বিধানচন্দ্র রায়ের জীবনী

 

বিধানচন্দ্র রায়ের জীবনী

Bidhan Chandra Roy Biography in Bengali

বিধানচন্দ্র রায়ের জীবনী – Bidhan Chandra Roy Biography in Bengali : আধুনিক পশ্চিমবঙ্গের রূপকার ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় । পশ্চিমবঙ্গের এক মফস্বল অঞ্চলের এক মহিলা দীর্ঘদিন থেকে মাথার যন্ত্রণায় ভুগছেন । দেশের নামী দামী বহু চিকিৎসকের পরামর্শ ও ব্যবস্থা অনুযায়ী ওষুধপত্র খেয়েছেন , টোটকা চিকিৎসাও করিয়েছেন , কিন্তু কিছুতেই তার মাথার যন্ত্রণা কমেনি । দীর্ঘদিন থেকে । ভুগে ভুগে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন মহিলা ।

 সর্বশেষ চেষ্টা হিসাবে ভদ্রমহিলার স্বামী তাকে নিয়ে এলেন । কলকাতায় এক চিকিৎসকের কাছে । দেশজোড়া নামডাক সেই চিকিৎসকের । সাক্ষাৎ ধন্বন্তরী বলে পরিচিত তিনি । একমাত্র এই চিকিৎসককেই রুগী দেখানাে বাকি ছিল ।

 প্রতিদিন সকালের দিকে কিছু সময় বিনা পারিশ্রমিকে রুগী দেখতেন সেই চিকিৎসক । নিজের বাসভবনেরই একটি ঘরে তিনি । বসতেন । ঘরের প্রান্তে তার বসার চেয়ার । দরজা দিয়ে ঢুকেরুগীকে হেঁটে ডাক্তারবাবুর সামনে গিয়ে বসতে হয় ।

 ঘরে ঢােকা আর হেঁটে গিয়ে আসনে বসার সময়ের মধ্যে ডাক্তারবাবুর্তার রােগীকে পর্যবেক্ষণ করে রােগনির্ণয় করে নিতেন । এমনই ছিল তার দক্ষতা । প্রায় সময়ই রুগীকে মুখ ফুটে তার রােগের কষ্টের কথা বলতে হতনা । ডাক্তারবাবুরুগীর দেহের লক্ষণ , চলাফেরা ও চেহারা দেখেই রােগ নির্ণয় করে ফেলতেন এবং রুগীকে তার রােগ উপসর্গের কথা শুনিয়ে দিতেন । পরে সেই মত ব্যবস্থাপত্র লিখে দিতেন । 

  প্রতিদিনই শহরের এবং বহু দূর দূর অঞ্চল থেকে বহু দুরারােগ্য রােগে অসুস্থ মানুষ ভিড় করত ডাক্তারবাবুর বাসভবনে । সেই মহিলাকেও তার স্বামী নিয়ে এলেন একদিন । তিনি যথাসময়ে ঘরে ঢুকে ধীর পায়ে হেঁটে গিয়ে ডাক্তারবাবুর সামনের আসনে বসলেন ।

 এতক্ষণ তীক্ষ দৃষ্টিতে মহিলাকে লক্ষ করছিলেন ডাক্তারবাবু । মহিলা আসন নিতেই তিনি মৃদু হেসে বললেন , চব্বিশঘণ্টা মাথার যন্ত্রণায় কষ্ট পাচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে । আলাের দিকে তাকাতেও কষ্ট হয় ? 

 ডাক্তারবাবুর কথা শুনে ভদ্রমহিলার যন্ত্রণাক্লিষ্ট মুখের রেখায় আশ্চর্য একটা আরামের হাসি যেন ছোঁয়া দিয়ে গেল । তিনি বিহুলভাবে আরাে কিছু কষ্টের কথা সকাতরে ডাক্তারবাবুকে জানালেন । 

 ডাক্তারবাবু বললেন , কোন ওষুধপত্রের দরকার হবে না , এখন । থেকে যেই সিঁদুরটা আপনি ব্যবহার করেন সেটা আর করবেন না । বাজারের ভাল কোন সিদুর ব্যবহার করবেন । কিছুদিন দেখুন , এরপর । আমাকে জানাবেন । 

 বলাবাহুল্য দূষিত সিঁদুরের বিক্রিয়া থেকেই সেই মহিলা স্থায়ী মাথাযন্ত্রণার শিকার হয়েছিলেন এবং ডাক্তারবাবুর পরামর্শ মত সিদুরের ব্র্যান্ডবদল করবার পর থেকেই তিনি আরােগ্য লাভ করেন । 

 এই ধন্বন্তরী চিকিৎসকটির নাম ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় । যিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার কর্মকৃতিত্বের জন্য স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন । 

 দীর্ঘকায় চেহারার এই মানুষটি তার সময়ে ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ চিকিৎসকরূপে দেশেবিদেশে খ্যাতিলাভ করেছিলেন । তাঁর আর এক পরিচয় ছিল , তিনি ছিলেন আধুনিক পশ্চিমবঙ্গের রূপকার । স্বাধীনতা লাভের পর তার চেষ্টাতেই পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্নমুখী উন্নয়নের সূত্রপাত হয় এবং বলা চলে তারই পরিকল্পিত পথ ধরেই পশ্চিমবঙ্গের অগ্রগতি এখনাে অব্যাহত রয়েছে । 

 পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায় এর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী । বিধানচন্দ্র রায় এর জীবনী – Bidhan Chandra Roy Biography in Bengali বা বিধানচন্দ্র রায় এর আত্মজীবনী বা (Bidhan Chandra Roy Jivani Bangla. A short biography of Bidhan Chandra Roy. Bidhan Chandra Ray Birth, Place, Bidhan Chandra Roy Life Story, Bidhan Chandra Ray Life History, Bidhan Chandra Roy Biography in Bengali) বিধানচন্দ্র রায় এর জীবন রচনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

বিধানচন্দ্র রায় কে ছিলেন ? Who is Bidhan Chandra Roy ?

বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Ray) ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে থেকে আমৃত্যু তিনি ওই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। চিকিৎসক হিসেবেও তার বিশেষ খ্যাতি ছিল। ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে তিনি ইংল্যান্ড থেকে এমআরসিপি এবং এফআরসিএস উপাধি অর্জন করার পর কলকাতার ক্যাম্পবেল মেডিক্যাল স্কুলে (বর্তমানে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ) শিক্ষকতা ও চিকিৎসা পেশা শুরু করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট সদস্য, রয়্যাল সোসাইটি অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিন এবং আমেরিকান সোসাইটি অফ চেস্ট ফিজিশিয়ানের ফেলো নির্বাচিত হন। ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের প্রভাবে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার নির্বাচনে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেন। পরে কলকাতা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও কলকাতা পৌরসংস্থার মেয়র নির্বাচিত হন। ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে মহাত্মা গান্ধির ডাকে আইন অমান্য আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মনোনীত হন। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস প্রার্থীরূপে আইনসভায় নির্বাচিত হন। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে গ্রহণ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব। বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Ray) পাঁচটি নতুন শহরের প্রতিষ্ঠা করেন: দূর্গাপুর, বিধাননগর, কল্যাণী, অশোকনগর-কল্যাণগড় ও হাবড়া। বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Ray) এর চৌদ্দ বছরের মুখ্যমন্ত্রীত্বকালে নবগঠিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রভূত উন্নতি সম্ভব হয়েছিল যে কারণেই তাকে পশ্চিমবঙ্গের রূপকার নামে অভিহিত করা হয়। ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Ray) ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্নে ভূষিত হন। মৃত্যুর পর বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Ray) এর সম্মানে কলকাতার উপনগরী সল্টলেকের নামকরণ করা হয় বিধাননগর। বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Ray) এর জন্ম ও মৃত্যুদিন ১লা জুলাই দিনটি সারা ভারতে “চিকিৎসক দিবস” রূপে পালিত হয়।

ডঃ বিধানচন্দ্র রায়ের জীবনী – Dr. Bidhan Chandra Roy Biography in Bengali :

নাম (Name) বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Roy)
জন্ম (Birthday) ১ লা জুলাই ১৮৮২ (1st July 1882)
জন্মস্থান (Birthplace) পাটনা, ব্রিটিশ ভারত
অভিভাবক (Parents)/ পিতা ও মাতা  আঘোর কামিনী দেবীপ্রকাশচন্দ্র রায়
রাজনৈতিক দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
বাসস্থান কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
প্রাক্তন শিক্ষার্থী  প্রেসিডেন্সি কলেজপাটনা বিশ্ববিদ্যালয়
জীবিকা চিকিৎসক, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাব্রতী 
উল্লেখযোগ্য পুরস্কার ভারতরত্ন (১৯৬১)
মৃত্যু (Death) ১ লা জুলাই ১৯৬২ (1st July 1962)

বিধানচন্দ্র রায়ের জন্ম – Bidhan Chandra Roy Birthday :

 ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের পরিবারের আদি নিবাস ছিল চব্বিশ পরগনা জেলার টাকী শ্রীপুরে । বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Ray) এর জন্ম পিতার কর্মস্থল বিহারের পাটনা । শহরের বাঁকিপুরে ১৮৮২ খ্রিঃ ১ লা জুলাই । 

বিধানচন্দ্র রায়ের পিতামাতা – Bidhan Chandra Roy Parents :

 বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Roy) এর পিতা প্রকাশচন্দ্র রায় ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট । মাতার নাম অঘােৱকামিনী দেবী । ১৯০১ খ্রিঃ বি.এ পাশ করবার পর বিধানচন্দ্র কলকাতায় চলে আসেন এবং এখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন । 

বিধানচন্দ্র রায়ের শিক্ষাজীবন – Bidhan Chandra Roy Education Life :

 চিকিৎসাবিদ্যা অধ্যয়ন করবার জন্য বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Roy) কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন । ১৯০৬ খ্রিঃ এল.এম.এস , এবং ১৯০৮ খ্রিঃ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম . ডি . উপাধি লাভ করেন ।

 এরপর প্রাদেশিক মেডিক্যাল সার্ভিসে যােগ দিয়ে চিকিৎসক হিসেবে বিভিন্ন প্রদেশে ঘােরেন । 

 চিকিৎসা বিজ্ঞানে উচ্চতর শিক্ষালাভের জন্য বিধানচন্দ্র ১৯০৯ খ্রিঃ বিলেত যাত্রা করেন । 

 সেইকালে দেশে সুচিকিৎসার অভাবে বহু মানুষ নানাবিধ দুরারােগ্য রােগে ভুগে প্রাণ হারাত । দেশে খেতাঙ্গ চিকিৎসকদেরই দাপট কিন্তু কজন আর তাদের কাছে পৌছতে পারে । 

বিধানচন্দ্র রায়ের উপাধি – Bidan Chandra Roy Title :

 চিকিৎসা ক্ষেত্রের এই দুরবস্থা বিধানচন্দ্রকে পীড়িত করত । তাই চিকিৎসাশাস্ত্রে পরিপূর্ণ জ্ঞান লাভের উদ্দেশে বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Roy) বিলেত যাত্রা করেন ১৯০৯ খ্রিঃ । সেখানে দুই বছর থেকে এম . আর – সি . পি . এবং এম . আর . সি . এস ও পরে এফ . আর . সি . এস উপাধি অর্জন করেন ।

 বর্তমানে যেটি নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ , সেসময় তার নাম ছিল ক্যাম্বেল মেডিক্যাল স্কুল । বিলেত থেকে ফিরে এসে বিধানচন্দ্র সেখানে চিকিৎসকরূপে যােগদান করেন । সেই সঙ্গে নিজেও চিকিৎসা ব্যবসা শুরু করেন । অল্প সময়ের মধ্যেই সুচিকিৎসক রূপেতার খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে । সেই সঙ্গে দেশের সমাজ জীবনের সঙ্গেও তার যােগাযােগ তৈরি হতে থাকে ।

বিধানচন্দ্র রায়ের কর্মজীবন – Bidhan Chandra Roy Work Life : 

 ১৯১৬ খ্রিঃ বিধানচন্দ্র কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেটের সদস্য নির্বাচিত হন । দুই বছর পরে ১৯১৮ খ্রিঃ বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Roy) ক্যাম্বেলের সরকারী চাকরী ছেড়ে দেন । যােগদান করেন কারমাইকেল মেডিক্যাল কলেজে , মেডিসিনের অধ্যাপক পদে । বর্তমান আরজিকর মেডিক্যাল । কলেজের নামই সেকালে ছিল কারমাইকেল মেডিক্যাল কলেজ । এখানে কর্মরত অবস্থাতেই বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Ray) রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন ।

বিধানচন্দ্র রায়ের শ্বরাজদল – Bidhan Chandra Roy Swaraj Dal :

 ভারতবর্ষে স্বাধীনতার আন্দোলন সেইসময় উত্তাল হয়ে উঠেছে । মত বিরােধের প্রশ্নে দেশবন্ধু ততদিনে কংগ্রেসের বাইরে স্বরাজদল প্রতিষ্ঠা করেছেন । বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Roy) এর সঙ্গে রয়েছেন মতিলাল নেহরু প্রমুখ দেশবিত নেতৃবৃন্দ।

 বাংলা তথা ভারতের অবিসংবাদিত জননেতা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের প্রভাবে বিধানচন্দ্র রাজনীতিতে যােগ দেন ১৯২৩ খ্রিঃ। তার স্বরাজ দলের হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিধানচন্দ্র (Bidhan Chandra Roy) বাংলার ব্যবস্থাপক সভার সদস্য নির্বাচিত হন । 

বিধানচন্দ্র রায় কলকাতা করপোরেশনের মেয়র : Bidhan Chandra Roy Mayor of Kolkata Corporation :

 এরপর ১৯২৮ খ্রিঃ বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Roy) কলকাতা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৩১-৩২ খ্রিঃ কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র হলেন ।

বিধানচন্দ্র রায় গ্রেপ্তার – Bidhan Chandra Roy Arrested :

 বিধানচন্দ্র (Bidhan Chandra Roy) ছিলেন দেশপ্রেমিক , সত্যনিষ্ঠ ও নির্ভীক । ১৯৩১ খ্রিঃ আইন অমান্য আন্দোলনের সময় তিনি অকুতােভয়ে কলকাতা । কর্পোরেশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন । এই সময়ে বােম্বাই থেকে কলকাতা ফেরার পথে ওয়ার্দা স্টেশনে বিধানচন্দ্র গ্রেপ্তার হন ।

 সকল কর্মব্যস্ততার মধ্যেও চিকিৎসক হিসেবে দেশের জনগণের সঙ্গে যােগাযােগ রক্ষা করতে বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Roy) কখনাে শৈথিল্য করেন নি । চিকিৎসক হিসেবে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Roy) একদিনের জন্যও বিস্মৃত হননি।

 ফলে চিকিৎসক হিসেবে কেবল দেশেইনয় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Ray) খ্যাতি ও স্বীকৃতি লাভ করেছিলেন । 

বিধানচন্দ্র আমেরিকান সােসাইটি চেস্ট ফিজিসিয়ানের ফেলাে নির্বাচিত হন :

 ১৯৩৫ খ্রিঃ বিধানচন্দ্র রয়্যাল সােসাইটি অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিন এবং ১৯৪০ খ্রিঃ আমেরিকান সােসাইটি চেস্ট ফিজিসিয়ানের ফেলাে নির্বাচিত হন ।

 ১৯৩৭ খ্রিঃ বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Roy) বাংলার পার্লামেন্টারী কমিটির সভাপতিহন এবং কংগ্রেসের নির্বাচন পরিচালনা করেন । দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে এভাবে ক্রমশই বিধানচন্দ্রের প্রভাব ও গুরুত্ব বৃদ্ধি পেতে থাকে। 

বিধানচন্দ্র কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি. এসসি উপাধি :

বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Roy) ১৯৪২ খ্রিঃ বিধানচন্দ্ৰ ককাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিযুক্ত হন । ১৯৪৪ খ্রিঃ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডি . এসসি . উপাধিতে ভূষিত করে। 

[আরও দেখুন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনী – Rabindranath Tagore Biography in Bengali]

বিধানচন্দ্র রায় পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী – Bidhan Chandra Roy First CM of West Bengal :

বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Roy) ১৯৪৭ খ্রিঃ বিধানচন্দ্র কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস মনােনীত প্রার্থীরূপে আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন । ১৯৪৮ খ্রিঃ ২৩ শে জানুয়ারী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন । এই পর্যায় থেকে বিধানচন্দ্রের কর্মময় নতুন জীবনের সূত্রপাত হয় । প্রখ্যাত চিকিৎসক ও রাজনীতির বিধানচন্দ্র হলেন পশ্চিমবঙ্গের কর্ণধার — বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Roy) এর গঠনমূলক কৃর্মধারা বহুবিচিত্রপথে বিকশিত হবার সুযােগ লাভ করল ।

 স্বাধীনতার পরে আদি বঙ্গদেশের এক তৃতীয়াংশ ভূমিভাগ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ক্ষতবিক্ষত সমস্যা জর্জরিত পশ্চিমবঙ্গ । এই সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা ছিল বিধানচন্দ্রকে উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল করে পাঠানাে । বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Roy) এর জন্যই এই পদটি নির্দিষ্ট হয়েছিল।

 সেই সময়ে ডক্টর প্রফুল্লচন্দ্র ঘােষ ছিলেন পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী । বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Roy) ছিলেন অত্যন্ত সৎ ও সত্যনিষ্ঠ রাজনীতিজ্ঞ । কিন্তু নানাবিধ চক্রান্তের শিকার হয়ে তাকে মুখ্যমন্ত্রীত্বের পদ ছাড়তে হয়েছিল ।

 পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সেই শূন্য আসনে অত্যন্ত আকস্মিকভাবেই বিধানচন্দ্র আসীন হলেন এবং আমৃত্যু এই গুরু দায়িত্ব পালন করে গেছেন ।

 প্রথম থেকেই বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Roy) যােগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন । বিধানচন্দ্রই প্রথম স্বাধীন ভারতকে প্রথম নির্বাচন কমিশনারকে উপহার দিয়েছিলেন তার নাম সুকুমার সেন ।

 শিল্প ও যােগাযােগ ব্যবস্থার ওপরই দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি নির্ভরশীল । বিধানচন্দ্র তাই রাজ্যের এই দুই দিকে প্রথম থেকেই বিশেষভাবে নজর দিলেন । 

 শিল্পের পুনরুজ্জীবন ঘটাবার জন্য বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Roy) নানাভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করলেন । এই রাজ্যের চটকলগুলির প্রয়ােজনীয় কাঁচামাল অর্থাৎ পাট আসত প্রধানতঃ পূর্ব বাংলা থেকে ম।

 দেশবিভাগের ফলে পূর্ববাংলা হয়ে গেল ভিন্ন দেশ । ফলে রাজ্যের চটশিল্পে দেখা দিয়েছিল চরম সংকটজনক অবস্থা । এই অবস্থার মােকাবিলার জন্য বিধানচন্দ্র পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপকভাবে পাট চাযের বন্দোবস্ত করলেন ।

বিধানচন্দ্র রায়ের (Bidhan Chandra Roy) পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক ভিত্তি স্থাপন :

 এছাড়া বিধান নগর উপনগরী , কল্যাণী উপনগরী , রাষ্ট্রীয় পরিবহন , হরিণঘাটা দুগ্ধ প্রকল্প , বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় যেমন কল্যাণী , বর্ধমান , উত্তরবঙ্গ ও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় , বেন্ডেল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং দামােদর ভ্যালী কর্পোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্প এই সকল কিছু প্রতিষ্ঠার মূলেই ছিলেন কর্মবীর বিধানচন্দ্র রায় । এককথায় বলা চলে স্বাধীনতা লাভের পর পশ্চিমবঙ্গের রূপায়নে বিধান রায়ের গঠনমূলক প্রতিভা ও ব্যক্তিত্ব সর্বতােভাবে প্রভাব বিস্তার করে । বিভিন্ন ভারি শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Roy) পশ্চিমবঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নতির ভিত্তি স্থাপন করে গেছেন।

 ব্যবসায়ী হিসেবেও বিধান রায় তার প্রতিভার ছাপ রেখে গেছেন । শিলং হাইড্রো ইলেকট্রিক কোম্পানীর অন্যতম ডিরেক্টর ছিলেন বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Roy) জাহাজ , বিমান ও ইন্সিওরেন্স ব্যবসায়ের সঙ্গে যােগ ছিল তার ।

বিধানচন্দ্র রায়ের ভারত রত্ন – Bidhan Chandra Roy Bharat Ratna :

 ১৯৪৮ খ্রিঃ থেকে ১৯৬২ খ্রিঃ পর্যন্ত দীর্ঘ চোদ্দ বছর একটানা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পদে আসীন ছিলেন বিধানচন্দ্র । ১৯৬১ খ্রিঃ ভারত সরকার বিধানচন্দ্র রায়কে (Bidhan Chandra Ray) ভারতরত্ন উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে ।

বিধানচন্দ্র রায়ের মৃত্যু : Bidhan Chandra Roy Death :

 ১৯৬২ খ্রিঃ ১ লা জুলাই কর্মরত অবস্থাতেই কলকাতার রাজভবনে । আধুনিক পশ্চিমবঙ্গের রূপকার কর্মবীর ও দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ চিকিৎসক বিধানচন্দ্র রায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ।

বিধানচন্দ্র রায়ের জীবনী (প্রশ্ন ও উত্তর) – Bidhan Chandra Roy Biography in Bengali (FAQ):

  1. বিধানচন্দ্র রায়ের (Bidhan Chandra Roy) জন্ম কবে হয় ?

Ans: বিধানচন্দ্র রায়ের জন্ম হয় ১ লা জুলাই ১৮৮২ সালে ।

  1. বিধানচন্দ্র রায়ের (Bidhan Chandra Roy) জন্ম কোথায় হয় ?

Ans: বিধানচন্দ্র রায়ের জন্ম হয় বিহারের পাটনায় ।

  1. বিধানচন্দ্র রায়ের পিতার নাম কী ?

Ans: বিধানচন্দ্র রায়ের পিতার নাম প্রকাশচন্দ্র রায় ।

  1. বিধানচন্দ্র রায়ের মাতার নাম কী ?

Ans: বিধানচন্দ্র রায়ের মাতার নাম আঘোর কামিনী দেবী ।

  1. বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Roy) কবে ভারত রত্ন পান ?

Ans: বিধানচন্দ্র রায় ১৯৬১ সালে ভারত রত্ন পান ।

  1. পচ্ছিম্বঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কে ?

Ans: পচ্ছিম্বঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হলেন বিধানচন্দ্র রায় ।

  1. বিধানচন্দ্র রায় কবে মুখ্যমন্ত্রী হন ?

Ans: বিধানচন্দ্র রায় ১৯৪৮ খ্রিঃ ২৩ শে জানুয়ারী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন ।

  1. বিধানচন্দ্র রায় কবে বি.এ পাস করেন ?

Ans: বিধানচন্দ্র রায় ১৯০১ সালে বি.এ পাস করেন ।

  1. বিধানচন্দ্র রায় কবে জন্মগ্রহণ করেন?

Ans: বিধানচন্দ্র রায় জন্মগ্রহণ করেন ১ লা জুলাই ১৮৮২ সালে ।

  1. বিধানচন্দ্র রায় কবে মারা যান ?

Ans: বিধানচন্দ্র রায় ১৯৬২ খ্রিঃ ১ লা জুলাই কর্মরত অবস্থাতেই কলকাতার রাজভবনে মারা যান।

 

   অসংখ্য ধন্যবাদ সময় করে আমাদের এই ” বিধানচন্দ্র রায় এর জীবনী – Bidhan Chandra Roy Biography in Bengali  ” পােস্টটি পড়ার জন্য।  

     ©kamaleshforeducation.in(2023)

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *