



চতুর্থ শ্রেনি
‘আমাদের পরিবেশ’
বই থেকে অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
————–———————————————————–
দশম অধ্যায়
স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও সংগ্রহশালা (পৃষ্ঠা: ৪১০-৪৩৮)
প্রশ্ন ও উত্তর
————————————————————————-
প্রশ্ন ১: স্থাপত্য বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: পুরনো দিনের তৈরি ইমারত, মন্দির, মসজিদ বা গির্জাকে স্থাপত্য বলা হয় (যেমন- কোনারকের মন্দির)।
প্রশ্ন ২: ভাস্কর্য কাকে বলে?
উত্তর: পাথর বা মাটি খোদাই করে দেবদেবী বা মানুষের মূর্তি ও নকশা তৈরি করাকে ভাস্কর্য বলে।
প্রশ্ন ৩: টেরাকোটা কী?
উত্তর: কাদা মাটির তৈরি ফলক বা মূর্তি আগুনে পুড়িয়ে স্থায়ী রূপ দেওয়াকে টেরাকোটা বা পোড়ামাটির কাজ বলে।
প্রশ্ন ৪: পশ্চিমবঙ্গের কোন জায়গাটি পোড়ামাটির বা টেরাকোটার কাজের জন্য বিখ্যাত?
উত্তর: বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর।
প্রশ্ন ৫: বিষ্ণুপুরের রাসমঞ্চ কে তৈরি করেছিলেন?
উত্তর: মল্লরাজা বীর হাম্বীর।
প্রশ্ন ৬: আদিনা মসজিদ পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলায় অবস্থিত?
উত্তর: মালদহ জেলার পাণ্ডুয়ায়।
প্রশ্ন ৭: আদিনা মসজিদ কে তৈরি করেছিলেন?
উত্তর: সুলতান সিকান্দার শাহ।
প্রশ্ন ৮: হাজারদুয়ারি কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: মুর্শিদাবাদ জেলায়।
প্রশ্ন ৯: হাজারদুয়ারি স্থাপত্যটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: এখানে ১০০০টি দরজা আছে, যার মধ্যে অনেকগুলোই নকল দরজা।
প্রশ্ন ১০: সংগ্রহশালা বা মিউজিয়াম (Museum) বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যেখানে প্রাচীনকালের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও দুর্লভ জিনিসপত্র যত্ন করে সাজিয়ে রাখা হয়।

প্রশ্ন ১১: পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় অবস্থিত একটি বিখ্যাত স্থাপত্যের নাম লেখো।
উত্তর: ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল।
প্রশ্ন ১২: বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল মিউজিয়াম কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: কলকাতায়।
প্রশ্ন ১৩: কোণারকের সূর্য মন্দির কোন রাজ্যে অবস্থিত?
উত্তর: ওড়িশা রাজ্যে।
প্রশ্ন ১৪: কোণারকের সূর্য মন্দিরটি দেখতে কেমন?
উত্তর: মন্দিরটি একটি বিশাল রথের মতো, যাতে ২৪টি চাকা এবং ৭টি ঘোড়া আছে।
প্রশ্ন ১৫: জামা মসজিদ কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: দিল্লির লালকেল্লার পাশে।
প্রশ্ন ১৬: দিল্লির লালকেল্লা কোন মুঘল সম্রাট তৈরি করেছিলেন?
উত্তর: সম্রাট শাহজাহান।
প্রশ্ন ১৭: তাজমহল কেন তৈরি করা হয়েছিল?
উত্তর: সম্রাট শাহজাহান তাঁর স্ত্রী মমতাজের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এটি তৈরি করেছিলেন।
প্রশ্ন ১৮: ব্যান্ডেল চার্চ পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলায় অবস্থিত?
উত্তর: হুগলি জেলায়।
প্রশ্ন ১৯: ব্যান্ডেল চার্চ কত সালে তৈরি হয়েছিল?
উত্তর: ১৫৯৯ সালে (এটি পশ্চিমবঙ্গের প্রাচীনতম খ্রিস্টান গির্জা)।
প্রশ্ন ২০: শান্তিনিকেতনের ‘উত্তরায়ণ’ ভবনটি কেন বিখ্যাত?
উত্তর: কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখানে বাস করতেন।

প্রশ্ন ২১: দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির কে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
উত্তর: রানী রাসমণি।
প্রশ্ন ২২: সুন্দরবনের স্থাপত্যগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: এগুলো প্রধানত মাটির তৈরি কেল্লা বা ইটের তৈরি প্রাচীন মন্দির।
প্রশ্ন ২৩: নব্য স্থাপত্য বলতে কী বোঝো?
উত্তর: আধুনিক সময়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ইমারত বা স্থাপত্য।
প্রশ্ন ২৪: পাহাড়ের গা খোদাই করে তৈরি স্থাপত্যের নাম বলো।
উত্তর: অজন্তা ও ইলোরার গুহাচিত্র ও ভাস্কর্য।
প্রশ্ন ২৫: বিষ্ণুপুরের টেরাকোটার কাজে কোন মহাকাব্যের কাহিনী ফুটে উঠেছে?
উত্তর: রামায়ণ ও মহাভারতের কাহিনী।
প্রশ্ন ২৬: রেল মিউজিয়াম বা রেল সংগ্রহশালা কোথায় আছে?
উত্তর: হাওড়া জেলায়।
প্রশ্ন ২৭: প্রাচীনকালের স্থাপত্যগুলোতে কোন ধরণের ইট ব্যবহার করা হতো?
উত্তর: এখনকার চেয়ে অনেক পাতলা ও ছোট আকারের ইট।
প্রশ্ন ২৮: মুর্শিদাবাদের ইমামবাড়া কে তৈরি করেন?
উত্তর: নবাব সিরাজউদ্দৌলা।
প্রশ্ন ২৯: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ‘ধাত্রীদেবতা’ কোন জেলায়?
উত্তর: বীরভূম জেলার লাভপুরে।
প্রশ্ন ৩০: কেল্লা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যা শত্রুর আক্রমণ থেকে রাজপ্রাসাদ বা শহরকে রক্ষা করার জন্য শক্ত দেওয়াল দিয়ে ঘেরা থাকতো।

প্রশ্ন ৩১: স্থাপত্য ও ভাস্কর্য থেকে আমরা কী জানতে পারি?
উত্তর: সেকালের ইতিহাস, সংস্কৃতি, মানুষের পোশাক এবং শিল্পকলা সম্পর্কে জানা যায়।
প্রশ্ন ৩২: বড় সোনা মসজিদ কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: মালদহ জেলার গৌড়ে।
প্রশ্ন ৩৩: আমাদের রাজ্যে পোড়ামাটির কাজ আর কোথায় দেখা যায়?
উত্তর: মেদিনীপুর ও বীরভূমের বিভিন্ন মন্দিরে।
প্রশ্ন ৩৪: কলকাতার রাজভবন কিসের উদাহরণ?
উত্তর: ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্যের উদাহরণ।
প্রশ্ন ৩৫: কলকাতায় অবস্থিত এশিয়া মহাদেশের প্রাচীনতম মিউজিয়াম কোনটি?
উত্তর: ভারতীয় সংগ্রহশালা বা ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম।
প্রশ্ন ৩৬: ভাস্কর্য তৈরিতে কী কী ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: পাথর, কাঠ, হাড়, পোড়ামাটি ও বিভিন্ন ধাতু (যেমন- ব্রোঞ্জ)।
প্রশ্ন ৩৭: বেলুর মঠ কার আদর্শে তৈরি করা হয়েছে?
উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে।
প্রশ্ন ৩৮: পোড়ামাটির মন্দিরগুলো কেন লাল রঙের হয়?
উত্তর: কারণ পোড়ানো মাটির রঙ লালচে হয়।
প্রশ্ন ৩৯: রাজবাড়ির স্থাপত্যগুলো সংরক্ষণের দায়িত্ব কাদের?
উত্তর: সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এবং সাধারণ মানুষের।
প্রশ্ন ৪০: স্থাপত্য বা ভাস্কর্য আমাদের কেন রক্ষা করা উচিত?
উত্তর: কারণ এগুলো আমাদের দেশের সম্পদ এবং গৌরবের ইতিহাস বহন করে।
(উৎস: ‘আমাদের পরিবেশ’, চতুর্থ শ্রেণি, পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ)

Like this:
Like Loading...
Related