অভিষেক

 

অভিষেক (কবিতা) মাইকেল মধুসূদন দত্ত – মাধ্যমিক দশম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | West Bengal Madhyamik Class 10th Bengali Abhishek Question and Answer 

MCQ | অভিষেক (কবিতা) মাইকেল মধুসূদন দত্ত – মাধ্যমিক বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Bengali Abhishek Question and Answer :

  1. মধুসূদনের অভিষেক ’ নামাঙ্কিত পাঠ্য অংশটি কোন্ কাব্য থেকে নেওয়া ? 

(A) হেক্টরবধ কাব্য 

(B) তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য

(C) মেঘনাদবধ কাব্য 

(D) ব্রজাঙ্গনা কাব্য

Ans: (C) মেঘনাদবধ কাব্য

  1. ‘ মেঘনাদবধ কাব্য ‘ – টির প্রকাশকাল – 

(A) ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দ 

(B) ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দ 

(C) ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দ 

(D) ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দ 

Ans: (C) ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দ

  1. ন – টি সর্গে বিভক্ত ‘ অভিষেক ‘ শীর্ষক কাব্যাংশটি কোন্ সর্গ থেকে গৃহীত ? 

(A) প্রথম সর্গ 

(B) নবম সর্গ 

(C) চতুৰ্থ সৰ্গ 

(D) সপ্তম সর্গ 

Ans: (A) প্রথম সর্গ

  1. নীচের কোন্ নাটকটি মদুসূদনের নয় – 

(A) শর্মিষ্ঠা

(B) নরনারায়ণ 

(C) পদ্মাবতী 

(D) ব্রজাঙ্গনা 

Ans: (B) নরনারায়ণ

  1. মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসনটি হল –

(A) একেই কি বলে সভ্যতা 

(B) আনন্দ বিদায়

(C) সধবার একাদশী 

(D) চিরকুমার সভা 

Ans: (A) একেই কি বলে সভ্যতা

  1. মাইকেল মধুসূদন দত্তের মৃত্যু হয়— 

(A) ১৮৭৩ , ২৯ জুন 

(B) ১৮৭৫ , ৩০ জুন 

(C) ১৮৭৪ , ২৮ জুলাই 

(D) ১৮৭২ , ৩০ জুন

Ans: (A) ১৮৭৩ , ২৯ জুন

  1. ‘ কনক – আসন ত্যজি , বীরেন্দ্রকেশরী ‘ — বীরেন্দ্রকেশরী হলেন— 

(A) ইন্দ্ৰজিৎ 

(B) রাবণ 

(C) রাঘব 

(D) কুম্ভকর্ণ 

Ans: (A) ইন্দ্ৰজিৎ

  1. মধুসুদন যে – ছন্দের জনক , তা হল – 

(A) পাদাকুলক ছন্দ 

(B) গদ্য ছন্দ

(C) অমিত্রাক্ষর ছন্দ 

(D) মাত্রাবৃত্ত ছন্দ

Ans: (C) অমিত্রাক্ষর ছন্দ

  1. ধাত্রী প্রভাষার ছদ্মবেশে ইন্দ্রজিতের কাছে এসেছিলেন— 

(A) দেবী সরস্বতী

(B) দেবী দুর্গা 

(C) দেবী লক্ষ্মী 

(D) দেবী চণ্ডী 

Ans: (C) দেবী লক্ষ্মী

  1. অম্বুরাশি – সুতা , ভগবতী ইন্দিরা সুন্দরী হলেন আসলে – 

(A) দেবী লক্ষ্মী 

(B) দেবী চণ্ডী 

(C) দেবী মনসা 

(D) দেবী দুর্গা 

Ans: (A) দেবী লক্ষ্মী

[ আরোও দেখুন: Madhyamik Bengali Suggestion 2023 Click here ]

  1. অম্বুরাশি – সুতা যার মৃত্যুসংবাদ দিলেন 

(A) রাবণের 

(B) বীরবাহুর 

(C) বিভীষণের

(D) রাঘবের

Ans: (B) বীরবাহুর

  1. সসৈন্যে সাজেন আজি ____ আপনি । ‘ ( শূন্যস্থান ) 

(A) খেলিতে 

(B) বধিতে 

(C) মারিতে 

(D) যুঝিতে

Ans: (D) যুঝিতে

  1. মহাবাহু হলেন – 

(A) রামচন্দ্র

(B) রাবণ 

(C) ইন্দ্ৰজিৎ 

(D) বীরবাহু 

Ans: 

  1. _____ সংহারিনু আমি রঘুবরে ; ( শূন্যস্থান ) 

(A) নিশা – রণে 

(B) অপরাহ্ণ রণে 

(C) দিবা – রণে 

(D) মধ্যাহ্ন রণে

Ans: (A) নিশা – রণে

  1. ‘ বৈরীদল ‘ শব্দের অর্থ— 

(A) মিত্রদল

(B) শত্রুদল 

(C) ভ্রাতৃদল

(D) বন্ধুদল

Ans: (B) শত্রুদল

  1. ‘ এ বারতা , এ অদ্ভুত বারতা ____ ( শূন্যস্থান ) 

(A) জননী

(B) ভগবতী 

(C) রাক্ষসী

(D) মাতঃ

Ans: (A) জননী

  1. ‘ কোথায় পাইলে তুমি , শীঘ্ৰ কহ দাসে ।’— দাস হলেন – 

(A) লক্ষ্মণ 

(B) ইন্দ্ৰজিৎ 

(C) রাবণ 

(D) বিভীষণ

Ans: (B) ইন্দ্ৰজিৎ

  1. ‘ রক্ষ রক্ষঃকুলমান ‘ — রক্ষকুলের মান রক্ষা করবেন –

(A) রাবণ

(B) লক্ষ্মণ 

(C) ইন্দ্ৰজিৎ 

(D) বিভীষণ

Ans: (C) ইন্দ্ৰজিৎ

  1. ‘ রক্ষঃ – চূড়ামণি ‘ শব্দের অর্থ—

(A) রাক্ষসকুলের শিরোমণি 

(B) রাক্ষসকুলের ক্ষেত্রমণি 

(C) রাক্ষসকুলের রক্ষামণি 

(D) রাক্ষসকুলের সৈন্যমণি

Ans: (A) রাক্ষসকুলের শিরোমণি

  1. রোষে কুসুমদাম ছিড়ল –

(A) মেঘনাদ 

(B) রামচন্দ্র

(C) কুম্ভকর্ণ 

(D) রাবণ 

Ans: (A) মেঘনাদ

  1. ‘ পদ – তলে পড়ি শোভিল কুণ্ডল , –’কুণ্ডল ‘ শব্দের অর্থ—

(A) কর্ণভূষণ 

(B) নূপুর 

(C) কণ্ঠহার 

(D) কঙ্কণ 

Ans: (A) কর্ণভূষণ

  1. ____ বেড়ে স্বর্ণলঙ্কা । ‘ ( শূন্যস্থান )

(A) বামাদল 

(B) কর্পূরদল 

(C) বৈরীদল 

(D) রাক্ষসদল

Ans: A) বামাদল

  1. ‘ হেথা আমি বামাদল মাঝে ? ‘ — ‘ বামা ‘ শব্দের অর্থ – 

(A) রাক্ষস 

(B) পুরুষ 

(C) নারী 

(D) দেবী

Ans: (C) নারী

  1. দশাননাত্মজ ‘ হলেন – 

(A) রাম 

(B) বিভীষণ

(C) ইন্দ্ৰজিৎ

(D) লক্ষ্মণ

Ans: (C) ইন্দ্ৰজিৎ

  1. ত্বরা করে আনতে বলা হয়েছে –

(A) রথ 

(B) পালকি 

(C) ঘোড়া 

(D) হাতি

Ans: (A) রথ

  1. ‘ ঘুচাব এ অপবাদ , বধি _____ ।

(A) অসুরকুলে 

(B) দেবকুলে 

(C) বানরকুলে 

(D) রিপুকুলে

Ans: (D) রিপুকুলে

  1. সাজিলা রথীন্দ্রষভ’- ‘ রথীন্দ্রবর্ষ ‘ শব্দের অর্থ –

(A) এক শ্রেষ্ঠ বীর 

(B) শ্রেষ্ঠ দেবতা 

(C) শ্রেষ্ঠ রথী 

(D) শ্রেষ্ঠ অসুর 

Ans: (A) এক শ্রেষ্ঠ বীর

  1. ‘ হৈমবতীসুত ‘ হলেন— 

(A) গণেশ 

(B) কার্তিকেয়

(C) অর্জুন 

(D) গরুড়

Ans: (B) কার্তিকেয়

  1. ‘ বৃহন্নলারূপী কিরীটি , ‘ — ‘ কিরীটি ‘ হলেন –

(A) রাবণ 

(B) ইন্দ্ৰজিৎ 

(C) অর্জুন 

(D) বিভীষণ 

Ans: (C) অর্জুন

  1. বৃহন্নলারূপী কিরীটির গোধন উদ্ধারের সঙ্গী ছিলেন— 

(A) এক বিরাট পুত্র 

(B) পবনপুত্র 

(C) রাবণপুত্র 

(D) চিত্রাঙ্গদাপুত্র 

Ans: (A) এক বিরাট পুত্র

  1. উদ্ধারিতে গোধন , সাজিলা শূর , _____ ” ( শূন্যস্থান ) 

(A) বটবৃক্ষমূলে 

(B) নিমবৃক্ষমূলে

(C) শমীবৃক্ষমূলে 

(D) কদমবৃক্ষমূলে 

Ans: (C) শমীবৃক্ষমূলে

  1. ‘ মেঘবর্ণ রথ ; চক্র _____ ।

(A) রামধনুর ছটা

(B) বিজলির ছটা 

(C) স্বর্ণময় ছড়া 

(D) ময়ূর পেখম

Ans: (B) বিজলির ছটা

  1. ‘ ধ্বজ ইন্দ্ৰচাপরূপী ; —– ইন্দ্ৰচাপরূপী ‘ বলতে বোঝায় 

(A) রামধনুরূপীকে

(B) জ্যোৎস্নারূপীকে 

(C) মেঘরূপীকে

(D) রাত্রিরূপীকে

Ans: (A) রামধনুরূপীকে

  1. আশুগতি বেগে ছুটছে যেন –

(A) ব্যাঘ্র 

(B) তুরঙ্গম 

(C) রথ 

(D) হস্তী

Ans: (B) তুরঙ্গম

  1. রথে চড়ে বীর – চূড়ামণি বীরদর্পে , —’বীর – চূড়ামণি ‘ বলতে বলা হয়েছে – 

(A) বিভীষণ 

(B) ইন্দ্রজিৎ

(C) রামচন্দ্র 

(D) রাবণ 

Ans: (B) ইন্দ্রজিৎ

  1. ‘ হেমলতা আলিদায়ে তরু – কুলেশ্বরে ‘ — ‘ হেমলতা ‘ হল –

(A) স্বর্ণলতা 

(B) অপরাজিতা 

(C) মাধবীলতা 

(D) সন্ধ্যামণি 

Ans: (A) স্বর্ণলতা

  1. কহিলা কাঁদিয়া ধনি ; ‘ — ‘ ধনি ‘ শব্দের অর্থ— 

(A) যুবতি

(B) সৌন্দর্যময়ী 

(C) অর্থময়ী 

(D) দেবী

Ans: (B) সৌন্দর্যময়ী

  1. ‘ কোথা প্রাণসখে , রাখি এ দাসীরে , ‘ —এখানে ‘ দাসী ‘ বলতে বোঝাচ্ছে – 

(A) প্রমীলাকে

(B) চিত্রাঙ্গদাকে 

(C) সীতাকে

(D) নিকষাকে

Ans: (B) চিত্রাঙ্গদাকে

  1. ‘ গহন কাননে ,_____ বাঁধিলে সাধে করি – পদ , ‘ ( শূন্যস্থান ) 

(A) বেড়া জালে 

(B) ফাঁদ পেতে 

(C) ব্রততী

(D) সাপটি

Ans: (C) ব্রততী

  1. তবে কেন তুমি , গুণনিধি , ‘ —’গুণনিধি ‘ বলতে বোঝানো হয়েছে

(A) রামচন্দ্রকে 

(B) ইন্দ্ৰজিৎকে 

(C) পবনকে 

(D) রাবণকে 

Ans: (B) ইন্দ্ৰজিৎকে

  1. ‘ তাজ কি কিঙ্করীরে আজি ? ‘ — ‘ কিঙ্করী ‘ শব্দের অর্থ— 

(A) কিন্নরী

(B) সেবিকা

(C) কিঙ্কিণি 

(D) ললনা

Ans: (B) সেবিকা

  1. ইন্দ্ৰজিতে জিতি তুমি , সতী , —’সতী ‘ বলতে বলা হয়েছে – 

(A) নিকষাকে

(B) সরমাকে

(C) প্রমীলাকে 

(D) চিত্রাঙ্গদাকে 

Ans: (C) প্রমীলাকে

  1. ‘ জ্বরায় আমি আসিব ফিরিয়া কল্যাণী’— এখানে ‘ কল্যাণী ‘ হলেন – 

(A) প্রমীলা 

(B) অমলা 

(C) বিমলা 

(D) সরলা 

Ans: (A) প্রমীলা

  1. ইন্দ্রজিৎ সমরে , নাশ করতে চলেছে –

(A) লক্ষ্মণকে 

(B) রাঘবকে 

(C) যদুনন্দনকে

(D) পবনকে

Ans: (B) রাঘবকে

  1. বিদায় এবে দেহ _____ । ( শূন্যস্থান ) 

(A) চাঁদমুখী

(B) বিধুমুখী 

(C) শশীমুখী

(D) জ্যোৎস্নামুখী 

Ans: (B) বিধুমুখী

  1. ‘ অম্বর উজলি ! ‘ — ‘ অম্বর ‘ শব্দের অর্থ হল – 

(A) বাতাস 

(B) আগুন 

(C) আকাশ 

(D) বন্যা 

Ans: (C) আকাশ

  1. শিখিনী আকর্ষি রোষে , ‘ — ‘ শিঞ্জিনী ‘ শব্দের অর্থ হল – 

(A) ধনুকের ছিলা 

(B) অসি 

(C) তূণ 

(D) দুন্দুভি 

Ans: (A) ধনুকের ছিলা

  1. ‘ ______ যথা নাদে মেঘ মাঝে ভৈরবে । ‘ ( শূন্যস্থান ) 

(A) শুরেন্দ্র 

(B) রাঘবেন্দ্র

(C) পক্ষীন্দ্ৰ 

(D) বীরেন্দ্র

Ans: (C) পক্ষীন্দ্ৰ

  1. ‘ উড়িছে কৌশিক – ধ্বজ ; ‘ – ‘ ধ্বজ ‘ শব্দের অর্থ – 

(A) দামামা 

(B) পতাকা 

(C) কনক 

(D) আসন

Ans: (B) পতাকা

  1. ‘ নাদিলা কর্পূরদল ‘ — ‘ কর্পূরদল ‘ বলতে বোঝানো হয়েছে –

(A) দেবতাবৃন্দকে

(B) হনুমানবৃন্দকে 

(C) রাক্ষসবৃন্দকে 

(D) মানববৃন্দকে

Ans: (C) রাক্ষসবৃন্দকে

  1. ‘ নাদিলা কর্পূরদল হেরি বীরবরে মহাগর্বে ।— ‘ বীরবর ‘ হলেন— 

(A) ইন্দ্ৰজিৎ

(B) রাবণ 

(C) লক্ষ্মণ 

(D) বিভীষণ 

Ans: (A) ইন্দ্ৰজিৎ

  1. মরে নাকি পুনরায় বেঁচে উঠেছে – 

(A) লক্ষ্মণ 

(B) বীরবাহু

(C) রাঘব 

(D) পবন

Ans: (C) রাঘব

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | অভিষেক (কবিতা) মাইকেল মধুসূদন দত্ত – মাধ্যমিক বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Bengali Abhishek Question and Answer : 

  1. ‘ মেঘনাদবধ কাব্য ‘ – এর প্রথম সর্গটির নাম লেখো । কাব্যের মোট ক – টি সর্গ ? 

Ans: মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘ মেঘনাদবধ কাব্য ‘ – এর প্রথম সর্গের নাম ‘ অভিষেক । এ কাব্যের মোট সর্গ সংখ্যা ন – টি । 

  1. ‘ অভিষেক ‘ রচনাংশটিতে কার অভিষেকের কথা বলা হয়েছে ? 

Ans: মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘ অভিষেক ‘ রচনাংশটিতে রক্ষরাজ রাবণের পুত্র ইন্দ্রজিতের অভিষেকের কথা বলা হয়েছে ।

  1. ইন্দ্ৰজিৎ কে ? 

Ans: রাবণ ও মন্দোদরীর সন্তান মেঘনাদ দেবরাজ ইন্দ্রকে জয় করেছিলেন বলে বীরশ্রেষ্ঠ ‘ ইন্দ্রজিৎ ‘ নাম গ্রহণ করেছিলেন । 

  1. কাকে বীরেন্দ্রকেশরী বলা হয়েছে ? 

Ans: মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘ অভিষেক ’ নামাঙ্কিত অংশে বীরেন্দ্রকেশরী বলা হয়েছে রাবণপুত্র ইন্দ্রজিৎকে । বীরেন্দ্রকেশরীর অর্থ বীরসিংহ । 

  1. ‘ প্রণমিয়া ধাত্রীর চরণে , / কহিলা , – ধাত্রী আসলে কে এবং তাকে কী বলা হয়েছে ? 

Ans: মধুসূদনের অভিষেক ‘ কাব্যাংশে প্রভাষার ছদ্মবেশিনী ধাত্রী আসলে দেবী লক্ষ্মী । প্রমোদোদ্যানে মেঘনাদ তাঁকে দেখে সেখানে আগমনের কারণ ও লঙ্কার কুশল জিজ্ঞাসা করেছিলেন । 

  1. ইন্দ্রজিৎ ধাত্রীর চরণে প্রণাম করে তাকে কী বলে সম্বোধন করেন ? 

Ans: ‘ অভিষেক ’ নামাঙ্কিত রচনাংশে ধাত্রী ছদ্মবেশধারী লক্ষ্মীর চরণে প্রণাম করে তাকে ‘ মাতঃ ‘ বলে সম্বোধন করেন । 

  1. ‘ অম্বুরাশি – সুতা কার ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন ?

Ans: মধুসুদনের ‘ অভিষেক ‘ কাব্যাংশে ‘ অম্বুরাশি – সুতা ‘ অর্থাৎ লক্ষ্মী , ইন্দ্রজিতের ধাত্রী প্রভাষার ছদ্মবেশ ধারণ করে প্রমোদকাননে এসে ইন্দ্রজিৎকে বীরবাহুর মৃত্যু ও রাবণের যুদ্ধযাত্রার সংবাদ দিয়েছিলেন ।

  1. বীরবাহু কে ? 

Ans: লঙ্কেশ্বর রাবণ ও গন্ধবর্তনয়া চিত্রাঙ্গদার পুত্র হলেন বীরবাহু । বাল্মীকির রামায়ণে বীরবাহুর উল্লেখ না থাকলেও কৃত্তিবাসী রামায়ণে তাঁর উল্লেখ পাওয়া যায় । 

  1. ‘ মহাশোকী রাক্ষসাধিপতি কাকে বলা হয়েছে ? 

Ans: পাঠ্য ‘ অভিষেক ‘ কবিতায় ‘ মহাশোকী রাক্ষসাধিপতি ‘ বলতে লঙ্কার অধিপতি রক্ষরাজ রাবণকে বলা হয়েছে । পুত্র বীরবাহুর মৃত্যুতে তিনি মহাশোকী । 

  1. ‘ হায় । পুত্র , কি আর কহিব কনক – লঙ্কার দশা । বক্তা ‘ কনক – লঙ্কার দশা ‘ বলতে কী বুঝিয়েছেন ? 

Ans: বক্তা প্রভাষার ছদ্মবেশী ‘ অম্বুরাশি – সুতা ‘ অর্থাৎ লক্ষ্মীদেবী ‘ কনক – লঙ্কার দশা ‘ বলতে বীরবাহুর মৃত্যু এবং সেই কারণে রাবণের সসন্যৈ যুদ্ধযাত্রার কথা বলেছেন ।

  1. এবং তার বিস্ময়ের কারণ কী ? জিজ্ঞাসিলা মহাবাহু বিস্ময় মানিয়া ; – মহাবাহু কে ?

Ans: ‘ মহাবাহু ‘ হলেন ইন্দ্রজিৎ । রামচন্দ্রকে রাত্রিকালীন যুদ্ধে তিরের আঘাতে খণ্ড খণ্ড করে কেটে ফেলা সত্ত্বেও , তাঁরই হাতে বীরবাহু কীভাবে মারা যেতে পারে এ কথা ভেবে তিনি বিস্মিত হয়েছেন । 

  1. ‘ তবে , এ বারতা , এ অদ্ভুত বারতা , বার্তাটি কী এবং তা অদ্ভুত কেন ? 

Ans: বার্তাটি হল রাঘবের হাতে বীরবাহুর মৃত্যু । বার্তাটি অদ্ভুত কারণ ইন্দ্রজিতের তিরের আঘাতে যে – রাঘবের মৃত্যু ঘটেছে , সে কী করে বীরবাহুর হত্যাকারী হয় ।

  1. ভগবতীর অপর নাম কী ?

Ans: মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘ অভিষেক ’ নামাঙ্কিত কবিতা থেকে আমরা জানতে পারি , ভগবতীর অপর নাম লক্ষ্মী । ‘ 

  1. রক্ষ রক্ষঃকুলমান , ‘ — বক্তা কে এবং কাকে উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেছেন ?

Ans: বক্তা হলেন প্রভাষার রূপ ধারণকারিণী দেবী লক্ষ্মী । তিনি মায়াবী রামচন্দ্রের হাত থেকে রক্ষঃকুলকে রক্ষার জন্য ইন্দ্রজিৎকে উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেছেন ।

  1. ইন্দ্রজিতের প্রিয়ানুজকে কে বধ করেছেন ?

Ans: ‘ অভিষেক ’ কবিতা অনুসারে , ইন্দ্রজিতের প্রিয় বৈমাত্রেয় ভাই বীরবাহুকে , রামচন্দ্র সম্মুখসমরে বধ করেছিলেন ।

  1. রঘুবরকে ইন্দ্রজিৎ কখন সংহার করেছিলেন ?

Ans: ‘ অভিষেক ’ কবিতানুসারে , লক্ষ্মীর কাছে বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর বিস্মিত ইন্দ্রজিৎ তাঁকে জানিয়েছিলেন যে , রাত্রিকালীন যুদ্ধে তিনি রাঘবকে সংহার করেছিলেন । 

  1. ইন্দিরা সুন্দরীকে কী কী বিশেষণে ভূষিত করা হয়েছে ? 

Ans: পাঠ্য রচনাংশে কবি মাইকেল মধুসুদন দত্ত ‘ ইন্দিরা সুন্দরী ’ তথা লক্ষ্মীকে ‘ রত্নাকর ’ ও ‘ রত্নোত্তমা ‘ বিশেষণে ভূষিত করেছেন । 

  1. ইন্দিরা সুন্দরীর মুখে প্রিয় ভাই বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ শুনে মেঘনাদের রোষের বহিঃপ্রকাশ কীভাবে ঘটেছিল ? 

Ans: প্রমোদোদ্যানে ছদ্মবেশী লক্ষ্মীর মুখে প্রিয় ভাই বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ শুনে মেঘনাদ ফুলমালা ছিঁড়ে , সোনার আভরণ ছুড়ে ফেলে নিজেকে ধিক্কার জানায় । 

  1. ‘ হা ধিক্ মোরে ! -বস্তুা কেন নিজেকে ধিক্কার দিয়েছিলেন ?

Ans: স্বর্ণলঙ্কা যখন শত্রুপক্ষের ঘেরাটোপে , প্রিয় ভাই যখন নিহত , পিতা যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত তখন প্রমোদকাননে মেয়েদের মাঝে বিলাসিতা শোভন নয় — তাই এই আত্মধিকার । 

  1. ‘ ঘুচাব ও অপবাদ , বধি রিপুকুলে / অপবাদটি কী ? 

Ans: রামচন্দ্রের হাতে লঙ্কার আক্রান্ত হওয়া ও প্রিয়ানুজ বীরবাহুর মৃত্যুকালে মেয়েদের মাঝে প্রমোদোদ্যানে সময় কাটানো এবং কর্তব্যের গাফিলতিকেই ইন্দ্ৰজিৎ অপবাদ বলেছেন ।

  1. ‘ সাজিলা রথীন্দ্রষভ বীর – আভরণে ‘ — ‘ রথীন্দ্রর্যভ ’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে এবং তিনি কোন্ কোন্ বীরের মতো আভরণে ভূষিত হয়েছেন ? 

Ans: ‘ রথীন্দ্রষভ ‘ বা শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা মেঘনাদ তারকাসুর বধ কালে কার্তিকের মতো ও বিরাটরাজের গোধন রক্ষার্থে বৃহন্নলারূপী কিরীটীর মতো বীর আভরণে ভূষিত হয়েছিলেন । 

  1. মায়ারী মানব বলতে কাকে চিহ্নিত করা হয়েছে ?

Ans: ‘ অভিষেক ‘ নামাঙ্কিত পাঠ্য রচনাংশে মায়াবী মানব বলতে লক্ষ্মী , রঘুবর রামচন্দ্রকে চিহ্নিত করেছেন । 

  1. ‘ তব শরে মরিয়া বাঁচিল ।’— কার শর প্রয়োগে কে মরে বেঁচে উঠেছিলেন ?

Ans: আলোচ্য ‘ অভিষেক ’ কবিতায় রক্ষকুলবীর ইন্দ্রজিতের তিরের আঘাতে রাঘব মরেও বেঁচে উঠেছিলেন ।

  1. ‘ যাও তুমি ত্বরা করি ; ‘ – কে কাকে ‘ ত্বরা করি ’ যাত্রা করতে বলেছেন ? 

Ans: ‘ অভিষেক ‘ কবিতানুসারে , স্বর্ণলঙ্কার বর্তমান অবস্থা নিরীক্ষণ করে লক্ষ্মী ত্বরা অর্থাৎ শীঘ্র ইন্দ্রজিৎকে সেখানে যাত্রা করতে বলেছেন ।

  1. কালসমরে শব্দার্থ বুঝিয়ে দাও ।

Ans: পাঠ্য ‘ অভিষেক ‘ কবিতায় , ‘ কালসমরে ‘ বলতে রাবণের সঙ্গে রামচন্দ্রের সম্ভাব্য ঘোরতর যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে । 

  1. ইন্দ্ৰজিৎকে ‘ রক্ষঃ – চূড়ামণি ‘ বলার কারণ কী ? 

Ans: ‘ রক্ষঃ – চূড়ামণি ‘ শব্দের অর্থ রাক্ষসদের মধ্যে কুলশ্রেষ্ঠ বা শিরোমণি । প্রবল শক্তির অধিকারী ইন্দ্রজিৎ রাক্ষসদের মধ্যে বীর যোদ্ধা , তাই তাকে ‘ রক্ষঃ – চূড়ামণি ‘ বলা হয়েছে । 

  1. মহাবলী মেঘনাদের কুসুমদাম ছেঁড়ার কারণ কী ?  

Ans: প্রভাষা ছদ্মবেশধারী লক্ষ্মীর কাছে ইন্দ্রজিৎ স্বর্ণলঙ্কার দুর্দশার কথা এবং রাঘবকে সংহার করা সত্ত্বেও তাঁর বেঁচে থাকার কথা জানতে পেরে মেঘনাদ প্রচণ্ড রোয়ে কুসুমদাম ছিঁড়ে ফেললেন । 

  1. ইন্দ্রজিতের কুসুমদাম ছিঁড়ে ফেলা ও অন্যান্য জিনিস ছুড়ে ফেলাকে কীসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে ?

Ans: ‘ অভিষেক ‘ কবিতায় ইন্দ্রজিতের কুসুমদাম ছিঁড়ে ফেলা ও অন্যান্য জিনিস ছুড়ে ফেলাকে , অশোক গাছের তলায় অশোক ফুলের আড্ডা বিচ্ছুরণের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে । 

  1. মহাবলী – মেঘনাদ প্রচণ্ড রোয়ে কী কী করলেন ?  

Ans: ‘ অভিষেক ‘ কবিতা অনুসারে , মহাবলী মেঘনাদ প্রচণ্ড রোষে কুসুমদাম ছিঁড়ে ফেলে , সোনার আভরণ ছুড়ে ফেলে সকল সাজ নষ্ট করলেন । 

  1. প্রচণ্ড রোষে মেঘনাদ নিজেকে কী বলে ধিক্কার দিলেন ?  

Ans: ‘ অভিষেক ‘ কবিতানুসারে , যখন শত্রুরা স্বর্ণলঙ্কা গ্রাস করতে উদ্যত , তখন ইন্দ্ৰজিৎ নারীদের মাঝে প্রমোদরত — এই ভাবনা প্রকাশ করে । তিনি নিজেকে ধিক্কার দিলেন । 

  1. ‘ বৈরিদল বেড়ে / স্বর্ণলঙ্কা , – ‘ বৈরিদল ‘ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে ? ‘ বেড়ে স্বর্ণলঙ্কা ’ বলতে কী বোঝ ?

Ans:  এখানে ‘ বৈরিদল ‘ অর্থাৎ শত্রুপক্ষ বলতে রামচন্দ্র ও তাঁর সৈন্যদের বোঝানো হয়েছে । ‘ বেড়ে স্বর্ণলঙ্কা ‘ বলতে বোঝানো হয়েছে । স্বর্ণলঙ্কাকে ঘিরে ফেলা হয়েছে । 

  1. ‘ কাঁপিলা লঙ্কা , কাঁপিলা জলধি ।’— ‘ লঙ্কা ’ ও ‘ জলধি কেঁপে ওঠার কারণ কী ? 

Ans: ‘ অভিষেক ’ কবিতা অনুসারে প্রভাষার মুখে লঙ্কার দুঃসংবাদ শুনে প্রমোদ উদ্যান থেকে যুদ্ধ যাত্রাকালে রথে চেপে আকাশপথে ধাবমান মেঘনাদ ধনুকের ছিলায় যে – টংকার দিয়েছিলেন , তাতে এমন অবস্থা হয়েছিল । 

  1. ‘ আন রথ ত্বরা করি ; ’ – ত্বরা করে রথ এনে ইন্দ্ৰজিৎ কী করবেন ? 

Ans: পাঠ্য ‘ অভিষেক ‘ কবিতা অনুসারে , শীঘ্র রথ নিয়ে রাবণপুত্র ইন্দ্রজিৎ প্রমোদকানন ত্যাগ করে স্বর্ণলঙ্কার অভিমুখে যাত্রা করবেন । 

  1. হৈমবতীসুত কী করেছিলেন ? 

Ans: দেবলোকে ত্রাস সঞ্চারকারী মহাবলশালী তারকাসুরকে বধ করে ‘ হৈমবতীসূত ’ অর্থাৎ কার্তিকেয় স্বর্গরাজ্য নিষ্কণ্টক করেছিলেন । 

  1. ‘ বৃহন্নলারূপী কিরীটি কে ? 

Ans: ‘ বৃহন্নলারূপী কিরীটি ‘ হলেন বৃহন্নলার ছদ্মবেশধারী তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুন । 

  1. গোধন উদ্ধার করতে কিরীটি কাকে সঙ্গে নিয়েছিলেন ? 

Ans: বিরাট রাজাকে বিপন্মুক্ত করতে কিরীটি তথা অর্জুন গোধন উদ্ধারের জন্য বিরাট পুত্রকে সঙ্গে নিয়েছিলেন ।  

  1. অর্জুনকে কিরীটি বলার কারণ কী ? 

Ans: পাণ্ডবশ্রেষ্ঠ অর্জুন দেবরাজ ইন্দ্রের দেওয়া কিরীট বা মুকুট মাথায় পরেছিলেন বলে , অর্জুনকে কিরীটি বলা হয় । 

  1. ‘ শমীবৃক্ষমূলে ‘ কথাটির মধ্যে কোন্ কাহিনির ইঙ্গিত আছে ? 

Ans: ‘ শমীবৃক্ষমূলে ‘ কথাটির মধ্যে বৃহন্নলারূপী অর্জুনের ছদ্মবেশ ত্যাগ করে যুদ্ধসজ্জার প্রসঙ্গের ইঙ্গিত আছে । 

  1. স্বর্ণলঙ্কায় যাওয়ার সময় ইন্দ্রজিতের রথসজ্জার কথা লেখো । 

Ans: ‘ অভিষেক ’ কবিতা অনুসারে স্বর্ণলঙ্কায় যাওয়ার সময় ইন্দ্রজিতের অত্যন্ত দ্রুতবেগসম্পন্ন মেঘবর্ণ রথটির চাকায় ছিল বিজলির ছটা , পতাকা ছিল রংধনুর মতো সাতটি বর্ণে রঞ্জিত । 

  1. ইন্দ্ৰজিৎ যখন স্বর্ণলঙ্কায় যাওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছিলেন তখন কে তার পথ রোধ করে দাঁড়ালেন ? 

Ans: ‘ অভিষেক ‘ কবিতানুসারে ইন্দ্রজিৎ যখন স্বর্ণলঙ্কায় যাওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছিলেন তখন ইন্দ্রজিতের পত্নী প্রমীলা তাঁর পথ রোধ করে দাঁড়ালেন ।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | অভিষেক (কবিতা) মাইকেল মধুসূদন দত্ত – মাধ্যমিক বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Bengali Abhishek Question and Answer :

  1. ‘ কনক – আসন ত্যজি ‘ — কে , কেন কনক – আসন ত্যাগ কনক- আসন ত্যাগ করেছিল ? 

Ans: আমাদের পাঠ্য মধুসূদনের ‘ অভিষেক ’ নামক কাব্যাংশে রাবণ ও মন্দোদরীর বীরপুত্র ইন্দ্রজিতের কনক – আসন ত্যাগের কথা বলা হয়েছে । । ইন্দ্ৰজিৎ প্রমোদ উদ্যানে স্ত্রী প্রমীলা ও তাঁর সখীদের নিয়ে প্রমোদবিহারে ব্যস্ত ছিলেন । এমন সময় ধাত্রী প্রভাষার ছদ্মবেশে দেবী লক্ষ্মী সেখানে উপস্থিত হন । ধাত্রী প্রভাষার এই অপ্রত্যাশিত আগমনের কারণ জানার জন্য ও তার প্রতি খাজ্ঞাপনের জন্য ইন্দ্রজিৎ কনক – আসন ত্যাগ করেছিলেন । মধুসুদনের ইন্দ্রজিৎ এখানে বিয়ে , শ্রদ্ধা ও সৌজন্যবোধের প্রতীকরূপে প্রতিভাত ।

  1. ‘ শিরঃ চুম্বি , ছদ্মবেশী অম্বুরাশি – সুতা / উত্তরিলা – ‘ অম্বুরাশি – সুতা ’ কে ? তাঁর উত্তর কী ছিল ? 

Ans: মধুসূদনের অভিষেক ’ নামক পাঠ্য কাব্যাংশে ‘ অম্বুরাশি – সুতা ’ অম্বুরাশি – সুতা শব্দটি পাই । ইনি আসলে দেবী লক্ষ্মী । দেবতা ও অসুরের সমুদ্রমন্থনকালে জল থেকে উত্থিত বলে তাঁর এমন নাম । 

  দেবী লক্ষ্মী ধাত্রী তাঁকে আসার কারণ প্রভাষার রূপে প্রমোদ উদ্যানে হাজির হলে ইন্দ্রজিৎ ও লঙ্কার কুশল জিজ্ঞাসা করেন । অত্যন্ত হতাশার সঙ্গে তিনি ( দেবী লক্ষ্মী ) রামের সঙ্গে ভীষণ যুদ্ধে ইন্দ্রজিতের প্রিয় ভাই বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ ও বক্তার উত্তর পুত্রশোকে শোকগ্রস্ত পিতা রাবণের যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতির কথা জানান ।

  1. ‘ মহাবাহু বিস্ময় মানিয়া ; ’ — ‘ মহাবাহু ’ কে ? তাঁর প্রশ্ন বিস্ময়ের কারণ কী ? 

Ans: মহাবাহুর পরিচয় মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ( মেঘনাদবধ কাব্য : প্রথম সর্গ ) পাঠ্য ‘ অভিষেক ‘ রচনাংশে ‘ মহাবাহু ’ হলেন রক্ষকুলমণি বীরেন্দ্রকেশরী ইন্দ্রজিৎ মেঘনাদ । কবি এখানে ইন্দ্রজিতের প্রবল শক্তি ও পরাক্রমের জন্য তাঁকে ‘ মহাবাহু ‘ বিশেষণে ভূষিত করেন । ( ইন্দ্ৰজিৎ যখন ধাত্রীরূপী দেবী লক্ষ্মীর কাছে রামচন্দ্রের সঙ্গে সম্মুখসমরে বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ জানলেন , তখন তিনি অত্যন্ত বিস্ময় প্রকাশ করলেন । কারণ তিনি নিজে রাত্রিকালীন যুদ্ধে রামকে সংহার করেছেন । মৃত ব্যক্তি কীভাবে বীরবাহুকে সংহার করবে এ কথা ভেবেই তিনি বিস্মিত ।

  1. ‘ এ অদ্ভুত বারতা ; —কোন্ বার্তা , কেন অদ্ভুত ? 

Ans: উদ্ধৃত অংশটি মধুসুদন দত্ত রচিত ( মেঘনাদবধ কাব্য : প্রথম সর্গ ) ‘ অভিষেক ‘ নামক পাঠ্য কবিতা থেকে গৃহীত । + কোন বার্তা এবং কেন অদ্ভুত , লক্ষ্মীদেবী ইন্দ্রজিতের ধাত্রী প্রভাষার ছদ্মবেশে এসে স্বর্ণলঙ্কার সকল সংবাদ তাঁকে জানালেন । সম্মুখসমরে রামের সঙ্গে প্রচণ্ড যুদ্ধে নিহত হয়েছেন ইন্দ্রজিতের প্রিয় ভাই বীরবাহু । কিন্তু ইন্দ্ৰজিৎ এ সংবাদে অত্যন্ত বিস্ময়াপন্ন হলেন । কারণ তিনি নিজের হাতে রাত্রিকালীন যুদ্ধে রামকে হত্যা করেছেন । আর সেই মৃত রাঘব কিনা তাঁর ভাই – এর হত্যাকারী — এই বার্তাই তাঁর কাছে অদ্ভুত লেগেছে । 

  1. ‘ সীতাপতি ’ কে ? তাঁকে ‘ মায়াবী মানব ‘ বলা হয়েছে । কেন ? 

Ans: পাঠ্য ‘ অভিষেক ’ কাব্যাংশে উক্ত নামের উল্লেখ পাওয়া যায় । সীতাপতি অযোধ্যার রাজা দশরথের জ্যেষ্ঠপুত্র ছিলেন রাম । এই রামচন্দ্রের স্ত্রীর নাম সীতা । এই কারণে রামচন্দ্রকে ‘ সীতাপতি ‘ বলা হয়েছে । ‘ মায়াবী মানব ’ বলার কারণ সীতাপতি রামচন্দ্রকে লক্ষ্মীদেবী ‘ মায়াবী মানব ‘ বলেছেন । কারণ মায়াবী না – হলে প্রবল শক্তিশালী ইন্দ্রজিতের তিরে রামের মৃত্যু হলেও , তিনি কীভাবে পুনরায় দৈবপ্রভাবে পুনর্জীবন লাভ করেন । এই কারণে কাব্যাংশে রামকে ‘ মায়াবী মানব ’ রূপে উপস্থাপনা করা হয়েছে ।

  1. ‘ রক্ষ রক্ষঃকুল মান , এ কালসমরে , রক্ষঃ – চূড়ামণি –বক্তা ‘ রক্ষঃ – চূড়ামণি ‘ বলে কাকে সম্বোধন করেছেন ? ‘ কালসমর বলতে কী বোঝ ? 

Ans: বক্তা ইন্দিরা সুন্দরী অর্থাৎ লক্ষ্মী দেবী ‘ রক্ষঃ – চূড়ামণি ‘ বলে ‘ রক্ষাঃ – চূড়ামণি ’ ইন্দ্রজিৎকে সম্বোধন করেছেন । কালসমর ‘ কালসমর ‘ বলতে বোঝায় কাল রূপ সমর বা ভয়ংকর যুদ্ধ । এক্ষেত্রে রামচন্দ্রের সঙ্গে রাক্ষসদের ভয়ংকর প্রাণঘাতী যুদ্ধকে বোঝানো হয়েছে । ছদ্মবেশী দেবী লক্ষ্মী প্রমোদকাননে ইন্দ্রজিতের সামনে যখন হতাশার সুরে বীরবাহুর মৃত্যু , রাবণের যুদ্ধযাত্রার কথা বলছিলেন তখন তা তাঁর বিশ্বাস হচ্ছিল না । দেবী মায়াবী মানব রামচন্দ্রের জেগে ওঠা ও তাঁর দৈবী শক্তির পরিচয় দিতে শব্দটি ব্যবহার করেছেন । 

  1. ইন্দিরা সুন্দরীর বার্তা পেয়ে ইন্দ্ৰজিৎ কী কী করেন ? 

Ans: ইন্দিরা সুন্দরীর বার্তার প্রভাব উত্তর মাইকেল মধুসুদন রচিত ‘ মেঘনাদবধ কাব্য ‘ – এর ‘ অভিষেক ‘ নামাঙ্কিত পাঠ্য কাব্যাংশে ইন্দিরা সুন্দরীর বার্তা পেয়ে ইন্দ্রজিৎ প্রচণ্ড কোধে কুসুমদাম অর্থাৎ ফুলমালা ছুড়ে ফেললেন এবং সোনার অলংকার দূরে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন । অশোক ফুল গাছের তলায় যেমন আভাময় হয়ে পড়ে থাকে , ঠিক তেমনই ইন্দ্রজিতের সেইসব সোনার অলংকার সোনা शি আভা ছড়িয়ে মাটিতে পড়ে রইল ।

  1. ধিক মোরে — কে , কেন একথা বলেছেন ?

Ans: উদ্ধৃত অংশটির বক্তা মধুসুদনের ‘ মেঘনাদবধ কাবা ’ থেকে গৃহীত ‘ অভিষেক ‘ নামক কাব্যাংশের অন্যতম চরিত্র ইন্দ্রজিতের । মেঘনাদ প্রমোদকাননে বিলাসব্যসনে মত্ত থাকার সময় কে , কেন প্রশ্নোত প্রভাষার ছদ্মবেশে লক্ষ্মী এসে ইন্দ্রজিৎকে তার প্রিয় ভ্রাতা বীরবাহুর মৃত্যু এবং শোকস্তব্ধ রাবণের শত্ৰু রাঘব নিধনে ব্রতী হওয়ার কথা জানায় । লঙ্কার এই দুর্দিনে ইন্দ্রজিৎ প্রমোদকাননে মেয়েদের মাঝে থেকে রাজধর্ম পালনে ব্যর্থ হয়েছেন বলে তাঁর এই আত্মধিক্কার ।

  1. ম ঘুচাব ও অপবাদ ’ — বক্তা কোন্ অপবাদ , কীভাবে ঘোচাতে চেয়েছেন ?

Ans: প্রশ্নে উদ্ধৃত অংশটি ‘ অভিষেক ’ নামাঙ্কিত কাব্যাংশ থেকে গৃহীত হয়েছে । বক্তা ইন্দ্ৰজিৎ প্রভাষা রাক্ষসীর বেশধারিণী লক্ষ্মীদেবীর মুখে ভাইয়ের মৃত্যুসংবাদ এবং রাবণের যুদ্ধপ্রস্তুতির কথা শুনে দ্রুত প্রমোদ উদ্যান ত্যাগ করে লঙ্কায় যাত্রা করতে উদ্যত হলেন । যখন তিনি বুঝলেন স্বর্ণলঙ্কার ঘোরতর দুর্দিনে তিনি নারীদের মাঝে বিলাসব্যসনে মত্ত , তখন নিজেকে তিনি ধিক্কার জানালেন ও শত্রুকুলের নিধন করবার প্রতিজ্ঞা করে সকল অপবাদ ঘোচাবেন বলে দৃঢ় সংকল্প নিলেন । 

  1. বৃহন্নলারূপী কিরীটি কে ? তাঁর কোন্ কীর্তির কথা পাঠে উল্লিখিত হয়েছে ?

Ans:  মাইকেল মধুসুদন দত্তের ‘ অভিষেক ‘ কাব্যাংশে বৃহন্নলারূপী কিরীটি হলেন তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুন । অজ্ঞাতবাসকালে , বিরাট রাজার কন্যা উত্তরার নৃত্য – গীত শিক্ষিকারূপে নিযুক্ত অর্জুন বৃহন্নলাবেশ ধারণ করেন । → অর্জুন যখন বৃহন্নলার ছদ্মবেশে বিরাট রাজার প্রাসাদে ছিলেন , সেসময় দুর্যোধন বিরাট রাজাকে পরাস্ত করে তাঁর সমস্ত কীর্তির পরিচয় গোধন হরণ করেন । তখন অর্জুন রাজপুত্র উত্তরের সারথিরূপে কৌরবদের সঙ্গে যুদ্ধ করে বিরাট রাজাকে বিপদ থেকে মুক্ত করেন । তাঁর সেই গোধন উদ্ধারের কীর্তির কথাই পাঠে উল্লিখিত হয়েছে । 

  1. ‘ সাজিলা রবীন্দ্রর্যত’— ‘ রবীন্দ্রর্যভ ‘ কে ? তিনি কেমন ভাবে সাজলেন ?

Ans: মধুসূদনের ‘ অভিষেক ‘ নামক পাঠ্য কাব্যাংশে ‘ রথীন্দ্রর্যভ ‘ ‘ রণীয় ‘ শব্দটি পাই , যার অর্থ ‘ শ্রেষ্ঠ রথী ‘ । এখানে ‘ রথীন্দ্রর্যভ ‘ বলতে ইন্দ্রজিৎকে বোঝানো হয়েছে । প্রমোদকাননে মেয়েদের মাঝে ইন্দ্রজিৎ যখন বিলাসব্যসনে মত্ত ছিলেন । তখন লঙ্কার ঘোর দুর্দিনের খবর পেয়ে নিজেকে সালের বর্ণনা ধিক্কার জানান । শত্রুপক্ষকে বিনাশ করতে এই শ্রেষ্ঠ বীর তারকাসুর বিনাশকালে কার্তিকের মতো ও বিরাট রাজার গোধন রক্ষার সময় বৃহন্নলারূপী অর্জুনের মতো রণসাজে সজ্জিত হলেন । 

  1. ‘ ধরি পতি – কর – যুগ ‘ — ‘ পতি – কর – যুগ ধরে কে , কী বলেছিলেন লেখো । 

Ans: মধুসূদনের ‘ অভিষেক ‘ কাব্যাংশে ছদ্মবেশী প্রভাষার কাছে লঙ্কার দুর্দিনের খবর পেয়ে ইন্দ্রজিৎ প্রমোদকানন থেকে লঙ্কার দিকে যাত্রা করেন । ইন্দ্রজিতের বিদায় প্রমীলাকে বিরহ ‘ পতি – কর – যুগ ধরে ব্যথায় আচ্ছন্ন করে । বিরহকাতর প্রমীলা কেঁদে ফেলেন এবং বলেন পতি বিনা কেমন করে তিনি প্রাণ রক্ষা করবেন । গহন বনের মধ্যে হাতিদের দলপতি যেভাবে বনলতাকে পদতলে স্থান দেয় , প্রমীলাও ঠিক সেইভাবে ইন্দ্রজিতের আশ্রয়ে থাকতে চাইছেন । 

  1. ‘ কহিলা কাঁদিয়া ধনি ; ‘ — ‘ ধনি কে ? তিনি কাঁদলেন কেন ? 

Ans: ‘ অভিষেক ‘ কাব্যাংশে ‘ ধনি ‘ বলতে ইন্দ্ৰজিৎ – পত্নী প্রমীলাকে বোঝানো হয়েছে । 

  ধাত্রী প্রভাষা বেশধারী লক্ষ্মী যখন স্বর্ণলঙ্কার দুর্দিন , ইন্দ্রজিতের ভাই বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ ও রাবণের যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতির খবর ইন্দ্রজিতের কাছে দিলেন , তখন তিনি প্রমোদকাননে নারীদের ‘ ধনি ‘ কাঁদলেন কেন মাঝে বিলাসব্যসনে মত্ত ছিলেন । স্বর্ণলতা যেভাবে বড়ো গাছকে আঁকড়ে ধরে , সেভাবে প্রমীলা রক্ষকুলনিধি ইন্দ্রজিৎকে আঁকড়ে ধরে , তাঁর পথ রোধ করে কেঁদে ফেলেন । স্বামীর বিচ্ছেদ – বেদনায় পত্নীর কাতা ও ব্যথাতুর রূপটি প্রমীলার মধ্যে দিয়ে ফুটে ওঠে । 

  1. ‘ তাজ কি কিঙ্করীরে আজি ? -বক্তা কে ? তার মনে এমন প্রশ্ন জেগে ওঠার কারণ কী ? অথবা , ‘ কেমনে ধরিবে প্রাণ তোমার বিরহে ‘ — কার উক্তি ? কেন এমন উক্তি ?

Ans: মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘ অভিষেক ’ কবিতা থেকে গৃহীত অংশে , ইন্দ্রজিৎ – পত্নী প্রমীলার মনে এই প্রশ্ন জেগেছে । মনে প্রশ্ন জেগে ওঠার কারণ ইন্দ্ৰজিৎ , ধাত্রী প্রভাষা – বেশী লক্ষ্মীর কাছে স্বর্ণলঙ্কার দুর্দিনের খবর পান । এই সংবাদ শুনে , তিনি স্বর্ণলঙ্কার উদ্দেশে রওনা হওয়ার জন্য প্রস্তুত হন । এমন সময় পত্নী প্রমীলা তাঁর পথ রোধ করে দাঁড়ান । প্রমীলা স্বামীর কাছে , তাঁকে ত্যাগ করার কারণ জানতে চান । জানতে চান এই হতভাগিনি ইন্দ্ৰজিৎ – বিনা কেমনভাবে বেঁচে থাকবেন । ব্রততীকে মাতঙ্গ ত্যাগ করলেও যেমন যূথনাথ আশ্রয় দেয় , ঠিক তেমনভাবেই তিনি কোনোক্রমে ইন্দ্রজিতের পদাশ্রয়ে নিজ স্থান খুঁজেছেন । আসলে স্বামীবিরহে বিরহাতুরা এক পত্নীর অন্তরের রূপটি এই উক্তির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে ।

  1. প্রমীলার কথার উত্তরে মেঘনাদ কী বলেছিলেন ? 

Ans: মাইকেল মধুসুদন দত্ত রচিত ‘ অভিষেক ‘ কাব্যাংশে প্রমোদ উদ্যানে প্রভাষার মুখে লঙ্কার দুর্দিনের কথা শুনে ইন্দ্রজিৎ লঙ্কার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে প্রমীলা তাঁর পথ রোধ করেন এবং প্রমোদ উদ্যান পরিত্যাগের কারণ জানতে চান । উত্তরে ইন্দ্রজিৎ বলেন , প্রমীলা মেঘনাদের প্রত্যুত্তর যে দৃঢ় বন্ধনে তাঁকে আবদ্ধ করে রেখেছেন , তা চিরন্তন । তারই কল্যাণে রাঘবকে পরাস্ত করে দ্রুত ফিরে আসবেন বলে বিদায় নেন । 

  1. কাপিলা লঙ্কা , কাপিলা জলধি ! –লঙ্কা কেঁপে উঠল কেন ? 

Ans: পাঠ্য ‘ অভিষেক ’ কাব্যাংশে ছদ্মবেশী প্রভাষার কাছে লঙ্কার দুর্দিনের সংবাদ শুনে প্রমোদকানন ত্যাগ করে ইন্দ্রজিং শত্রুর হাত থেকে লঙ্কাকে রক্ষার্থে লঙ্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন । তাঁর এই আগমনকে আকাশপথে মৈনাক পর্বতের সোনার পাখাবিস্তার করে উজ্জ্বল করে তোলার সঙ্গে তুলনা করেছেন । লঙ্কার কেঁপে ওঠার ক্রুদ্ধ ইন্দ্রজিতের ধনুকের গুণ পরানো ও শর কারণ নিক্ষেপকে মেঘের মাঝে গরুড়ের গর্জনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে । এর ফলেই লঙ্কা ও সমুদ্র কেঁপে উঠেছে । 

  1. ‘ এ মায়া , পিতঃ , —কোন্ মায়ার কথা বলা হয়েছে ? 

Ans: মধুসূদন দত্তের ‘ অভিষেক ’ কাব্যাংশে রামচন্দ্রের মায়াবলে পুনরায় জীবন ফিরে পাওয়ার প্রসঙ্গটি উত্থাপিত হয়েছে । ধাত্রী প্রভাষা – রূপী লক্ষ্মী ইন্দ্রজিৎকে লঙ্কার ঘোরতর দুর্দিনের কথা জানান এবং এও বলেন , ‘ মায়াবী মানব সীতাপতি ; তব শরে মরিয়া বাঁচিল । এ সংবাদ শোনামাত্র ইন্দ্রজিৎ প্রমোদ উদ্যান ত্যাগ মায়ার পরিচয় করে লঙ্কায় পিতা রাবণের কাছে উপস্থিত হলেন । রাজা রাবণ তখন নিজেই যুদ্ধযাত্রার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন । এই অবস্থায় ইন্দ্রজিৎ রাবণকে রামচন্দ্রের পুনর্জীবন লাভের কারণ জানতে চাইলেন ।

  1. ‘ এ মায়া , পিতঃ , বুঝিতে না পারি ! বক্তার না – বোঝার কারণ কী ?

Ans: মধুসুদন দত্তের ‘ অভিষেক ‘ কাব্যাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটির বক্তা ইন্দ্রজিৎ । তিনি পিতাকে জিজ্ঞাসা করেছেন যে , কোন্ মায়াবলে রামচন্দ্র তাঁর তিরে নিথর হয়েও পুনরায় বেঁচে উঠলেন । আসলে পরাক্রমশালী ইন্দ্রজিৎ দু – বার যুদ্ধে রামচন্দ্রের বক্তার না বোঝার কারণ প্রাণনাশের উদ্যোগ করেছিলেন । তাই বারবার রামের পুনর্জীবন লাভ তাঁর কাছে গভীর বিস্ময়ের ব্যাপার । এ কোনো  ি মায়াবল ছাড়া সম্ভব নয় । তাই তিনি এই উক্তির মাধ্যমে অন্তর্মনের বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেছেন । 

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর | অভিষেক (কবিতা) মাইকেল মধুসূদন দত্ত – মাধ্যমিক বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Bengali Abhishek Question and Answer

1. ‘ অভিষেক ’ কবিতাটি কোথা থেকে গৃহীত ? কবিতাটির নামকরণের সার্থকতা বিচার করো । 

Ans: ‘ অভিষেক ’ কবিতাটি মাইকেল মধুসূদনের ‘ মেঘনাদবধ কাব্য ’ গ্রন্থের ‘ প্রথম সর্গ ’ থেকে গৃহীত । এক্ষেত্রে উল্লেখ্য কবির দেওয়া প্রথম সর্গটির নামও ‘ অভিষেক । ‘ নামকরণের সার্থকতা ‘ অংশটি দ্যাখো । 

2. ‘ জিজ্ঞাসিলা মহাবাহু বিস্ময় মানিয়া ‘ — ‘ মহাবাহু ’ কে ? প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তার বিস্ময়ের কারণ উল্লেখ করো ।  

Ans: মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘ মেঘনাদবধ কাব্য ’ – এর প্রথম সর্গ থেকে সংকলিত আমাদের পাঠ্য ‘ অভিষেক ’ নামক কাব্যাংশে ‘ মহাবাহু বলতে রাবণ ও মন্দোদরী পুত্র ইন্দ্রজিৎকে বোঝানো হয়েছে । প্রবল পরাক্রমী বীরত্বের জন্য তাঁকে এই বিশেষণে বিশেষিত করা হয়েছে । প্র প্রমোদ উদ্যানে যখন ইন্দ্রজিৎ বিলাসমত্ত , ধাত্রী প্রভাষার ছদ্মবেশধারী দেবী লক্ষ্মী তখন সেখানে আসেন । ধাত্রীকে দেখে ইন্দ্ৰজিৎ কিছুটা হতচকিত হয়ে পড়েন এবং সিংহাসন ত্যাগ করে বিনম্র চিত্তে তাঁর আগমনের কারণ ও লঙ্কার কুশল জিজ্ঞাসা করলেন । ছদ্মবেশী দেবী তাঁর শিরঃচুম্বন করে কনকলঙ্কার দুর্দশার ইঙ্গিত দেন । তিনি আরও জানান , এক ভীষণ যুদ্ধে ইন্দ্রজিতের প্রিয় ভাই বীরবাহুর মৃত্যু ঘটেছে এবং শোকাহত রাবণ সেইজন্য সসৈন্যে যুদ্ধযাত্রার আয়োজন করছেন । এসব শুনেই মহাবাহু ইন্দ্রজিতের এমন বিস্ময়ের উদ্রেক ঘটেছে । রামের হাতে প্রিয় ভ্রাতা বীরবাহুর মৃত্যু ঘটেছে এ কথা শুনে তাঁর মনে বিস্ময় জেগেছে , কারণ ইন্দ্রজিৎ ইতিপূর্বে বিস্ময়ের কারণ রাত্রিকালীন যুদ্ধে রামকে তিরের আঘাতে টুকরো টুকরো করে কেটে হত্যা করেন । অথচ সেই রামের হাতেই বীরবাহুর মৃত্যু হয়েছে । ব্যাপারটা তাঁকে বিস্মিত করেছে । তাই ইন্দ্রজিৎ ভগবতীর কাছে অত্যন্ত বিস্ময়ের সঙ্গে এর বাস্তবতা জানতে চেয়েছেন ।

3. ‘ রত্নাকর রত্নোত্তমা ইন্দিরা সুন্দরী / উত্তরিলা — ‘ ইন্দিরা সুন্দরী ‘ কে ? তাঁর উত্তরটি কী ছিল ? উত্তরে মেঘনাদের প্রতিক্রিয়া কী ছিল ? 

Ans: মধুসূদনের ‘ মেঘনাদবধ কাব্য ’ – এর প্রথম সর্গ থেকে সংকলিত ‘ ইন্দিরা সুন্দরী কে ? আমাদের পাঠ্য ‘ অভিষেক ‘ নামক কাব্যাংশে ইন্দিরা সুন্দরী ‘ বলতে বিরুপত্নী লক্ষ্মীদেবীকে বোঝানো হয়েছে ।

  ধাত্রী প্রভাষার ছদ্মবেশে দেবী লক্ষ্মীর মুখে বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ শুনে ইন্দ্ৰজিৎ বিস্মিত হয়েছিলেন , কারণ তার দ্বারা পরাস্ত ও নিহত রামের হাতে বীরবাহুর কীভাবে মৃত্যু হতে পারে । ইন্দ্রজিতের কাছে এই বার্তা অদ্ভুত বলে মনে হয়েছে এবং বার্তার উৎস জানতে চাইলে লক্ষ্মীদেবী সীতাপতি রাঘবকে মায়াবী মানব বলে অভিহিত করেন ও ইন্দ্রজিৎকে এই কালসমরে লঙ্কাকে রক্ষার আহ্বান জানান । ইন্দিরা সুন্দরীর মুখে ইন্দ্রজিৎ মায়াবী মানব সীতাপতির পুনরুজ্জীবনের কথা শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন । তিনি গলার ফুলের মালা ছিঁড়ে , হাতের সোনার বালা ও কানের অলংকার সমস্ত ছুড়ে ফেললেন । অশোক গাছের মেঘনাদের প্রতিক্রিয়া তলায় অশোক ফুল যেভাবে পড়ে থাকে সেভাবেই ইন্দ্রজিতের সমস্ত অলংকার তাঁর পদতলে শোভা পাচ্ছিল । তীব্র আত্মধিক্কারে তিনি নিজেকে প্রশ্ন করেন — যখন শত্ৰুদল স্বর্ণলঙ্কা ঘিরে ফেলেছে তখন তাঁর মতো বীরের পক্ষে কি নারীদের মাঝে বিলাসমত্ত থাকা শোভা পায় ? তীব্র ক্রোধ ও আত্মগ্লানির বশবর্তী হয়ে ইন্দ্রজিৎ অনুচরদের যুদ্ধযাত্রার জন্য রথ প্রস্তুত করতে বলেন এবং শত্রুপক্ষকে বধ করে অপবাদ ঘোচানোর অঙ্গীকার করেন ।

4. ‘ যথা নাশিতে তারকে মহাসুর ; কিম্বা যথা বৃহন্নলারূপী কিরীটি , ’ — ‘ বৃহন্নলারূপী কিরীটি ‘ কে ? তার বৃত্তান্তটি বর্ণনা করো । ‘ নাশিতে তারকে মহাসুর — বলতে কী বোঝানো হয়েছে ? 

Ans: কবি মধুসূদন দত্তের ‘ মেঘনাদবধ কাব্য ’ – এর প্রথম সর্গের অন্তর্গত পাঠ্য ‘ অভিষেক ’ কাব্যাংশ থেকে উপরোন্ত উদ্ধৃতাংশটি গৃহীত । ‘ বৃহন্নলারূপী কিরীটি ‘ হলেন পাণ্ডবশ্রেষ্ঠ অর্জুন । তিনি দেবরাজ ইন্দ্রের দেওয়া কিরীট বা মুকুট মাথায় ধারণ করতেন বলে তাঁর আর এক নাম কিরীটি । পাঠ্যে উল্লিখিত ‘ বৃহন্নলারূপী কিরীটি ’ তথা তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুন , বিরাট বৃত্তান্তের বর্ণনা রাজার গৃহে অজ্ঞাতবাসে থাকার সময় রাজকন্যা উত্তরাকে নৃত্যগীতাদি শিক্ষাদানের জন্য বৃহন্নলা ছদ্মনাম গ্রহণ করেন । সেই সময় কৌরব ভ্রাতৃবর্গ বিরাট রাজার গোধন অপহরণ করে বিরাটকে পরাজিত ও বন্দি করেন । রাজপুত্র উত্তরের সারথিরূপে এবং বৃহন্নলারূপী অর্জুন যুদ্ধে কৌরবদের সম্মুখীন হন এবং গোধনসমূহ উদ্ধার করে , শত্রুদের পরাজিত করে বিরাট রাজাকে বিপদ থেকে মুক্ত করেন । ‘ অভিষেক ’ কবিতায় কবি মধুসূদন অত্যন্ত সচেতনভাবেই দুই শ্রেষ্ঠ যোদ্ধার পরাক্রম বোঝাতে ধনুর্ধর অর্জুনের সঙ্গে ইন্দ্রজিতের সাহসিকতার তুলনা করেছেন । নাশিতে তারকে মহাসুর ‘ — মূল অর্থ → নাশিতে তারকে মহাসুর বলতে , দেবসেনাপতি কার্তিকেয়র হাতে তারকাসুর বধের প্রসঙ্গটি উত্থাপিত হয়েছে । তারকাসুর একসময় স্বর্গরাজ্য অধিকার করে দেবলোকে ত্রাসের সঞ্চার করেছিল । পার্বতী ও মহাদেবের পুত্র দেব সেনাপতি কার্তিকেয় স্বর্গরাজ্য নিষ্কণ্টক করার জন্য তারকাসুরকে বধ করে দেবতাদের রক্ষা করেন । স্বাজাত্যবোধ ও স্বাদেশিকতায় উদ্দীপিত পিতৃভক্ত বীর ইন্দ্রজিৎকে কবি দেবসেনাপতি কার্তিকের সঙ্গে তুলনা করেছেন ।

5. সাজিলা রথীন্দ্রভ বীর – ‘ আভরণে’— ‘ রথীন্দ্রষভ ’ তে কাকে বোঝানো হয়েছে । তাঁর এই বীর আভরণে সজ্জিত হওয়াকে কাদের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে , ঘটনা উল্লেখ করে তা বর্ণনা করো ।

Ans: মধুসূদনের ‘ মেঘনাদবধ কাব্য ’ – এর প্রথম সর্গ থেকে গৃহীত পাঠ্য ‘ অভিষেক ’ নামক কাব্যাংশে আমরা ‘ রথীন্দ্রভ ‘ রথীন্দ্রবর্ষ কে ? শব্দটি পাই , যার অর্থ শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা । এক্ষেত্রে রাবণপুত্র ইন্দ্রজিতের বীরত্ব বোঝাতে ‘ রথীন্দ্রভ ’ শব্দটি কবি ব্যবহার করেছেন । 

  ইন্দ্ৰজিৎকে শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা হিসেবে বর্ণনা করতে গিয়ে কবি তাঁকে দেবসেনাপতি কার্তিক ও বৃহন্নলারুপী তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুনের বীরত্বের সাথে তুলনা করেছেন । স্ত্রী প্রমীলা – সহ নারীদের মাঝে তুলনীয় বিষয় ও বিলাসমত্ত ইন্দ্রজিৎ ছদ্মবেশী লক্ষ্মীদেবীর মুখে যখন ঘটনার উল্লেখ শুনলেন , তার প্রিয় ভাই বীরবাহু রাঘবের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন এবং পিতা রাবণ শোকাহত অবস্থাতেই যুদ্ধযাত্রার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন , তখন তিনি নিজেকে তীব্র ধিক্কার জানান । শত্রুপক্ষকে বধ করেই তিনি এই অপবাদ ঘোচাতে চান । বীরসাজে সজ্জিত ইন্দ্রজিতের পরাক্রম বোঝাতেই কবি এই দুই শ্রেষ্ঠ যোদ্ধার সাহসিকতার সঙ্গে ইন্দ্রজিতের সাহসিকতার তুলনা করেছেন । তারকাসুর স্বর্গরাজ্য অধিকার করে দেবলোকে ত্রাসের সঞ্চার করেছিল । পার্বতী ও মহাদেবের পুত্র কার্তিকেয় তাকে হত্যা করে স্বর্গরাজ্য দেবতাদের ফিরিয়ে দেন । বৃহন্নলারুপী কিরীটি অর্থাৎ অর্জুন অজ্ঞাতবাসকালে বিরাট রাজকন্যার নৃত্যগীতাদির শিক্ষক ছিলেন । সেই সময় দুর্যোধনরা বিরাটের গোধন অপহরণ করলে প্রবল পরাক্রমী অর্জুন তথা বৃহন্নলারূপী কিরীটি তা রক্ষা করেন ।

6. প্রমীলা কে ? ইয়াজিতের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন নিজের ভাষায় লেখো । 

Ans: পাঠ্য ‘ অভিষেক ‘ নামাঙ্কিত কাব্যাংশে মধুসুদন ইন্দ্রজিতের শ্রমীলার পরিচায় স্ত্রী হিসেবে প্রমীলাকে উপস্থিত করেছেন । বাল্মীকি রামায়ণে না থাকলেও আমরা কৃত্তিবাসী রামায়ণে তাকে পাই । এখানে প্রমীলা কবির নিজস্ব পরিকল্পনা । 

  প্রমোদ উদ্যানে বিলাসে মত্ত থাকাকালীন প্রভাষা – রূপী ছদ্মবেশী দেবী লক্ষ্মী মুখে রাঘবের হাতে বীরবাহুর মৃত্যু ও শোকাহত রাবণের যুদ্ধনাত্রার কথা শুনে ক্রুদ্ধ ইন্দ্রজিৎ নিজেকে ধিক্কার জানিয়ে রণসাজে সজ্জিত হয়ে যখন বীরদর্পে যুদ্ধে গমনোদ্যত , তখন প্রমীলার দেখা পাওয়া যায় । তিনি তখন স্বামীর দুটি পা ধরে কেঁদে জানতে চান , ইন্দ্ৰজিৎ তাঁকে রেখে আজ কোথায় চলেছেন ? স্বামীর বিরহে কীভাবে তিনি দিনপাত করবেন ? এ প্রসঙ্গে প্রমীলার বক্তব্য গভীর জঙ্গলে ইন্দ্রজিৎ ও প্রমীলার হাতির দল বনলতার আকর্ষণ ছিন্ন করলেও , দলপতি কথোপকথন তাকে পদতলে স্থান দেয় । তিনিও এটুকুই চান । আজ কেন ইন্দ্ৰজিৎ এই সেবিকাকে ত্যাগ করে যাচ্ছেন ? স্বামী – স্ত্রীর চিরন্তন বন্ধনের কথা মনে করিয়ে ইন্দ্রজিৎ যত দ্রুত সম্ভব ফিরে আসার অঙ্গীকার করেন । কারণ হিসেবে তিনি বলেন , প্রমীলাই তো ইন্দ্রজিতের কল্যাণী । তাঁর মঙ্গল কামনার জোরে এই যুদ্ধে ইন্দ্রজিৎ রাঘবকে অনায়াসে নাশ করতে পারবেন । প্রমোদকানন থেকে লঙ্কায় যাত্রাকালে ইন্দ্রজিৎ এভাবেই প্রমীলার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছিলেন ।

7. ‘ নমি পুত্র পিতার চরণে , করজোড়ে কহিলা ; – পিতা ও পুত্রের পরিচয় দাও । পাঠ্যাংশ অবলম্বনে পিতা ও পুত্রের কথোপকথন নিজের ভাষায় লেখো ।

Ans: মধুসূদনের ‘ মেঘনাদবধ কাবা ‘ – এর প্রথম সর্গ থেকে গৃহীত পাঠ ‘ অভিষেক ‘ কাব্যাংশের উদ্ধৃত অংশটিতে পিতা পিতা ও পুত্রের পরিচয় হলেন লঙ্কাধিপতি রাবণ এবং পুত্র হল রাবণপুত্র ইন্দ্ৰজিং । 

  পিতা রাবণকে প্রণাম জানিয়ে ইন্দ্রজিৎ যুদ্ধযাত্রার অনুমতি চান । তাঁর হাতে নিশারণে নিহত রাম পুনর্জীবন লাভ করেছেন শুনে , রামের মায়া না বুঝলেও ; তিনি রাঘবকে বায়ুঅস্ত্রে ভস্ম করার কিংবা রাজপদে বেঁধে আনার সংকল্প করেন । পুত্রের কথায় পুত্রবৎসল এক পিতার হৃদয়ের প্রকৃত স্বরূপটি ফুটে ওঠে । সেখানে ধ্বনিত হয় স্নেহ – হাহাকার ও অসহায়তা । রক্ষোকুলের শ্রেষ্ঠ সম্পদটিকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাতে তাঁর মন চায় না । তিনি পিতা – পুত্রের কথোপকথন চান না স্বর্ণলঙ্কার শেষ কুলপ্রদীপটি নির্বাপিত হোক । কারণ স্বয়ং বিধাতাও রাবণের প্রতি বিরূপ । না – হলে শিলা যেমন জলে ভাসে না , তেমনই মৃত কখনও পুনর্জীবন পায় না । অথচ এক্ষেত্রে তাই ঘটেছে । কিন্তু পৌরুষ ও সৎসাহসে উদ্দীপ্ত ইন্দ্ৰজিৎ অগ্নিদেবকে রুষ্ট করতে কিংবা পরাজিত ইন্দ্রদেবের হাসির পাত্র হতে পারেন না । তাই তিনি দ্বিতীয়বার রাঘবকে পরাজিত করার জন্য পিতার আব্বা চান । রাবণের অন্তর ক্ষতবিক্ষত মানসিক টানাপোড়েনে তিনি আকুল – অস্থির । তাঁর দৃষ্টির সামনে ভূপতিত পর্বতসম কুম্ভকর্ণ । তিনি প্রাণাধিক প্রিয় ‘ বীরমণি ‘ – কে প্রথমে ইস্টদেবের পূজা ও তারপর নিকুম্ভিলা যজ্ঞ সাঙ্গ করে পরদিন সকালে যুদ্ধযাত্রা করতে বলেন । কিন্তু দ্বিধা – দ্বন্দ্ব প্রশমিত করে যথাবিধি মেনে সেনাপতি পদে ইন্দ্রজিতের অভিষেক ঘটান । এখানে এক ভাগ্যবিড়ম্বিত শোকাহত ও নিঃসঙ্গ পিতার পাশে , সাহস – অহংকার আর বীরধর্মে উজ্জীবিত পুত্রের আশ্চর্য ছবি তুলে ধরেছেন কবি মধুসুদন । 

8. পাঠ্য কবিতা অবলম্বনে ইন্দ্রজিতের চরিত্র আলোচনা করো , অথবা , ‘ অভিষেক করিলা কুমারে — পাঠ্য কবিতা অবলম্বনে ‘ কুমার ‘ – এর চরিত্রবিশ্লেষণ করো । 

Ans: আমাদের পাঠ্য কাব্যাংশ ‘ অভিষেক ‘ – এ কেন্দ্রীয় চরিত্র মেঘনাদ বা ইন্দ্রজিৎ । পাঠ্যাংশের স্বল্প পরিসরে তাঁর চরিত্রের বেশ কিছু দিক ফুটে ওঠে । 

বীরত্ব : বীর ইন্দ্রজিৎ নিজের বাহুবলের ওপর যথেষ্ট আস্থাশীল । বীরবাহুর মৃত্যু ও পিতার যুদ্ধযাত্রার কথা শুনে তাঁর বীরসত্তা জেগে ওঠে । বীরোচিত সাজসজ্জা করে তিনি লঙ্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন । 

আত্মপ্রত্যয় : ইন্দ্ৰজিৎ আগে দু – বার রামচন্দ্রকে পরাজিত করেছেন , এমনকি তাঁকে নিহতও করেছেন । তবু কোনো এক মায়া বলে আবার জীবন ফিরে পেয়েছেন রাম । কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি যখন রামচন্দ্রকে বন্দি করে রাবণের পদতলে নিয়ে আসার কথা বলেন , তখন তাঁর মধ্যে আত্মপ্রত্যয় ও দৃঢ়তা লক্ষ করা যায় । 

কর্তব্যবোধ প্রমোদকাননে বিলাসে মত্ত থাকাকালীন প্রভাষা – রূপী লক্ষ্মীর কাছে লঙ্কার দুর্দিন এবং পিতার যুদ্ধযাত্রার কথা শোনামাত্রই ইন্দ্রজিৎ লঙ্কায় উপস্থিত হন । যোগ্য সন্তান থাকা সত্ত্বেও পিতার যুদ্ধযাত্রাকে তিনি নিজের কলঙ্ক বলেই মনে করেন । 

দেশপ্রেম ও আত্মসমালোচনা : স্বর্ণলঙ্কা শত্রুসেনা দ্বারা আক্রান্ত অথচ তিনি প্রমোদকাননে বিলাসে মত্ত এ কথা জেনে ইন্দ্রজিৎ নিজেকে ধিক্কার দেন । এর থেকে তাঁর দেশপ্রেমের যেমন পরিচয় পাওয়া যায় , তেমনই বোঝা যায় আত্মপ্রত্যয়ী প্রয়োজনে নিজের সমালোচনা করতেও তিনি পিছপা নন । 

→ পত্নীপ্রেম স্ত্রী প্রমীলার কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় তাকে আশ্বস্ত করে ইন্দ্রজিৎ বলেন ভালোবাসার যে , দৃঢ় বন্ধনে তাঁরা আবদ্ধ তা ছিন্ন হওয়ার নয় । এ তাঁর পত্নীপ্রেমেরই পরিচয় । এভাবেই মহাকাব্যের খলনায়ক মধুসূদনের লিখনকৌশলে হয়ে উঠেছে । কবির পছন্দের নায়ক ।

9. ‘ তবে কেন তুমি , গুণনিধি , ত্যজ কি কিরীরে আজি ? ‘ — ‘ কিঙ্করী ’ কে ? তাঁর চরিত্রবৈশিষ্ট্য আলোচনা করো । 

Ans: মধুসূদনের ‘ অভিষেক ‘ কাব্যাংশে কিঙ্করী হলেন প্রমীলা ।। ‘ কিঙ্করী ‘ শব্দের অর্থ দাসী । স্বামীর বিরহে কাতর । এক স্ত্রীর আকুতি প্রমীলার এই উক্তির মধ্য দিয়ে বিনীর পরিচয় প্রতিফলিত হয়েছে ।। চরিত্ৰবৈশিষ্ট্য প্রমীলা রাবণের পুত্রবধূ মেঘনাদের স্ত্রী । মহাকাব্যে চিত্রিত প্রমীলা চরিত্র কবির কল্পনাপ্রসূত । মূল বাল্মীকি রামায়ণে এই চরিত্র সম্পর্কে উল্লেখ না থাকলেও কৃত্তিবাসী রামায়ণে এই চরিত্রের উল্লেখ আছে । প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যের সংমিশ্রণে মধুসুদন তাঁর এই মানসকন্যাকে অঙ্কন করেছেন । যা বাংলা সাহিত্যে বিরল । 

পতিবিরহে কাতর : পাঠ্যে আমরা প্রমীলাকে পাই এমন এক নারী হিসেবে যে যুদ্ধগামী পতিকে বিদায় দিতে অনিচ্ছুক । একজন কুলবধূর পক্ষে তাই স্বাভাবিক । তিনি পতিপ্রেমে মুগ্ধ , তাই সাময়িক পতিবিরহ যে তার পক্ষে অসহনীয় তার উল্লেখ তাঁর উক্তিতেই পাওয়া যায় ।

 যোগ্য পত্নী : প্রমীলা মেঘনাদের সুযোগ্য পত্নী । সর্বজয়ী প্রেমে সে মেঘনাদকে জয় করেছেন । মেঘনাদের উক্তিতেই তা স্পষ্ট , ইন্দ্রজিতে জিতি তুমি , সতি , / বেঁধেছ যে দৃঢ় বাঁধে , কে পারে খুলিতে / সে বাঁধে ? ‘ — এ কেবল মুখের কথা নয় , এ এক পরমসত্য । নারী যে বিচিত্র রূপ ধরতে পারে , তা প্রমীলার মধ্যে দেখা যায় । যেভাবে তিনি দেব – দৈত্য – নর – ত্রাস রণরঙ্গে মত্ত বীরকে নিজের প্রেমে আবদ্ধ করেছেন তা তুলনাহীন ।

10. রাবণ চরিত্র আলোচনা করো ।

Ans: মধুসূদনের রাবণ এক ভাগ্যবিড়ম্বিত নায়ক । পাঠ্যাংশে আমরা তাঁকে পাই একজন স্নেহশীল পিতা , দৈবাহত রাজা , দায়িত্ববান শাসক , ভ্রাতৃপ্রেমী অগ্রজ , সমরবিশেষজ্ঞ এবং ধর্মভীরু হিসেবে । 

স্নেহশীল পিতা : বীরবাহুর মৃত্যুতে শোক এবং ইন্দ্রজিৎকে যুদ্ধে পাঠাতে না চাওয়া লঙ্কেশ্বর রাবণের অকৃত্রিম পুত্রস্নেহের পরিচায়ক । 

দৈবাহত রাজা : রাবণের রণসজ্জার মধ্যে তাঁর তেজোদৃপ্ত রাজসিক ভাব যথেষ্ট প্রকাশিত হলেও এই রাজাকেই আমরা নিয়তির কাছে অসহায় ভাবে আত্মসমর্পণ করতে দেখি । তিনি ‘ বিধি বাম ’ বলে ইন্দ্রজিতের কাছে অসহায়তা প্রকাশ করেন । 

দায়িত্ববান শাসক : কুম্ভকর্ণ ও বীরবাহুর মৃত্যুতে লঙ্কাপুরী যখন বীরশূন্য তখন দেশকে বাঁচাতে রাজা রাবণ স্বয়ং যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতি নেয় । তাঁর এই উদ্যোগ রাজা হিসেবে তাঁর দায়িত্বকেই প্রকট করে । 

স্রাতৃপ্রেমী অগ্রজ : দেশের সুরক্ষার স্বার্থে রাবণ কুম্ভকর্ণকে অকালে জাগিয়ে যুদ্ধে পাঠান এবং যুদ্ধে কুম্ভকর্ণের মৃত্যু হয় । এজন্য তিনি শুধু শোকগ্রস্তই হন না বরং নিজেকে দায়ীও মনে করেন । 

সমর বিশেষজ্ঞ লঙ্কেশ্বর দেশের স্বার্থে যোগ্য বীর ইন্দ্রজিৎকে সেনাপতি পদে বরণ করে নেন । তবে তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে তিনি ইন্দ্রজিৎকে রাতে যুদ্ধে যেতে নিষেধ করেন । 

ধর্মভীরু : ইন্দ্ৰজিৎকে সেনাপতি পদে অভিষিক্ত করার সময় রাবণ শাস্ত্রবিধি মেনেই তা করেন । এমনকি যুদ্ধে যাওয়ার আগে তিনি ইন্দ্রজিৎকে ইষ্টদেবতার পূজা করার উপদেশ দেন । এ তাঁর ধর্মভীরুতারই প্রকাশ ।

11. ‘ যেন উড়িলা মৈনাক শৈল ‘ — পৌরাণিক আখ্যানটি লেখো । পাঠ্য কবিতা অবলম্বনে ইন্দ্রজিতের লঙ্কাযাত্রার বর্ণনা দাও । 

Ans: পাঠ্য ‘ অভিষেক ‘ কাব্যাংশে কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত উত্ত প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন । কৈলাসের দক্ষিণে অবস্থিত মৈনাক পর্বত হিমালয় ও মেনকার পুত্র । পুরাণ অনুসারে পূর্বকালে পর্বতদের পাখা থাকত । পাখির মতো তাঁরা পৌরাণিক আখ্যান চারদিকে আকাশপথে ভ্রমণ করতে পারতেন । দেবতা ও ঋষিরা এই পর্বতদের সর্বদা ভয় করতেন । ইন্দ্ৰ একবার ক্রুদ্ধ হয়ে সব পর্বতের পক্ষচ্ছেদ করেছিলেন । কিন্তু মৈনাক পবনদেবের সাহায্যে সাগরে আশ্রয় নিয়ে ইন্দ্রের আক্রমণ থেকে রক্ষা পান । হনুমানের সাগর পার হওয়ার সময় পবনদেবের উপকারের কথা স্মরণ করে তাঁর বিশ্রামের জন্য মৈনাক পর্বত জল থেকে উঠে এসে হনুমানকে তাঁর উপর বিশ্রাম নিতে বলেন । হনুমান তাঁকে স্পর্শ করে ধন্যবাদ জানিয়ে চলে যান । রামায়ণে আমরা এই কাহিনির উল্লেখ পাই । → প্রভাষা ধাত্রীর ছদ্মবেশধারী লক্ষ্মীর কাছে স্বর্ণলঙ্কার ঘোরতর দুর্দিনের কথা শুনে , ইন্দ্রজিতের প্রমোদকানন ত্যাগ করে স্বর্ণলঙ্কার উদ্দেশে যাত্রাকে ইন্দ্রজিতের লঙ্কাযাত্রা কবি মৈনাক শৈলের হৈমপাখা বিস্তার করে সমস্ত আকাশময় ঘুরে বেড়ানোর সঙ্গে তুলনা করেছেন । ক্রুদ্ধ ইন্দ্রজিতের ধনুকের টংকার যেন মেঘমাঝে গরুড়ের প্রবল গর্জন । ইন্দ্রজিতের এই প্রবল প্রতাপে স্বর্ণলঙ্কাসহ সমুদ্র বারবার কেঁপে উঠতে থাকে । 

12. “ কি ছার সে নর , তারে ডরাও আপনি , / রাজেন্দ্র ? থাকিতে দাস , যদি যাও রণে — ‘ রাজেন্দ্র ‘ কে ? তাঁর প্রতি বক্তার এমন মন্তব্যের কারণ আলোচনা করো । 

Ans: আমাদের পাঠ্য মধুসূদনের ‘ অভিষেক ’ নামক কাব্যাংশে ‘ রাজেন্দ্র ’ বলতে লঙ্কাধিপতি রাবণকে বোঝানো হয়েছে । অসুরারি রিপু ইন্দ্রজিৎ তাঁর পিতাকে এ নামে অভিহিত করেছেন । 

  বক্তার প্রশ্নোদৃত মন্তব্যের কারণ প্রভাষার ছদ্মবেশধারী লক্ষ্মীর মুখে রামের হাতে বীরবাহুর মৃত্যু এবং লঙ্কার এই ঘোর দুর্দিনে শোকাহত রাবণের যুদ্ধযাত্রার কথা শুনে নিজেকে । তীব্র ধিক্কার জানিয়ে প্রমোদকানন ত্যাগ করে ইন্দ্রজিৎ লঙ্কায় আসেন । রামের মায়া না বুঝলেও ইন্দ্রজিৎ তাঁকে ভস্ম করার কিংবা বেঁধে আনার অঙ্গীকার করে পিতার কাছে । যুদ্ধের অনুমতি চান । বিধাতার কাছে পরাজিত পুত্রবৎসল পিতা রাবণ লঙ্কার রাজবংশের শেষ প্রদীপকে নির্বাপিত করতে চান না । তাই তিনি ইন্দ্ৰজিৎকে যুদ্ধের অনুমতি দিতে নারাজ । কিন্তু পৌরুষের মাহাত্ম্যে উজ্জ্বল দেবরাজ ইন্দ্রকে যিনি পরাস্ত করেছেন তিনি । যুদ্ধে না – গিয়ে পিতাকে পাঠালে ইন্দ্র হাসবেন এবং অগ্নি রাগ করবেন । তাই পিতার ভেঙে পড়া মানসিকতা ও নিজের বীরদর্পকে উজ্জীবিত করার জন্য গভীর আত্মপ্রত্যয়ের সঙ্গে ইন্দ্রজিতের এমন মন্তব্য ।

13. ‘ তারে ডরাও আপনি , —বক্তা ও শ্রোতা কারা ? বক্তার এমন মন্তব্যের কারণ কী ? শ্রোতাকে বস্তুা কী বলে আশ্বস্ত করেন ? 

Ans: মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘ অভিষেক ‘ কাব্যাংশ থেকে আলোচ্য প্রশ্নোদৃত অংশটি গৃহীত । উক্ত অংশে বক্তা হলেন রাবণতনয় ইন্দ্রজিৎ এবং শ্রোতা হলেন রক্ষরাজ রাবণ । 

প্রভাষার ছদ্মবেশধারী লক্ষ্মীর কাছে ইন্দ্রজিৎ স্বর্ণলঙ্কার ঘোরতর দুর্দিনের সংবাদ – সহ আর একটি অবিশ্বাস্য সংবাদ পেলেন , বস্তার মন্তব্যের কারণ পরাজিত ও মরণোন্মুখ রামচন্দ্র পুনরায় বেঁচে উঠে , ভাই বীরবাহুকে হত্যা করেছেন । ক্লোধে প্রমোদকানন ত্যাগ করে ইন্দ্ৰজিৎ স্বর্ণলঙ্কায় এসে উপস্থিত হলেন এবং পিতাকে আশ্বস্ত করে স্বয়ং শত্রুনিধনের উদ্দেশ্যে যুদ্ধযাত্রার বাসনা প্রকাশ করেন । 

  পুত্রবৎসল পিতা রাবণের পুত্রকে যুদ্ধে পাঠাতে মন সায় দেয় না । বক্তার আশ্বস্ত করা কথা । ইন্দ্রজিৎ রাবণকে আশ্বস্ত করে বলেন — রামচন্দ্র একজন সামান্য মানুষ , তাই তাকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ তিনি দেখেন না । ইন্দ্রজিতের মতো সেবক থাকতে পিতা যদি যুদ্ধে যান তবে তা কলঙ্কের সমান । এই ঘটনায় মেঘবাহন ইন্দ্র হাসবেন , আর অগ্নিদেবও ক্রোধান্বিত হবেন । পর পর দু – বার শত্রুকুলকে মৃতপ্রায় করে যুদ্ধক্ষেত্রে জয়ী হয়েছেন ইন্দ্রজিৎ । এবার তিনি দেখতে চান কোন ওষুধের বলে রাঘব পুনরায় প্রাণ ফিরে পায় । এই বিশ্বাস নিয়ে তিনি রাবণরাজাকে আশ্বস্ত করে যুদ্ধযাত্রার অনুমতি চাইলেন । 

14. ‘ ঘুচাব ও অপবাদ , বধি রিপুকুলে— ‘ ও অপবাদ ’ বলতে বক্তা কোন অপবাদের কথা বলেছেন ? সেই অপবাদ ঘোচাতে বক্তা কী করেছিলেন ?

Ans: মাইকেল মধুসূদনের ‘ অভিষেক ’ থেকে গৃহীত উদ্ধৃতিটির * ও অপবাদ বক্তা রক্ষোকুলের শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা ইন্দ্রজিং । তিনি প্রমোদকাননে বিলাসব্যসনে মগ্ন অবস্থায় প্রভাষা রূপী লক্ষ্মীর কাছে বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ এবং পিতা রাবণের যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতির কথা শোনেন । লঙ্কার এমন ঘোর দুর্দিনে নিজের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট ইন্দ্রজিৎ আত্মধিক্কার দেন । সেইসঙ্গে যুদ্ধে শত্রুকুলের আমূল বিনাশ ঘটিয়ে সমস্ত অপবাদ মুছে ফেলার সংকল্প করেন । 

  অপবাদ ঘোচাতে বস্তুা যা করেছিলেন → ইন্দ্রজিতের নির্দেশে দ্রুত গগনচারী রথ এসে উপস্থিত হয় । তিনি রণসাজে সজ্জিত হন । তাঁর যোদ্ধা রুপ শুধু দেবসেনাপতি কার্তিক এবং বৃহন্নলারূপী অর্জুনের সঙ্গে তুলনীয় । এ সময় স্ত্রী প্রমীলা তাঁর পথ রোধ করে দাঁড়ালে ইন্দ্রজিতের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় ভালোবাসা আর আত্মবিশ্বাসের উদ্দীপ্ত বাণী । তারপর প্রাণাধিক প্রিয় ‘ বিধুমুখী ‘ – র কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তিনি আকাশপথে লঙ্কাপুরীতে এসে পৌঁছোন । তাঁর ধনুকের ছিলার টংকারে সমগ্র জলধিসহ লঙ্কা কেঁপে ওঠে । ইন্দ্রজিৎকে দেখে সমস্ত রাক্ষসসৈন্যদল সাহস ও অহংকারে রণহুংকার দিয়ে ওঠে । মধুসুদনের ইন্দ্রজিতের মধ্যে সাহস , সততা এবং বিনয়ের এক আশ্চর্য সংমিশ্রণ দেখা যায় । এই সমস্ত গুণের সাহায্যেই তিনি অসহায় পিতাকে আশ্বস্ত করেন । আর দ্বিতীয়বার রাঘবকে বধ করার জন্য রাবণের কাছে অনুমতি চান । পিতা রাবণ প্রথমে ইষ্টদেবতার পূজা সাঙ্গ করে পরদিন সকালে তাঁকে যুদ্ধযাত্রার পরামর্শ দেন এবং যথানিয়মে ইন্দ্রজিৎকে সেনাপতি পদে বরণ করে নেন ।

==================

প্রলয়োল্লাস (কবিতা) কাজী নজরুল ইসলাম 

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | প্রলয়োল্লাস (কবিতা) কাজী নজরুল ইসলাম – মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন | Madhyamik Bengali Suggestion :

  1. ‘ এই তো রে তার আসার সময়’- ‘ তার ‘ বলতে কার আসার সময়ের কথা বলা হয়েছে ?

Ans: নজরুলের ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতায় ‘ তার ‘ বলতে প্রলয়ংকারের আসার কথা বলা হয়েছে । পৃথিবীতে যখনই অস্তিত্বের সংকট ঘটেছে তখনই এই ‘ প্রলয় ‘ রুদ্ররূপে তা নিরসন করেছে ।

  1. ‘ প্রলয় নূতন সৃজন – বেদন ! ‘ — তাৎপর্য কী ?

Ans: সৃষ্টির আগে শিল্পী , অথবা শিশুর জন্মের আগে মা যে – বেদনা অনুভব করেন , কবিও তেমনি যুগান্তরের ইঙ্গিতবাহী এই আসন্ন প্রলয়ের মধ্যে সৃষ্টির যন্ত্রণাকে অনুভব করেছেন ।

  1. ‘ আসছে নবীন — নবীন কে ?

Ans: ‘ প্রলয়োল্লাস ’ কবি নজরুল ‘ নবীন ’ বলতে নবযুগের বার্তাবাহক মহাকাল , ভয়ংকর বা নবীন বিপ্লবী শক্তিকে বুঝিয়েছেন , যাদের হাত ধরে পৃথিবীতে আসবে নতুন যুগ ।

  1. ‘ ওই ভাঙা – গড়া খেলা যে তার— ভাঙা – গড়া খেলা বলতে কী বোঝ ?

Ans: ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতায় ‘ ভাঙা – গড়ার খেলা ’ বলতে কবি নজরুল ধ্বংস ও সৃষ্টির চক্রাকার আবর্তনকে বুঝিয়েছেন ।

  1. বধুরা কেন প্রদীপ তুলে ধরবে ?

Ans: ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতা অনুসারে , যুগান্তরের অন্ধকারের বুক চিরে কাল – ভয়ংকর এগিয়ে আসে মানুষের আকাঙ্ক্ষিত মুক্তিবার্তা নিয়ে । কবি বধুদের প্রদীপ তুলে নিয়ে এই শক্তিকে বরণ করে নিতে বলেছেন ।

  1. ‘ আসছে এবার অনাগত প্রলয় – নেশার নৃত্য পাগল – ‘ নৃত্য পাগল ‘ কে ?

Ans: নজরুলের ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতায় ‘ নৃত্য পাগল ‘ বলতে , মুক্তিগামী মানুষের বৈপ্লবিক সত্তাকে কবি প্রলয়রূপী নটরাজের নৃত্যপরায়ণ রুপের সঙ্গে তুলনা করেছেন ।

  1. ‘ ওই নূতনের কেতন ওড়ে — ‘ নূতনের কেতন ওড়া বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন ? 

Ans: ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতা অনুসারে , কালবৈশাখী ঝড় যেমন রুক্ষ – শুষ্ক ও জীর্ণ প্রকৃতির বুকে নতুন প্রাণের উদ্দামতা বহন করে আনে , কবি সেভাবেই পরাধীন দেশের প্রাচীন অচলায়তনকে ভেঙে ‘ নূতন ‘ জীবন ও মূল্যবোধের সূচনাবার্তা ঘোষণা করতে চেয়েছেন ।

  1. ‘ কালবোশেখির ঝঝড়- কীসের প্রতীক ?

Ans: কবি কাজী নজরুল ইসলাম ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতায় ‘ কালবোশেখির ঝড় ‘ – কে নতুন জীবন ও মূল্যবোধের প্রতীক বলে মনে করেছেন ।

  1. প্রলয়নেশার নৃত্য পাগল কীসের জন্য আসছেন ?

Ans: প্রলয় – নেশার নৃত্য পাগল সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে অর্থাৎ সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজ শাসকের অন্যায় – অত্যাচারের অবসান ঘটাতে আসছেন ।

  1. ওই আসে সুন্দর সু ‘ ওই আসে সুন্দর ’ – ‘ সুন্দর কীভাবে আসে ?

Ans: ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতা অনুসারে ‘ সুন্দর ’ , ‘ কাল ভয়ংকরের বেশে ‘ অর্থাৎ রুদ্ররূপী প্রলয়ের রূপ ধরে আসে ।

  1. ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতায় সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে কে আগল ভাঙল ?

Ans: কবি নজরুলের ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতা অনুসারে সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে ‘ প্রলয় – নেশার নৃত্য পাগল ‘ অর্থাৎ মুক্তিকামী ভারতীয়ের বিপ্লবী সত্তা আগল বা শৃঙ্খল ভেঙেছে ।

  1. ‘ দিগম্বরের জটায় হাসে শিশু – চাদের কর— ‘ দিগম্বর কে ?

Ans: কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতা থেকে গৃহীত উদ্ধৃতিটিতে ‘ দিগম্বর ’ বলতে মহাদেবকে বোঝানো হয়েছে ।

  1. ‘ এবার মহানিশার শেষে’— কী ঘটবে ?

Ans: ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতা অনুসারে ‘ মহানিশার শেষে ‘ অর্থাৎ পরাধীন দেশের অত্যাচার – অপমানের শেষে , ঊষার হাসি তথা মুক্তি সূর্যের প্রথম আলোয় জাতির জীবন নতুন করে উদ্ভাসিত হবে ।

  1. “ তোরা সব জয়ধ্বনি কর । কার জয়ধ্বনি করতে বলা হয়েছে ?

Ans: কবি কাজী নজরুল ইসলাম ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতায় পরাধীন ভারতের মুক্তিকামী জনগণকে স্বপ্ন বা আশাপূর্ণকারী প্রলয়ের জয়ধ্বনি করতে বলেছেন ।

  1. ‘ প্রলয় বয়েও আসছে— কেন এই আগমন ?

Ans: ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতা অনুসারে নতুন ও নবীন প্রাণ জীবনহারা অসুন্দরের অবসান ঘটাতে প্রলয়রূপ ধারণ করে আসছে ।

  1. ‘ দিগম্বরের জটায় ‘ কে হাসে ?

Ans: ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতা অনুসারে শিশু চাঁদের স্নিগ্ধ ও মাধুর্যময় হাত যেন দিগম্বর – মহাদেবের জটায় হাসে । এই হাসির মধ্যে ফুটে ওঠে সময়রূপী মহাকালের অভয়মন্ত্র ।

  1. ‘ তোরা সব জয়ধ্বনি কর।— কবি কাদের জয়ধ্বনি করতে বলেছেন ?

Ans: কাজী নজরুল ইসলামের ‘ অগ্নিবীণা ‘ কাব্যগ্রন্থের ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতায় কবি পরাধীন ভারতের মুক্তিকামী ও স্বাধীনতা – প্রত্যাশী জনগণকে মহাপ্রলয়ের জয়ধ্বনি করতে বলেছেন ।

  1. কবি নজরুল ‘ জয়ধ্বনি ‘ করার কথা বলেছেন কেন ? 

Ans: নজরুল ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতায় ভারতের পরাধীনতার মহানিশার শেষে স্বাধীনতা সূর্যের উদিত হওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন মহাপ্রলয়ের হাত ধরে । তাই তিনি মানুষকে আশাপূর্ণকারী প্রলয়ের জয়ধ্বনি করতে বলেছেন । ‘ 

  1. কালবোশেখির ঝড় ‘ – কে নূতনের কেতন বলার কারণ কী ? 

Ans: কালবৈশাখী ঝড় পুরাতনকে মুছে ফেলে নূতনের সংকেত আনে বলে কবি কালবোশেখিকে ‘ নূতনের কেতন ‘ বলেছেন ।

  1. ‘ অনাগত ’ বলতে কীসের ইঙ্গিত করেছেন কবি ?

Ans: ‘ প্রলয়োল্লাস ’ কবিতায় নজরুল ‘ অনাগত ’ বলতে পরাধীন ভারতের বন্দিদশা মোচনকারী , আসন্ন মুক্তি বা স্বাধীনতার কথা বলেছেন ।

  1. ‘ সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে ? 

Ans: কাজী নজরুল সিন্ধুপারের সিংহদ্বার বলতে সাগর তীরে অবস্থিত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দ্বারা শাসিত ভারতকে বুঝিয়েছেন ।

  1. ‘ মহাকাল ’ কী ?

Ans: ‘ মহাকাল ’ শব্দটির একটি অর্থ হল অনবচ্ছিন্ন কাল বা সময়প্রবাহ । কিন্তু পাঠ্য কবিতায় ‘ মহাকাল ’ হল প্রলয় সৃষ্টিকারী মহাদেবের ধ্বংসাত্মক রূপের প্রতীক । রুদ্ররূপী শিবের আরেক নাম হল মহাকাল ।

  1. ‘ ওরে ওই হাসছে ভয়ংকর।— ভয়ংকর হাসছে কেন ? 

Ans: নজরুলের ‘ প্রলয়োল্লাসে ’ ‘ ভয়ংকর ’ শব্দটি রূপকার্থে ব্যবহৃত , যার অর্থ ধ্বংসকারী বিপ্লবীসত্তা । মহাকালের ‘ চণ্ডরূপী ‘ ভয়ংকর সকল অন্যায় – অত্যাচারকে বিনাশ করে নতুন যুগের সূচনা করার তৃপ্তিতে হাসছেন ।

  1. ‘ ধূমকেতু ’ কী ? 

Ans: প্রাসঙ্গিক টীকা অংশ দ্যাখো । 

  1. ‘ অট্টরোলের হট্টগোলে স্তব্ধ চরাচর- চরাচর স্তব্ধ কেন ? 

Ans: ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতায় ভয়ংকরের আগমনে চারদিকে কলরোল ধ্বনিত হয়েছে । এই অট্টরোল মুক্তিকামী মানুষের মনে কোনো এক আসন্ন ঝড়ের ইঙ্গিত বহন করে আনে , তাই চরাচর স্তব্ধ ।

  1. ” ওরে ওই স্তব্ধ চরাচর- ‘ – ‘ চরাচর ‘ স্তব্ধ কেন ?

Ans: বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলাম রচিত ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতায় ধ্বংসের দেবতা প্রলংকর শিবের অট্টহাসির ভয়ংকর শব্দে বিশ্বচরাচর স্তব্ধ হয়ে পড়েছে । এই স্তব্ধতা মুক্তিকামী মানুষের মনে কোনো এক আসন্ন ঝড়ের ইঙ্গিত বহন করে আনে ।

  1. ‘ দ্বাদশ রবির বহ্নিজ্বালা ‘ বলতে কী বোঝানো হয়েছে ?

Ans: ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতায় নবযুগের বার্তাবাহী ভয়ংকর প্রলয় , একটি সূর্যের তেজ নয় , বারোটি সূর্যের ন্যায় দীপ্ত ও তীব্র । এই তীব্রতা বোঝাতেই উক্ত শব্দবন্ধটি ব্যবহৃত হয়েছে ।

  1. ‘ বিশ্বমায়ের আসন তারই বিপুল বাহুর পর— —অর্থ কী ?

Ans: কবির আহূত ‘ ভংয়কর ‘ এই বিশ্বের রক্ষাকর্তা । অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে সে শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠা করবে , দেশমাতার আসন সুনিশ্চিত হবে । তাই কবি উক্ত উদ্ধৃতিটি করেছেন ।

  1. ‘ জগৎ জুড়ে প্রলয় ‘ কেন ঘনিয়ে আসছে ?

Ans: যা – কিছু জীর্ণ , পুরাতন , জরাগ্রস্ত ও মুমূর্ষু তাদের বিনাশ ঘটিয়ে , দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন ঊষা নতুন সূর্যের কিরণে উদ্ভাসিত হবে বলেই জগৎজুড়ে প্রলয় ঘনিয়ে আসছে ।

  1. ‘ মহানিশার শেষে , ঊষার হাসি – র তাৎপর্য কী ?

Ans: দীর্ঘ প্রলয়ের শেষে যা – কিছু জীর্ণ , পুরাতন তার অবসান ঘটে স্বাধীনতার নতুন সূর্য ভারতের আকাশকে আলোকিত করে তুলবে । আলোচ্য উদ্ধৃতিটি এই তাৎপর্যই বহন করে ।

  1. ‘ রণিয়ে ওঠে হ্রেষার কাঁদন – এর মধ্যে কীসের ইঙ্গিত পাওয়া যায় ?

Ans: ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতা থেকে উদ্ধৃত অংশে মহাকাশের রথের ঘোড়ার হেষাধ্বনি অর্থাৎ মুক্তিকামী মানুষের বৈপ্লবিক উত্থান বিশ্বময় । ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায় ।

MCQ | প্রলয়োল্লাস (কবিতা) কাজী নজরুল ইসলাম – মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন | Madhyamik Bengali Suggestion :

  1. ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতায় ‘ শিশু – চাঁদ ‘ বলতে বোঝানো হয়েছে – (A) ছোটো চাঁদ(B) সদ্য – উদিত চাঁদ (C) চাঁদের সন্তান (D) চাদের মতো সুন্দর শিশু

Ans: (B) সদ্য – উদিত চাঁদ

  1. ‘ উল্কা ছুটায় নীল খিলানে ।’— ‘ নীল খিলান ‘ বলতে এখানে বোঝানো হয়েছে -(A) গাছপালাকে(B) আকাশকে(C) প্রাসাদকে(D) মন্দিরকে

Ans: (B) আকাশকে

  1. ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতায় ‘ রথঘর্ষর ‘ বলতে বোঝানো হয়েছে -(A) রথ ভেঙে পড়ার শব্দ(B) বজ্রপাতের শব্দ(C) রথের চাকায় ঘর্ষণের শব্দ(D) রথে চড়ে যুদ্ধের শব্দ

Ans: (C) রথের চাকায় ঘর্ষণের শব্দ

  1. ‘ জীবনহারা অ – সুন্দরে করতে ছেদন । কে আসছে ? (A) নবীন(B) চিরসুন্দর(C) মহাকাল সারথি(D) মুমূর্ষু

Ans: (A) নবীন

  1. যে ‘ ভেঙে আবার গড়তে জানে তার নাম হল -(A) প্রলয় – নেশার নৃত্যপাগল(B) জ্বালামুখী ধূমকেতু(C) বিশ্বমাতা (D) চিরসুন্দর

Ans: (D) চিরসুন্দর

  1. বধূদের যা তুলে ধরতে বলা হয়েছে , তা হল— (A) চাবুক(B) মশাল(C) প্রদীপ(D) কৃপাণ

Ans: (C) প্রদীপ

  1. সুন্দর যার বেশে আসছে , সে হল -(A) কালবোশেখির ঝড়(B) দ্বাদশ রবি(C) জ্বালামুখী ধূমকেতু(D) কাল – ভয়ংকর

Ans: (D) কাল – ভয়ংকর

  1. ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতায় ‘ তোরা সব জয়ধ্বনি কর ’ বাক্যটি মোট কতবার ব্যবহৃত হয়েছে ? (A) পনেরো বার (B) উনিশ বার (C) সতেরো বার(D) একুশ বার

Ans: (B) উনিশ বার 

  1. ‘ দ্বাদশ রবির বহ্নিজ্বালা ভয়াল তাহার নয়নকটায় , — ‘ দ্বাদশ রবি ‘ বলতে বোঝানো হয়েছে -(A) বারোটি রবি(B) সকালের রবি (C) মধ্যাহ্নের রবি (D) অস্তগামী রবি

Ans: (A) বারোটি রবি

  1. ‘ অন্ধ কারার বন্ধ কূপে / দেবতা বাঁধা যজ্ঞ – যূপে ‘ — এক্ষেত্রে কবি ‘ দেবতা ’ বলতে বুঝিয়েছেন(A) মহাদেবকে(B) ভারতীয় বিপ্লবীকে(C) দেশমাতাকে(D) দেশনায়ককে

Ans: (B) ভারতীয় বিপ্লবীকে

  1. এবার মহানিশার শেষে বুঝিয়েছেন ক দীর্ঘ রাত্রি শেষে – (A) দীর্ঘ কারাবাসের শেষে(B) দীর্ঘ রাত্রি শেষে(C) দীর্ঘ প্রত্যাশার শেষে(D) দীর্ঘ পরাধীনতার শেষে

Ans: (D) দীর্ঘ পরাধীনতার শেষে

  1. নীচের কোনটি নজরুলের লেখা কাব্যগ্রন্থ নয় -(A) মানসী(B) ফণীমনসা(C) চক্রবাল(D) বিশের বাঁশি

Ans: (A) মানসী

  1. বিশ্বপিতার বক্ষ – কোলে ‘ — কী ঝোলে ? (A) মুণ্ডু (B) কৃপাণ(C) ফল(D) ফুল

Ans: (B) কৃপাণ

  1. ‘ তোরা সব জয়ধ্বনি কর ।’— যাঁর জয়ধ্বনি করতে হবে , তিনি হলেন -(A) দেশনেতা(B) মহাকাল(C) দেশমাতা(D) প্রলয়ংকর শিব

Ans: (D) প্রলয়ংকর শিব

  1. ‘ মৃত্যু – গহন অন্ধকূপে ‘ বলতে কবি বুঝিয়েছেন—(A) কুসংস্কারগ্রস্ত সমাজ (B) রাত্রির অন্ধকার (C) ভীতিজনক স্থান (D) পরাধীন ভারত

Ans: (A) কুসংস্কারগ্রস্ত সমাজ

  1. মহাকালের চণ্ড – রূপে ‘ আসছেন— (A) মহানিশা (B) সৃষ্টির দেবতা(C) মহাকালী (D) কালবৈশাখীর ঝড়

Ans: (B) সৃষ্টির দেবতা

  1. “ বিশ্বমায়ের আসন -(A) দুলে উঠেছে (B) ছিন্ন হয়েছে(C) পাতা হয়েছে(D) মহাকাল ধারণ করে রেখেছেন

Ans: (D) মহাকাল ধারণ করে রেখেছেন

  1. ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতাটি যে – কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত , তা হল – (A) অগ্নিবীণা (B) সর্বহারা (C) ঝড় (D) ফণীমনসা 

Ans: (A) অগ্নিবীণা

  1. ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতাটির প্রকাশকাল হল -(A) ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ(B) ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ (C) ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দ (D) ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ 

Ans: (A) ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ

  1. ‘ তোরা সব ____ কর(A) বিদ্রোহ (B) প্রলয় নাচন (C) জয়ধ্বনি (D) সৃজন – বেদন 

Ans: (C) জয়ধ্বনি

  1. কবি ‘ নূতনের কেতন ‘ বলেছেন -(A) দ্বাদশ রবির বহ্নিজ্বালা – কে (B) অট্টরোলের হট্টগোল – কে (C) বিশ্বমায়ের আসন – কে (D) কালবোশেখির ঝড় – কে

Ans: (D) কালবোশেখির ঝড় – কে

  1. ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ শব্দের অর্থ হল -(A) ধ্বংসের আনন্দ (B) ভয়ংকরের চণ্ডরূপ(C) রথঘর(D) দিগন্তের কাদন

Ans: (A) ধ্বংসের আনন্দ

  1. ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতাটির মুখ্য উপজীব্য হল— (A) প্রলয় (B) বিপ্লববাদ(C) যুদ্ধ (D) সহমমিতা

Ans: (B) বিপ্লববাদ

  1. কবি ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতায় আসন্ন প্রলয় সম্পর্কে যে – বিশেষণটি । ব্যবহার করেননি , সেটি হল -(A) অসহায়(B) অনাগত (C) ভয়ংকর (D) চিরসুন্দর  

Ans: (A) অসহায় 

  1. অনাগত প্রলয় যেখানে ধমক হেনে আগল ভাঙল , তা হল – (A) বিশ্বমায়ের আসন (B) সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে (C) নীল খিলানে(D) সপ্ত মহাসিন্ধু

Ans: (B) সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে

  1. ভয়ংকর আসছে -(A) কেশের দোলায় ঝাপটা মেরে(B) বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে (C) অরুণ হেসে করুণ বেশে(D) আসছে হেসে মধুর হেসে

Ans: (B) বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে

  1. ‘ ঝামর ‘ শব্দের অর্থ হল -(A) ঝটকা(B) আলুথালু(C) কৃষ্ণবর্ণ(D) গভীর

Ans: (C) কৃষ্ণবর্ণ

  1. ধূমকেতুকে ‘ জ্বালামুখী ‘ বলার কারণ হল – (A) ধূমকেতুর পুচ্ছটি ধূম্রনির্মিত(B) ধূমকেতু আগুন উদ্‌গিরণ করে(C) ধূমকেতু সবকিছু পুড়িয়ে দেয়(D) ধূমকেতু নিজে পুড়ে যায়

Ans: (A) ধূমকেতুর পুচ্ছটি ধূম্রনির্মিত

  1. ‘ কৃপাণ ‘ শব্দটির অর্থ হল -(A) কিপটে(B) তরবারি(C) ঢাল(D) ছোরা

Ans: (D) ছোরা

  1. চরাচর স্তব্ধ হওয়ার কারণ -(A) দিগন্তরের কাঁদন(B) জগৎজুড়ে প্রলয় এবার ঘনিয়ে আসে (C) দেবতা বাঁধা যজ্ঞ – যুপে(D) অট্টরোলের হট্টগোলে

Ans: (D) অট্টরোলের হট্টগোলে

  1. ‘ সপ্ত মহাসিন্ধু দোলে / কপোলতলে ।’— ‘ কপোল ‘ শব্দের অর্থ হল -(A) কপাল (B) গাল(C) পায়রা (D) কর্পূর

Ans: (B) গাল

  1. ‘ মাভৈঃ মাভৈঃ ‘ ধ্বনির তাৎপর্য হল – (A) ভয় না পেয়ে এগিয়ে চল(B) ভয়ের কথা ভেব না (C) যুদ্ধে জয়ী হও(D) মা – কে সর্বদা ভক্তি করো

Ans: (A) ভয় না পেয়ে এগিয়ে চল

  1. ‘ মুমূর্ষু ‘ শব্দের একটি প্রতিশব্দ হল -(A) অসুস্থ (B) উপবাসী(C) অর্ধমৃত(D) ভয়ংকর

Ans: (D) ভয়ংকর

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | প্রলয়োল্লাস (কবিতা) কাজী নজরুল ইসলাম – মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন | Madhyamik Bengali Suggestion :

  1. ‘ এই তো রে তার আসার সময় তার আসার চিহ্নগুলি কী ছিল ? 

Ans: কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতায় কবি ‘ তার ’ বলতে ‘ মহাকাল ’ – কে বুঝিয়েছেন । এই মহাকালই পারে তার মহাপ্রলয়ের দ্বারা অত্যাচারী ব্রিটিশ শক্তির বিনাশ করে স্বাধীনতা আনতে । আশাবাদী কবি মহাকালের আগমন যে আসন্ন তা যেন অন্তর দিয়ে প্রত্যক্ষ করেছেন । মহাকালের হাতের চাবুক বিদ্যুতের মতো চমকিত হচ্ছে বারবার । বজ্রের শব্দ হ্রেষাধ্বনির মতো অনুরণিত হচ্ছে । আর ঘোড়ার খুরের আঘাতে নীল আকাশ থেকে উল্কা খসে পড়ছে । মহাকালে আগমনবার্তা তার রথের চাকার ঘর্ষণই সূচিত করছে । 

  1. ‘ ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর ? – ধ্বংসকে ভয় না – পাওয়ার কারণটি বুঝিয়ে দাও ।

Ans: উদ্ধৃতিটি নজরুলের ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতার অংশ বিশেষ । কালের রথে চড়ে মহাপ্রলয়ের মধ্যে দিয়ে মহাকালের বা ভয়ংকরের আগমন দেখে কবি অগ্রদূতকে ভয় না – পেতে বলেছেন । প্রলয় ধ্বংসকারী , কিন্তু এটাও সত্য যে , প্রলয়ই সৃষ্টির হাতছানি । ধ্বংসের ভয় না পাওয়ার কারণ প্রলয় আমাদের মধ্যে বেদনাবোধ জাগালেও নতুন কিছু সৃষ্টি করে । প্রলয়ই পারে নবচেতনার আলোকে প্রাণহীন অসুন্দরের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করতে । কবি তাই তার অগ্রদূতকে অভয় দিয়ে বলেছেন প্রলয় চিরসুন্দর । সে ভেঙে আবার গড়তেও পারে । তাই প্ররকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই ।

  1. ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চিরসুন্দর ।’- ‘ সে ‘ কে ? ভেঙে আবার গড়ার বিষয়টি বুঝিয়ে দাও । 

Ans: নজরুলের ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতার উদ্ধৃত অংশটিতে ‘ সে ’ বলতে কবি ‘ অসীম শক্তির ’ অধিকারী মহাদেব বা প্রলয়রূপী ‘ সে ’ – এর পরিচয় প্রাকৃতিক শক্তিকে বুঝিয়েছেন । ভেঙে আবার গড়া ধ্বংসের মধ্যেই সৃষ্টির বীজ নিহিত । এই চিরন্তন সত্যই জগতে প্রতিষ্ঠিত । কবি তার ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতায় ধ্বংসের জয়গান করেছেন । আপাতদৃষ্টিতে তাতে বিরোধ থাকলেও এটাই সত্য । পরাধীন ভারতে পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচনের জন্য কবি মহাদেবকে আহ্বান জানিয়েছেন । সেই চিরসুন্দর অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে শুভ শক্তির সূচনা করবেন ।

  1. ‘ আসছে নবীন— জীবনহারা অ – সুন্দরে করতে ছেদন ! — উদ্ধৃতিটির তাৎপর্য লেখো ।

Ans: প্রশ্নোদ্ভূত অংশটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘ প্রলয়োল্লাস ’ কবিতা থেকে নেওয়া । পরাধীন ভারতের জীর্ণতা , দাসত্ব , জড়তা , বৈষম্য ও শোষণের অবসান ঘটাতে কবি বৈপ্লবিক সত্তার আগমন ধ্বনি শুনতে পেয়েছেন । প্রলয়রূপী এই যুগান্তরের শক্তির পদসঞ্চার দেখে তিনি হয়েছেন আত্মহারা । কবি নিশ্চিত জীবনহারা – অশুভের বিনাশকারী নবীনের মধ্যেই আছে , নতুন সৃষ্টির সম্ভাবনা । সেই পারে নিষ্প্রাণ – গতিহীন সমস্ত কুশ্রীতার জন্মালকে ধুয়ে – মুছে সাফ করে দিতে । উপরের উদ্ধৃতিটিতে কবি এ কথাই বলতে চেয়েছেন । 

  1. অট্টরোলের হট্টগোলে স্তব্ধ চরাচর ‘ — ‘ চরাচর ‘ শব্দের অর্থ কী ? চরাচর স্তব্ধ কেন লেখো ।

Ans: উপরের উদ্ধৃতিটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘ প্রলয়োল্লাস ’ কবিতার অন্তর্গত । ‘ চরাচর ‘ শব্দের অর্থ হল সমগ্র পৃথিবী বা জগৎ । 

  কবি প্রলয় বা ধ্বংসকে ফুটিয়ে তুলতে কখনও শিব , আবার কখনও সর্বনাশী জ্বালামুখী স্বরূপ চণ্ডীমূর্তির রুদ্রতাণ্ডবের চরাচর স্তব্ধ কেন উপমা টেনে এনেছেন । বিনাশের অট্টহাসির গভীর ব্যঞ্জনা যেন সমগ্র জগতে সৃষ্টি করেছে এক রুদ্ধশ্বাস পরিবেশ । প্রলয়ের ভয়াবহ বিস্ফোরণের অজানা আশঙ্কায় এ পৃথিবী নিষ্কম্প – নিস্তব্ধ । প্রশ্নোদ্ধৃত অংশে কবির এ ভাবনাই প্রকাশ পেয়েছে ।

  1. ‘ কাল – ভয়ংকরের বেশে এবার ওই আসে … ! – এমন উক্তি কার সম্পর্কে করা হয়েছে ? এমন উক্তির কারণ কী ?

Ans: ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতায় কবি নজরুল চিরসুন্দর বা চিরনবীন সম্পর্কে আলোচ্য উক্তিটি করেছেন ।

  কবি নজরুল চিরবিদ্রোহী । তাই পরাধীন ভারতের মুক্তিকামী মানুষের অন্তরের বৈপ্লবিক শক্তিকে তিনি উদ্বুদ্ধ করতে চেয়েছেন । তাঁর বিশ্বাস জীর্ণ লোকাচার – প্রচলিত জড়তা – নিশ্চল প্রাণহীনতা উত্তির কারণ এবং দাসত্বের অবসান ঘটলেই গড়ে উঠবে নতুন জীবন । সুতরাং , বিনাশের ভয়াবহতার মধ্যেই লুকিয়ে আছে সত্য ও সুন্দরের বীজ । কবি ধ্বংসের মধ্যেই খুঁজে পেয়েছেন সৃষ্টির ব্যানা এবং যন্ত্রণা । সেজন্যেই তিনি সেই ভয়ংকর সুন্দরেরই বন্দনা গান গেয়েছেন ।

  1. ‘ তোরা সব জয়ধ্বনি কর।- ‘ তোরা ‘ কারা ? তাদের জয়ধ্বনি করতে বলা হচ্ছে কেন ?

Ans: নজরুল ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতায় কবি ‘ তোরা ’ বলতে , পরাধীন দেশের স্বাধীনতার প্রত্যাশী আপামর জনসাধারণকে বুঝিয়েছেন । 

  ভারতবর্ষের পরাধীনতা কবি নজরুলের কাছে ভীষণ পীড়াদায়ক ছিল । তিনি সর্বদাই এই অবস্থার অবসান চাইতেন । তিনি বুঝেছিলেন কালবৈশাখীর মতো ভয়ংকর শক্তি কিংবা প্রলয় – নেশায় মত্ত মহাদেবের মতোই কেউ এসে এই অবস্থার অবসান ঘটাবে । তাই কবি ভারতীয়দের এই ধ্বংস ও সৃষ্টির দেবতার আগমনের উদ্দেশ্যে জয়ধ্বনি করার আহ্বান জানিয়েছেন ।

  1. ‘ আসছে এবার অনাগত প্রলয় – নেশার নৃত্য পাগল , -‘অনাগত ’ কে ? সে ‘ প্রলয় – নেশার নৃত্য পাগল ’ কেন ? অনাগত কে ? 

Ans: ‘ অনাগত ’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ যা আসেনি । এক্ষেত্রে পরাধীনতার নাগপাশ থেকে আমাদের মুক্ত করতে পারে এমন শক্তির আগমন যে আসন্ন তা আশাবাদী কবি মনশ্চক্ষে প্রত্যক্ষ করেছেন । শিব বা রুদ্ররূপী এই শক্তিকেই কবি ‘ অনাগত ’ বলেছেন । 

  ‘ প্রলয় ’ ও ‘ নৃত্য পাগল ‘ শব্দ দুটির দ্বারা কবি শিবের বিধ্বংসী ও নটরাজরূপের কথা বলতে চেয়েছেন । কবির কাঙ্ক্ষিত অনাগত শক্তি অত্যাচারী ব্রিটিশ শক্তিকে ধ্বংসের ও মন্থনের দ্বারা আমাদের স্বাধীনতার নতুন সকাল উপহার দেওয়ার স্বপ্নে বিভোর । 

  1. বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ংকর ! -‘ভয়ংকর বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন ? তার আসার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো ।

Ans: নজরুল তাঁর ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতাতে ‘ ভয়ংকর ‘ বলতে ‘ ভয়ংকর ‘ — অর্থ নবযুগের বার্তাবহ প্রলয়রূপী বিপ্লব বা বিদ্রোহকে বুঝিয়েছেন । ‘ রুদ্ররূপী ‘ শিবকে তিনি এর প্রতীক রূপে কল্পনা করেছেন । 

  ‘ ভয়ংকর ‘ — অর্থ → অত্যাচারী ব্রিটিশের শাসনে ভারতবাসী স্থবির হয়ে গিয়েছিল । আর ভারতবর্ষ হয়ে গিয়েছিল অচলায়তন । কালের নিয়মে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটবেই । সেই অচলায়তন ভাঙবে মানুষের সম্মিলিত বিপ্লবের দ্বারা । আশাবাদী কবি আসন্ন বিপ্লবের এই আছড়ে পড়া ঢেউকে ভয়ংকর প্রলয়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন ।

  1. ‘ মাভৈঃ মাভৈঃ ! জগৎ জুড়ে প্রলয় এবার ঘনিয়ে আসে— কবি ‘ মাভৈঃ ’ বলে কী জানাতে চেয়েছেন ? প্রলয় এসে কোন্ কাজ করবে বলে কবির মনে হয়েছে ? 

Ans: ‘ মাভৈঃ ’ শব্দে কবির উত্তর বিদ্রোহী সত্তার অধিকারী কবি নজরুল তাঁর ‘ প্রলয়োল্লাস কবিতায় ‘ মাভৈঃ মাভৈঃ ‘ শব্দযুগলের ব্যবহার করেছেন , যার অর্থ ভয় কোরো না , অর্থাৎ নির্ভয়ে এগিয়ে চলো । পরাধীনতার অন্ধকার থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য প্রহর গণনারত ভারতবাসীকে কবি পুরাতনকে ধ্বংস করে নূতনের বিজয় পতাকা ওড়ানোর জন্য হৃদয়ে সাহস সঞ্চার করার কথা জানতে চাওয়া বলেছেন । মহাপ্রলয়ের ফলে পৃথিবীতে বারে বারে অশুভ শক্তি ধ্বংস হয়ে সৃষ্টির বীজ বপিত হয়েছে । প্রলয়ের ফলে দীর্ঘ পরাধীনতার শেষে স্বাধীনতার সূর্যালোকে ভারতবর্ষ উদ্ভাসিত প্রলয় যা কাজ করবে হয়ে উঠবে — এটাই কবির আশা ।

  1. ‘ জরায় মরা মুমূর্ষুদের প্রাণ – লুকানো ওই বিনাশে ? —পঙ্ক্তিটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও । 

Ans: বিপ্লব আসছে যোদ্ধার বেশে , নতুন সূর্যের সন্ধানে তার অগ্রগমন । কিন্তু এই অগ্রগতির পথে অনেক বাধা । বহু সংস্কার , বহু জরাগ্রস্ত , অন্ধ ও মুমূর্ষু মতবাদ এসে পথের গতি পঙক্তিটির তাৎপর্য শ্লথ করতে চায় । কিন্তু এসবকে , বিনাশ করে নতুন দিনের সন্ধানী আলোয় , প্রলয়রূপী বৈপ্লবিক সৃজন তার নিজের পথ করে নেবে । কবি নজরুলের ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতার প্রশ্নোধৃত অংশে কবি – কণ্ঠে এই ভাবনাই ব্যস্ত হয়েছে ।

  1. ‘ দিগম্বরের জটায় হাসে শিশু – চাদের কর —’দিগম্বরের জটা ’ ও ‘ শিশু – চাদের কর ’ – এই দুই চিত্রকল্পের মেলবন্ধনের স্বরূপ বুঝিয়ে দাও ।

Ans: নজরুল তাঁর কল্পনাশক্তির শিখরে পৌঁছেছেন ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতার প্রশ্নোস্তৃত অংশে । দিগম্বর অর্থাৎ দেবাদিদেব শিবের অন্য এক রূপ হল রুদ্র চণ্ডের সংহারক মূর্তি । অথচ তাঁরই জটায় শোভা বৃদ্ধি করে চাঁদের ছোট্ট একটি ফালি । ঠিক যেন প্রলয়ের ভয়ংকরতার পাশাপাশি প্রতীক্ষায় আছে এক নতুন দিনের স্নিগ্ধ শাস্তির হাতছানি । রাতের শেষে যেমন দিন আসে , অঝোর বর্ষণের শেষে দেখা দেয় সোনাঝরা রোদ , তেমনই প্রলয় শেষে আবির্ভূত হবে মানবমুক্তির স্নিগ্ধ সৌন্দর্য , এই হল কবির বিশ্বাস ।

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর | প্রলয়োল্লাস (কবিতা) কাজী নজরুল ইসলাম – মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন | Madhyamik Bengali Suggestion : 

1. কাল – ভয়ঙ্কর বেশে এবার ওই সুন্দর ।’— ‘ কাল ভয়ংকর কে ? তার ভয়ংকর রূপের বর্ণনা দাও ও তাকে সুন্দর বলা হয়েছে কেন তা ব্যাখ্যা করো ।

Ans: ” কাল – ভয়ংকর ‘ – এর বর্ণনা উত্তর উদ্ধৃতিটি নজরুলের ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতার অংশ বিশেষ । বিদ্রোহী কবি বিপ্লবের পথেই যে ভারতবাসীর মুক্তি সে – কথা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন এবং তাঁর লেখনীতে তা বেশ স্পষ্ট । কিন্তু প্রায় জীবনহারা অচল – অসাড় একটা জাতিকে উজ্জীবিত করতে চাই একটা মহাপ্রলয় । সেই প্রলয় ঘটাতে পারে একমাত্র রুদ্ররূপী কাল – ভয়ংকর । যদিও এক্ষেত্রে কবি দেশের যুবশক্তিকে কাল – ভয়ংকররূপে আখ্যা দিয়েছেন । 

  কবি রুদ্ররূপী কাল ভয়ংকর অর্থাৎ যুবশক্তির বিভিন্ন রূপ বর্ণনা করেছেন । কালবৈশাখীর ঝড়ের মতো প্রলয় – নেশার নৃত্য পাগল মহাকালের চত্তরূপে সামাজিক অসংগতিকে দুর করতে তার আগমন ঘটে । কখনও তার ঝামর কেশের দোলায় গগন দুলে যায় এবং তাঁর অট্টহাস্যে চরাচর স্তব্ধ হয়ে যায় । দু – চোখে দ্বাদশ রবির বহ্নিজ্বালা নিয়ে বিশ্বমায়ের ভয়ংকর রূপের বর্ণনা আসনকে সে আগলে রাখে । মাভৈঃ মন্ত্রে দীক্ষিত এবং তা সুন্দর কেন হয়ে এই কাল – ভয়ংকর মুমূর্ষুদের প্রাণ ফিরিয়ে দেয় । মহাকালের রথের সারথি হয়ে সে দেবতারূপ বিপ্লবীদের বন্দিদশা থেকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে আসে । কবি এই কাল – ভয়ংকরকে ভয় পেতে বারণ করেছেন । কেন – না এই ধ্বংসের শেষেই সৃষ্টির নতুন দিগন্ত আমাদের সামনে খুলে যাবে । তাই কবি এই ভয়ংকরকে সুন্দর বলেছেন ।

2. ‘ দিগন্তরের কাঁদন লুটায় পিঙ্গল তার ত্রস্ত জটায় ! – পঙ্ক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো । কবিতায় একদিকে ‘ দ্বাদশ রবির বহিজ্বালা ভয়াল তাহার নয়নকটায় ’ , অন্যদিকে ‘ বিন্দু তাহার নয়নজলে / সপ্ত মহাসিন্ধু দোলে ’ বলার মধ্য দিয়ে কবির কোন ভাবনা ব্যক্ত হয়েছে আলোচনা করো । 

Ans: নজরুল চিরকালই বৈপরীত্যের সমন্বয়সাধন করেছেন । একদিকে তাঁর কঠিন বিদ্রোহীসত্তা আর অন্যদিকে শিশুসুলভ সরল কবিমন , পাঠ্য কবিতায় যা লক্ষণীয় । একদিকে তিনি অন্যায় – অবিচারের বিনাশে উদ্যত , অন্যদিকে মাতৃভূমির অপমান , অসম্মানে তাঁর চোখে অব্যক্ত অশ্রু । পরাধীন দেশের পীড়িত মানুষের দুর্দশাই এই কান্নার উৎস , যেমনভাবে সতীর মৃত্যুযন্ত্রণায় বিরহকাতর মহাদেবের এক চোখে বেদনার অশ্রু এবং অন্য চোখে বিনাশের বহ্নিজ্বালা ফুটে উঠেছিল । কবির কল্পনায় রুদ্ররূপী সেই মূর্তিই ফুটে উঠেছে । 

  প্রকৃতিতে বিরোধ চিরসত্য , তাই তো দিনের শেষে রাত্রি আসে । নজরুল ‘ প্রলয়োল্লাস ’ কবিতায় চিরকালীন এই বৈপরীত্য খুঁজেছেন । একদিকে ধ্বংসকারী মহাকাল তার ভয়াল নয়নকটাক্ষে দ্বাদশ রবির অগ্নি প্রজ্বলিত করেন , অন্যদিকে বিশ্বমানবের আর্তনাদ তাঁর কপোল তলে অশ্রুবিন্দুর ধারা হয়ে প্রবাহিত হয় । শিবের এই সর্বত্যাগী রিক্তরূপ যেন ঝড়ের পূর্বের স্থিতাবস্থার প্রতীক । রুদ্রের ক্রোধ ও কোমলতা এই উভয় মূর্তির পরিপুরক সম্পর্ককে ফুটিয়ে তোলাই কবির উদ্দেশ্য । তাই তো অসম্মানিত ও মৃতা সতীকে ‘ বিপুল বাহুতে ধারণ করে মহাদেব রুদ্রতাণ্ডব করেন । তার হৃদয়ের জ্বালায় ধ্বংসকামী নতুনের কেতন ওড়ান । আমাদের বিপ্লবীরা – সহ ভারতমাতার আপামর সন্তানেরা পরাধীনতা ও অপমানের যন্ত্রণার প্রতিবিধানের উদ্দেশ্যে নতুন প্রাণের বার্তাবহের কথা স্মরণ করেন , কবির ভাবনায় সে কথাই ফুটে উঠেছে ।

3. ” অন্য কারার বন্ধ কূপে বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন ? সেইসঙ্গে ‘ দেবতা বাঁধা যজ্ঞ – যূপে / পাষাণ স্তূপে । বলার কারণ বিশ্লেষণ করো ।

Ans: বাংলা সাহিত্যে ধূমকেতুর মতো আবির্ভাব নজরুলের । তাঁর লেখনীতে ফুটে উঠেছে দেশপ্রেম ও বিপ্লবীসত্তা । দেশমাতাকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করাই ছিল তাঁর ব্রত । লেখনীকেই তিনি তাঁর লড়াইয়ের অস্ত্ররূপে বেছে নিয়েছিলেন । শত চেষ্টাতেও শাসক তাঁর কন্ঠ রোধ করতে পারেনি । বার বার তিনি তাঁর দেশপ্রেমের জন্য কারাগারে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন । ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতায় উদ্ধৃত পক্তি ‘ অন্ধকারার বন্ধ কুপে ‘ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে একদিকে কবি বিদেশি শাসকের হাতে শৃঙ্খলিত দেশমাতার প্রতীকরূপে কল্পনা করেছেন , আবার অন্যদিকে দেশমাতার এই শৃঙ্খলমোচন করার জন্য স্বাধীনতাকামী দেশপ্রেমিকদের কারাগারের অন্ধকূপে নিমজ্জিত হয়ে মৃত্যুবরণ করার ঘটনাকে চিহ্নিত করেছেন । এক্ষেত্রে প্রতিবাদী কণ্ঠকে প্রতিহত করার ক্ষেত্রে শাসনের যে – ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র সে – কথা বোঝাতেই শব্দবন্ধটি ব্যবহৃত হয়েছে । 

  কূপে ” —কবির বক্তব্য ” দেবতা বাঁধা যজ্ঞ – যূপে / পাষাণ স্তূপে স্বাধীনতার পূজারি বিপ্লবী কবি নজরুলের কাছে পরাধীন দেশের বিপ্লবীরাই হল প্রকৃত দেবতা । কবি এ কথা তাঁর বহু কবিতায় উল্লেখ করেছেন । যজ্ঞের যূপকাষ্ঠে বলি প্রদান করে । দেবতাকে সন্তুষ্ট করা হয় কিন্তু এখানে স্বয়ং সেই দেবতাই যূপকাষ্ঠে বলিপ্রদত্ত হওয়ার জন্য বাধা পড়েছেন । এক্ষেত্রে দেবতারূপ বিপ্লবীদের পরাধীন যুগে কারাগারের অন্ধকারে নিমজ্জিত করে ফাঁসি দেওয়ার প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে । তবে কবির বিশ্বাস মহাকালের সারথি তা হতে দেবে না ।

4. ‘ আসছে নবীন — জীবনহারা অ – সুন্দরে করতে ছেদন ! —‘জীবনহারা অসুন্দর – কে ছেদন করতে নবীনের আসার তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও । ‘ ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চিরসুন্দর ! —ভেঙে আবার গড়া বলতে কী বোঝানো হয়েছে ?

Ans: চলাই জীবন , থেমে থাকা মরণ । কালের অগ্রগমন ঘটে নতুনের হাত ধরে , এমত শাশ্বত । নজরুল তার ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতায় নবীনকে বলেছেন ‘ জরায় মরা মুমুর্ষুদের প্রাণ – লুকানো ওই বিনাশে । ‘ কবি এই কবিতায় যা – কিছু প্রাচীন , জরাগ্রস্ত , অগ্রগমনের পথে বাধাস্বরূপ সেসব কিছুকে বিনাশ করতে ধ্বংসকারী মহাকালকে আহ্বান জানিয়েছেন । রুদ্রের কাজ বিশ্বচরাচরে যা – কিছু অন্যায় , যা কিছু কদর্য সব কিছুকে ধ্বংস করে নতুনের আগমনকে সূচিত করা । আশাবাদী কবি পরাধীন ভারতীয়দের জীবনহারা অসুন্দর জীবনের ছেদন অর্থাৎ ইতি চেয়ে নবীনকে আহ্বান জানিয়েছেন । কবির বিশ্বাস জীবনহারা অসুন্দরকে ছেদন করতে নবীন আসছে । 

  প্রকৃতিতে সৃষ্টি ও ধ্বংস পাশাপাশি চলে । ধ্বংসের মধ্যেই সৃষ্টির বীজ লুকিয়ে থাকে । পুরাতনের ওপরই সঞ্চারিত হয় নতুন প্রাণের । হিন্দু পুরাণ অনুসারে এসব কিছুই ঘটে চলেছে সৃষ্টি – লয়ের ভেঙে আবার গড়া দেবতা শিবের ইচ্ছানুসারে । এই চিরসুন্দরের ভাঙা – গড়ার খেলা যুগযুগ ধরে চলে আসছে । কবি মহাকালের এই খেলাকেই ‘ ভেঙে আবার গড়তে জানে বলে মনে করেছেন ।

5. ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতাটির নামকরণের সার্থকতা বিচার করো ।

Ans: ‘ নামকরণের সার্থকতা ‘ অংশটি দ্যাখো ।

6. ‘ ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর ? —প্রলয় নূতন সৃজন – বেদন ! — কোন্ ধ্বংসের কথা বলা হয়েছে । প্রলয়কে ‘ নূতন সৃজন – বেদন ‘ বলার তাৎপর্য কী ?

Ans: বিদ্রোহীসত্তার অধিকারী কবি নজরুল তাঁর ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতায় শিবের বিধ্বংসী সংহার মূর্তির কল্পনা করেছেন । জগতের সমস্ত অসুন্দরকে ধ্বংস করে নবরূপে সুন্দরের প্রতিষ্ঠাতেই যেন কবির এই কল্পনা । এখানে উদ্ধৃত অংশে মহাকালের সেই সংহারলীলার কথাই ধ্বংসের ইঙ্গিত বলা হয়েছে ।

  ধ্বংসের পিছনে লুকিয়ে থাকে নতুন সূচনার আলো , নতুন সৃষ্টির ইঙ্গিত । এইজন্যই কবি চেতনায় জাগ্রত হয়েছে প্রলয়রূপী রুদ্র চণ্ডের আগমন । সামাজিক জীনতা ধ্বংসের পাশাপাশি নতুন সৃষ্টির আবাহন । পরাধীন ভারতের মুক্তিকামী মানুষের অন্তরের বৈপ্লবিক শক্তিকে তাই তিনি উদ্বুদ্ধ করতে চেয়েছেন । সাম্রাজ্যবাদী শাসন মানুষের প্রাণের মুক্তিকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল । মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কালো ছায়া নেমে এসেছিল সমাজে । মনুষ্যত্বের পদদলন , শোষণ , বঞ্চনা হয়ে উঠেছিল সাধারণ মানুষের নিয়তি । কবি একান্তভাবে চেয়েছিলেন এই সমাজের অবলুপ্তি । তাই তিনি কামনা করেছেন প্রলয়কারী নটরাজকে । তিনিই পারেন সমস্ত অসুন্দরকে বিনাশ করে সৃষ্টির তথা নতুন প্রাণের সঞ্চার করতে । তাঁর আবির্ভাবে প্রলয় অনিবার্য । প্রলয় একদিকে যেমন বেদনা বহন করে আনে তেমনি সেই প্রলয়ের মধ্যে নতুন সৃজনের সুচনাও লক্ষিত হয় ; তাই কবি প্রশ্নোদ্ধৃত অংশে প্রলয়কে ‘ নতুন সৃজন – বেদন ‘ বলেছেন ।

7. ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতায় কবি প্রলয়কে কোন্ বিশেষণে ভূষিত করেছেন । কবিতার বিষয়বস্তু অনুসারে এই বিশেষণগুলির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও ।

Ans: বিদ্রোহীসত্তার অধিকারী কবি নজরুলের বিশ্বাস চারপাশের সমাজে যে – বৈষম্য , জড়ত্ব ও পরাধীনতার যন্ত্রণা বর্তমান বিপ্লবই পারে তা প্রলয়ের নানা বিশেষণ থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে । ধ্বংসকারী সে প্রলয়ের আগমন সংকেতে কবি আত্মহারা । আনন্দিত কবি তাই সেই পরিবর্তনকামী শক্তিকে ‘ কালবোশেখির ঝড় ’ , ‘ প্রলয় – নেশার নৃত্য পাগল ‘ , ‘ ভয়ংকর ‘ , ‘ মহাকাল সারথি ‘ , ‘ নবীন ‘ , ‘ কাল – ভয়ংকর ‘ প্রভৃতি বিশেষণে ভূষিত করেন । 

   নজরুল তার বহু কবিতায় অশুভ শক্তির ধ্বংসের প্রয়োজনে প্রলয়কে । আহ্বান জানিয়েছেন । এই প্রলয়ের উপর কখনো কখনো চেতনা আরোপ করে কবি তাকে চারিত্রিক মর্যাদা দিয়েছেন , যেমন : ‘ অগ্রদূত ’ , ‘ সারথি , ‘ কালাপাহাড় ’ , ‘ ঘোড়সওয়ারী ‘ ইত্যাদি । আমাদের পাঠ্য ‘ প্রলয়োল্লাস কবিতাতেও তিনি প্রলয়কে নানান বিশেষণে বিশেষিত করেছেন , ‘ কালবোশেখির ঝড় ’ বলে তুলনা করে কবিতায় বিভীষিকাময় রূপের শেষে নতুনের পদধ্বনি শুনেছেন । কবি ‘ প্রলয় – নেশার নৃত্য পাগল ’ বলতে ধ্বংসের নেশায় তাণ্ডবকারী বিপ্লবের আগমনকে বুঝিয়েছেন , যে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে শুভ শক্তির সূচনা করতে পারে । প্রলয়ের রূপকে কবি ‘ ভয়ংকর ’ বা ‘ কাল – ভয়ংকর রূপেও আহ্বান জানিয়েছেন । প্রলয় প্রাকৃতিক নিয়মেই ঘটে থাকে । তাই তার রথের সারথি মহাকাল বা সময় । তাই ভাঙা – গড়ার এই কারিগরকে মহাকাল সারথি বলে কবি উল্লেখ করেছেন । সর্বোপরি প্রলয়কে ‘ নবীন ’ আখ্যা দেওয়ার অর্থ হল পৃথিবীতে পুরোনোকে ধ্বংস করে প্রলয়ই জন্ম দেয় নবীনের । 

8. ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতায় প্রলয়ের যে – চিত্র অঙ্কিত হয়েছে তার বর্ণনা দাও । 

Ans: নজরুলের ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতায় প্রলয়ের এক কাল্পনিক চিত্র অঙ্কিত হয়েছে । এই ভয়ংকর ধ্বসংকারী প্রলয় কালবৈশাখীর মতোই পুরাতন জীর্ণতা দূর করে নতুনের আগমন সূচিত করে । কবি জয়ধ্বনির দ্বারাই তাকে গ্রহণ করেছেন । প্রলয়ের নেশায় পাগল সেই মহাকাল ঔপনিবেশিক শক্তির সিংহদ্বারে আঘাত হেনে , রুদ্ররূপী মহাদেবের মতো বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে পরাধীনতার অন্ধকার থেকে ভারতবাসীকে মুক্ত করতে এগিয়ে আসছে । তার কেশের দোলায় আকাশ কেঁপে ওঠে । জ্বালামুখী ধূমকেতু তার দাস । কৃপাণ হাতে সে এগিয়ে আসছে । তার অট্টরোলে বিশ্ব স্তব্ধ । এই মহাপ্রলয়ের চোখে দ্বাদশ রবির অগ্নিতেজ । সেই রুদ্রের পিঙ্গলবর্ণের জটার দোলায় ত্রস্ত দিগন্ত । তার এক বিন্দু চোখের জলে মহাসিন্ধুর বিশালতা ও তেজ । এই রুদ্ররূপী নটরাজের বাহুর ওপরেই বিশ্বমায়ের আসন পাতা । এই মহাপ্রলয় জরাগ্রস্ত ও মুমূর্ষুদের বিনাশ করে নতুন দিশা দেখায় । মহাকালের সারথির তীব্র চাবুকে ধ্বনিত হয় ঘোড়ার কাঁদন । সেই ঘোড়ার খুরের দাপটে নীল আকাশে উল্কা ছুটছে । অন্ধকার কারাগারের আড়ালে যে – দেবতারূপ বিপ্লবীরা আটকে আছে এবার তাদের মুক্তি আসন্ন । কবির মতে , এই ধ্বংসলীলায় ভীত হওয়ার কিছু নেই । কারণ সে নবীনের বার্তাবহ । প্রাণহীন অসুন্দরকে ধ্বংস করতে ছুটে আসছে । এই প্রলয়ের কাজই হল ভাঙা – গড়া । 

9. ‘ প্রলয়োল্লাস ’ কবিতায় একদিকে ধ্বংসের চিত্র আঁকা হয়েছে আবার অন্যদিকে নতুন আশার বাণী ধ্বনিত হয়েছে । প্রসঙ্গটি কবিতা অবলম্বনে আলোচনা করো । 

অথবা , ‘ ওই নূতনের কেতন ওড়ে কালবোশেখির ঝড় ।— ‘ প্রলয়োল্লাস কবিতার বিষয়বস্তুর পরিপ্রেক্ষিতে মন্তব্যটির তাৎপর্য আলোচনা করো ।

Ans: কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘ প্রলয়োল্লাস ’ কবিতায় যেমন একদিকে ধ্বংস বা প্রলয়ের চিত্র আঁকা হয়েছে , অন্যদিকে আবার এক গভীর আশার বাণী ধ্বনিত হয়েছে । একদিকে কালবৈশাখী ঝড়ের দাপটের চিত্র , অন্যদিকে আসন্ন প্রলয়ের পরেই নতুন দিনের প্রতীক্ষার অবসান— সবমিলিয়ে বিনাশ ও সৃষ্টির অন্যদিকে গড়ার চিত্র চমৎকার মেলবন্ধনে প্রাণিত নজরুলের ‘ প্রলয়োল্লাস ’ কবিতা । প্রথম কয়েকটি স্তবকে অনাগত প্রলয়ের ‘ প্রলয়োল্লাস’ একদিকে ধ্বংস তাণ্ডবের বর্ণনা পাঠককে ভয়ে বিবশ করে তোলে । সেখানে ওরে ওই হাসছে ভয়ংকর ‘ , অথবা ‘ জয় প্রলয়ংকর ‘ ইত্যাদি বাক্যাংশ ব্যবহার করে , কবি খুব সচেতনভাবে প্রলয়ের ধ্বংসকারী রূপকে পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন । একদিকে দ্বাদশ রবির বহ্নিজ্বালা ভয়াল তাহার নয়নকটায় ‘ , অন্যদিকে ‘ বিন্দু তাহার নয়নজলে সপ্তমহাসিন্ধু দোলে – আগুন ও জলের সহাবস্থান একই নয়নে দেখিয়ে কবি এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন যে , অন্ধকারের সঙ্গেই আলো , কালোর সঙ্গেই সাদা ওতপ্রোত ও একাকার । ঠিক এই বার্তাই রূপ পায় , যখন কবি উল্লসিত আবেগে বলে ওঠেন , ‘ এবার মহানিশার শেষে / আসবে ঊষা অরুণ হেসে ‘ অথবা ‘ ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর ? – প্রলয় নূতন সৃজন – বেদন । ‘ কবি জানেন সৃষ্টির বেদনা । তাই মহাপ্রলয়ের শেষে যে নতুন দিনের উদয় অবশ্যই হবে সে – সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত । আশা ও ভীতির দোলাচলে ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতাটি একটি ছন্দোময় আবেগগীতি ।

10. ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতাটিতে কবি নজরুল ইসলামের বিদ্রোহীসত্তার প্রতিফলন কীভাবে ঘটেছে , তা কবিতা অনুসারে আলোচনা করো ।

Ans: কবি নজরুল সম্পর্কে আলোচনার শুরুতেই যে – বিশেষণগুলি অতিসহজেই তাঁর সম্বন্ধে প্রযুক্ত হতে পারে , সেগুলি হল— আপসহীন , ফরিয়াদি , সর্বোপরি বিদ্রোহী কবি । চিরকাল অন্যায় , শোষণ , অসাম্যের বিরুদ্ধে নজরুল যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন । তাঁর চরিত্রের এই ঋজুতা প্রতিফলিত হয়েছে তাঁর কবিতাতেও । অনিবার্য যন্ত্রণাকে মাথা নীচু করে মেনে নেননি তিনি । এ প্রসঙ্গে লর্ড বায়রনের একটি স্মরণীয় উক্তি— ‘ For I will teach , If possible the stones to rise against Earth’s tyrants . ” 

  এরই অনুরণন যেন শুনতে পাই নজরুলের ‘ আসছে এবার অনাগত প্রলয় – নেশার নৃত্য পাগল , সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে ধমক হেনে ভাঙল আগল’— পঙ্ক্তিগুলিতে । নজরুলের ধমনিতে প্রবাহিত বহ্নি তাঁর অন্তরের সুপ্ত আগ্নেয়গিরিকে জাগ্রত করে , উদ্‌বেলিত বিদ্রোহীসত্তার প্রতিফলন লাভাস্রোতের মতো শব্দেরা এসে প্রজ্বলিত করে স্ফুলিঙ্গ । এই স্ফুলিঙ্গেরই নিদর্শন — ‘ মাভৈঃ মাভৈঃ ! জগৎ জুড়ে প্রলয় এবার ঘনিয়ে আসে / জরায় – মরা মুমুর্ষুদের প্রাণ – লুকানো ওই বিনাশে ! ‘ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন কৰি এই কবিতায় । কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ সবুজের অভিযান ‘ কবিতায়— “ ওরে নবীন , ওরে আমার কাঁচা … ‘ পঙ্ক্তিগুলির সঙ্গে পূর্বোক্ত পক্তির সাদৃশ্য অতিস্পষ্ট । বিপ্লবপন্থায় বিশ্বাসী মাতৃভূমির প্রতি উৎসর্গীকৃতপ্রাণ নজরুল উদার , উন্মুক্ত বিশ্বমানবতাকেই তাঁর কাব্যরচনার অবলম্বন হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন ।

11. প্রতিবাদী কবিতা হিসেবে ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কতখানি সার্থকতা লাভ করেছে , তা কবিতা অবলম্বনে আলোচনা করো ।

Ans: কবি নজরুল তাঁর সমগ্র জীবন , কর্ম ও কাব্যকীর্তি দিয়ে সমস্ত শোষণ , পীড়ন , বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন । তাঁর প্রায় অধিকাংশ কবিতাই প্রতিবাদী কবিতা । তবে আলোচ্য প্রতিবাদী কবিতা ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ কবিতাটির প্রতিবাদী কবিতা হিসেবে একটি বিশেষ স্থান রয়েছে । কারণ কাব্যজীবনের শুরুতে যে – দুটি কবিতা নজরুলকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছিল , তার একটি হল ‘ প্রলয়োল্লাস ’ ও অপরটি ‘ বিদ্রোহী ‘ । বিদ্রোহী কবি একদিকে ‘ বিদ্রোহী ‘ কবিতায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই বলে 

‘ মহা – বিদ্রোহী রণক্লান্ত 

আমি সেই দিন হব শান্ত , 

যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন রোল

 

 

 আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না । 

অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ 

ভীম রণভূমে রণিবে না 

বিদ্রোহী রণ – ক্লান্ত 

আমি সেই দিন হব শান্ত । 

‘ অন্যদিকে ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ – এ বিবরণ দিচ্ছেন ‘্যামর তাহার কেশের দোলায় ঝাপটা মেরে গগন দুলায় , / সর্বনাশী জ্বালামুখী ধূমকেতু তার চামর ঢুলায় । 

  ” কবির অসাম্প্রদায়িকতা , ভারতীয়ত্ব , দেশাত্মবোধ , স্বাধীনতাপ্রিয়তা তাঁর অন্যান্য কবিতার মতো ‘ প্রলয়োল্লাস ‘ – কেও জারিত করেছে । প্রলয় তথা বিপ্লবের আগমনি তাঁর লেখনীকে করেছে জ্বালাময়ী ; প্রতিবাদের সুর শব্দচয়নে , ছন্দের বিভঙ্গে কবিতাটি প্রতিবাদী কবিতা প্রলয়োল্লাসেও তো বটেই , বিদ্রোহের বাণীরূপ হয়ে উঠেছে । বিশ্বমানবতার মূর্ত প্রতীক নজরুল আহ্বান জানিয়েছেন ‘ তোরা সব জয়ধ্বনি কর । ‘ এ জয়ধ্বনি বিনাশের নয় । এ জয়ধ্বনি বিনাশ – পরবর্তী নতুন আশার , যা রূপকথার ফিনিক্স পাখির মতো অগ্নিময় ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রাণের বার্তাকে সঞ্চারিত করে । 

12. তোরা সব জয়ধ্বনি কর ! কাদের উদ্দেশ্যে কবির এই আহ্বান ? কবিতার ভাববস্তু বিশ্লেষণ করে এই আহ্বানধ্বনির পুনরাবৃত্তির যৌক্তিকতা প্রতিপন্ন করো । 

অথবা , ‘ তোরা সব জয়ধ্বনি কর ! ‘ — এখানে ‘ তোরা বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে ? তারা কেন , কাদের জয়ধ্বনি করবে ?

Ans: উদ্ধৃত অংশটি নজরুলের ‘ প্রলয়োল্লাস ’ কবিতার অংশ – বিশেষ । ‘ তোরা ’ বলতে কবি পরাধীন ভারতের সেইসব মানুষদের বুঝিয়েছেন , যারা কবির আহ্বানের ইংরেজদের হাতে অত্যাচারিত , অশিক্ষা , কুংস্কারের উদ্দেশ্য অন্ধকারে নিমজ্জিত এবং চেতনাহীন । তাই তাদের চেতনা জাগ্রত করতে এবং পরাধীনতার শৃঙ্খলমোচনের জন্য ও বিপ্লবীসত্তাকে উজ্জীবিত করার উদ্দ্যেশ্যে কবির এই আহ্বান । 

  অনুনয় – বিনয় নয় , পরাধীন ভারতকে স্বাধীন করতে চাই তীব্র আন্দোলন । তাই তো তাঁর বিদ্রোহীসত্তা বারবার উদাত্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেন কারাগারের লৌহকপাট ভেঙে ফেলতে । কখনও – বা কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা যে দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত সে – কথা জানিয়ে তিনি জয়োল্লাস করতে বলেছেন । আশাবাদী কবি তাই বারে বারে প্রলয়কে আহ্বান জানিয়েছেন । এই প্রলয়ই পারে কালবৈশাখীর ঝড় বা মহাকালে চণ্ডরূপে সিন্ধুপারের সিংহদ্বারের আগল ভেঙে বিপ্লবীদের মুক্তি দিতে , জরাগ্রস্ত মুমূর্ষু জাতির মধ্যে প্রাণের সঞ্চার করতে । কবি মহাপ্রলয়ের এই ধ্বংসলীলা দেখে ভয় না – পেতে বলেছেন । কেননা রুদ্ররূপ মহাপ্রলয় কবিতার ভাববস্তুর নিরিখে আহ্বানধ্বনির পুনরাবৃত্তির যৌক্তিকতা একইসঙ্গে ধ্বংস ও সৃষ্টিরও । সেই – ই পারে ধ্বংসের উপর নতুন সমাজ স্থাপন করতে । তাই কবি তাকে | বরণ করে নিয়ে জয়োল্লাস করতে বলেছেন । কবিতায় ‘ তোরা সব জয়ধ্বনি কর ! ’ চরণটি আঠারো বার উচ্চারণের কারণ , এর গীতিময়তা এবং পরাধীন ও প্রায় স্থবিরত্বপ্রাপ্ত অসহায় ভারতবাসীর হৃদয়ে উজ্জীবনের অনুরণন জাগানো ।

===============

(১) বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

১.১ ‘অভিষেক’ নামক কাব্যাংশটি ,মেঘনাদবধ কাব্য, এর কোন স্বর্গ থেকে সংকলিত?

(ক) প্রথম সর্গ

(খ) দ্বিতীয় সর্গ

(গ) তৃতীয় সর্গ

(ঘ) চতুর্থ সর্গ

উত্তর : (ক) প্রথম সর্গ

১.২ “কি হেতু মাত:, গতি তব আজি” – ‘মাত:’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?

(ক) সীতাকে

(খ) চিত্রাঙ্গদাকে

(গ) ছদ্মবেশী লক্ষীকে

(ঘ) মন্দোদরীকে

উত্তর : (গ) ছদ্মবেশী লক্ষীকে

১.৩ “তার শোকে মহাশোকী রাক্ষসাধিপতি” – কার শোকে রাক্ষস অধিপতি ‘মহাশোকী’?

(ক) কুম্ভকর্ণের শোকে

(খ) বীরবাহুর শোকে

(গ) ইন্দ্রজিতের শোকে

(ঘ) বিভীষণের শোকে

উত্তর : (খ) বীরবাহু শোকে

১.৪ “জিজ্ঞাসিলে মহাবাহু বিস্ময় মানিয়া” – এখানে ‘মহাবাহু’ হলেন –

(ক) লক্ষণ

(খ) রামচন্দ্র

(গ) ইন্দ্রজিৎ

(ঘ) রাবণ

উত্তর : (গ) ইন্দ্রজিৎ

১.৫ “এই অদ্ভূত বারতা জাননি কোথায় পাইলে তুমি” – অদ্ভুত বার্তাটি কি ছিল?

(ক) বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ

(খ) কার্তিকের তারকাসুর বধ করা সংবাদ

(গ) কুম্ভকর্ণের মৃত্যু সংবাদ

(ঘ) ইন্দ্রজিতের মৃত্যু সংবাদ

উত্তর : (ক) বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ

১.৬ “তবু শরে মরিয়া বাঁচিল।” – মরে কে বেঁচে উঠেছিল?

(ক) ইন্দ্রজিৎ

(খ) বীরবাহু

(গ) কুম্ভকর্ণ

(ঘ) রামচন্দ্র

উত্তর (ঘ) রামচন্দ্র

১.৭ “যাও তুমি ত্বরা করি;” – এখানে কোথায় যাওয়ার কথা বলা হয়েছে?

(ক) মৃত বীরবাহুকে দেখতে

(খ) প্রমদ কাননে

(গ) যুদ্ধে

(ঘ) প্রমীলার কাছে

উত্তর : (গ) যুদ্ধে

১.৮ “পদ তলে পড়ি শোভিল কুন্ডল,” – ‘কুন্ডল’ শব্দটির অর্থ কি?

(ক) মুকুট

(খ) হাতের বালা

(গ) কর্ণভূষণ

(ঘ) নুপুর

উত্তর : (গ) কর্ণভূষণ

১.৯ “হেথা আমি বামাদল মাঝে?” – ‘বামা’ শব্দের অর্থ কি?

(ক) রাক্ষসী

(খ) রাক্ষস

(গ) পুরুষ

(ঘ) নারী

উত্তর : (ঘ) নারী

১.১০ “ঘুচাবো এ অপবাদ” – বক্তা কে?

(ক) লংকাদিপতি রাবণ

(খ) ইন্দ্রজিৎ

(গ) রামচন্দ্র

(ঘ) বিভীষণ

উত্তর : (খ) ইন্দ্রজিৎ

১.১১ “তুরঙ্গম বেগে আশুগতি,” – ‘আশুগতি’ শব্দের অর্থ কি?

(ক) ধূমকেতু

(খ) বাতাস

(গ) রথ

(ঘ) ঘোড়া

উত্তর : (খ) বাতাস

১.১২ “কহিলা কাঁদিয়া ধনি,” – এখানে ‘ধনি’ শব্দের অর্থ কি?

(ক) সুন্দরী রমণী

(খ) পতি সোহাগিনী

(গ) ধনবান মহিলা

(ঘ) ধনবানের কন্যা

উত্তর : (ক) সুন্দরী রমণী

১.১৩ “সমরে নাশি, তোমার কল্যাণে” – বক্তা কাকে নাশ করবে?

(ক) লক্ষণকে

(খ) বিভীষণকে

(গ) রামচন্দ্রকে

(ঘ) রাবনকে

উত্তর : (গ) রামচন্দ্রকে

১.১৪ “কাঁপিল লঙ্কা, কাঁপিলা জলধি!” – এখানে এই কেঁপে ওঠার কারণ কি?

(ক) বানর সেনার অগ্নিসংযোগ

(খ) যুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতি

(গ) ইন্দ্রজিতের ধনুকের টঙ্কার

(ঘ) লক্ষণের সঙ্গে ইন্দ্রজিতের যুদ্ধ

উত্তর : (গ) ইন্দ্রজিতের ধনুকের টঙ্কার

১.১৫ “শুনেছি, মরিয়া না কি বাঁচিয়াছে পুনঃ” – কে মারা যাওয়ার পরেও আবার বেঁচে উঠেছিল?

(ক) কুম্ভকর্ণ

(খ) বীরবাহু

(গ) ইন্দ্রজিৎ

(ঘ) রামচন্দ্র

উত্তর : (ঘ) রামচন্দ্র

১.১৬ “দেহ আজ্ঞা মরে;” – বক্তা কার কাছে অনুমতি চাইছেন?

(ক) স্ত্রীর কাছে

(খ) পিতার কাছে

(গ) আরাধ্য দেবতার কাছে

(ঘ) মাতার কাছে

উত্তর : (খ) পিতার কাছে

(২) অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

২.১ “কি কহিলা, ভগবতী? কে বধিল কবে/ প্রিয়ানুজে? – বক্তার এই বিস্ময়ের কারণ কি?

উত্তর : ইন্দ্রজিৎ রামকে রাত্রিকালীন যুদ্ধের হত্যা করার পরেও রামের হাতে তার (ইন্দ্রজিতের) ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে বিস্মিত হয়েছিল।

২.২ “রত্নাকর রত্নোত্তমা ইন্দিরা সুন্দরী উত্তরিলা” – এখানে ইন্দিরা সুন্দরী কে?

উত্তর : সৌন্দর্য্য ও ঐশ্বর্য্যের অধিষ্ঠাত্রী দেবী লক্ষ্মীর কথা বলা হয়েছে।

২.৩ “হা ধিক্ মরে।” – বক্তা কেন নিজেকে ধিক্কার দিয়েছিলেন?

উত্তর : শত্রুসৈন্য যখন লঙ্কাকে ঘিরে ফেলেছে তখন ইন্দ্রজিৎ প্রমোদ কাননে নারীদের সঙ্গে রঙ্গরসে ব্যস্ত ছিলেন তাই ইন্দ্রজিৎ নিজেকে ধিক্কার জানিয়ে ছিলেন।

২.৪ “হেন কালে প্রমীলা সুন্দরী,” – প্রমিলা সুন্দরী কে?

উত্তর : রাবণপুত্র মেঘনাথের সহধর্মীনি।

২.৫ “পক্ষীন্দ্র যথা নাদে মেঘমাঝে ভৈরবে।” – এখানে ‘পক্ষীন্দ্র’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?

উত্তর : পাখিদের রাজা অর্থাৎ গরুড় পাখিকে বোঝানো হয়েছে।

২.৬ “এ মায়া, পিত: বুঝিতে না পারি!” – বক্তা একথা বলার কারণ কি?

উত্তর : রাত্রিকালীন যুদ্ধের ইন্দ্রজিৎ রামচন্দ্রকে মারার পরেও সে আবার কিভাবে বেঁচে উঠেছিল? ইন্দ্রজিৎ এখানে এই প্রশ্নের উত্তর কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছিল না।

২.৭ “নাহি চাহে প্রাণ মম” – কার প্রাণ? কি চাইছে না?

উত্তর : লংকাদিপতি রাবণের প্রাণ তার প্রিয় পুত্র মেঘনাথকে যুদ্ধে বারবার পাঠাতে চাইছে না।

২.৮ “কে কবে শুনেছ, পুত্র,” – এখানে কি শোনার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর : শিলা অর্থাৎ পাথরের জলে ভাসা এবং মৃত ব্যক্তির পুনরায় বেঁচে ওঠার কথা।

২.৯ “আগে পুজো ইষ্টদেবে” – কে এবং কেন পূজা দেবে?

উত্তর : মায়াবী রামচন্দ্র কে যুদ্ধে পরাজয় করার জন্য ইন্দ্রজিৎ দেবতাকে সন্তুষ্ট করতে পুজো দেবে।

২.১০ “অভিশেক করিলা কুমারে।” – কে, কাকে অভিষেক করলেন?

উত্তর : রাবণ তার প্রিয় পুত্র মেঘনাতকে

(৩) ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

প্রশ্নঃ ‘শিরঃ চুম্বি, ছদ্মবেশী অম্বুরাশি–সুতা/উত্তরিলা’ – ‘অম্বুরাশি–সুতা’ কে? তাঁর উত্তর কী ছিল?

উত্তরঃ মধুসূদনের ‘অভিষেক’ নামক পাঠ্য কাব্যাংশে ‘অম্বুরাশি–সুতা’ শব্দটি পাই। ইনি আসলে দেবী লক্ষ্মী। দেবতা ও অসুরের সমুদ্রমন্থনকালে জল থেকে উত্থিত বলে তাঁর এমন নাম।

     দেবী লক্ষ্মী ধাত্রী তাঁকে আসার কারণ প্রভাষার রূপে প্রমোদ উদ্যানে হাজির হলে ইন্দ্রজিৎ ও লঙ্কার কুশল জিজ্ঞাসা করেন। অত্যন্ত হতাশার সঙ্গে তিনি রামের সঙ্গে ভীষণ যুদ্ধে ইন্দ্রজিতের প্রিয় ভাই বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ ও বক্তার উত্তর পুত্রশোকে শোকগ্রস্ত পিতা রাবণের যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতির কথা জানান।

প্রশ্নঃ ‘রক্ষ রক্ষঃকুল মান, এ কালসমরে, রক্ষঃ–চূড়ামণি’ – বক্তা ‘রক্ষঃ–চূড়ামণি’ বলে কাকে সম্বোধন করেছেন? ‘কালসমর’ বলতে কী বোঝ?

উত্তরঃ বক্তা ইন্দিরা সুন্দরী অর্থাৎ লক্ষ্মী দেবী ‘রক্ষঃ–চূড়ামণি’ বলে ইন্দ্রজিৎকে সম্বোধন করেছেন। কালসমর ‘কালসমর’ বলতে বোঝায় কাল রূপ সমর বা ভয়ংকর যুদ্ধ। এক্ষেত্রে রামচন্দ্রের সঙ্গে রাক্ষসদের ভয়ংকর প্রাণঘাতী যুদ্ধকে বোঝানো হয়েছে। ছদ্মবেশী দেবী লক্ষ্মী প্রমোদকাননে ইন্দ্রজিতের সামনে যখন হতাশার সুরে বীরবাহুর মৃত্যু, রাবণের যুদ্ধযাত্রার কথা বলছিলেন তখন তা তাঁর বিশ্বাস হচ্ছিল না। দেবী মায়াবী মানব রামচন্দ্রের জেগে ওঠা ও তাঁর দৈবী শক্তির পরিচয় দিতে শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

প্রশ্নঃ ‘ঘুচাব ও অপবাদ’ – বক্তা কোন্ অপবাদ, কীভাবে ঘোচাতে চেয়েছেন?

উত্তরঃ প্রশ্নে উদ্ধৃত অংশটি ‘অভিষেক’ নামাঙ্কিত কাব্যাংশ থেকে গৃহীত হয়েছে। বক্তা ইন্দ্ৰজিৎ প্রভাষা রাক্ষসীর বেশধারিণী লক্ষ্মীদেবীর মুখে ভাইয়ের মৃত্যুসংবাদ এবং রাবণের যুদ্ধপ্রস্তুতির কথা শুনে দ্রুত প্রমোদ উদ্যান ত্যাগ করে লঙ্কায় যাত্রা করতে উদ্যত হলেন। যখন তিনি বুঝলেন স্বর্ণলঙ্কার ঘোরতর দুর্দিনে তিনি নারীদের মাঝে বিলাসব্যসনে মত্ত, তখন নিজেকে তিনি ধিক্কার জানালেন ও শত্রুকুলের নিধন করবার প্রতিজ্ঞা করে সকল অপবাদ ঘোচাবেন বলে দৃঢ় সংকল্প নিলেন।

প্রশ্নঃ ‘ধরি পতি–কর–যুগ’ – পতি কর যুগ ধরে কে, কী বলেছিলেন লেখো। 

উত্তরঃ মধুসূদনের ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে ছদ্মবেশী প্রভাষার কাছে লঙ্কার দুর্দিনের খবর পেয়ে ইন্দ্রজিৎ প্রমোদকানন থেকে লঙ্কার দিকে যাত্রা করেন। ইন্দ্রজিতের বিদায় প্রমীলাকে বিরহ ‘পতি–কর–যুগ ধরে’ ব্যথায় আচ্ছন্ন করে। বিরহকাতর প্রমীলা কেঁদে ফেলেন এবং বলেন পতি বিনা কেমন করে তিনি প্রাণ রক্ষা করবেন। গহন বনের মধ্যে হাতিদের দলপতি যেভাবে বনলতাকে পদতলে স্থান দেয়, প্রমীলাও ঠিক সেইভাবে ইন্দ্রজিতের আশ্রয়ে থাকতে চাইছেন।

প্রশ্নঃ ‘এ অদ্ভুত বারতা’ – কোন্ বার্তা, কেন অদ্ভুত?

উত্তরঃ উদ্ধৃত অংশটি মধুসুদন দত্ত রচিত ‘অভিষেক’ নামক পাঠ্য কবিতা থেকে গৃহীত।

      লক্ষ্মীদেবী ইন্দ্রজিতের ধাত্রী প্রভাষার ছদ্মবেশে এসে স্বর্ণলঙ্কার সকল সংবাদ তাঁকে জানালেন। সম্মুখসমরে রামের সঙ্গে প্রচণ্ড যুদ্ধে নিহত হয়েছেন ইন্দ্রজিতের প্রিয় ভাই বীরবাহু। কিন্তু ইন্দ্ৰজিৎ এ সংবাদে অত্যন্ত বিস্ময়াপন্ন হলেন। কারণ তিনি নিজের হাতে রাত্রিকালীন যুদ্ধে রামকে হত্যা করেছেন। আর সেই মৃত রাঘব কিনা তাঁর ভাই–এর হত্যাকারী – এই বার্তাই তাঁর কাছে অদ্ভুত লেগেছে।

প্রশ্নঃ ‘কাপিলা লঙ্কা, কাপিলা জলধি!’ – লঙ্কা কেঁপে উঠল কেন?

উত্তরঃ পাঠ্য ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে ছদ্মবেশী প্রভাষার কাছে লঙ্কার দুর্দিনের সংবাদ শুনে প্রমোদকানন ত্যাগ করে ইন্দ্রজিং শত্রুর হাত থেকে লঙ্কাকে রক্ষার্থে লঙ্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তাঁর এই আগমনকে আকাশপথে মৈনাক পর্বতের সোনার পাখাবিস্তার করে উজ্জ্বল করে তোলার সঙ্গে তুলনা করেছেন। লঙ্কার কেঁপে ওঠার ক্রুদ্ধ ইন্দ্রজিতের ধনুকের গুণ পরানো ও শর কারণ নিক্ষেপকে মেঘের মাঝে গরুড়ের গর্জনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এর ফলেই লঙ্কা ও সমুদ্র কেঁপে উঠেছে।

প্রশ্নঃ ‘এ মায়া, পিতঃ, বুঝিতে না পারি!’ – বক্তার না বোঝার কারণ কী?

উত্তরঃ মধুসুদন দত্তের ‘অভিষেক’ কাব্যাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটির বক্তা ইন্দ্রজিৎ। তিনি পিতাকে জিজ্ঞাসা করেছেন যে, কোন্ মায়াবলে রামচন্দ্র তাঁর তিরে নিথর হয়েও পুনরায় বেঁচে উঠলেন। আসলে পরাক্রমশালী ইন্দ্রজিৎ দু বার যুদ্ধে রামচন্দ্রের বক্তার না বোঝার কারণ প্রাণনাশের উদ্যোগ করেছিলেন। তাই বারবার রামের পুনর্জীবন লাভ তাঁর কাছে গভীর বিস্ময়ের ব্যাপার। এ কোনো মায়াবল ছাড়া সম্ভব নয়। তাই তিনি এই উক্তির মাধ্যমে অন্তর্মনের বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। 

প্রশ্নঃ ‘কহিলা কাঁদিয়া ধনি’ – ‘ধনি’ কে? তিনি কাঁদলেন কেন? 

উত্তরঃ ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে ‘ধনি’ বলতে ইন্দ্ৰজিৎ পত্নী প্রমীলাকে বোঝানো হয়েছে। 

      ধাত্রী প্রভাষা বেশধারী লক্ষ্মী যখন স্বর্ণলঙ্কার দুর্দিন, ইন্দ্রজিতের ভাই বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ ও রাবণের যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতির খবর ইন্দ্রজিতের কাছে দিলেন, তখন তিনি প্রমোদকাননে নারীদের ‘ধনি’ কাঁদলেন কেন মাঝে বিলাসব্যসনে মত্ত ছিলেন। স্বর্ণলতা যেভাবে বড়ো গাছকে আঁকড়ে ধরে, সেভাবে প্রমীলা রক্ষকুলনিধি ইন্দ্রজিৎকে আঁকড়ে ধরে, তাঁর পথ রোধ করে কেঁদে ফেলেন। স্বামীর বিচ্ছেদ বেদনায় পত্নীর কাতা ও ব্যথাতুর রূপটি প্রমীলার মধ্যে দিয়ে ফুটে ওঠে।

প্রশ্নঃ ‘মহাবাহু বিস্ময় মানিয়া’ – ‘মহাবাহু’ কে? তাঁর প্রশ্ন বিস্ময়ের কারণ কী? 

উত্তরঃ মহাবাহুর পরিচয় মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পাঠ্য ‘অভিষেক’ রচনাংশে ‘মহাবাহু’ হলেন রক্ষকুলমণি বীরেন্দ্রকেশরী ইন্দ্রজিৎ মেঘনাদ। কবি এখানে ইন্দ্রজিতের প্রবল শক্তি ও পরাক্রমের জন্য তাঁকে ‘মহাবাহু’ বিশেষণে ভূষিত করেন। ইন্দ্ৰজিৎ যখন ধাত্রীরূপী দেবী লক্ষ্মীর কাছে রামচন্দ্রের সঙ্গে সম্মুখসমরে বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ জানলেন, তখন তিনি অত্যন্ত বিস্ময় প্রকাশ করলেন। কারণ তিনি নিজে রাত্রিকালীন যুদ্ধে রামকে সংহার করেছেন। মৃত ব্যক্তি কীভাবে বীরবাহুকে সংহার করবে একথা ভেবেই তিনি বিস্মিত।

প্রশ্নঃ ‘সীতাপতি’ কে? তাঁকে ‘মায়াবী মানব’ বলা হয়েছে কেন? 

উত্তরঃ পাঠ্য ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে উক্ত নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। সীতাপতি অযোধ্যার রাজা দশরথের জ্যেষ্ঠপুত্র ছিলেন রাম। এই রামচন্দ্রের স্ত্রীর নাম সীতা। এই কারণে রামচন্দ্রকে ‘সীতাপতি’ বলা হয়েছে। ‘’মায়াবী মানব’ বলার কারণ সীতাপতি রামচন্দ্রকে লক্ষ্মীদেবী মায়াবী মানব বলেছেন। কারণ মায়াবী না হলে প্রবল শক্তিশালী ইন্দ্রজিতের তিরে রামের মৃত্যু হলেও, তিনি কীভাবে পুনরায় দৈবপ্রভাবে পুনর্জীবন লাভ করেন। এই কারণে কাব্যাংশে রামকে মায়াবী মানব রূপে উপস্থাপনা করা হয়েছে।

প্রশ্নঃ ‘ধিক মোরে’ – কে, কেন একথা বলেছেন?

উত্তরঃ উদ্ধৃত অংশটির বক্তা মধুসুদনের ‘মেঘনাদবধ’ কাব্য থেকে গৃহীত ‘অভিষেক’ নামক কাব্যাংশের অন্যতম চরিত্র ইন্দ্রজিতের। মেঘনাদ প্রমোদকাননে বিলাসব্যসনে মত্ত থাকার সময় কে, কেন প্রশ্নোত প্রভাষার ছদ্মবেশে লক্ষ্মী এসে ইন্দ্রজিৎকে তার প্রিয় ভ্রাতা বীরবাহুর মৃত্যু এবং শোকস্তব্ধ রাবণের শত্ৰু রাঘব নিধনে ব্রতী হওয়ার কথা জানায়। লঙ্কার এই দুর্দিনে ইন্দ্রজিৎ প্রমোদকাননে মেয়েদের মাঝে থেকে রাজধর্ম পালনে ব্যর্থ হয়েছেন বলে তাঁর এই আত্মধিক্কার।

(৪) রচনাধর্মী প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

প্রশ্নঃ ‘ঘুচাব ও অপবাদ, বধি রিপুকুলে’ – ‘ও অপবাদ’ বলতে বক্তা কোন অপবাদের কথা বলেছেন? সেই অপবাদ ঘোচাতে বক্তা কী করেছিলেন?

উত্তরঃ মাইকেল মধুসূদনের ‘অভিষেক’ থেকে গৃহীত উদ্ধৃতিটির ‘ও অপবাদ’ বক্তা রক্ষোকুলের শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা ইন্দ্রজিৎ। তিনি প্রমোদকাননে বিলাসব্যসনে মগ্ন অবস্থায় প্রভাষা রূপী লক্ষ্মীর কাছে বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ এবং পিতা রাবণের যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতির কথা শোনেন। লঙ্কার এমন ঘোর দুর্দিনে নিজের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট ইন্দ্রজিৎ আত্মধিক্কার দেন। সেইসঙ্গে যুদ্ধে শত্রুকুলের আমূল বিনাশ ঘটিয়ে সমস্ত অপবাদ মুছে ফেলার সংকল্প করেন।

       ইন্দ্রজিতের নির্দেশে দ্রুত গগনচারী রথ এসে উপস্থিত হয়। তিনি রণসাজে সজ্জিত হন। তাঁর যোদ্ধা রুপ শুধু দেবসেনাপতি কার্তিক এবং বৃহন্নলারূপী অর্জুনের সঙ্গে তুলনীয়। এ সময় স্ত্রী প্রমীলা তাঁর পথ রোধ করে দাঁড়ালে ইন্দ্রজিতের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় ভালোবাসা আর আত্মবিশ্বাসের উদ্দীপ্ত বাণী। তারপর প্রাণাধিক প্রিয় ‘বিধুমুখী’-র কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তিনি আকাশপথে লঙ্কাপুরীতে এসে পৌঁছোন। তাঁর ধনুকের ছিলার টংকারে সমগ্র জলধিসহ লঙ্কা কেঁপে ওঠে। ইন্দ্রজিৎকে দেখে সমস্ত রাক্ষসসৈন্যদল সাহস ও অহংকারে রণহুংকার দিয়ে ওঠে। মধুসুদনের ইন্দ্রজিতের মধ্যে সাহস, সততা এবং বিনয়ের এক আশ্চর্য সংমিশ্রণ দেখা যায়। এই সমস্ত গুণের সাহায্যেই তিনি অসহায় পিতাকে আশ্বস্ত করেন। আর দ্বিতীয়বার রাঘবকে বধ করার জন্য রাবণের কাছে অনুমতি চান। পিতা রাবণ প্রথমে ইষ্টদেবতার পূজা সাঙ্গ করে পরদিন সকালে তাঁকে যুদ্ধযাত্রার পরামর্শ দেন এবং যথানিয়মে ইন্দ্রজিৎকে সেনাপতি পদে বরণ করে নেন।

প্রশ্নঃ পাঠ্য কবিতা অবলম্বনে ইন্দ্রজিতের চরিত্র আলোচনা করো।

উত্তরঃ অভিষেক নাঠ্যাংশের কেন্দ্রীয় চরিত্র ইন্দ্রজিতের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি নিচে আলোচনা করা হল –

বীরত্বঃ বীর ইন্দ্রজিৎ নিজের বাহুবলের ওপর যথেষ্ট আস্থাশীল। বীরবাহুর মৃত্যু ও পিতার যুদ্ধযাত্রার কথা শুনে তাঁর বীরসত্তা জেগে ওঠে। বীরোচিত সাজসজ্জা করে তিনি লঙ্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

আত্মপ্রত্যয়ঃ ইন্দ্ৰজিৎ আগে দু-বার রামচন্দ্রকে পরাজিত করেছেন, এমনকি তাঁকে নিহতও করেছেন। তবু কোনো এক মায়া বলে আবার জীবন ফিরে পেয়েছেন রাম। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি যখন রামচন্দ্রকে বন্দি করে রাবণের পদতলে নিয়ে আসার কথা বলেন, তখন তাঁর মধ্যে আত্মপ্রত্যয় ও দৃঢ়তা লক্ষ করা যায়।

কর্তব্যবোধঃ প্রমোদকাননে বিলাসে মত্ত থাকাকালীন প্রভাষা – রূপী লক্ষ্মীর কাছে লঙ্কার দুর্দিন এবং পিতার যুদ্ধযাত্রার কথা শোনামাত্রই ইন্দ্রজিৎ লঙ্কায় উপস্থিত হন। যোগ্য সন্তান থাকা সত্ত্বেও পিতার যুদ্ধযাত্রাকে তিনি নিজের কলঙ্ক বলেই মনে করেন। 

দেশপ্রেম ও আত্মসমালোচনাঃ স্বর্ণলঙ্কা শত্রুসেনা দ্বারা আক্রান্ত অথচ তিনি প্রমোদকাননে বিলাসে মত্ত এ কথা জেনে ইন্দ্রজিৎ নিজেকে ধিক্কার দেন। এর থেকে তাঁর দেশপ্রেমের যেমন পরিচয় পাওয়া যায়, তেমনই বোঝা যায় আত্মপ্রত্যয়ী প্রয়োজনে নিজের সমালোচনা করতেও তিনি পিছপা নন।

পত্নীপ্রেমঃ স্ত্রী প্রমীলার কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় তাকে আশ্বস্ত করে ইন্দ্রজিৎ বলেন ভালোবাসার যে, দৃঢ় বন্ধনে তাঁরা আবদ্ধ তা ছিন্ন হওয়ার নয়। এ তাঁর পত্নীপ্রেমেরই পরিচয়। এভাবেই মহাকাব্যের খলনায়ক মধুসূদনের লিখনকৌশলে হয়ে উঠেছে কবির পছন্দের নায়ক।

প্রশ্নঃ ‘নমি পুত্র পিতার চরণে, করজোড়ে কহিলা’ – পিতা ও পুত্রের পরিচয় দাও। পাঠ্যাংশ অবলম্বনে পিতা ও পুত্রের কথোপকথন নিজের ভাষায় লেখো।

উতরঃ মধুসূদনের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর প্রথম সর্গ থেকে গৃহীত পাঠ ‘অভিষেক’ কাব্যাংশের উদ্ধৃত অংশটিতে পিতা পিতা ও পুত্রের পরিচয় হলেন লঙ্কাধিপতি রাবণ এবং পুত্র হল রাবণপুত্র ইন্দ্ৰজিৎ।

       পিতা রাবণকে প্রণাম জানিয়ে ইন্দ্রজিৎ যুদ্ধযাত্রার অনুমতি চান। তাঁর হাতে নিশারণে নিহত রাম পুনর্জীবন লাভ করেছেন শুনে, রামের মায়া না বুঝলেও; তিনি রাঘবকে বায়ুঅস্ত্রে ভস্ম করার কিংবা রাজপদে বেঁধে আনার সংকল্প করেন। পুত্রের কথায় পুত্রবৎসল এক পিতার হৃদয়ের প্রকৃত স্বরূপটি ফুটে ওঠে। সেখানে ধ্বনিত হয় স্নেহ-হাহাকার ও অসহায়তা। রক্ষোকুলের শ্রেষ্ঠ সম্পদটিকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাতে তাঁর মন চায় না। তিনি পিতা-পুত্রের কথোপকথন চান না স্বর্ণলঙ্কার শেষ কুলপ্রদীপটি নির্বাপিত হোক। কারণ স্বয়ং বিধাতাও রাবণের প্রতি বিরূপ। না–হলে শিলা যেমন জলে ভাসে না, তেমনই মৃত কখনও পুনর্জীবন পায় না। অথচ এক্ষেত্রে তাই ঘটেছে। কিন্তু পৌরুষ ও সৎসাহসে উদ্দীপ্ত ইন্দ্ৰজিৎ অগ্নিদেবকে রুষ্ট করতে কিংবা পরাজিত ইন্দ্রদেবের হাসির পাত্র হতে পারেন না। তাই তিনি দ্বিতীয়বার রাঘবকে পরাজিত করার জন্য পিতার আব্বা চান। রাবণের অন্তর ক্ষতবিক্ষত মানসিক টানাপোড়েনে তিনি আকুল–অস্থির। তাঁর দৃষ্টির সামনে ভূপতিত পর্বতসম কুম্ভকর্ণ। তিনি প্রাণাধিক প্রিয় ‘বীরমণি’–কে প্রথমে ইস্টদেবের পূজা ও তারপর নিকুম্ভিলা যজ্ঞ সাঙ্গ করে পরদিন সকালে যুদ্ধযাত্রা করতে বলেন। কিন্তু দ্বিধা–দ্বন্দ্ব প্রশমিত করে যথাবিধি মেনে সেনাপতি পদে ইন্দ্রজিতের অভিষেক ঘটান। এখানে এক ভাগ্যবিড়ম্বিত শোকাহত ও নিঃসঙ্গ পিতার পাশে, সাহস – অহংকার আর বীরধর্মে উজ্জীবিত পুত্রের আশ্চর্য ছবি তুলে ধরেছেন কবি মধুসুদন।

প্রশ্নঃ রাবণ চরিত্র আলোচনা করো।

উত্তরঃ মধুসূদনের রাবণ এক ভাগ্যবিড়ম্বিত নায়ক। নিচে তার প্রধান চরিত্রগুলি আলোচনা করা হল –

ধর্মভীরুঃ ইন্দ্ৰজিৎকে সেনাপতি পদে অভিষিক্ত করার সময় রাবণ শাস্ত্রবিধি মেনেই তা করেন। এমনকি যুদ্ধে যাওয়ার আগে তিনি ইন্দ্রজিৎকে ইষ্টদেবতার পূজা করার উপদেশ দেন। এ তাঁর ধর্মভীরুতারই প্রকাশ।

স্নেহশীল পিতাঃ বীরবাহুর মৃত্যুতে শোক এবং ইন্দ্রজিৎকে যুদ্ধে পাঠাতে না চাওয়া লঙ্কেশ্বর রাবণের অকৃত্রিম পুত্রস্নেহের পরিচায়ক।

দায়িত্ববান শাসকঃ কুম্ভকর্ণ ও বীরবাহুর মৃত্যুতে লঙ্কাপুরী যখন বীরশূন্য তখন দেশকে বাঁচাতে রাজা রাবণ স্বয়ং যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতি নেয়। তাঁর এই উদ্যোগ রাজা হিসেবে তাঁর দায়িত্বকেই প্রকট করে।

স্রাতৃপ্রেমী অগ্রজঃ দেশের সুরক্ষার স্বার্থে রাবণ কুম্ভকর্ণকে অকালে জাগিয়ে যুদ্ধে পাঠান এবং যুদ্ধে কুম্ভকর্ণের মৃত্যু হয়। এজন্য তিনি শুধু শোকগ্রস্তই হন না বরং নিজেকে দায়ীও মনে করেন।

দৈবাহত রাজাঃ রাবণের রণসজ্জার মধ্যে তাঁর তেজোদৃপ্ত রাজসিক ভাব যথেষ্ট প্রকাশিত হলেও এই রাজাকেই আমরা নিয়তির কাছে অসহায় ভাবে আত্মসমর্পণ করতে দেখি। তিনি ‘বিধি বাম’ বলে ইন্দ্রজিতের কাছে অসহায়তা প্রকাশ করেন।

সমর বিশেষজ্ঞঃ লঙ্কেশ্বর দেশের স্বার্থে যোগ্য বীর ইন্দ্রজিৎকে সেনাপতি পদে বরণ করে নেন। তবে তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে তিনি ইন্দ্রজিৎকে রাতে যুদ্ধে যেতে নিষেধ করেন।

প্রশ্নঃ ‘জিজ্ঞাসিলা মহাবাহু বিস্ময় মানিয়া’ – ‘মহাবাহু’ কে? প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তার বিস্ময়ের কারণ উল্লেখ করো।

উত্তরঃ মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’–এর প্রথম সর্গ থেকে সংকলিত আমাদের পাঠ্য ‘অভিষেক’ নামক কাব্যাংশে ‘মহাবাহু’ বলতে রাবণ ও মন্দোদরী পুত্র ইন্দ্রজিৎকে বোঝানো হয়েছে। প্রবল পরাক্রমী বীরত্বের জন্য তাঁকে এই বিশেষণে বিশেষিত করা হয়েছে। প্রমোদ উদ্যানে যখন ইন্দ্রজিৎ বিলাসমত্ত, ধাত্রী প্রভাষার ছদ্মবেশধারী দেবী লক্ষ্মী তখন সেখানে আসেন। ধাত্রীকে দেখে ইন্দ্ৰজিৎ কিছুটা হতচকিত হয়ে পড়েন এবং সিংহাসন ত্যাগ করে বিনম্র চিত্তে তাঁর আগমনের কারণ ও লঙ্কার কুশল জিজ্ঞাসা করলেন। ছদ্মবেশী দেবী তাঁর শিরঃচুম্বন করে কনকলঙ্কার দুর্দশার ইঙ্গিত দেন। তিনি আরও জানান, এক ভীষণ যুদ্ধে ইন্দ্রজিতের প্রিয় ভাই বীরবাহুর মৃত্যু ঘটেছে এবং শোকাহত রাবণ সেইজন্য সসৈন্যে যুদ্ধযাত্রার আয়োজন করছেন। এসব শুনেই মহাবাহু ইন্দ্রজিতের এমন বিস্ময়ের উদ্রেক ঘটেছে। রামের হাতে প্রিয় ভ্রাতা বীরবাহুর মৃত্যু ঘটেছে এ কথা শুনে তাঁর মনে বিস্ময় জেগেছে, কারণ ইন্দ্রজিৎ ইতিপূর্বে বিস্ময়ের কারণ রাত্রিকালীন যুদ্ধে রামকে তিরের আঘাতে টুকরো টুকরো করে কেটে হত্যা করেন। অথচ সেই রামের হাতেই বীরবাহুর মৃত্যু হয়েছে। ব্যাপারটা তাঁকে বিস্মিত করেছে। তাই ইন্দ্রজিৎ ভগবতীর কাছে অত্যন্ত বিস্ময়ের সঙ্গে এর বাস্তবতা জানতে চেয়েছেন।

 

©kamaleshforeducation.in(2023)

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *