

অষ্টম শ্রেণী (Class 8) ‘পরিবেশ ও বিজ্ঞান’
অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর
(৫) ‘প্রাকৃতিক ঘটনা ও তার বিশ্লেষণ’
(১৬০-১৭২ পৃষ্ঠা) অংশ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
(৫) ‘প্রাকৃতিক ঘটনা ও তার বিশ্লেষণ’
(অতিসংক্ষিপ্ত/নৈর্ব্যক্তিক/সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর)
১. প্রশ্ন: বজ্রপাত আসলে কী?
✅ উত্তর: মেঘের সাথে মেঘের বা মেঘের সাথে ভূমির ঘর্ষণের ফলে উৎপন্ন তড়িৎ মোক্ষণ বা ডিসচার্জ।
২. প্রশ্ন: ঘর্ষণের ফলে পদার্থের পরমাণতেু কোন কণার আদান-প্রদান ঘটে?
✅ উত্তর: ইলেকট্রন।
৩. প্রশ্ন: কোনো পরমাণুইলেকট্রন বর্জন করলে সেটি কী ধরণের আধানে আহিত হয়?
✅ উত্তর: ধনাত্মক আধান।
৪. প্রশ্ন: আধান বা চার্জ পরিমাপের এস.আই (SI) একক কী?
✅ উত্তর: কুলম্ব (Coulomb)।
৫. প্রশ্ন: বজ্রগর্ভ মেঘে সাধারণত ওপরের দিকে কোন আধান থাকে?
✅ উত্তর: ধনাত্মক আধান।
৬. প্রশ্ন: তড়িৎ আবেশ কাকে বলে?
✅ উত্তর: একটি আহিত বস্তুকে অন্য কোনো অনাহিত বস্তুর কাছে আনলে অনাহিত বস্তুটি সাময়িকভাবে আহিত হওয়ার ঘটনা।
৭. প্রশ্ন: তড়িৎ বল কাকে বলে?
✅ উত্তর: দুটি আধান একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ করে।
৮. প্রশ্ন: বজ্রপাতের সময় আগে আলো দেখা যায় কেন?
✅ উত্তর: শব্দের চেয়ে আলোর গতিবেগ অনেক বেশি বলে।
৯. প্রশ্ন: বজ্রবহ (Lightning Conductor) কে আবিষ্কার করেন?
✅ উত্তর: বিজ্ঞানী বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন।
১০. প্রশ্ন: ইলেকট্রোস্কোপ যন্ত্রের কাজ কী?
✅ উত্তর: কোনো বস্তুতে আধানের অস্তিত্ব ও প্রকৃতি নির্ণয় করা।
১১. প্রশ্ন: মেঘে আধান সৃষ্টির প্রধান কারণ কী?
✅ উত্তর: বায়ুর কণা ও জলকণার মধ্যে ঘর্ষণ।
১২. প্রশ্ন: বজ্রপাতের সময় উঁচুগাছের তলায় দাঁড়ানো কি নিরাপদ?
✅ উত্তর: না, কারণ বজ্রপাত সাধারণত উঁচুস্থানে আগে আঘাত করে।
১৩. প্রশ্ন: বজ্রবহ পরিবাহী হিসেবে সাধারণত কোন ধাতুব্যবহৃত হয়?
✅ উত্তর: তামা।
১৪. প্রশ্ন: মেঘ থেকে ভূমিতে তড়িৎ মোক্ষণকে কী বলা হয়?
✅ উত্তর: বজ্রপাত।
১৫. প্রশ্ন: বজ্রপাতের শব্দকে কী বলে?
✅ উত্তর: মেঘের গর্জন বা মেঘনাদ।
১৬. প্রশ্ন: আকাশে মেঘ না থাকলে কি বজ্রপাত হতে পারে?
✅ উত্তর: না।
১৭. প্রশ্ন: সুপরিবাহী পদার্থ কাকে বলে?
✅ উত্তর: যার মধ্য দিয়ে সহজেই তড়িৎ প্রবাহিত হতে পারে (যেমন- তামা, লোহা)।
১৮. প্রশ্ন: একটি অন্তরক (Insulator) পদার্থের উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর: কাঠ, রবার বা কাঁচ।
১৯. প্রশ্ন: স্থির তড়িৎ কাকে বলে?
✅ উত্তর: যে তড়িৎ উৎপন্ন হয়ে উৎপত্তিস্থলেই স্থির থাকে।
২০. প্রশ্ন: বজ্রবহকে বাড়ির কোথায় বসানো হয়?
✅ উত্তর: বাড়ির সবচেয়ে উঁচুছাদে।
২১. প্রশ্ন: বজ্রপাতের সময় সুরক্ষিত থাকতে কোথায় আশ্রয় নেওয়া উচিত?
✅ উত্তর: কংক্রিটের ছাদযুক্ত পাকা বাড়ির ভেতরে।
২২. প্রশ্ন: বজ্রপাতের সময় ফোন বা ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা উচিত কি?
✅ উত্তর: না, এটি বিপজ্জনক হতে পারে।
২৩. প্রশ্ন: একটি প্লাস্টিকের চিরুনি দিয়ে শুকনো চুল আঁচড়ালে তাতে কোন আধান সৃষ্টি হয়?
✅ উত্তর: ঋণাত্মক আধান।
২৪. প্রশ্ন: সমজাতীয় আধান পরস্পরকে কী করে?
✅ উত্তর: বিকর্ষণ করে।
২৫. প্রশ্ন: বিপরীতধর্মী আধান পরস্পরকে কী করে?
✅ উত্তর: আকর্ষণ করে।
(রচনামূলক / বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর)
১. প্রশ্ন: বজ্রপাত কীভাবে সৃষ্টি হয় তা সংক্ষেপে বর্ণনা করো।
✅ উত্তর: বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মেঘ তৈরির সময় বায়ুর কণা ও জলকণার মধ্যে প্রবল ঘর্ষণ ঘটে। এর ফলে মেঘের ওপরের অংশে ধনাত্মক (+) এবং নিচের অংশে ঋণাত্মক (-) আধান জমা হয়। যখন দটিু বিপরীত আধানযুক্ত মেঘ খুব কাছাকাছি আসে বা মেঘের নিচের অংশের আধান খুব বেড়ে যায়, তখন বায়ুর বাধা ভেদ করে বিশাল পরিমাণ তড়িৎ মেঘ থেকে মেঘে বা মেঘ থেকে ভূমিতে প্রবাহিত হয়। এই প্রবল তড়িৎ মোক্ষণের ফলে প্রচণ্ড আলো ও শব্দের সৃষ্টি হয়, একেই বজ্রপাত বলে।
২. প্রশ্ন: বজ্রবহ বা বজ্রনিবারক (Lightning Conductor) কীভাবে কাজ করে?
✅ উত্তর: বজ্রবহ হলো তামার একটি মোটা পাত যার ওপরের প্রান্ত ত্রিশলেূ র মতো সূচা ঁ লো হয় এবং বাড়ির সবচেয়ে উঁচুতে লাগানো থাকে। পাতের অন্য প্রান্তটি মাটির গভীরে পুতেঁ রাখা হয়। যখন আধানযুক্ত মেঘ বাড়ির ওপর দিয়ে যায়, তখন সূঁচালো মুখ দিয়ে তড়িৎ আবেশ ঘটে এবং মেঘের বিপরীত আধান বজ্রবহের মধ্য দিয়ে সরাসরি মাটিতে চলে যায়। এর ফলে বজ্রপাত হলেও বাড়ির কোনো ক্ষতি হয় না, কারণ বিদ্যুৎ বাড়ির কাঠামোর ওপর দিয়ে না গিয়ে তামার পাতের মধ্য দিয়ে নিরাপদে মাটিতে পৌঁছে যায়।
৩. প্রশ্ন: বজ্রপাতের সময় আমাদের কী কী সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত?
✅ উত্তর: বজ্রপাতের সময় সুরক্ষিত থাকতে নিম্নলিখিত সাবধানতা জরুরি:
* খোলা মাঠ, উঁচুগাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির নিচে দাঁড়ানো উচিত নয়।
* পাকা বাড়ির ভেতরে থাকা সবচেয়ে নিরাপদ। জানালা বা বারান্দা থেকে দূরে থাকতে হবে।
* পুকুর বা জলাশয়ে স্নান করা বা মাছ ধরা বন্ধ করতে হবে।
* ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি (টিভি, কম্পিউটার) ও ল্যান্ডফোন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
* গাড়ি বা বাসের ভেতরে থাকলে তার জানলা বন্ধ করে ভেতরে বসে থাকা নিরাপদ।
৪. প্রশ্ন: তড়িৎ আবেশ (Electrostatic Induction) কাকে বলে? একটি উদাহরণের সাহায্যে বঝিু য়ে দাও।
✅ উত্তর: একটি আহিত বস্তুকে কোনো অনাহিত পরিবাহীর কাছে আনলে (স্পর্শ না করিয়ে), আহিত বস্তুর প্রভাবে অনাহিত পরিবাহীটির দুই প্রান্তে বিপরীত প্রকৃতির আধান সঞ্চিত হওয়ার ঘটনাকে তড়িৎ আবেশ বলে।
উদাহরণ: একটি আহিত প্লাস্টিকের চিরুনিকে ছোট ছোট কাগজের টুকরোর কাছে আনলে, চিরুনির আধানের প্রভাবে কাগজের টুকরোতে তড়িৎ আবেশ ঘটে। এর ফলে কাগজের কাছের প্রান্তে বিপরীত আধান সৃষ্টি হয় এবং চিরুনিটি কাগজের টুকরোকে আকর্ষণ করে।
৫. প্রশ্ন: “আকর্ষণের চেয়ে বিকর্ষণই আধানের অস্তিত্বের নিশ্চিত প্রমাণ”—ব্যাখ্যা করো।
✅ উত্তর: একটি আহিত বস্তু বিপরীত আধানযুক্ত বস্তুকে যেমন আকর্ষণ করে, তেমনি আবেশের কারণে নিস্তড়িৎ বা অনাহিত বস্তুকেও আকর্ষণ করতে পারে। তাই আকর্ষণ দেখে কোনো বস্তু আহিত কি না তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। কিন্তু বিকর্ষণ কেবল তখনই সম্ভব যখন দটিু বস্তুই সমজাতীয় আধানে আহিত থাকে। তাই কোনো বস্তুর আধান আছে কি না তা নিশ্চিতভাবে বোঝার জন্য বিকর্ষণই শ্রেষ্ঠ পরীক্ষা।
৬. প্রশ্ন: স্বর্ণপত্র তড়িৎবীক্ষণ (Gold-leaf Electroscope) যন্ত্রের গঠন ও কাজ লেখো।
✅ উত্তর: গঠন: একটি কাঁচের পাত্রের মুখে ছিপি দিয়ে একটি ধাতব দণ্ড ঢোকানো থাকে। দণ্ডের ওপরের প্রান্তে একটি ধাতব চাকতি এবং নিচের প্রান্তে দুটি পাতলা সোনার পাত ঝোলানো থাকে।
কাজ: এই যন্ত্রের সাহায্যে কোনো বস্তুতে আধান আছে কি না তা বোঝা যায়। কোনো আহিত বস্তু চাকতির কাছে আনলে বা স্পর্শ করালে সোনার পাত দুটি সমজাতীয় আধানে আহিত হয়ে একে অপরকে বিকর্ষণ করে এবং দূরে সরে যায়। পাত দুটির দূরে সরে যাওয়া দেখে আধানের অস্তিত্ব বোঝা যায়।
৭. প্রশ্ন: তড়িৎ মোক্ষণ (Electric Discharge) কী? এটি কেন ঘটে?
✅ উত্তর: দুটি অসমভাবে আহিত বস্তু বা একটি আহিত ও একটি অনাহিত বস্তুর মধ্যে তড়িৎ আধানের বিনিময় ঘটে আধানহীন হওয়ার প্রক্রিয়াকে তড়িৎ মোক্ষণ বলে। সাধারণত বায়ুতড়িতের কুপরিবাহী হলেও যখন আধানের পরিমাণ খুব বেড়ে যায় (যেমন মেঘে), তখন বায়ুর মধ্য দিয়ে স্পুলিঙ্গ আকারে তড়িৎ প্রবাহিত হয়। এর ফলেই বজ্রপাত বা ল্যাবরেটরিতে ইলেকট্রিক স্পার্ক তৈরি হয়।
৮. প্রশ্ন: ঘর্ষণের ফলে কীভাবে স্থির তড়িৎ উৎপন্ন হয়?
✅ উত্তর: প্রতিটি পদার্থের পরমাণুতে ইলেকট্রন ও প্রোটন থাকে। যখন দুটি ভিন্ন পদার্থের মধ্যে ঘর্ষণ হয়, তখন একটি পদার্থ থেকে কিছু ইলেকট্রন অন্য পদার্থে চলে যায়। যে পদার্থটি ইলেকট্রন বর্জন করে সেটি ধনাত্মক (+) এবং যে পদার্থটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে সেটি ঋণাত্মক (-) আধানে আহিত হয়। এই উৎপন্ন আধান পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত না হয়ে উৎপত্তিস্থলেই স্থির থাকে বলে একে স্থির তড়িৎ বলে।
৯. প্রশ্ন: মেঘে আধান সৃষ্টির কারণগুলো আলোচনা করো।
✅ উত্তর: মেঘে আধান সৃষ্টির প্রধান কারণ গুলো হলো:
* বায়ুমণ্ডলের প্রবল বায়ুপ্রবাহের ফলে জলকণা ও বরফকণার মধ্যে ক্রমাগত ঘর্ষণ।
* বড় জলকণাগুলো যখন ভেঙে ছোট কণিকায় পরিণত হয়, তখন তাদের মধ্যে আধানের বিভাজন ঘটে।
* মহাজাগতিক রশ্মি বা কসমিক রে-এর প্রভাবে বায়ুর কণা আয়নিত হয়ে মেঘকে আহিত করে। সাধারণত বড় ও ভারী কণাগুলো ঋণাত্মক আধান নিয়ে মেঘের নিচে থাকে এবং ছোট কণাগুলো ধনাত্মক আধান নিয়ে ওপরে থাকে।
১০. �� প্রশ্ন: স্থির তড়িৎ ও প্রবাহী তড়িতের মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর: * অবস্থান: স্থির তড়িৎ উৎপন্ন হয়ে উৎপত্তিস্থলেই স্থির থাকে, কিন্তু প্রবাহী তড়িৎ পরিবাহীর মধ্য দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রবাহিত হয়।
* উৎপত্তি: ঘর্ষণের ফলে সাধারণত স্থির তড়িৎ তৈরি হয়, কিন্তু রাসায়নিক বিক্রিয়া বা চুম্বকীয় আবেশের মাধ্যমে প্রবাহী তড়িৎ তৈরি হয়।
* ব্যবহার: স্থির তড়িৎ দিয়ে আমরা বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম (লাইট, ফ্যান) চালাতে পারি না, কিন্তু প্রবাহী তড়িৎ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সব বৈদ্যুতিক কাজে ব্যবহৃত হয়।
©kamaleshforeducation.in(2023)




