বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ

বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ (তৃতীয় অধ্যায়) – মাধ্যমিক দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান প্রশ্ন ও উত্তর | West Bengal Madhyamik Class 10th Life Science Question and Answer 

MCQ প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ (তৃতীয় অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer :

  1. বংশগতির জনক বলা হয়–

(A) ডারউইনকে /

(B) ল্যামার্ককে /

(C) মেন্ডেলকে /

(D) দ্য ভ্রিসকে

Ans: (C) মেন্ডেলকে /

  1. দু’টি সংকর লম্বা মটর গাছের মধ্যে সংকরায়ণের ফলে উৎপন্ন সংকর লম্বা মটর গাছ পাওয়া যাবে—

(A) 25 % /

(B) 50 % /

(C) 75 % /

(D) 100 % .

Ans: (B) 50 % /

  1. নীচের কোনটি অটোজোম জিনঘটিত রোগ ?

(A) বর্ণান্ধতা /

(B) হিমোফিলিয়া /

(C) থ্যালাসেমিয়া /

(D) সবক’টি

Ans: (C) থ্যালাসেমিয়া

  1. নীচের কোনটি প্রকট গুণ তা শনাক্ত করো –

(A) কান্ডের দৈঘ্য বেঁটে

(B) বীজের আকার – কুঞিত

(C) বীজপত্রের বর্ণ – হলুদ

(D) ফুলের বর্ণ – সাদা ।

Ans: (C) বীজপত্রের বর্ণ – হলুদ

  1. RRYY জিনোটাইপযুক্ত মটরগাছ থেকে কত ধরনের গ্যামেট উৎপন্ন হয় তা নির্ধারণ করো

(A) এক ধরনের

(B) চার ধরনের

(C) দুই ধরনের

(D) তিন ধরনের ।

Ans: (A) এক ধরনের

  1. নীচের কোন দুটি জিনোটাইপ মটর গাছের কুঞ্চিত হলুদ ফিনোটাইপের জন্য দায়ী তা বাছাই করো

(A) RRYY ও rryy

(B) RRYys RrYy

(C) RRyys Rryy

(D) IrYY ও rrYy ।

Ans: (D) IrYY ও rrYy ।

  1. একই জিনের বিভিন্ন রূপভেদকে বলে—

(A) জিনোটাইপ /

(B) ফিনোটাইপ /

(C) লোকাস /

(D) অ্যালিল

Ans: (D) অ্যালিল

  1. একজন স্বাভাবিক পুরুষ ও একজন বর্ণান্ধতাবাহক | মহিলার সন্তানরা কীরূপ হবে ?

(A) সব পুত্র বর্ণান্ধ /

(B) অর্ধেক পুত্র বর্ণান্ধ /

(C) সব কন্যাই বাহক /

(D) সব পুত্র বাহক

Ans: (B) অর্ধেক পুত্র বর্ণান্ধ

  1. বর্ণান্ধ মানুষ যে রং পৃথক করতে পারে না সেটি হলো—

(A) লাল – নীল /

(B) লাল – হলুদ /

(C) সাদা – হলুদ /

(D) লাল – সবুজ

Ans: (D) লাল – সবুজ

  1. মেন্ডেল তাঁর পরীক্ষার জন্য মটর গাছের কতগুলি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করেন ?

(A) 3 জোড়া /

(B) 5 জোড়া /

(C) 7 জোড়া /

(D) 9 জোড়া

Ans: (C) 7 জোড়া

  1. একটি সংকর দীর্ঘ ( Tt ) এবং একটি বিশুদ্ধ খর্ব ( lt ) মটর গাছের পরাগমিলনে উৎপন্ন গাছগুলি হলো—

(A) সবই দীর্ঘ /

(B) সবই খর্ব /

(C) 50 % দীর্ঘ ও 50 % খর্ব /

(D) 75 % দীর্ঘ ও 25 % খর্ব

Ans: (C) 50 % দীর্ঘ ও 50 % খর্ব

  1. মানুষের মুক্ত কানের লতি হলো একপ্রকার—

(A) প্রকট বৈশিষ্ট্য /

(B) প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য /

(C) সংকর বৈশিষ্ট্য /

(D) কোনোটিই নয়

Ans: (A) প্রকট বৈশিষ্ট্য

  1. রোলার জিভ যে অবস্থায় প্রকাশিত হয় তা হলো—

(A) হোমোজাইগাস /

(B) হেটারোজাইগাস /

(C) হোমোজাইগাস ও হেটারোজাইগাস /

(D) কোনোটিই নয়

Ans: (C) হোমোজাইগাস ও হেটারোজাইগাস

  1. সন্ধ্যামালতী উদ্ভিদে কী ধরনের বংশগতি দেখা যায় ?

(A) মেন্ডেলিয়ান বংশগতি /

(B) সহ – প্রকটতা /

(C) বহুজিন অ্যালিলতা /

(D) অসম্পূর্ণ প্রকটতা

Ans: (D) অসম্পূর্ণ প্রকটতা

  1. মানুষের জননকোশে ক্রোমোজোমের সংখ্যা—

(A) 23 /

(B) 23 জোড়া /

(C) 22 /

(D) 22 জোড়া

Ans: (B) 23 জোড়া

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ (তৃতীয় অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer :

  1. কেবলমাত্র হোমোজাইগাস অবস্থায় হিমোফিলিয়া রোগের প্রকাশ ঘটার কারণ কী ? 

Ans: কারণ ইহা প্রছন্ন জিনের দ্বারাই হয়ে থাকে ।

  1. মেন্ডেলের দ্বিসংকর জনন পরীক্ষায় F , জনুতে প্রাপ্ত ফিনোটাইপ অনুপাত কত ? 

Ans: 9 : 3 : 3 : 1 .

  1. কোন জিনঘটিত রোগে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে লোহা জমা হয় ? 

Ans: থ্যালাসেমিয়া ।

  1. মেন্ডেলের একসংকর জননের পরীক্ষায় প্রাপ্ত দ্বিতীয় অপত্য জনুর জিনোটাইপিক অনুপাতটি লেখো । 

Ans: 1 : 2 : 1 .

  1. মানুষের একটি অটোজোম জিনঘটিত প্রচ্ছন্ন রোগের নাম লেখো ৷ 

Ans: থ্যালাসেমিয়া ( Thalassemi (A) ।

  1. ক্রোমোজমের উপর জিনের অবস্থান বিন্দুকে কী বলে ? 

Ans: লোকাস ৷

  1. Go দশার একটি কোশের উদাহরণ দাও । 

Ans: স্নায়ুকোশ ।

  1. Y ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনকে কী বলে ? 

Ans: হোলান্ড্রিক জিন ।

  1. একটি লিঙ্গ সংযোজিত জিনের উদাহরণ দাও । 

Ans: হিমোফিলিয়া ।

  1. মানুষের ক্ষেত্রে 44 + XY কোন লিঙ্গকে সূচিত করে ? 

Ans: পুরুষলিঙ্গ ।

  1. মানুষের একটি ‘ X ‘ ক্রোমোজোম সংযোজিত প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত বংশগত রোগের উদাহরণ দাও । 

Ans: হিমোফিলিয়া । ( Haemophilia )

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ (তৃতীয় অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer :

  1. বংশগতির একককে মেন্ডেল কী বলেন ? বর্তমানে এই একককে কী বলা হয় ? 

Ans: মেন্ডেল বংশগতির একককে ফ্যাক্টর বলে উল্লেখ করেন । বর্তমানে এই একককে জিন বলা হয় ।

  1. বিশুদ্ধ বা খাঁটি জীব কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।

Ans: কোনো জীব বংশানুক্রমে একরকম বৈশিষ্ট্য বজায় রাখলে তাকে বিশুদ্ধ বা খাঁটি জীব বলে । মেন্ডেলের একসংকর পরীক্ষায় জনিতৃ জনুর লম্বা ( TT ) ও বেঁটে ( tt ) মটর গাছ হলো বিশুদ্ধ উদ্ভিদের উদাহরণ ।

  1. সংকর জীব এবং সংকরায়ণ কাকে বলে ?

Ans: দু’টি বিশুদ্ধ বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীবের পরনিষেকের ফলে উৎপন্ন জীবটিকে সংকর জীব বলে । সংকর জীব সৃষ্টির পদ্ধতিকে সংকরায়ণ বলে । যেমন— খাঁটি লম্বা ( TT ) এবং খাঁটি বেঁটে ( tt ) দু’টি জীবের পরনিষেকের ফলে উৎপন্ন জীবটি হলো সংকর জীব ( Tt ) ।

  1. রাজকীয় হিমোফিলিয়া কাকে বলে ? 

Ans: হিমোফিলিয়া A মহারানি ভিক্টোরিয়ার পরিবারে প্রথম দেখা যায় । তাই এই রোগকে রাজকীয় হিমোফিলিয়া বলে ।

  1. প্রকরণ কাকে বলে ? এর কারণ কী ? 

Ans: যৌন জননের সময় জিনের পরিবর্তনে বা পরিবেশের প্রভাবে একই প্রজাতির জীবের মধ্যে যে পার্থক্য দেখা যায় তাকে প্রকরণ বলে । জিনগত পরিবর্তন প্রকরণের কারণ ।

  1. প্রকট ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য কাকে বলে ?

Ans: দু’টি বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীবের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটালে যে বৈশিষ্ট্যটি F , জনুতে বা প্রথম অপত্য বংশে প্রকাশ পায় তাকে প্রকট বৈশিষ্ট্য বলে । অন্যদিকে , যে বৈশিষ্ট্যটি প্রকাশ পায় না বা সুপ্ত অবস্থায় থাকে তাকে প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য বলে ।

  1. অসম্পূর্ণ প্রকটতা কাকে বলে ? উদাহরণ দাও । 

Ans: বিপরীত বৈশিষ্ট্যযুক্ত দু’টি জীবের সংকরায়ণে প্রকট জিনটি সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ না পাওয়ায় জীবের প্রকট ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যের মধ্যবর্তী একটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায় । এই ঘটনাকে অসম্পূর্ণ প্রকটতা বলে ।

উদাহরণ – সন্ধ্যামালতী উদ্ভিদে লাল ও সাদা ফুলযুক্ত গাছের মিলনে প্রথম জনুতে সমস্ত ( গোলাপি ) ফুল উৎপন্ন হয় । এটি অসম্পূর্ণ প্রকটতার উদাহরণ ।

  1. হিমোফিলিয়া রোগের কারণ উল্লেখ করো ।

Ans: হিমোফিলিয়া X- ক্রোমোজোমে অবস্থিত প্রচ্ছন্ন জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত । এই রোগে দেহের আঘাতপ্রাপ্ত স্থান থেকে রক্ত ক্ষরণ হতে থাকে অর্থাৎ রক্ততঞ্চন ব্যাহত হয় ।

কারণ ● হিমোফিলিয়া A : রস্তুতনে সাহায্যকারী উপাদান VIII | অর্থাৎ অ্যান্টিহিমোফিলিক ফ্যাক্টর – এর অভাবে হয় ।

হিমোফিলিয়া B : রক্ততঞ্চনে সাহায্যকারী উপাদান IX অর্থাৎ ক্রিসমাস ফ্যাক্টর – এর অভাবে হয় ।

  1. জেনেটিক্স বা সুপ্রজননবিদ্যা কাকে বলে ? Ans: জীববিজ্ঞানের যে শাখায় পিতা – মাতা থেকে অপত্যে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সঞ্চারণের কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে সুপ্রজননবিদ্যা বলে ।
  2. পিতা – মাতার বৈশিষ্ট্য অপত্যে সঞ্চারিত হয় কেন ? 

Ans: যৌন জননের সময় পিতা এবং মাতার দেহে উৎপন্ন গ্যামেট মিলিত হয়ে জাইগোট গঠন করে এবং জাইগোট থেকে বিভাজনের মাধ্যমে নতুন অপত্য জীব সৃষ্টি হয় । পিতা ও মাতার জনন থেকে অপত্য উৎপন্ন হওয়ায় অপত্যে পিতা ও মাতার মতো বৈশিষ্ট্য হয় ।

11.;মেন্ডেলের একসংকর জনন পরীক্ষার ফিনোটাইপ ও জিনোটাইপ অনুপাত কত ? 

Ans: ফিনোটাইপ অনুপাত , লম্বা ও বেঁটে = 3 : 1 জিনোটাইপ অনুপাত , বিশুদ্ধ লম্বা সংকর লম্বা বিশুদ্ধ বেঁটে = 1 : 2 : 1

12.;হোমোজাইগ্যাস বা সমসংকর জীব কাকে বলে ? 

Ans: কোনো জীবের ক্রোমোজোমের নির্দিষ্ট লোকাশে একই প্রকার জিন থাকলে একে হোমোজাইগাস জীব বলে ।

  1. বর্ণান্ধতা কী ? এই রোগের লক্ষণ কী ?

Ans: মানুষের X ক্রোমোজোমের একটি জিনের পরিবর্তনের জন্য চোখের রেটিনায় কোন কোশে অপসিন প্রোটিনের ত্রুটি দেখা দেয় । ফলে মানুষ লাল , সবুজ বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে নীল বর্ণও চিনতে পারে না । একে বর্ণান্ধতা বলে ।

লক্ষণ : লাল , সবুজ বা নীল বর্ণ দেখতে না পাওয়া ।

14.;অ্যালিল কাকে বলে ? 

Ans: সমসংস্থ ক্রোমোজোমের কোনো একটি বিন্দুতে উপস্থিত বিপরীতধর্মী জিন জোড়াকে অ্যালিল বা অ্যালিলোমর্ফ বলে ।

15.;ফিনোটাইপ ও জিনোটাইপ কাকে বলে ?

Ans: কোনো জীবের বৈশিষ্ট্যাবলির বাহ্যিক প্রকাশকে ওই জীবের ফিনোটাইপ বলে এবং জিন সংযুক্তির দ্বারা নির্ধারিত বৈশিষ্ট্যকে তার জিনোটাইপ বলে ।

  1. মেন্ডেল তার পরীক্ষার জন্য মটর গাছ কেন বেছে নেন ? 

Ans: মটর গাছ নির্বাচনের কারণ : মটর গাছ সহজে কম স্থানে প্রতিপালন করা হয় । ও মটর গাছ স্বপ্রজননক্ষম এবং বিশুদ্ধ । অল্প সময়ে প্রচুর অপত্য উৎপন্ন হয় । মটর গাছে সহজে সংকরায়ণ ঘটানো যায়।

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ (তৃতীয় অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer :

  1. থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত কোনো শিশুর দেহে কী কী লক্ষণ প্রকাশিত হয় ? সেই ক্ষেত্রে জেনেটিক কাউন্সেলিং – এর সময় কী পরামর্শ দেওয়া হয় ? 

Ans: লক্ষণ : ১ ) হিমোগ্লোবিন উৎপাদন কমে যাওয়া ২ ) রক্তাল্পতা রোগ দেখা দেয় । ৩ ) লোহিত রক্ত কণিকার আকার ছোটো হওয়া ৪ ) দেহে লোহা জমে যাওয়া ইত্যাদি ।

জেনেটিক কাউন্সেলিং – এর পরামর্শ : ১ ) দুই পরিবারেই ( পাত্র – পাত্রী ) রক্ত পরীক্ষা করা উচিত । ২ ) সন্তান না নেওয়া যদি পূর্বেই বিয়ে হয়ে যায় । ৩ ) দুই পরিবারে রক্ত পরীক্ষায় থ্যালাসেমিয়া আছে জানতে পারলে বিবাহ বন্ধন না করা ।

  1. মেন্ডেলের একসংকর পরীক্ষাটি চেকারবোর্ডের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো । মেন্ডেলের সফলতার কারণ কী ? 

Ans: সংজ্ঞা : একজোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একই প্রজাতির দু’টি জীবের মধ্যে সংকরায়ণকে একসংকর বা মনোহাইব্রিড ক্রস বলে ।

মেন্ডেল একসংকর জনন পরীক্ষার জন্য খাঁটি লম্বা ( TT ) এবং খাঁটি বেঁটে ( tt ) মটর গাছ নিয়েছিলেন । এদের কৃত্রিমভাবে ইতর পরাগযোগ ঘটানোর ফলে উৎপন্ন বীজ থেকে যে গাছগুলি ( F ) হয় সেগুলি সবই লম্বা বৈশিষ্ট্যযুক্ত যাদের জিনোটাইপ হলো ” Tt ” ।

F , জনুর গাছগুলির মধ্যে স্বপরাগযোগ ঘটানো হলে , F , -তে যে গাছগুলি উৎপন্ন হয় তার মধ্যে তিনভাগ লম্বা এবং একভাগ বেঁটে বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন । কিন্তু এদের জিনোটাইপ একভাগ খাঁটি লম্বা ( TT ) , দুইভাগ সংকর লম্বা ( Tt ) এবং একভাগ বেঁটে ( tt ) মটর গাছ দেখা যায় ।

  1. মেন্ডেলবাদ বা মেন্ডেলিজম কী ? মেন্ডেলের বংশগতির সূত্র দু’টি বিবৃত করো । 

Ans: মেন্ডেলবাদ : মেন্ডেল আবিষ্কৃত বংশগতির মৌলিক নিয়মাবলি এবং সূ ত্রগুলিকে একত্রে মেন্ডেলিজম বা মেন্ডেলবাদ বলে ।

মেন্ডেলের বংশগতির সূত্রগুলি হলো— পৃথকীভবন সূত্র যা একসংকর জনন পরীক্ষার উপর নির্ভর করে রচিত এবং স্বাধীন বিন্যাসের সূত্র যা দ্বিসংকর জনন পরীক্ষার ফলাফলের উপর নির্ভর করে রচিত ।

পৃথকীভবন সূত্র : ( Law of Segregation ) : কোনো জীবের একজোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য এক জনু থেকে অপর জনুতে সঞ্চারিত হওয়ার সময় একত্রিত হলেও বৈশিষ্ট্যগুলি মিশ্রিত হয় না , পরবর্তীকালে গ্যামেট গঠন করার সময় পৃথক হয়ে যায়।

স্বাধীন বিন্যাসের সূত্র ( Law of Independent Assortment ) : কোনো জীবের দুই বা ততোধিক যুগ্ম বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য জনিতৃ জনু থেকে অপত্য জনুতে সঞ্চারিত হওয়ার সময় একত্রিত হলে শুধুমাত্র গ্যামেট গঠনকালে এরা পরস্পর থেকে পৃথক হয় তা – ই নয় , উপরতু প্রত্যেকটি বৈশিষ্ট্য স্বাধীনভাবে যেকোনো বিপরীত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সম্ভাব্য সকল প্রকার সমন্বয়ে সঞ্চারিত হয় ।

===================================

বংশগতি ও কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ (অধ্যায়-৩)

এককথায় উত্তর দাও : (মান – 1) দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান – বংশগতি ও কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ (অধ্যায়-৩) সাজেশন | WBBSE Class 10th Life Science Suggestion

  1. কোন বিজ্ঞানীকে বংশগতির জনক বলা হয় ?

Answer : গ্রেগর জোহান মেণ্ডেলকে বংশগতির জনক বলা হয়।

  1. লোকাস কাকে বলে ?

Answer : ক্রোমোজোমের যে বিন্দুতে জিন অবস্থান করে তাকে লোকাস বলে।

  1. মেন্ডেল মটরফুলকে কীভাবে স্ত্রী ফুলে পরিণত করেছিলেন ?

Answer : মেন্ডেল মটর ফুলের পুংকেশরগুলি কেটে বাদ দিয়ে ছিলেন।

  1. কী ধরনের গিনিপিগ নিয়ে একসংকর জনন ঘটালে অপত্য জনুতে ফল 3 : 1 হবে ?

Answer : যদি দুটি গিনিপিগ সংকর কালো হয় তাহলে তিন ভাগ কালো ও এক ভাগ সাদা (3 : 1) ফল পাওয়া যাবে।

  1. মেন্ডেল একসংকর পরীক্ষা থেকে কী সূত্রে উপনীত হয়েছিলেন ?

Answer : পৃথকৃভবনের সূত্র।

  1. লিঙ্গ নির্ধারণে কোন্ ক্রোমোজোমের ভূমিকা আছে ?

Answer : সেক্স ক্রোমোজোম (X ও Y) ।

  1. হিমোফিলিয়া রোগে কোন প্রকার ক্রোমোজোম গটিত রোগ?

Answer : ‘X’ ক্রোমোজোম ঘটিত বংশগত রোগ।

  1. হিমোফিলিয়া আক্রান্ত রোগী কতদিন বাঁচে ?

Answer : সর্বাধিক 20 বছর ।

  1. বর্ণান্ধতা রোগে রোগী সাধারণত কোন্ বর্ণ চিনতে পারে না ?

Answer : লাল -সবুজ বর্ণ।

  1. ‘TT’ সংকেত দ্বারা একটি মটর গাছের ক্ষেত্রে কী। বোঝানো হয়েছে।

Answer : বিশুদ্ধ লম্বা বোঝানো হয়েছে।

  1. জেনেটিক কোড কে আবিষ্কার করেন ?

Answer : ড. হরগোবিন্দ খোরান।

  1. মানুষের Y ক্রোমোজোম বাহিত একটি বৈশিষ্ট্য কী ?

Answer : পুরুষদের কানের লতিতে চুল।

  1. সংকরায়ণ পরীক্ষায় 1:2:1 অনুপাতকে কী বলে ?

Answer : জিনোটাইপিক অনুপাত বলে।

  1. রাজকীয় হিমোফিলিয়া কোন পরিবারে দেখা গিয়েছিলো ?

Answer : ইংল্যান্ডের রাজপরিবারে দেখা গিয়েছিলো।

  1. মেন্ডেলের সূত্রগুলি কী নামে পরিচিত ?

Answer : মেন্ডেলের সূত্রগুলি পৃথকভবনের সূত্র ও স্বাধীন বিন্যাসের সূত্র নামে পরিচিত।

  1. Tt-র ফিনোটাইপ কী হবে ?

Answer : Tt ফিনোটাইপটি হবে সংকর লম্বা।

  1. মেন্ডেলের নিৰ্বিাচিত বৈশিষ্ট্য মোট কত জোড়া ছিল ?

Answer : মেন্ডেল নির্বাচিত সাতজোড়া (7 জোড়া) বৈশিষ্ট্য ছিল।

  1. পুরুষদের সেক্স ক্রোমোজোম কী প্রকারের ?

Answer : পুরুষদের সেক্স ক্রোমোজোম হেটারোজাইগাস প্রকৃতির (XY)।

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : (মান – 1) দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান – বংশগতি ও কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ (অধ্যায়-৩) সাজেশন | WBBSE Class 10th Life Science Suggestion

  1. মেন্ডেল মটর গাছে কত জোড়া বৈশিষ্ট্য পেয়েছিলেন ? – a. সাত জোড়া b. দশ জোড়া c. এক জোড়া d. পাঁচ জোড়া

Answer :[a] সাত জোড়া

  1. একটি সংকর কালো গিনিপিগের সঙ্গে বিশুদ্ধ সাদা গিনিপিগের টেস্ট ক্রস ঘাটালে কালো ও সাদার অনুপাত কী হবে? – a. 1:1 b. 1:2:1 c. 3 : 1 d. 1:3

Answer :[a] 1:1

  1. নীচের কোন্ রোগটি সেক্স ক্রোমোজোম বাহিত ? – a. থ্যালাসেমিয়া b. বর্ণান্ধতা c. T.B d. ক্যানসার

Answer :[b] বর্ণান্ধতা

  1. একটি বিশুদ্ধ লম্বা মটর গাছের জিনোটাইপ কী হবে ? – a. Tt b. TT c. tt d. Tt

Answer :[b] TT

  1. মটর গাছের ক্ষেত্রে কোনটি প্রকট গুণ ? – a. লম্বা b. বেঁটে c. সংকর লম্বা d. সংকর বেঁটে

Answer :[a] লম্বা

  1. অপত্যে যখন প্রকট ও প্রচ্ছন্ন কোনো গুণই প্রকাশ পায় না এবং অন্তর্বর্তী গুণ প্রকাশিত হয় তখন তাকে কী বলে ? – a. প্রকটতা b. প্রচ্ছন্ন c. অসম্পূর্ণ প্রকটতা d. কোনোটিই ঠিক নয়

Answer :[c] অসম্পূর্ণ প্রকটতা

  1. স্ত্রীলোকের লিঙ্গনির্ধারক ক্রোমোজোম কোনটি ? – a. XY b. XX c. YY d. XY

Answer :[b] XX

  1. Tt জিনোটাইপকে কীভাবে প্রকাশ করা হয় ? – a. বিশুদ্ধ লম্বা b. সংকর লম্বা c. মিশ্র লম্বা d. কোনোটিই ঠিক নয়

Answer :[b] সংকরলম্বা

  1. স্ত্রীলোকের লিঙ্গনির্ধারক ক্রোমোজোম কোনটি ? – a. XY b. XX c. yy d. xy

Answer :[b] XX

  1. মেন্ডেলের স্বাধীন সঞ্চারণের সূত্রটি কোন পরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত ? – a. সংকর জনন b. দ্বিসংকর জনন c. ত্রিসংকর জনন d. সম্পূর্ণ প্রকটতা

Answer :[b] দ্বিসংকর জনন

  1. মেন্ডেলের প্রথম সূত্রটি হল – a. প্রকটতার সূত্র b. স্বাধীন সঞ্চারনের সূত্র c. পৃথকভবনের সূত্র d. কোনোটিই সঠিক নয়

Answer :[c] পৃথকভবনের সূত্র

  1. পুরুষের সেক্স ক্রোমোজোম কোনটি ? – a. XX b. YY c. XY d. কোনোটিই সঠিক নয়

Answer :[c] XY

  1. মেন্ডেলের 7 জোড়া বিপরীত ধৰ্মী বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কোনটি প্রকট গুণ ছিল ? – a. বেঁটে গাছ b. সাদা ফুল c. হলুদ ফল d. বেগুনি ফুল

Answer :[c] হলুদ ফল

শূন্যস্থান পূরণ করো: (মান – 1) দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান – বংশগতি ও কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ (অধ্যায়-৩) সাজেশন | WBBSE Class 10th Life Science Suggestion

  1. মেন্ডেলের বংশগতি সংক্রান্ত সূত্রটি হল ______ ও______ ।

Answer :[পৃথকভবন সূত্র, স্বাধীন সঞ্চারণ সূত্র]

  1. মানুষের অটোজোম বাহিত প্রচ্ছন্ন একজোড়া জিন ______ সৃষ্টি করে।

Answer :[সংযুক্ত কানের লতি]

  1. বিশুদ্ধ জীব সবসময়ই _______ হয়।

Answer :[হোমোজাইগাস]

  1. ক্রোমোজোমের উপর জিনের অবস্থান বিন্দুকে বলে _______ ।

Answer :[লোকাস]

  1. ফ্যাক্টর কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন _______ ।

Answer :[মরগ্যান]

  1. ক্রোমোজোমের উপর জিনগুলি _______ সজ্জাক্রমে অবস্থান করে।

Answer :[রৈখিক]

  1. উভলিঙ্গ ফুল থেকে পুংকেশর অপসারণকে _______ বলে।

Answer :[ইমাসকুলেশন]

  1. থ্যালাসা শব্দের অর্থ _______ ।

Answer :[সমুদ্র]

  1. জীবের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যগুলিকে _______ বলে।

Answer :[ফিনোটাইপ]

  1. পুরুষদের লিঙ্গকে _______ বলে।

Answer :[হেটেরোগ্যামেটিক]

  1. মহিলাদের লিঙ্গকে _______ বলে।

Answer :[হোমোগ্যামেটিক]

  1. বংশগতি ও _______ একে অপরের পরিপূরক

Answer :[বিভেদন]

  1. সবুজ বর্ণান্ধতাকে _______ বলে।

Answer :[ডিউটেরানোপিয়া]

  1. _______ রোগে রক্ত তঞ্চন ব্যাহত হয়।

Answer :[হিমোফিলিয়া]

  1. হিমোফিলিয়া রোগের জিন _______ ।

Answer :[লিঙ্গ সংযোজিত]

  1. জিহ্বার রোলারের জন্য দায়ী জিন _______ ক্রোমোজোমে অবস্থিত।

Answer :[অষ্টম]

  1. মানষের ‘Y’ ক্রোমোজোমে ______ জিন বর্তমান।

Answer :[231টি]

  1. কোনো প্রজাতির মোট জিনের সমষ্টিকে _______ বলে।

Answer :[জিনপুল]

  1. _______ থ্যালাসেমিয়াকে কুলির অ্যানিমিয়া বলে।

Answer :[β]

  1. α (আলফা) থ্যালাসেমিয়ার জিন ______ ক্রোমোজোমে অবস্থিত।

Answer :[16 তম]

  1. মটর ফুল সম্পূর্ণ ও _______ ।

Answer :[উভলিঙ্গ]

  1. হেটেরোজাইগাস জীবে _______ বৈশিষ্ট্যটি সর্বদা অপ্রকাশিত অবস্থায় থাকে।

Answer :[প্রচ্ছন্ন]

  1. ________ বংশগতির জনক।

Answer :[মেন্ডেল]

  1. মটর গাছের ________ জোড়া বিপরীতধর্মী।

Answer :[7 জোড়া]

নীচের বিবৃতিগুলি সত্য না মিথ্যা লেখো : (মান – 1) দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান – বংশগতি ও কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ (অধ্যায়-৩) সাজেশন | WBBSE Class 10th Life Science Suggestion

  1. মেন্ডেল তার গবেষণার কাজে গিনিপিগ ব্যবহার করেন। [F]
  2. বংশগতি ও বিভেদন একে অপরের পরিপূরক। [T]
  3. সংলগ্ন কানের লতি প্রকট চরিত্র। [F]
  4. নীল মনিযুক্ত চোখ প্রকট চরিত্র। [F]
  5. জিনের যেস্থানে ক্রোমোজোম অবস্থান করে, তাকে লোকাস বলে। [F]
  6. Tt X tt হল টেস্ট ক্রস। [T]
  7. সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে মাতাই প্রধান ভূমিকা নেয়। [F]
  8. রক্তের ফ্যাক্টর IX-এর অভাবে হিমোফিলিয়া-A দেখা যায়। [F]
  9. মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে X এবং Y ক্রোমোজোম প্রধান ভূমিকা পালন করে। [T]
  10. AA BB CC জীব থেকে দুপ্রকার গ্যামেট উৎপন্ন হবে। [F]
  11. হুইপল ও ব্রাডফোর্ড প্রথম থ্যালাসেমিয়া নামকরণ করেন। [T]
  12. ইংল্যান্ডের রানি ভিক্টোরিয়ার প্রথম হিমোফিলিয়া-A রোগটি দেখা যায়। [F]
  13. রাতকানা একটি বংশগত রোগ। [F]
  14. DNA ও RNA এর সুনির্দিষ্ট বিন্যাসকে জেনেটিক কোড বলে। [T]
  15. মানুষের ক্ষুদ্রতম জিনটি হল ZFY। [T]
  16. জিনগুলি যখন খুবই কাছাকাছি থাকে, তাকে বলে রূপান্তর। [F]
  17. টেস্টক্রসের আবিষ্কর্তা হলেন বিজ্ঞানী মেডেল। [T]
  18. X ক্রোমোজোম আক্রোসেন্ট্রিক । [T]
  19. ‘X’ ক্রোমোজোম সাবমেটাসেণ্ট্রিক। [F]
  20. দ্বিসংকর জননের টেস্ট ক্রস অনুপাত 1:1:1:1 । [T]
  21. একসংকর টেস্ট ক্রসের অনুপাত 1:2:1 । [F]
  22. XX হল পুরুষদের লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। [F]

দ্বিতীয় জোড়টির শূন্যস্থানে উপযুক্ত শব্দ বসাও : (মান – 1) দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান – বংশগতি ও কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ (অধ্যায়-৩) সাজেশন | WBBSE Class 10th Life Science Suggestion

  1. সেক্স ক্রোমোজোম, অ্যালোজোম, অটোজোম, হেটেরোজোম।Answer :[অটোজোম]
  2. হিমোফিলিয়া, ব্লিডার্স রোগ, ক্রিসমাস রোগ, বর্ণান্ধতা।Answer :[বর্ণান্ধতা]
  3. দ্য ভ্রিস, মেণ্ডেল, সেরম্যাক, কোরেন্স।Answer :[মেণ্ডেল]
  4. রক্তাল্পতা, রক্ততঞ্চন,থ্যালাসেমিয়া, α-থ্যালাসেমিয়া।Answer :[রক্ততঞ্চন]
  5. পৃথকীভবনসূত্র, মেন্ডেলবাদ, স্বাধীনবিন্যাস সূত্র, প্রকটতার সূত্র।Answer :[মেন্ডেলবাদ]
  6. প্রোটানোপিয়া, বর্ণান্ধতা, ট্রাইটানোপিয়া, ডিউটেরানোপিয়া।Answer :[বর্ণান্ধতা]
  7. রক্ততঞ্চন ফ্যাক্টর VIII, হিমোফিলিয়া,রক্ততঞ্চন ফ্যাক্টর IXAnswer :[রক্ততঞ্চন]

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : (মান – 2) দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান – বংশগতি ও কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ (অধ্যায়-৩) সাজেশন | WBBSE Class 10th Life Science Suggestion

  1. জিনতত্ত্ব বা সুপ্রজননবিদ্যা কাকে বলে ?

Answer : বংশগতিসংক্রান্ত বিজ্ঞানকে জিনতত্ত্ব বা সুপ্রজননবিদ্যা বলে।

  1. মেন্ডেলবাদ কাকে বলে ? তার সূত্র দুটি কী কী ?

Answer : মেন্ডেলের আবিষ্কৃত মৌলিক সূত্র বা তত্ত্বগুলিকে এককথায় মেন্ডেলবাদ বলা হয়। মেন্ডেলের সূত্র দুটি হল— (i) পৃথকভবনের সূত্র, (ii) স্বাধীন সঞ্চারণের সূত্র।

  1. অ্যালিল বা অ্যালিলোমর্ফ কাকে বলে ?

Answer : সমসংস্থ ক্রোমোজোমের নির্দিষ্ট বিন্দুতে অবস্থিত বিপরীত বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রক উপাদানের এক-একটিকে অ্যালিল বা অ্যালিলোমর্ফ বলে। যেমন- লম্বা ও বেঁটে, কালো ও সাদা।

  1. মেন্ডেলের সাফল্য লাভের দুটি কারন উল্লেখ করো ।

Answer : (i) মেন্ডেলের সংকরায়ন পরীক্ষাকালে একজোড়া বা দুজোড়া বিপরীতধর্মী চারিত্রিক বৈশিষ্ট নিয়ে পরীক্ষা করিয়েছিলেন তাই পরীক্ষা সফল হয়েছিল। (ii) মেন্ডেল প্রতিটি পরীক্ষালব্ধ ফলাফল অন্ততপক্ষে তিনটি বংশানুক্রম পর্যন্ত লিপিবদ্ধ করিয়েছিলেন ফলে সূত্র নির্ধারন করা সহজ হয়েছিল ।

  1. প্রলক্ষণ বা বৈশিষ্ট্য কী ?

Answer : যে সব লক্ষণ দেখে জীবকে শনাক্ত করা যায় তাদের বৈশিষ্ট্য বা প্রলক্ষণ বলে।

  1. একসংকর জনন কাকে বলে ?

Answer : একজোড়া বিপরীত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একই প্রজাতির দুটি জীবের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটানোকে একসংকর জনন বা মনোহাইব্রিড ক্রস বলে।

  1. থ্যালাসেমিয়ার কারন কী ?

Answer : জিনগত ত্রুটির জন্য যখন হিমোগ্লোবিন পলিপেপটাইড শৃঙ্খল উৎপন্ন হয় না তার ফলে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যায়, তখন থ্যালাসেমিয়া রোগ হয়।

  1. অসম্পূর্ণ প্রকটতা কী ? কোন উদ্ভিদে এরকম ঘটনা দেখা যায় ?

Answer : একটি প্রকট ও একটি প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যযুক্ত দুটি জীবের সংকরায়ণ ঘটালে কোনো বৈশিষ্ট্যটিই প্রকটভাবে প্রকাশ পায় না, বরং কোনো মধ্যবর্তী বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়, তাকে অসম্পূর্ণ প্রকটতা বলে। যেমন-সন্ধ্যামালতি গাছের লাল ও সাদা ফুলের পরাগযোগ ঘটালে প্রথম অপত্য জনুতে সব গোলাপি ফুল বিশিষ্ট গাছ জন্মায়। এখানে ‘গোলাপি’ রং অসম্পূর্ণ প্রকটতার প্রকাশ।

  1. হিমোফিলিয়া কাকে বলে ?

Answer : যে বংশগত রোগের ফলস্বরূপ মানবদেহে আঘাতপ্রাপ্ত থান (ক্ষত,কাটা স্থান) থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয় না, অর্থাৎ রক্ত তঞ্চিত হয় না তাকে হিমোফিলিয়া বলে।

  1. RrYy সংকর জীবে কত প্রকারের গ্যামেট উৎপন্ন হয় ?

Answer : চার প্রকারের গ্যামেট উৎপন্ন হয়। যথা- RY, Ry, rY ও ry

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর : (মান – 5) দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান – বংশগতি ও কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ (অধ্যায়-৩) সাজেশন | WBBSE Class 10th Life Science Suggestion

  1. মেন্ডেলের সফলতার কারণ কী ? মেন্ডেল তাঁর পরীক্ষার জন্য মটর গাছ কেন বেছে নেন ?

সাফল্যের কারণ : মেন্ডেল দক্ষ প্রজননবিদ ছিলেন। তাই যত্ন সহকারে সংকরায়ণ পরীক্ষাগুলি করেছিলেন। ও মেন্ডেল নির্বাচিত সব বৈশিষ্ট্য সহজে শনাক্তকরণ করা যায়।তাঁর নির্বাচিত মটর গাছ বিশুদ্ধ ও স্বপ্রজননক্ষম ছিল।

মটর গাছ নির্বাচনের কারণ : মটর গাছ সহজে কম স্থানে প্রতিপালন করা হয়। মটর গাছ স্বপ্রজননক্ষম এবং বিশুদ্ধ। অল্প সময়ে প্রচুর অপত্য উৎপন্ন হয়। মটর গাছে সহজে সংকরায়ণ ঘটানো যায়।

  1. একসংকর জনন বা মনোহাইব্রিড ক্রস কাকে বলে ?

Answer : একজোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একই প্রজাতির দু’টি জীবের মধ্যে সংকরায়ণকে একসংকর বা মনোহাইব্রিড ক্রস বলে।

মেন্ডেল একসংকর জনন পরীক্ষার জন্য খাঁটি লম্বা (TT) এবং খাঁটি বেঁটে (tt) মটর গাছ নিয়েছিলেন। এদের কৃত্রিমভাবে ইতর পরাগযোগ ঘটানোর ফলে উৎপন্ন বীজ থেকে যে গাছগুলি (F1) হয় সেগুলি সবই লম্বা বৈশিষ্ট্যযুক্ত যাদের জিনোটাইপ হলো “Tt” । F1 জনুর গাছগুলির মধ্যে স্বপরাগযোগ ঘটানো হলে, F2 – তে যে গাছগুলি উৎপন্ন হয় তার মধ্যে তিনভাগ লম্বা এবং একভাগ বেঁটে বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। কিন্তু এদের জিনোটাইপ একভাগ খাঁটি লম্বা (TT), দুইভাগ সংকর লম্বা (Tt) এবং একভাগ বেঁটে (tt) মটর গাছ দেখা যায়।

====================================

বিভাগ ‘ক’

১. প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে তার ক্রমিক সংখ্যাসহ বাক্যটি সম্পূর্ন করোঃ

(১.১) বংশগতির জনক হলেন – 

(ক) ক্রিক

(খ) মেন্ডেল

(গ) পানেট

(ঘ) বেটসন

উত্তরঃ (খ) মেন্ডেল

(১.২) একটি সংকর দীর্ঘ (Tt) এবং একটি বিশুদ্ধ খর্ব (tt) মটর গাছের পরাগমিলনে উৎপন্ন গাছগুলি হবে – 

(ক) সকলেই দীর্ঘ

(খ) সকলেই খর্ব

(গ) 50% দীর্ঘ, 50% খর্ব

(ঘ) 75% দীর্ঘ, 25% খর্ব

উত্তরঃ (গ) 50% দীর্ঘ, 50% খর্ব

(১.৩) দ্বিসংকর জনকের পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফিনোটাইপগত অনুপাত হল – 

(ক) 9:2:2:1

(খ) 9:3:3:1

(গ) 4:2:2:1

(ঘ) 3:9:1:3

উত্তরঃ (খ) 9:3:3:1

(১.৪) দুটি সংকর লম্বা (Tt) মটর গাছের মধ্যে সংকরায়নের ফলে প্রথম অপত্য বংশে সংকর লম্বা মটর গাছ পাওয়া যাবে – 

(ক) 50%

(খ) 75%

(গ) 100%

(ঘ) 125%

উত্তরঃ (ক) 50%

(১.৫) মটর গাছের নির্বাচিত বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে নীচের কোন্‌টি প্রকট? – 

(ক) কান্ডের দৈর্ঘ্য খর্ব

(খ) ফুলের বর্ন হলুদ

(গ) বীজের আকার কুঞ্চিত

(ঘ) ফলের আকার স্ফীত

উত্তরঃ (ঘ) ফলের আকার স্ফীত

(১.৬) একজন হিমোফিলিক পুরুষ এবং বাহক মহিলার বিয়ে হলে তাদের সন্তানরা হবে – 

(ক) সললেই হিমোফিলিক

(খ) 1/2 হমোফিলিক

(গ) 1/3 হিমোফিলিক

(ঘ) 1/4 হিমোফিলিক

উত্তরঃ (খ) 1/2 হিমোফিলিক

(১.৭) ‘রয়্যাল ডিজিজ’ নামে পরিচিত রোগটি হল – 

(ক) রাতকানা

(খ) থ্যালোফিলিয়া

(গ) হিমোফিলিয়া

(ঘ) বর্ণান্ধতা

উত্তরঃ (গ) হিমোফিলিয়া

(১.৮) হিমোগ্লোবিন উৎপাদন ব্যাহত হয়ে মানবদেহে যে রোগ সৃষ্টি হয় তা হল – 

(ক) হিমোফিলিয়া

(খ) ম্যালেরিয়া

(গ) থ্যালাসেমিয়া

(ঘ) লিউকিমিয়া

উত্তরঃ থ্যালাসেমিয়া

(১.৯) হিমোফিলিয়া পুত্রসন্তানের জিনোটাইপ হল – 

(ক) h।।h

(খ) H।।^

(গ) H।।H

(ঘ) h।।^

উত্তরঃ (ঘ) h।।^

(১.১০) থ্যালাসেমিয়া বাহক পিতা এবং স্বাভাবিক মাতার দ্বিতীয় সন্তানের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা হবে – 

(ক) 100%

(খ) 75%

(গ) 25%

(ঘ) 0%

উত্তরঃ (ঘ) 0%

বিভাগ ‘খ’

২. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নির্দেশ অনুসারে লেখোঃ

** নীচের বাক্য গুলিতে উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থানগুলি পূরন করোঃ

(২.১) একই জনের বিভিন্ন রূপগুলিকে ____________ বলে।

উত্তরঃ অ্যালিল

(২.২) ক্রোমোজোমের যে নির্দিষ্ট স্থানে জিন অবিস্থত তাকে __________ বলে।

উত্তরঃ লোকাস

(২.৩) ক্রোমোজোম বা জিনের সংখ্যা অথবা গঠনের স্থায়ী পরিবর্তনকে _________ বলে।

উত্তরঃ পরিব্যক্তি

(২.৪) মানুষের চোখের রং চিনবার জন্য দায়ী কোশ হল __________ কোশ।

উত্তরঃ কোন

(২.৫) মানুষের _________ নং ক্রোমোজোমে a গ্লোবিন জিন থাকে।

উত্তরঃ 16

(২.৬) __________ রোগে রক্তের O2 পরিবহন ক্ষমতা কমে যায়।

উত্তরঃ থ্যালাসেমিয়া

** নীচের বাক্যগুলি সিত্য অথবা মিথ্যা নিরূপন করোঃ

(২.১) মেন্ডেলের মটর গাছের পরীক্ষার জন্য সাত জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করা হয়।

উত্তরঃ সত্য

(২.২) জনন কোশে অটোজোমের সংখ্যা ২২ টি।

উত্তরঃ সত্য

(২.৩) মেন্ডেলের পরীক্ষায় TT বলতে বিশুদ্ধ লম্বা মটর গাছকে বোঝায়।

উত্তরঃ সত্য

(২.৪) অ্যানিমিয়া রোগাক্রান্ত ব্যক্তির দেহে অক্সিজেন পরিবহন বিঘ্নিত হয়।

উত্তরঃ সত্য

**একটি শব্দে বা একটি বাক্যে উত্তর দাওঃ

(২.১) পিতামাতার জিন অপত্য যদি সমপ্রকৃতির হয়, তাকে কী বলা হয়?

উত্তরঃ হোমোজাইগাস

(২.২) নীচের চারটি বিষের মধ্যে তিনটি একটি বিষের অন্তর্গত। সে বিষয়টি খুঁজে বার করে নাম লেখোঃ 

 বংশগতিবিদ্যা, একসংকর জনন, দ্বিসংকর জনন, সমসংকর জীব।

উত্তরঃ বংশগতিবিদ্যা

(২.৩) মানুষের দেহকোশে অটোজোমের সংখ্যা কত?

উত্তরঃ 44 টি

(২.৪)নীচে সম্পর্কযুক্ত শব্দ জোড় দেওয়া আছে। প্রথম জোড়টির সম্পর্ক দেখে দ্বিতীয় জোড়টির শূন্যস্থানে উপযুক্ত শব্দ বসাওঃ

 ক্লাসিক হিমোফিলিয়াঃ হিমোফিলিয়া A::ক্রিস্টমাস রোগঃ ___________।

উত্তরঃ হিমোফিলিয়া B

(২.৫) ইংল্যান্ডের রানি ভিক্টোরিয়া সর্বপ্রথম যে রোগের প্রচ্ছন্ন জিনটি ধারন করেন, সেটির নাম উল্লেখ করো।

উত্তরঃ হিমোফিলিয়া B

** ‘ক’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ থেকে মিলিয়ে লেখোঃ

‘ক’ স্তম্ভ                   ‘খ’ স্তম্ভ

(২.১০) অ্যালোজোম                 (ক) লম্বা মটর গাছ

(২.১১) প্রকট বৈশিষ্ট্য                (খ) সেক্স ক্রোমোজোম

(২.১২) পৃথকীভবনের সূত্র          (গ) বংশগতির একক

(২.১৩) স্বাধীন বিন্যাসের সূত্র       (ঘ) একসংকর জননের ফল

(২.১৪) চেকার বোর্ড                (ঙ) দ্বিসংকর জননের ফল

(চ) বিজ্ঞানী পানেট

উত্তরঃ (২.১০) অ্যালোজোম -> (খ) সেক্স ক্রোমোজোম (২.১১) প্রকট বৈশিষ্ট্য -> (ক) লম্বা মটর গাছ (২.১২) পৃথকীভবনের সূত্র -> (ঘ) একসংকর জননের ফল (২.১৩) স্বাধীন বিন্যাসের সূত্র -> (ঙ) দ্বিসংকর জননের ফল (২.১৪) চেকার বোর্ড -> (চ) বিজ্ঞানী পানেট।

‘ক’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ থেকে মিলিয়ে লেখোঃ

‘ক’ স্তম্ভ                     ‘খ’ স্তম্ভ

(২.১০) মিউটেশন                (ক) PTA এর অভাব

(২.১১) Y ক্রোমোজোম           (খ) জিনের আকস্মিক পরিবর্তন

(২.১২) অ্যানিমিয়া               (গ) হোলানড্রিক জিন

(২.১৩) হিমোফিলিয়া C          (ঘ) থ্যালাসেমিয়া রোগ

(২.১৪) ডিউটেরানোপিয়া        (ঙ) স্ত্রীদেহের সেক্স-ক্রোমোজোম

(চ) সবুজ বর্ন দেখার অক্ষমতা

উত্তরঃ (২.১০) মিউটেশন -> (খ) জিনের আকস্মিক পরিবর্তন (২.১১) Y ক্রোমোজোম -> (গ) হোলানড্রিক জিন (২.১২) অ্যানিমিয়া -> (ঘ) থ্যালাসেমিয়া রোগ (২.১৩)  হিমোফিলিয়া C ->  (ক) PTA এর অভাব (২.১৪) ডিউটেরানোপিয়া -> (চ) সবুজ বর্ন দেখার অক্ষমতা।

বিভাগ ‘গ’

৩. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দুই-তিনটি বাক্যে লেখোঃ

প্রশ্নঃ মেন্ডেল তার পরীক্ষার জন্য মটর গাছ বেছে নেন কেন? 

উত্তরঃ মটর গাছ সহজে কম স্থানে প্রতিপালন করা হয় ও মটর গাছ স্বপ্রজননক্ষম এবং বিশুদ্ধ। অল্প সময়ে প্রচুর অপত্য উৎপন্ন হয়। মটর গাছে সহজে সংকরায়ণ ঘটানো যায়।

প্রশ্নঃ মেন্ডেলবাদ কাকে বলে? তার সূত্র দুটি কী কী?

উত্তরঃ মেন্ডেলের আবিষ্কৃত মৌলিক সূত্র বা তত্ত্বগুলিকে এককথায় মেন্ডেলবাদ বলা হয়। মেন্ডেলের সূত্র দুটি হল – (১) পৃথকভবনের সূত্র, (২) স্বাধীন সঞ্চারণের সূত্র।

প্রশ্নঃ বিশুদ্ধ বা খাঁটি জীব কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তরঃ কোনো জীব বংশানুক্রমে একরকম বৈশিষ্ট্য বজায় রাখলে তাকে বিশুদ্ধ বা খাঁটি জীব বলে। মেন্ডেলের একসংকর পরীক্ষায় জনিতৃ জনুর লম্বা (TT) ও বেঁটে (tt) মটর গাছ হলো বিশুদ্ধ উদ্ভিদের উদাহরণ।

প্রশ্নঃ মেন্ডেলের সাফল্য লাভের দুটি কারন উল্লেখ করো।

উত্তরঃ মেন্ডেলের সাফল্য লাভের দুটি কারন হল –

(১) মেন্ডেলের সংকরায়ন পরীক্ষাকালে একজোড়া বা দুজোড়া বিপরীতধর্মী চারিত্রিক বৈশিষ্ট নিয়ে পরীক্ষা করিয়েছিলেন তাই পরীক্ষা সফল হয়েছিল।

(২) মেন্ডেল প্রতিটি পরীক্ষালব্ধ ফলাফল অন্ততপক্ষে তিনটি বংশানুক্রম পর্যন্ত লিপিবদ্ধ করিয়েছিলেন ফলে সূত্র নির্ধারন করা সহজ হয়েছিল।

প্রশ্নঃ সংকর জীব এবং সংকরায়ণ কাকে বলে?

উত্তরঃ দু’টি বিশুদ্ধ বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীবের পরনিষেকের ফলে উৎপন্ন জীবটিকে সংকর জীব বলে। সংকর জীব সৃষ্টির পদ্ধতিকে সংকরায়ণ বলে। যেমন— খাঁটি লম্বা (TT) এবং খাঁটি বেঁটে (tt) দু’টি জীবের পরনিষেকের ফলে উৎপন্ন জীবটি হলো সংকর জীব (Tt)।

প্রশ্নঃ প্রলক্ষণ বা বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তরঃ যে সব লক্ষণ দেখে জীবকে শনাক্ত করা যায় তাদের বৈশিষ্ট্য বা প্রলক্ষণ বলে।

প্রশ্নঃ প্রকট ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য কাকে বলে?

উত্তরঃ দু’টি বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীবের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটালে যে বৈশিষ্ট্যটি F, জনুতে বা প্রথম অপত্য বংশে প্রকাশ পায় তাকে প্রকট বৈশিষ্ট্য বলে। অন্যদিকে, যে বৈশিষ্ট্যটি প্রকাশ পায় না বা সুপ্ত অবস্থায় থাকে তাকে প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য বলে।

প্রশ্নঃ অসম্পূর্ণ প্রকটতা কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তরঃ বিপরীত বৈশিষ্ট্যযুক্ত দু’টি জীবের সংকরায়ণে প্রকট জিনটি সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ না পাওয়ায় জীবের প্রকট ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যের মধ্যবর্তী একটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়। এই ঘটনাকে অসম্পূর্ণ প্রকটতা বলে।

প্রশ্নঃ প্রকরণ কাকে বলে? এর কারণ কী?

উত্তরঃ যৌন জননের সময় জিনের পরিবর্তনে বা পরিবেশের প্রভাবে একই প্রজাতির জীবের মধ্যে যে পার্থক্য দেখা যায় তাকে প্রকরণ বলে। জিনগত পরিবর্তন প্রকরণের কারণ।

প্রশ্নঃ অ্যালিল কাকে বলে?

উত্তরঃ সমসংস্থ ক্রোমোজোমের কোনো একটি বিন্দুতে উপস্থিত বিপরীতধর্মী জিন জোড়াকে অ্যালিল বা অ্যালিলোমর্ফ বলে।

প্রশ্নঃ হিমোফিলিয়া কাকে বলে?

উত্তরঃ যে বংশগত রোগের ফলস্বরূপ মানবদেহে আঘাতপ্রাপ্ত থান (ক্ষত,কাটা স্থান) থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয় না, অর্থাৎ রক্ত তঞ্চিত হয় না তাকে হিমোফিলিয়া বলে।

প্রশ্নঃ রাজকীয় হিমোফিলিয়া কাকে বলে?

উত্তরঃ হিমোফিলিয়া A মহারানি ভিক্টোরিয়ার পরিবারে প্রথম দেখা যায়। তাই এই রোগকে রাজকীয় হিমোফিলিয়া বলে।

প্রশ্নঃ হিমোফিলিয়া রোগের কারণ উল্লেখ করো।

উত্তরঃ হিমোফিলিয়া X-ক্রোমোজোমে অবস্থিত প্রচ্ছন্ন জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই রোগে দেহের আঘাতপ্রাপ্ত স্থান থেকে রক্ত ক্ষরণ হতে থাকে অর্থাৎ রক্ততঞ্চন ব্যাহত হয়।

হিমোফিলিয়া A : রস্তুতনে সাহায্যকারী উপাদান VIII, অর্থাৎ অ্যান্টিহিমোফিলিক ফ্যাক্টর – এর অভাবে হয়।

হিমোফিলিয়া B : রক্ততঞ্চনে সাহায্যকারী উপাদান IX অর্থাৎ ক্রিসমাস ফ্যাক্টর – এর অভাবে হয়।

প্রশ্নঃ মেন্ডেলের একসংকর জনন পরীক্ষার ফিনোটাইপ ও জিনোটাইপ অনুপাত কত?

উত্তরঃ ফিনোটাইপ অনুপাত, লম্বা ও বেঁটে = 3 : 1 জিনোটাইপ অনুপাত, বিশুদ্ধ লম্বা সংকর লম্বা বিশুদ্ধ বেঁটে = 1 : 2 : 1

প্রশ্নঃ পিতা–মাতার বৈশিষ্ট্য অপত্যে সঞ্চারিত হয় কেন?

উত্তরঃ যৌন জননের সময় পিতা এবং মাতার দেহে উৎপন্ন গ্যামেট মিলিত হয়ে জাইগোট গঠন করে এবং জাইগোট থেকে বিভাজনের মাধ্যমে নতুন অপত্য জীব সৃষ্টি হয়। পিতা ও মাতার জনন থেকে অপত্য উৎপন্ন হওয়ায় অপত্যে পিতা ও মাতার মতো বৈশিষ্ট্য হয়।

প্রশ্নঃ থ্যালাসেমিয়ার কারন কী?

উত্তরঃ জিনগত ত্রুটির জন্য যখন হিমোগ্লোবিন পলিপেপটাইড শৃঙ্খল উৎপন্ন হয় না তার ফলে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যায়, তখন থ্যালাসেমিয়া রোগ হয়।

প্রশ্নঃ বর্ণান্ধতা কী? এই রোগের লক্ষণ কী?

উত্তরঃ মানুষের X ক্রোমোজোমের একটি জিনের পরিবর্তনের জন্য চোখের রেটিনায় কোন কোশে অপসিন প্রোটিনের ত্রুটি দেখা দেয়। ফলে মানুষ লাল, সবুজ বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে নীল বর্ণও চিনতে পারে না। একে বর্ণান্ধতা বলে।

লক্ষণঃ লাল, সবুজ বা নীল বর্ণ দেখতে না পাওয়া।

বিভাগ ‘ঘ’

৪. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাওঃ

প্রশ্নঃ মেন্ডেলবাদ বা মেন্ডেলিজম কী? মেন্ডেলের বংশগতির সূত্র দু’টি বিবৃত করো।

উত্তরঃ মেন্ডেল আবিষ্কৃত বংশগতির মৌলিক নিয়মাবলি এবং সূ ত্রগুলিকে একত্রে মেন্ডেলিজম বা মেন্ডেলবাদ বলে।

মেন্ডেলের বংশগতির সূত্রগুলি হলো – পৃথকীভবন সূত্র যা একসংকর জনন পরীক্ষার উপর নির্ভর করে রচিত এবং স্বাধীন বিন্যাসের সূত্র যা দ্বিসংকর জনন পরীক্ষার ফলাফলের উপর নির্ভর করে রচিত।

পৃথকীভবন সূত্রঃ কোনো জীবের একজোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য এক জনু থেকে অপর জনুতে সঞ্চারিত হওয়ার সময় একত্রিত হলেও বৈশিষ্ট্যগুলি মিশ্রিত হয় না, পরবর্তীকালে গ্যামেট গঠন করার সময় পৃথক হয়ে যায়।

স্বাধীন বিন্যাসের সূত্রঃ কোনো জীবের দুই বা ততোধিক যুগ্ম বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য জনিতৃ জনু থেকে অপত্য জনুতে সঞ্চারিত হওয়ার সময় একত্রিত হলে শুধুমাত্র গ্যামেট গঠনকালে এরা পরস্পর থেকে পৃথক হয় তা–ই নয়, উপরতু প্রত্যেকটি বৈশিষ্ট্য স্বাধীনভাবে যেকোনো বিপরীত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সম্ভাব্য সকল প্রকার সমন্বয়ে সঞ্চারিত হয়।

প্রশ্নঃ মেন্ডেলের সফলতার কারণ কী? মেন্ডেল তাঁর পরীক্ষার জন্য মটর গাছ কেন বেছে নেন?

উত্তরঃ মেন্ডেল দক্ষ প্রজননবিদ ছিলেন। তাই যত্ন সহকারে সংকরায়ণ পরীক্ষাগুলি করেছিলেন। ও মেন্ডেল নির্বাচিত সব বৈশিষ্ট্য সহজে শনাক্তকরণ করা যায়। তাঁর নির্বাচিত মটর গাছ বিশুদ্ধ ও স্বপ্রজননক্ষম ছিল।

মটর গাছ নির্বাচনের কারণঃ মটর গাছ সহজে কম স্থানে প্রতিপালন করা হয়। মটর গাছ স্বপ্রজননক্ষম এবং বিশুদ্ধ। অল্প সময়ে প্রচুর অপত্য উৎপন্ন হয়। মটর গাছে সহজে সংকরায়ণ ঘটানো যায়।

প্রশ্নঃ মেন্ডেলের একসংকর পরীক্ষাটি চেকারবোর্ডের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো। মেন্ডেলের সফলতার কারণ কী?

উত্তরঃ একজোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একই প্রজাতির দু’টি জীবের মধ্যে সংকরায়ণকে একসংকর বা মনোহাইব্রিড ক্রস বলে।

মেন্ডেল একসংকর জনন পরীক্ষার জন্য খাঁটি লম্বা (TT) এবং খাঁটি বেঁটে (tt) মটর গাছ নিয়েছিলেন। এদের কৃত্রিমভাবে ইতর পরাগযোগ ঘটানোর ফলে উৎপন্ন বীজ থেকে যে গাছগুলি (F) হয় সেগুলি সবই লম্বা বৈশিষ্ট্যযুক্ত যাদের জিনোটাইপ হলো (Tt)।

F জনুর গাছগুলির মধ্যে স্বপরাগযোগ ঘটানো হলে, F-তে যে গাছগুলি উৎপন্ন হয় তার মধ্যে তিনভাগ লম্বা এবং একভাগ বেঁটে বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। কিন্তু এদের জিনোটাইপ একভাগ খাঁটি লম্বা (TT), দুইভাগ সংকর লম্বা (Tt) এবং একভাগ বেঁটে (tt) মটর গাছ দেখা যায়।

প্রশ্নঃ থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত কোনো শিশুর দেহে কী কী লক্ষণ প্রকাশিত হয়? সেই ক্ষেত্রে জেনেটিক কাউন্সেলিং-এর সময় কী পরামর্শ দেওয়া হয়? 

উত্তরঃ লক্ষণ – (১) হিমোগ্লোবিন উৎপাদন কমে যাওয়া।

(২) রক্তাল্পতা রোগ দেখা দেয়।

(৩) লোহিত রক্ত কণিকার আকার ছোটো হওয়া।

(৪) দেহে লোহা জমে যাওয়া ইত্যাদি।

জেনেটিক কাউন্সেলিং–এর পরামর্শঃ (১) দুই পরিবারেই রক্ত পরীক্ষা করা উচিত।

(২) সন্তান না নেওয়া যদি পূর্বেই বিয়ে হয়ে যায়।

(৩) দুই পরিবারে রক্ত পরীক্ষায় থ্যালাসেমিয়া আছে জানতে পারলে বিবাহ বন্ধন না করা।

end

 

 

 

 

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *