বিশ্ব উষ্ণায়ন ও প্রতিকার প্রবন্ধ রচনা
(গ্লোবাল ওয়ার্মিং ও ছাত্র সমাজের ভূমিকা)
ক্লাস 9, 10, 11, 12
Updated on:
আজকের এই পোস্টে যে গুরুত্বপূর্ণ রচনাটি শেয়ার করা হলো সেটা হচ্ছে “বিশ্ব উষ্ণায়ন” গ্লোবাল ওয়ার্মিং। নবম শ্রেণী থেকে শুরু করে মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সকল ফাইনাল পরীক্ষার জন্যই এই রচনাটা করে রাখা অত্যন্ত জরুরী।
বোর্ড: বিষয়বস্তু
1 বিশ্ব উষ্ণায়ন: কারণ ও প্রতিকার – প্রবন্ধ রচনা
1.1 ভূমিকা :—
1.2 বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণ :—
1.3 বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব :—
1.4 বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রতিরোধ ব্যবস্থা:—
1.5 উপসংহার :—
বিশ্ব উষ্ণায়ন: কারণ ও প্রতিকার – প্রবন্ধ রচনা
কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর?
মানুষের মাঝে স্বর্গ নরক মানুষেতে সুরাসুর!”
ভূমিকা :—
এই কবিতার পঙ্ক্তিগুলো যেন আজকের মানবসমাজের করুণ পরিণতির পূর্বাভাস। সভ্যতার উন্নতির নামে আমরা প্রকৃতির যে নিদারুণ ক্ষতি করেছি, তার ফলশ্রুতিতে সৃষ্টি হয়েছে এক ভয়ঙ্কর অভিশাপ—”Global Warming” বাংলাতে বিশ্ব উষ্ণায়ন। শিল্পায়ন, নগরায়ন, এবং অরণ্য নিধনের মাধ্যমে আমরা পৃথিবীর স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে ফেলেছি। এর ফলে ক্রমাগত বাড়ছে পৃথিবীর উষ্ণতা, যা আমাদের ভবিষ্যতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়েছে।
বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণ :—
আমরা সকলেই অনুভব করছি যে, পৃথিবী আগের চেয়ে অনেক বেশি গরম হয়ে উঠছে। গ্রীষ্মকাল আরো দীর্ঘ এবং তীব্র হচ্ছে, বর্ষার পরিমাণ ও সময়কাল পরিবর্তিত হচ্ছে, এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘন ঘন ঘটনা ঘটছে। এই সব কিছুর মূল কারণ হল বিশ্ব উষ্ণায়ন। বিশ্ব উষ্ণায়ন হল পৃথিবীর গড় তাপমাত্রার ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি। এই বৃদ্ধির ফলে আমাদের গ্রহের জলবায়ু ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে।
❝দিনের দিন বাড়ছে গরম, মেরুর বরফ গলে।
সুন্দর প্রকৃতি হচ্ছে নষ্ট, জলবায়ু যাচ্ছে বদলে।❞
বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রধান কারণ হল বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি ও বন ধ্বংস।
গ্রিনহাউস গ্যাস– আমরা যখন জীবাশ্ম জ্বালানি কয়লা, তেল, গ্যাসের ব্যবহার করি, বন উজ্জ্বলন হয়, গাড়ি চালাই, কারখানা চালাই, তখন বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন এবং নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি গ্যাস নির্গত হয়। এই গ্যাসগুলিকে গ্রিনহাউস গ্যাস বলে। এই গ্যাসগুলি সূর্যের আলোকে পৃথিবীতে আসতে দেয় কিন্তু আবার ফিরে যাওয়া আটকে দেয়, ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়তে থাকে (Greenhouse Effect)।
—
বন ধ্বংস– বন গাছ কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ছাড়ে। বন ধ্বংসের ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বাড়ে এবং বিশ্ব উষ্ণায়ন ত্বরান্বিত হয়।
বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব :—
বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে পৃথিবীতে ইতিমধ্যেই নানা পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছে। এর প্রধান প্রভাবগুলো হল:
-
প্রাকৃতিক বিপর্যয়: হিমবাহ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে, যার ফলে উপকূলবর্তী অঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে।
-
খরা ও অনাবৃষ্টি: কৃষিক্ষেত্রে জলাভাব দেখা দিচ্ছে, যার ফলে খাদ্য উৎপাদনে সঙ্কট সৃষ্টি হচ্ছে।
-
জীববৈচিত্র্যের হ্রাস: বহু প্রাণী ও উদ্ভিদের প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
-
স্বাস্থ্য সমস্যার বৃদ্ধি: বাড়তি উষ্ণতার ফলে বিভিন্ন রোগব্যাধি যেমন—ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, এবং তাপঘাতের (Heat Stroke) মতো সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
-
আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তন: ‘এল নিনো’ এবং ‘লা নিনার’ মতো আবহাওয়ার জটিল প্রক্রিয়াগুলো ক্রমেই প্রকট হচ্ছে।





