অসুখী একজন

 

 

 

অসুখী একজন (কবিতা) পাবলো নেরুদা – মাধ্যমিক দশম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | West Bengal Madhyamik Class 10th Bengali Asukhi Ekjon Question and Answer 

MCQ | অসুখী একজন (কবিতা) পাবলো নেরুদা – মাধ্যমিক বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Bengali Asukhi Ekjon Question and Answer :

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতাটির কবি হলেন – 

(A) মানেজ 

(B) রোকে ডালটন 

(C) লেওজেল রুগমা 

(D) পাবলো নেরুদ

Ans: (D) পাবলো নেরুদ

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতাটির তরজমা করেন – 

(A) মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 

(B) নবারুণ ভট্টাচার্য 

(C) উৎপলকুমার বসু 

(D) শুভাশিষ ঘোষ 

Ans: (B) নবারুণ ভট্টাচার্য

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতাটি অনুবাদকের কোন্ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ? 

(A) এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ নয় 

(B) পৃথিবীর শেষ কমিউনিস্ট 

(C) বিদেশি ফুলে রক্তের ছিটে 

(D) ফ্যাতাড়ুর কুম্ভীপাক

Ans: (C) বিদেশি ফুলে রক্তের ছিটে

  1. পাবলো নেরুদা নোবেল পুরস্কার পান—

(A) স্প্যানিশ সাহিত্যের রূপকার হিসেবে

(B) সোভিয়েত – স্প্যানিশ সাহিত্যের রূপকার হিসেবে 

(C) ইংরেজি – স্প্যানিশ সাহিত্যের রূপকার হিসেবে 

(D) জার্মান – স্প্যানিশ সাহিত্যের রূপকার হিসেবে

Ans: (A) স্প্যানিশ সাহিত্যের রূপকার হিসেবে

  1. পাবলো নেরুদা ছিলেন –

(A) চিলিয়ান কবি ও রাজনীতিবিদ

(B) ইউরোপিয়ান কবি ও রাজনীতিবিদ

(C) রাশিয়ান কবি ও ভাস্কর্য শিল্পী

(D) জার্মান কবি ও চিত্রকর 

Ans: (A) চিলিয়ান কবি ও রাজনীতিবিদ

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতাটি পাবলো নেরুদার কোন্ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ? 

(A) The Captain’s Verse

(B) The Yellow Heart 

(C) Still Another Day 

(D) Extravagaria

  1. অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল – 

(A) দরজায় 

(B) ছাদে 

(C) বারান্দায় 

(D) রাস্তায় 

Ans: (A) দরজায় 

  1. পাবলো নেরুদার প্রকৃত নাম হল –

(A) নেফতালি রিকার্দো রেয়েস বাসোয়ালতো 

(B) রিকার্দো বাসওআলতো 

(C) রেয়েন্স রিকার্দো নেকতালি বাসোয়ালতো 

(D) পল ভেরলেইন নেরুদা

Ans: (A) নেফতালি রিকার্দো রেয়েস বাসোয়ালতো

  1. ‘ সে জানত না ‘ –’সে ‘ হল – 

(A) পরাজিত সৈনিক 

(B) কবিতার কথক

(C) কবির ভালোবাসার জন

(D) কবির মা

Ans: (C) কবির ভালোবাসার জন

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় একটা কী চলে গেল বলতে কবি কোন্ জন্তুর উল্লেখ করেছেন ? 

(A) মানুষ 

(B) কুকুর 

(C) হরিণ ।

(D) বিড়াল

Ans: (B) কুকুর

[ আরোও দেখুন: Madhyamik Bengali Suggestion 2023 Click here ]

  1. ‘ সে জানত না’— সে কী জানত না ? 

(A) কথক ফিরে আসবে 

(B) কথক আর কখনও ফিরে আসবে না 

(C) কথক কখন আসবে 

(D) কথক শীঘ্রই ফিরে আসবে

Ans: (B) কথক আর কখনও ফিরে আসবে না

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবি ক – টি সপ্তাহ কেটে যাওয়ার উল্লেখ করেছেন ? 

(A) একটি

(B) চারটি 

(C) দুটি

(D) তিনটি

Ans: (A) একটি

  1. ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় কে হেঁটে চলে গেল ? 

(A) গল্পের কথক 

(B) একজন সৈনিক

(C) একটি কুকুর

(D) গির্জার এক নান

Ans: (D) গির্জার এক নান

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবি পরিত্যক্ত রাস্তায় কী জন্মানোর কথা বলেছেন ?

(A) ঘাস 

(B) তরুলতা 

(C) গাছ 

(D) শস্য

Ans: (A) ঘাস

  1. ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় একটার – পর – একটা বছর কীভাবে নেমে এল বলে কবি মনে করেছেন ?

(A) পাথরের মতো 

(B) জলের মতো

(C) ফুলের মতো 

(D) গানের মতো

Ans: (A) পাথরের মতো

  1. বৃষ্টি কী ধুয়ে দিয়েছিল ?

(A) রাস্তার ধুলো

(B) রক্তের দাগ

(C) কথকের পায়ের দাগ

(D) কাঠকয়লার দাগ

Ans: (C) কথকের পায়ের দাগ 

  1. ‘ তারপর যুদ্ধ এল’- ‘ যুদ্ধ এল ‘ – র অর্থ—

(A) যুদ্ধ শেষ হল 

(B) যুদ্ধ শুরু হল 

(C) যুদ্ধ হবে এমন

(D) যুদ্ধ চলাকালীন অবস্থায়

Ans: (C) যুদ্ধ হবে এমন

  1. ‘ তারপর যুদ্ধ এল –

(A) রক্তের সমুদ্রের মতো । ‘ 

(B) আগ্নেয়পাহাড়ের মতো

(C) পাহাড়ের আগুনের মতো

(D) রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো

Ans: (D) রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো

মতো । ‘

  1. ‘রক্তের এক _____ মত ।’ 

(A) ধসের 

(B) গিরিখাতের

(C) আগ্নেয়পাহাড়ের 

(D) গিরিখাতের

Ans: (C) আগ্নেয়পাহাড়ের

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় শিশু আর বাড়িরা –

(A) খুন হল 

(B) হারিয়ে গেল 

(C) বেঁচে রইল 

(D) জেগে রইল ।

Ans: (A) খুন হল 

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় সব ধ্বংস হলেও অপেক্ষমান সেই মেয়েটির কী হল না ?

(A) অসুখ হল না

(B) মৃত্যু হল না

(C) খুন হল না 

(D) জ্বলে গেল না

Ans: (B) মৃত্যু হল না

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কীসে সমস্ত সমতল ধ্বংস হল ?

(A) ভূমিকম্পে

(B) ধসে

(C) আগুনে

(D) বন্যায়

Ans: (C) আগুনে

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় দেবতাদের চেহারা ছিল – 

(A) শান্ত – হলুদ 

(B) লাল – নীল 

(C) অশান্ত – নীল

(D) ধীর – হলুদ

Ans: (A) শান্ত – হলুদ

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় শান্ত – হলুদ দেবতারা কত বছর ধ্যানে ডুবে ছিল ?

(A) একশো 

(B) দু – হাজার 

(C) পাঁচশো 

(D) হাজার

Ans: (D) হাজার

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় শান্ত – হলুদ দেবতারা কীভাবে মন্দির থেকে উলটে পড়ল ?

(A) টুকরো টুকরো হয়ে 

(B) গুঁড়োগুঁড়ো হয়ে 

(C) অর্ধেক হয়ে 

(D) ভেঙে ভেঙে 

Ans: (A) টুকরো টুকরো হয়ে

  1. তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না । কারা স্বপ্ন দেখতে পারল না ?

(A) দেবতারা 

(B) শয়তানরা

(C) মানুষেরা

(D) যক্ষরা

Ans: (A) দেবতারা

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কে মিষ্টি বাড়ির বারান্দার ঝুলন্ত বিছানায় ঘুমিয়েছিল ?

(A) মেয়েটি 

(B) বন্ধুটি 

(C) কবি 

(D) ভাইটি 

Ans: (A) মেয়েটি

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবি বারান্দার যে – বিছানাটিতে কবিতায় ঘুমিয়েছিলেন , সেটি ছিল – 

(A) জ্বলন্ত 

(B) উড়ন্ত 

(C) বাড়ন্ত

(D) ঝুলন্ত

Ans: (D) ঝুলন্ত

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবির ঝুলন্ত বিছানার ধারের গাছটি ছিল – 

(A) গোলাপি 

(B) নীল 

(C) হলুদ 

(D) সবুজ

Ans: (A) গোলাপি

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় ছড়ানো করতলের মতো পাতা ছিল— 

(A) চিমনির 

(B) মশারির 

(C) বিছানার

(D) বসার ঘরের

Ans: (D) বসার ঘরের

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবির সেই মিষ্টি বাড়ির জলতরঙ্গটি কোন্ সময়ের ? 

(A) প্রাচীন কালের

(B) আধুনিক সময়ের 

(C) বিংশ শতকের

(D) মধ্যযুগীয় সময়ের

Ans: (A) প্রাচীন কালের

  1. ‘ সব _____ হয়ে গেল , জ্বলে গেল আগুনে । ‘

(A) চূর্ণ 

(B) বিচূর্ণ 

(C) শক্ত 

(D) চুরমার

Ans: (A) চূর্ণ

  1. ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় যেখানে শহর ছিল সেখানে ছড়িয়ে রইল – 

(A) কাঠকয়লা 

(B) সাপ 

(C) কয়লা 

(D) আগুন

Ans: (A) কাঠকয়লা

  1. ‘ দোমড়ানো লোহা , মৃত মূর্তির বীভৎস / মাথা

(A) রুপোর 

(B) সোনার 

(C) মাটির 

(D) পাথরের

Ans: (D) পাথরের

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় শহর ধ্বংসের সঙ্গে সঙ্গে রক্তের দাগের রং হয়েছিল— 

(A) কালো 

(B) হলুদ 

(C) লাল 

(D) সবুজ

Ans: (A) কালো

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় সেই মেয়েটি যার জন্য অপেক্ষারত , সে হল –

(A) কবি 

(B) ডাকপিয়োন 

(C) তুমি 

(D) তোমরা

Ans: (A) কবি

সঠিক উত্তর নির্বাচন করো (MCQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

১। ‘তারপর যুদ্ধ এল’ –
(ক) পাহাড়ের আগুনের মতো (খ) রক্তের সমুদ্রের মতো (গ) আগ্নেয় পাহাড়ের মতো (ঘ) রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মতো
উত্তর – তারপর যুদ্ধ এল (ঘ) রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মতো।

২। ‘যেখানে ছিল শহর / সেখানে ছড়িয়ে রইল’ – কি ছড়িয়ে রইল?
(ক) পায়ের দাগ (খ) কাঠকয়লা (গ) গোলাপি গাছ (ঘ) প্রাচীন জলতরঙ্গ [মাধ্যমিক ২০১৯]
উত্তর – ‘যেখানে ছিল শহর / সেখানে ছড়িয়ে রইল (খ) কাঠকয়লা।

৩। ‘তারা আর স্বপ্ন দেখাতে পারল না’ – কারা আর স্বপ্ন দেখাতে পারলো না?
(ক) সেই মেয়েটি (খ) গির্জার নান (গ) কবিতার কথক (ঘ) শান্ত হলুদ দেবতারা [মাধ্যমিক’২০২০]
উত্তর – (ঘ) শান্ত হলুদ দেবতারা আর স্বপ্ন দেখাতে পারল না।

৪। ‘ডুবে ছিল ধ্যানে’ – কত দিনের ধ্যানে ডুবে ছিল?
(ক) একযুগ (খ) শতবর্ষ (গ) হাজার বছর (ঘ) যুগের পর যুগ ধরে
উত্তর – (গ) হাজার বছর ধরে ‘ডুবে ছিল ধ্যানে’।

৫। দেবতাদের চিহ্নিত করতে কি বিশেষণ ব্যবহার করা হয়েছে?

(ক) শান্ত সবুজ (খ) শান্ত হলুদ (গ) শান্ত করুন (ঘ) শান্ত সাদা
উত্তর – দেবতাদের (খ) শান্ত হলুদ বলা হয়েছে।

৬। বৃষ্টিতে ধুয়ে দিল আমার পায়ের দাগ / ঘাস জন্মালো –
(ক) মাঠে (খ) রাস্তায় (গ) উঠোনে (ঘ) গ্রামে
উত্তর – ঘাস জন্মালো (খ) রাস্তায়।

 

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | অসুখী একজন (কবিতা) পাবলো নেরুদা – মাধ্যমিক বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Bengali Asukhi Ekjon Question and Answer : 

  1. ‘ আমি তাকে ছেড়ে দিলাম — ‘ আমি ’ কে ? 

Ans: নবারুণ ভট্টাচার্য অনূদিত পাবলো নেরুদা রচিত ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় ‘ আমি ‘ বলতে স্বয়ং কবি নিজেকে তথা কবিতার কথককে বুঝিয়েছেন । 

  1. কবির অপেক্ষায় কে দাঁড়িয়েছিল ?

Ans: ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবি যেদিন নিজ বাসভূমি ছেড়ে চলে যান , সেদিন তাঁর প্রিয় নারীটি দরজায় অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিল । 

  1. কথকের অপেক্ষায় কে , কোথায় দাঁড়িয়েছিল ?

Ans: প্রখ্যাত চিলিয়ান কবি পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় কথকের অপেক্ষায় তার প্রিয়তমা গভীর প্রত্যাশা নিয়ে দরজায় দাঁড়িয়েছিল ।

  1. অসুখী একজন ’ কবিতায় কথক অপেক্ষারতাকে ছেড়ে কোথায় চলে গেলেন ? 

Ans: পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় কথক দরজায় অপেক্ষারতা প্রিয়জনকে দাঁড় করিয়ে রেখে বৃহত্তর স্বার্থে দূর থেকে দূরে কোনো স্থানে চলে গেলেন ।

  1. ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় কে ফিরে আসার কথা জানত না ?

Ans: পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় দরজায় অপেক্ষারতা কথকের প্রিয়তমা সেই নারীটি জানত না যে , তার মনের মানুষ আর কখনও ফিরে আসবে না ।

  1. ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় কবির / কথকের চলে যাওয়া সত্ত্বেও সমাজজীবনের নিজের গতিতে চলার কী কী অনুষঙ্গ কবিতায় উল্লিখিত আছে ?

Ans: নেরুদার ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় কথকের চলে যাওয়া সত্ত্বেও সমাজজীবনের আপন গতিতে বয়ে চলার অনুষঙ্গগুলি হল — ‘ একটি কুকুর চলে গেল , হেঁটে গেল গির্জার এক নান ‘ ।

  1. ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় কবির পায়ের দাগ কীসে ধুয়ে গিয়েছিল ?

Ans: নেরুদার ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় কবির পায়ের দাগ বৃষ্টিতে ধুয়ে গিয়েছিল । স্মৃতির মলিনতা অর্থে উপমাটি ব্যবহৃত হয়েছে ।

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবি পরিত্যক্ত রাস্তায় কী জন্মানোর কথা বলেছেন ? 

Ans: ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় পরিত্যক্ত রাস্তায় কবি ‘ ঘাস ’ জন্মানোর কথা বলেছেন । সময়ের সঙ্গে স্মৃতির ফিকে হয়ে যাওয়া বোঝাতেই শব্দগুলি ব্যবহার করা হয়েছে । ২. নেমে এল তার মাথার ওপর । 

  1. কার মাথার ওপর কী নেমে আসার কথা বলা হয়েছে ?

Ans: পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কথকের জন্য অপেক্ষা করতে থাকা তার প্রিয়তমার মাথার ওপর পাথরের মতো ভারী একটার পর একটা বছর নেমে এল । 

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবি ‘ পাথরের মতো ” বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন ?

Ans: পাবলো নেরুদা তাঁর ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কথকের জন্য তাঁর প্রেমিকার অন্তহীন অপেক্ষা আর দুঃসহ বেদনাকে পাথরের গুরুভারের সঙ্গে তুলনা করেছেন ।

  1. তারপর যুদ্ধ এল — কোন কবিতার লাইন ? ‘ যুদ্ধ এল – এর অর্থ কী ?

Ans: তারপর যুদ্ধ এল ’ — এটি ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতার পক্তি । এখানে ‘ যুদ্ধ এল ‘ বলতে বোঝানো হয়েছে , কথকের দেশে যুদ্ধ শুরু হল । আর মানুষ , শহর ও জনপদ সব জ্বলেপুড়ে ছারখার হয়ে গেল ।

  1. ‘ অসুখী একজন কবিতায় যুদ্ধের ছবিটি কীভাবে ফুটে উঠেছে ?

Ans: ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবির ভাষায় যুদ্ধ এসেছে — ‘ রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো । অর্থাৎ ফুটে উঠেছে ধ্বংস ও মৃত্যুর রক্তাক্ত ভয়াবহতার ছবি । 

  1. শিশু আর বাড়িরা খুন হলো।- ‘ শিশু আর বাড়িরা খুন হয়েছিল কেন ?

Ans: উত্তর ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবি যুদ্ধে , শিশু ও বাড়িদের খুন বা হওয়ার কথা বলেছেন । শিশুরাও এই যুদ্ধের হাত থেকে রেহাই পায় না , ধূলিসাৎ হয় মানুষের আশ্রয় ।

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় উল্লিখিত যুদ্ধে অপেক্ষাতুরা মেয়েটির কী হল ?

Ans: ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় উল্লিখিত ভয়াবহ যুদ্ধের বিধ্বংসী মত্ততা  ে অতিক্রম করে শুধু আশ্চর্যজনকভাবে বেঁচে রইল , সেই অপেক্ষাতুরা মেয়েটি ।

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় যুদ্ধে সমতলের কী অবস্থা হয়েছিল ?

Ans: ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক ছায়া সমস্ত সমতলে । আগুনের লেলিহান শিখার মতো ছড়িয়ে পড়ে সব কিছুকে জ্বালিয়ে – পুড়িয়ে ছারখার করল । 

  1. অসুখী একজন কবিতায় কবি দেবতাদের চেহারার কী বর্ণনা দিয়েছেন ?

Ans: ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবি ‘ শান্ত – হলুদ ‘ দেবতাদের চেহারার ছবি এঁকেছেন । এখানে ‘ শাস্ত – হলুদ ‘ শব্দবন্ধটি যেন নিষ্ক্রিয় প্রাচীনতার ইঙ্গিত বহন করে আনে । 

  1. ‘ অসুখী একজন কবিতায় দেবতারা হাজার বছর ধরে কী করছিল বলে উল্লেখ পাওয়া যায় ?

Ans: ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় শাস্ত – হলুদ দেবতারা হাজার বছর ধরে ধ্যানে ডুবে ছিল বলে কবি উল্লেখ করেছেন , যা দেবত্বের নির্বিকার নিষ্ক্রিয় রূপটিকেই ফুটিয়ে তুলেছে ।

  1. ‘ অসুখী একজন কবিতায় দেবতারা কোথা থেকে টুকরো টুকরো হয়ে উলটে পড়েছিল ?

Ans: ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় যুদ্ধের অভিঘাতে হাজার বছর ধরে ধ্যানে ডুবে থাকা দেবতারা মন্দির থেকে টুকরো টুকরো হয়ে উলটে পড়েছিল ।

  1. ‘ তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।- ‘ তারা ‘ বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে ?

Ans: ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতা থেকে গৃহীত ‘ তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না ‘ পঙ্ক্তিতে ‘ ‘ তারা ‘ বলতে শান্ত – হলুদ দেবতাদের কথা বলা হয়েছে ।

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবির বাড়িটি কেমন ছিল ?

Ans: ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবির বাড়িটি ছিল মধুর স্মৃতি ও স্বপ্নবিজড়িত । অর্থাৎ বাড়িটি সম্পর্কে এখানে শৈশব – কৈশোরের আকর্ষণজনিত আবেগ ও আবেশ প্রকাশিত হয়েছে ।

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবির ঝুলন্ত বিছানাটি কোথায় অবস্থিত ছিল ? 

Ans: ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবির মধুর স্মৃতিবিজড়িত মিষ্টি বাড়িতে ঝুলন্ত বিছানাটি বারান্দায় অবস্থিত ছিল ।

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবির স্বপ্নবিজড়িত বাড়ির পরিবেশটি কেমন ছিল ?

Ans: ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবির স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটিতে গোলাপি গাছ , ছড়ানো করতলের মতো পাতা চিমনি ও প্রাচীন জলতরঙ্গ যেন এক সাবেকি ইমারতের স্নিগ্ধ পূর্ণতাকে ফুটিয়ে তোলে ।

  1. ‘ অসুখী একজন কবিতায় যুদ্ধে কবির বাড়ির অবস্থা কী হয়েছিল ?

Ans: ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় , যুদ্ধে কবির স্বপ্ন ও স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি ভেঙে , গুঁড়িয়ে , আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে গিয়েছিল ।

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবির বাড়িটি ছাড়াও আর কী ধ্বংসের উল্লেখ পাওয়া যায় ?

Ans: ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবির বাড়িটি ছাড়াও সম্পূর্ণ শহরটি ধ্বংসের উল্লেখ পাওয়া যায় ।

  1. ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় যেখানে শহর ছিল সেখানে যুদ্ধের ফলে কী কী ছড়িয়ে রইল ?

Ans: ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় যেখানে শহর ছিল , সেখানে যুদ্ধের পর ছড়িয়ে রইল কাঠকয়লা , দোমড়ানো লোহা , মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর পোড়া শুকনো রক্তের কালো দাগ ।

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় যেখানে শহর ছিল সেখানে । যুদ্ধের ফলে কী কী ছড়িয়ে রইল । 

Ans: ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় বিপর্যয় ও বিধ্বংসের বিকৃত রূপ , বহু ক্ষয়ক্ষতি ও মৃত্যু বোঝাতে কবি এই চিত্রকল্পের প্রয়োগ ঘটিয়েছেন । যুদ্ধের বীভৎসভায় যেন রক্তও তার স্বাভাবিক রূপ হারিয়েছে ।

  1. ‘ আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায় / – ‘ আর ’ শব্দটি ব্যবহারের কারণ কী ?

Ans: পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় যুদ্ধ – দাঙ্গা – হিংসার আগুন পেরিয়ে কথকের প্রিয়তমার ভালোবাসা ও চিরন্তন অপেক্ষাকে বোঝাতেই শেষ পঙ্ক্তিতে ‘ আর ‘ শব্দটির ব্যবহার হয়েছে । 

  1. ‘ রক্তের একটা কালো দাগ । কোথায় রক্তের একটা কালো দাগ দেখা গিয়েছিল ? 

Ans: যুদ্ধের ফলে ধ্বংসপ্রাপ্ত শহরে কাঠকয়লা , দোমড়ানো লোহা , মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথার সঙ্গে রক্তের কালো দাগ দেখা গিয়েছিল । 

  1. সমস্ত সমতলে ধরে গেল আগুন – কেন এমন হয়েছিল ?

Ans: ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতা অনুসারে আগ্নেয়পাহাড়ের মতো ভয়াবহ যুদ্ধ আসার ফলে সমস্ত সমতলে আগুন ধরে গিয়েছিল ।

  1. ‘ বৃষ্টিতে ধুয়ে দিল আমার পায়ের দাগ — পায়ের দাগ ধুয়ে দেওয়া বলতে কী বোঝ ?

Ans: নেরুদার ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় বৃষ্টিতে পায়ের দাগ ধুয়ে যাওয়া বলতে স্ববাসভূমিতে কথকের স্মৃতি ক্রমশ ফিকে ও মলিন হয়ে আসার কথা বলা হয়েছে । 

  1. ‘ সব চূর্ণ হয়ে গেল , —কী কী চূর্ণ হয়ে গেল ? 

Ans: ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবির মিষ্টি বাড়ি , বারান্দার ঝুলন্ত বিছানা , গোলাপি গাছ , ছড়ানো করতলের মতো পাতা চিমনি আর প্রাচীন জলতরঙ্গ যুদ্ধে এইসব চূর্ণ হয়ে আগুনে জ্বলে গিয়েছিল । 

  1. ‘ সেখানে ছড়িয়ে রইল — কী ছড়িয়ে ছিল । 

Ans: নেরুদার ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতানুসারে ধ্বংসপ্রাপ্ত শহরে ছড়িয়ে ছিল কাঠকয়লা , দোমড়ানো লোহা , মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর রক্তের একটা কালো দাগ ।

  1. ‘ হেঁটে গেল গির্জার এক নান- ‘ নান ‘ কাদের বলা হয় ? 

Ans: গির্জায় বসবাসকারী খ্রিস্টান সন্ন্যাসিনীদের ‘ নান ‘ বলা হয় ।

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতাটির অনুবাদক কে ? 

Ans: ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতাটির অনুবাদক নবারুণ ভট্টাচার্য ।

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় যুদ্ধের ছবিটি কীভাবে ফুটে উঠেছে ।

Ans: কবি পাবলো নেরুদা ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় যুদ্ধের ভয়াবহতাকে রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন ।

  1. ” সেই মেয়েটির মৃত্যু হলো না । – কোন্ মেয়েটির ?

Ans: নেরুদার ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবির জন্য তাঁর স্ববাসভূমিতে অপেক্ষারতা মেয়েটির ভয়াবহ যুদ্ধেও মৃত্যু হল না ।

  1. ‘ সেই মিষ্টি বাড়ি , সেই বারান্দা — সেই বারান্দাটির পরিচয় দাও ।

Ans: ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবির মিষ্টি বাড়ির বারান্দাটিতে ছিল একটি ঝুলন্ত বিছানা ; যেখানে তিনি একদা ঘুমিয়েছিলেন ।

  1. ‘ সব চূর্ণ হয়ে গেল’— কী কারণে সব চূর্ণ হয়ে গেল ? Ans: 31. নং প্রশ্নের উত্তর দ্যাখো ।
  2. ‘ তারপর যুদ্ধ এল — যুদ্ধ আসার ফল কী হয়েছিল ?

Ans: নং প্রশ্নের উত্তর দ্যাখো ।

  1. ‘ তারপর যুদ্ধ এল — যুদ্ধ এল কীসের মতো ? 

Ans: নেরুদার ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতা অনুসারে ‘ রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো ‘ যুদ্ধ এসেছিল । অর্থাৎ এখানে যাবতীয় ধ্বংস ও বিনাশের প্রতীক হয়ে ওঠে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ । 

  1. ‘অসুখী একজন কবিতায় কবি অপেক্ষারতাকে ছেড়ে কোথায় চলে গেলেন ? 

Ans: ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবি অপেক্ষারতাকে ছেড়ে চিরদিনের জন্য বহুদুরের কোনো এক অজ্ঞাত স্থানে চলে গেলেন ।

  1. ‘ সেই মেয়েটির  মৃত্যু হলো না । -কেন মেয়েটির মৃত্যু হল না ?

Ans: ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় যুদ্ধ , মৃত্যু ও হিংসা যেন মেয়েটিকে স্পর্শ করতে পারে না । কারণ ভালোবাসা অবিনাশী । তাই সে নিজস্ব ধারায় সময় থেকে সময়ান্তর অতিক্রম করেও অমলিন থাকে ।

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (VSAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ১]

১। ‘শিশু আর বাড়িরা খুন হলো’ – ‘শিশু আর বাড়িরা’ খুন হয়েছেন কেন? [মাধ্যমিক’১৭]
উত্তর – যুদ্ধের করালগ্রাসে শিশু আর বাড়িরা ধ্বংস বা খুন হয়েছে।

২। ‘অসুখী একজন’ কবিতাটি কে বাংলায় তরজমা করেছেন? [মাধ্যমিক’২০]
উত্তর – ‘অসুখী একজন’ কবিতাটির বাংলা তরজমা করেছেন শ্রী নবারুণ ভট্টাচার্য।

৩। ‘ঘাস জন্মালো রাস্তায়’ – এ চিত্রকল্পের দ্বারা কবি কি বোঝেতে চেয়েছেন?

উত্তর – ‘ঘাস জন্মালো রাস্তায়’ বলতে কবি অনেকটা সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার কথা বুঝিয়েছেন।

৪। ‘শিশু আর বাড়িরা খুন হলো’ – ‘বাড়িরা’ কিভাবে খুন হলো?
উত্তর – এখানে ‘খুন’ বলতে ধ্বংসের বলা হয়েছে, যুদ্ধের ভয়াবহতায় শহরের ঘর – বাড়ি ধ্বংস বা খুন হয়েছে।

৫। শান্ত হলুদ দেবতারা কত বছর ধ্যানে ডুবে ছিল?

উত্তর – শান্ত হলুদ দেবতারা হাজার বছর ধ্যানে ডুবে ছিল।

৬। ‘তারা আর স্বপ্ন দেখাতে পারলো না’ – কারা কাকে স্বপ্ন দেখাতে পারলো না?
উত্তর – মানুষের উপাস্য দেবতারা, তারা আর স্বপ্ন দেখাতে পারলো না।

 

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | অসুখী একজন (কবিতা) পাবলো নেরুদা – মাধ্যমিক বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Bengali Asukhi Ekjon Question and Answer  : 

  1. ‘ আমি তাকে ছেড়ে দিলাম’- কবি কাকে ছেড়ে দিলেন । তাকে তিনি কীভাবে রেখে এসেছিলেন ?

Ans: পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতা থেকে গৃহীত অংশে কথক তাঁর প্রিয় নারীকে অপেক্ষায় রেখে নিজ বাসভূমি ছেড়ে দূরে চলে গিয়েছিলেন । 

  স্বদেশ ছেড়ে দূর থেকে দূরতর কোনো স্থানে চলে যাওয়ার সময় তিনি দরজায় তাঁর অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে রেখে যান কোনো এক প্রিয়জনকে । যদিও সে জানত না যে , কবি আর কখনও ফিরে আসবে না । এইভাবেই কবি এক চিরকালীন বিদায় মুহূর্তের ছবি এঁকেছেন ।

  1. ‘ বৃষ্টিতে ধুয়ে দিল আমার পায়ের দাগ / ঘাস জন্মালো রাস্তায়’— উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো ।

Ans: উদ্ধৃতাংশের তাৎপর্য উত্তর উদ্ধৃতিটি পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ’ কবিতা থেকে গৃহীত । কথক তাঁর প্রিয়তমাকে অপেক্ষমান রেখে জীবন ও জীবিকার তাগিদে বহুদুরে পাড়ি দেন । থমকে যায় মেয়েটির জীবন কিন্তু সময় থেমে থাকে না । তাই কথকের চলে যাওয়াতে জীবনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয় না । সপ্তাহ – বছর কেটে যায় । প্রাকৃতিক নিয়মেই কথকের চলার পথের পদচিহ্ন মুছে যায় । তাতে ঘাস জন্মায় । কিন্তু কবির চলে যাওয়ার মুহূর্তটি তার প্রিয়তমার হৃদয়ে অন্তহীন অপেক্ষার মুহূর্ত হয়ে রয়ে যায় । 

  1. পাথরের মতো পর পর পাথরের মতো , বছরগুলো বছরগুলোকে পাথরের মতো বলা হয়েছে কেন ?

Ans: বছরগুলো পাথরের মতো- কারণ উত্তর / জীবন ও জীবিকার জন্য বাসভূমি ছেড়ে দূরে চলে যাওয়া তাঁর মানুষটি যে ফিরে আসবেন না এ কথা তার প্রেমিকার অজানা ছিল । কিন্তু জীবন এতে থেমে থাকেনি । বৃষ্টিতে কবির পায়ের দাগ মুছে তাতে ঘাস জন্মায় । নিরন্তর অপেক্ষা চলতেই থাকে । দীর্ঘ প্রতীক্ষারতা নারীর জীবনে তার প্রিয়তমের অনুপস্থিতির বছরগুলো যেন পাথরের বোঝা হয়ে তার মাথার ওপর নেমে আসে । এখানে ‘ পর পর ‘ বলতে বিচ্ছেদ বেদনার গভীরতা বোঝানো হয়েছে ।

  1. যুদ্ধকে ‘ রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড় ‘ বলা হয়েছে কেনো ? 

Ans: উদ্ধৃত প্রসঙ্গটি কবি পাবলো নেরুদা রচিত ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতা থেকে গৃহীত । 

 আগ্নেয় পাহাড় কারণ কবিতায় যুদ্ধকে কবি আগ্নেয়পাহাড়ের সঙ্গে তুলনা করেছে । আগ্নেয়পাহাড় চারপাশে ছড়িয়ে দেয় জ্বলন্ত লাভা । আর সেই আগুনে ছাই হয় জীবনের যাবতীয় চিহ্ন । ঠিক তেমনই যুদ্ধের ফলে মানুষের মনে জমে থাকা হিংসা – দ্বেষ আর ঘৃণা লাভার মতো ছিটকে ওঠে । অপমৃত্যু ঘটে মানবতার । এই মৃত্যুময় ধ্বংসলীলার নারকীয় রূপটিকে ফুটিয়ে তুলতেই কবি যুদ্ধকে , রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড় ‘ বলেছেন ।

  1. ” সেই মেয়েটির মৃত্যু হলো না । কোন মেয়েটির কেন মৃত্যু হল না ?

Ans: পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতার কথকের জন্য অপেক্ষারতা যে মেয়েটির উল্লেখ পাওয়া যায় , তার কথা বলা হয়েছে । মেয়েটির পরিচয় মেয়েটি জানত না যে , তার প্রিয়তম আর ফিরে আসবে না । জীবন আপন ছন্দে চলল , ক্রমে সপ্তাহ – বছর অতিক্রান্ত হল । কবির পদচিহ্ন বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল , তবু অপেক্ষা চলল । এরপর যুদ্ধের গ্রাসে নগর , দেবালয় চূর্ণবিচূর্ণ হল এবং মৃত্যু হল শিশুসহ অজস্র মানুষের । শুধু অপেক্ষমান মেয়েটির মৃত্যু হল না কারণ ভালোবাসা অমর , চিরন্তন ও শাশ্বত ।

  1. ‘ শান্ত হলুদ দেবতারা’- দেবতাদের ‘ শান্ত হলুদ বলা হয়েছে কেন ? তাদের কী পরিণতি হয়েছিল ? 

Ans: দেবতারা ‘ শান্ত হলুদ কেন উত্তর / ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবি চলে যাওয়ার পর একসময় যুদ্ধ বাধল । সেই যুদ্ধের বীভৎসতায় নগরসভ্যতা , কবির স্বপ্নের বাড়ি – ঘর সব চূর্ণ হয়ে গেল , এমনকি ধ্বংস হল দেবতাদের মন্দিরও । হাজার হাজার বছরের যে – দেবতারা মানুষের মনে বিশ্বাস জাগিয়ে এসেছেন , যুদ্ধ তাদেরও আসনচ্যুত করল । প্রাচীন দেবতাদের নিষ্ক্রিয়তা ও জীর্ণতাকে বোঝাতে হলুদ ও শান্ত বলা হয়েছে । যুদ্ধের আগুনে নগর পুড়লে দেবালয়ও বাদ যায় না । মানুষের মনে দেবতারা যে – বিশ্বাস বোধের জন্ম দিয়েছিল , তা পরিণতি ধ্বংস হল । 

  1. তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না ।’- উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো । 

Ans: উদ্ধৃত অংশটি পাবলো নেরুদার কবিতা ‘ অসুখী একজন ‘ থেকে গৃহীত । 

 এখানে কবি বিনাশ ও ধ্বংসের কলরোলে দৈবীমহিমার অসারতার প্রতি কটাক্ষপাত করেছেন । মানবতার অপচয় প্রাণহানি কিংবা চূড়ান্ত বীভৎসতার সময় কোনো দৈব – মাহাত্ম্য প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে না । উদ্ধৃতাংশের তাৎপর্য মানুষের মতোই একইরকমভাবে যুদ্ধ -তাণ্ডবের ভয়াবহতায় তারাও নিরাশ্রয় , অস্তিত্বহীন এবং চূর্ণবিচূর্ণ হয় । তাই এককথায় দৈব ক্ষমতার ফানুস চুরমার হয়ে যাওয়ায় তাদের যেন মানুষকে স্বপ্ন দেখানোর ক্ষমতা লোপ পায় । আলোচ্য অংশে কবির এই ভাবনাই প্রকাশ পেয়েছে ।

  1. প্রাচীন জলতরঙ্গ / সব চূর্ণ হয়ে গেল , ‘ — উদ্ধৃতাংশে কবি কী বুঝিয়েছেন ? 

প্রশ্নোস্তৃত অংশে কবি বুঝিয়েছেন ত্তর প্রশ্নোদ্ভূত অংশটি , পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ’ কবিতা থেকে গৃহীত । আগ্নেয়পাহাড়ের মতো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের লেলিহান আগুন সমতলকেও গ্রাস করেছিল । কবির শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত মিষ্টি বাড়িটিও যুদ্ধের নির্মম আঘাতে ধ্বংস হয়েছিল । তার বারান্দার ঝুলন্ত বিছানা , গোলাপি গাছ , ছড়ানো করতলের মতো পাতা , চিমনি ও প্রিয় প্রাচীন জলতরঙ্গ এইসব চূর্ণ হল , সম্পূর্ণ ভস্ম হল আগুনে । অর্থাৎ কবির আশ্রয় ও অস্তিত্বের একমাত্র প্রতীকচিহ্নটিও যুদ্ধের নিষ্ঠুর ধ্বংসলীলায় নিশ্চিহ্ন হয়েছিল । 

9.‘ সেখানে ছড়িয়ে রইল কাঠকয়লা’— বলতে কবি প্রশ্নোদৃত অংশে কৰি বুঝিয়েছেন কী বুঝিয়েছেন ?

Ans: পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ’ কবিতাটিতে কোনো এক অজ্ঞাত কারণে কবি প্রিয়তমা , ঘরবাড়ি , এমনকি তাঁর প্রিয় শহরও ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন । এরপরে একদিন আসে বীভৎস যুদ্ধ । যার করাল গ্রাসে কবির ঘরবাড়ি , দেবালয় সমস্ত কিছু চূর্ণ হয়ে আগুনে জ্বলে যায় । শহরটিও বাদ যায় না । এক সময়ের সুন্দর শহরে ছড়িয়ে থাকে কাঠকয়লা , দোমড়ানো লোহা , মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর রক্তের দাগ । আসলে শহরের বিধ্বংসী রূপটি তুলে ধরতেই উদ্ধৃতিটি ব্যবহৃত হয়েছে । 

  1. ‘ আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায় । মেয়েটি কে ? সে অপেক্ষা করে কেন ? 

Ans: পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় ‘ সেই মেয়েটি ’ হল কথকের প্রিয়তমা , যাকে রেখে কবি বহুদূরে চলে গিয়েছিলেন । কবি যে আর ফিরে আসবেন না এ কথা তার প্রিয়তমা জানত না । তার অপেক্ষার বোঝা গভীর থেকে গভীরতর হলেও সে ভেঙে পড়েনি । এই মেয়েটিকে ধ্বংস যেন স্পর্শ করতে পারে না ; মৃত্যু – যুদ্ধ – হিংসা , দাঙ্গার স্পর্শ পেরিয়েও তাই সে অমলিন থাকে । কারণ ভালোবাসার কখনও মৃত্যু হয় না । সেসময় থেকে সময়ান্তরে অপেক্ষা করে বয়ে চলে নিজস্ব ধারায় ।

  1. তারা তো স্বপ্ন দেখতে পারল না । তারা কারা ? কেন তারা স্বপ্ন দেখতে পারল না ?

Ans: পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতা থেকে নেওয়া তাদের পরিচয় । উদ্ধৃতাংশে ‘ তারা ‘ বলতে শান্ত হলুদ দেবতাদের কথা বলা হয়েছে । 

 – দ্বিতীয় অংশের জন্য  প্রশ্নের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদটি দ্যাখো । 

  1. শান্ত হলুদ দেবতারা / যারা হাজার বছর ধরে ডুবেছিল খ্যানে কোন কবিতার অংশ ? শান্ত হলুদ দেবতাদের হাজার বছর ধরে ডুবে থাকার অর্থটি বুঝিয়ে দাও । 

Ans: প্রশ্নে উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটি পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ’ কবিতার অংশ । প্রশ্নোবৃত অংশের অর্থ → এখানে ঈশ্বর বা দেবতা এক জীর্ণ বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত । তাদের নিষ্ক্রিয় প্রাচীনতা কবি ‘ শান্ত হলুদ ‘ শব্দবন্ধের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন । আর দেবতাদের হাজার বছর ধরে ধ্যানে ডুবে থাকার মধ্যে তিনি দৈব – মহিমার ভূমিকাহীন অসারতার ভাবটিকে ফুটিয়ে তুলেছেন । আসলে এই ক্রিয়াহীন , নিশ্চল ও ধ্যানস্থ অবস্থা আমাদের টের পাইয়ে দেয় ; মানবজীবনের উত্থানপতনের সঙ্গে দেবত্বের কোনো সম্পর্ক নেই । 

  1. ‘ সে জানত না’— কী জানত না ? না – জানা বিষয়টি বিশ্লেষণ করো । 

Ans: নেরুদার ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় অপেক্ষাতুরা মেয়েটির এ কথা জানা ছিল না যে , কবি আর কখনও স্ববাসভূমিতে ফিরে আসবেন না । পাঠ্য কবিতাটি শুরু হয় এক বিদায়দৃশ্যকে অবলম্বন করে । বাড়ির দরজায় প্রিয়তমাকে ফেলে রেখে কবি চলে যান বহুদুরের অজ্ঞাত কোনো স্থানে । এই যাত্রার কারণ কবিতায় উল্লিখিত হয় না । কিন্তু এটা স্পষ্ট হয়ে ফুটে ওঠে তিনি তাঁর ভালোবাসার নারী , প্রিয় না – জানা বিষয়টি ঘরবাড়ি এবং পছন্দের শহরটিকে ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন । এই সমস্ত কিছুর সঙ্গে চিরবিচ্ছেদের এ ঘটনা কবিকে পীড়িত ও বিচলিত করে । অথচ মেয়েটি তা বুঝতে পারে না । মেয়েটির জীবনে প্রিয়তমের জন্য অন্তহীয় অপেক্ষার পালা এভাবেই নীরবে নেমে আসে ।

  1. কমন উল্টে পড়ল মন্দির থেকে টুকরো টুকরো হয়ে মন্দির থেকে কী উলটে পড়ল ? কী কারণে উলটে পড়েছিল ? 

Ans: পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতা অনুসারে মন্দির থেকে শান্ত হলুদ দেবতারা উলটে পড়েছিল । 

  আগ্নেয়পাহাড়ের মতো ভয়াবহ যুদ্ধ সমতলে ছড়িয়ে পড়েছিল । সেই যুদ্ধের লেলিহান শিখায় ধ্বংস হয়েছিল মন্দির ও বিগ্রহ । কবির ভাষায় ‘ শান্ত হলুদ ’ দেবতাদের দেবালয় টুকরো টুকরো হয়ে উলটে পড়ে । অর্থাৎ যুদ্ধের রক্তক্ষয়ী স্পর্শে মানুষের অন্তরমনের হাজার বছরের জীর্ণ বিশ্বাস টাল খায় । যুদ্ধ যেন দেবত্বের ধ্যানস্থ – নিষ্ক্রিয় অবস্থাকেও ভেঙে চুরমার করে । 

সংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৩]

১। ‘সব চূর্ণ হয়ে গেল, জ্বলে গেল আগুনে’। কোন কোন জিনিসের কথা বলা হয়েছে? এই পরিণতির কারণ কি? ১+২
উত্তর – আলোচ্য উক্তিটি-তে কবির ফেলে আসা প্রিয় বাড়ি,বারান্দা, ঝুলন্ত বিছানা, গোলাপি গাছ, চিমনি,প্রাচীন জলতরঙ্গ এইসব জিনিসের কথা বলা হয়েছে।
এই কবিতাটিতে কবির বিপ্লবী রূপের প্রকাশ ঘটেছে যেখানে কবি তার বাসস্থান ছেড়ে চলে যাচ্ছেন যুদ্ধে। ক্রমে সেই যুদ্ধে ধ্বংস হয়ে যায় কবির প্রিয় সকল বস্তু, যা তিনি ছেড়ে এসেছেন। তাই ধ্বংসাত্মক এই পরিণতির একমাত্র কারণ যুদ্ধ।

২। ‘সে জানত না আমি আর কখনো ফিরে আসব না’- ‘সে’ কে? আমি আর কখনো ফিরে আসব না বলার কারণ কি? (১+২)
উত্তর – আলোচ্য উক্তিটি তে সে বলতে এখানে বলা হয়েছে কবির প্রিয়তমা বা প্রিয়জনকে।
এই কবিতায় কবি দেশের জন্য বিপ্লবী হয়েছেন এবং বাড়ি ছেড়েছেন। কিন্তু কবি তার প্রিয়তমাকে তার ফিরে না আসার কথা জানাননি কারণ কবি তার ভবিষ্যৎ পরিণতির ব্যাপারে অবগত ছিলেন না। দেশকে স্বাধীনতা ও শোষণ থেকে মুক্ত করার জন্য কবি নিজের জীবন সমর্পন করেছেন। এইজন্যই কবি কবিতায় না ফিরে আসার কথা বলেছেন।

৩। ‘সব চূর্ণ হয়ে গেল, জ্বলে গেল আগুনে’- কবিতা অনুসরণে পরিস্থিতি বিবরণ দাও। (৩)
উত্তর -আলোচ্য উক্তিটি কবি পাবলো নেরুদার লেখা কবিতার অংশ। সেখানে কবি যুদ্ধে চলে যান। তারপরেই যুদ্ধের সেই নির্ঘণ্ট আসে শহরে হত্যালীলা শুরু হয়, যা থেকে শিশুরাও নিস্তার পায়না। চারিদিকে আগুন লেগে যায় সেই আগুনেই পুড়ে যায় মানুষের ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস এবং খন্ড-বিখন্ড হয় দেবতার মূর্তি। ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয় কবির সেই ফেলে আসা সুন্দর বাড়ি, ঝুলন্ত বিছানা, প্রিয় গোলাপ গাছ ও প্রাচীন জলতরঙ্গ সহ সবকিছু।

৪। ‘শান্ত হলুদ দেবতারা’- দেবতাদের শান্ত হলুদ বলা হয়েছে কেন? তাঁদের কি পরিণতি হয়েছিল? ২+১
উত্তর -আলোচ্য উক্তিটি কবি পাবলো নেরুদার লেখা অসুখী একজন কবিতার অংশ। এই কবিতায় মন্দিরের দেবতারা দীর্ঘকাল ধরে একই ভাবে পূজিত হচ্ছেন, প্রাচীনত্ব বোঝাতে হলুদ এবং দেবতার স্থবিরতা বোঝাতে শান্ত শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়েছে।যুদ্ধের আবহে যখন চারিদিকে আগুন ধরে গেল সেই যুদ্ধানলের শিকার হয়ে হাজার বছর ধরে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় থাকা মন্দিরের দেবতারা খণ্ড -বিখন্ড হয়ে ছিটকে পড়েছিল মন্দির থেকে।

৫। যুদ্ধকে ‘রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মতো’ বলা হয়েছে কেন?
উত্তর -প্রশ্নে উল্লিখিত লাইনটি কবি পাবলো নেরুদার লেখা অসুখী একজন কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
আমরা জানি আগ্নেয় পাহাড় থেকে লাভা নির্গমন হয়, সেই লাভায় ভস্মীভূত হয় সবকিছু। কবি যুদ্ধকে রক্তের আগ্নেয় পাহাড়ের সাথে তুলনা করেছেন, কারণ যুদ্ধ আগ্নেয় পাহাড়ের মতই ধ্বংসাত্মক। লাভা যেমন সব কিছুকে ভস্মীভূত করে দেয়, ঠিক একই ভাবে যুদ্ধ গ্রাস করে সভ্যতাকে, বলি হয় অসংখ্য প্রাণ। লাভা স্রোতের মত চারিদিকে বয়ে যায় রক্তের বন্যা।

 

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর | অসুখী একজন (কবিতা) পাবলো নেরুদা – মাধ্যমিক বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Bengali Asukhi Ekjon Question and Answer

1. ‘ আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায়।— অপেক্ষমান এই নারার মধ্যে দিয়ে কবি মানবীয় ভালোবাসার যে – অনির্বাণ রূপটিকে ফুটিয়ে তুলেছেন , তা পাঠ্য কবিতা অবলম্বনে আলোচনা করো । 

অথবা , যুদ্ধের নেতিবাচক ভাবের পাশাপাশি যে – মানবিক আবেদন ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় প্রকাশিত হয়েছে আলোচনা করো । 

Ans: পাবলো নেরুদা তাঁর ‘ অসুখী একজন ’ কবিতার অপেক্ষমান নারীর মধ্যে ভালোবাসার অনির্বাণ রূপটি ফুটিয়ে তুলেছেন । কথক তার প্রিয় নারীকে রেখে চলে যান বহুদূরে । সে জানত না যে , তার প্রিয়তম আর ফিরে আসবে না । সময় চলমান , জীবনও তার সঙ্গে চলমান । সপ্তাহ – বছর কেটে যায় । কথকের পদচিহ্ন ধুয়ে গিয়ে তার ওপর ঘাস জন্মায় । তবুও সে নারীর অপেক্ষা থামে না । এইভাবে অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে মুহূর্তগুলো একটার – পর – একটা পাথরের মতো ভারী হয়ে নেমে আসে মেয়েটির মাথার ওপর । 

 অপেক্ষমান নারীর প্রতীক্ষা অনির্বাণ রূপ – যুদ্ধ ও যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে পড়ল সে – শহরে । সে – আগুনের করাল গ্রাসের হাত থেকে বাদ গেল না শিশু কিংবা দেবতারাও । শান্ত হলুদ দেবতারা তাদের মন্দির থেকে টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়ে । কবির স্বপ্নের বাড়ি – ঘর সব চূর্ণ হয়ে যায় , পুড়ে যায় আগুনে । যেখানে শহর ছিল সেখানে চারদিকে ছড়িয়ে রইল কাঠকয়লা , দোমড়ানো লোহা , পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর রক্তের একটা কালো দাগ । কিন্তু এতসবের মধ্যেও কবির প্রিয়তমা বেঁচে রইল কারণ প্রেম শাশ্বত , তার মৃত্যু নেই । এই প্রেম মানুষকে মরতে মরতে বাঁচতে শেখায় । এই ধ্বংসের মধ্যেও বেঁচে থাকে মেয়েটির অনির্বাণ ভালোবাসা , বেঁচে থাকে ভালোবাসার মানুষের জন্য তার প্রতীক্ষা ।

2. ‘ তারপর যুদ্ধ এল ‘ — পাঠ্য কবিতায় কবি যুদ্ধের যে – আশ্চর্য করুণ ও মর্মস্পর্শী ছবি এঁকেছেন , তা নিজের ভাষায় আলোচনা করো । 

অথবা , শিশু আর বাড়িরা খুন হলো ।’— এই আশ্চর্য – সংহত ছবিটির মধ্যে যুদ্ধের পৈশাচিক বর্বরতা কীভাবে প্রকাশিত হয়েছে তা কবিতা অবলম্বনে লেখো । 

Ans: চিলিয়ান কবি পাবলো নেরুদা জীবনযুদ্ধের একজন লড়াকু সৈনিক । চোখের সামনে ঘটে যাওয়া দুই বিশ্বযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি । তাই পাঠ্য কবিতায় তিনি যুদ্ধের যে – করুণ ও মর্মস্পর্শী ছবি এঁকেছেন তা অত্যন্ত বাস্তবোচিত । ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতাটি আসলে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এক শাশ্বত ভালোবাসার গল্প । কবি যুদ্ধের বীভৎসতার মাঝে প্রেম যে অনির্বাণ তা দেখাতে গিয়ে খণ্ড খণ্ড যুদ্ধের চিত্র তুলে ধরেছেন । কবি তাঁর প্রিয়তমাকে অপেক্ষায় রেখে দূরে চলে যাওয়ার পর একদিন ভয়াবহ বীভৎসতা নিয়ে যুদ্ধ নেমে এল । মানুষ আশ্রয়হীন হল । নৃশংসতার হাত থেকে রেহাই পেল না শিশুরাও । দাবানলের মতো যুদ্ধের আগুন সমতলে ছড়িয়ে পড়ল । ধ্বংস হল দেবালয় আর তার ভেতরের দেবতারা । তাদের দেবত্ব নষ্ট হল । মানুষকে তারা স্বপ্ন দেখাতে ব্যর্থ হল । কবির সেই মিষ্টি বাড়ির ঝুলন্ত বিছানা , গোলাপি গাছ , প্রাচীন জলতরঙ্গ সব চূর্ণ ও ভস্ম হল যুদ্ধের আগুনে । ঠিক একইভাবে শহরটাও পুড়ে গেল । বীভৎসতার চিহ্ন নিয়ে ছড়িয়ে – ছিটিয়ে পড়ে রইল কাঠকয়লা , দোমড়ানো লোহা , পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর রক্তের একটা কালো দাগ । শুধু সেই ধ্বংসস্তূপে বেঁচে থাকল মেয়েটির অপেক্ষা ও অবিচল ভালোবাসা ।

3. ” আমি তাকে ছেড়ে দিলাম কোন কবিতার অংশ ? ‘ আমি ‘ কে ? তাঁর ‘ ছেড়ে আসার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো । 

Ans: চিলিয়ান কবি পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতা থেকে উদ্ধৃত অংশটি গৃহীত । তাৎপর্য । → পাঠ্য কবিতায় ‘ আমি ‘ বলতে কবিকে বোঝানো হয়েছে । কবি এখানে কথকের ভূমিকায় স্মৃতিচারণার মাধ্যমে বর্তমানে এসে উপস্থিত হয়েছেন । কবির ব্যক্তিজীবনের ছায়া পড়েছে কবিতাটিতে । কখনও কর্মসূত্রে কখনও – বা রাজনৈতিক কারণে তাঁকে জীবনে বহুবার স্বদেশভূমি ছেড়ে আত্মগোপন করতে , কিংবা নির্বাসিত হতে হয়েছে । সেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার যন্ত্রণা ও অনুভূতি পাঠ্য কবিতার কাব্যগুণে একটা সর্বজনীন রূপ পেয়েছে । কবি জীবিকা কিংবা জীবনের তাগিদে স্বদেশভূমি ত্যাগ করে প্রিয়তমাকে অপেক্ষায় রেখে বহুদুরে চলে যান । কবি যে ফিরে আসবেন না তা অপেক্ষারতা প্রিয়তমার জানা ছিল না । কবি দেশত্যাগ করা সত্ত্বেও প্রিয়তমার জীবন আপন গতিতেই চলে । এভাবেই সপ্তাহ থেকে বছর কেটে যায় । কবির পদচিহ্ন বৃষ্টিতে ধুয়ে যায় , সেখানে ঘাস জন্মায় । বিচ্ছেদের বছরগুলো একটার পর একটা পাথরের মতো মাথায় নেমে আসে । এরপর যুদ্ধ শুরু হয় , ধ্বংস হয় ঘরবাড়ি , মৃত্যু হয় শিশুদেরও । ক্রমে ধ্বংসের সেই আগুনে দেবালয় , কবির স্বপ্নের বাড়ি এবং শহর সব কিছু ছারখার হয়ে যায় । তবু এই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বেঁচে থাকে মেয়েটির ভালোবাসা । তার অপেক্ষা , চিরন্তন ভালোবাসা অবিনাশী যা ধ্বংসস্তূপে আলোর মতো মানবহৃদয়ের বিশুদ্ধতাকে জ্বালিয়ে রাখে । 

4. যেখানে ছিল শহর’— ‘ যেখানে ‘ শব্দটি প্রয়োগ করার কারণ কা ? শহরটির কী হয়েছিল ?

Ans: উদ্ধৃতিটি পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ’ কবিতার অংশ । কথক বা কবির বাসভূমি যে শহরে , এক্ষেত্রে সেখানকার কথা বলা হয়েছে । এই শহরটি কবি বা কথকের কাছে স্মৃতিবিজড়িত , কারণ এখানেই তিনি তার প্রিয় নারীটিকে অপেক্ষমান রেখে বহুদুরে পাড়ি দিয়েছিলেন । কবির এই বাসভূমি , প্রিয় মুখের সান্নিধ্যে , প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে , স্নিগ্ধতায় ও লাবণ্যে পরিপূর্ণ ছিল । তখনও যুদ্ধের আঘাত এই শহরকে স্পর্শ করতে পারেনি বোঝাতেই কবি ‘ যেখানে ‘ শব্দটি প্রয়োগ করেছেন । 

 যুদ্ধের ভয়ংকর নিষ্ঠুরতায় কবির শহর ধ্বংসের মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়ায় । যুদ্ধের আঘাতে সমস্ত সমতলজুড়ে আগুন লাগল । দেবালয়ও তার হাত থেকে রক্ষা পেল না । মানুষের মধ্যেকার যে – দেবত্বের যুদ্ধ পরবর্তী মিথ ছিল তা ধ্বংস হয়ে গেল । সেইসঙ্গে নিশ্চিহ্ন হল কবির মধুর স্মৃতিবিজড়িত সেই স্বপ্নের বাড়িটিও । কবির বারান্দায় যেখানে ঝুলন্ত বিছানায় তিনি ঘুমিয়েছিলেন , তার প্রিয় গোলাপি গাছ , ছড়ানো করতলের মতো পাতা চিমনি ও প্রিয় জলতরঙ্গ সবই ধ্বংস হল যুদ্ধের আগুনে । গোটা শহরটাই পুড়ে গেল । সেখানে ছড়িয়ে – ছিটিয়ে পড়ে রইল কাঠকয়লা , দোমড়ানো লোহা , মৃত পাথরের বীভৎস মাথা ও রক্তের একটা কালো দাগ । কবির প্রিয় শহরের প্রতিচ্ছবি , যুদ্ধের বীভৎসতা— মানুষের লোভ , হিংসা এবং বর্বরতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে , যা পাঠককে স্তম্ভিত করেছে ।

5. পাঠ্য কবিতাটি অতৃপ্ত মানবহৃদয়ের একান্ত আতির ‘ অসুখী একজন কবিতা অবলম্বনে আলোচনা করো । 

অথবা , ‘ অসুখী একজন কবিতায় বিশ্বশান্তির বার্তা নিহিত —– আলোচনা করো । 

অথবা , ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতাটিকে যুদ্ধবিরোধী কবিতা বলা যায় । কিনা – বিশ্লেষণ করো । 

Ans: পাবলো নেরুদার কবিতা ‘ অসুখী একজন’— এই বাঞ্ছনাময় নামকরণ থেকেই বোঝা যায় যে , কবিতাটি অতৃপ্ত কোনো বাসনার প্রতিচ্ছবি । অনেক সময় কবি – সাহিত্যিকের ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিচ্ছবি যা সর্বজনের ভাবনার সঙ্গে মিলে যায় তা সাহিত্যে প্রতিফলিত হয় । আমাদের পাঠ্য কবিতাটিতেও তা ঘটেছে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই । 

 প্রিয় বিচ্ছেদ – অতৃপ্ত হৃদয়াতি কবিতার কথক অর্থাৎ কবি চরম অতৃপ্তি নিয়ে কোনো এক অজ্ঞাত কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন । কিন্তু তাঁর প্রিয় নারী তাঁর অপেক্ষায় থাকে , কেন – না সে জানে না যে , তার প্রিয়তম আর ফিরে আসবে না । কবিতার শেষ পর্যন্ত এই অপেক্ষাকেই আমরা দেখেছি । সময় অতিক্রান্ত হয় , আবছা হয় স্মৃতি , অপেক্ষার বছরগুলো ভারী হয় । প্রাণঘাতী যুদ্ধের বীভৎসতা তাকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে । দেবালয় , শহর সব কিছু ধ্বংস হওয়া সত্ত্বেও অতৃপ্ত হৃদয়ে সেই মেয়েটি অপেক্ষার আলোকশিখা দু – হাত দিয়ে আড়াল করে দাঁড়িয়ে থাকে । অন্যদিকে কবিও অতৃপ্ত বাসনা নিয়ে ফিরে আসতে চান তাঁর প্রতীক্ষমান ভালোবাসার কাছে । সব কিছু ধ্বংসের মাঝেও কবির হৃদয়ে অপেক্ষারতা নারীটির মৃত্যু নেই । চিরায়ত অতৃপ্ত মানবাৰ্তিই এই নারী । কবির অতৃপ্ত মন তার কাছে বার বার ফিরে যেতে চায় বলেই তিনি বলে ওঠেন , ‘ আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায় ‘ । স্পষ্টতই কবিতাটিতে কবি যুদ্ধবিরোধী মনোভাব নিয়ে বিশ্বশান্তির বার্তা প্রেরণ করেছেন পাঠকের কাছে ।

6. আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায় । পাঠ্য ‘ অসুখী একজন ’ কবিতা অবলম্বনে উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য আলোচনা করো । 

অথবা , ‘ আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায় ।’— অপেক্ষারত সেই মেয়েটির মধ্য দিয়ে কবি স্বদেশপ্রেম তথা মানবপ্রেমের যে – শাশ্বত রূপ তুলে ধরেছেন , তা আলোচনা করো । 

অথবা , অপেক্ষারত প্রিয়জনের কাছে ফিরতে না – পারার যে – বেদনা ‘ অসুখী একজন কবিতায় ব্যক্ত হয়েছে আলোচনা করো । 

Ans: কবি পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় মানবমনের এক চিরন্তন সত্য প্রকাশ পেয়েছে । কবি যেন কোনো এক নারীকে তাঁরই অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে দূরে চলে যান । সেই অপেক্ষারতা যদিও জানত না যে , কবি আর কখনও ফিরবেন না । 

 কবিতার আরম্ভের বিচ্ছেদদৃশ্যে লুকিয়ে থাকে দুজন নরনারীর চিরকালীন প্রত্যাশা ও অপেক্ষার বীজ । যদিও জীবন তার উদ্ধৃতাংশের তাৎপর্য নিজের গতিতে চলতে থাকে । টুকরো টুকরো প্রাত্যহিকতায় সপ্তাহ আর বছর কেটে যায় । বৃষ্টিতে কবির পদচিহ্ন ধুয়ে , ‘ ঘাস জন্মালো রাস্তায় ’ । কবির অস্তিত্ব অনেকের মন থেকেই একটু একুট করে মুছে যেতে থাকে । কিন্তু পাথরের মতো ভারী , গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণায় সেই অপেক্ষারতা নারীর দিন কাটে । এরপর আসে যুদ্ধ । সমতলে আগুন ধরায় । ধ্বংস হয় মানুষের স্বপ্নের আশ্রয় । রক্ষা পায় না শিশুরাও । এতদিনকার রক্ষণশীলতার প্রতীক মন্দির আর মন্দিরের দেবমূর্তিগুলো ধূলিসাৎ হয় । কবির মিষ্টি বাড়িটিও ধ্বংস হয় । যুদ্ধের আগুনে ভস্মীভূত হয় সমস্ত শহর । যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকে কাঠকয়লা , দোমড়ানো লোহা , মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা ও রক্তের শুকনো কালো দাগ । শুধু এই যুদ্ধের বীভৎসতা ছুঁতে পারে না কবির সেই প্রিয় অপেক্ষারতার ভালোবাসাকে । ধ্বংস ও বিনাশের হাজার লেলিহান শিখা তাকে কোনোমতেই ধ্বংস করতে পারে না । সময়ান্তরে প্রবহমান মানবহৃদয়ের যন্ত্রণা , আকুতি ও আর্তিই সেই মেয়েটির মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে , অনুভূতির অবিনাশী প্রকাশ হিসেবে ।

7. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতাটির নামকরণের সার্থকতা বিচার করো । ‘ 

Ans: নামকরণের সার্থকতা ‘ অংশটি দ্যাখো ।

শিশু আর বাড়িরা খুন হলো । 

8. শিশু ’ আর ‘ বাড়িরা ’ কীভাবে খুন হল ? ‘ খুন ’ শব্দটি ব্যবহারের সার্থকতা বিচার করো ।

Ans: আলোচ্য পঙ্ক্তিটি পাবলো নেরুদার লেখা ‘ অসুখী একজন ’ কবিতাটি থেকে গৃহীত । ভয়াবহ এক যুদ্ধে কথকের শহরের শিশু আর গৃহস্থ মানুষেরা খুন হল । কবিতায় ‘ বাড়িরা ‘ বলতে বাড়ির মানুষদের বোঝানো হয়েছে । 

 খুন শব্দ ব্যবহারের সার্থকতা কথক তাঁর প্রিয়তমাকে অপেক্ষায় রেখে দূরে চলে যাওয়ার পর বছর কেটে গেল । একসময় শুরু হল ভয়ানক যুদ্ধ । যুদ্ধের আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে গেল কথকের প্রিয় শহর । ভেঙে পড়ল মন্দির আর মন্দিরের ভেতরের দেবমূর্তি । এমনকি সেই যুদ্ধের হিংস্রতা থেকে রক্ষা পেল না নিরপরাধ শিশুরাও । শহরের বাড়িগুলোও ধ্বংস হল একে একে । এখানে কবি ‘ বাড়িরা ‘ শব্দটি প্রয়োগের মাধ্যমে ঘরবাড়ির মতো জড়পদার্থেও প্রাণের সঞ্চার করেছেন । শিশুদের মতো বাড়িও যে মানুষের পরম আদরের , মমতার সেটা বোঝাতেই কবি ‘ বাড়িরা ’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন । যুদ্ধজনিত কারণে মৃত্যুকে সাধারণভাবে ‘ খুন ‘ বলা হয় না । কিন্তু এখানে কবি ইচ্ছাকৃত ভাবেই ‘ খুন ’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন । কিছু যুদ্ধবাজ মানুষ স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে যুদ্ধ বাধায় । কিন্তু তার মাশুল গুনতে হয় দেশের অগণিত সাধারণ মানুষকে । সেই ভয়ানক ধ্বংসলীলায় মানুষ হারায় তার পরিবার , প্রিয়জন , এমনকি শেষ আশ্রয়টুকুও । যুদ্ধের এই ভয়ংকর পরিণতিকে ফুটিয়ে তুলতে কবি এই কবিতায় ‘ খুন ‘ শব্দটি যথাযথভাবে ব্যবহার করেছেন । 

9. তারপর যুদ্ধ এল— ‘ তারপর ’ বলতে কোন সময়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে ? যুদ্ধের পরিণতির কী হয়েছিল ।

Ans: কবি পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবিতার কথক প্রিয়তমাকে নিজ বাসভূমিতে ফেলে রেখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন । অথচ জীবন তার নিজস্ব ছন্দে চলতে থাকে । কিন্তু প্রিয় নারীটির অপেক্ষার যন্ত্রণা ক্রমশ দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয় । বছরের পর বছর কাটে । এমন সময় আসে যুদ্ধ । ঘটনা পরস্পরার এই ক্রমটিকে ফুটিয়ে তুলতেই এখানে কবি ‘ তারপর ‘ শব্দটি ব্যবহার করেছেন । 

যুদ্ধের ভয়াবহ বীভৎসতায় মানুষ আশ্রয়হীন হল । নৃশংসতার হাত থেকে রেহাই পেল না শিশুরাও । দাবানলের মতো যুদ্ধের আগুন সমতলে যুদ্ধের পরিণতি ছড়িয়ে পড়ল । ধ্বংস হল দেবালয় আর তার ভেতরের দেবতারা । তাদের দেবত্ব নষ্ট হল । মানুষকে তারা স্বপ্ন দেখাতে ব্যর্থ হল । কবির সেই মিষ্টি বাড়ির ঝুলন্ত বিছানা , গোলাপি গাছ , প্রাচীন জলতরঙ্গ সব চূর্ণ ও ভস্ম হল যুদ্ধের আগুনে । ঠিক একইভাবে শহরটাও পুড়ে গেল । বীভৎসতার চিহ্ন নিয়ে ছড়িয়ে – ছিটিয়ে পড়ে রইল কাঠকয়লা , দোমড়ানো লোহা , পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর রক্তের একটা কালো দাগ । শুধু সেই ধ্বংসস্তূপে বেঁচে থাকল মেয়েটির অপেক্ষা ও অভিল ভালোবাসা । 

10. গছে আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায় ! — ‘ অসুধী একজন ‘ কবিতার মেয়েটি কে ? মেয়েটির অপেক্ষার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করো ।

Ans: 6. নং প্রশ্নের উত্তর দ্যাখো । 

11. ‘অসুখী একজন — কবিতায় কাকে অসুখী বলা হয়েছে ? তার অসুখী হওয়ার নেপথ্যে কোন্ কারণ রয়েছে ?

Ans: পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় প্রিয়তমের জন্য অসুখী কে ? অপেক্ষারতা মেয়েটিকে অসুখী বলা হয়েছে । আবার ফিরে আসতে উৎসুক কবি – হৃদয়ও এক্ষেত্রে একইভাবে অসুখী । 

 একদিন কবি স্বদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন । তাঁর এই নিষ্ক্রমণ চিরদিনের জন্য । অথচ অপেক্ষমান প্রিয়তমার এ সত্য জানা নেই । যদিও জীবন নিজস্ব ছন্দে বয়ে চলে । দৈনন্দিনতার গতি কবির স্মৃতিকে ক্রমশ ফিকে অসুখী হওয়ার কারণ করে তোলে । বছর গড়ায় । কিন্তু ভালোবাসার মেয়েটির কাছে এই অন্তহীন অপেক্ষা গভীর ও ভারী পাথরের আঘাতের মতোই শ্বাসরুদ্ধকারী হয়ে ওঠে । এরপর যুদ্ধের | বীভৎসতা সমস্ত সমতলকে গ্রাস করে । ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয় দেবতা ও দেবালয় । ধ্বংসের লেলিহান আগুনে ক্রমে জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যায় । কবির প্রিয় বাড়ি , বারান্দার ঝুলন্ত বিছানা , গোলাপি গাছ , করতলের মতো পাতা চিমনি , প্রাচীন জলতরঙ্গ— এই সব কিছু । মানুষ তার আশ্রয় হারায় । যুদ্ধের নৃশংসতায় শিশুরাও খুন হয় । শহরের বদলে সেখানে ছড়িয়ে থাকে কাঠকয়লা , দোমড়ানো লোহা , পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর রক্তের | কালো দাগ । শুধু অপেক্ষারতা সেই মেয়েটিকে কোনো বিনাশ স্পর্শ করতে পারে না । সমূহ ধ্বংস আর বর্বরতার মধ্যেও অসুখী মেয়েটি তার ভালোবাসার আর্তি ও আকুতিকে অনির্বাণ দীপশিখার মতো জ্বালিয়ে রাখে ।

 

রচনাধর্মী প্রশ্ন (LA)

[প্রতিটি প্রশ্নের প্রশ্নমান ৫]

১। যেখানে ছিল শহর / সেখানে ছড়িয়ে রইল কাঠকয়লা।– অসুখি একজন কবিতা অবলম্বনে শহরের এই পরিণতি কীভাবে হল লেখো।
উত্তর – আলোচ্য উক্তিটি কবি পাবলো নেরুদার লেখা ও নবারুণ ভট্টাচার্য-তর্জমিত অসুখী একজন থেকে নেওয়া হয়েছে। কবিতায় কবি তার প্রিয়জনকে অপেক্ষায় রেখে, তার প্রিয় শহর ছেড়ে অনেক দূরে যুদ্ধে চলে যান। বছরের পর বছর অতিবাহিত হয় কিন্তু কবির আর ঘরে ফেরা হয় না । এরপর যুদ্ধ আসে রক্তের আগ্নেয় পাহাড়ের রূপে। সেই যুদ্ধে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ যায় মানুষের, ধ্বংস হয় শহর – সভ্যতা। কবি তাঁর বর্ণনায় বলছেন –

“যেখানে ছিল শহর
সেখানে চিড়িয়ে রইল কাঠকয়লা…..”

শুধু তাই নয়, মানুষের বিশ্বাসের প্রতীক মন্দির থেকে দেবতার মূর্তি খন্ড খন্ড হয়ে খসে পড়ে অর্থাৎ মানুষের ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসও আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। কবির সেই ফেলে আসা সুন্দর মুহূর্তগুলি, স্মৃতির স্থানগুলি ও জিনিসপত্র ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। যা ছিল সাজানো শহর তা পরিণত হয় কাঠ কয়লার ধ্বংসস্তুপে। চারিদিকে আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না, শুধু ধ্বংসের প্রমাণ হিসাবে থেকে যায় রক্তের কালো দাগ। যেখানে আগে মানুষের সমাগম ছিল সেখানে এখন রক্তাক্ত হয়ে পড়ে থাকে শুধু নিথর শবদেহ ।

২। অসুখী একজন কবিতায় কাকে অসুখী বলা হয়েছে? তার অসুখী হওয়ার নেপথ্যে কোন কারণ রয়েছে? (১+৪)
উত্তর – অসুখী একজন কবিতায় কবির প্রিয়তমা-কে বা ‘সেই মেয়েটিকে’ অসুখী বলা হয়েছে, যাকে কবি যুদ্ধের আগে অপেক্ষারত অবস্থায় রেখে এসেছিলেন।
বিখ্যাত কবি পাবলো নেরুদার লেখা “Extravagaria ” গ্রন্থের ‘La Desdichada’ কবিতাটি ‘অসুখী একজন’ নামে অনুবাদ করেন নবারুণ ভট্টাচার্য । কবি এখানে অপেক্ষারত মেয়েটিকে একটি প্রতীক হিসাবে ব্যবহার করেছেন। এই কবিতায় কবি একজন বিপ্লবী, তিনি দেশের জন্য প্রিয় শহর – প্রিয় মানুষ, প্রিয় স্মৃতি ছেড়ে যুদ্ধে চলে যাচ্ছেন। কবি জানেন না যে তিনি আর তাঁর প্রিয় শহর, মানুষ এবং স্মৃতির কাছে ফিরে আসতে পারবেন কিনা। কারণ এরপর যুদ্ধ আসবে, যুদ্ধের বিভীষিকাময় গ্রাসে ধ্বংস হবে শহর – সভ্যতা। প্রাণ যাবে অসংখ্য শিশু – বৃদ্ধ মানুষের। ধ্বংসস্তূপের চারিপাশে পড়ে থাকবে কাঠ – কয়লার শহর, মৃত-দেহস্তূপ, ভেঙে-যাওয়া দেবতার মূর্তির ধ্বংসাবশেষ আর শুকিয়ে যাওয়া রক্তের-কালোদাগ। কিন্তু চারপাশের এই পরিস্থিতির মাঝেও আশার প্রতিরুপ ‘সেই মেয়েটি’ অসুখী হৃদয়ে দীর্ঘ সময়ের ধরে অপেক্ষা করেন কথকের ফিরে আসার জন্য।

 

৩। ‘শিশু আর বাড়িরা খুন হলো’। এই আশ্চর্য সংহত ছবিটির মধ্যে যুদ্ধের পৈশাচিক বর্বরতা কীভাবে প্রকাশিত হয়েছে তা কবিতা অবলম্বনে লেখো।
উত্তর – বিখ্যাত কবি পাবলো নেরুদার লেখা “Extravagaria ” গ্রন্থের ‘La Desdichada’ কবিতাটি ‘অসুখী একজন’ নামে অনুবাদ করেন নবারুণ ভট্টাচার্য। এই কবিতা থেকেই আলোচ্য বিষয়েটি নেওয়া হয়েছে। এই কবিতায় কথকের চোখে ধরা দিয়েছে এক মর্মান্তিক ঘটনা-যুদ্ধ । কবির ভাষায় যুদ্ধ হল রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মতো যা শুধু ধ্বংস করে, কেড়ে নেয় অসংখ্য প্রাণ। এই যুদ্ধের কারণেই কত সাধারণ মানুষকে প্রাণ হারাতে হয় ঠিক যেমন কবি লিখেছেন এই কবিতায়…

‘শিশু আর বাড়িরা খুন হল’

এই যুদ্ধে শুধু বিপ্লবীরাই মৃত্যু বরণ করেন না, তাদের সাথে সাধারণ মানুষকেও খুন হতে হয়, চারিদিকে শুধুমাত্র চলতে থাকে হত্যালীলা। এই যুদ্ধ এমনই নৃশংস-বর্বর যা কাউকেই ছাড়ে না। সেই যুদ্ধে ধ্বংস হয়ে যায় কবির প্রিয় বাড়ি, বারান্দায় ঝুলন্ত বিছানা,প্রিয় গোলাপ গাছ ও প্রাচীন জলতরঙ্গ। এছাড়া যুদ্ধে ধবংস হয় শহর, মন্দির । মানুষের বিশ্বাস ভেঙ্গে দেবতারা টুকরো হয়ে ছিটকে পড়ে মন্দিরের বাইরে। দোমড়ানো লোহা ও কাঠকয়লার মাঝে শুধুই ফুটে ওঠে রক্তের কালো দাগ।

=========================

অসুখী একজন (কবিতা) পাবলো নেরুদা 

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | অসুখী একজন (কবিতা) পাবলো নেরুদা – মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন | Madhyamik Bengali Suggestion : 

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবির স্বপ্নবিজড়িত বাড়ির পরিবেশটি কেমন ছিল ?

Answer : ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবির স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটিতে গোলাপি গাছ , ছড়ানো করতলের মতো পাতা চিমনি ও প্রাচীন জলতরঙ্গ যেন এক সাবেকি ইমারতের স্নিগ্ধ পূর্ণতাকে ফুটিয়ে তোলে ।

  1. ‘ অসুখী একজন কবিতায় যুদ্ধে কবির বাড়ির অবস্থা কী হয়েছিল ?

Answer : ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় , যুদ্ধে কবির স্বপ্ন ও স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি ভেঙে , গুঁড়িয়ে , আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে গিয়েছিল ।

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবির বাড়িটি ছাড়াও আর কী ধ্বংসের উল্লেখ পাওয়া যায় ?

Answer : ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবির বাড়িটি ছাড়াও সম্পূর্ণ শহরটি ধ্বংসের উল্লেখ পাওয়া যায় ।

  1. ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় যেখানে শহর ছিল সেখানে যুদ্ধের ফলে কী কী ছড়িয়ে রইল ?

Answer : ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় যেখানে শহর ছিল , সেখানে যুদ্ধের পর ছড়িয়ে রইল কাঠকয়লা , দোমড়ানো লোহা , মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর পোড়া শুকনো রক্তের কালো দাগ ।

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় যেখানে শহর ছিল সেখানে । যুদ্ধের ফলে কী কী ছড়িয়ে রইল । 

Answer : ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় বিপর্যয় ও বিধ্বংসের বিকৃত রূপ , বহু ক্ষয়ক্ষতি ও মৃত্যু বোঝাতে কবি এই চিত্রকল্পের প্রয়োগ ঘটিয়েছেন । যুদ্ধের বীভৎসভায় যেন রক্তও তার স্বাভাবিক রূপ হারিয়েছে ।

  1. ‘ আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায় / – ‘ আর ’ শব্দটি ব্যবহারের কারণ কী ?

Answer : পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় যুদ্ধ – দাঙ্গা – হিংসার আগুন পেরিয়ে কথকের প্রিয়তমার ভালোবাসা ও চিরন্তন অপেক্ষাকে বোঝাতেই শেষ পঙ্ক্তিতে ‘ আর ‘ শব্দটির ব্যবহার হয়েছে ।

  1. ‘ রক্তের একটা কালো দাগ । কোথায় রক্তের একটা কালো দাগ দেখা গিয়েছিল ? 

Answer : যুদ্ধের ফলে ধ্বংসপ্রাপ্ত শহরে কাঠকয়লা , দোমড়ানো লোহা , মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথার সঙ্গে রক্তের কালো দাগ দেখা গিয়েছিল ।

  1. সমস্ত সমতলে ধরে গেল আগুন – কেন এমন হয়েছিল ?

Answer : ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতা অনুসারে আগ্নেয়পাহাড়ের মতো ভয়াবহ যুদ্ধ আসার ফলে সমস্ত সমতলে আগুন ধরে গিয়েছিল ।

  1. ‘ বৃষ্টিতে ধুয়ে দিল আমার পায়ের দাগ — পায়ের দাগ ধুয়ে দেওয়া বলতে কী বোঝ ?

Answer : নেরুদার ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় বৃষ্টিতে পায়ের দাগ ধুয়ে যাওয়া বলতে স্ববাসভূমিতে কথকের স্মৃতি ক্রমশ ফিকে ও মলিন হয়ে আসার কথা বলা হয়েছে ।

  1. ‘ সব চূর্ণ হয়ে গেল , —কী কী চূর্ণ হয়ে গেল ? 

Answer : ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবির মিষ্টি বাড়ি , বারান্দার ঝুলন্ত বিছানা , গোলাপি গাছ , ছড়ানো করতলের মতো পাতা চিমনি আর প্রাচীন জলতরঙ্গ যুদ্ধে এইসব চূর্ণ হয়ে আগুনে জ্বলে গিয়েছিল ।

  1. ‘ সেখানে ছড়িয়ে রইল — কী ছড়িয়ে ছিল । 

Answer : নেরুদার ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতানুসারে ধ্বংসপ্রাপ্ত শহরে ছড়িয়ে ছিল কাঠকয়লা , দোমড়ানো লোহা , মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর রক্তের একটা কালো দাগ ।

  1. ‘ হেঁটে গেল গির্জার এক নান- ‘ নান ‘ কাদের বলা হয় ? 

Answer : গির্জায় বসবাসকারী খ্রিস্টান সন্ন্যাসিনীদের ‘ নান ‘ বলা হয় ।

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতাটির অনুবাদক কে ? 

Answer : ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতাটির অনুবাদক নবারুণ ভট্টাচার্য ।

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় যুদ্ধের ছবিটি কীভাবে ফুটে উঠেছে ।

Answer : কবি পাবলো নেরুদা ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় যুদ্ধের ভয়াবহতাকে রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন ।

  1. ” সেই মেয়েটির মৃত্যু হলো না । – কোন্ মেয়েটির ?

Answer : নেরুদার ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবির জন্য তাঁর স্ববাসভূমিতে অপেক্ষারতা মেয়েটির ভয়াবহ যুদ্ধেও মৃত্যু হল না ।

  1. ‘ সেই মিষ্টি বাড়ি , সেই বারান্দা — সেই বারান্দাটির পরিচয় দাও ।

Answer : ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবির মিষ্টি বাড়ির বারান্দাটিতে ছিল একটি ঝুলন্ত বিছানা ; যেখানে তিনি একদা ঘুমিয়েছিলেন ।

  1. ‘ তারপর যুদ্ধ এল — যুদ্ধ আসার ফল কী হয়েছিল ?

Answer : নং প্রশ্নের উত্তর দ্যাখো ।

  1. ‘ তারপর যুদ্ধ এল — যুদ্ধ এল কীসের মতো ? 

Answer : নেরুদার ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতা অনুসারে ‘ রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো ‘ যুদ্ধ এসেছিল । অর্থাৎ এখানে যাবতীয় ধ্বংস ও বিনাশের প্রতীক হয়ে ওঠে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ।

  1. ‘অসুখী একজন কবিতায় কবি অপেক্ষারতাকে ছেড়ে কোথায় চলে গেলেন ? 

Answer : ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবি অপেক্ষারতাকে ছেড়ে চিরদিনের জন্য বহুদুরের কোনো এক অজ্ঞাত স্থানে চলে গেলেন ।

  1. ‘ সেই মেয়েটির  মৃত্যু হলো না । -কেন মেয়েটির মৃত্যু হল না ?

Answer : ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় যুদ্ধ , মৃত্যু ও হিংসা যেন মেয়েটিকে স্পর্শ করতে পারে না । কারণ ভালোবাসা অবিনাশী । তাই সে নিজস্ব ধারায় সময় থেকে সময়ান্তর অতিক্রম করেও অমলিন থাকে ।

  1. ‘ আমি তাকে ছেড়ে দিলাম — ‘ আমি ’ কে ? 

Answer : নবারুণ ভট্টাচার্য অনূদিত পাবলো নেরুদা রচিত ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় ‘ আমি ‘ বলতে স্বয়ং কবি নিজেকে তথা কবিতার কথককে বুঝিয়েছেন ।

  1. কবির অপেক্ষায় কে দাঁড়িয়েছিল ?

Answer : ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবি যেদিন নিজ বাসভূমি ছেড়ে চলে যান , সেদিন তাঁর প্রিয় নারীটি দরজায় অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিল ।

  1. কথকের অপেক্ষায় কে , কোথায় দাঁড়িয়েছিল ?

Answer : প্রখ্যাত চিলিয়ান কবি পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় কথকের অপেক্ষায় তার প্রিয়তমা গভীর প্রত্যাশা নিয়ে দরজায় দাঁড়িয়েছিল ।

  1. অসুখী একজন ’ কবিতায় কথক অপেক্ষারতাকে ছেড়ে কোথায় চলে গেলেন ? 

Answer : পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় কথক দরজায় অপেক্ষারতা প্রিয়জনকে দাঁড় করিয়ে রেখে বৃহত্তর স্বার্থে দূর থেকে দূরে কোনো স্থানে চলে গেলেন ।

  1. ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় কে ফিরে আসার কথা জানত না ?

Answer : পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় দরজায় অপেক্ষারতা কথকের প্রিয়তমা সেই নারীটি জানত না যে , তার মনের মানুষ আর কখনও ফিরে আসবে না ।

  1. ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় কবির / কথকের চলে যাওয়া সত্ত্বেও সমাজজীবনের নিজের গতিতে চলার কী কী অনুষঙ্গ কবিতায় উল্লিখিত আছে ?

Answer : নেরুদার ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় কথকের চলে যাওয়া সত্ত্বেও সমাজজীবনের আপন গতিতে বয়ে চলার অনুষঙ্গগুলি হল — ‘ একটি কুকুর চলে গেল , হেঁটে গেল গির্জার এক নান ‘ ।

  1. ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় কবির পায়ের দাগ কীসে ধুয়ে গিয়েছিল ?

Answer : নেরুদার ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় কবির পায়ের দাগ বৃষ্টিতে ধুয়ে গিয়েছিল । স্মৃতির মলিনতা অর্থে উপমাটি ব্যবহৃত হয়েছে ।

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবি পরিত্যক্ত রাস্তায় কী জন্মানোর কথা বলেছেন ? 

Answer : ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় পরিত্যক্ত রাস্তায় কবি ‘ ঘাস ’ জন্মানোর কথা বলেছেন । সময়ের সঙ্গে স্মৃতির ফিকে হয়ে যাওয়া বোঝাতেই শব্দগুলি ব্যবহার করা হয়েছে । ২. নেমে এল তার মাথার ওপর ।

  1. কার মাথার ওপর কী নেমে আসার কথা বলা হয়েছে ?

Answer : পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কথকের জন্য অপেক্ষা করতে থাকা তার প্রিয়তমার মাথার ওপর পাথরের মতো ভারী একটার পর একটা বছর নেমে এল ।

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবি ‘ পাথরের মতো ” বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন ?

Answer : পাবলো নেরুদা তাঁর ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কথকের জন্য তাঁর প্রেমিকার অন্তহীন অপেক্ষা আর দুঃসহ বেদনাকে পাথরের গুরুভারের সঙ্গে তুলনা করেছেন ।

  1. তারপর যুদ্ধ এল — কোন কবিতার লাইন ? ‘ যুদ্ধ এল – এর অর্থ কী ?

Answer : তারপর যুদ্ধ এল ’ — এটি ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতার পক্তি । এখানে ‘ যুদ্ধ এল ‘ বলতে বোঝানো হয়েছে , কথকের দেশে যুদ্ধ শুরু হল । আর মানুষ , শহর ও জনপদ সব জ্বলেপুড়ে ছারখার হয়ে গেল ।

  1. ‘ অসুখী একজন কবিতায় যুদ্ধের ছবিটি কীভাবে ফুটে উঠেছে ?

Answer : ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবির ভাষায় যুদ্ধ এসেছে — ‘ রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো । অর্থাৎ ফুটে উঠেছে ধ্বংস ও মৃত্যুর রক্তাক্ত ভয়াবহতার ছবি ।

  1. শিশু আর বাড়িরা খুন হলো।- ‘ শিশু আর বাড়িরা খুন হয়েছিল কেন ?

Answer : উত্তর ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবি যুদ্ধে , শিশু ও বাড়িদের খুন বা হওয়ার কথা বলেছেন । শিশুরাও এই যুদ্ধের হাত থেকে রেহাই পায় না , ধূলিসাৎ হয় মানুষের আশ্রয় ।

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় উল্লিখিত যুদ্ধে অপেক্ষাতুরা মেয়েটির কী হল ?

Answer : ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় উল্লিখিত ভয়াবহ যুদ্ধের বিধ্বংসী মত্ততা  ে অতিক্রম করে শুধু আশ্চর্যজনকভাবে বেঁচে রইল , সেই অপেক্ষাতুরা মেয়েটি ।

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় যুদ্ধে সমতলের কী অবস্থা হয়েছিল ?

Answer : ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক ছায়া সমস্ত সমতলে । আগুনের লেলিহান শিখার মতো ছড়িয়ে পড়ে সব কিছুকে জ্বালিয়ে – পুড়িয়ে ছারখার করল ।

  1. অসুখী একজন কবিতায় কবি দেবতাদের চেহারার কী বর্ণনা দিয়েছেন ?

Answer : ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবি ‘ শান্ত – হলুদ ‘ দেবতাদের চেহারার ছবি এঁকেছেন । এখানে ‘ শাস্ত – হলুদ ‘ শব্দবন্ধটি যেন নিষ্ক্রিয় প্রাচীনতার ইঙ্গিত বহন করে আনে ।

  1. ‘ অসুখী একজন কবিতায় দেবতারা হাজার বছর ধরে কী করছিল বলে উল্লেখ পাওয়া যায় ?

Answer : ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় শাস্ত – হলুদ দেবতারা হাজার বছর ধরে ধ্যানে ডুবে ছিল বলে কবি উল্লেখ করেছেন , যা দেবত্বের নির্বিকার নিষ্ক্রিয় রূপটিকেই ফুটিয়ে তুলেছে ।

  1. ‘ অসুখী একজন কবিতায় দেবতারা কোথা থেকে টুকরো টুকরো হয়ে উলটে পড়েছিল ?

Answer : ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় যুদ্ধের অভিঘাতে হাজার বছর ধরে ধ্যানে ডুবে থাকা দেবতারা মন্দির থেকে টুকরো টুকরো হয়ে উলটে পড়েছিল ।

  1. ‘ তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।- ‘ তারা ‘ বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে ?

Answer : ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতা থেকে গৃহীত ‘ তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না ‘ পঙ্ক্তিতে ‘ ‘ তারা ‘ বলতে শান্ত – হলুদ দেবতাদের কথা বলা হয়েছে ।

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবির বাড়িটি কেমন ছিল ?

Answer : ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবির বাড়িটি ছিল মধুর স্মৃতি ও স্বপ্নবিজড়িত । অর্থাৎ বাড়িটি সম্পর্কে এখানে শৈশব – কৈশোরের আকর্ষণজনিত আবেগ ও আবেশ প্রকাশিত হয়েছে ।

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবির ঝুলন্ত বিছানাটি কোথায় অবস্থিত ছিল ? 

Answer : ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবির মধুর স্মৃতিবিজড়িত মিষ্টি বাড়িতে ঝুলন্ত বিছানাটি বারান্দায় অবস্থিত ছিল ।

MCQ | @অসুখী একজন (কবিতা) পাবলো নেরুদা – মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন | Madhyamik Bengali Suggestion :

  1. ‘ তারপর যুদ্ধ এল -(A) রক্তের সমুদ্রের মতো । ‘ (B) আগ্নেয়পাহাড়ের মতো(C) পাহাড়ের আগুনের মতো(D) রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো

Answer : (D) রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো

মতো । ‘

  1. ‘রক্তের এক _____ মত ।’ (A) ধসের (B) গিরিখাতের(C) আগ্নেয়পাহাড়ের (D) গিরিখাতের

Answer : (C) আগ্নেয়পাহাড়ের

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় শিশু আর বাড়িরা -(A) খুন হল (B) হারিয়ে গেল (C) বেঁচে রইল (D) জেগে রইল ।

Answer : (A) খুন হল

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় সব ধ্বংস হলেও অপেক্ষমান সেই মেয়েটির কী হল না ?(A) অসুখ হল না(B) মৃত্যু হল না(C) খুন হল না (D) জ্বলে গেল না

Answer : (B) মৃত্যু হল না

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কীসে সমস্ত সমতল ধ্বংস হল ?(A) ভূমিকম্পে(B) ধসে(C) আগুনে(D) বন্যায়

Answer : (C) আগুনে

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় দেবতাদের চেহারা ছিল – (A) শান্ত – হলুদ (B) লাল – নীল (C) অশান্ত – নীল(D) ধীর – হলুদ

Answer : (A) শান্ত – হলুদ

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় শান্ত – হলুদ দেবতারা কত বছর ধ্যানে ডুবে ছিল ?(A) একশো (B) দু – হাজার (C) পাঁচশো (D) হাজার

Answer : (D) হাজার

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় শান্ত – হলুদ দেবতারা কীভাবে মন্দির থেকে উলটে পড়ল ?(A) টুকরো টুকরো হয়ে (B) গুঁড়োগুঁড়ো হয়ে (C) অর্ধেক হয়ে (D) ভেঙে ভেঙে

Answer : (A) টুকরো টুকরো হয়ে

  1. তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না । কারা স্বপ্ন দেখতে পারল না ?(A) দেবতারা (B) শয়তানরা(C) মানুষেরা(D) যক্ষরা

Answer : (A) দেবতারা

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কে মিষ্টি বাড়ির বারান্দার ঝুলন্ত বিছানায় ঘুমিয়েছিল ?(A) মেয়েটি (B) বন্ধুটি (C) কবি (D) ভাইটি

Answer : (A) মেয়েটি

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবি বারান্দার যে – বিছানাটিতে কবিতায় ঘুমিয়েছিলেন , সেটি ছিল – (A) জ্বলন্ত (B) উড়ন্ত (C) বাড়ন্ত(D) ঝুলন্ত

Answer : (D) ঝুলন্ত

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবির ঝুলন্ত বিছানার ধারের গাছটি ছিল – (A) গোলাপি (B) নীল (C) হলুদ (D) সবুজ

Answer : (A) গোলাপি

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় ছড়ানো করতলের মতো পাতা ছিল— (A) চিমনির (B) মশারির (C) বিছানার(D) বসার ঘরের

Answer : (D) বসার ঘরের

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবির সেই মিষ্টি বাড়ির জলতরঙ্গটি কোন্ সময়ের ? (A) প্রাচীন কালের(B) আধুনিক সময়ের (C) বিংশ শতকের(D) মধ্যযুগীয় সময়ের

Answer : (A) প্রাচীন কালের

  1. ‘ সব _____ হয়ে গেল , জ্বলে গেল আগুনে । ‘(A) চূর্ণ (B) বিচূর্ণ (C) শক্ত (D) চুরমার

Answer : (A) চূর্ণ

  1. ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় যেখানে শহর ছিল সেখানে ছড়িয়ে রইল – (A) কাঠকয়লা (B) সাপ (C) কয়লা (D) আগুন

Answer : (A) কাঠকয়লা

  1. ‘ দোমড়ানো লোহা , মৃত মূর্তির বীভৎস / মাথা(A) রুপোর (B) সোনার (C) মাটির (D) পাথরের

Answer : (D) পাথরের

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় শহর ধ্বংসের সঙ্গে সঙ্গে রক্তের দাগের রং হয়েছিল— (A) কালো (B) হলুদ (C) লাল (D) সবুজ

Answer : (A) কালো

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় সেই মেয়েটি যার জন্য অপেক্ষারত , সে হল -(A) কবি (B) ডাকপিয়োন (C) তুমি (D) তোমরা

Answer : (A) কবি

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতাটির কবি হলেন – (A) মানেজ (B) রোকে ডালটন (C) লেওজেল রুগমা (D) পাবলো নেরুদ

Answer : (D) পাবলো নেরুদ

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতাটির তরজমা করেন – (A) মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (B) নবারুণ ভট্টাচার্য (C) উৎপলকুমার বসু (D) শুভাশিষ ঘোষ

Answer : (B) নবারুণ ভট্টাচার্য

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতাটি অনুবাদকের কোন্ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ? (A) এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ নয় (B) পৃথিবীর শেষ কমিউনিস্ট (C) বিদেশি ফুলে রক্তের ছিটে (D) ফ্যাতাড়ুর কুম্ভীপাক

Answer : (C) বিদেশি ফুলে রক্তের ছিটে

  1. পাবলো নেরুদা নোবেল পুরস্কার পান—(A) স্প্যানিশ সাহিত্যের রূপকার হিসেবে(B) সোভিয়েত – স্প্যানিশ সাহিত্যের রূপকার হিসেবে (C) ইংরেজি – স্প্যানিশ সাহিত্যের রূপকার হিসেবে (D) জার্মান – স্প্যানিশ সাহিত্যের রূপকার হিসেবে

Answer : (A) স্প্যানিশ সাহিত্যের রূপকার হিসেবে

  1. পাবলো নেরুদা ছিলেন -(A) চিলিয়ান কবি ও রাজনীতিবিদ(B) ইউরোপিয়ান কবি ও রাজনীতিবিদ(C) রাশিয়ান কবি ও ভাস্কর্য শিল্পী(D) জার্মান কবি ও চিত্রকর

Answer : (A) চিলিয়ান কবি ও রাজনীতিবিদ

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতাটি পাবলো নেরুদার কোন্ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ? (A) The Captain’s Verse(B) The Yellow Heart (C) Still Another Day (D) Extravagaria
  2. অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল – (A) দরজায় (B) ছাদে (C) বারান্দায় (D) রাস্তায়

Answer : (A) দরজায়

  1. পাবলো নেরুদার প্রকৃত নাম হল -(A) নেফতালি রিকার্দো রেয়েস বাসোয়ালতো (B) রিকার্দো বাসওআলতো (C) রেয়েন্স রিকার্দো নেকতালি বাসোয়ালতো (D) পল ভেরলেইন নেরুদা

Answer : (A) নেফতালি রিকার্দো রেয়েস বাসোয়ালতো

  1. ‘ সে জানত না ‘ –’সে ‘ হল – (A) পরাজিত সৈনিক (B) কবিতার কথক(C) কবির ভালোবাসার জন(D) কবির মা

Answer : (C) কবির ভালোবাসার জন

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় একটা কী চলে গেল বলতে কবি কোন্ জন্তুর উল্লেখ করেছেন ? (A) মানুষ (B) কুকুর (C) হরিণ ।(D) বিড়াল

Answer : (B) কুকুর

  1. ‘ সে জানত না’— সে কী জানত না ? (A) কথক ফিরে আসবে (B) কথক আর কখনও ফিরে আসবে না (C) কথক কখন আসবে (D) কথক শীঘ্রই ফিরে আসবে

Answer : (B) কথক আর কখনও ফিরে আসবে না

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবি ক – টি সপ্তাহ কেটে যাওয়ার উল্লেখ করেছেন ? (A) একটি(B) চারটি (C) দুটি(D) তিনটি

Answer : (A) একটি

  1. ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় কে হেঁটে চলে গেল ? (A) গল্পের কথক (B) একজন সৈনিক(C) একটি কুকুর(D) গির্জার এক নান

Answer : (D) গির্জার এক নান

  1. ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবি পরিত্যক্ত রাস্তায় কী জন্মানোর কথা বলেছেন ?(A) ঘাস (B) তরুলতা (C) গাছ (D) শস্য

Answer : (A) ঘাস

  1. ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় একটার – পর – একটা বছর কীভাবে নেমে এল বলে কবি মনে করেছেন ?(A) পাথরের মতো (B) জলের মতো(C) ফুলের মতো (D) গানের মতো

Answer : (A) পাথরের মতো

  1. বৃষ্টি কী ধুয়ে দিয়েছিল ?(A) রাস্তার ধুলো(B) রক্তের দাগ(C) কথকের পায়ের দাগ(D) কাঠকয়লার দাগ

Answer : (C) কথকের পায়ের দাগ

  1. ‘ তারপর যুদ্ধ এল’- ‘ যুদ্ধ এল ‘ – র অর্থ—(A) যুদ্ধ শেষ হল (B) যুদ্ধ শুরু হল (C) যুদ্ধ হবে এমন(D) যুদ্ধ চলাকালীন অবস্থায়

Answer : (C) যুদ্ধ হবে এমন

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | @অসুখী একজন (কবিতা) পাবলো নেরুদা – মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন | Madhyamik Bengali Suggestion  : 

  1. প্রাচীন জলতরঙ্গ / সব চূর্ণ হয়ে গেল , ‘ — উদ্ধৃতাংশে কবি কী বুঝিয়েছেন ? 

প্রশ্নোস্তৃত অংশে কবি বুঝিয়েছেন ত্তর প্রশ্নোদ্ভূত অংশটি , পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ’ কবিতা থেকে গৃহীত । আগ্নেয়পাহাড়ের মতো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের লেলিহান আগুন সমতলকেও গ্রাস করেছিল । কবির শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত মিষ্টি বাড়িটিও যুদ্ধের নির্মম আঘাতে ধ্বংস হয়েছিল । তার বারান্দার ঝুলন্ত বিছানা , গোলাপি গাছ , ছড়ানো করতলের মতো পাতা , চিমনি ও প্রিয় প্রাচীন জলতরঙ্গ এইসব চূর্ণ হল , সম্পূর্ণ ভস্ম হল আগুনে । অর্থাৎ কবির আশ্রয় ও অস্তিত্বের একমাত্র প্রতীকচিহ্নটিও যুদ্ধের নিষ্ঠুর ধ্বংসলীলায় নিশ্চিহ্ন হয়েছিল ।

2.‘ সেখানে ছড়িয়ে রইল কাঠকয়লা’— বলতে কবি প্রশ্নোদৃত অংশে কৰি বুঝিয়েছেন কী বুঝিয়েছেন ?

Answer : পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ’ কবিতাটিতে কোনো এক অজ্ঞাত কারণে কবি প্রিয়তমা , ঘরবাড়ি , এমনকি তাঁর প্রিয় শহরও ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন । এরপরে একদিন আসে বীভৎস যুদ্ধ । যার করাল গ্রাসে কবির ঘরবাড়ি , দেবালয় সমস্ত কিছু চূর্ণ হয়ে আগুনে জ্বলে যায় । শহরটিও বাদ যায় না । এক সময়ের সুন্দর শহরে ছড়িয়ে থাকে কাঠকয়লা , দোমড়ানো লোহা , মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর রক্তের দাগ । আসলে শহরের বিধ্বংসী রূপটি তুলে ধরতেই উদ্ধৃতিটি ব্যবহৃত হয়েছে ।

  1. ‘ আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায় । মেয়েটি কে ? সে অপেক্ষা করে কেন ? 

Answer : পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় ‘ সেই মেয়েটি ’ হল কথকের প্রিয়তমা , যাকে রেখে কবি বহুদূরে চলে গিয়েছিলেন । কবি যে আর ফিরে আসবেন না এ কথা তার প্রিয়তমা জানত না । তার অপেক্ষার বোঝা গভীর থেকে গভীরতর হলেও সে ভেঙে পড়েনি । এই মেয়েটিকে ধ্বংস যেন স্পর্শ করতে পারে না ; মৃত্যু – যুদ্ধ – হিংসা , দাঙ্গার স্পর্শ পেরিয়েও তাই সে অমলিন থাকে । কারণ ভালোবাসার কখনও মৃত্যু হয় না । সেসময় থেকে সময়ান্তরে অপেক্ষা করে বয়ে চলে নিজস্ব ধারায় ।

  1. তারা তো স্বপ্ন দেখতে পারল না । তারা কারা ? কেন তারা স্বপ্ন দেখতে পারল না ?

Answer : পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতা থেকে নেওয়া তাদের পরিচয় । উদ্ধৃতাংশে ‘ তারা ‘ বলতে শান্ত হলুদ দেবতাদের কথা বলা হয়েছে ।

– দ্বিতীয় অংশের জন্য  প্রশ্নের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদটি দ্যাখো ।

  1. শান্ত হলুদ দেবতারা / যারা হাজার বছর ধরে ডুবেছিল খ্যানে কোন কবিতার অংশ ? শান্ত হলুদ দেবতাদের হাজার বছর ধরে ডুবে থাকার অর্থটি বুঝিয়ে দাও । 

Answer : প্রশ্নে উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটি পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ’ কবিতার অংশ । প্রশ্নোবৃত অংশের অর্থ → এখানে ঈশ্বর বা দেবতা এক জীর্ণ বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত । তাদের নিষ্ক্রিয় প্রাচীনতা কবি ‘ শান্ত হলুদ ‘ শব্দবন্ধের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন । আর দেবতাদের হাজার বছর ধরে ধ্যানে ডুবে থাকার মধ্যে তিনি দৈব – মহিমার ভূমিকাহীন অসারতার ভাবটিকে ফুটিয়ে তুলেছেন । আসলে এই ক্রিয়াহীন , নিশ্চল ও ধ্যানস্থ অবস্থা আমাদের টের পাইয়ে দেয় ; মানবজীবনের উত্থানপতনের সঙ্গে দেবত্বের কোনো সম্পর্ক নেই ।

  1. ‘ সে জানত না’— কী জানত না ? না – জানা বিষয়টি বিশ্লেষণ করো । 

Answer : নেরুদার ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় অপেক্ষাতুরা মেয়েটির এ কথা জানা ছিল না যে , কবি আর কখনও স্ববাসভূমিতে ফিরে আসবেন না । পাঠ্য কবিতাটি শুরু হয় এক বিদায়দৃশ্যকে অবলম্বন করে । বাড়ির দরজায় প্রিয়তমাকে ফেলে রেখে কবি চলে যান বহুদুরের অজ্ঞাত কোনো স্থানে । এই যাত্রার কারণ কবিতায় উল্লিখিত হয় না । কিন্তু এটা স্পষ্ট হয়ে ফুটে ওঠে তিনি তাঁর ভালোবাসার নারী , প্রিয় না – জানা বিষয়টি ঘরবাড়ি এবং পছন্দের শহরটিকে ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন । এই সমস্ত কিছুর সঙ্গে চিরবিচ্ছেদের এ ঘটনা কবিকে পীড়িত ও বিচলিত করে । অথচ মেয়েটি তা বুঝতে পারে না । মেয়েটির জীবনে প্রিয়তমের জন্য অন্তহীয় অপেক্ষার পালা এভাবেই নীরবে নেমে আসে ।

  1. কমন উল্টে পড়ল মন্দির থেকে টুকরো টুকরো হয়ে মন্দির থেকে কী উলটে পড়ল ? কী কারণে উলটে পড়েছিল ? 

Answer : পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতা অনুসারে মন্দির থেকে শান্ত হলুদ দেবতারা উলটে পড়েছিল ।

আগ্নেয়পাহাড়ের মতো ভয়াবহ যুদ্ধ সমতলে ছড়িয়ে পড়েছিল । সেই যুদ্ধের লেলিহান শিখায় ধ্বংস হয়েছিল মন্দির ও বিগ্রহ । কবির ভাষায় ‘ শান্ত হলুদ ’ দেবতাদের দেবালয় টুকরো টুকরো হয়ে উলটে পড়ে । অর্থাৎ যুদ্ধের রক্তক্ষয়ী স্পর্শে মানুষের অন্তরমনের হাজার বছরের জীর্ণ বিশ্বাস টাল খায় । যুদ্ধ যেন দেবত্বের ধ্যানস্থ – নিষ্ক্রিয় অবস্থাকেও ভেঙে চুরমার করে ।

  1. ‘ আমি তাকে ছেড়ে দিলাম’- কবি কাকে ছেড়ে দিলেন । তাকে তিনি কীভাবে রেখে এসেছিলেন ?

Answer : পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতা থেকে গৃহীত অংশে কথক তাঁর প্রিয় নারীকে অপেক্ষায় রেখে নিজ বাসভূমি ছেড়ে দূরে চলে গিয়েছিলেন ।

স্বদেশ ছেড়ে দূর থেকে দূরতর কোনো স্থানে চলে যাওয়ার সময় তিনি দরজায় তাঁর অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে রেখে যান কোনো এক প্রিয়জনকে । যদিও সে জানত না যে , কবি আর কখনও ফিরে আসবে না । এইভাবেই কবি এক চিরকালীন বিদায় মুহূর্তের ছবি এঁকেছেন ।

  1. ‘ বৃষ্টিতে ধুয়ে দিল আমার পায়ের দাগ / ঘাস জন্মালো রাস্তায়’— উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো ।

Answer : উদ্ধৃতাংশের তাৎপর্য উত্তর উদ্ধৃতিটি পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ’ কবিতা থেকে গৃহীত । কথক তাঁর প্রিয়তমাকে অপেক্ষমান রেখে জীবন ও জীবিকার তাগিদে বহুদুরে পাড়ি দেন । থমকে যায় মেয়েটির জীবন কিন্তু সময় থেমে থাকে না । তাই কথকের চলে যাওয়াতে জীবনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয় না । সপ্তাহ – বছর কেটে যায় । প্রাকৃতিক নিয়মেই কথকের চলার পথের পদচিহ্ন মুছে যায় । তাতে ঘাস জন্মায় । কিন্তু কবির চলে যাওয়ার মুহূর্তটি তার প্রিয়তমার হৃদয়ে অন্তহীন অপেক্ষার মুহূর্ত হয়ে রয়ে যায় ।

  1. পাথরের মতো পর পর পাথরের মতো , বছরগুলো বছরগুলোকে পাথরের মতো বলা হয়েছে কেন ?

Answer : বছরগুলো পাথরের মতো- কারণ উত্তর / জীবন ও জীবিকার জন্য বাসভূমি ছেড়ে দূরে চলে যাওয়া তাঁর মানুষটি যে ফিরে আসবেন না এ কথা তার প্রেমিকার অজানা ছিল । কিন্তু জীবন এতে থেমে থাকেনি । বৃষ্টিতে কবির পায়ের দাগ মুছে তাতে ঘাস জন্মায় । নিরন্তর অপেক্ষা চলতেই থাকে । দীর্ঘ প্রতীক্ষারতা নারীর জীবনে তার প্রিয়তমের অনুপস্থিতির বছরগুলো যেন পাথরের বোঝা হয়ে তার মাথার ওপর নেমে আসে । এখানে ‘ পর পর ‘ বলতে বিচ্ছেদ বেদনার গভীরতা বোঝানো হয়েছে ।

  1. যুদ্ধকে ‘ রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড় ‘ বলা হয়েছে কেনো ? 

Answer : উদ্ধৃত প্রসঙ্গটি কবি পাবলো নেরুদা রচিত ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতা থেকে গৃহীত ।

আগ্নেয় পাহাড় কারণ কবিতায় যুদ্ধকে কবি আগ্নেয়পাহাড়ের সঙ্গে তুলনা করেছে । আগ্নেয়পাহাড় চারপাশে ছড়িয়ে দেয় জ্বলন্ত লাভা । আর সেই আগুনে ছাই হয় জীবনের যাবতীয় চিহ্ন । ঠিক তেমনই যুদ্ধের ফলে মানুষের মনে জমে থাকা হিংসা – দ্বেষ আর ঘৃণা লাভার মতো ছিটকে ওঠে । অপমৃত্যু ঘটে মানবতার । এই মৃত্যুময় ধ্বংসলীলার নারকীয় রূপটিকে ফুটিয়ে তুলতেই কবি যুদ্ধকে , রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড় ‘ বলেছেন ।

  1. ” সেই মেয়েটির মৃত্যু হলো না । কোন মেয়েটির কেন মৃত্যু হল না ?

Answer : পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতার কথকের জন্য অপেক্ষারতা যে মেয়েটির উল্লেখ পাওয়া যায় , তার কথা বলা হয়েছে । মেয়েটির পরিচয় মেয়েটি জানত না যে , তার প্রিয়তম আর ফিরে আসবে না । জীবন আপন ছন্দে চলল , ক্রমে সপ্তাহ – বছর অতিক্রান্ত হল । কবির পদচিহ্ন বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল , তবু অপেক্ষা চলল । এরপর যুদ্ধের গ্রাসে নগর , দেবালয় চূর্ণবিচূর্ণ হল এবং মৃত্যু হল শিশুসহ অজস্র মানুষের । শুধু অপেক্ষমান মেয়েটির মৃত্যু হল না কারণ ভালোবাসা অমর , চিরন্তন ও শাশ্বত ।

  1. ‘ শান্ত হলুদ দেবতারা’- দেবতাদের ‘ শান্ত হলুদ বলা হয়েছে কেন ? তাদের কী পরিণতি হয়েছিল ? 

Answer : দেবতারা ‘ শান্ত হলুদ কেন উত্তর / ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবি চলে যাওয়ার পর একসময় যুদ্ধ বাধল । সেই যুদ্ধের বীভৎসতায় নগরসভ্যতা , কবির স্বপ্নের বাড়ি – ঘর সব চূর্ণ হয়ে গেল , এমনকি ধ্বংস হল দেবতাদের মন্দিরও । হাজার হাজার বছরের যে – দেবতারা মানুষের মনে বিশ্বাস জাগিয়ে এসেছেন , যুদ্ধ তাদেরও আসনচ্যুত করল । প্রাচীন দেবতাদের নিষ্ক্রিয়তা ও জীর্ণতাকে বোঝাতে হলুদ ও শান্ত বলা হয়েছে । যুদ্ধের আগুনে নগর পুড়লে দেবালয়ও বাদ যায় না । মানুষের মনে দেবতারা যে – বিশ্বাস বোধের জন্ম দিয়েছিল , তা পরিণতি ধ্বংস হল ।

  1. তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না ।’- উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো । 

Answer : উদ্ধৃত অংশটি পাবলো নেরুদার কবিতা ‘ অসুখী একজন ‘ থেকে গৃহীত ।

এখানে কবি বিনাশ ও ধ্বংসের কলরোলে দৈবীমহিমার অসারতার প্রতি কটাক্ষপাত করেছেন । মানবতার অপচয় প্রাণহানি কিংবা চূড়ান্ত বীভৎসতার সময় কোনো দৈব – মাহাত্ম্য প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে না । উদ্ধৃতাংশের তাৎপর্য মানুষের মতোই একইরকমভাবে যুদ্ধ -তাণ্ডবের ভয়াবহতায় তারাও নিরাশ্রয় , অস্তিত্বহীন এবং চূর্ণবিচূর্ণ হয় । তাই এককথায় দৈব ক্ষমতার ফানুস চুরমার হয়ে যাওয়ায় তাদের যেন মানুষকে স্বপ্ন দেখানোর ক্ষমতা লোপ পায় । আলোচ্য অংশে কবির এই ভাবনাই প্রকাশ পেয়েছে ।

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর | @অসুখী একজন (কবিতা) পাবলো নেরুদা – মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন | Madhyamik Bengali Suggestion : 

1. আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায় । পাঠ্য ‘ অসুখী একজন ’ কবিতা অবলম্বনে উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য আলোচনা করো । 

অথবা , ‘ আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায় ।’— অপেক্ষারত সেই মেয়েটির মধ্য দিয়ে কবি স্বদেশপ্রেম তথা মানবপ্রেমের যে – শাশ্বত রূপ তুলে ধরেছেন , তা আলোচনা করো । 

অথবা , অপেক্ষারত প্রিয়জনের কাছে ফিরতে না – পারার যে – বেদনা ‘ অসুখী একজন কবিতায় ব্যক্ত হয়েছে আলোচনা করো । 

Answer : কবি পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় মানবমনের এক চিরন্তন সত্য প্রকাশ পেয়েছে । কবি যেন কোনো এক নারীকে তাঁরই অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে দূরে চলে যান । সেই অপেক্ষারতা যদিও জানত না যে , কবি আর কখনও ফিরবেন না ।

কবিতার আরম্ভের বিচ্ছেদদৃশ্যে লুকিয়ে থাকে দুজন নরনারীর চিরকালীন প্রত্যাশা ও অপেক্ষার বীজ । যদিও জীবন তার উদ্ধৃতাংশের তাৎপর্য নিজের গতিতে চলতে থাকে । টুকরো টুকরো প্রাত্যহিকতায় সপ্তাহ আর বছর কেটে যায় । বৃষ্টিতে কবির পদচিহ্ন ধুয়ে , ‘ ঘাস জন্মালো রাস্তায় ’ । কবির অস্তিত্ব অনেকের মন থেকেই একটু একুট করে মুছে যেতে থাকে । কিন্তু পাথরের মতো ভারী , গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণায় সেই অপেক্ষারতা নারীর দিন কাটে । এরপর আসে যুদ্ধ । সমতলে আগুন ধরায় । ধ্বংস হয় মানুষের স্বপ্নের আশ্রয় । রক্ষা পায় না শিশুরাও । এতদিনকার রক্ষণশীলতার প্রতীক মন্দির আর মন্দিরের দেবমূর্তিগুলো ধূলিসাৎ হয় । কবির মিষ্টি বাড়িটিও ধ্বংস হয় । যুদ্ধের আগুনে ভস্মীভূত হয় সমস্ত শহর । যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকে কাঠকয়লা , দোমড়ানো লোহা , মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা ও রক্তের শুকনো কালো দাগ । শুধু এই যুদ্ধের বীভৎসতা ছুঁতে পারে না কবির সেই প্রিয় অপেক্ষারতার ভালোবাসাকে । ধ্বংস ও বিনাশের হাজার লেলিহান শিখা তাকে কোনোমতেই ধ্বংস করতে পারে না । সময়ান্তরে প্রবহমান মানবহৃদয়ের যন্ত্রণা , আকুতি ও আর্তিই সেই মেয়েটির মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে , অনুভূতির অবিনাশী প্রকাশ হিসেবে ।

2. শিশু ’ আর ‘ বাড়িরা ’ কীভাবে খুন হল ? ‘ খুন ’ শব্দটি ব্যবহারের সার্থকতা বিচার করো ।

Answer : আলোচ্য পঙ্ক্তিটি পাবলো নেরুদার লেখা ‘ অসুখী একজন ’ কবিতাটি থেকে গৃহীত । ভয়াবহ এক যুদ্ধে কথকের শহরের শিশু আর গৃহস্থ মানুষেরা খুন হল । কবিতায় ‘ বাড়িরা ‘ বলতে বাড়ির মানুষদের বোঝানো হয়েছে ।

খুন শব্দ ব্যবহারের সার্থকতা কথক তাঁর প্রিয়তমাকে অপেক্ষায় রেখে দূরে চলে যাওয়ার পর বছর কেটে গেল । একসময় শুরু হল ভয়ানক যুদ্ধ । যুদ্ধের আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে গেল কথকের প্রিয় শহর । ভেঙে পড়ল মন্দির আর মন্দিরের ভেতরের দেবমূর্তি । এমনকি সেই যুদ্ধের হিংস্রতা থেকে রক্ষা পেল না নিরপরাধ শিশুরাও । শহরের বাড়িগুলোও ধ্বংস হল একে একে । এখানে কবি ‘ বাড়িরা ‘ শব্দটি প্রয়োগের মাধ্যমে ঘরবাড়ির মতো জড়পদার্থেও প্রাণের সঞ্চার করেছেন । শিশুদের মতো বাড়িও যে মানুষের পরম আদরের , মমতার সেটা বোঝাতেই কবি ‘ বাড়িরা ’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন । যুদ্ধজনিত কারণে মৃত্যুকে সাধারণভাবে ‘ খুন ‘ বলা হয় না । কিন্তু এখানে কবি ইচ্ছাকৃত ভাবেই ‘ খুন ’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন । কিছু যুদ্ধবাজ মানুষ স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে যুদ্ধ বাধায় । কিন্তু তার মাশুল গুনতে হয় দেশের অগণিত সাধারণ মানুষকে । সেই ভয়ানক ধ্বংসলীলায় মানুষ হারায় তার পরিবার , প্রিয়জন , এমনকি শেষ আশ্রয়টুকুও । যুদ্ধের এই ভয়ংকর পরিণতিকে ফুটিয়ে তুলতে কবি এই কবিতায় ‘ খুন ‘ শব্দটি যথাযথভাবে ব্যবহার করেছেন ।

3. তারপর যুদ্ধ এল— ‘ তারপর ’ বলতে কোন সময়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে ? যুদ্ধের পরিণতির কী হয়েছিল ।

Answer : কবি পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতায় কবিতার কথক প্রিয়তমাকে নিজ বাসভূমিতে ফেলে রেখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন । অথচ জীবন তার নিজস্ব ছন্দে চলতে থাকে । কিন্তু প্রিয় নারীটির অপেক্ষার যন্ত্রণা ক্রমশ দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয় । বছরের পর বছর কাটে । এমন সময় আসে যুদ্ধ । ঘটনা পরস্পরার এই ক্রমটিকে ফুটিয়ে তুলতেই এখানে কবি ‘ তারপর ‘ শব্দটি ব্যবহার করেছেন ।

যুদ্ধের ভয়াবহ বীভৎসতায় মানুষ আশ্রয়হীন হল । নৃশংসতার হাত থেকে রেহাই পেল না শিশুরাও । দাবানলের মতো যুদ্ধের আগুন সমতলে যুদ্ধের পরিণতি ছড়িয়ে পড়ল । ধ্বংস হল দেবালয় আর তার ভেতরের দেবতারা । তাদের দেবত্ব নষ্ট হল । মানুষকে তারা স্বপ্ন দেখাতে ব্যর্থ হল । কবির সেই মিষ্টি বাড়ির ঝুলন্ত বিছানা , গোলাপি গাছ , প্রাচীন জলতরঙ্গ সব চূর্ণ ও ভস্ম হল যুদ্ধের আগুনে । ঠিক একইভাবে শহরটাও পুড়ে গেল । বীভৎসতার চিহ্ন নিয়ে ছড়িয়ে – ছিটিয়ে পড়ে রইল কাঠকয়লা , দোমড়ানো লোহা , পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর রক্তের একটা কালো দাগ । শুধু সেই ধ্বংসস্তূপে বেঁচে থাকল মেয়েটির অপেক্ষা ও অভিল ভালোবাসা ।

4. ‘অসুখী একজন — কবিতায় কাকে অসুখী বলা হয়েছে ? তার অসুখী হওয়ার নেপথ্যে কোন্ কারণ রয়েছে ?

Answer : পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় প্রিয়তমের জন্য অসুখী কে ? অপেক্ষারতা মেয়েটিকে অসুখী বলা হয়েছে । আবার ফিরে আসতে উৎসুক কবি – হৃদয়ও এক্ষেত্রে একইভাবে অসুখী ।

একদিন কবি স্বদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন । তাঁর এই নিষ্ক্রমণ চিরদিনের জন্য । অথচ অপেক্ষমান প্রিয়তমার এ সত্য জানা নেই । যদিও জীবন নিজস্ব ছন্দে বয়ে চলে । দৈনন্দিনতার গতি কবির স্মৃতিকে ক্রমশ ফিকে অসুখী হওয়ার কারণ করে তোলে । বছর গড়ায় । কিন্তু ভালোবাসার মেয়েটির কাছে এই অন্তহীন অপেক্ষা গভীর ও ভারী পাথরের আঘাতের মতোই শ্বাসরুদ্ধকারী হয়ে ওঠে । এরপর যুদ্ধের | বীভৎসতা সমস্ত সমতলকে গ্রাস করে । ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয় দেবতা ও দেবালয় । ধ্বংসের লেলিহান আগুনে ক্রমে জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যায় । কবির প্রিয় বাড়ি , বারান্দার ঝুলন্ত বিছানা , গোলাপি গাছ , করতলের মতো পাতা চিমনি , প্রাচীন জলতরঙ্গ— এই সব কিছু । মানুষ তার আশ্রয় হারায় । যুদ্ধের নৃশংসতায় শিশুরাও খুন হয় । শহরের বদলে সেখানে ছড়িয়ে থাকে কাঠকয়লা , দোমড়ানো লোহা , পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর রক্তের | কালো দাগ । শুধু অপেক্ষারতা সেই মেয়েটিকে কোনো বিনাশ স্পর্শ করতে পারে না । সমূহ ধ্বংস আর বর্বরতার মধ্যেও অসুখী মেয়েটি তার ভালোবাসার আর্তি ও আকুতিকে অনির্বাণ দীপশিখার মতো জ্বালিয়ে রাখে ।

5. ‘ আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায়।— অপেক্ষমান এই নারার মধ্যে দিয়ে কবি মানবীয় ভালোবাসার যে – অনির্বাণ রূপটিকে ফুটিয়ে তুলেছেন , তা পাঠ্য কবিতা অবলম্বনে আলোচনা করো । 

অথবা , যুদ্ধের নেতিবাচক ভাবের পাশাপাশি যে – মানবিক আবেদন ‘ অসুখী একজন ’ কবিতায় প্রকাশিত হয়েছে আলোচনা করো । 

Answer : পাবলো নেরুদা তাঁর ‘ অসুখী একজন ’ কবিতার অপেক্ষমান নারীর মধ্যে ভালোবাসার অনির্বাণ রূপটি ফুটিয়ে তুলেছেন । কথক তার প্রিয় নারীকে রেখে চলে যান বহুদূরে । সে জানত না যে , তার প্রিয়তম আর ফিরে আসবে না । সময় চলমান , জীবনও তার সঙ্গে চলমান । সপ্তাহ – বছর কেটে যায় । কথকের পদচিহ্ন ধুয়ে গিয়ে তার ওপর ঘাস জন্মায় । তবুও সে নারীর অপেক্ষা থামে না । এইভাবে অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে মুহূর্তগুলো একটার – পর – একটা পাথরের মতো ভারী হয়ে নেমে আসে মেয়েটির মাথার ওপর ।

অপেক্ষমান নারীর প্রতীক্ষা অনির্বাণ রূপ – যুদ্ধ ও যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে পড়ল সে – শহরে । সে – আগুনের করাল গ্রাসের হাত থেকে বাদ গেল না শিশু কিংবা দেবতারাও । শান্ত হলুদ দেবতারা তাদের মন্দির থেকে টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়ে । কবির স্বপ্নের বাড়ি – ঘর সব চূর্ণ হয়ে যায় , পুড়ে যায় আগুনে । যেখানে শহর ছিল সেখানে চারদিকে ছড়িয়ে রইল কাঠকয়লা , দোমড়ানো লোহা , পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর রক্তের একটা কালো দাগ । কিন্তু এতসবের মধ্যেও কবির প্রিয়তমা বেঁচে রইল কারণ প্রেম শাশ্বত , তার মৃত্যু নেই । এই প্রেম মানুষকে মরতে মরতে বাঁচতে শেখায় । এই ধ্বংসের মধ্যেও বেঁচে থাকে মেয়েটির অনির্বাণ ভালোবাসা , বেঁচে থাকে ভালোবাসার মানুষের জন্য তার প্রতীক্ষা ।

6. ‘ তারপর যুদ্ধ এল ‘ — পাঠ্য কবিতায় কবি যুদ্ধের যে – আশ্চর্য করুণ ও মর্মস্পর্শী ছবি এঁকেছেন , তা নিজের ভাষায় আলোচনা করো । 

অথবা , শিশু আর বাড়িরা খুন হলো ।’— এই আশ্চর্য – সংহত ছবিটির মধ্যে যুদ্ধের পৈশাচিক বর্বরতা কীভাবে প্রকাশিত হয়েছে তা কবিতা অবলম্বনে লেখো । 

Answer : চিলিয়ান কবি পাবলো নেরুদা জীবনযুদ্ধের একজন লড়াকু সৈনিক । চোখের সামনে ঘটে যাওয়া দুই বিশ্বযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি । তাই পাঠ্য কবিতায় তিনি যুদ্ধের যে – করুণ ও মর্মস্পর্শী ছবি এঁকেছেন তা অত্যন্ত বাস্তবোচিত । ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতাটি আসলে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এক শাশ্বত ভালোবাসার গল্প । কবি যুদ্ধের বীভৎসতার মাঝে প্রেম যে অনির্বাণ তা দেখাতে গিয়ে খণ্ড খণ্ড যুদ্ধের চিত্র তুলে ধরেছেন । কবি তাঁর প্রিয়তমাকে অপেক্ষায় রেখে দূরে চলে যাওয়ার পর একদিন ভয়াবহ বীভৎসতা নিয়ে যুদ্ধ নেমে এল । মানুষ আশ্রয়হীন হল । নৃশংসতার হাত থেকে রেহাই পেল না শিশুরাও । দাবানলের মতো যুদ্ধের আগুন সমতলে ছড়িয়ে পড়ল । ধ্বংস হল দেবালয় আর তার ভেতরের দেবতারা । তাদের দেবত্ব নষ্ট হল । মানুষকে তারা স্বপ্ন দেখাতে ব্যর্থ হল । কবির সেই মিষ্টি বাড়ির ঝুলন্ত বিছানা , গোলাপি গাছ , প্রাচীন জলতরঙ্গ সব চূর্ণ ও ভস্ম হল যুদ্ধের আগুনে । ঠিক একইভাবে শহরটাও পুড়ে গেল । বীভৎসতার চিহ্ন নিয়ে ছড়িয়ে – ছিটিয়ে পড়ে রইল কাঠকয়লা , দোমড়ানো লোহা , পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর রক্তের একটা কালো দাগ । শুধু সেই ধ্বংসস্তূপে বেঁচে থাকল মেয়েটির অপেক্ষা ও অবিচল ভালোবাসা ।

7. ” আমি তাকে ছেড়ে দিলাম কোন কবিতার অংশ ? ‘ আমি ‘ কে ? তাঁর ‘ ছেড়ে আসার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো । 

Answer : চিলিয়ান কবি পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতা থেকে উদ্ধৃত অংশটি গৃহীত । তাৎপর্য । → পাঠ্য কবিতায় ‘ আমি ‘ বলতে কবিকে বোঝানো হয়েছে । কবি এখানে কথকের ভূমিকায় স্মৃতিচারণার মাধ্যমে বর্তমানে এসে উপস্থিত হয়েছেন । কবির ব্যক্তিজীবনের ছায়া পড়েছে কবিতাটিতে । কখনও কর্মসূত্রে কখনও – বা রাজনৈতিক কারণে তাঁকে জীবনে বহুবার স্বদেশভূমি ছেড়ে আত্মগোপন করতে , কিংবা নির্বাসিত হতে হয়েছে । সেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার যন্ত্রণা ও অনুভূতি পাঠ্য কবিতার কাব্যগুণে একটা সর্বজনীন রূপ পেয়েছে । কবি জীবিকা কিংবা জীবনের তাগিদে স্বদেশভূমি ত্যাগ করে প্রিয়তমাকে অপেক্ষায় রেখে বহুদুরে চলে যান । কবি যে ফিরে আসবেন না তা অপেক্ষারতা প্রিয়তমার জানা ছিল না । কবি দেশত্যাগ করা সত্ত্বেও প্রিয়তমার জীবন আপন গতিতেই চলে । এভাবেই সপ্তাহ থেকে বছর কেটে যায় । কবির পদচিহ্ন বৃষ্টিতে ধুয়ে যায় , সেখানে ঘাস জন্মায় । বিচ্ছেদের বছরগুলো একটার পর একটা পাথরের মতো মাথায় নেমে আসে । এরপর যুদ্ধ শুরু হয় , ধ্বংস হয় ঘরবাড়ি , মৃত্যু হয় শিশুদেরও । ক্রমে ধ্বংসের সেই আগুনে দেবালয় , কবির স্বপ্নের বাড়ি এবং শহর সব কিছু ছারখার হয়ে যায় । তবু এই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বেঁচে থাকে মেয়েটির ভালোবাসা । তার অপেক্ষা , চিরন্তন ভালোবাসা অবিনাশী যা ধ্বংসস্তূপে আলোর মতো মানবহৃদয়ের বিশুদ্ধতাকে জ্বালিয়ে রাখে ।

8. যেখানে ছিল শহর’— ‘ যেখানে ‘ শব্দটি প্রয়োগ করার কারণ কা ? শহরটির কী হয়েছিল ?

Answer : উদ্ধৃতিটি পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ’ কবিতার অংশ । কথক বা কবির বাসভূমি যে শহরে , এক্ষেত্রে সেখানকার কথা বলা হয়েছে । এই শহরটি কবি বা কথকের কাছে স্মৃতিবিজড়িত , কারণ এখানেই তিনি তার প্রিয় নারীটিকে অপেক্ষমান রেখে বহুদুরে পাড়ি দিয়েছিলেন । কবির এই বাসভূমি , প্রিয় মুখের সান্নিধ্যে , প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে , স্নিগ্ধতায় ও লাবণ্যে পরিপূর্ণ ছিল । তখনও যুদ্ধের আঘাত এই শহরকে স্পর্শ করতে পারেনি বোঝাতেই কবি ‘ যেখানে ‘ শব্দটি প্রয়োগ করেছেন ।

যুদ্ধের ভয়ংকর নিষ্ঠুরতায় কবির শহর ধ্বংসের মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়ায় । যুদ্ধের আঘাতে সমস্ত সমতলজুড়ে আগুন লাগল । দেবালয়ও তার হাত থেকে রক্ষা পেল না । মানুষের মধ্যেকার যে – দেবত্বের যুদ্ধ পরবর্তী মিথ ছিল তা ধ্বংস হয়ে গেল । সেইসঙ্গে নিশ্চিহ্ন হল কবির মধুর স্মৃতিবিজড়িত সেই স্বপ্নের বাড়িটিও । কবির বারান্দায় যেখানে ঝুলন্ত বিছানায় তিনি ঘুমিয়েছিলেন , তার প্রিয় গোলাপি গাছ , ছড়ানো করতলের মতো পাতা চিমনি ও প্রিয় জলতরঙ্গ সবই ধ্বংস হল যুদ্ধের আগুনে । গোটা শহরটাই পুড়ে গেল । সেখানে ছড়িয়ে – ছিটিয়ে পড়ে রইল কাঠকয়লা , দোমড়ানো লোহা , মৃত পাথরের বীভৎস মাথা ও রক্তের একটা কালো দাগ । কবির প্রিয় শহরের প্রতিচ্ছবি , যুদ্ধের বীভৎসতা— মানুষের লোভ , হিংসা এবং বর্বরতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে , যা পাঠককে স্তম্ভিত করেছে ।

9. পাঠ্য কবিতাটি অতৃপ্ত মানবহৃদয়ের একান্ত আতির ‘ অসুখী একজন কবিতা অবলম্বনে আলোচনা করো । 

অথবা , ‘ অসুখী একজন কবিতায় বিশ্বশান্তির বার্তা নিহিত —– আলোচনা করো । 

অথবা , ‘ অসুখী একজন ‘ কবিতাটিকে যুদ্ধবিরোধী কবিতা বলা যায় । কিনা – বিশ্লেষণ করো । 

Answer : পাবলো নেরুদার কবিতা ‘ অসুখী একজন’— এই বাঞ্ছনাময় নামকরণ থেকেই বোঝা যায় যে , কবিতাটি অতৃপ্ত কোনো বাসনার প্রতিচ্ছবি । অনেক সময় কবি – সাহিত্যিকের ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিচ্ছবি যা সর্বজনের ভাবনার সঙ্গে মিলে যায় তা সাহিত্যে প্রতিফলিত হয় । আমাদের পাঠ্য কবিতাটিতেও তা ঘটেছে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ।

প্রিয় বিচ্ছেদ – অতৃপ্ত হৃদয়াতি কবিতার কথক অর্থাৎ কবি চরম অতৃপ্তি নিয়ে কোনো এক অজ্ঞাত কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন । কিন্তু তাঁর প্রিয় নারী তাঁর অপেক্ষায় থাকে , কেন – না সে জানে না যে , তার প্রিয়তম আর ফিরে আসবে না । কবিতার শেষ পর্যন্ত এই অপেক্ষাকেই আমরা দেখেছি । সময় অতিক্রান্ত হয় , আবছা হয় স্মৃতি , অপেক্ষার বছরগুলো ভারী হয় । প্রাণঘাতী যুদ্ধের বীভৎসতা তাকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে । দেবালয় , শহর সব কিছু ধ্বংস হওয়া সত্ত্বেও অতৃপ্ত হৃদয়ে সেই মেয়েটি অপেক্ষার আলোকশিখা দু – হাত দিয়ে আড়াল করে দাঁড়িয়ে থাকে । অন্যদিকে কবিও অতৃপ্ত বাসনা নিয়ে ফিরে আসতে চান তাঁর প্রতীক্ষমান ভালোবাসার কাছে । সব কিছু ধ্বংসের মাঝেও কবির হৃদয়ে অপেক্ষারতা নারীটির মৃত্যু নেই । চিরায়ত অতৃপ্ত মানবাৰ্তিই এই নারী । কবির অতৃপ্ত মন তার কাছে বার বার ফিরে যেতে চায় বলেই তিনি বলে ওঠেন , ‘ আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায় ‘ । স্পষ্টতই কবিতাটিতে কবি যুদ্ধবিরোধী মনোভাব নিয়ে বিশ্বশান্তির বার্তা প্রেরণ করেছেন পাঠকের কাছে ।

========================

(১) বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

১.১ “আমি তাকে ছেড়ে দিলাম” – তাকে কোথায় ছেড়ে দিয়েছিলেন?

(ক) অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে রেখে জানালায়

(খ) অপেক্ষায় বসিয়ে রেখে দরজায়

(গ) অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে রেখে বেলকানিতে

(ঘ) অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে রেখে দরজায়

উত্তর : (ঘ) অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে রেখে দরজায়

১.২ কবি পাবলো নেরুদার জন্মস্থান ছিল –

(ক) আমেরিকা

(খ) চিলি

(গ) মেক্সিকো

(ঘ) জার্মানি

উত্তর (খ) চিলি

১.৩ “সে জানতো না আমি আর কখনো ফিরে আসবো না”। – এখানে ‘সে’ হল –

(ক) একটি লোক

(খ) একটি যুবক

(গ) একজন মা

(ঘ) একটি মেয়ে

উত্তর : (ঘ) একটি মেয়ে

১.৪ পাবলো নেরুদার প্রকৃত নাম হল –

(ক) নেফতালি রিকার্দো রেইয়েস বাসোয়ালতো

(খ) জান নেরুদা

(গ) রেয়েন্স রিকার্দো নেফতালি বাসোয়ালতো

(ঘ) পল ভারলেইন

উত্তর : (ক) নেফতালি রিকার্দো রেইয়েস বাসোয়ালতো

১.৫ “বৃষ্টিতে ধুয়ে দিল আমার পায়ের দাগ” – বৃষ্টি কখন বক্তার পায়ের দাগ ধুয়ে দিল?

(ক) বক্তার মৃত্যুকালে

(খ) শরৎকালের

(গ) বর্ষাকালে

(ঘ) বক্তার গৃহত্যাগের এক বছর পর

উত্তর : (ঘ) বক্তার গৃহত্যাগের এক বছর পর

১.৬ “তারপর যুদ্ধ এলো” –

(ক) পাহাড়ের আগুনের মত

(খ) রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মত

(গ) দাবানলের মত

(ঘ) রক্তের সমুদ্রের মতো

উত্তর : (খ) রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মত

১.৭ “সেই মেয়েটির মৃত্যু হল না”। – এখানে কোন মেয়েটির কথা বলা হয়েছে?

(ক) কথকের স্ত্রী

(খ) কথকের মা

(গ) কথকের জন্য অপেক্ষারত মেয়েটি

(ঘ) কথকের মেয়ে

উত্তর : (গ) কথকের জন্য অপেক্ষারত মেয়েটি

১.৮ “শিশু আর বাড়িরা খুন হলো”। – এদের খুন হওয়ার কারণ –

(ক) বাড়িতে ডাকাত পড়েছিল

(খ) দাঙ্গায়

(গ) মন্বন্তরে

(ঘ) যুদ্ধে

উত্তর : (ঘ) যুদ্ধে

১.৯ “যারা হাজার বছর ধরে ডুবেছিল ধ্যানে”। – কারা হাজার বছর ধ্যানে ডুবেছিল?

(ক) শান্ত দেবদেবীরা

(খ) শান্ত হলুদ দেবতারা

(গ) সন্ন্যাসীরা

(ঘ) মহাপুরুষেরা

উত্তর : (খ) শান্তহলুদ দেবতারা

১.১০ “রক্তের একটা কালো দাগ”। – দাগটা কালো কেন?

(ক) রক্তপাতের পর বহু সময় অতিক্রান্ত

(খ) রক্তের সঙ্গে রং মেশানো

(গ) রক্ত শুকিয়ে গেছে তাই

(ঘ) রক্তের রং কালো ছিল

উত্তর : (ক) রক্তপাতের পর বহু সময় অতিক্রান্ত

(২) অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

২.১ পাবলো নেরুদা কত খ্রিস্টাব্দে এবং কোন বিষয়ে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন?

উত্তর : ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে, সাহিত্যে।

২.২ “আমি তাকে ছেড়ে দিলাম”। – বক্তা কাকে ছেড়ে দিয়েছিলেন?

উত্তর : বক্তা তার প্রিয়তমাকে ছেড়ে দিয়েছিলেন।

২.৩ “একটা কুকুর চলে গেল, হেঁটে গেল গির্জার এক নান” – কোন সময়ের কথা এখানে বলা হয়েছে?

উত্তর : যুদ্ধ পূর্ববর্তী কালে বক্তার গৃহ ত্যাগের সময়।

২.৪ “তারপর যুদ্ধ এল” – এখানে কোন্ যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে?

উত্তর : স্পেনের গৃহযুদ্ধের কথা বলা হয়েছে।

২.৫ “সমস্ত সমতলে ধরে গেল আগুন” – আগুন ধরার কারন কি?

উত্তর : স্পেনে যুদ্ধকালীন সময়ে যুদ্ধের তাণ্ডবে সমস্ত সমতলে আগুন ধরে গিয়েছিল।

২.৬ “উল্টে ড়লো মন্দির থেকে” – এখানে কাদের উল্টে পড়ার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর : হাজার বছর ধরে ধ্যানেমগ্ন শান্ত হলুদ দেবতাদের কথা বলা হয়েছে।

২.৭ “সেখানে ছড়িয়ে রইল কাঠ-কয়লা” – কোথায় কাঠ-কয়লা ছড়িয়ে ছিল?

উত্তর : যেখানে আগে বড় শহর ছিল যুদ্ধের পর সেখানে কাঠ কয়লা ছড়িয়ে রইল।

(৩) ব্যাখ্যা ভিত্তিক প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও :

প্রশ্নঃ ‘সেই মেয়েটির মৃত্যু হলো না।’ – কোন মেয়েটির কেন মৃত্যু হল না?

উত্তরঃ পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতার কথকের জন্য অপেক্ষারতা যে মেয়েটির উল্লেখ পাওয়া যায়, তার কথা বলা হয়েছে। মেয়েটির পরিচয় মেয়েটি জানত না যে, তার প্রিয়তম আর ফিরে আসবে না। জীবন আপন ছন্দে চলল, ক্রমে সপ্তাহ – বছর অতিক্রান্ত হল। কবির পদচিহ্ন বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল, তবু অপেক্ষা চলল। এরপর যুদ্ধের গ্রাসে নগর, দেবালয় চূর্ণবিচূর্ণ হল এবং মৃত্যু হল শিশুসহ অজস্র মানুষের। শুধু অপেক্ষমান মেয়েটির মৃত্যু হল না কারণ ভালোবাসা অমর, চিরন্তন ও শাশ্বত।

প্রশ্নঃ ‘সেখানে ছড়িয়ে রইল কাঠকয়লা’ – বলতে কবি প্রশ্নোদৃত অংশে কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তরঃ পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতাটিতে কোনো এক অজ্ঞাত কারণে কবি প্রিয়তমা, ঘরবাড়ি, এমনকি তাঁর প্রিয় শহরও ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। এরপরে একদিন আসে বীভৎস যুদ্ধ। যার করাল গ্রাসে কবির ঘরবাড়ি, দেবালয় সমস্ত কিছু চূর্ণ হয়ে আগুনে জ্বলে যায়, শহরটিও বাদ যায় না। এক সময়ের সুন্দর শহরে ছড়িয়ে থাকে কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর রক্তের দাগ। আসলে শহরের বিধ্বংসী রূপটি তুলে ধরতেই উদ্ধৃতিটি ব্যবহৃত হয়েছে।

প্রশ্নঃ ‘কমন উল্টে পড়ল মন্দির থেকে টুকরো টুকরো হয়ে’ – মন্দির থেকে কী উলটে পড়ল? কী কারণে উলটে পড়েছিল ? 

উত্তরঃ পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতা অনুসারে মন্দির থেকে শান্ত হলুদ দেবতারা উলটে পড়েছিল।

আগ্নেয়পাহাড়ের মতো ভয়াবহ যুদ্ধ সমতলে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই যুদ্ধের লেলিহান শিখায় ধ্বংস হয়েছিল মন্দির ও বিগ্রহ। কবির ভাষায় ‘শান্ত হলুদ’ দেবতাদের দেবালয় টুকরো টুকরো হয়ে উলটে পড়ে। অর্থাৎ যুদ্ধের রক্তক্ষয়ী স্পর্শে মানুষের অন্তরমনের হাজার বছরের জীর্ণ বিশ্বাস টাল খায়। যুদ্ধ যেন দেবত্বের ধ্যানস্থ–নিষ্ক্রিয় অবস্থাকেও ভেঙে চুরমার করে।

প্রশ্নঃ ‘বৃষ্টিতে ধুয়ে দিল আমার পায়ের দাগ/ঘাস জন্মালো রাস্তায়’ – উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ উদ্ধৃতাংশের তাৎপর্য উত্তর উদ্ধৃতিটি পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতা থেকে গৃহীত। কথক তাঁর প্রিয়তমাকে অপেক্ষমান রেখে জীবন ও জীবিকার তাগিদে বহুদুরে পাড়ি দেন। থমকে যায় মেয়েটির জীবন কিন্তু সময় থেমে থাকে না। তাই কথকের চলে যাওয়াতে জীবনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয় না। সপ্তাহ – বছর কেটে যায় । প্রাকৃতিক নিয়মেই কথকের চলার পথের পদচিহ্ন মুছে যায়। তাতে ঘাস জন্মায়। কিন্তু কবির চলে যাওয়ার মুহূর্তটি তার প্রিয়তমার হৃদয়ে অন্তহীন অপেক্ষার মুহূর্ত হয়ে রয়ে যায়।

প্রশ্নঃ ‘আমি তাকে ছেড়ে দিলাম’ – কবি কাকে ছেড়ে দিলেন? তাকে তিনি কীভাবে রেখে এসেছিলেন?

উত্তরঃ পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতা থেকে গৃহীত অংশে কথক তাঁর প্রিয় নারীকে অপেক্ষায় রেখে নিজ বাসভূমি ছেড়ে দূরে চলে গিয়েছিলেন।

স্বদেশ ছেড়ে দূর থেকে দূরতর কোনো স্থানে চলে যাওয়ার সময় তিনি দরজায় তাঁর অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে রেখে যান কোনো এক প্রিয়জনকে। যদিও সে জানত না যে , কবি আর কখনও ফিরে আসবে না। এইভাবেই কবি এক চিরকালীন বিদায় মুহূর্তের ছবি এঁকেছেন।

প্রশ্নঃ ‘সে জানত না’ – কী জানত না? না জানা বিষয়টি বিশ্লেষণ করো। 

উত্তরঃ নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতায় অপেক্ষাতুরা মেয়েটির একথা জানা ছিল না যে, কবি আর কখনও স্ববাসভূমিতে ফিরে আসবেন না। পাঠ্য কবিতাটি শুরু হয় এক বিদায়দৃশ্যকে অবলম্বন করে। বাড়ির দরজায় প্রিয়তমাকে ফেলে রেখে কবি চলে যান বহুদুরের অজ্ঞাত কোনো স্থানে। এই যাত্রার কারণ কবিতায় উল্লিখিত হয় না। কিন্তু এটা স্পষ্ট হয়ে ফুটে ওঠে তিনি তাঁর ভালোবাসার নারী, প্রিয় না – জানা বিষয়টি ঘরবাড়ি এবং পছন্দের শহরটিকে ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। এই সমস্ত কিছুর সঙ্গে চিরবিচ্ছেদের এ ঘটনা কবিকে পীড়িত ও বিচলিত করে। অথচ মেয়েটি তা বুঝতে পারে না। মেয়েটির জীবনে প্রিয়তমের জন্য অন্তহীয় অপেক্ষার পালা এভাবেই নীরবে নেমে আসে।

প্রশ্নঃ যুদ্ধকে ‘রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়’ বলা হয়েছে কেনো? 

উত্তরঃ উদ্ধৃত প্রসঙ্গটি কবি পাবলো নেরুদা রচিত ‘অসুখী একজন’ কবিতা থেকে গৃহীত।

আগ্নেয় পাহাড় কারণ কবিতায় যুদ্ধকে কবি আগ্নেয়পাহাড়ের সঙ্গে তুলনা করেছে। আগ্নেয়পাহাড় চারপাশে ছড়িয়ে দেয় জ্বলন্ত লাভা। আর সেই আগুনে ছাই হয় জীবনের যাবতীয় চিহ্ন। ঠিক তেমনই যুদ্ধের ফলে মানুষের মনে জমে থাকা হিংসা–দ্বেষ আর ঘৃণা লাভার মতো ছিটকে ওঠে। অপমৃত্যু ঘটে মানবতার। এই মৃত্যুময় ধ্বংসলীলার নারকীয় রূপটিকে ফুটিয়ে তুলতেই কবি যুদ্ধকে, ‘রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়’ বলেছেন।

প্রশ্নঃ ‘শান্ত হলুদ দেবতারা’ – দেবতাদের ‘শান্ত হলুদ’ বলা হয়েছে কেন? তাদের কী পরিণতি হয়েছিল? 

উত্তরঃ ‘অসুখী একজন’ কবিতায় কবি চলে যাওয়ার পর একসময় যুদ্ধ বাধল। সেই যুদ্ধের বীভৎসতায় নগরসভ্যতা, কবির স্বপ্নের বাড়ি–ঘর সব চূর্ণ হয়ে গেল, এমনকি ধ্বংস হল দেবতাদের মন্দিরও। হাজার হাজার বছরের যে দেবতারা মানুষের মনে বিশ্বাস জাগিয়ে এসেছেন, যুদ্ধ তাদেরও আসনচ্যুত করল। প্রাচীন দেবতাদের নিষ্ক্রিয়তা ও জীর্ণতাকে বোঝাতে হলুদ ও শান্ত বলা হয়েছে। যুদ্ধের আগুনে নগর পুড়লে দেবালয়ও বাদ যায় না। মানুষের মনে দেবতারা যে বিশ্বাস বোধের জন্ম দিয়েছিল, তা পরিণতি ধ্বংস হল।

প্রশ্নঃ ‘তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।’ – উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। 

উত্তরঃ উদ্ধৃত অংশটি পাবলো নেরুদার কবিতা ‘অসুখী একজন’ থেকে গৃহীত।

এখানে কবি বিনাশ ও ধ্বংসের কলরোলে দৈবীমহিমার অসারতার প্রতি কটাক্ষপাত করেছেন। মানবতার অপচয় প্রাণহানি কিংবা চূড়ান্ত বীভৎসতার সময় কোনো দৈব মাহাত্ম্য প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে না। উদ্ধৃতাংশের তাৎপর্য মানুষের মতোই একইরকমভাবে যুদ্ধ-তাণ্ডবের ভয়াবহতায় তারাও নিরাশ্রয়, অস্তিত্বহীন এবং চূর্ণবিচূর্ণ হয়। তাই এককথায় দৈব ক্ষমতার ফানুস চুরমার হয়ে যাওয়ায় তাদের যেন মানুষকে স্বপ্ন দেখানোর ক্ষমতা লোপ পায়। আলোচ্য অংশে কবির এই ভাবনাই প্রকাশ পেয়েছে।

প্রশ্নঃ ‘আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায়।’ – মেয়েটি কে? সে অপেক্ষা করে কেন?

উত্তরঃ পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতায় ‘সেই মেয়েটি’ হল কথকের প্রিয়তমা, যাকে রেখে কবি বহুদূরে চলে গিয়েছিলেন। কবি যে আর ফিরে আসবেন না এ কথা তার প্রিয়তমা জানত না। তার অপেক্ষার বোঝা গভীর থেকে গভীরতর হলেও সে ভেঙে পড়েনি। এই মেয়েটিকে ধ্বংস যেন স্পর্শ করতে পারে না; মৃত্যু – যুদ্ধ – হিংসা, দাঙ্গার স্পর্শ পেরিয়েও তাই সে অমলিন থাকে। কারণ ভালোবাসার কখনও মৃত্যু হয় না। সেসময় থেকে সময়ান্তরে অপেক্ষা করে বয়ে চলে নিজস্ব ধারায়।

(৪) রচনাধর্মী প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

প্রশ্নঃ ‘তারপর যুদ্ধ এল’ — পাঠ্য কবিতায় কবি যুদ্ধের যে আশ্চর্য করুণ ও মর্মস্পর্শী ছবি এঁকেছেন, তা নিজের ভাষায় আলোচনা করো। 

উত্তরঃ চিলিয়ান কবি পাবলো নেরুদা জীবনযুদ্ধের একজন লড়াকু সৈনিক। চোখের সামনে ঘটে যাওয়া দুই বিশ্বযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি। তাই পাঠ্য কবিতায় তিনি যুদ্ধের যে করুণ ও মর্মস্পর্শী ছবি এঁকেছেন তা অত্যন্ত বাস্তবোচিত। ‘অসুখী একজন’ কবিতাটি আসলে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এক শাশ্বত ভালোবাসার গল্প। কবি যুদ্ধের বীভৎসতার মাঝে প্রেম যে অনির্বাণ তা দেখাতে গিয়ে খণ্ড খণ্ড যুদ্ধের চিত্র তুলে ধরেছেন। কবি তাঁর প্রিয়তমাকে অপেক্ষায় রেখে দূরে চলে যাওয়ার পর একদিন ভয়াবহ বীভৎসতা নিয়ে যুদ্ধ নেমে এল। মানুষ আশ্রয়হীন হল। নৃশংসতার হাত থেকে রেহাই পেল না শিশুরাও। দাবানলের মতো যুদ্ধের আগুন সমতলে ছড়িয়ে পড়ল। ধ্বংস হল দেবালয় আর তার ভেতরের দেবতারা। তাদের দেবত্ব নষ্ট হল। মানুষকে তারা স্বপ্ন দেখাতে ব্যর্থ হল। কবির সেই মিষ্টি বাড়ির ঝুলন্ত বিছানা, গোলাপি গাছ, প্রাচীন জলতরঙ্গ সব চূর্ণ ও ভস্ম হল যুদ্ধের আগুনে। ঠিক একইভাবে শহরটাও পুড়ে গেল। বীভৎসতার চিহ্ন নিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রইল কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর রক্তের একটা কালো দাগ। শুধু সেই ধ্বংসস্তূপে বেঁচে থাকল মেয়েটির অপেক্ষা ও অবিচল ভালোবাসা।

প্রশ্নঃ ‘অসুখী একজন’ — কবিতায় কাকে ‘অসুখী’ বলা হয়েছে? তার অসুখী হওয়ার নেপথ্যে কোন্ কারণ রয়েছে?

উত্তরঃ পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতায় প্রিয়তমের জন্য অপেক্ষারতা মেয়েটিকে অসুখী বলা হয়েছে। আবার ফিরে আসতে উৎসুক কবি–হৃদয়ও এক্ষেত্রে একইভাবে অসুখী।

একদিন কবি স্বদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। তাঁর এই নিষ্ক্রমণ চিরদিনের জন্য। অথচ অপেক্ষমান প্রিয়তমার এ সত্য জানা নেই। যদিও জীবন নিজস্ব ছন্দে বয়ে চলে। দৈনন্দিনতার গতি কবির স্মৃতিকে ক্রমশ ফিকে অসুখী হওয়ার কারণ করে তোলে, বছর গড়ায়। কিন্তু ভালোবাসার মেয়েটির কাছে এই অন্তহীন অপেক্ষা গভীর ও ভারী পাথরের আঘাতের মতোই শ্বাসরুদ্ধকারী হয়ে ওঠে। এরপর যুদ্ধের বীভৎসতা সমস্ত সমতলকে গ্রাস করে। ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয় দেবতা ও দেবালয়। ধ্বংসের লেলিহান আগুনে ক্রমে জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যায়। কবির প্রিয় বাড়ি, বারান্দার ঝুলন্ত বিছানা, গোলাপি গাছ, করতলের মতো পাতা চিমনি, প্রাচীন জলতরঙ্গ এই সব কিছু। মানুষ তার আশ্রয় হারায়। যুদ্ধের নৃশংসতায় শিশুরাও খুন হয়। শহরের বদলে সেখানে ছড়িয়ে থাকে কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর রক্তের কালো দাগ। শুধু অপেক্ষারতা সেই মেয়েটিকে কোনো বিনাশ স্পর্শ করতে পারে না। সমূহ ধ্বংস আর বর্বরতার মধ্যেও অসুখী মেয়েটি তার ভালোবাসার আর্তি ও আকুতিকে অনির্বাণ দীপশিখার মতো জ্বালিয়ে রাখে।

প্রশ্নঃ ‘যেখানে ছিল শহর’ – ‘যেখানে’ শব্দটি প্রয়োগ করার কারণ কী? শহরটির কী হয়েছিল?

উত্তরঃ উদ্ধৃতিটি পাবলো নেরুদার ‘ অসুখী একজন ’ কবিতার অংশ । কথক বা কবির বাসভূমি যে শহরে, এক্ষেত্রে সেখানকার কথা বলা হয়েছে। এই শহরটি কবি বা কথকের কাছে স্মৃতিবিজড়িত, কারণ এখানেই তিনি তার প্রিয় নারীটিকে অপেক্ষমান রেখে বহুদুরে পাড়ি দিয়েছিলেন। কবির এই বাসভূমি, প্রিয় মুখের সান্নিধ্যে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে, স্নিগ্ধতায় ও লাবণ্যে পরিপূর্ণ ছিল। তখনও যুদ্ধের আঘাত এই শহরকে স্পর্শ করতে পারেনি বোঝাতেই কবি ‘যেখানে’ শব্দটি প্রয়োগ করেছেন।

যুদ্ধের ভয়ংকর নিষ্ঠুরতায় কবির শহর ধ্বংসের মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়ায়। যুদ্ধের আঘাতে সমস্ত সমতলজুড়ে আগুন লাগল। দেবালয়ও তার হাত থেকে রক্ষা পেল না। মানুষের মধ্যেকার যে দেবত্বের যুদ্ধ পরবর্তী মিথ ছিল তা ধ্বংস হয়ে গেল। সেইসঙ্গে নিশ্চিহ্ন হল কবির মধুর স্মৃতিবিজড়িত সেই স্বপ্নের বাড়িটিও। কবির বারান্দায় যেখানে ঝুলন্ত বিছানায় তিনি ঘুমিয়েছিলেন, তার প্রিয় গোলাপি গাছ, ছড়ানো করতলের মতো পাতা চিমনি ও প্রিয় জলতরঙ্গ সবই ধ্বংস হল যুদ্ধের আগুনে। গোটা শহরটাই পুড়ে গেল । সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রইল কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, মৃত পাথরের বীভৎস মাথা ও রক্তের একটা কালো দাগ। কবির প্রিয় শহরের প্রতিচ্ছবি, যুদ্ধের বীভৎসতা মানুষের লোভ, হিংসা এবং বর্বরতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে, যা পাঠককে স্তম্ভিত করেছে।

প্রশ্নঃ ‘শিশু আর বাড়িরা খুন হলো।’ – ‘শিশু আর বাড়িরা’ কীভাবে খুন হল? ‘খুন’ শব্দটি ব্যবহারের সার্থকতা বিচার করো।

উত্তরঃ আলোচ্য পঙ্ক্তিটি পাবলো নেরুদার লেখা ‘অসুখী একজন’ কবিতাটি থেকে গৃহীত। ভয়াবহ এক যুদ্ধে কথকের শহরের শিশু আর গৃহস্থ মানুষেরা খুন হল। কবিতায় ‘বাড়িরা’ বলতে বাড়ির মানুষদের বোঝানো হয়েছে।

খুন শব্দ ব্যবহারের সার্থকতা কথক তাঁর প্রিয়তমাকে অপেক্ষায় রেখে দূরে চলে যাওয়ার পর বছর কেটে গেল। একসময় শুরু হল ভয়ানক যুদ্ধ। যুদ্ধের আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে গেল কথকের প্রিয় শহর। ভেঙে পড়ল মন্দির আর মন্দিরের ভেতরের দেবমূর্তি। এমনকি সেই যুদ্ধের হিংস্রতা থেকে রক্ষা পেল না নিরপরাধ শিশুরাও। শহরের বাড়িগুলোও ধ্বংস হল একে একে। এখানে কবি ‘বাড়িরা’ শব্দটি প্রয়োগের মাধ্যমে ঘরবাড়ির মতো জড়পদার্থেও প্রাণের সঞ্চার করেছেন। শিশুদের মতো বাড়িও যে মানুষের পরম আদরের, মমতার সেটা বোঝাতেই কবি ‘বাড়িরা’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। যুদ্ধজনিত কারণে মৃত্যুকে সাধারণভাবে ‘খুন’ বলা হয় না। কিন্তু এখানে কবি ইচ্ছাকৃত ভাবেই ‘খুন’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। কিছু যুদ্ধবাজ মানুষ স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে যুদ্ধ বাধায়। কিন্তু তার মাশুল গুনতে হয় দেশের অগণিত সাধারণ মানুষকে। সেই ভয়ানক ধ্বংসলীলায় মানুষ হারায় তার পরিবার, প্রিয়জন, এমনকি শেষ আশ্রয়টুকুও। যুদ্ধের এই ভয়ংকর পরিণতিকে ফুটিয়ে তুলতে কবি এই কবিতায় ‘খুন’ শব্দটি যথাযথভাবে ব্যবহার করেছেন।

প্রশ্নঃ অপেক্ষারত প্রিয়জনের কাছে ফিরতে না পারার যে বেদনা ‘অসুখী একজন’ কবিতায় ব্যক্ত হয়েছে আলোচনা করো। 

উত্তরঃ কবি পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতায় মানবমনের এক চিরন্তন সত্য প্রকাশ পেয়েছে। কবি যেন কোনো এক নারীকে তাঁরই অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে দূরে চলে যান। সেই অপেক্ষারতা যদিও জানত না যে, কবি আর কখনও ফিরবেন না।

কবিতার আরম্ভের বিচ্ছেদদৃশ্যে লুকিয়ে থাকে দুজন নরনারীর চিরকালীন প্রত্যাশা ও অপেক্ষার বীজ। যদিও জীবন তার উদ্ধৃতাংশের তাৎপর্য নিজের গতিতে চলতে থাকে। টুকরো টুকরো প্রাত্যহিকতায় সপ্তাহ আর বছর কেটে যায়। বৃষ্টিতে কবির পদচিহ্ন ধুয়ে, ‘ঘাস জন্মালো রাস্তায়’। কবির অস্তিত্ব অনেকের মন থেকেই একটু একুট করে মুছে যেতে থাকে। কিন্তু পাথরের মতো ভারী, গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণায় সেই অপেক্ষারতা নারীর দিন কাটে। এরপর আসে যুদ্ধ। সমতলে আগুন ধরায়। ধ্বংস হয় মানুষের স্বপ্নের আশ্রয়। রক্ষা পায় না শিশুরাও। এতদিনকার রক্ষণশীলতার প্রতীক মন্দির আর মন্দিরের দেবমূর্তিগুলো ধূলিসাৎ হয়। কবির মিষ্টি বাড়িটিও ধ্বংস হয়। যুদ্ধের আগুনে ভস্মীভূত হয় সমস্ত শহর। যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকে কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা ও রক্তের শুকনো কালো দাগ। শুধু এই যুদ্ধের বীভৎসতা ছুঁতে পারে না কবির সেই প্রিয় অপেক্ষারতার ভালোবাসাকে। ধ্বংস ও বিনাশের হাজার লেলিহান শিখা তাকে কোনোমতেই ধ্বংস করতে পারে না। সময়ান্তরে প্রবহমান মানবহৃদয়ের যন্ত্রণা, আকুতি ও আর্তিই সেই মেয়েটির মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে, অনুভূতির অবিনাশী প্রকাশ হিসেবে।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *