অষ্টম শ্রেণী 

  ‘পরিবেশ ও বিজ্ঞান’ 

 অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর 

(১.২)’স্পর্শ ছাড়া ক্রিয়াশীল বল’ (১৭-২৮ পৃষ্ঠা)

 অতিসংক্ষিপ্ত/নৈর্ব্যক্তিক/সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর 

 

১. প্রশ্ন: মহাকর্ষ বল বলতে কী বোঝো? 

✅ উত্তর: মহাবিশ্বের যেকোনো দটিু বস্তু তাদের ভরের দরুন একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, তাকে মহাকর্ষ বল বলে। 

২.  প্রশ্ন: নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রটি কত সালে প্রকাশিত হয়? 

✅ উত্তর: ১৬৮৭ সালে স্যার আইজ্যাক নিউটনের ‘প্রিন্সিপিয়া’ গ্রন্থে। 

৩. প্রশ্ন: মহাকর্ষ বল বস্তুর ভরের গুণফলের সাথে কিভাবে পরিবর্তিত হয়? 

✅ উত্তর: মহাকর্ষ বল বস্তুর ভরের গুণফলের সমানুপাতিক। 

৪.  প্রশ্ন: দটিু বস্তুর দূরত্ব দ্বিগুণ করলে মহাকর্ষ বল কত গুণ হবে? 

✅ উত্তর: মহাকর্ষ বল এক-চতুর্থাংশ (1/4 গুণ) হবে। 

৫.  প্রশ্ন: মহাকর্ষীয় ধ্রুবক (G) এর SI একক কী? 

✅ উত্তর: নিউটন.মিটার²/কেজি² (N\cdot m^2/kg^2)। 

৬.  প্রশ্ন: অভিকর্ষজ ত্বরণ ‘g’ এর মান পৃথিবীর কোথায় সবচেয়ে বেশি? 

✅ উত্তর: পৃথিবীর দইু মেরু অঞ্চলে। 

৭.  প্রশ্ন: চাঁদে কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর ওজনের কত ভাগ হয়? 

✅ উত্তর: প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ (1/6 ভাগ)। 

৮.  প্রশ্ন: কোনো বস্তুকে ওপরের দিকে ছুড়লে তা নিচে পড়ে কেন? 

✅ উত্তর: পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের আকর্ষণে। 

৯.  প্রশ্ন: তড়িৎ আধান কয় প্রকার ও কী কী? 

✅ উত্তর: দইু প্রকার— ধনাত্মক (+) ও ঋণাত্মক (-)। 

১০. প্রশ্ন: সমজাতীয় আধান পরস্পরকে কী করে? 

✅ উত্তর: বিকর্ষণ করে। 

১১.  প্রশ্ন: আধানের SI একক কী? 

✅ উত্তর: কুলম্ব (C)। 

১২. প্রশ্ন: কুলম্বের সূত্রটি কীসের ওপর নির্ভর করে? 

✅ উত্তর: দুটি বিন্দু আধানের মধ্যবর্তী বলের ওপর।

১৩.  প্রশ্ন: পরমাণরু নিউক্লিয়াসে কী কী কণা থাকে? 

✅ উত্তর: প্রোটন ও নিউট্রন। 

১৪.  প্রশ্ন: ইলেকট্রন কী জাতীয় আধানযুক্ত কণা? 

✅ উত্তর: ঋণাত্মক (-) আধানযুক্ত। 

১৫.  প্রশ্ন: তড়িৎ আবেশ কাকে বলে? 

✅ উত্তর: কোনো আহিত বস্তুর প্রভাবে একটি অনাহিত বস্তুকে সাময়িকভাবে আহিত করার পদ্ধতিকে তড়িৎ আবেশ  বলে

১৬.  প্রশ্ন: সোনার পাত তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র কী কাজে লাগে? 

✅ উত্তর: কোনো বস্তুতে আধানের অস্তিত্ব ও প্রকৃতি নির্ণয় করতে। 

১৭.  প্রশ্ন: বজ্রপাত আসলে কী? 

✅ উত্তর: বায়ুমণ্ডলের মেঘেদের মধ্যে থাকা বিপুল পরিমাণ স্থির তড়িতের মোক্ষণ বা ডিসচার্জ।

১৮.  প্রশ্ন: বজ্রবহ (Lightning Conductor) কে আবিষ্কার করেন? 

✅ উত্তর: বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন। 

১৯.  প্রশ্ন: ঘর্ষণের ফলে বস্তুতে কী ধরণের তড়িৎ উৎপন্ন হয়? 

উত্তর: স্থির তড়িৎ। 

২০.  প্রশ্ন: শীতকালে প্লাস্টিকের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ালে কী ঘটে? 

✅ উত্তর: ঘর্ষণের ফলে চিরুনিটি আহিত হয় এবং কাগজের টুকরোকে আকর্ষণ করে। 

২১.  প্রশ্ন: ‘g’ এর মান কি মহাবিশ্বের সব জায়গায় সমান? 

✅ উত্তর: না, স্থানভেদে ‘g’ এর মান পরিবর্তিত হয়। 

২২.  প্রশ্ন: পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে যে বল কাজ করে তাকে কী বলে? 

✅ উত্তর: মহাকর্ষ বল। 

২৩.  প্রশ্ন: একটি বস্তু থেকে ইলেকট্রন চলে গেলে সেটি কোন আধানে আহিত হয়?

✅ উত্তর: ধনাত্মক (+) আধানে। 

২৪.  প্রশ্ন: তড়িৎ বল ও মহাকর্ষ বলের মধ্যে কোনটি শক্তিশালী? 

✅ উত্তর: তড়িৎ বল অনেক বেশি শক্তিশালী। 

২৫.  প্রশ্ন: দটিু আধানের মধ্যবর্তী দরত্বূ অর্ধেক করলে বল কত গুণ হবে? 

✅ উত্তর: বল চার গুণ হবে। 

(রচনামূলক / বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর) 

 

১. �প্রশ্ন: নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রটি বিবতৃ করো এবং এর গাণিতিক রূপটি ব্যাখ্যা করো। 

✅ উত্তর: এই মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু কণা একে অপরকে নিজের কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে। এই আকর্ষণ বলের মান বস্তু দুটির ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং তাদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক। 

গাণিতিক রূপ: F = G \frac{m_1 m_2}{d^2}। এখানে F হলো মহাকর্ষ বল, m_1 ও m_2 হলো বস্তু দুটির  ভর এবং d হলো তাদের মধ্যকার দূরত্ব। G হলো মহাকর্ষীয় ধ্রুবক। 

২.  প্রশ্ন: অভিকর্ষজ ত্বরণ ‘g’ বলতে কী বোঝো? পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এর মান আলাদা হয় কেন? 

✅ উত্তর: অভিকর্ষ বলের প্রভাবে অবাধে পতনশীল কোনো বস্তুর বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে। 

পৃথিবী পুরোপুরি গোল নয়, মেরু অঞ্চলে কিছুটা চাপা। পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে মেরু অঞ্চলের দূরত্ব (ব্যাসার্ধ) কম হওয়ায় সেখানে ‘g’-এর মান সবচেয়ে বেশি। আবার বিষুবীয় অঞ্চলে দূরত্ব বেশি হওয়ায় সেখানে ‘g’-এর মান সবচেয়ে কম হয়। 

৩.  প্রশ্ন: ভর ও ওজনের মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো। 

✅ উত্তর: * ভর হলো বস্তুর মধ্যে থাকা পদার্থের মোট পরিমাণ, কিন্তু ওজন হলো বস্তুর ওপর পৃথিবীর আকর্ষণ বল। 

* বস্তুর ভর সাধারণ তুলাযন্ত্রে মাপা হয়, কিন্তু ওজন মাপা হয় স্প্রিং তুলাযন্ত্রের সাহায্যে। 

* ভর মহাবিশ্বের সব জায়গায় একই থাকে, কিন্তু ওজন স্থানভেদে (যেমন পৃথিবী ও চাঁদে) পরিবর্তিত হয়।

৪.  প্রশ্ন: কুলম্বের সূত্রটি বিবতৃ করো এবং এর গাণিতিক রূপটি লেখো। 

✅ উত্তর: দুটি বিন্দুআধানের মধ্যে ক্রিয়াশীল আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলের মান আধান দুটির পরিমাণের গুণফলের সমানুপাতিক এবং তাদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।

গাণিতিক রূপ: F = k \frac{q_1 q_2}{r^2}। এখানে F হলো বল, q_1 ও q_2 হলো আধান দুটি , r হলো দূরত্ব এবং k একটি ধ্রুবক। 

৫.  প্রশ্ন: তড়িৎ আবেশ কাকে বলে? এটি কীভাবে কাজ করে? 

✅ উত্তর: কোনো আহিত বস্তুকে একটি অনাহিত বস্তুর কাছে আনলে স্পর্শ না করেই অনাহিত বস্তুটিকে সাময়িকভাবে আহিত করার পদ্ধতিকে তড়িৎ আবেশ বলে। 

আহিত বস্তুর প্রভাবে অনাহিত বস্তুর কাছের প্রান্তে বিপরীত আধান এবং দূরের প্রান্তে সমজাতীয় আধানের সৃষ্টি হয়। 

৬.  প্রশ্ন: শীতকালে প্লাস্টিকের চিরুনি দিয়ে শুকনো চুল আঁচড়ানোর পর তা কাগজের টুকরোকে আকর্ষণ করে কেন? 

✅ উত্তর: শুকনো চুলে চিরুনি ঘষলে ঘর্ষণের ফলে চিরুনিতে স্থির তড়িৎ উৎপন্ন হয় এবং চিরুনিটি আহিত হয়। এই আহিত চিরুনি যখন নিস্তড়িৎ কাগজের টুকরোর কাছে আনা হয়, তখন তড়িৎ আবেশের কারণে কাগজের কাছের প্রান্তে বিপরীত আধান তৈরি হয় এবং চিরুনিটি কাগজের টুকরোকে আকর্ষণ করে। 

৭.  প্রশ্ন: পরমাণুর গঠন সংক্ষেপে আলোচনা করো। পরমাণু  কেন নিস্তড়িৎ হয়? 

✅ উত্তর: পরমাণুর কেন্দ্রে থাকে নিউক্লিয়াস, যা ধনাত্মক প্রোটন ও নিস্তড়িৎ নিউট্রন দিয়ে গঠিত। নিউক্লিয়াসের বাইরে বিভিন্ন কক্ষপথে ঋণাত্মক ইলেকট্রনগুলো ঘোরে। 

পরমাণুতে প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান থাকে। এদের আধানের মান সমান কিন্তু বিপরীতমুখী  হওয়ায় তারা একে অপরকে প্রশমিত করে দেয়, তাই পরমাণু নিস্তড়িৎ হয়। 

৮.  প্রশ্ন: মহাকর্ষ বল ও তড়িৎ বলের মধ্যে দুটি সাদৃশ্য  ও দুটি বৈসাদশ্য  লেখো। 

✅ উত্তর: * সাদৃশ্য  : (১) উভয় বলই দূরত্বের বর্গেরর্গে ব্যস্তানুপাতিক।

(২) উভয়ই স্পর্শ ছাড়া ক্রিয়াশীল বল। 

* বৈসাদশ্য  (১) মহাকর্ষ বল শুধুআকর্ষণধর্মী, কিন্তু তড়িৎ বল আকর্ষণ ও বিকর্ষণ উভয়ধর্মী হতে পারে।

(২) তড়িৎ বল মহাকর্ষ বলের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। 

 

৯.  প্রশ্ন: বজ্রপাত কীভাবে ঘটে? 

✅ উত্তর: বায়ুমণ্ডলের মেঘেদের মধ্যে ঘর্ষণের ফলে প্রচুর পরিমাণে স্থির তড়িৎ জমা হয়। যখন দুটি বিপরীত আধানযুক্ত মেঘ খুব কাছাকাছি আসে বা মেঘ ও মাটির মধ্যে বিভব পার্থক্য খুব বেড়ে যায়, তখন বাতাসের মধ্য দিয়ে তড়িৎ মোক্ষণ বা ডিসচার্জ ঘটে। এর ফলে তীব্র আলো ও শব্দসহ যে ঘটনা ঘটে তাকেই বজ্রপাত বলে। 

১০.  প্রশ্ন: মহাকর্ষীয় ধ্রুবক (G) এবং অভিকর্ষজ ত্বরণ (g)-এর মধ্যে পার্থক্য কী? 

✅ উত্তর: * G হলো একটি সার্বজনীন ধ্রুবক যার মান মহাবিশ্বের সর্বত্র সমান। অন্যদিকে g-এর মান স্থানভেদে পরিবর্তিত হয়। 

* G বস্তুর ভরের ওপর নির্ভর করে না, কিন্তু g বস্তুর ভরের ওপর নির্ভর না করলেও গ্রহ বা উপগ্রহের ভরের ওপর নির্ভর করে। 

* G-এর একক N\cdot m^2/kg^2 এবং g-এর একক m/s^2। 

 

 

 ©kamaleshforeducation.in(2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top