

অষ্টম শ্রেণী (Class 8) ‘পরিবেশ ও বিজ্ঞান’
অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর
(৭) ‘অণুজীবের জগৎ’
(১৯১-২০১ পৃষ্ঠা) থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
(অতিসংক্ষিপ্ত/নৈর্ব্যক্তিক/সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর)
১. প্রশ্ন: অণুজীব কাকে বলে?
উত্তর: যে সব জীবদের খালি চোখে দেখা যায় না এবং যাদের দেখার জন্য অণুবীক্ষণ যন্ত্রের প্রয়োজন হয়, তাদের অণুজীব বলে।
২. প্রশ্ন: অণুজীবদের প্রধান চারটি গোষ্ঠী কী কী?
উত্তর: ব্যাকটেরিয়া, আদ্যপ্রাণী (প্রোটোজোয়া), ছত্রাক এবং শৈবাল।
৩. প্রশ্ন: ভাইরাস কি একটি অণুজীব ?
উত্তর: ভাইরাসকে সাধারণ অণজীব বলা হয় না, কারণ এদের কোষীয় গঠন নেই। এদের ‘জীব ও জড়ের মধ্যবর্তী পর্যায়’ বলা হয়।
৪. ️ প্রশ্ন: থার্মোফিলিক ব্যাকটেরিয়া কোথায় পাওয়া যায়?
উত্তর: এই ধরণের ব্যাকটেরিয়া উষ্ণ প্রশ্রবণ বা অত্যন্ত গরম পরিবেশে (৮০°C এর বেশি তাপমাত্রা) বাস করে।
৫. প্রশ্ন: পাউরুটি তৈরিতে কোন অণজীব ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: ‘ইস্ট’ নামক এককোশী ছত্রাক ব্যবহৃত হয়।
৬. প্রশ্ন: দধু থেকে দই তৈরিতে কোন ব্যাকটেরিয়া সাহায্য করে?57
উত্তর: ল্যাকটোব্যাসিলাস (Lactobacillus)।
৭. প্রশ্ন: ম্যালেরিয়া রোগ সৃষ্টিকারী আদ্যপ্রাণীর নাম কী?
উত্তর: প্লাজমোডিয়াম ভাইভ্যাক্স (Plasmodium vivax)।
৮. প্রশ্ন: একটি এককোশী ও একটি বহুকোশী ছত্রাকের নাম লেখো।
উত্তর: এককোশী ছত্রাক হলো ইস্ট এবং বহুকোশী ছত্রাক হলো পেনিসিলিয়াম বা মাশরুম।
৯. প্রশ্ন: প্রথম আবিষ্কৃত অ্যান্টিবায়োটিকটির নাম কী?
উত্তর: পেনিসিলিন।
১০. প্রশ্ন: আলেকজান্ডার ফ্লেমিং কী আবিষ্কার করেন?
উত্তর: তিনি ১৯২৯ সালে পেনিসিলিয়াম নামক ছত্রাক থেকে পেনিসিলিন ঔষধ আবিষ্কার করেন।
১১. প্রশ্ন: আমাশয় রোগ কোন ধরণের অণুজীবের কারণে হয়?
উত্তর: আদ্যপ্রাণী বা প্রোটোজোয়া (যেমন: এন্টামিবা)।
১২. প্রশ্ন: সাইক্রোফিলিক ব্যাকটেরিয়া কী?
উত্তর: যেসব ব্যাকটেরিয়া হিমাঙ্কের নিচে বা অত্যন্ত শীতল পরিবেশে বেচেঁ থাকতে পারে।
১৩. প্রশ্ন: স্টেরিলাইজেশন বা নির্বীজকরণ কী?
উত্তর: স্টেরিলাইজেশন বা নির্বীজকরণ হলো এমন একটি ভৌত বা রাসায়নিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে কোনো বস্তু বা পরিবেশ থেকে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক এবং স্পোরসহ সমস্ত ধরণের অণুজীব সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস, নিষ্ক্রিয় বা অপসারণ করা হয় ।
১৪. প্রশ্ন: ব্যাকটেরিওফ্যাজ কী?
উত্তর: যেসব ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে ধ্বংস করে, তাদের ব্যাকটেরিওফ্যাজ বলে।
১৫. প্রশ্ন: খাদ্য সংরক্ষণে লবণের ভূমিকা কী?
উত্তর: লবণ কোষ থেকে জল বের করে দিয়ে অণুজীবের বদ্ধি বাধাগ্রস্ত করে।
১৬. প্রশ্ন: পাস্তরাইজেশান পদ্ধতি কে উদ্ভাবন করেন?
উত্তর: লুই পাস্তুর।
১৭. প্রশ্ন: যক্ষ্মা রোগ কোন ধরণের অণুজীবের দ্বারা হয়?
উত্তর: ব্যাকটেরিয়া (মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস)।
১৮. প্রশ্ন: একটি উপকারী ব্যাকটেরিয়ার নাম লেখো।
উত্তর: রাইজোবিয়াম (যা মাটির উর্বরতা বাড়াতে সাহায্য করে)।
১৯. প্রশ্ন: অণজীবরা বেচেঁ থাকার জন্য শক্তির উৎস হিসেবে কী ব্যবহার করে?
উত্তর: বিভিন্ন জৈব ও অজৈব পদার্থ।
২০. ️ প্রশ্ন: ভিরিয়ন কী?
উত্তর: কোষের বাইরে ভাইরাসের সংক্রামক কণিকাকে ভিরিয়ন বলে।
২১. প্রশ্ন: অ্যাথলিটস ফুট (Athlete’s foot) রোগটি কীসের দ্বারা হয়?
উত্তর: ছত্রাক সংক্রমণের ফলে এই রোগ হয়।
২২. প্রশ্ন: ভাইরাসের দেহের বাইরে কোন আবরণ থাকে?
উত্তর: প্রোটিন নির্মিত ‘ক্যাপসিড’ আবরণ থাকে।
২৩. ️ প্রশ্ন: অণুজীবদের বদ্ধিৃ র জন্য আদর্শ তাপমাত্রা কত?
উত্তর: অধিকাংশ অণুজীব ২৫°C থেকে ৩৮°C তাপমাত্রায় ভালো বংশবদ্ধি করে।
২৪. প্রশ্ন: অ্যান্টিবডি কী?
উত্তর: শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অংশ হিসেবে রক্তে উৎপন্ন প্রোটিন যা ক্ষতিকর অণুজীবকে ধ্বংস করে।
২৫. প্রশ্ন: ডায়াটম কী?
উত্তর: ডায়াটম হল আণুবীক্ষণিক এককোষী শৈবাল যাদের সিলিকা খোলস অ্যাসিড, তাপ বা দেহ পচনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী । তারা উপনিবেশে বাস করে, মিঠা এবং লবণাক্ত জলে প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পায় এবং তাদের “কঙ্কাল” মাটিতে বিস্তৃত।
(রচনামূলক / বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর)
১. প্রশ্ন: ব্যাকটেরিয়ার প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
উত্তর: ব্যাকটেরিয়ার তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো:
-
কোষীয় গঠন: ব্যাকটেরিয়া অত্যন্ত সরল এবং প্রোক্যারিওটিক প্রকৃতির। এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না।
-
আকার: এরা বিভিন্ন আকারের হতে পারে, যেমন— গোলাকার (কক্কাস), দণ্ডাকার (ব্যাসিলাস) বা কমা আকৃতির (ভিব্রিও)।
-
বংশবদ্ধি : এরা মলতূ দ্বি-বিভাজন পদ্ধতিতে খুব দ্রুত বংশবদ্ধি করতে পারে।
২. প্রশ্ন: ভাইরাসকে জীব ও জড়ের মধ্যবর্তী পর্যায় বলা হয় কেন?
উত্তর: ভাইরাসের মধ্যে জীব ও জড় উভয়ের বৈশিষ্ট্য দেখা যায়:
-
জড় বৈশিষ্ট্য: কোষের বাইরে ভাইরাস কোনো জৈবিক ক্রিয়া দেখায় না এবং একে কেলাসিত অবস্থায় রাখা যায়।
-
জীব বৈশিষ্ট্য: কোনো জীবিত পোষক কোষে প্রবেশ করলে এরা বংশবদ্ধিৃ করতে পারে এবং নিজেদের সংখ্যা বাড়াতে পারে। এই দ্বৈত আচরণের জন্যই এদের মধ্যবর্তী পর্যায় বলা হয়।
৩. প্রশ্ন: খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে অণুজীবের ভূমিকা কী?
উত্তর: খাদ্য শিল্পে অণুজীবের ভূমিকা অপরিসীম:
-
দই তৈরি: ল্যাকটোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া দধেু র ল্যাকটোজকে ল্যাকটিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত করে দই তৈরি করে।
-
পাউরুটি: ইস্ট নামক ছত্রাক ময়দার শর্করা ভেঙে কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি করে, যা পাউরুটিকে ফুলতে সাহায্য করে।
-
মদ ও ভিনিগার: সন্ধান (Fermentation) প্রক্রিয়ায় অণুজীব ব্যবহার করে অ্যালকোহল ও ভিনিগার তৈরি করা হয়।
৪. প্রশ্ন: মানবদেহে রোগ প্রতিরোধে অ্যান্টিবায়োটিকের ভূমিকা এবং এর সীমাবদ্ধতা কী?
উত্তর: অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। এটি ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর তৈরিতে বাধা দেয় বা এদের বংশবদ্ধি থামিয়ে দেয়।
সীমাবদ্ধতা: অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে না। এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক খেলে শরীরে ‘অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স’ তৈরি হতে পারে, ফলে ভবিষ্যতে ঔষধ কাজ করে না।
৫. ️ প্রশ্ন: পাস্তুরাইজেশান পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: লুই পাস্তুর আবিষ্কৃত এই পদ্ধতিতে তরল খাবারকে (যেমন দুধ) একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় (প্রায় ৭২°C) ১৫-৩০ সেকেন্ড ফুটিয়ে হঠাৎ দ্রুত ঠান্ডা করা হয়। এর ফলে ক্ষতিকারক অণুজীবগুলি মারা যায় কিন্তু খাবারের পুষ্টিগুণ বজায় থাকে। এটি খাবারকে দীর্ঘক্ষণ পচন থেকে রক্ষা করে।
৬. প্রশ্ন: কৃষিক্ষেত্রে অণুুজীবের অবদান আলোচনা করো।
উত্তর: কৃষিতে অণুজীব যেভাবে সাহায্য করে:
-
উর্বরতা বৃদ্ধি : রাইজোবিয়ামের মতো ব্যাকটেরিয়া মাটিতে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে মাটির উর্বরতা বাড়ায়।
-
বর্জ্য বিয়োজন: বিভিন্ন মৃতজীবী ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক জৈব বর্জ্যকে পচিয়ে হিউমাস বা সার তৈরি করতে সাহায্য করে।
৭. প্রশ্ন: অণুজীব সংক্রমণের বিভিন্ন মাধ্যমগুলো কী কী?
উত্তর: অণুজীব মূলত চারভাবে ছড়াতে পারে:
-
বায়ুর মাধ্যমে: হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে (যেমন: ইনফ্লুয়েঞ্জা, যক্ষ্মা)।
-
জলের মাধ্যমে: দষিূত পানীয় জলের মাধ্যমে (যেমন: কলেরা, টাইফয়েড)।
-
বাহকের মাধ্যমে: মশা বা মাছির মাধ্যমে (যেমন: ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু)।
-
সংস্পর্শের মাধ্যমে: সরাসরি ছোঁয়া বা ব্যবহৃত জিনিসের মাধ্যমে (যেমন: দাদ)।
৮. প্রশ্ন: ছত্রাকের গঠন ও পুষ্টিপদ্ধতি বর্ণনা করো।
উত্তর: ছত্রাক হলো সুকেন্দ্রিক বা ইউক্যারিওটিক অণুজীব। এদের কোষে কাইটিন নির্মিত কো প্রাচীর থাকে কিন্তু ক্লোরোফিল থাকে না। ক্লোরোফিল না থাকায় এরা নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না। এরা মূলত মৃতজীবী বা পরজীবী হিসেবে পচা জৈব বস্তু থেকে পুষ্টি শোষণ করে।
৯. প্রশ্ন: অণুজীব থেকে সুরক্ষা পাওয়ার উপায়গুলো কী কী?
উত্তর: অণুজীব থেকে বাঁচতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত:
-
হাত ও মুখ সবসময় পরিষ্কার রাখা এবং খাওয়ার আগে সাবান ব্যবহার করা।
-
বিশুদ্ধ পানীয় জল পান করা এবং খাবার ঢেকে রাখা।
-
বাড়ির চারপাশে জল জমতে না দেওয়া (মশা রোধে)।
-
সঠিক সময়ে টিকাকরণ বা ভ্যাকসিন গ্রহণ করা।
১০. প্রশ্ন: অণবীক্ষণ যন্ত্র বা মাইক্রোস্কোপ অণুজীব বিজ্ঞানে কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: অণুজীবরা এতটাই ক্ষুদ্র যে খালি চোখে তাদের অস্তিত্ব বোঝা অসম্ভব। অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে এই ক্ষুদ্র জীবদের হাজার হাজার গুণ বড় করে দেখা সম্ভব হয়। এর মাধ্যমেই বিজ্ঞানীরা অণুজীবের গঠন, তাদের জীবনচক্র এবং রোগ ছড়ানোর পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতিতে সাহায্য করেছে।
©kamaleshforeducation.in(2023)




