অষ্টম শ্রেণী (Class 8)   ‘পরিবেশ ও বিজ্ঞান’ 

 অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর 

(৩) ‘কয়েকটি গ্যাসের পরিচিতি’

(১১৮-১৩৩ পৃষ্ঠা) অংশ থেকে গুরুত্বপূর্ণ  প্রশ্ন ও উত্তর 

(৩) ‘কয়েকটি গ্যাসের পরিচিতি’

(অতিসংক্ষিপ্ত/নৈর্ব্যক্তিক/সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর)

 

১. �� প্রশ্ন: অক্সিজেনের একটি ভৌত ধর্ম লেখো। 

✅ উত্তর: অক্সিজেন বর্ণহীন , গন্ধহীন, স্বাদহীন একটি গ্যাস যা নিজে জ্বলে না কিন্তু অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে। 

২.  প্রশ্ন: পরীক্ষাগারে অক্সিজেন প্রস্তুতির জন্য কোন কোন রাসায়নিক দ্রব্য প্রয়োজন? 

✅ উত্তর: পটাশিয়াম ক্লোরেট (KClO_3) ও ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড (MnO_2)। 

৩.  প্রশ্ন: পটাশিয়াম ক্লোরেট থেকে অক্সিজেন তৈরিতে কোন পদার্থটি অনঘটক ু হিসেবে কাজ করে?

✅ উত্তর: ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড (MnO_2)। 

৪.  প্রশ্ন: অক্সিজেন গ্যাস বায়ুর চেয়ে হালকা না ভারী? 

উত্তর: বায়ুর চেয়ে সামান্য ভারী। 

৫.  প্রশ্ন: পরীক্ষাগারে অক্সিজেন কোন পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হয়? 

উত্তর: জলের অধঃ অপসারণ পদ্ধতির মাধ্যমে। 

৬. প্রশ্ন: শোষক হিসেবে অক্সিজেনকে শোষণ করতে পারে এমন একটি দ্রবণের নাম লেখো।

✅ উত্তর: ক্ষারীয় পটাশিয়াম পাইরোগ্যালেট দ্রবণ। 

৭. প্রশ্ন: অনঘটক ু ছাড়াই অক্সিজেন প্রস্তুতিতে কোন পদার্থ ব্যবহৃত হয়? 

✅ উত্তর: পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট (KMnO_4) 

৮.  প্রশ্ন: হাইড্রোজেন গ্যাস কে আবিষ্কার করেন? 

উত্তর: বিজ্ঞানী হেনরি ক্যাভেন্ডিশ (১৭৬৬ সালে)। 

৯.  প্রশ্ন: পরীক্ষাগারে হাইড্রোজেন গ্যাস প্রস্তুতির মলূ উপকরণ কী কী? 

উত্তর: দস্তার ছিবড়া (জিঙ্ক) ও লঘুসালফিউরিক অ্যাসিড (H_2SO_4)। 

১০.  প্রশ্ন: হাইড্রোজেন গ্যাস বায়ুর চেয়ে হালকা না ভারী? 

উত্তর: বায়ুর চেয়ে অনেক হালকা। 

১১. প্রশ্ন: হাইড্রোজেন গ্যাসের একটি বিশেষ ধর্ম কী? 

উত্তর: এটি নিজে নীল শিখা সহ জ্বলে কিন্তু অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে না। 

১২.  প্রশ্ন: হাইড্রোজেন গ্যাস সংগ্রহের পদ্ধতিটি কী? 

উত্তর: বায়ুর ঊর্ধ্ব অপসারণ পদ্ধতি। 

১৩.  প্রশ্ন: অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের মিশ্রণে আগুন দিলে কী ঘটে? 

উত্তর: সশব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং জল উৎপন্ন হয়। 

১৪.  প্রশ্ন: কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস কে আবিষ্কার করেন? 

উত্তর: বিজ্ঞানী জোসেফ ব্ল্যাক। 

১৫.  প্রশ্ন: কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুর চেয়ে কত গুণ ভারী? 

উত্তর: প্রায় ১.৫ গুণ। 

১৬.  প্রশ্ন: কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস প্রস্তুতির জন্য কোন পাথরের টুকরো ব্যবহৃত হয়? ✅ উত্তর: মার্বেল পাথরের টুকরো (CaCO_3)। 

১৭.  প্রশ্ন: কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস কোন যন্ত্রের সাহায্যে সংগ্রহ করা হয়? 

উত্তর: গ্যাস জার (বায়ুর ঊর্ধ্ব অপসারণ পদ্ধতিতে)। 

১৮.  প্রশ্ন: শুষ্ক বরফ (Dry Ice) কী? 

উত্তর: কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইডকে শুষ্ক বরফ বলা হয়। 

১৯.  প্রশ্ন: চুনজলকে ঘোলা করে কোন গ্যাস? 

✅ উত্তর: কার্বন ডাই-অক্সাইড। 

২০.  প্রশ্ন: অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়? 

উত্তর: কার্বন ডাই-অক্সাইড। 

২১.  প্রশ্ন: কিপ যন্ত্রে কোন গ্যাস প্রস্তুত করা সহজ?41

উত্তর: হাইড্রোজেন বা কার্বন ডাই-অক্সাইড (ধীর গতির বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে)। 

২২.  প্রশ্ন: অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন গ্যাসের মধ্যে কোনটি বেশি বিষাক্ত? 

উত্তর: কোনোটিই বিষাক্ত নয়, তবে শ্বাসকার্যের জন্য কেবল অক্সিজেন প্রয়োজন। 

২৩.  প্রশ্ন: অক্সিজেনের উপস্থিতিতে লোহায় মরিচা ধরার বিক্রিয়াটি কী? 

উত্তর: জারণ বিক্রিয়া। 

২৪. প্রশ্ন: কোন গ্যাসটি পচা ডিমের মতো গন্ধযুক্ত? 

✅ উত্তর: হাইড্রোজেন সালফাইড (H_2S)। 

২৫.  প্রশ্ন: ওজোন গ্যাস অক্সিজেনের কী? 

উত্তর: ওজোন হলো অক্সিজেনের একটি রূপভেদ। 

(রচনামূলক / বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর) 

 

১. প্রশ্ন: পরীক্ষাগারে অক্সিজেন গ্যাস প্রস্তুতির নীতি, রাসায়নিক সমীকরণ ও শর্ত লেখো। ✅ উত্তর: নীতি ও শর্ত: ৪ : ১ ওজন অনুপাতে পটাশিয়াম ক্লোরেট (KClO_3) এবং ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড (MnO_2) মিশ্রিত করে একটি শক্ত কাঁচের নলে নিয়ে প্রায় ৬৩০° সেলসিয়াস উষ্ণতায় উত্তপ্ত করলে অক্সিজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। এখানে MnO_2 অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। 

সমীকরণ: 2KClO_3 \xrightarrow{MnO_2, \Delta} 2KCl + 3O_2 \uparrow 

 

২.  প্রশ্ন: পটাশিয়াম ক্লোরেট থেকে অক্সিজেন প্রস্তুতির সময় ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড কেন মেশানো হয়?

✅ উত্তর: পটাশিয়াম ক্লোরেট একা উত্তপ্ত করলে অনেক বেশি উষ্ণতার (প্রায় ৬৩০° সে.) প্রয়োজন হয় এবং বিক্রিয়াটি খুব ধীর গতিতে ঘটে। কিন্তু ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড মেশালে মাত্র ২৫০° সে. উষ্ণতাতেই দ্রুত অক্সিজেন উৎপন্ন হয়। এখানে MnO_2 অনুঘটক  হিসেবে কাজ করে বিক্রিয়ার গতি বাড়ায় কিন্তু নিজে অপরিবর্তিত থাকে। 

 

৩.  প্রশ্ন: পরীক্ষাগারে হাইড্রোজেন গ্যাস প্রস্তুতির পদ্ধতি ও সতর্কতা লেখো।

✅ উত্তর: উল্ফ বোতলে রাখা দস্তার ছিবড়ার ওপর থিসল ফানেলের সাহায্যে লঘুসালফিউরিক অ্যাসিড ঢাললে বদবু দু আকারে হাইড্রোজেন গ্যাস নির্গত হয় । 

সমীকরণ: Zn + H_2SO_4 \rightarrow ZnSO_4 + H_2 \uparrow 

সতর্কতা: (১) হাইড্রোজেন বায়ুর সাথে বিস্ফোরক মিশ্রণ তৈরি করে, তাই আগুন থেকে দূরে রাখতে হবে।

(২) থিসল ফানেলের শেষ প্রান্ত যেন অ্যাসিডে ডুবে থাকে যাতে গ্যাস ফানেল দিয়ে বেরিয়ে না যায়। 

৪.  প্রশ্ন: হাইড্রোজেন গ্যাসের বিজারণ ধর্ম একটি উদাহরণের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো।

✅ উত্তর: উত্তপ্ত কালো রঙের কিউপ্রিক অক্সাইডের ওপর দিয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস চালনা করলে হাইড্রোজেন কিউপ্রিক অক্সাইড থেকে অক্সিজেন সরিয়ে দিয়ে তাকে লাল রঙের তামা বা কপারে বিজারিত করে। আর নিজে জারিত হয়ে জল উৎপন্ন করে। 

সমীকরণ: CuO + H_2 \rightarrow Cu + H_2O 

এখানে CuO বিজারিত হয়েছে, তাই এটি হাইড্রোজেনের বিজারণ ধর্ম প্রমাণ করে। 

 

৫.  প্রশ্ন: পরীক্ষাগারে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস প্রস্তুতির নীতি ও সমীকরণ লেখো।

✅ উত্তর: সাধারণ উষ্ণতায় উল্ফ বোতলে মার্বেল পাথরের টুকরোর ওপর লঘুহাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) যোগ করলে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়। 

সমীকরণ: CaCO_3 + 2HCl \rightarrow CaCl_2 + H_2O + CO_2 \uparrow

বায়ুর ঊর্ধ্ব অপসারণ পদ্ধতিতে এই গ্যাস সংগ্রহ করা হয় কারণ এটি বায়ুর চেয়ে ভারী।

 

৬.  প্রশ্ন: চুনজলের মধ্য দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস চালনা করলে কী ঘটে? সমীকরণসহ লেখো।

✅ উত্তর: পরিষ্কার চুনজলের মধ্য দিয়ে CO_2 গ্যাস চালনা করলে ক্যালসিয়াম কার্বনেটের অদ্রাব্য সাদা অধঃক্ষেপ পড়ে, ফলে চুনজল ঘোলা হয়ে যায়। 

সমীকরণ: Ca(OH)_2 + CO_2 \rightarrow CaCO_3 \downarrow + H_2O 

অতিরিক্ত CO_2 পাঠালে সাদা অধঃক্ষেপটি দ্রাব্য ক্যালসিয়াম বাই-কার্বনেটে পরিণত হয় এবং দ্রবণটি আবার পরিষ্কার হয়ে যায়। 

 

৭.  প্রশ্ন: ‘শুষ্ক বরফ’ কাকে বলে? একে কেন শুষ্ক বরফ বলা হয়? এর ব্যবহার লেখো। ✅ উত্তর: কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইডকে শুষ্ক বরফ বলে। 

সাধারণ বরফ গললে তরল (জল) হয়ে যায় এবং হাত ভিজিয়ে দেয়, কিন্তু কঠিন CO_2 সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, কোনো তরল অবস্থা সৃষ্টি করে না বা হাত ভেজায় না। তাই একে শুষ্ক বরফ বলে। 

ব্যবহার: মাছ, মাংস বা আইসক্রিম হিমায়িত করে সংরক্ষণের জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।

 

৮.  প্রশ্ন: অক্সিজেনের শোষক হিসেবে ক্ষারীয় পটাশিয়াম পাইরোগ্যালেট দ্রবণের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

✅ উত্তর: কোনো গ্যাস মিশ্রণ থেকে অক্সিজেনকে আলাদা করতে ক্ষারীয় পটাশিয়াম পাইরোগ্যালেট দ্রবণ ব্যবহার করা হয়। এই বর্ণহীনর্ণ দ্রবণটি অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলে দ্রুত তাকে শোষণ করে নেয় এবং নিজে গাঢ় বাদামি বর্ণ ধারণ করে। এটি অক্সিজেনের একটি রাসায়নিক পরীক্ষা হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। 

 

৯. �� প্রশ্ন: কিপ যন্ত্রের সুবিধা কী? এই যন্ত্রে কোন কোন গ্যাস প্রস্তুত করা যায়?

✅ উত্তর: কিপ যন্ত্রের প্রধান সুবিধা হলো— যখন প্রয়োজন তখন বিক্রিয়া শুরু করা যায় এবং প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিক্রিয়া বন্ধ করা যায়। 

এই যন্ত্রে সাধারণত হাইড্রোজেন (H_2), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO_2) এবং হাইড্রোজেন সালফাইড (H_2S) গ্যাস প্রস্তুত করা হয়। 

 

১০.  প্রশ্ন: ওজোন স্তর কী? আমাদের জীবনে এর গুরুত্ব ও ধ্বংসের কারণ আলোচনা করো। ✅ উত্তর: ওজোন স্তর হলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে থাকা ওজোন গ্যাসের (O_3) একটি পর্দা। 

 

গুরুত্ব: এটি সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মিকে শোষণ করে পৃথিবীকে রক্ষা করে। 

ধ্বংসের কারণ: রেফ্রিজারেটর, এসি বা স্প্রে ক্যান থেকে নির্গতর্গ ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) গ্যাস ওজোন স্তরের সাথে বিক্রিয়া করে একে পাতলা করে দিচ্ছে বা ওজোন গহ্বর সৃষ্টি করছে। 

 

   ©kamaleshforeducation.in(2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top