অষ্টম শ্রেণী (Class 8)   ‘পরিবেশ ও বিজ্ঞান’ 

 অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর 

(২.২) ‘পদার্থের গঠন’

(৭৯৯১ পৃষ্ঠা) অংশ থেকে গুরুত্বপূর্ণ  প্রশ্ন ও উত্তর 

(২.২) ‘পদার্থের গঠন’

(অতিসংক্ষিপ্ত/নৈর্ব্যক্তিক/সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর)

 

 ১.  প্রশ্ন: ডালটনের পরমাণবাদে পরমাণুকে কী বলা হয়েছে? 

✅ উত্তর: পরমাণু হলো পদার্থের ক্ষুদ্রতম অবিভাজ্য কণা। 

২.  প্রশ্ন: পরমাণরু প্রধান তিনটি স্থায়ী মূল কণিকা কী কী? 

✅ উত্তর: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। 

৩.  প্রশ্ন: পরমাণু কেন্দ্রে কী থাকে? 

✅ উত্তর: নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রক। 

৪.  প্রশ্ন: পরমাণুর কোন কণাটি ধনাত্মক আধানযুক্ত? 

✅ উত্তর: প্রোটন। 

৫.  প্রশ্ন: ইলেকট্রনের আধান কী প্রকৃতির? 

✅ উত্তর: ঋণাত্মক (-)। 

৬. প্রশ্ন: নিউট্রন কণার আধান কত? 

উত্তর: নিউট্রন একটি আধানহীন বা নিস্তড়িৎ কণা। 

৭. প্রশ্ন: পারমাণবিক সংখ্যা কাকে বলে? 

✅ উত্তর: কোনো মৌলের পরমাণু নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটন সংখ্যাকে ওই মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে। 

৮.  প্রশ্ন: ভরসংখ্যা বলতে কী বোঝো? 

✅ উত্তর: পরমাণরু নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যার সমষ্টিকে ভরসংখ্যা বলে।

৯.  প্রশ্ন: আইসোটোপ কাকে বলে? 

উত্তর: একই মৌলের যেসব পরমাণরু পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা আলাদা, তাদের আইসোটোপ বলে। 

১০.  প্রশ্ন: হাইড্রোজেনের কটি আইসোটোপ ও কী কী? 

উত্তর: তিনটি— প্রোটিয়াম, ডয়টেরিয়াম ও ট্রাইটিয়াম। 

১১.  প্রশ্ন: আইসোবার কাকে বলে? 

উত্তর: বিভিন্ন মৌলের যেসব পরমাণুর ভরসংখ্যা সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা আলাদা, তাদের আইসোবার বলে। 

১২.  প্রশ্ন: পরমাণুর সবচেয়ে হালকা কণা কোনটি? 

উত্তর: ইলেকট্রন। 

১৩.  প্রশ্ন: পরমাণুর প্রায় সমস্ত ভর কোথায় সঞ্চিত থাকে? 

উত্তর: নিউক্লিয়াসে। 

১৪.  প্রশ্ন: কক্ষপথ বলতে কী বোঝো? 

✅ উত্তর: নিউক্লিয়াসের চারদিকে যে নির্দিষ্ট পথে ইলেকট্রনগুলো ঘোরে। 

১৫.  প্রশ্ন: একটি নিস্তড়িৎ পরমাণুথেকে ইলেকট্রন বেরিয়ে গেলে তা কীসে পরিণত হয়? ✅ উত্তর: ক্যাটায়ন বা ধনাত্মক আয়নে। 

১৬.  প্রশ্ন: অ্যানায়ন কীভাবে তৈরি হয়? 

উত্তর: পরমাণুযখন বাইরে থেকে এক বা একাধিক ইলেকট্রন গ্রহণ করে। 

১৭.  প্রশ্ন: ক্যাটায়নের উদাহরণ দাও।

উত্তর: Na^+, Mg^{2+} ইত্যাদি। 

১৮. প্রশ্ন: পরমাণুনিস্তড়িৎ হয় কেন? 

উত্তর: পরমাণুতে প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান থাকে বলে। 

১৯.  প্রশ্ন: যোজ্যতা কাকে বলে? 

✅ উত্তর: একটি মৌলের পরমাণু অন্য কোনো মৌলের পরমাণরু সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ক্ষমতাকে।

২০.  প্রশ্ন: মূলক বা র‍্যাডিক্যাল কাকে বলে? 

উত্তর: এক বা একাধিক মৌলের পরমাণু যখন দলবদ্ধভাবে আধানযুক্ত অবস্থায় থাকে। ২১.  প্রশ্ন: নাইট্রেট মলূকের সংকেত ও যোজ্যতা কত? 

উত্তর: সংকেত NO_3^- এবং যোজ্যতা ১। 

২২. প্রশ্ন: কার্বন ডাই-অক্সাইডের রাসায়নিক সংকেত কী? 

উত্তর: CO_2। 

২৩. প্রশ্ন: সংকেত থেকে যোজ্যতা নির্ণয়ের্ণ র একটি উদাহরণ দাও। 

উত্তর: HCl-এ ক্লোরিনের যোজ্যতা ১। 

২৪.  প্রশ্ন: পরমাণরু সবচেয়ে ভারী কণা কোনটি? 

উত্তর: নিউট্রন। 

২৫.  প্রশ্ন: পরমাণরু মডেল প্রথম কে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেন? 

উত্তর: বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড। 

(রচনামূলক / বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর) 

 

১.  প্রশ্ন: ডালটনের পরমাণবাদ তত্ত্বের তিনটি প্রধান সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটি লেখো। 

✅ উত্তর: ডালটনের পরমাণবাদে কিছু ভুল ছিল যা পরে প্রমাণিত হয়: 

* ডালটন বলেছিলেন পরমাণু অবিভাজ্য, কিন্তু পরে দেখা গেছে পরমাণুকে ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রনে ভাগ করা যায়। 

* তিনি বলেছিলেন একই মৌলের সব পরমাণুর ভর সমান, কিন্তু আইসোটোপ আবিষ্কারের পর দেখা গেছে একই মৌলের পরমাণুর ভর আলাদা হতে পারে। 

* তিনি বলেছিলেন ভিন্ন মৌলের পরমাণরু ভর আলাদা হবেই, কিন্তু আইসোবার আবিষ্কারের পর দেখা গেছে ভিন্ন মৌলের পরমাণরু ভরও সমান হতে পারে। 

 

২.  প্রশ্ন: রাদারফোর্ডের পরমাণুমডেলের প্রধান সিদ্ধান্ত গুলো কী কী? 

উত্তর: রাদারফোর্ড তাঁর আলফা কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে: 

* পরমাণুর কেন্দ্রে একটি ক্ষুদ্র, ধনাত্মক আধানযুক্ত ভারী অংশ থাকে, যাকে নিউক্লিয়াস বলে।

* পরমাণরু অধিকাংশ স্থানই ফাঁকা। 

* পরমাণরু সমস্ত ভর তার নিউক্লিয়াসেই কেন্দ্রীভূত থাকে। 

* নিউক্লিয়াসের বাইরে ইলেকট্রনগুলো বিভিন্ন কক্ষপথে ঘোরে।

 

৩.  প্রশ্ন: পরমাণু নিস্তড়িৎ কেন? পরমাণু থেকে কীভাবে আয়ন তৈরি হয়? 

✅ উত্তর: পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যতগুলো ধনাত্মক প্রোটন থাকে, নিউক্লিয়াসের বাইরে ঠিক ততগুলোই ঋণাত্মক ইলেকট্রন থাকে। বিপরীতধর্মী আধানের পরিমাণ সমান হওয়ায় পরমাণুসামগ্রিকভাবে নিস্তড়িৎ হয়। 

* পরমাণুযখন এক বা একাধিক ইলেকট্রন বর্জন করে, তখন তা ধনাত্মক আয়ন বা ক্যাটায়নে পরিণত হয়। 

* পরমাণু যখন বাইরে থেকে ইলেকট্রন গ্রহণ করে, তখন তা ঋণাত্মক আয়ন বা অ্যানায়নে পরিণত হয়।

 

৪.  প্রশ্ন: আইসোটোপ ও আইসোবার এর মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। 

✅ উত্তর: 

* আইসোটোপের ক্ষেত্রে পারমাণবিক সংখ্যা (প্রোটন সংখ্যা) সমান হয়, কিন্তু আইসোবারের ক্ষেত্রে ভরসংখ্যা সমান হয়। 

* আইসোটোপ একই মৌলের বিভিন্ন পরমাণ,কিন্তু আইসোবার সম্পূর্ণ আলাদা মৌলের পরমাণু।

* আইসোটোপের রাসায়নিক ধর্ম অভিন্ন হয়, কিন্তু আইসোবারের রাসায়নিক ধর্ম আলাদা হয়।

 

৫.  প্রশ্ন: ভরসংখ্যা ও পারমাণবিক সংখ্যার মধ্যে সম্পর্ক কী? কোনো মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ১১ এবং ভরসংখ্যা ২৩ হলে নিউট্রন সংখ্যা কত? 

✅ উত্তর: সম্পর্ক: ভরসংখ্যা (A) = পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা (Z) + নিউট্রন সংখ্যা (N)। এখানে, ভরসংখ্যা (A) = ২৩ এবং পারমাণবিক সংখ্যা (Z) = ১১। 

অতএব, নিউট্রন সংখ্যা (N) = ভরসংখ্যা – পারমাণবিক সংখ্যা = ২৩ – ১১ = ১২টি।

 

৬.  প্রশ্ন: যোজ্যতা বলতে কী বোঝো? পরিবর্তনশীল যোজ্যতা কাকে বলে? উদাহরণ দাও। 

উত্তর: কোনো মৌলের একটি পরমাণু অন্য কোনো মৌলের যতগুলো পরমাণরু সাথে যুক্ত হতে পারে, সেই সংখ্যাকে ওই মৌলের যোজ্যতা বলে। 

কিছু মৌল আছে যারা বিভিন্ন যৌগে ভিন্ন ভিন্ন যোজ্যতা প্রদর্শন করে, একে পরিবর্তনশীল যোজ্যতা বলে। 

উদাহরণ: লোহা (Fe) ফেরাস যৌগে ২ এবং ফেরিক যৌগে ৩ যোজ্যতা দেখায়। তামা (Cu) কিউপ্রাস যৌগে ১ এবং কিউপ্রিক যৌগে ২ যোজ্যতা দেখায়। 

 

৭.  প্রশ্ন: মূলক বা র‍্যাডিক্যাল কাকে বলে? ক্যাটায়নিক ও অ্যানায়নিক মূলকের একটি করে উদাহরণ দাও। 

✅ উত্তর: যখন দুই বা ততোধিক মৌলের পরমাণু দলবদ্ধভাবে আধানযুক্ত অবস্থায় থাকে এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় একটি একক পরমাণুর মতো আচরণ করে, তখন তাকে মূলক বলে। 

* ক্যাটায়নিক (ধনাত্মক) মূলক : অ্যামোনিয়াম (NH_4^+)। 

* অ্যানায়নিক (ঋণাত্মক) মলকূ : সালফেট (SO_4^{2-}), কার্বনেট (CO_3^{2-})। 

 

৮. প্রশ্ন: সংকেত লেখার নিয়মটি সংক্ষেপে লেখো। অ্যালমিু নিয়াম অক্সাইডের সংকেত কীভাবে লিখবে? 

✅ উত্তর: সংকেত লেখার সময় মৌল দুটির  চিহ্ন পাশাপাশি লিখে তাদের যোজ্যতাগুলো কোণাকুণি ভাবে বিনিময় করতে হয়। 

অ্যালুমিনিয়াম (Al) এর যোজ্যতা ৩ এবং অক্সিজেন (O) এর যোজ্যতা ২। 

বিনিময় করলে Al এর নিচে ২ এবং O এর নিচে ৩ বসবে। 

অর্থাৎ, অ্যালমিু নিয়াম অক্সাইডের সংকেত হবে: Al_2O_3।

 

৯.  প্রশ্ন: পরমাণরু কক্ষপথের ইলেকট্রন বিন্যাস বলতে কী বোঝো? ‘K’ ও ‘L’ কক্ষপথে সর্বোচ্চ কটি ইলেকট্রন থাকতে পারে?

উত্তর: নিউক্লিয়াসের বাইরে ইলেকট্রনগুলো যে নির্দিষ্ট সজ্জায় বিভিন্ন কক্ষপথে অবস্থান করে, তাকে ইলেকট্রন বিন্যাস বলে। 

একটি কক্ষপথে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকার সূত্র হলো 2n^2 (যেখানে n হলো কক্ষপথের ক্রম)।

* প্রথম কক্ষপথ বা K-কক্ষে (n=1) সর্বোচ্চ ইলেকট্রন = 2(1)^2 = ২ টি। 

* দ্বিতীয় কক্ষপথ বা L-কক্ষে (n=2) সর্বোচ্চ ইলেকট্রন = 2(2)^2 = ৮ টি।

 

১০. প্রশ্ন: বোর-রাদারফোর্ড মডেল অনুযায়ী সোডিয়াম (_{11}^{23}Na) পরমাণুর গঠন চিত্র বর্ণনা  করো। 

✅ উত্তর: সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ১১। অর্থাৎ এর প্রোটন সংখ্যা ১১ এবং ইলেকট্রন সংখ্যা ১১। এর নিউট্রন সংখ্যা = (২৩ – ১১) = ১২। 

ইলেকট্রন বিন্যাস: প্রথম কক্ষে (K) ২টি, দ্বিতীয় কক্ষে (L) ৮টি এবং তৃতীয় কক্ষে (M) ১টি ইলেকট্রন থাকে। 

গঠন চিত্রে কেন্দ্রে ১১টি প্রোটন ও ১২টি নিউট্রন থাকবে এবং তিনটি বৃত্তাকার  পথে (২, ৮, ১) এই ক্রমে ইলেকট্রনগুলো ঘুরবে। 

  

 

   ©kamaleshforeducation.in(2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top