অষ্টম শ্রেণীর ভূগোল

(আমাদের পৃথিবী) 

 অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর

একাদশ অধ্যায়

‘ওশেনিয়া’ 

 গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর:

অতিসংক্ষিপ্ত নৈর্ব্যক্তিক/সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর:

 

১. প্রশ্ন: ওশেনিয়া মহাদেশের বৃহত্তম দেশটির নাম কী?
উত্তর: অস্ট্রেলিয়া।
২. প্রশ্ন: ওশেনিয়া মহাদেশের ক্ষুদ্রতম দেশটির নাম কী?
উত্তর: নাউরু।
৩. প্রশ্ন: ওশেনিয়া তথা অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী?
উত্তর: মাউন্ট কোসিউস্কো।

৪.প্রশ্ন: পৃথিবীর বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীরের নাম কী?
উত্তর: গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ।

৫.প্রশ্ন: ওশেনিয়ার কোন্ দ্বীপপুঞ্জকে ‘ক্ষুদ্র দ্বীপ’ বলা হয়? ৫.
উত্তর: মাইক্রোনেশিয়া।
৬. প্রশ্ন: ‘পলিনেশিয়া’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: অনেক দ্বীপ

৭.প্রশ্ন: ওশেনিয়ার কোন দ্বীপপুঞ্জকে ‘কালো দ্বীপ’ বলা হয়?

উত্তর: মেলানেশিয়া।

৮. প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘতম নদীর নাম কী?
উত্তর: মারে-ডার্লিং।
৯. প্রশ্ন: নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী?
উত্তর: মাউন্ট কুক।
১০. প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পশুর নাম কী?
উত্তর: ক্যাঙ্গারু।
১১. প্রশ্ন: নিউজিল্যান্ডের জাতীয় পাখির নাম কী?
উত্তর: কিউয়ি (Kiwi)।
১২. প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ার একটি বিখ্যাত গাছের নাম লেখো।
উত্তর: ইউক্যালিপটাস।

১৩.প্রশ্ন: মেরিনো ভেড়া পালনের জন্য কোন্ দেশ বিখ্যাত? ১৩.
উত্তর: অস্ট্রেলিয়া।

১৪.প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ার মেষ পালন কেন্দ্রগুলোতে কাজ করা শ্রমিকদের কী বলে?  
উত্তর: জ্যাকাস (Jackaroos)।
১৫. প্রশ্ন: মারে-ডার্লিং অববাহিকার তৃণভূমি কী নামে পরিচিত?
উত্তর: ডাউন্স (Downs)।
১৬. প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ার কোন খনিটি সোনা উত্তোলনের জন্য বিখ্যাত?
উত্তর: কালগুরলি ও কুলগার্ডি।
১৭. প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়া ও তাসমানিয়াকে কোন্ প্রণালী পৃথক করেছে?
উত্তর: বাস প্রণালী।
১৮. প্রশ্ন: নিউজিল্যান্ডের উত্তর ও দক্ষিণ দ্বীপকে কোন্ প্রণালী পৃথক করেছে?
উত্তর: কুক প্রণালী

১৯. প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত মরুভূমিটির নাম কী?
উত্তর: গ্রেট ভিক্টোরিয়া মরুভূমি।
২০. প্রশ্ন: কোন অববাহিকায় ‘আর্টেজীয় কূপ’ দেখা যায়?
উত্তর: অস্ট্রেলিয়ার মধ্যভাগের সমভূমি অঞ্চলে।
২১. প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম কী?
উত্তর: ক্যানবেরা।
২২. প্রশ্ন: নিউজিল্যান্ডের রাজধানীর নাম কী?
উত্তর: ওয়েলিংটন (পৃথিবীর দক্ষিণতম রাজধানী)।
২৩. প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ার একটি প্রধান খনিজ সম্পদের নাম লেখো।
উত্তর: বক্সাইট বা আকরিক লোহা।

২৪.প্রশ্ন: পাপুয়া নিউগিনি কোন দ্বীপপুঞ্জের অন্তর্গত? ২৪.
উত্তর: মেলানেশিয়া।
২৫. প্রশ্ন: কোন্ পাখিটি হাসির মতো আওয়াজ করে?
উত্তর: কুকাবুরা।
৬. প্রশ্ন: গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ কোন্ সাগরে অবস্থিত?
উত্তর: কোরাল সাগরে।
২৭. প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম শহর ও বন্দরের নাম কী?
উত্তর: সিডনি।
২৮. প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ার কোন রাজ্যে ভেড়া পালন সবথেকে বেশি হয়?
উত্তর: নিউ সাউথ ওয়েলস।
২৯. প্রশ্ন: মারে ও ডার্লিং নদী দুটির মিলনস্থল কোথায়?
উত্তর: ওয়েন্টওয়ার্থ।
৩০. প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব দিকের পর্বতমালাটির নাম কী?
উত্তর: গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ।
৩১. প্রশ্ন: নিউজিল্যান্ডের বিখ্যাত পাইন জাতীয় গাছের নাম কী?
উত্তর: কাউরি।
৩২. প্রশ্ন: নিউজিল্যান্ডের আদি অধিবাসীদের কী বলা হয়?
উত্তর: মাওরি।
৩৩. প্রশ্ন: ওশেনিয়ার দ্বীপগুলির প্রধান কৃষিজ ফসল কী?
উত্তর: নারকেল ও কোকো।
৩৪. প্রশ্ন: গাছে চড়া ভাল্লুকের মতো দেখতে অস্ট্রেলিয়ার প্রাণীটির নাম কী?
উত্তর: কোয়ালা।
৩৫. প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলটি মূলত কী দিয়ে ঢাকা?
উত্তর: মরুভূমি ও বালুকাময় মরুপ্রান্তর।
৩৬. প্রশ্ন: ওশেনিয়া মহাদেশ কোন মহাসাগর দ্বারা বেষ্টিত?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগর।
৩৭. প্রশ্ন: কেন্টারবেরি তৃণভূমি কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: নিউজিল্যান্ডে।
৩৮.প্রশ্ন: নিউজিল্যান্ডের প্রধান রপ্তানি পণ্য কী?
উত্তর: দুগ্ধজাত দ্রব্য ও পশম
৩৯. প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ার কোন্ অঞ্চলটি বক্সাইট উত্তোলনে বিশ্বে প্রথম?
উত্তর: উইপা।
৪০. প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ার প্রধান শিল্প কোনটি?
উত্তর: লৌহ-ইস্পাত শিল্প।
৪১. প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ার আদিম অধিবাসীরা শিকারের জন্য কী ব্যবহার করে?
উত্তর: বুমেরাং।
৪২. প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ার একটি লবণাক্ত হ্রদের নাম লেখো।
উত্তর: আয়ার হ্রদ।
৪৩.প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ কে আবিষ্কার করেন?
উত্তর: জেমস কুক (১৭৭০ সালে)।

৪৪প্রশ্ন: ডাউন্স তৃণভূমি কোন্ পশুপালনের জন্য বিখ্যাত? 
উত্তর: গরু ও ভেড়া। 

৪৫.প্রশ্ন: টরেস প্রণালী কোন্ দুটি দেশকে আলাদা করেছে? 
উত্তর: অস্ট্রেলিয়া ও পাপুয়া নিউগিনি।
৪৬.প্রশ্ন: ওশেনিয়ার দ্বীপগুলি মূলত কী দিয়ে গঠিত?
উত্তর: প্রবাল বা আগ্নেয়গিরির লাভা।

৪৭.প্রশ্ন: নিউজিল্যান্ডের বৃহত্তম হ্রদের নাম কী?  
উত্তর: টাউপো।
৪৮. প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে কোন্ জলবায়ু দেখা যায়?
উত্তর: ব্রিটিশ বা নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু।
৪৯. প্রশ্ন: ওশেনিয়ার কোন দ্বীপে চিনি শিল্প উন্নত?
উত্তর: ফিজি।
৫০. প্রশ্ন: ওশেনিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় দ্বীপ কোনটি?
উত্তর: অস্ট্রেলিয়া।

 

রচনামূলক / বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর:

=======================================================================================

১. প্রশ্ন: ওশেনিয়া মহাদেশের আঞ্চলিক বিভাগগুলি সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: ওশেনিয়া মহাদেশকে প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ করা হয়-

(১) অস্ট্রালেশিয়া: অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড নিয়ে গঠিত।

(২) মেলানেশিয়া: ‘কালো দ্বীপ’, যেমন- পাপুয়া নিউগিনি, ফিজি।

(৩) মাইক্রোনেশিয়া: ‘ক্ষুদ্র দ্বীপ’, যেমন-গুয়াম, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ।

(৪) পলিনেশিয়া: ‘অনেক দ্বীপ’, যেমন- হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ, সামোয়া।
২. প্রশ্ন: গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ (Great Barrier Reef) কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে? এর গুরুত্ব কী?

উত্তর: অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলে কোরাল সাগরে অসংখ্য প্রবাল কীটের দেহাবশেষ জমা হয়ে এই পৃথিবীর বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর সৃষ্টি হয়েছে।

এর গুরুত্ব হলো- (১) এটি উপকূলকে সামুদ্রিক ঝড়ের হাত থেকে রক্ষা করে।

(২) এটি পৃথিবীর অন্যতম বৈচিত্র্যময় সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র।

(৩) পর্যটন শিল্পে এটি অস্ট্রেলিয়ার বড় আয়ের উৎস।

৩. প্রশ্ন: আর্টেজীয় কূপ (Artesian Well) কী? এটি অস্ট্রেলিয়ার কোথায় দেখা যায়?

উত্তর: অস্ট্রেলিয়ার মধ্যভাগের নিম্নভূমিতে এক বিশেষ ধরনের শিলাস্তর আছে যেখানে দুটি অপ্রবেশ্য শিলাস্তরের মাঝে একটি প্রবেশ্য শিলাস্তর অবস্থান করে। এখানে গর্ত খুঁড়লে পাম্প ছাড়াই ভূগর্ভস্থ জল প্রবল বেগে ফোয়ারার মতো উপরে উঠে আসে, একে আর্টেজীয় কূপ বলে। এটি মরুপ্রায় অঞ্চলে কৃষিকাজ ও পশুপালনে জলের প্রধান উৎস।
৪. প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়া মেষ পালনে বিশ্বে উন্নত কেন?

উত্তর: (১) এখানকারডাউন্স তৃণভূমিতে মেষের প্রিয় খাদ্য ঘাস প্রচুর পাওয়া যায়।

(২) মেষদের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য আর্টেজীয় কূপের জল সহজলভ্য। (৩) নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু মেরিনো মেষের স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী।

(৪) আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পশম সংগ্রহ ও হিমঘরের সুবিধা।

(৫) বিশ্ববাজারে অস্ট্রেলিয়ার পশমের বিশাল চাহিদা।
৫. প্রশ্ন: গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ (Great Dividing Range) সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: এটি অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূল বরাবর উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত একটি প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বতমালা। এটি উপকূলীয় অঞ্চল থেকে মহাদেশের অভ্যন্তরভাগকে আলাদা করেছে বলে একে ‘ডিভাইডিং রেঞ্জ’ বা ‘জলবিভাজিকা’ বলা হয়। এখানকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো মাউন্ট কোসিউস্কো। এখান থেকেই মারে ও ডার্লিং নদীর উৎপত্তি হয়েছে।
৬. প্রশ্ন: মারে-ডার্লিং অববাহিকার ভূ-প্রকৃতি ও নদনদীর বর্ণনা দাও।

উত্তর: এটি অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত একটি উর্বর সমভূমি অঞ্চল। গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ থেকে উৎপন্ন হয়ে মারে ও ডার্লিং নদী দুটি এনকাউন্টার উপসাগরে পতিত হয়েছে। এই নদী দুটির মিলিত প্রবাহ অত্যন্ত উর্বর পলি সঞ্চয় করে এই সমভূমি তৈরি করেছে, যা অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কৃষি অঞ্চল।
৭. প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলটি জনহীন কেন?

উত্তর: (১)এই অঞ্চলটি মূলত অতি প্রাচীন শিলা দ্বারা গঠিত এবং অত্যন্ত শুষ্ক।

(২) এখানে বৃষ্টিপাত খুব কম হওয়ায় গ্রেট ভিক্টোরিয়া ও গিবসনের মতো বিশাল মরুভূমি সৃষ্টি হয়েছে।

(৩) জলের অভাব ও প্রচণ্ড গরমের কারণে কৃষিকাজ প্রায় অসম্ভব।

(৪) বন্ধুর ভূ-প্রকৃতি যাতায়াতের জন্য কষ্টকর। কেবল খনি অঞ্চলগুলিতেই কিছু মানুষ বাস করে।  
৮. প্রশ্ন: নিউজিল্যান্ডের ভূ-প্রকৃতির বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।

উত্তর: নিউজিল্যান্ড মূলত দুটি বড় দ্বীপ (উত্তর ও দক্ষিণ দ্বীপ) নিয়ে গঠিত। দক্ষিণ দ্বীপে ‘সাউদার্ন আল্পস’ পর্বতমালা অবস্থিত যার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট কুক। উত্তর দ্বীপটি আগ্নেয়গিরি, উষ্ণ প্রস্রবণ ও হ্রদে পূর্ণ। এখানকার উপকূলীয় অঞ্চলগুলো খুব বন্ধুর এবং পাহাড়ি। উত্তর ও দক্ষিণ দ্বীপ কুক প্রণালী দ্বারা আলাদা হয়েছে।
 

৯. প্রশ্ন: ওশেনিয়ার বিচিত্র প্রাণীজগত সম্পর্কে লেখো।

উত্তর: ওশেনিয়া মহাদেশটি দীর্ঘকাল অন্য মহাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় এখানে কিছু অদ্ভুত প্রাণী দেখা যায়।

যেমন- (১) ক্যাঙ্গারু: পেটের থলিতে বাচ্চা বয়।

(২) প্লাটিপাস: স্তন্যপায়ী হলেও ডিম পাড়ে।

(৩) কোয়ালা: ইউক্যালিপটাস গাছের পাতা খেয়ে বাঁচে।

(৪) কিউয়ি ও ইমু: উড়তে না পারা পাখি।

(৫) লায়ার বার্ড: অন্যের ডাক নকল করতে পারে।
উত্তর: ১০. প্রশ্ন: ‘ডাউন্স’ (Downs) তৃণভূমির অর্থনৈতিক গুরুত্ব কী? মারে-ডার্লিং অববাহিকার নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমিকে ডাউন্স বলে।

(১) এটি অস্ট্রেলিয়ার প্রধান পশুপালন ক্ষেত্র।

(২) এখানকার উর্বর মাটিতে প্রচুর পরিমাণে গম, যব ও ওট চাষ হয়।

(৩) পশুপালন ও কৃষির ওপর ভিত্তি করে এখানে প্রচুর দুগ্ধজাত দ্রব্য ও মাংস প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে উঠেছে।
১১. প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ার মেষ পালন কেন্দ্র বা ‘শিপ স্টেশন’গুলোর পরিচয় দাও।
উত্তর: অস্ট্রেলিয়ার মেষ পালন কেন্দ্রগুলো আয়তনে বিশাল হয়। এখানে মেষদের থাকার জন্য আলাদা ঘর, পশম কাটার জায়গা এবং শ্রমিকদের জন্য থাকবার ব্যবস্থা থাকে। এখানকার শ্রমিকদের ‘জ্যাকাস’ বলা হয়। আধুনিক পদ্ধতিতে পশুদের প্রজনন ও চিকিৎসা করা হয় এবং হেলিকপ্টারের সাহায্যেও অনেক সময় পশুদের তদারকি করা হয়।
১২. প্রশ্ন: কালগুরলি ও কুলগার্ডি (Kalgoorlie & Coolgardie) কেন বিখ্যাত? উত্তর: এই দুটি শহর পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার মরুভূমি অঞ্চলের খনি শহর। এখানে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্বর্ণখনি অবস্থিত। প্রতিকূল মরু জলবায়ু হওয়া সত্ত্বেও সোনা উত্তোলনের জন্য এখানে জনবসতি গড়ে উঠেছে। এখান থেকে উত্তোলিত সোনা অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১৩. প্রশ্ন: নিউজিল্যান্ডের বনজ সম্পদের বিবরণ দাও।

উত্তর: নিউজিল্যান্ডের পার্বত্য অঞ্চলে প্রচুর সরলবর্গীয় ও পর্ণমোচী বনভূমি রয়েছে। এখানকার বিখ্যাত গাছ হলো পাইন জাতীয় ‘কাউরি’। এই অরণ্য থেকে উন্নত মানের কাঠ ও পশুখাদ্য পাওয়া যায়। এছাড়া নিউজিল্যান্ডের কাগজ ও মণ্ড শিল্প এই বনজ সম্পদের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে।
১৪. প্রশ্ন: ওশেনিয়ার দ্বীপপুঞ্জগুলির অর্থনৈতিক অবস্থা কেমন?

উত্তর: ওশেনিয়ার ছোট দ্বীপগুলির (যেমন- ফিজি, সামোয়া) অর্থনীতি মূলত কৃষি ও পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। এখানে নারকেল (কোপরা), আখ, কোকো ও কফি চাষ হয়। সমুদ্রের মনোরম পরিবেশ ও প্রবাল দ্বীপগুলোর টানে সারাবছর প্রচুর পর্যটক আসে, যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সাহায্য করে।
১৫. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ হিসেবে ওশেনিয়ার গুরুত্ব কী?

উত্তর: (১) ওশেনিয়া এশিয়া ও আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে নৌ-বাণিজ্যিক সংযোগ রক্ষা করে।

(২) এখানকার দ্বীপগুলো মৎস্য শিকারের বড় কেন্দ্র।

(৩) সমুদ্রের তলদেশের খনিজ সম্পদ আহরণের সম্ভাবনা এখানে প্রচুর।

(৪) আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে এই দ্বীপগুলি গুরুত্বপূর্ণ বিরতিস্থল হিসেবে কাজ করে।

১৬. প্রশ্ন: ওশেনিয়ার মহাদেশীয় অবস্থানের ভৌগোলিক প্রভাব আলোচনা করো।

উত্তর: ওশেনিয়া মহাদেশটি সম্পূর্ণভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে বিচ্ছিন্ন দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে গঠিত। এই অবস্থানের কারণে-

(১) এখানে এক অনন্য ও বৈচিত্র্যময় জীববৈচিত্র্য গড়ে উঠেছে।

(২) এটি এশিয়া ও আমেরিকার মধ্যবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ।

(৩) দ্বীপগুলোর ক্ষুদ্র আয়তনের কারণে একেকটি দেশের সম্পদ সীমিত। (৪) বিচ্ছিন্নতার কারণে উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলা কঠিন হয়েছে।
১৭. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের প্রবাল দ্বীপ কীভাবে তৈরি হয়?

উত্তর: উষ্ণ ও অগভীর সমুদ্রতলে প্রবাল কীট নামক ক্ষুদ্র সামুদ্রিক প্রাণীর দেহাবশেষ জমে প্রবাল প্রাচীর তৈরি হয়। হাজার হাজার বছর ধরে এই প্রক্রিয়া চলে এবং প্রবাল প্রাচীর জলের ওপরে উঠে দ্বীপের রূপ নেয়। অধিকাংশ দ্বীপের মাঝখানে একটি উপহ্রদ বা ‘লগুন’ থাকে। এগুলোকে ‘অ্যাটল’ (Atoll) বলা হয়।
১৮. প্রশ্ন: ওশেনিয়ার আগ্নেয় দ্বীপগুলোর বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: ওশেনিয়ার অনেক দ্বীপ মূলত সমুদ্রের নিচে অবস্থিত আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের ফলে সৃষ্ট লাভা জমে তৈরি হয়েছে (যেমন- হাওয়াই, ফিজি)। এই দ্বীপগুলো সাধারণত উঁচু হয়, মাটির উর্বরতা খুব বেশি হওয়ায় এখানে প্রচুর কৃষি ফসল (কলা, নারকেল) ফলে। তবে এখানে আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত ও ভূমিকম্পের ঝুঁকি সবসময় থাকে।
১৯. প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্র বন্দরগুলোর গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তর: অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ মানুষ উপকূলীয় অঞ্চলে বাস করে এবং দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সম্পূর্ণভাবে সমুদ্র বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন ও পার্থ বন্দরগুলির মাধ্যমে খনিজ সম্পদ বিদেশে রপ্তানি করা হয় এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয়। এই বন্দরগুলো অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বের সাথে যুক্ত রাখে।
২০. প্রশ্ন: তাসমানিয়া দ্বীপের ভূ-প্রকৃতি কেমন?

উত্তর: তাসমানিয়া অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণে অবস্থিত একটি পাহাড়ি দ্বীপ। এখানকার ভূ-প্রকৃতি অস্ট্রেলিয়া মূল ভূখণ্ডের চেয়ে ভিন্ন। এখানে প্রচুর উচ্চ মালভূমি, গভীর উপত্যকা এবং অসংখ্য হ্রদ রয়েছে। দ্বীপের বেশির ভাগ অংশ ঘন অরণ্যে ঢাকা এবং এখানকার আবহাওয়া অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে অনেক শীতল।
২১. প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ার মরুভূমি অঞ্চলের জীবনযাত্রা কেমন?

উত্তর: অস্ট্রেলিয়ার দুই-তৃতীয়াংশ অঞ্চল মরুভূমি বা মরুপ্রায়। এখানে জনবসতি খুব কম। মানুষ মূলত খনি অঞ্চলগুলিতে বা মরুদ্যানে বাস করে। এখানকার মানুষ প্রচণ্ড গরম ও জলের অভাবের সাথে লড়াই করে জীবনযাপন করে। যাতায়াতের জন্য উট বা বিশেষ যান ব্যবহার করা হয়।
২২. প্রশ্ন: ওশেনিয়ার প্রাণীজগত কীভাবে অন্য মহাদেশ থেকে আলাদা? উত্তর: ওশেনিয়া (বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া) বহু বছর ধরে অন্য মহাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় এখানকার প্রাণীজগতে এক অনন্য বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। এখানকার সিংহভাগ প্রাণীই হলো ‘মারসুপিয়াল’ বা পেটের থলিতে বাচ্চা রাখা প্রাণী, যা অন্য কোথাও দেখা যায় না (যেমন- ক্যাঙ্গারু, কোয়ালা)। এছাড়া ডিম পাড়া স্তন্যপায়ী প্রাণীও এখানে আছে।
২৩. প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ার প্রধান শিল্প ও তার কেন্দ্রগুলো আলোচনা করো।
উত্তর: (১) লৌহ-ইস্পাত শিল্প: নিউক্যাসেল ও পোর্ট কেম্বলা।
(২) খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ: মেলবোর্ন ও সিডনি।
(৩) অটোমোবাইল: অ্যাডিলেড ও মেলবোর্ন।
(৪) বস্ত্র শিল্প: ক্যানবেরা। খনিজ সম্পদ ও উন্নত প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে এই শিল্পগুলো গড়ে উঠেছে।
২৪. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের নৌ-বাণিজ্যিক পথে ওশেনিয়ার ভূমিকা কী?
উত্তর: ওশেনিয়ার দ্বীপগুলো প্রশান্ত মহাসাগরের বিশাল জলরাশিতে জাহাজের বিরতিস্থল বা ‘রিফুয়েলিং স্টেশন’ হিসেবে কাজ করে। এছাড়া হাওয়াই, ফিজি ও পাপুয়া নিউগিনির বন্দরগুলো জাহাজের মেরামত ও পণ্য খালাসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
২৫. প্রশ্ন: নিউজিল্যান্ডের আদি অধিবাসী ‘মাওরি’দের সংস্কৃতি সম্পর্কে লেখো।

উত্তর: মাওরিরা নিউজিল্যান্ডের প্রাচীন অধিবাসী। তারা কাঠের ভাস্কর্য, বিশেষ ধরনের ট্যাটু বা ‘তোকো’ এবং ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ‘হাকা’-র জন্য বিখ্যাত। তাদের সমাজ ব্যবস্থা যৌথ এবং তারা প্রকৃতি পূজারী। বর্তমান নিউজিল্যান্ডের সংস্কৃতিতে মাওরিদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২৬. প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ার কৃষি ও পশুপালনের মধ্যে সম্পর্ক কী?

উত্তর: অস্ট্রেলিয়ার কৃষি ও পশুপালন একে অপরের পরিপূরক। পশুখামারগুলোতে পশুখাদ্য হিসেবে গম ও অন্যান্য শস্য চাষ করা হয়। আবার পশুপালনের ফলে পাওয়া সার কৃষিজমির উর্বরতা বাড়ায়। বড় খামারগুলোতে কৃষি ও পশু পালন একই সাথে করা হয়।
২৭. প্রশ্ন: নিউজিল্যান্ডের ‘সাউদার্ন আল্পস’ (Southern Alps) পর্বতের বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: সাউদার্ন আল্পস নিউজিল্যান্ডের দক্ষিণ দ্বীপের মেরুদণ্ড। এটি একটি সুউচ্চ ভঙ্গিল পর্বতমালা যা হিমবাহ দ্বারা আবৃত। এখানকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট কুক। পর্বতটি পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং এখান থেকেই নিউজিল্যান্ডের অধিকাংশ নদী উৎপন্ন হয়েছে।
২৮. প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ার নগর পরিকল্পনা কেমন?

উত্তর: অস্ট্রেলিয়ার শহরগুলো পরিকল্পিত এবং আধুনিক। সিডনি, মেলবোর্ন বা ক্যানবেরা-র মতো শহরগুলোতে প্রশস্ত রাস্তা, প্রচুর পার্ক এবং সুউচ্চ অট্টালিকা দেখা যায়। ক্যানবেরা শহরটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে। শহরগুলিতে উন্নত পরিবহন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা রয়েছে
২৯. প্রশ্ন: ওশেনিয়ার   প্রধান রপ্তানি দ্রব্য কী কী?

উত্তর: (১) অস্ট্রেলিয়া: খনিজ লোহা, কয়লা, সোনা, পশম ও মাংস।

(২) নিউজিল্যান্ড: পশম, দুগ্ধজাত দ্রব্য ও কাঠ।

(৩) দ্বীপ দেশগুলো: নারকেল তেল, কোপরা, চিনি ও কফি।
 

৩০. প্রশ্ন: ওশেনিয়া মহাদেশের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর: ওশেনিয়া বৈচিত্র্যের মহাদেশ। একদিকে অস্ট্রেলিয়ার বিশাল মরুভূমি ও তৃণভূমি, অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের সুউচ্চ পর্বত ও হিমবাহ। আবার মেলানেশিয়া, মাইক্রোনেশিয়া ও পলিনেশিয়ার প্রবাল ও আগ্নেয় দ্বীপগুলো সমুদ্রের মাঝে ভিন্ন দৃশ্যপট তৈরি করেছে। এই বৈচিত্র্যই ওশেনিয়াকে অনন্য করে তুলেছে।

 

©kamaleshforeducation.in(2023)

 

error: Content is protected !!
Scroll to Top