প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন 
অষ্টম শ্রেণি

বিষয় — ইতিহাস 

প্রথম ইউনিট টেস্ট সেট-১
পূর্ণমান-৩০                     সময় : ১ ঘণ্টা  

 

1. সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে লেখ : 1×6=6

(i) পলাশীর যুদ্ধ হয় (১৭০৭ / ১৭৫৭ / ১৮৫৭) খ্রিস্টাব্দে।

উত্তরঃ ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে।

(ii) আহমদ শাহ আব দালি ছিলেন‌ (মারাঠা / আফগান / পারসিক)।

উত্তরঃ আফগান।

(iii) ঔরঙ্গজেবের শাসনকালে মুর্শিদকুলি খান ছিলেন বাংলার (দেওয়ান / ফৌজদার / নবাব)।

উত্তরঃ দেওয়ান।

(iv) মুর্শিদকুলি খান মারা যান (১৭০৭ / ১৮০৭ / ১৭২৭) খ্রিস্টাব্দে।

উত্তরঃ ১৭২৭ খ্রিস্টাব্দে।

(v) আসফ ঝাঁ ১৭২৪ খ্রিস্টাব্দে (হায়দরাবাদ / বাংলা / অযোধ্যা) রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

উত্তরঃ হায়দরাবাদ।

(vi) গোটা ভারতজুড়ে মোেট (৪ / ৩ / ৫) ত্রি সুপ্রিম কোর্ট তৈরি করেছিল ব্রিটিশ কোম্পানি।

উত্তরঃ ৩টি।

(vii) বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ বই (জোনাথন ডানকান / রামমোহন রায় / মাইকেল মধুসূদন দত্ত) এর অনুবাদে করা আইনের বই।

উত্তরঃ জোনাথন ডানকান।

(viii) কলকাতায় সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয় (১৭৭২ / ১৭৭৪ / ১৮০১) খ্রিস্টাব্দে।

উত্তরঃ ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে।

 

2. অতি সংক্ষিপ্ত ধরনের প্রশ্ন ঠিক / ভুল নির্বাচন করো : 1×4=4

 

(i) ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের মৃত্যু হয়

উত্তরঃ ঠিক।

(ii) শিবাজীর আক্রমণ ইংরেজি শাসনকে ব্যতিব্যস্ত করেছিল।

উত্তরঃ ভুল।

(iii) মীরজাফর মারা যাওয়ার পর বাংলার নবাব হন  নাজিম-উদ-দৌলা ।

উত্তরঃ ঠিক।

(iv) ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় মন্বন্তর হয়।

উত্তরঃ ঠিক।

(v) বেনারসে হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠাতা করেছিলেন জোনাথন ডানকান।

উত্তরঃ ঠিক।

(vi) দশ বছরের ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার জন্য কোম্পানি হাজারদারি ব্যবস্থা চালু করেছিলেন।

উত্তরঃ ভুল।

 

3. সংক্ষিপ্ত উত্তর ধর্ম প্রশ্ন (দুইটি) : 2×2=4

(i) পলাশীর লুণ্ঠন কাকে বলে ?

উত্তরঃ ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধে ব্রিটিশ কোম্পানি জয়লাভ করে। ইংরেজরা সিরাজ-উদদৌলাকে সরিয়ে মিরজাফরকে বাংলার নবাব পদে বসান।

পলাশির যুদ্ধের পর ব্রিটিশ কোম্পানি বিভিন্নভাবে নবাব মিরজাফরের কাছ থেকে প্রচুর অর্থ আদায় করে।

রবার্ট ক্লাইভসহ কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মচারীরাও ব্যক্তিগতভাবে প্রচুর অর্থ নেয়।

সব মিলিযে প্রায় ৩ কোটি টাকার সম্পদ ইংরেজরা আদায় করে। পলাশির যুদ্ধের পর মিরজাফরের কাছ থেকে ইংরেজদের অর্থ আত্মসাৎকে ‘পলাশির লুণ্ঠন’ বলা হয়।

(ii) অন্ধকূপ হত্যা বলতে কী বোঝো?

উত্তরঃ অন্ধকূপ হত্যা: ইংরেজ কর্মচারী হলওয়েলের বিবরণ থেকে জানা যায় যে, নবাবের ফোর্ট উইলিয়ম দখলের পর নবাব-বাহিনীর হাতে কোম্পানির ১৪৬ জন কর্মচারী বন্দি হয়েছিল। ওইরাত্রে ১৮ ফুট লম্বা ও ১৪ ফুট ১০ ইঞ্চি চওড়া একটি কক্ষে বন্দিদের রাখা হয়েছিল। পরদিন সকালের মধ্যে তাঁদের ১২৩ জন মারা গিয়েছিল। এই ঘটনা ‘অন্ধকূপ হত্যা’ নামে পরিচিত। তবে ঐতিহাসিকগণ এই ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেন।

(iii) পিটের ভারত শাসন আইন কি বলা হয় ?

উত্তরঃ ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে প্রবর্তিত পিটের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী ‘বোর্ড অফ কন্ট্রোল’ তৈরি করা হয়। এই বোর্ডের ওপর কোম্পানির সামরিক ও অসামরিক শাসন ও রাজস্ব ব্যবস্থা পরিচালনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। ভারতে কোম্পানির সমস্ত প্রশাসনিক কর্তাদের ওপর গভর্নর জেনারেলের আধিপত্যও এই আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়।

(iv) ‘কর্ণওয়ালিস কোড’ বলতে কী বোঝো?

উত্তরঃ লর্ড কর্নওয়ালিস ছিলেন বাংলার গভর্নর জেনারেল। তিনি ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে স্বচ্ছ প্রশাসন গডে তোলার জন্য প্রচলিত আইনগুলিকে সংহত করে যে কোড বা বিধিবদ্ধ আইন চালু করেন – তাকেই ‘কর্নওয়ালিস কোড’ বলা হয়। এর ফলে দেওয়ানি সংক্রান্ত বিচার ও রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব সংক্রান্ত বিষয়কে আলাদা করা হয়েছিল।

4. বিশ্লেষণাত্মক উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন (২টি) : 3×2=6

 

(i) দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা বলতে কি বুঝায়?

উত্তরঃ ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ্ আলমের কাছ থেকে ব্রিটিশ কোম্পানি সুবা বাংলার দেওয়ানি অধিকার লাভ করে। এর ফলে বাংলায় দুজন শাসকের শাসন কায়েম হয়। এই ব্যবস্থাকেই দ্বৈত শাসনব্যবস্থা বলা হয়। দ্বৈত শাসনের একদিকে ছিল বাংলার নবাব এবং অপরদিকে ছিল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।

নবাবের ক্ষমতা: দ্বৈত শাসনব্যবস্থায় নবাবের হাতে ছিল রাজনৈতিক ও নিজামত বা আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব।

 

(ii) ব্রিটিশ রেসিডেন্টদের কাজ কী ছিল ?

উত্তরঃ ব্রিটিশ কোম্পানি তাদের পরোক্ষ শাসনাধীন রাজ্যে যে প্রতিনিধি রাখতেন তাকে রেসিডেন্ট বলা হয়।

∆ ব্রিটিশ রেসিডেন্টদের কাজ—

নজরদারি করা : কোম্পানির পরোক্ষ শাসনাধীন রাজ্যের রাজা কোম্পানির নজর এড়িয়ে যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে তার জন্য নজরদারি করা।

কোম্পানিকে রাজ্য দখলে উৎসাহ দেওয়া : লর্ড ওয়েলেসলির আমল থেকে রেসিডেন্টরা আগ্রাসী নীতি অনুসরণ করত। তারা কোম্পানিকে সরাসরি এলাকা দখলের জন্য উসকানি দিত।

 

(iii) বক্সারের যুদ্ধ কবে ও কাদের মধ্যে হয়েছিল ?

উত্তরঃ বক্সারের যুদ্ধ হয়েছিল ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দে। এই যুদ্ধ হয়েছিল বাংলার নবাব মিরকাশিম, অযোধ্যার নবাব সুজা-উদ্দৌলা ও মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ্ আলমের মিলিত বাহিনির সঙ্গে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির। ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পূর্ববর্তী নবাব মিরজাফরকে সরিয়ে মিরকাশিমকে বাংলার সিংহাসনে বসায়। কিন্তু সিংহাসনে আরোহণের পর মিরকাশিম স্বাধীনভাবে রাজত্ব পরিচালনা করতে চাইলে ইংরেজদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ বাধে ও বক্সারের যুদ্ধ হয়।

 

(iv) কোম্পানির সিপাহী বাহিনী বলতে কী বোঝো ?

উত্তরঃ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা ও রক্ষার জন্য যে সেনাবাহিনী গঠন করেছিল, তাকে ‘কোম্পানির সেনাবাহিনী’ বলা হয়। ব্রিটিশ কোম্পানি প্রথম থেকেই স্থায়ী সেনাবাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিল। কোম্পানি মুঘল আমলের প্রথা অনুসরণ করে নিজেদের সেনাবাহিনী বা সিপাহি বাহিনী তৈরি করেছিল।

 

5. ব্যাখ্যামূলক উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন (২টি) : 5×2=10

 

(i) পলাশীর যুদ্ধের গুরুত্ব কী ছিল ?

উত্তরঃ পলাশীর যুদ্ধের গুরুত্ব : ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জয় ভারতের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। এর গুরুত্বগুলি হলো—

রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা : পলাশীর যুদ্ধের ফলে বাংলায় নবাবী শাসনের অবসান না ঘটলেও তা ব্রিটিশদের হাতের পুতুলে পরিণত হয়। কোম্পানি বাংলার রাজনীতিতে মূল নিয়ন্ত্রক শক্তিতে পরিণত হয় এবং তাদের মনোনীত ব্যক্তি (মীর জাফর) নবাবের সিংহাসনে বসেন।

পলাশীর লুণ্ঠন : যুদ্ধের পর সিরাজউদ্দৌলার কোষাগার থেকে প্রচুর অর্থ ও সম্পদ কোম্পানি আত্মসাৎ করে। এ ছাড়া মির্জাফর ব্রিটিশদের নগদ ১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা দিতে বাধ্য হন। সম্পদের এই বিপুল নির্গমনকে ঐতিহাসিকরা ‘পলাশীর লুণ্ঠন’ বলে অভিহিত করেছেন।

বাণিজ্যিক একাধিপত্য : এই জয়ের ফলে বাংলা, বিহার ও ওড়িশায় ব্রিটিশরা বিনা শুল্কে বাণিজ্য করার একচেটিয়া অধিকার পায়। ফরাসি বা ওলন্দাজদের মতো ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের তারা বাংলা থেকে কার্যত হঠিয়ে দিতে সক্ষম হয়।

দেওয়ানি লাভের পথ প্রশস্ত হওয়া : পলাশীর জয় ছিল ব্রিটিশদের সাফল্যের প্রথম ধাপ। এটি পরবর্তীকালে ১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধ এবং ১৭৬৫ সালে কোম্পানির ‘দেওয়ানি’ লাভের পথকে প্রশস্ত করেছিল।

ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত্তি : পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমেই ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপিত হয়। একজন ব্যবসায়ী কোম্পানি থেকে তারা ধীরে ধীরে এদেশের শাসকে পরিণত হওয়ার দিকে এগিয়ে যায়।

 

(ii) ফারুকখাশিয়ার ফরমান কী ? ফারুকখাশিয়ার ফরমানে ইংরেজরা কী কী সুবিধা লাভ করেছিল ? ২+৩

উত্তরঃ ফারুকশিয়রের ফরমান : ১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি জন সারম্যানের নেতৃত্বে একটি দল মুঘল সম্রাট ফারুকশিয়রের দরবারে যান। সম্রাট ফারুকশিয়র একটি রাজকীয় আদেশ বা ‘ফরমান’ জারি করেন, যার মাধ্যমে ব্রিটিশ কোম্পানি ভারতে বিশেষ কিছু বাণিজ্যিক অধিকার লাভ করে। ভারতের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে এই ফরমান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

ফারুকশিয়রের ফরমানে প্রাপ্ত সুবিধাসমূহ : এই ফরমানে ব্রিটিশ কোম্পানিকে নিম্নলিখিত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছিল—

 

বিনা শুল্কে বাণিজ্য: ব্রিটিশ কোম্পানি বছরে মাত্র ৩,০০০ টাকার বিনিময়ে বাংলায় বিনা শুল্কে বাণিজ্য করার অধিকার পায়। এর জন্য তাদের কোনো বাড়তি ট্যাক্স বা কর দিতে হতো না।

 

দস্তক ব্যবহারের অধিকার: কোম্পানির পণ্য চলাচলের জন্য কোম্পানি নিজস্ব ছাড়পত্র বা ‘দস্তক’ ব্যবহারের অনুমতি পায়। এই দস্তক দেখালে কোম্পানির মালবাহী নৌকা বা গাড়িকে কেউ বাধা দিতে পারত না।

 

নিজস্ব মুদ্রা প্রচলন: এই ফরমানের মাধ্যমে ব্রিটিশ কোম্পানিকে বোম্বাই (মুম্বাই) টাকশালে নিজস্ব মুদ্রা তৈরির অনুমতি দেওয়া হয় এবং সেই মুদ্রা মুঘল সাম্রাজ্যের সর্বত্র চালানোর অধিকার দেওয়া হয়।

 

জমিদারি ও জমি লাভ: কোম্পানিকে কলকাতার পার্শ্ববর্তী ৩৮টি গ্রামের জমিদারি স্বত্ব কেনার অধিকার দেওয়া হয়।

অন্যান্য সুবিধা: মাদ্রাজ ও সুরাটেও কোম্পানি বিশেষ বাণিজ্যিক ছাড় লাভ করে। সুরাটে বছরে মাত্র ১০,০০০ টাকার বিনিময়ে তারা সমস্ত শুল্ক থেকে মুক্তি পায়।

 

(iii) চার্লস উডের প্রতিবেদনে কী বলা হয়েছিল ? এর ফল কি হয়েছিল ? ২+৩

উত্তরঃ উডের ডেসপ্যাচ বা চার্লস উডের প্রতিবেদন : ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে বোর্ড অফ কন্ট্রোলের সভাপতি চার্লস উড ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য একটি প্রস্তাব পেশ করেন, যা ‘উডের ডেসপ্যাচ’ বা ‘উডের প্রতিবেদন’ নামে পরিচিত। একে ভারতের ‘পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের মহাসনদ’ বলা হয়।

 

∆ প্রতিবেদনের প্রধান সুপারিশসমূহ:

চার্লস উড তার প্রতিবেদনে শিক্ষার প্রসারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দেন—

শিক্ষা বিভাগ গঠন : প্রতিটি প্রদেশে শিক্ষা ব্যবস্থা তদারকি করার জন্য একটি করে ‘শিক্ষা বিভাগ’ (Department of Public Instruction) তৈরির কথা বলা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন : লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের আদর্শে কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজে একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়।

স্তরভিত্তিক শিক্ষা : প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত একটি সুসংবদ্ধ কাঠামো তৈরির কথা বলা হয়— যেমন গ্রামে প্রাথমিক স্কুল, জেলায় অ্যাংলো-ভার্নাকুলার স্কুল এবং শহরে কলেজ।

শিক্ষায় সরকারি অনুদান : বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহ দিতে সরকারি অনুদান বা ‘গ্রান্ট-ইন-এইড’ প্রথা চালুর সুপারিশ করা হয়।

নারীশিক্ষা ও শিক্ষক শিক্ষণ : নারীশিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষকদের মানোন্নয়নের জন্য ট্রেনিং স্কুল বা শিক্ষক শিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কথা বলা হয়।

 

(iv) লর্ড কর্ণওয়ালিস পুলিশ ব্যবস্থা কী সংস্কার করেন ?

উত্তরঃ লর্ড কর্নওয়ালিসের পুলিশি ব্যবস্থার সংস্কার ভারতে ব্রিটিশ শাসনকে স্থায়ী রূপ দিতে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে লর্ড কর্নওয়ালিস পুলিশি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করেন। ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি এই সংস্কারগুলি কার্যকর করেন।

 

∆ সংস্কারের প্রধান দিকগুলি—

থানা ব্যবস্থা প্রবর্তন : কর্নওয়ালিস বাংলার জেলাগুলোকে কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকায় ভাগ করেন। প্রতিটি এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয় একটি করে ‘থানা’-র ওপর।

দারোগা পদের সৃষ্টি: প্রতিটি থানার দায়িত্ব দেওয়া হয় একজন সরকারি কর্মচারীর ওপর, যাঁর পদবি ছিল ‘দারোগা’। দারোগারা সরাসরি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে কাজ করতেন।

জমিদারদের ক্ষমতা খর্ব : কর্নওয়ালিসের আগে পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব ছিল জমিদারদের ওপর। কিন্তু তিনি জমিদারদের সেই পুলিশি ক্ষমতা কেড়ে নেন এবং পুলিশ বাহিনীকে পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।

বেতন ও সুযোগ-সুবিধা : দারোগা ও পুলিশ কর্মীদের নিয়মিত বেতনের ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া চোর বা ডাকাত ধরতে পারলে তাঁদের পুরস্কার দেওয়ার প্রথাও চালু করা হয় যাতে তাঁরা কাজে উৎসাহ পান।

উচ্চপদে নিয়োগ : পুলিশি ব্যবস্থার জেলা স্তরের প্রধান কর্মকর্তা ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট। তবে পুলিশ বাহিনীর উচ্চপদগুলোতে কেবলমাত্র ইউরোপীয়দেরই নিয়োগ করার নীতি গ্রহণ করা হয়।

SOURCE- HZN

©kamaleshforeducation.in(2023)

 

error: Content is protected !!
Scroll to Top