীসৃপ, পক্ষী ও স্তন্যপায়ীদের হৃৎপিণ্ডের মধ্যে আচরণগত মিল কোথায় ?

Answer : সকলক্ষেত্রেই হৃৎপিন্ড (i) রক্ত সংগ্রাহী প্রকোষ্ঠ অলিন্দ এবং রক্তপ্রেরক প্রকোষ্ঠ নিলয় সহযোগে গঠিত। (ii) হৃদপেশি দ্বারা গঠিত। (iii) হৃৎপিণ্ড পাম্প যন্ত্রের মতো কাজ করে রক্ত সংবহনের কাজে নিযুক্ত থাকে ।

  1. যোগ্যতমের বিবর্তন বলতে কী বোঝায় ?

Answer : যোগ্যতম বলতে বোঝায় “অনেকের মধ্যে যে যোগ্য” এবং উদবর্তন হলো “জীবনে সংগ্রাম করে প্রকৃতিতে টিকে থাকা ”। ডারউইনের মতে যে সকল জীব প্রকৃতিতে সংগ্রাম করে প্রকরণ বা ভেদ সৃষ্টির মাধ্যমে পরিবেশে নিজের অস্তিত্ব বাচিয়ে রাখে বা টিকে থাকে তারাই প্রকৃতিতে নির্বাচিত হয়। আর যারা বাঁচতে পারে না তারা পৃথিবী থেকে অবলুপ্ত হয়ে যায়। ডারউইন একে যোগ্যতমের উদবর্তন বলেন।

উদাহরণ – অনুকূল ভেদ সৃষ্টির মাধ্যমে লম্বা গলাযুক্ত জিরাফ পৃথিবীতে বেঁচে আছে এবং প্রতিকূল প্রকরণের জন্য ছোটো বা খর্ব গলাযুক্ত জিরাফ পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

  1. আর্কিওপটেরিক্সের দুটি পক্ষীর বৈশিষ্ট্য লেখো।

Answer : (i)দেখতে পাখির মতো, চঞ্চু থাকে। (ii) অগ্রপদ ডানায় রূপান্তরিত।

উদ্ভিদের দু’টি নিস্ক্রিয় অঙ্গের উদাহরণ দাও।

(i)স্টামিনোড – পুংকেশরের রূপান্তর, উদাহরণ – কালকাসুন্দা।

(ii)পিন্টিলোড – গৰ্ভকেশরের রূপান্তর, উদাহরণ – শতমূলী।

  1. চারটি জীবন্ত জীবাশ্ন প্রাণীর উদাহরণ দাও।

Answer : জীবন্ত জীবাশ্ম : লিমুলাস, পেরিপেটাস, স্ফেনোডন, সিলাকান্থ।

  1. অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ বলতে কী বোঝায় ?

Answer : ল্যামার্কের মতবাদ অনুসারে পরিবেশের প্রভাবে ব্যবহার ও অব্যবহারের মাধ্যমে যে বৈশিষ্ট্য অর্জিত হয় তা বংশানুক্রমে সঞ্চারিত হয় এবং জীবের অভিব্যক্তিতে সাহায্য করে। একে অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ বলে। এটি অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার সূত্র নামে পরিচিত।

  1. পার্থক্য লেখো : সমসংস্থ অঙ্গ ও সমবৃত্তীয় অঙ্গ।
সমসংস্থ অঙ্গ সমবৃত্তীয় অঙ্গ
1. এই অঙ্গাগুলি উৎপত্তি ও গঠনগতভাবে একই রকমের। 1. এই অঙ্গাগুলি উৎপত্তি ও গঠনগতভাবে ভিন্ন রকমের।
2. সমসংস্থ অঙ্গের কাজ আলাদা । 2. সমবৃত্তীয় অঙ্গের কাজ একই রকম।
3. উদাহরণ—পাখি ও বাদুড়ের ডানা, তিমির অগ্রপদ, ঘোড়ার অগ্রপদ। 3. পাখির ডানা ও প্রজাপতির ডানা।
  1. জীবন্ত জীবাশ্ম কাকে বলে ?

Answer : যে সকল জীব বহুবছর ধরে কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমসাময়িক ও সমগোত্রীয় জীব অনেক আগেই পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তাদের জীবন্ত জীবাশ্ম বা লিভিং ফসিল বলে।

উদাহরণঃ পেরিপেটাস নামক সন্ধিপদ প্রাণী,সিলাকান্থ নামক মাছ, হংসচঞ্চু

নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী ইত্যাদি হলো জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ।

  1. RBC-এর অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য লেখো।

Answer : উটের RBC (লোহিত রক্তকণিকা) ডিম্বাকার এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত । উটের ডিহাইড্রেশনের সময় অভিস্রবণীয় চাপের তারতম্য বা বেশি পরিমাণে জলগ্রহণ করলেও অভিস্রবণীয় চাপের কম বা বেশিতে RBC ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। কারণ RBC -র পর্দার প্রসারণ ক্ষমতা অনেক বেশি।

  1. মৌমাছির একটি আচরণ সংক্ষেপে লেখো।

অথবা, মৌমাছিদের বার্তা আদানপ্রদান কৌশল সংক্ষেপে লেখো।

Answer : মৌমাছিদের সামাজিক জীব বলে। এদের মধ্যে বার্তা আদানপ্রদানের উন্নত প্রক্রিয়া দেখা যায়। যে সব শ্রমিক মৌমাছি খাবার সন্ধান করে তাদের স্কাউট বলে। খাবারের সন্ধান পেলে শ্রমিক মৌমাছি দুই প্রকার নৃত্য করে

(i) চক্রাকার নৃত্য : যখন খাদ্যের উৎস 100 মিটারের মধ্যে।

(ii) ওয়াগল নৃত্য : যখন খাদ্যের উৎস 100 মিটারের বেশি তখন এই প্রকার নৃত্য করে। এটি দেখতে ইংরেজি 8 -এর মতো।

  1. অভিযোজন কাকে বলে?

Answer : পরিবর্তনশীল পরিবেশে জীব নিজেকে মানিয়ে নিয়ে চলার জন্য অর্থাৎ কোনো একটি নির্দিষ্ট পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য ও বংশবিস্তারের জন্য জীবের যে আকৃতিগত, শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপগত ও আচরণগত পরিবর্তন ঘটে তাকে অভিযোজন বলে ।

  1. রুইমাছের জলে ভাসতে বা ডুবতে পটকা কীভাবে কাজ করে ?

Answer : রুইমাছের পটকার অগ্রপ্রকোষ্ঠে অবস্থিত । রেড গ্রন্থির সাহায্যে গ্যাস উৎপাদন করে দেহের আপেক্ষিক গুরুত্বের হ্রাস করে, ফলে মাছ জলের ওপরে ভেসে ওঠে । পক্ষান্তরে পটকার পশ্চাদ প্রকোষ্ঠে অবস্থিত রেটিয়া মিরাবিলিয়া নামক রক্তজালক অগ্রপ্রকোষ্ঠ থেকে ভালবের মাধ্যমে আগত গ্যাসকে শোষণ করলে মাছের দেহের আপেক্ষিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়, ফলে মাছ জলের গভীরে ডুবতে পারে

দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর : (মান – 5) দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান – অভিব্যক্তি ও অভিযোজন (অধ্যায়-৪) সাজেশন | WBBSE Class 10th Life Science Suggestion

  1. অভিযোজন কাকে বলে ? ক্যাকটাসের বাষ্পমোচন হ্রাসের জন্য কী কী অভিবোজন বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়? 2+3=5

Answer : সংজ্ঞা : বিজ্ঞানী বাফালো (Buffaloe1964) অভিযোজনের যে সংজ্ঞা দিয়েছেন তা হল-“কোনো একটি নির্দিষ্ট পরিবেশে বেচে থাকার এবং বংশবৃদ্ধি করার জন্য জীবের যে গঠনগত, আচরণগত ও শারীরবৃত্তীয় স্থায়ী পরিবর্তন ঘটে, তাকে অভিযোজন বলে।”

বাষ্পমোচন হ্রাসের জন্য ক্যাকটাসের অভিযোজন: ক্যাকটাস সাধারণত মরুভূমির শুদ্ধ ও বালুকাময় পরিবেশে জন্মায়, তাই এদের জাঙ্গাল উদ্ভিদ বা জেরোফাইট (zerophyte) বলে । উষর পরিবেশে বসবাসকারী ক্যাকটাসের বাষ্পমোচন হ্রাসের জন্য নিম্নলিখিত অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়-

(1) বাষ্পমোচন হ্রাসের জন্য ক্যাকটাসের পাতাগুলি কাঁটায় (পত্ৰকণ্টক) রূপান্তরিত হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্যাকটাসের পাতা থাকলেও তা ক্ষুদ্রাকার এবং সংখ্যায় কম হয়।

(2) ক্যাকটাসের পাতাগুলি পুরু কিউটিকল ও মোমজাতীয় ক্যাকটাসের কাণ্ড স্কুল, চ্যাপ্টারসালো এবং সবুজ জল আবরণে আবৃত থাকে ।

(3) বাষ্পমোচন রোধ করার জন্য পত্ররন্ধ্রের সংখ্যা কম হয় এবং পত্রএরন্ধ্রগুলি পাতার নিম্নত্বকের গভীরে অবস্থান করে।

(4) বাষ্পমোচন রোধ করার জন্য ক্যাকটাসের কাণ্ডের ত্বক পুরু কিউটিকল যুক্ত এবং মোমজাতীয় আবরণ দিয়ে আবৃত থাকে ।

(5) কাণ্ডের কোশে মিউসিলেজ জাতীয় পদার্থ থাকায় কাণ্ডের জলধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ।

  1. কয়েকটি উদাহরণের সাহায্যে শিম্পাঞ্জিদের সমস্যা সমাধান সম্পর্কে আলোচনা করো ।

Answer : আফ্রিকা মহাদেশের ঘন অরণ্যে শিম্পাঞ্জিরা বসবাস করে । এদের বৈজ্ঞানিক নাম প্যান ট্রোগ্লোডাইটস (Pan troglo-dytes)। শিম্পাঞ্জির দেহের আকৃতি ও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের দেহের আকৃতির কিছুটা সাদৃশ্য আছে । শিম্পাঞ্জির হাত বেশ লম্বা ও সরু। পায়ের পাতা লম্বা ধরনের শিম্পাঞ্জি গাছে চড়তে এবং গাছের শাখাপ্রশাখার ওপর দিয়ে চলাফেরা করতে খুবই পারদর্শী । এরা গাছের ডালে বাসা তৈরি করে রাত্রিবাস করে । এদের প্রিয় খাদ্য নানারকম ফলমূল, বাদাম, শাক-সবজি, উই পোকা, ইঁদুর, ছোটো ছোটো পাখি ইত্যাদি ।

শিম্পাঞ্জিদের সমস্যা সমাধান : শিম্পাঞ্জিদের মধ্যে বিভিন্ন আচরণ লক্ষ করা যায়। যেমন

(1) এরা উইঢিবির সন্ধান পেলে গাছের শাখা দিয়ে একটি লাঠির মতো দণ্ড তৈরি করে নেয় । এই দণ্ডের ছূঁচালো প্রান্তটিকে উই-এর টিবির মধ্যে ঢুকিয়ে দেয় । উই পোকাগুলি তখন লাঠি বেয়ে সারিবদ্ধভাবে বাইরে বেরিয়ে আসে শিম্পাঞ্জি তখন মহা আনন্দে তার ভোজ সারে ।

(2) এরা শক্ত কাঠ বা পাথরের টুকরোকে ‘হাতুড়ি ও নেহাই’-এর মতো ব্যবহার করে বাদামের খোসা ছাড়ায় ।

(3) শিম্পাঞ্জিরা কোনো পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত হলে নিজেরাই বিশেষ ভেষজ উদ্ভিদ খুজে এনে ভক্ষণ করে, ফলে পরজীবীদের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পায় ।

  1. জীবাশ্ম কাকে বলে ? জীবাশ্মের গুরুত্ব লেখো।

Answer : জীবাশ্ম : দীর্ঘকাল যাবৎ ভূগর্ভের পাললিক শিলাস্তরে চাপা পড়ে থাকা জীবের সমগ্র দেহ বা আংশিক দেহ বা ছাপকে জীবাশ্ম বলে।

জীবাশ্ম সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে প্রত্নজীববিদ্যা বা প্যালেনটোলজি বলে।

জীবাশ্মের গুরুত্বঃ

(i) জীবাশ্ম অভিব্যক্তির প্রত্যক্ষ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।

(ii) জীবাশ্ম আধুনিক যুগের জীবের পূর্বপুরুষের অস্তিত্ব খুঁজে পেতে সাহায্য করে।

(iii) জীবাশ্ম প্রাণী বা উদ্ভিদের বয়স ও সৃষ্টির সময়কাল জানতে সাহায্য করে।

(iv) জীবাশ্ম লুপ্ত প্রাণী ও উদ্ভিদের ভৌগোলিক বিস্তার জানতে সাহায্য করে।

(v) জীবাশ্ম দুটি ভিন্ন গোষ্ঠীর প্রাণী বা উদ্ভিদের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী জীবের

অধ্যয়নে এবং এক প্রকার জীব থেকে অপর প্রকার জীবের উৎপত্তির বিষয়ে ধারণা দিতে সাহায্য করে।

  1. অভিযোজন কাকে বলে ? অভিযোজনের তিনটি গুরুত্ব লেখো।

Answer : সংজ্ঞা : পরিবর্তনশীল পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার জন্য জীবদেহের গঠনগত, শারীরবৃত্তীয় এবং আচরণগত স্থায়ী পরিবর্তন যা বিবর্তনে সাহায্য করে তাকে অভিযোজন বলে।

অভিযোজনের গুরুত্ব বা উদ্দেশ্য : পরিবর্তনশীল পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করে। অভিযোজন প্রতিকূল পরিবেশকে সহজে অতিক্রম করতে সাহায্য করে। অভিযোজন জীবকে আত্মরক্ষায় সাহায্য করে।

  1. নিম্নলিখিত অঙ্গাগুলির অভিযোজনগত গুরুত্ব উল্লেখ করো।

(i) সুন্দরীর শ্বাসমূল, (ii) ক্যাকটাসের পাতা, (iii) রুই মাছের পটকা (iv) পায়রার বায়ুথলি।

Answer : (i) সাদ সুন্দরীর শ্বাসমূল : লবণাক্ত মাটিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকায়, বেশ কিছু শাখা-প্রশাখা, মূল মাটির উপরে উঠে আসে। এদের শ্বাসমূল বলে। শ্বাসমূলের অসংখ্য ছিদ্র দিয়ে উদ্ভিদ অক্সিজেন গ্রহণ করে।

(ii) ক্যাকটাসের পাতা : বাষ্পমোচন রোধ করার জন্য ক্যাকটাসের পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হয়েছে।

(iii) রুই মাছের পটকা : রুই মাছের পটকা মাছকে জলের উপরে ভাসতে ও জলের নীচে নামতে সাহায্য করে।

(iv) পায়রার বায়ুথলি : পায়রার বায়ুথলি দীর্ঘক্ষণ ওড়ার সময় অতিরিক্ত অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং দেহের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে।

(v) উটের লোহিত রক্তকণিকার আকৃতি : উটের লোহিত রক্তকণিকা তুলনামূলকভাবে বড়ো, ডিম্বাকার ও নিউক্লিয়াসযুক্ত । ফলে উট অভিস্রবণীয় চাপের তারতম্য সহ্য করতে পারে। বেশি পরিমাণে জলগ্রহণ করলেও লোহিত রক্তকণিকা ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

  1. পার্থক্য : ল্যামার্কবাদ ও ডারউইনবাদ।
ল্যামার্কবাদ ডারউইনবাদ
1. ল্যামার্কবাদ অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহারের উপর জোর দেয়। 1. ডারউইনবাদে অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহারের উল্লেখ নেই।
2. ল্যামার্ক নিস্ক্রিয় অঙ্গের ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। 2. ডারউইন নিস্ক্রিয় অঙ্গের কথা বলেননি।
3. ল্যামার্ক জীবন সংগ্রামের কথা বলেননি। 3. ডারউইন জীবন সংগ্রামের কথা বলেছেন।
4. ল্যামার্ক অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণের ব্যাখ্যা দেন। 4. ডারউইন প্রাকৃতিক নির্বাচনবাদ বর্ণনা করেন।
  1. অভিব্যক্তির সংজ্ঞা দাও। জৈব অভিব্যক্তির প্রমাণ হিসেবে মেরুদন্ডী প্রাণীগোষ্ঠীর হৃৎপিণ্ডের গঠন আলোচনা করো ।

Answer : অভিব্যক্তি : যে মন্থর অথচ গতিশীল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূর্বপুরুষ অর্থাৎ উদবংশীয় সরল জীব থেকে নতুন ধরনের অপেক্ষাকৃত জটিল জীবের উদ্ভব ঘটে, তাকে বিবর্তন বা জৈব অভিব্যক্তি বলে।

বিভিন্ন মেরুদণ্ডী প্রাণীর হৃৎপিন্ডের তুলনামূলক অঙ্গসংস্থান থেকে অভিব্যক্তির প্রমাণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। মাছ, উভচর, সরীসৃপ, পক্ষী ও স্তন্যপায়ীর হৃৎপিণ্ড ক্রমান্বয়ে জটিল থেকে জটিলতর হয়েছে। মাছের হৃৎপিন্ড একটি অলিন্দ ও একটি নিলয় নিয়ে গঠিত। অলিন্দ দু’টি পর্দা দিয়ে পৃথক থাকায় দূষিত ও বিশুদ্ধ রক্ত পৃথক থাকে। কিন্তু নিলয়ে একটি প্রকোষ্ঠ থাকায় দুইপ্রকার রক্ত মিশে যায়। সরীসৃপের দুটি অলিন্দ এবং নিলয়টি অর্ধবিভক্ত, তাই দুইপ্রকার রক্ত পৃথক করার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। পক্ষী ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর হৃৎপিন্ড দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয়যুক্ত,তাই দূষিত ও বিশুদ্ধ রক্ত পৃথকভাবে প্রবাহিত হয়। হৃৎপিণ্ডের গঠনগত পরিবর্তন থেকে সিদ্ধান্তে আসা যায় যে এরা সকলেই একই উদংশীয় জীব থেকে উদ্ভূত হয়েছে এবং পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজনের ফলে ক্রমশ জটিল থেকে জটিলতর হয়েছে।

================================

বিভাগ ‘ক’

১. প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে তার ক্রমিক সংখ্যাসহ বাক্যটি সম্পূর্ন করোঃ

(১.১) ‘অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম’ মতবাদটি কার? – 

(ক) ল্যামার্কের

(খ) ডারউইনের

(গ) দ্য ভ্রিসের

(ঘ) জোনোফেনের

উত্তরঃ (খ) ডারউইনের

(১.২) ল্যামার্ক রচিত গ্রন্থের নাম হল – 

(ক) ফলোজফিক জুলজিক

(খ) অরিজিন অব স্পিসিস

(গ) ফিলোজফিক বটানিক

(ঘ) মাইক্রোগ্রাফিয়া

উত্তরঃ (ক) ফিলোজফিক জুলজিক

(১.৩) প্রাকৃতিক নির্বাচনবাদের প্রবক্তা হলেন – 

(ক) ডারউইন

(খ) ল্যামার্ক

(গ) মেন্ডেল

(ঘ) ভ্রিস

উত্তরঃ (ক) ডারউইন

(১.৪) তিমির ফ্লিপার ও পাখির ডানা হল – 

(ক) সমবৃত্তীয় অঙ্গ

(খ) নিষ্ক্রিয় অঙ্গ

(গ) প্রতিস্থাপিত অঙ্গ

(ঘ) সমসংস্থ অঙ্গ

উত্তরঃ (ঘ) সমসংস্থ অঙ্গ

(১.৫) মানুষের নিষ্ক্রিয় অঙ্গটি হল –

(ক) কোলন

(খ) মলাশয়

(গ) অ্যাপেনডিক্স

(ঘ) পাকস্থলী

উত্তরঃ (গ) অ্যাপেনডিক্স

(১.৬) শ্বাসমূল কার অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য? – 

(ক) ক্যাকটাস

(খ) পদ্ম

(গ) সুন্দরী

(ঘ) কোনোটিই নয়

উত্তরঃ (গ) সুন্দরী

(১.৭) প্রানীদের অস্তিত্ব রক্ষায় ও জনন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে – 

(ক) আবর্তন

(খ) আবরন

(গ) আরোহন

(ঘ) আচরন

উত্তরঃ (ঘ) আচরন

(১.৮) পায়রার বায়ুথলির সংখ্যা – 

(ক) 7 টি

(খ) 9 টি

(গ) 12 টি

(ঘ) 23 টি

উত্তরঃ (খ) 9 টি

(১.৯) জরায়ুজ অঙ্কুরোদ্‌গম দেখা যায় – 

(ক) পাইন গাছে

(খ) ওক গাছে

(গ) সুন্দরী গাছে

(ঘ) গরান গাছে

উত্তরঃ গরান গাছে

(১.১০) উটের লোহিতকনিকা দেখতে – 

(ক) দ্বি-অবতল নিউক্লিয়াসবিহীন

(খ) দ্বি-অবতল নিউক্লিয়াসযুক্ত

(গ) ডিম্বাকার নিউক্লিয়াসযুক্ত

(ঘ) ডিম্বাকার নিউক্লিয়াসবিহীন

উত্তরঃ (গ) ডিম্বাকার নিউক্লিয়াসযুক্ত

বিভাগ ‘খ’

২. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নির্দেশ অনুসারে লেখোঃ

** নীচের বাক্যগুলিতে উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থানগুলি পূরন করোঃ

(২.১) জীবন সৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাস হল অ্যামোনিয়া ও ___________।

উত্তরঃ মিথেন

(২.২) অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরন ____________ বাদের প্রধান প্রতিপাদ্য একটি বিষয়।

উত্তরঃ ল্যামার্ক

(২.৩) জীবের যে-সমস্থ অঙ্গের উৎপন্ন ও গঠন আলাদা কিন্তু কাজ এক, তাদের ___________ অঙ্গ বলে।

উত্তরঃ সমবৃত্তি

(২.৪) পায়রার চোখে __________ থাকায় এদের দৃষ্টিশক্তি খুব প্রখর ।

উত্তরঃ পেক্‌টেন

(২.৫) জলে বসবাসকারী একটি স্তন্যপায়ী প্রানীর নাম __________।

উত্তরঃ তিমি

(২.৬) পায়রার উড্ডয়নে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত শক্তি সরবরাহে সাহায্য করে ___________।

উত্তরঃ বায়ুথলি

** নীচের বাক্যগুলি সত্য অথবা মিথ্যা নিরূপন করোঃ

(২.১) পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যের কারন হল অভিব্যক্তি।

উত্তরঃ সত্য

(২.২) ল্যামার্ক প্রথম ‘বায়োলজি’ শব্দটি ব্যবহার করেন।

উত্তরঃ সত্য

(২.৩) ডারউইনের মতে ছোটো ছোটো ধারাবাহিক পরিবর্তনই বিভিন্ন প্রজাতির উৎপত্তির জন্য দায়ী।

উত্তরঃ সত্য

(২.৪) মাছকে জলের মধ্যে গভীরতা পরিবর্তন করতে সাহায্য করে পটকা।

উত্তরঃ সত্য

(২.৫) মৌমাছির অয়াগল নৃত্য ইংরাজী ‘8’ আকৃতির হয়।

উত্তরঃ সত্য

(২.৬) রুই মাছ একটি প্রাথমিক জলজ প্রানী।

উত্তরঃ সত্য

** একটি শব্দে বা একটি বাক্যে উত্তর দাওঃ

(২.১) একটি মেরুদন্ডী জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরন দাও।

উত্তরঃ স্ফেনোডন

(২.২) নীচে সম্পর্কযুক্ত শব্দজোড় দেওয়া আছে। প্রথম জোড়টির সম্পর্ক দেখে দ্বিতীয় জোড়টির শূন্যস্থানে উপযুক্ত শব্দ বসাওঃ

 প্রাকৃতিক নির্বাচনঃডারউইনঃঃঅঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহারঃ_________।

উত্তরঃ ল্যামার্ক

(২.৩) একটি জীবন্ত উদ্ভিদ জীবাশ্মের উদাহরন দাও।

উত্তরঃ গিংকগো বাইলোবা

(২.৪) ক্যাকটাস জাতীয় উদ্ভিদের পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হয়েছে কেন?

উত্তরঃ বাষ্পমোচন রোধ করার জন্য

(২.৫) নীচের চারটি বিষয়ের মধ্যে তিনটি একটি বিষয়ের অন্তর্গত। সে বিষয়টি খুঁজে বার করে নাম লেখোঃ

 ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ, সুন্দরী, গরান, রাইজোফেরা।

উত্তরঃ ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ

(২.৬) নিউম্যাটোফোর বা শ্বাসমূলের কাজ কী? 

উত্তরঃ অক্সিজেন সরবরাহ করা

** ‘ক’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ থেকে মিলিয়ে লেখোঃ

‘ক’ স্তম্ভ                      ‘খ’ স্তম্ভ

(২.১০) যোগ্যতমের উদ্‌বর্তন                (ক) নিজ্ঞানী ওয়াইসম্যান

(২.১১) অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরন       (খ) বিজ্ঞানী ডারউইন

(২.১২) জার্মপ্লাজমবাদ                       (গ) বিজ্ঞানী হুগো দ্য ভ্রিস

(২.১৩) নিও ডারউইউনবাদ                 (ঘ) বিজ্ঞানী ল্যামার্ক

(২.১৪) মানুষের কক্সিস                      (ঙ) বিজ্ঞানী ওপারিন

(চ) নিষ্ক্রিয় অঙ্গ

উত্তরঃ (২.১০) যোগ্যতমের উদ্‌বর্তন -> (খ) বিজ্ঞানী ডারউইন (২.১১) অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরন -> (ঘ) বিজ্ঞানী ল্যামার্ক (২.১২) জার্মপ্লাজমবাদ -> (ক) নিজ্ঞানী ওয়াইসম্যান (২.১৩) নিও ডারউইউনবাদ -> (গ) বিজ্ঞানী হুগো দ্য ভ্রিস (২.১৪) মানুষের কক্সিস  -> (চ) নিষ্ক্রিয় অঙ্গ

‘ক’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ থেকে শব্দ মিলিয়ে লেখোঃ

‘ক’ স্তম্ভ                          ‘খ’ স্তম্ভ

(২.১০) জলক্ষয় সহনেরজন্যশারীরবৃত্তিয় অভিযোজন     (ক) শিম্পাঞ্জি

(২.১১) রোগ প্রতিরোধের জন্য আচরনগত অভিযোজন   (খ) রুইমাছ

(২.১২) উড্ডয়নের জন্য অঙ্গসংস্থানগত অভিযোজন      (গ) মৌমাছি

(২.১৩) জলজ পরিবেশে অঙ্গসংস্থানগত অভিযোজন      (ঘ) উট

(২.১৪) শ্বাসমূল                                             (ঙ) পায়রা

(চ) সুন্দরী

উত্তরঃ  (২.১০) জলক্ষয় সহনেরজন্যশারীরবৃত্তিয় অভিযোজন -> (ঘ) উট (২.১১) রোগ প্রতিরোধের জন্য আচরনগত অভিযোজন -> (ক) শিম্পাঞ্জি (২.১২) উড্ডয়নের জন্য অঙ্গসংস্থানগত অভিযোজন -> (ঙ) পায়রা (২.১৩) জলজ পরিবেশে অঙ্গসংস্থানগত অভিযোজন -> (খ) রুইমাছ (২.১৪) শ্বাসমূল ->  (চ) সুন্দরী

বিভাগ ‘গ’

৩. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দুই-তিনটি বাক্যে লেখোঃ

প্রশ্নঃ অভিব্যক্তি বা জৈব অভিব্যক্তি বা জীব বিবর্তন কাকে বলে?

উত্তরঃ যে মন্থর ও গতিশীল ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় কোনো সরল উদ্রবংশীয় জীব থেকে ক্রমান্বয়ে জিনগত ভাবে ভিন্ন নতুন জটিলপ্রজাতির উদ্ভব হয়, তাকে অভিব্যক্তি বলে।

প্রশ্নঃ সমসংস্থ অঙ্গ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তরঃ যেসব অঙ্গ উৎপত্তি ও গঠনগতভাবে এক কিন্তু কার্যগতভাবে আলাদা তাদের সমসংস্থ অঙ্গ বলে।

উদাহরণ – পাখির ডানা, মানুষের হাত।

প্রশ্নঃ যোগ্যতমের উদবর্তন বলতে কী বোঝো?

উত্তরঃ ডারউইনের মধ্যে ত্রিধারা জীবন সংগ্রামের পথে যে সব জীব সহায়ক বা অনুকূল অভিযোজনমূলক বৈশিষ্ট্য অর্জন করে, তারাই জীবন সংগ্রামে জয়ী হয় এবং বেঁচে থাকার অধিকারী হয়; অন্যরা কালক্রমে অবলুপ্ত হয়। জীবন সংগ্রামে এই উত্তরণকে যোগ্যতমের উদবর্তন বলে।

প্রশ্নঃ অপসারী অভিব্যক্তি কাকে বলে? 

উত্তরঃ উৎপত্তি ও গঠনগতভাবে একইরকমের অঙ্গযুক্ত জীবদেহে বিভিন্ন পরিবেশে অভিযোজনের জন্য যে বিবর্তন দেখা যায় তাকে অপসারী অভিব্যক্তি বলে। উদাহরণ – ঘোড়ার অগ্রপদ, মানুষের হাত, তিমির ফ্লিপার ইত্যাদি অঙ্গের উৎপত্তি ও গঠন একই কিন্তু কাৰ্য আলাদা।

প্রশ্নঃ জীবন্ত জীবাশ্ম কাকে বলে?

উত্তরঃ যেসকল জীব বহুবছর ধরে কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমসাময়িক ও সমগোত্রীয় জীব অনেক আগেই পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তাদের জীবন্ত জীবাশ্ম বা লিভিং ফসিল বলে।

উদাহরণ – পেরিপেটাস নামক সন্ধিপদ প্রাণী, সিলাকান্ধ নামক মাছ, হংসচঞ্জু নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী ইত্যাদি হলো জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ।

প্রশ্নঃ চারটি জীবন্ত জীবাশ্ন প্রাণীর উদাহরণ দাও।

উত্তরঃ লিমুলাস, পেরিপেটাস, স্ফেনোডন, সিলাকান্থ।

প্রশ্নঃ অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ বলতে কী বোঝায়?

উত্তরঃ ল্যামার্কের মতবাদ অনুসারে পরিবেশের প্রভাবে ব্যবহার ও অব্যবহারের মাধ্যমে যে বৈশিষ্ট্য অর্জিত হয় তা বংশানুক্রমে সঞ্চারিত হয় এবং জীবের অভিব্যক্তিতে সাহায্য করে। একে অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ বলে। এটি অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার সূত্র নামে পরিচিত।

প্রশ্নঃ মৌমাছিদের বার্তা আদান প্রদান কৌশল সংক্ষেপে লেখো।

উত্তরঃ মৌমাছিদের সামাজিক জীব বলে। এদের মধ্যে বার্তা আদান প্রদানের উন্নত প্রক্রিয়া দেখা যায়। যেসব শ্রমিক মৌমাছি খাবার সন্ধান করে তাদের স্কাউট বলে। খাবারের সন্ধান পেলে শ্রমিক মৌমাছি দুই প্রকার নৃত্য করে –

চক্রাকার নৃত্যঃ যখন খাদ্যের উৎস ১০০ মিটারের মধ্যে।

ওয়াল নৃত্যঃ যখন খাদ্যের উৎস ১০০ মিটারের বেশি তখন এই প্রকার নৃত্য করে। এটি দেখতে ইংরেজি 8–এর মতো।

প্রশ্নঃ সমসংস্থ অঙ্গ ও সমবৃত্তীয় অঙ্গের মধ্যে পার্থক্যগুলি লেখো।

উত্তরঃ সমসংস্থ অঙ্গ ও সমবৃত্তীয় অঙ্গের মধ্যে পার্থক্যগুলি হল –

প্রথমত, সমসংস্থ অঙ্গগুলি উৎপত্তি ও গঠনগতভাবে একই রকমের, আর সমবৃত্তীয় অঙ্গগুলি উৎপত্তি ও গঠনগতভাবে ভিন্ন রকমের।

দ্বিতীয়ত, সমসংস্থ অঙ্গের কাজ আলাদা, কিন্তু সমবৃত্তীয় অঙ্গের কাজ একই রকম।

প্রশ্নঃ উটের জলক্ষয় কমানোর দু’টি অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।

উত্তরঃ এদের চামড়া রোমযুক্ত এবং পুরু আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে, ফলে বাষ্পীভবন কম হয়। ও এরা রেচন পদার্থকে শুষ্ক ইউরিক হিসেবে দেহ থেকে ত্যাগ করে। দেহে জলের পরিমাণ কমে গেলে এরা ঘন মূত্র ত্যাগ করে এবং দেহের জল সংরক্ষণ করে।

প্রশ্নঃ বায়োজেনেটিক সূত্র কাকে বলে?

উত্তরঃ হেকেল বায়োজেনেটিক সূত্রের প্রবক্তা। তাঁর মতানুসারে প্রতিটি জীব ভ্রুণ অবস্থায় খুব অল্পসময়ের জন্য হলেও পূর্বপুরুষের আকৃতি ও গঠনকে পুনরাবৃত্তি করে, একে ‘অনটোজেনি রিপিটস ফাইলোজেনি’ বা বায়োজেনেটিক সূত্র বলে।

প্রশ্নঃ রুইমাছের জলে ভাসতে বা ডুবতে পটকা কীভাবে কাজ করে?

উত্তরঃ রুইমাছের পটকার অগ্রপ্রকোষ্ঠে অবস্থিত। রেড গ্রন্থির সাহায্যে গ্যাস উৎপাদন করে দেহের আপেক্ষিক গুরুত্বের হ্রাস করে, ফলে মাছ জলের ওপরে ভেসে ওঠে। পক্ষান্তরে পটকার পশ্চাদ প্রকোষ্ঠে অবস্থিত রেটিয়া মিরাবিলিয়া নামক রক্তজালক অগ্রপ্রকোষ্ঠ থেকে ভালবের মাধ্যমে আগত গ্যাসকে শোষণ করলে মাছের দেহের আপেক্ষিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়, ফলে মাছ জলের গভীরে ডুবতে পারে।

প্রশ্নঃ উদ্ভিদের দু’টি নিস্ক্রিয় অঙ্গের উদাহরণ দাও।

(১) স্টামিনোড – পুংকেশরের রূপান্তর। উদাহরণ – কালকাসুন্দা।

(২) পিন্টিলোড – গৰ্ভকেশরের রূপান্তর। উদাহরণ – শতমূলী।

প্রশ্নঃ BC-এর অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তরঃ উটের RBC ডিম্বাকার এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত। উটের ডিহাইড্রেশনের সময় অভিস্রবণীয় চাপের তারতম্য বা বেশি পরিমাণে জলগ্রহণ করলেও অভিস্রবণীয় চাপের কম বা বেশিতে RBC ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। কারণ RBC -র পর্দার প্রসারণ ক্ষমতা অনেক বেশি।

প্রশ্নঃ অভিযোজন কাকে বলে?

উত্তরঃ পরিবর্তনশীল পরিবেশে জীব নিজেকে মানিয়ে নিয়ে চলার জন্য অর্থাৎ কোনো একটি নির্দিষ্ট পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য ও বংশবিস্তারের জন্য জীবের যে আকৃতিগত, শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপগত ও আচরণগত পরিবর্তন ঘটে তাকে অভিযোজন বলে।

প্রশ্নঃ কোয়াসারভেট কী?

উত্তরঃ ওপারিন-এর মতে প্রোটিন যৌগগুলি উত্তপ্ত তরল স্যুপ থেকে পৃথক হয়ে একত্রীভূত হয়ে যে দ্বিতীয় আবরণযুক্ত ও প্রোটিন, লিপিড ও কার্বোহাইড্রেট দ্বারা গঠিত কোলয়েড জাতীয় পদার্থ গঠন করেছিল তাকে কোয়াসারভেট বলা হয়। এর থেকে আদিমতম কোশ বা প্রোটোসেল উৎপন্ন হয়েছিল।

প্রশ্নঃ জীব বিবর্তন বা জৈব অভিব্যক্তি কাকে বলে?

উত্তরঃ যে মন্থর অথচ গতিশীল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূর্বপুরুষ অর্থাৎ উদংশীয় সরল জীব থেকে নতুন ধরনের অপেক্ষাকৃত জটিল জীবের উদ্ভব ঘটে তাকে জীব বিবর্তন বা জৈব অভিব্যক্তি বলে।

প্রশ্নঃ ভেনাস হৃৎপিণ্ড কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তরঃ মাছের তৃৎপিণ্ডে সর্বদা কার্বন-ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত প্রবাহিত হয়। তাই মাছের হৃৎপিণ্ডকে ভেনাস হৃৎপিণ্ড বলে।

বিভাগ ‘ঘ’

৪. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর লেখোঃ

প্রশ্নঃ অভিযোজন কাকে বলে? ক্যাকটাসের বাষ্পমোচন হ্রাসের জন্য কী কী অভিবোজন বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়?

উত্তরঃ বিজ্ঞানী বাফালো অভিযোজনের যে সংজ্ঞা দিয়েছেন তা হল – “কোনো একটি নির্দিষ্ট পরিবেশে বেচে থাকার এবং বংশবৃদ্ধি করার জন্য জীবের যে গঠনগত, আচরণগত ও শারীরবৃত্তীয় স্থায়ী পরিবর্তন ঘটে, তাকে অভিযোজন বলে।”

বাষ্পমোচন হ্রাসের জন্য ক্যাকটাসের অভিযোজনঃ ক্যাকটাস সাধারণত মরুভূমির শুদ্ধ ও বালুকাময় পরিবেশে জন্মায়, তাই এদের জাঙ্গাল উদ্ভিদ বা জেরোফাইট বলে। উষর পরিবেশে বসবাসকারী ক্যাকটাসের বাষ্পমোচন হ্রাসের জন্য নিম্নলিখিত অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয় –

(১) বাষ্পমোচন হ্রাসের জন্য ক্যাকটাসের পাতাগুলি কাঁটায় রূপান্তরিত হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্যাকটাসের পাতা থাকলেও তা ক্ষুদ্রাকার এবং সংখ্যায় কম হয়।

(২) ক্যাকটাসের পাতাগুলি পুরু কিউটিকল ও মোমজাতীয় ক্যাকটাসের কাণ্ড স্কুল, চ্যাপ্টারসালো এবং সবুজ জল আবরণে আবৃত থাকে।

(৩) বাষ্পমোচন রোধ করার জন্য পত্ররন্ধ্রের সংখ্যা কম হয় এবং পত্রএরন্ধ্রগুলি পাতার নিম্নত্বকের গভীরে অবস্থান করে।

(৪) বাষ্পমোচন রোধ করার জন্য ক্যাকটাসের কাণ্ডের ত্বক পুরু কিউটিকল যুক্ত এবং মোমজাতীয় আবরণ দিয়ে আবৃত থাকে।

(৫) কাণ্ডের কোশে মিউসিলেজ জাতীয় পদার্থ থাকায় কাণ্ডের জলধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

প্রশ্নঃ ল্যামার্কের অভিব্যক্তি সংক্রান্ত তত্ত্বের প্রতিপাদ্যের প্রধান দুটি বিষয় বর্ণনা করো। হৃৎপিন্ডের তুলনামূলক অংঙ্গসংস্থান কীভাবে অভিব্যক্তি মতবাদের স্বপক্ষে প্রমাণ হিসাবে কাজ করে?

উত্তরঃ

অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহারের সূত্রঃ পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজিত হওয়ার সময় কোনো কোনো অঙ্গ খুব বেশি ব্যবহার হওয়ার ফলে সবল ও সুগঠিত হয়। অন্যদিকে, কোনো কোনো অঙ্গ কম ব্যবহার হওয়ায় ধীরে ধীরে দুর্বল হয় এবং অবলুপ্ত হয়ে যায়। এটি অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহারের সূত্র নামে পরিচিত।

অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার সূত্রঃ ল্যামার্কের মতে পরিবেশে অভিযোজিত হওয়ার সময় যেসব বৈশিষ্ট্য অর্জিত হয় বা উৎপন্ন হয় তা বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হয় এবং জীবের বিবর্তনে সাহায্য করে। এটি অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার সূত্র বা অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ সূত্র নামে পরিচিত।

যে মন্থর অথচ গতিশীল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূর্বপুরুষ অর্থাৎ উদ্বংশীয় সরল জীব থেকে নতুন ধরনের অপেক্ষাকৃত জটিল জীবের উদ্ভব ঘটে, তাকে বিবর্তন বা জৈব অভিব্যক্তি বলে।

বিভিন্ন মেরুদণ্ডী প্রাণীর হৃৎপিণ্ডের তুলনামূলক অঙ্গসংস্থান থেকে অভিব্যক্তির প্রমাণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। মাছ, উভচর, সরীসৃপ, পক্ষী ও স্তন্যপায়ীর হৃৎপিণ্ড ক্রমান্বয়ে জটিল থেকে জটিলতর হয়েছে। মাছের হৃৎপিণ্ড একটি অলিন্দ ও একটি নিলয় নিয়ে গঠিত। অলিন্দ দু’টি পর্দা দিয়ে পৃথক থাকায় দূষিত ও বিশুদ্ধ রক্ত পৃথক থাকে কিন্তু নিলয়ে একটি প্রকোষ্ঠ থাকায় দুইপ্রকার রক্ত মিশে যায়। সরীসৃপের দু’টি অলিন্দ এবং নিলয়টি অর্ধবিভক্ত, তাই দুইপ্রকার রক্ত পৃথক করার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। পক্ষী ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর হৃৎপিণ্ড দু’টি অলিন্দ ও দুটি নিলয়যুক্ত, তাই দূষিত ও বিশুদ্ধ রক্ত পৃথকভাবে প্রবাহিত হয়। হৃৎপিণ্ডের গঠনগত পরিবর্তন থেকে সিদ্ধান্তে আসা যায় যে এরা সকলেই একই উদংশীয় জীব থেকে উদ্ভূত হয়েছে এবং পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজনের ফলে ক্রমশ জটিল থেকে জটিলতর হয়েছে।

প্রশ্নঃ জীবাশ্ম কাকে বলে? জীবাশ্মের গুরুত্ব লেখো।

উত্তরঃ দীর্ঘকাল যাবৎ ভূগর্ভের পাললিক শিলাস্তরে চাপা পড়ে থাকা জীবের সমগ্র দেহ বা আংশিক দেহ বা ছাপকে জীবাশ্ম বলে। জীবাশ্ম সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে প্রত্নজীববিদ্যা বা প্যালেনটোলজি বলে।

জীবাশ্মের গুরুত্বঃ

(১) জীবাশ্ম অভিব্যক্তির প্রত্যক্ষ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।

(২) জীবাশ্ম আধুনিক যুগের জীবের পূর্বপুরুষের অস্তিত্ব খুঁজে পেতে সাহায্য করে।

(৩) জীবাশ্ম প্রাণী বা উদ্ভিদের বয়স ও সৃষ্টির সময়কাল জানতে সাহায্য করে।

(৪) জীবাশ্ম লুপ্ত প্রাণী ও উদ্ভিদের ভৌগোলিক বিস্তার জানতে সাহায্য করে।

(৫) জীবাশ্ম দুটি ভিন্ন গোষ্ঠীর প্রাণী বা উদ্ভিদের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী জীবের অধ্যয়নে এবং এক প্রকার জীব থেকে অপর প্রকার জীবের উৎপত্তির বিষয়ে ধারণা দিতে সাহায্য করে।

প্রশ্নঃ বিবর্তনের সপক্ষে ঘোড়ার জীবাশ্মের গুরুত্ব সংক্ষেপে বর্ণনা করো। 

উত্তরঃ আধুনিক যুগের ঘোড়া ইকুয়াস ইওসিন যুগের ইওহিপ্পাস নামক শিয়ালের মতো জীব থেকে সৃষ্টি হয়েছে। ঘোড়ার বিবর্তনের মুখ্য বৈশিষ্ট্যগুলি হলো –

ইওহিপ্পাসঃ ইওসিন যুগে সৃষ্টি হয়। উচ্চতা ৪০ সেমি। এদের অগ্রপদে চারটি ও পশ্চাদ্‌পদে তিনটি আঙুল ছিল। পেষকদাঁত খাঁজবিহীন। ইওহিপ্পাস থেকে মেসোহিপ্পাসের আবির্ভাব হয়।

মেসোহিপ্পাসঃ অলিগোসিন যুগে আবির্ভাব ঘটে। উচ্চতা ৬০ সেমি। দেখতে ভেড়ার মতো, অগ্র ও পশ্চাদ্‌পদে তিনটি আঙুল এবং মাঝের আঙুল মজবুত এবং লম্বা। তৃণভূমিতে বাস করত। মেসোহিপ্পাস থেকে মেরিচিপ্পাসের উৎপত্তি হয়।

মেরিচিপ্পাসঃ মায়োসিন যুগে আবির্ভাব ঘটে। অগ্র ও পশ্চাপদে আঙুলের সংখ্যা তিনটি কিন্তু শুধু মাঝেরটি মাটি স্পর্শ করত। উচ্চতা ১০০ সেমি। পেষক ও পুরপেষক ক্রাউনযুক্ত। এদের থেকে প্লিওহিপ্পাসের উৎপত্তি হয়।

প্লিওহিপ্পাসঃ প্লায়োসিন যুগে আবির্ভাব ঘটে। উচ্চতা ১০৮ সেমি। মাঝের আঙুল লম্বা, মজবুত এবং খুরযুক্ত। দেখতে অনেকটা আধুনিক ঘোড়ার মতো। প্লিওহিপ্পাস থেকে বর্তমান ঘোড়ার আবির্ভাব হয়।

ইকুয়াসঃ প্লিস্টোসিন যুগে আবির্ভাব হয়। উচ্চতা ১৫ থেকে ১৬ মিটার। মাঝের আঙুল মজবুত ও ক্ষুরযুক্ত । পেষক ও পুরুপেষক ক্রাউনযুক্ত।

প্রশ্নঃ কয়েকটি উদাহরণের সাহায্যে শিম্পাঞ্জিদের সমস্যা সমাধান সম্পর্কে আলোচনা করো।

উত্তরঃ আফ্রিকা মহাদেশের ঘন অরণ্যে শিম্পাঞ্জিরা বসবাস করে। এদের বৈজ্ঞানিক নাম প্যান ট্রোগ্লোডাইটস। শিম্পাঞ্জির দেহের আকৃতি ও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের দেহের আকৃতির কিছুটা সাদৃশ্য আছে। শিম্পাঞ্জির হাত বেশ লম্বা ও সরু। পায়ের পাতা লম্বা ধরনের শিম্পাঞ্জি গাছে চড়তে এবং গাছের শাখাপ্রশাখার ওপর দিয়ে চলাফেরা করতে খুবই পারদর্শী। এরা গাছের ডালে বাসা তৈরি করে রাত্রিবাস করে। এদের প্রিয় খাদ্য নানারকম ফলমূল, বাদাম, শাক-সবজি, উই পোকা, ইঁদুর, ছোটো ছোটো পাখি ইত্যাদি।

শিম্পাঞ্জিদের সমস্যা সমাধানঃ শিম্পাঞ্জিদের মধ্যে বিভিন্ন আচরণ লক্ষ করা যায়। যেমন –

(১) এরা উইঢিবির সন্ধান পেলে গাছের শাখা দিয়ে একটি লাঠির মতো দণ্ড তৈরি করে নেয়। এই দণ্ডের ছূঁচালো প্রান্তটিকে উই-এর টিবির মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়। উই পোকাগুলি তখন লাঠি বেয়ে সারিবদ্ধভাবে বাইরে বেরিয়ে আসে শিম্পাঞ্জি তখন মহা আনন্দে তার ভোজ সারে।

(২) এরা শক্ত কাঠ বা পাথরের টুকরোকে ‘হাতুড়ি ও নেহাই’-এর মতো ব্যবহার করে বাদামের খোসা ছাড়ায়।

(৩) শিম্পাঞ্জিরা কোনো পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত হলে নিজেরাই বিশেষ ভেষজ উদ্ভিদ খুজে এনে ভক্ষণ করে, ফলে পরজীবীদের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পায়।

প্রশ্নঃ নয়া ডারউইনবাদ বলতে কী বোঝায়? ডারউইনবাদের ত্রুটি উল্লেখ করো। 

উত্তরঃ ভাইসম্যান, হুগো দ্য ভ্রিস, গোল্ডস্মিথ, হ্যালডেন প্রমুখ বিজ্ঞানী ডারউইনের তত্ত্বকে বা মতবাদকে নতুন করে আণবিক জীববিদ্যা, জেনেটিক্স, বাস্তুবিদ্যা প্রভৃতির আলোকে বর্ণনা করেছেন যা নয়া ডারউইনবাদ বা আধুনিক সংশ্লেষণবাদ নামে পরিচিত।

ডারউইনবাদের ত্রুটিঃ

(১) ডারউইন দেহকোশ ও জননকোশের প্রকরণকে পৃথক করতে পারেননি।

(২) ডারউইন প্রকরণের বর্ণনা করলেও প্রকরণের উৎপত্তির কারণ বর্ণনা করেননি।

(৩) ডারউইন যোগ্যতমের উদ্বর্তন বর্ণনা করলেও এর কারণ সঠিকভাবে বর্ণনা করতে পারেননি ।

(৪) ডারউইন পরিব্যক্তি বা মিউটেশনকে  ‘প্রকৃতির খেলা’ বলেছিলেন।

প্রশ্নঃ নিম্নলিখিত অঙ্গাগুলির অভিযোজনগত গুরুত্ব উল্লেখ করো।

(১) সুন্দরীর শ্বাসমূল

(২) ক্যাকটাসের পাতা

(৩) রুই মাছের পটকা

(৪) পায়রার বায়ুথলি

(৫) উটের লোহিত রক্তকণিকার আকৃতি

উত্তরঃ (১) সাদ সুন্দরীর শ্বাসমূলঃ লবণাক্ত মাটিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকায়, বেশ কিছু শাখা-প্রশাখা, মূল মাটির উপরে উঠে আসে, এদের শ্বাসমূল বলে। শ্বাসমূলের অসংখ্য ছিদ্র দিয়ে উদ্ভিদ অক্সিজেন গ্রহণ করে।

(২) ক্যাকটাসের পাতাঃ বাষ্পমোচন রোধ করার জন্য ক্যাকটাসের পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হয়েছে।

(৩) রুই মাছের পটকাঃ রুই মাছের পটকা মাছকে জলের উপরে ভাসতে ও জলের নীচে নামতে সাহায্য করে।

(৪) পায়রার বায়ুথলিঃ পায়রার বায়ুথলি দীর্ঘক্ষণ ওড়ার সময় অতিরিক্ত অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং দেহের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে।

(৫) উটের লোহিত রক্তকণিকার আকৃতিঃ উটের লোহিত রক্তকণিকা তুলনামূলকভাবে বড়ো, ডিম্বাকার ও নিউক্লিয়াসযুক্ত। ফলে উট অভিস্রবণীয় চাপের তারতম্য সহ্য করতে পারে। বেশি পরিমাণে জলগ্রহণ করলেও লোহিত রক্তকণিকা ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

প্রশ্নঃ জলজ অভিযোজনে রুই মাছের পটকার এবং খেচর প্রাণী হিসেবে পায়রার বায়ুথলির গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তরঃ রুই মাছের জলজ অভিযোজনে পটকা অন্যতম ভূমিকা পালন করে। রুই মাছের পটকা দেহগহ্বরে অবস্থান করে। পটকা দুই প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট। অগ্রপ্রকোষ্ঠে রেড গ্রন্থি থাকে যা গ্যাস সৃষ্টি করে এবং পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠে রেটিয়া মিরাবিলিয়া গ্রন্থি থাকে যা গ্যাস শোষণ করে। পটকাতে গ্যাস উৎপন্ন হলে দেহ হালকা হয় এবং মাছ জলে ভাসে। আবার পটকাতে গ্যাস শোষিত হলে দেহ ভারী হয় এবং মাছ জলের নীচে নেমে যায়। এইভাবে মাছের পটকা মাছকে জলে ভাসতে এবং জলের নীচে নামতে সাহায্য করে।

বায়ুতে ওড়ার জন্য পায়রার বায়ুথলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পায়রার ফুসফুসের সঙ্গে 9 টি বায়ুথলি যুক্ত থাকে। বায়ুথলিগুলি বায়ুপূর্ণ থাকার জন্য দেহ হালকা হয়, ফলে সহজেই পায়রা উড়তে পারে। বায়ুথলি ওড়ার সময় দেহের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে।

প্রশ্নঃ ল্যামার্কবাদ ও ডারউইনবাদ প্রধান পার্থক্যগুলি আলোচনা করো।

উত্তরঃ ল্যামার্কবাদ ও ডারউইনবাদ প্রধান পার্থক্যগুলি হল –

প্রথমত, ল্যামার্কবাদ অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহারের উপর জোর দেয়, আর ডারউইনবাদে অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহারের উল্লেখ নেই।

দ্বিতীয়ত, ল্যামার্ক নিস্ক্রিয় অঙ্গের ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, কিন্তু ডারউইন নিস্ক্রিয় অঙ্গের কথা বলেননি।

তৃতীয়ত, ল্যামার্ক জীবন সংগ্রামের কথা বলেননি, তবে ডারউইন জীবন সংগ্রামের কথা বলেছেন।

চতুর্থত, ল্যামার্ক অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণের ব্যাখ্যা দেন, কিন্তু ডারউইন প্রাকৃতিক নির্বাচনবাদ বর্ণনা করেন।

প্রশ্নঃ জাঙ্গল উদ্ভিদ বা জেরোফাইট কাকে বলে? ক্যাকটাসের অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।

উত্তরঃ ক্যাকটাস জাতীয় উদ্ভিদ যেমন ফণীমনসা, শতমূলী ইত্যাদি। শুষ্ক ও বালুকাময় পরিবেশে জন্মায়। এদের জাঙ্গল বা জেরোফাইট বলে। এদের অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্যগুলি হলো –

কাণ্ডঃ (১) কাণ্ড রসালো, সবুজ ও চ্যাপ্টা। একে পর্ণকাণ্ড বলে। খর্বাকার এবং কাষ্ঠল হয়।

(২) বাষ্পমোচন রোধ করার জন্য কাণ্ডের ত্বক পুরু, কিউটিকলযুক্ত।

মূলঃ মূল সুগঠিত, দীর্ঘ ও শাখাপ্রশাখাযুক্ত।

পাতাঃ বাষ্পমোচনের হার কমানোর জন্য পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত।

end

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *