


অষ্টম শ্রেণির ভূগোল দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট
প্রশ্ন সেট-১
Class 8 Geography 2nd Unit Test
Question Paper Set-1
2ND SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 8 (VIII) WBBSE
GEOGRAPHY QUESTION PAPER
Set-1
দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন-2025
অষ্টম শ্রেণি বিষয় : ভূগোল
সময় : ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট পূর্ণমান : ৫০
১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে লেখো : ১×৬=৬
১.১ পৃথিবীর সবথেকে বেশি সংখ্যক স্থানীয় বায়ুর প্রভাব দেখা যায় _____________ সন্নিহিত অঞ্চলে।
(ক) প্রশান্ত মহাসাগর, (খ) আটলান্টিক মহাসাগর,
(গ) ভূমধ্যসাগর (ঘ) ভারত মহাসাগর
উত্তরঃ (গ) ভূমধ্যসাগর।
১.২ নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলে গরমকালের শুরুতে _______________ বৃষ্টিপাত হতে দেখা যায়।
(ক) ঘূর্ণবাত, (খ) পরিচলন, (গ) শৈলোৎক্ষেপ
(ঘ) নাতিশীতোষ্ণ
উত্তরঃ (ক) ঘূর্ণবাত।
১.৩ ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত বঙ্গোপসাগরে ____________ নামে পরিচিত।
(ক) হ্যারিকেন (খ) টাইফুন (গ) সাইক্লোন (ঘ) আম্ফান
উত্তরঃ (গ) সাইক্লোন
১.৪ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম লৌহ ও ইস্পাত কেন্দ্র হল—
(ক) শিকাগো-গ্যারি, (খ) ডেট্রয়েট, (গ) ডুলুথ (ঘ) ভিলাই
উত্তরঃ (ক) শিকাগো-গ্যারি
১.৫ পৃথিবীর উচ্চতম জলপ্রপাত হল—
(ক) ইগুয়াজু, (খ) নায়াগ্রা, (গ) ভিক্টোরিয়া। (ঘ) অ্যাঞ্জেল
উত্তরঃ (ঘ) অ্যাঞ্জেল।
১.৬ শীতকালীন প্রবল তুষারপাত ______________ নাতিশীতোষ্ণ মহাদেশীয় জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য।
(ক) তুন্দ্রা, (খ) শীতল (গ) তৈগা (ঘ) পাম্পেরো।
উত্তরঃ (গ) তৈগা।
২। উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো : ১×৬=৬
২.১ _______________ হ্রদ পৃথিবীর উচ্চতম হ্রদ।
উত্তরঃ টিটিকাকা।
২.২ ______________ পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বতমালা।
উত্তরঃ আন্দিজ।
২.৩ 2009 সালের ঘূর্ণবাত _______________ নামে পরিচিত।
উত্তরঃ আয়লা।
২.৪ ___________ পৃথিবীর প্রথম উচ্চতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি।
উত্তরঃ মাউন্ট চিম্বোরাজো।
২.৫ ‘শিল্ড’ কথার অর্থ হল ____________________।
উত্তরঃ শক্ত পাথুরে তরঙ্গায়িত প্রাচীন ভূখণ্ড।
২.৬ ____________ রাজ্যে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সর্বাধিক গম উৎপন্ন হয়।
উত্তরঃ ডাকোটা।
৩। দু-এক কথায় উত্তর দাও : ১×৬=৬
৩.১ কোন্ মেঘে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিপাত হয়?
উত্তরঃ কিউমুলোনিম্বাস।
৩.২ অধঃক্ষেপ কী ?
উত্তরঃ পৃথিবীর অভিকর্ষের টানে বায়ুমণ্ডল থেকে জলকণা বা বরফকণা তরল বা কঠিন অবস্থায় ভূপৃষ্ঠে নেমে এলে তাকে বলে অধঃক্ষেপণ।
৩.৩ মেঘের জলকণাগুলোর ব্যাস কত?
উত্তরঃ 0.02 মি. মি.।
৩.৪ উত্তর আমেরিকার দীর্ঘতম নদীর নাম কী ?
উত্তরঃ মিসিসিপি মিসৌরি।
৩.৫ কোন্ জলবায়ু অঞ্চলে কোনো ঋতু পরিবর্তন হয় না ?
উত্তরঃ নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে।
৩.৬ এস্টেনশিয়া কী ?
উত্তরঃ পম্পাস অঞ্চলের পশুচারণ ভূমি।
৪। ‘ক’-স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’-স্তম্ভ মিলিয়ে লেখো : ১×৫=৫
‘ক’-স্তম্ভ |
‘খ’-স্তম্ভ |
(i) বাফেলো |
(a) বৃহত্তম মোটর গাড়ি নির্মাণকেন্দ্র |
(ii) শিকাগো |
(b) লৌহ-ইস্পাত শিল্পের রাজধানী |
(iii) গ্যারি |
(c) ডেয়ারি শিল্পের প্রধান কেন্দ্র |
(iv) ডেট্রয়েট |
(d) বৃহত্তম ময়দা শিল্পকেন্দ্র |
(v) উইসকনসিন |
(e) পৃথিবীর কসাইখানা |
উত্তরঃ
‘ক’-স্তম্ভ |
‘খ’-স্তম্ভ |
(i) বাফেলো |
(d) বৃহত্তম ময়দা শিল্পকেন্দ্র |
(ii) শিকাগো |
(e) পৃথিবীর কসাইখানা |
(iii) গ্যারি |
(b) লৌহ-ইস্পাত শিল্পের রাজধানী |
(iv) ডেট্রয়েট |
(a) বৃহত্তম মোটর গাড়ি নির্মাণকেন্দ্র |
(v) উইসকনসিন |
(c) ডেয়ারি শিল্পের প্রধান কেন্দ্র |
৫. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : ২×৪=৮
৫.১ পঞ্চহ্রদের নাম লেখো।
উত্তরঃ পঞ্চহ্রদের নামগুলি হল সুপিরিয়র, মিশিগান, হুরন, ইরি, অন্টারিও।
৫.২ কোরিওলিস বল কী ?
উত্তরঃ পৃথিবীর আবর্তন বা ঘূর্ণন গতির কারণে পৃথিবী-পৃষ্ঠস্থ যে-কোনো স্বচ্ছন্দ, গতিশীল বস্তুর ওপর একধরনের বল কাজ করে যা বস্তুগুলোর দিক বিক্ষেপ (পরিবর্তন) ঘটায়। এই বল হলো কোরিওলিস বল।
৫.৩ কোন্ অরণ্যকে এবং কেন ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ বলা হয় ?
উত্তরঃ সেলভা অরণ্যকে পৃথিবীর ফুসফুস বলা হয়। কারণ পৃথিবীর ২০ শতাংশ অক্সিজেনের জোগান দেয় এই অরণ্য।
৫.৪ ‘Fall’ কী ?
উত্তরঃ লরেন্স জিও জলবায়ু ও নাতিশীতোষ্ণ মিশ্র অরণ্যে শরৎকালে গাছগুলির পাতা লাল, হলদে বা কমলা হয়ে যায় এবং তারপর এগুলি ঝরে পড়ে তাই শরৎকালকে এখানে Fall বলা হয়।
৬। যে-কোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৩×৩=৯
৬.১ মৃত্যু উপত্যকা কাকে বলে ?
উত্তরঃ উত্তর আমেরিকায় পশ্চিমের পার্বত্য অঞ্চলের ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব অংশের উপত্যকা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৯০ মিটার নীচু। তাই এই অঞ্চলে প্রাপ্ত সামান্য জলের লবণতা এত বেশি যে এখানে কোনো জীব বেঁচে থাকতে পারে না। এই গভীর উপত্যকা মৃত্যু উপত্যকা নামে পরিচিত। এই উপত্যকা উত্তর আমেরিকার উষ্ণতম (৫৬° সেলসিয়াস) স্থান এবং পশ্চিম গোলার্ধের নিম্নতম স্থান।
৬.২ ক্যাটাবেটিক বায়ু কী ?
উত্তরঃ যখন পর্বতের উচ্চভূমি রাতের বেলায় তাড়াতাড়ি তাপ বিকিরণ করে পর্বতের ঢালের উপরিস্থিত বায়ু ঠান্ডা ও ভারী হয়ে যায়। এই উচ্চচাপের ভারী বায়ু পর্বতের ঢাল বরাবর উপর থেকে নিচের দিকে নামতে শুরু করে এবং উপত্যকায় অবস্থান করে। এই ধরনের বাতাসকে ক্যাটাবেটিক বায়ু বলে।
৬.৩ আমেরিকার হ্রদ অঞ্চলে পশুপালনের উন্নতি ঘটার কারণ কী ?
উত্তরঃ আমেরিকার হ্রদ অঞ্চলের পশুপালনে উন্নতির প্রধান কারণ হল এখানকার জলবায়ু, উর্বর মৃত্তিকা এবং পর্যাপ্ত জলের সহজলভ্যতা। এই অনুকূল পরিবেশ পশুখাদ্য উৎপাদনে সহায়তা করে, যা গবাদি পশু, ভেড়া, শূকর ইত্যাদি পালনের জন্য অপরিহার্য। এছাড়াও, হ্রদ অঞ্চলের কাছাকাছি উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা ও বাজারজাতকরণের সুযোগ পশুপালনের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
৬.৪ দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যভাগের বিশাল সমভূমি অঞ্চল বিভিন্ন নদী-অববাহিকায় কী কী নামে পরিচিত ?
উত্তরঃ দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যভাগের বিশাল সমভূমি অঞ্চল বিভিন্ন নদী-অববাহিকায় বিভিন্ন নামে পরিচিত— এই অঞ্চল ওরিনোকো নদীর অববাহিকায় ল্যানোস সমভূমি নামে পরিচিত। আমাজন নদীর অববাহিকায় সেলভা সমভূমি, পারেনা প্যারাগুয়ে নদীর অববাহিকায় গ্রানচাকো সমভূমি এবং লা-প্লাটা নদীর অববাহিকায় কম্পাস সমভূমি নামে পরিচিত।
৭। যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৫×২=১০
৭.১ কানাডার শিল্ড অঞ্চলে শিল্প উন্নতির কারণ কী ?
উত্তরঃ কানাডার শিল্ড অঞ্চল কৃষিকাজে সমৃদ্ধ না হলেও শিল্পে যথেষ্ট উন্নত। দুর্গম অঞ্চল ও প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ সত্ত্বেও এখানে শিল্পের উন্নতি ঘটেছে। কারণগুলো হলো—
• এখানকার বনভূমির পর্যাপ্ত কাঠ, বন্যপশুর লোমশ চামড়া এবং খনিজ পদার্থের সহজ-লভ্যতা।
• কানাডার উন্নতমানের প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা।
• স্থানীয় নদীগুলি থেকে উৎপন্ন জলবিদ্যুৎ শক্তির প্রাপ্যতা।
• শিল্ড অঞ্চলের দক্ষিণ প্রান্তে পঞ্চহ্রদ ও সেন্টলরেন্স নদীর মাধ্যমে সৃষ্ট সুলভ জলপথ।
• পরিবহণের সুবিধা : শীতকালে যখন চারিদিকে বরফ জমে যায় তখন গাছগুলি কেটে বরফ ঢাকা নদীর উপর ফেলে রাখা হয়। গ্রীষ্মকালে বরফ গলে গেলে গাছগুলি নদীর স্রোতে ভাসতে ভাসতে নীচের দিকে নামে। নদী তীরবর্তী কাঠ-চেরাই কলগুলিতে (Saw mill) সেগুলিকে সংগ্রহ করা হয়। এর ফলে পরিবহণ খরচ খুব কম হয়।
• শিল্ড অঞ্চলে খরস্রোতা নদীগুলি থেকে উৎপন্ন জলবিদ্যুৎ শক্তি।
• কারখানাগুলিতে উন্নত প্রযুক্তিতে কাঠচেরাই।
• দক্ষ শ্রমিকের জোগান।
• প্রচুর মূলধনের সহযোগিতা।
—এই কারণগুলোর সহযোগিতায় শিল্ড অঞ্চলের দক্ষিণ দিকে বিভিন্ন ধরনের শিল্প সমাবেশ ঘটেছে, যা এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূল ভিত্তি।
৭.২ উত্তর আমেরিকা মহাদেশের জলবায়ুর বৈচিত্র্যের কারণ কী ?
উত্তরঃ উত্তর আমেরিকা মহাদেশের জলবায়ুর বৈচিত্র্যের কারণ—
অক্ষাংশগত অবস্থান : উত্তর আমেরিকার বেশিরভাগ অংশই ৩০০-৬০° উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় মহাদেশটির অধিকাংশই নাতিশীতোয় জলবায়ুর অন্তর্গত। দক্ষিণে মেক্সিকোর ওপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা বিস্তৃত হওয়ায় মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ক্রান্তীয় জলবায়ু দেখা যায়। আবার মহাদেশটির উত্তরাংশ সুমেরু বৃত্তের মধ্যে পড়ায় এই অঞ্চলে তুন্দ্রা ও শীতল মেরু জলবায়ু দেখা যায়।
সমুদ্রস্রোত : শীতল লাব্রাডর স্রোতের প্রভাবে উত্তর আমেরিকা মহাদেশের উত্তর-পূর্ব উপকূলভাগ বছরের বেশিরভাগ সময় বরফাবৃত থাকে। আবার শীতল ক্যালিফোর্নিয়া স্রোতের প্রভাবে মহাদেশটির দক্ষিণ – পশ্চিমদিকে ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলভাগ বেশ ঠান্ডা থাকে। মহাদেশটির দক্ষিণ-পূর্বে প্রবাহিত উষু উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে ওই অঞ্চলের উপকূলভাগের জলবায়ু উয় থাকে।
বায়ুপ্রবাহ : বসন্তের শুরুতে রকি পর্বতের পূর্বঢাল বরাবর চিনুক নামে এক উয় স্থানীয় বায়ু প্রবাহিত হয়। এই বায়ুর জলীয় বাষ্প ধারণের ক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় ওই অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কম হয়। যার জন্য বড়ো গাছপালার বদলে ঘাস ও ঝোপঝাড় জাতীয় উদ্ভিদ দেখা যায়। এই অঞ্চল প্রেইরি তৃণভূমি নামে পরিচিত।
পর্বতের অবস্থান : মহাদেশটির পূর্বদিকে অ্যাপালেশিয়ান পার্বত্য অঞ্চল এবং পশ্চিম দিকে কর্ডিলেরা উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত হওয়ায় মধ্যভাগে সমুদ্রের প্রভাব খুব কম। এছাড়া মহাদেশটির উত্তর দিক থেকে হিম শীতল মেরুবায়ু। প্রবেশ করে বিনা বাধায় বহুদূর পর্যন্ত প্রবাহিত হয়। আবার দক্ষিণে মেক্সিকো উপসাগর থেকে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু ও বাধাহীনভাবে প্রবাহিত হয়।
৭.৩ বিভিন্ন প্রকার বৃষ্টিপাতের বর্ণনা দাও।
উত্তরঃ পরিচলন বৃষ্টিপাত—
যে সমস্ত অঞ্চলে সূর্যরশ্মি সারাবছর প্রায় লম্বভাবে পড়ে এবং যেখানে জলভাগের বিস্তার বেশি সেখানে বাষ্পীভবনের পরিমাণ বেশি হয়। এই সমস্ত অঞ্চলে বায়ুতে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প মেশে এবং এই উয় হালকা বাতাস ওপরের দিকে উঠে প্রসারিত হয়। ঊর্ধ্বগামী বায়ুর চাপ কম হওয়ায় উষুতাও কমে যায়। কিন্তু সেই উষুতায় বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ একই থাকে। ঠান্ডা বাতাস কম জলীয় বাষ্প ধারন করতে পারে বলে বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative Humidity) বেড়ে যায়। ক্রমশ বায়ু আরও শীতল হয়ে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে এবং ঘনীভবন প্রক্রিয়ায় জলীয় বাষ্প ছোটো ছোটো জলকণায় পরিণত হয়। এই জলকণা ধূলিকণাকে আশ্রয় করে তৈরি করে মেঘ (সাধারণত কিউমুলোনিম্বাস)। অবশেষে এই মেঘ আরও ঘনীভূত হলে জলকণাগুলো জলবিন্দুতে পরিণত হয়ে বৃষ্টি রূপে ভূপৃষ্ঠে ঝরে পড়ে। -এই বৃষ্টি হলো পরিচলন বৃষ্টিপাত (Convectional Rainfall)। নিরক্ষীয় অঞ্চলে দুপুরের পর বা বিকেলের দিকে বজ্রবিদ্যুৎসহ মুষলধারে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়। এই বৃষ্টিপাত অল্প জায়গার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
৭.৪ উদ্ভিদের নামসহ দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের তিনটি জলবায়ু অঞ্চলগুলির নাম লেখো।
উত্তরঃ দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের প্রধান জলবায়ু অঞ্চল এবং তাদের সাথে সম্পর্কিত উদ্ভিদগুলি হলো—
(১) নিরক্ষীয় জলবায়ু ও চিরহরিৎ (সেলভা) অরণ্য :
সারা বছর প্রায় একই রকম উয় ও আর্দ্র জলবায়ু দেখা যায়। এখানে কোনো ঋতু পরিবর্তন হয় না।
উদ্ভিদ : এই অঞ্চলে রোজউড, আয়রন উড, ব্রাজিলনাট, বাঁশ ঘনসন্নিবিষ্ট ভাবে জন্মায় বলে কোথাও কোথাও সূর্যালোক প্রবেশ করতে পারে না। এই কারণে এই স্থান গোধূলি অঞ্চল (Region of twilight) নামে পরিচিত।
(২) সাভানা জলবায়ু এবং সাভানা তৃণভূমি ও পর্ণমোচী উদ্ভিদ :
গ্রীষ্মকাল উষু ও আর্দ্র এবং শীতকাল শীতল ও শুষ্ক। বেশিরভাগ বৃষ্টিপাত গ্রীষ্মকালেই হয়।
উদ্ভিদ : সাভানা তৃণভূমি অঞ্চলে বিভিন্ন উচ্চতার লম্বা ঘাস (প্রায় ৪ মিটার), বিচ্ছিন্নভাবে শাল, সেগুন গাছ দেখা যায়।
(৩) ক্রান্তীয় মরু জলবায়ু অঞ্চল ও কাঁটা জাতীয় উদ্ভিদ :
গ্রীষ্মকাল খুব উষু ও শীতকাল শীতল। এই অঞ্চলটি পৃথিবীর শুষ্কতম অঞ্চল।
উদ্ভিদ : বৃষ্টিহীন শুকনো জলবায়ুর জন্য এখানে গুল্ম, কাঁটাগাছ, ঝোপঝাড় এবং ক্যাকটাস জাতীয় গাছ জন্মায়।
©kamaleshforeducation.in(2023)
