

অষ্টম শ্রেণী (Class 8) ‘পরিবেশ ও বিজ্ঞান’
অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর
(৬) ‘দেহের গঠন’
(১৭৩-১৯০ পৃষ্ঠা) অংশ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
(অতিসংক্ষিপ্ত/নৈর্ব্যক্তিক/সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর)
১. প্রশ্ন: জীবদেহের গঠনের মূল একক কী?
✅ উত্তর: কোশ (Cell)।
২. প্রশ্ন: কোশ কে আবিষ্কার করেন?
✅ উত্তর: রবার্ট হুক (১৬৬৫ সালে)।
৩. প্রশ্ন: একটি এককোষী জীবের উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর: অ্যামিবা (বা ক্ল্যামাইডোমোনাস)।
৪. প্রশ্ন: মানুষের দেহের দীর্ঘতম কোশ কোনটি?
✅ উত্তর: স্নায়ুকোশ।
৫. প্রশ্ন: কোশের মস্তিষ্ক কাকে বলা হয়?
✅ উত্তর: নিউক্লিয়াসকে।
৬. প্রশ্ন: কোশের শক্তিঘর (Power house) কাকে বলে?
✅ উত্তর: মাইটোকনড্রিয়াকে।
৭. প্রশ্ন: উদ্ভিদকোশের বাইরের কঠিন আবরণটির নাম কী?
✅ উত্তর: কোশপ্রাচীর।
৮. প্রশ্ন: প্রোটিন সংশ্লেষে সাহায্য করে কোশের কোন অঙ্গাণ?ু
✅ উত্তর: রাইবোজোম।
৯. প্রশ্ন: আত্মঘাতী থলি (Suicidal bag) কাকে বলা হয়?
✅ উত্তর: লাইসোজোমকে।
১০. প্রশ্ন: উদ্ভিদকোশে উপস্থিত কিন্তু প্রাণীকোশে অনপুস্থিত এমন একটি অঙ্গাণরু নাম লেখো।
✅ উত্তর: প্লাস্টিড (বা কোশপ্রাচীর)।
১১. প্রশ্ন: ক্লোরোপ্লাস্টিডের কাজ কী?53
✅ উত্তর: সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করা।
১২. প্রশ্ন: কোশের সমস্ত জৈবনিক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে কে?
✅ উত্তর: নিউক্লিয়াস।
১৩. প্রশ্ন: বংশগতির ধারক ও বাহক কাকে বলা হয়?
✅ উত্তর: জিন-কে (যা ক্রোমোজোমে থাকে)।
১৪. প্রশ্ন: বর্ণহীনর্ণ প্লাস্টিডকে কী বলে?
✅ উত্তর: লিউকোপ্লাস্টিড।
১৫. প্রশ্ন: প্রাণীকোশ বিভাজনে সাহায্য করে কোন অঙ্গাণ?ু
✅ উত্তর: সেন্ট্রোজোম।
১৬. প্রশ্ন: কোশ গহ্বরকে ঘিরে থাকা পর্দার নাম কী?
✅ উত্তর: টোনোপ্লাস্ট।
১৭. প্রশ্ন: একক পর্দা ঘেরা একটি কোশ অঙ্গাণরু নাম লেখো।
✅ উত্তর: লাইসোজোম (বা ভ্যাকিউওল)।
১৮. প্রশ্ন: প্লাজমা পর্দা বা কোশপর্দা কী দিয়ে গঠিত?
✅ উত্তর: লিপিড ও প্রোটিন দিয়ে।
১৯. প্রশ্ন: কোশপ্রাচীর কী দিয়ে তৈরি হয়?
✅ উত্তর: সেলুলোজ দিয়ে।
২০. প্রশ্ন: নিউক্লিয়াস বিহীন একটি প্রাণীকোশের উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর: মানুষের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা।
২১. প্রশ্ন: জিন কোথায় অবস্থান করে?
✅ উত্তর: ক্রোমোজোমে।
২২. প্রশ্ন: কোশগহ্বর বা ভ্যাকিউওল কোন কোশে বড় থাকে?
✅ উত্তর: উদ্ভিদকোশে।
২৩. প্রশ্ন: গলগি বস্তুর প্রধান কাজ কী?
✅ উত্তর: কোশীয় বস্তু নিঃসরণ বা ক্ষরণ করা।
২৪. প্রশ্ন: প্রোক্যারিওটিক কোশে কোন অঙ্গাণুটি থাকে?
✅ উত্তর: রাইবোজোম (৭০S প্রকৃতি)।
২৫. প্রশ্ন: ক্রোমোপ্লাস্টিডের কাজ কী?
✅ উত্তর: ফুল ও ফলের বর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা।
(রচনামূলক / বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর)
১. প্রশ্ন: একটি আদর্শ ইউক্যারিওটিক নিউক্লিয়াসের প্রধান অংশগুলো কী কী? সংক্ষেপে কাজ লেখো।
✅ উত্তর: একটি আদর্শ নিউক্লিয়াসের ৪টি প্রধান অংশ হলো:
* নিউক্লীয় পর্দা: নিউক্লিয়াসকে ঘিরে থাকে এবং সাইটোপ্লাজম থেকে একে পৃথক রাখে।
* নিউক্লিওলাস: এটি প্রোটিন ও RNA দিয়ে গঠিত এবং রাইবোজোম তৈরি করে।
* নিউক্লিওপ্লাজম: নিউক্লিয়াসের ভেতরের স্বচ্ছ তরল পদার্থ যা অন্যান্য অংশকে ধরে
রাখে।
* নিউক্লীয় জালিকা: এগুলো ক্রোমোজোম গঠন করে এবং বংশগতির তথ্য (DNA) বহন করে।
২. প্রশ্ন: উদ্ভিদকোশ ও প্রাণীকোশের মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর: * কোশপ্রাচীর: উদ্ভিদকোশে সেলুলোজ নির্মিতর্মি শক্ত কোশপ্রাচীর থাকে, কিন্তু প্রাণীকোশে কোশপ্রাচীর থাকে না।
* প্লাস্টিড: উদ্ভিদকোশে প্লাস্টিড থাকে যা খাদ্য তৈরি ও বর্ণ দেয়, প্রাণীকোশে প্লাস্টিড থাকে না।
* ভ্যাকিউওল: উদ্ভিদকোশে বড় ও কেন্দ্রীয় ভ্যাকিউওল থাকে, কিন্তু প্রাণীকোশে ভ্যাকিউওল থাকে না অথবা খুব ছোট থাকে।
৩. প্রশ্ন: মাইটোকনড্রিয়াকে কোশের ‘শক্তিঘর’ বলা হয় কেন? এর গঠন সংক্ষেপে লেখো।
✅ উত্তর: কোশের যাবতীয় জৈবনিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি মাইটোকনড্রিয়াতেই উৎপন্ন হয় (ATP আকারে)। তাই একে কোশের শক্তিঘর বলে।
গঠন: এটি দ্বি-স্তরীয় পর্দা ঘেরা অঙ্গাণু। এর ভেতরের পর্দাটি ভাঁজ হয়ে আঙুলের মতো অংশ গঠন করে, যাকে ‘ক্রিস্টি’ বলে। এর ভেতরে তরল ধাত্র বা ম্যাট্রিক্স থাকে।
৪. প্রশ্ন: প্লাস্টিড কত প্রকার ও কী কী? এদের কাজ উল্লেখ করো।
✅ উত্তর: প্লাস্টিড তিন প্রকার:
* ক্লোরোপ্লাস্টিড: সবজু রঙের প্লাস্টিড যা সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরিতে সাহায্য করে।
* ক্রোমোপ্লাস্টিড: রঙিন (লাল, হলদু, কমলা) প্লাস্টিড যা ফুল ও ফলের বর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং পরাগযোগ ও বীজের বিস্তারে সাহায্য করে।
* লিউকোপ্লাস্টিড: বর্ণহীন প্লাস্টিড যা খাদ্য সঞ্চয় (স্টার্চ, প্রোটিন) করতে সাহায্য করে।
৫. প্রশ্ন: লাইসোজোমকে ‘আত্মঘাতী থলি’ বলা হয় কেন?
✅ উত্তর: লাইসোজোম কোশের ভেতর শক্তিশালী পরিপাককারী এনজাইম বা পাচক রস ধারণ করে। কোশ যখন ক্ষতিগ্রস্ত বা বদ্ধৃ হয়, তখন লাইসোজোম ফেটে গিয়ে সেই এনজাইমগুলো বের করে দেয় এবং নিজের কোশকেই হজম বা ধ্বংস করে ফেলে। এই কারণেই লাইসোজোমকে আত্মঘাতী থলি (Suicidal Bag) বলা হয়।
৬. প্রশ্ন: এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকা (ER) কয় প্রকার ও এদের কাজ কী?
✅ উত্তর: এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকা দুই প্রকার:
* মসৃণ ER (SER): এদের গায়ে রাইবোজোম থাকে না। এরা লিপিড সংশ্লেষে সাহায্য করে। * অমসৃণ ER (RER): এদের গায়ে রাইবোজোম দানা যুক্ত থাকে। এরা প্রোটিন সংশ্লেষে সাহায্য করে।
এদের প্রধান কাজ হলো কোশের ভেতরে বিভিন্ন বস্তুর পরিবহনে সাহায্য করা এবং কোশীয় কাঠামো দান করা।
৭. প্রশ্ন: কোশপর্দার প্রধান তিনটি কাজ আলোচনা করো।
✅ উত্তর: * এটি কোশের ভেতরের সজীব অংশকে বাইরের পরিবেশ থেকে রক্ষা করে।
* এটি ‘প্রভেদক ভেদ্য’ পর্দা হিসেবে কাজ করে, অর্থাৎ নির্দিষ্ট কিছুপদার্থকে কোশের ভেতরে ঢুকতে বা বের হতে দেয়।
* কোশের নির্দিষ্ট আকার বজায় রাখতে এবং পার্শ্ববর্তী কোশগুলোর সাথে যোগাযোগ স্থাপনে সাহায্য করে।
৮. প্রশ্ন: সেন্ট্রোজোম ও রাইবোজোমের একটি করে গুরুত্বপূর্ণ কাজ লেখো।
✅ উত্তর: * সেন্ট্রোজোম: প্রাণীকোশ বিভাজনের সময় ‘বেম তন্তু’ (Spindle fibre) গঠন করে ক্রোমোজোমের চলনে সাহায্য করে।
* রাইবোজোম: এটি অ্যামাইনো অ্যাসিড থেকে প্রোটিন তৈরি করে, তাই একে ‘কোশের প্রোটিন ফ্যাক্টরি’ বলা হয়।
৯. প্রশ্ন: গলগি বস্তুর কাজ ও গঠন সংক্ষেপে লেখো।
✅ উত্তর: গলগি বস্তু চ্যাপ্টা থলির মতো অংশ (সিস্টার্নি) এবং ছোট ছোট ভেসিকল দিয়ে গঠিত।
কাজ: কোশীয় বিভিন্ন পদার্থের (যেমন উৎসেচক, হরমোন) ক্ষরণ বা নিঃসরণ করা এবং লাইসোজোম তৈরিতে সাহায্য করা।
১০. প্রশ্ন: স্নায়ুকোশের গঠনগত বিশেষত্ব ও কাজ আলোচনা করো।
✅ উত্তর: স্নায়ুকোশ বা নিউরন মানুষের দেহের দীর্ঘতম কোশ। এর প্রধান অংশগুলো হলো কোশদেহ এবং প্রবর্ধক (অ্যাক্সন ও ডেনড্রন)।
কাজ: পরিবেশ থেকে বিভিন্ন উদ্দীপনা (যেমন- ব্যথা, তাপ) গ্রহণ করা এবং সেই সংকেত স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে প্রেরণ করা।
©kamaleshforeducation.in(2023)




