

অষ্টম শ্রেণী (Class 8) ‘পরিবেশ ও বিজ্ঞান’
অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর
(৪) ‘কার্বন ও কার্বনঘটিত যৌগ’
(১৩৪-১৫৯ পৃষ্ঠা) অংশ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
(৪) ‘কার্বন ও কার্বনঘটিত যৌগ’
(অতিসংক্ষিপ্ত/নৈর্ব্যক্তিক/সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর)
১. প্রশ্ন: কার্বনের যোজ্যতা কত?
✅ উত্তর: কার্বনের যোজ্যতা ৪
২. প্রশ্ন: রূপভেদ কাকে বলে?
✅ উত্তর: একই মৌল যখন প্রকৃতিতে বিভিন্ন রূপে অবস্থান করে যাদের ভৌত ধর্ম আলাদা কিন্তু রাসায়নিক ধর্ম এক, তাদের রূপভেদ বলে।
৩. প্রশ্ন: কার্বনের কঠিনতম রূপভেদের নাম কী?
✅ উত্তর: হিরে।
৪. প্রশ্ন: কার্বনের কোন রূপভেদটি তড়িতের সুপরিবাহী?
✅ উত্তর: গ্রাফাইট।
৫. প্রশ্ন: ফুলারিন কী?
✅ উত্তর: কার্বনের একটি কৃত্রিম রূপভেদ, যার অণতেু ৬০টি কার্বন পরমাণুফুটবলের মতো সাজানো থাকে (C_{60})।
৬. প্রশ্ন: একটি অনিয়তাকার কার্বনের রূপভেদের নাম লেখো।44
✅ উত্তর: চারকোল বা ঝুল।
৭. প্রশ্ন: কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO_2) বায়ুর চেয়ে হালকা না ভারী?
✅ উত্তর: বায়ুর চেয়ে প্রায় দেড় গুণ ভারী।
৮. প্রশ্ন: কোনো গ্যাসটি নিজে জ্বলে না, কিন্তু জ্বলতে সাহায্য করে না এবং আগুন নেভাতে ব্যবহৃত হয়?
✅ উত্তর: কার্বন ডাই-অক্সাইড।
৯. প্রশ্ন: উত্তপ্ত কার্বনের ওপর দিয়ে জলীয় বাষ্প চালনা করলে কী উৎপন্ন হয়?
✅ উত্তর: ওয়াটার গ্যাস (CO + H_2)।
১০. প্রশ্ন: গ্রিনহাউস গ্যাসগুলোর মধ্যে প্রধান কোনটি?
✅ উত্তর: কার্বন ডাই-অক্সাইড।
১১. প্রশ্ন: বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বদ্ধিৃ পেলে পৃথিবীর উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার ঘটনাকে কী বলে?
✅ উত্তর: গ্লোবাল ওয়ার্মিংর্মি বা বিশ্ব উষ্ণায়ন।
১২. প্রশ্ন: কার্বন মনোক্সাইড (CO) কেমন প্রকৃতির গ্যাস?
✅ উত্তর: অত্যন্ত বিষাক্ত এবং বর্ণহীনর্ণ , গন্ধহীন গ্যাস।
১৩. প্রশ্ন: জৈব যৌগ কাকে বলে?
✅ উত্তর: কার্বন দ্বারা গঠিত প্রধানত প্রাণিজ বা উদ্ভিদ উৎস থেকে পাওয়া যৌগসমহূকে জৈব যৌগ বলে।
১৪. প্রশ্ন: সবচেয়ে সরল জৈব যৌগের নাম কী?
✅ উত্তর: মিথেন (CH_4)।
১৫. প্রশ্ন: এলপিজি (LPG) গ্যাসের প্রধান উপাদান কী?
✅ উত্তর: বিউটেন।
১৬. প্রশ্ন: সিএনজি (CNG) এর পূর্ণরূপ কী ?
✅ উত্তর: কম্প্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস।
১৭. প্রশ্ন: কোল গ্যাস কোন কোন গ্যাসের মিশ্রণ?
✅ উত্তর: মিথেন, হাইড্রোজেন ও কার্বন মনোক্সাইড।
১৮. প্রশ্ন: মিথেনকে কেন ‘মার্শ গ্যাস’ বলা হয়?
✅ উত্তর: পচা জলাভূমি থেকে উৎপন্ন হয় বলে।
১৯. প্রশ্ন: পলিমার কাকে বলে?
✅ উত্তর: অসংখ্য ছোট ছোট অণু(মনোমার) যুক্ত হয়ে যে দীর্ঘ শৃঙ্খল গঠন করে।
২০. প্রশ্ন: পলিথিনের মনোমার কোনটি?
✅ উত্তর: ইথিলিন
২১. প্রশ্ন: একটি প্রাকৃতিক পলিমারের উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর: সেলুলোজ বা স্টার্চ।
২২. প্রশ্ন: প্লাস্টিককে কেন পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বলা হয়?
✅ উত্তর: এটি প্রকৃতিতে বিয়োজিত হয় না (নন-বায়োডিগ্রেডেবল)।
২৩. প্রশ্ন: কার্বন মনোক্সাইড রক্তের কোন উপাদানের সাথে যুক্ত হয়ে বিষক্রিয়া ঘটায়?
✅ উত্তর: হিমোগ্লোবিন।
২৪. প্রশ্ন: হিরে কেন উজ্জ্বল দেখায়?
✅ উত্তর: আলোর অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলনের জন্য।
২৫. প্রশ্ন: গ্রাফাইট পিচ্ছিল কেন?
✅ উত্তর: এর ষড়ভুজাকার স্তরগুলো একটির ওপর দিয়ে অন্যটি পিছলে যেতে পারে বলে।
(রচনামূলক / বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর)
১. প্রশ্ন: হিরে ও গ্রাফাইটের মধ্যে তিনটি ভৌত ধর্মেরর্মে পার্থক্য লেখো।46
✅ উত্তর: * কঠিনতা: হিরে পৃথিবীর কঠিনতম প্রাকৃতিক পদার্থ, কিন্তু গ্রাফাইট বেশ নরম ও পিচ্ছিল।
* তড়িৎ পরিবাহিতা: হিরে তড়িতের কুপরিবাহী, কিন্তু গ্রাফাইট তড়িতের সুপরিবাহী।
* উজ্জ্বলতা: হিরে স্বচ্ছ এবং আলোর প্রতিফলনে অত্যন্ত উজ্জ্বল দেখায়, কিন্তু গ্রাফাইট অস্বচ্ছ ও কালো-ধূসর রঙের হয়।
২. প্রশ্ন: গ্রিনহাউস প্রভাব (Greenhouse Effect) কী? বিশ্ব উষ্ণায়নের দুটি কুফল লেখো।
✅ উত্তর: বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন প্রভৃতি গ্যাস সূর্য থেকে আসা ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যে র আলোকরশ্মিকে আসতে দেয়, কিন্তু পৃথিবী থেকে বিকিরিত দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যে র তাপীয় রশ্মিকে মহাকাশে ফিরতে বাধা দেয়। ফলে পৃথিবীর গড় উষ্ণতা বদ্ধি পায়, একে গ্রিনহাউস প্রভাব বলে।
কুফল: (১) মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্র র জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়া এবং উপকূলীয় অঞ্চল প্লাবিত হওয়া।
(২) জলবায়ুর আমূল পরিবর্তন ঘটে ঝড়-বৃষ্টি ও খরার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়া।
৩. প্রশ্ন: কার্বন মনোক্সাইডকে (CO) বিষাক্ত গ্যাস বলা হয় কেন?
✅ উত্তর: কার্বন মনোক্সাইড একটি অত্যন্ত বিষাক্ত গ্যাস। আমাদের রক্তের হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের চেয়ে কার্বন মনোক্সাইডের সাথে প্রায় ২০০-৩০০ গুণ বেশি দ্রুত যুক্ত হতে পারে। ফুসফুসের মাধ্যমে CO রক্তে প্রবেশ করলে এটি হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ‘কার্বক্সি-হিমোগ্লোবিন’ নামক স্থায়ী যৌগ গঠন করে। এর ফলে রক্ত অক্সিজেন পরিবহনের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং কোষগুলোতে অক্সিজেনের অভাবে মানষেু র মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
৪. প্রশ্ন: জৈব ও অজৈব যৌগের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর: * উপাদান: জৈব যৌগে কার্বন অবশ্যই থাকবে, কিন্তু অজৈব যৌগে কার্বন থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে।
* বন্ধন: জৈব যৌগগুলো সাধারণত সমযোজী বন্ধন দিয়ে গঠিত, কিন্তু অজৈব যৌগগুলো বেশিরভাগই তড়িৎযোজী বন্ধন দিয়ে গঠিত।
* গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: জৈব যৌগের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক তুলনামলকূ কম, কিন্তু অজৈব যৌগের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অনেক বেশি হয়।
৫. প্রশ্ন: ক্যাটিনেশন (Catenation) ধর্ম বলতে কী বোঝো? কার্বনের বহুমুখী ব্যবহারের কারণ কী?
✅ উত্তর: কার্বন পরমাণুগুলো নিজেদের মধ্যে একবন্ধন, দ্বিবন্ধন বা ত্রিবন্ধন দ্বারা যুক্ত হয়ে বড় শৃঙ্খল বা বলয় গঠন করতে পারে। কার্বনের এই বিশেষ ধর্মকে ক্যাটিনেশন বলে। কার্বনের যোজ্যতা ৪ হওয়া এবং এই ক্যাটিনেশন ধর্মের জন্যই প্রকৃতিতে কার্বনের অসংখ্য (লক্ষ লক্ষ) যৌগ পাওয়া যায়, যা এর বহুমুখী ব্যবহারের প্রধান কারণ।
৬. �� প্রশ্ন: এলপিজি (LPG) ও সিএনজি (CNG) এর গুরুত্ব আলোচনা করো।
✅ উত্তর: * LPG (Liquefied Petroleum Gas): এটি মলতূ রান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি উচ্চ তাপন ক্ষমতাসম্পন্ন এবং ধোঁয়া ছাড়াই জ্বলে।
* CNG (Compressed Natural Gas): এটি যানবাহনের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পেট্রোল বা ডিজেলের তুলনায় এটি অনেক কম বায়ুদষণূ ঘটায়।
৭. প্রশ্ন: পলিমার ও মনোমার কী? একটি জৈব-বিশ্লিষ্ট (Biodegradable) ও একটি জৈব-অবিশ্লিষ্ট (Non-biodegradable) পলিমারের উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর: অসংখ্য ছোট ছোট সরল অণু পরস্পর যুক্ত হয়ে যে বিশাল অণুগঠন করে তাকে পলিমার বলে, আর ওই ছোট অণুগুলোকে মনোমার বলে।
* জৈব-বিশ্লিষ্ট পলিমার: সেলুলোজ বা প্রোটিন (যা প্রকৃতিতে মিশে যায়)।
* জৈব-অবিশ্লিষ্ট পলিমার: পলিথিন বা পিভিসি (যা প্রকৃতিতে হাজার বছরেও মিশে যায় ।
না)।
৮. প্রশ্ন: প্লাস্টিক ব্যবহারের সুবিধা ও অসুবিধাগুলো কী কী?
✅ উত্তর: * সুবিধা: প্লাস্টিক ওজনে হালকা, সস্তা, টেকসই এবং বিদ্যুতের কুপরিবাহী।
* অসুবিধা: প্লাস্টিক পচে না বা মাটিতে মিশে যায় না। ফলে এটি মাটির উর্বরতা কমায়, ড্রেন জ্যাম করে এবং পোড়ালে বিষাক্ত গ্যাস উৎপন্ন করে পরিবেশ দষিূত করে।
৯. প্রশ্ন: কার্বন চক্র (Carbon Cycle) বলতে কী বোঝো? এটি কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখে?
✅ উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় কার্বন মৌলটি বায়ুমণ্ডল থেকে জীবমণ্ডলে এবং পুনরায় জীবমণ্ডল থেকে বায়ুমণ্ডলে আবর্তিত হয়, তাকে কার্বন চক্র বলে।
উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় বায়ুথেকে CO_2 গ্রহণ করে খাদ্য তৈরি করে। আবার জীবকুলের শ্বসন এবং দহন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে CO_2 পুনরায় বায়ুমণ্ডলে ফিরে যায়। এভাবে প্রকৃতিতে কার্বনের ভারসাম্য বজায় থাকে।
১০. প্রশ্ন: ফুলারিন কী? এর গঠন ও একটি ব্যবহার লেখো।
✅ উত্তর: ফুলারিন হলো কার্বনের একটি বিশেষ রূপভেদ। এর সবচেয়ে পরিচিত রূপ হলো C_{60}, যেখানে ৬০টি কার্বন পরমাণু একটি ফুটবলের মতো খাঁচার আকারে সাজানো থাকে। একে ‘বাকমিনিস্টার ফুলারিন’ও বলা হয়।
ব্যবহার: ন্যানো প্রযুক্তি (Nanotechnology) এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিশেষ ওষুধ পরিবহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়।
©kamaleshforeducation.in(2023)




