

অষ্টম শ্রেণী (Class 8) ‘পরিবেশ ও বিজ্ঞান’
অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর
(১.৪) ‘আলো (৪৬-৫৩ পৃষ্ঠা)
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
(অতিসংক্ষিপ্ত/নৈর্ব্যক্তিক/সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর)
১. প্রশ্ন: আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণের মধ্যে সম্পর্ক কী?
✅ উত্তর: প্রতিফলনের নিয়ম অনুযায়ী আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণের মান সবসময় সমান হয়।
২. প্রশ্ন: নিয়মিত প্রতিফলন কোন ধরনের তলে ঘটে?
✅ উত্তর: মসৃণ ও চকচকে তলে (যেমন- আয়না, স্থির জল)।
৩. প্রশ্ন: সিনেমার পর্দায় কোন ধরণের প্রতিফলন ঘটে?
✅ উত্তর: বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন।
৪. প্রশ্ন: প্রতিসরণ কাকে বলে?
✅ উত্তর: আলোক রশ্মি এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে প্রবেশ করলে বিভেদতলে তার গতিপথ পরিবর্তনের ঘটনাকে প্রতিসরণ বলে।
৫. প্রশ্ন: আলো লঘুমাধ্যম থেকে ঘন মাধ্যমে প্রবেশ করলে প্রতিসৃত রশ্মি কোন দিকে সরে যায়?
✅ উত্তর: অভিলম্বের দিকে সরে আসে।
৬. প্রশ্ন: ঘন মাধ্যম থেকে লঘুমাধ্যমে প্রতিসরণের সময় আপতন কোণ (i) ও প্রতিসরণ কোণের (r) মধ্যে সম্পর্ক কী?
✅ উত্তর: প্রতিসরণ কোণ আপতন কোণের চেয়ে বড় হয় (r > i)
৭. প্রশ্ন: সংকট কোণ কাকে বলে?
✅ উত্তর: ঘন মাধ্যম থেকে লঘুমাধ্যমে প্রতিসরণের সময় যে নির্দিষ্ট আপতন কোণের জন্য প্রতিসরণ কোণ ৯০° হয়, তাকে সংকট কোণ বলে।
৮. প্রশ্ন: অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলনের একটি প্রাকৃতিক উদাহরণ দাও।
✅ উত্তর: মরুভূমির মরীচিকা।
৯. প্রশ্ন: কচুপাতার ওপর জলবিন্দুচকচক করে কেন?
✅ উত্তর: আলোর অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলনের জন্য।
১০. প্রশ্ন: প্রিজমে সাদা আলো কটি বর্ণে ভেঙে যায়?
✅ উত্তর: সাতটি বর্ণে (বেনীআসহকলা)।
১১. প্রশ্ন: বর্ণালী কাকে বলে?
✅ উত্তর: সাদা আলো বিচ্ছুরিত হয়ে যে রঙিন আলোর পট্টি তৈরি করে, তাকে বর্ণালী বলে।
১২. প্রশ্ন: লেন্স কয় প্রকার ও কী কী?
✅ উত্তর: প্রধানত দইু প্রকার— উত্তল লেন্স ও অবতল লেন্স।
১৩. প্রশ্ন: কোন লেন্সকে অভিসারী লেন্স বলা হয়?
✅ উত্তর: উত্তল লেন্সকে।
১৪. প্রশ্ন: সুস্থ চোখের স্পষ্ট দর্শনের ন্যূনতম দরত্বূ কত?
✅ উত্তর: ২৫ সেন্টিমিটার।
১৫. প্রশ্ন: রেটিনায় গঠিত প্রতিবিম্বের প্রকৃতি কেমন?
✅ উত্তর: সদ ও অবশীর্ষ (উল্টো)।
১৬. প্রশ্ন: মায়োপিয়া বা হ্রস্বদষ্টিৃ দরূ করতে কোন লেন্স ব্যবহার করা হয়?
✅ উত্তর: অবতল লেন্স।
১৭. প্রশ্ন: দীর্ঘদষ্টিৃ বা হাইপারমেট্রোপিয়া প্রতিকারে কোন লেন্স ব্যবহার করা হয়?
✅ উত্তর: উত্তল লেন্স।
১৮. প্রশ্ন: পেরিস্কোপে দর্পণ দটিু কত ডিগ্রি কোণে থাকে?
✅ উত্তর: ৪৫° কোণে।
১৯. প্রশ্ন: ক্যালিডোস্কোপে কটি সমতল দর্পণ ব্যবহার করা হয়?
✅ উত্তর: তিনটি।
২০. প্রশ্ন: রামধনুসৃষ্টির কারণ কী?
✅ উত্তর: আকাশের জলকণায় সূর্যের আলোর বিচ্ছুরণ।
২১. প্রশ্ন: আলোর বিচ্ছরণু কে প্রথম আবিষ্কার করেন?
✅ উত্তর: স্যার আইজ্যাক নিউটন।
২২. প্রশ্ন: শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ কত?
✅ উত্তর: ৩ × ১০⁸ মিটার/সেকেন্ড।
২৩. প্রশ্ন: সংকট কোণের ক্ষেত্রে প্রতিসরণ কোণের মান কত?
✅ উত্তর: ৯০°।
২৪. প্রশ্ন: কোনো মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক বলতে কী বোঝায়?
✅ উত্তর: শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ ও ওই মাধ্যমে আলোর বেগের অনুপাত।
২৫. প্রশ্ন: লেন্সের আলোককেন্দ্র কাকে বলে?
✅ উত্তর: লেন্সের প্রধান অক্ষের ওপর অবস্থিত যে বিন্দুর মধ্য দিয়ে আলো গেলে তার কোনো চ্যুতি ঘটে না তাকে লেন্সের আলোককেন্দ্র বলে ।
(রচনামূলক / বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর)
১. প্রশ্ন: নিয়মিত প্রতিফলন ও বিক্ষিপ্ত প্রতিফলনের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর: * নিয়মিত প্রতিফলন মসৃণ ও চকচকে তলে ঘটে; কিন্তু বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন অমসৃণ বা খসখসে তলে ঘটে।
* নিয়মিত প্রতিফলনের ক্ষেত্রে প্রতিফলিত রশ্মিগুলো একটি নির্দিষ্ট দিকে সমান্তরালভাবে যায়; কিন্তু বিক্ষিপ্ত প্রতিফলনে রশ্মিগুলো বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
* নিয়মিত প্রতিফলনে বস্তুর স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠিত হয় (যেমন- আয়না); কিন্তু বিক্ষিপ্ত প্রতিফলনে বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠিত হয় না, তবে বস্তুটি দৃশ্যমান হয় (যেমন- দেয়াল বা বইয়ের পাতা)।
২. প্রশ্ন: প্রতিসরণ কাকে বলে? লঘুমাধ্যম থেকে ঘন মাধ্যমে আলোক রশ্মির প্রতিসরণের দুটি নিয়ম লেখো।
✅ উত্তর: আলোক রশ্মি যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে তির্যকভাবে প্রবেশ করে, তখন দইু মাধ্যমের বিভেদতলে রশ্মির অভিমুখ পরিবর্তিত হয়। একে প্রতিসরণ বলে।
* নিয়ম ১: আলো লঘুমাধ্যম (যেমন- বায়ু) থেকে ঘন মাধ্যমে (যেমন- কাঁচ) প্রবেশ করলে প্রতিসৃত রশ্মি অভিলম্বের দিকে সরে আসে।
* নিয়ম ২: এক্ষেত্রে আপতন কোণ অপেক্ষা প্রতিসরণ কোণের মান ছোট হয়।
৩. প্রশ্ন: অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলনের শর্ত দুটি কী কী?
✅ উত্তর: অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলন ঘটার জন্য দুটি আবশ্যিক শর্ত হলো:
* আলোক রশ্মিকে অবশ্যই ঘন মাধ্যম থেকে লঘুমাধ্যমের অভিমুখে যেতে হবে।
* ঘন মাধ্যমে আপতন কোণের মান ওই দুই মাধ্যমের সংকট কোণ অপেক্ষা বড় হতে হবে।
৪. প্রশ্ন: সংকট কোণ কাকে বলে? কাঁচ ও বায়ুর সংকট কোণ ৪২° বলতে কী বোঝো?
✅ উত্তর: আলোক রশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে লঘুমাধ্যমে যাওয়ার সময় যে নির্দিষ্ট আপতন কোণের জন্য প্রতিসরণ কোণের মান ৯০° হয়, তাকে সংকট কোণ বলে।
কাঁচ ও বায়ুর সংকট কোণ ৪২° বলতে বোঝায়, আলোক রশ্মি কাঁচের ভেতর দিয়ে এসে কাঁচ ও বায়ুর বিভেদতলে যদি ৪২° কোণে আপতিত হয়, তবে প্রতিসৃত রশ্মিটি দুই মাধ্যমের বিভেদতল ঘেষেঁ চলে যাবে।
৫. প্রশ্ন: মরুভূমিতে মরীচিকা সৃষ্টির কারণ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।
✅ উত্তর: মরুভূমিতে বালির সংলগ্ন বাতাস খুব উত্তপ্ত ও লঘু থাকে এবং উপরের দিকের বাতাস তুলনামূলক ঘন থাকে। গাছ থেকে আসা আলো ঘন স্তর থেকে লঘুস্তরে নামার সময় প্রতিসরণের ফলে অভিলম্ব থেকে দূরে সরতে থাকে। একসময় আপতন কোণ সংকট কোণের চেয়ে বড় হয়ে গেলে আলোক রশ্মির অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলন ঘটে। এই প্রতিফলিত রশ্মি যখন দর্শকের চোখে পৌঁছায়, তখন মনে হয় নিচ থেকে আসছে, যা জলের বিভ্রম বা মরীচিকা সৃষ্টি করে।
৬. প্রশ্ন: পেরিস্কোপের গঠন ও ব্যবহার আলোচনা করো।
✅ উত্তর: পেরিস্কোপে একটি লম্বা নলের দইু প্রান্তে দটিু সমতল দর্পণকে নলের অক্ষের সাথে ৪৫° কোণে এবং পরস্পরের সমান্তরাল করে রাখা হয়। বাইরের বস্তু থেকে আসা আলো প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে এবং পুনরায় প্রতিফলিত হয়ে দর্শকের চোখে পৌঁছায়।
ব্যবহার: বাঙ্কারের নিচে থেকে শত্রুর গতিবিধি দেখতে বা ভিড়ের মধ্যে ওপরের কোনো বস্তু দেখতে এটি ব্যবহৃত হয়।
৭. প্রশ্ন: উত্তল লেন্স ও অবতল লেন্সের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
✅ উত্তর: * উত্তল লেন্সের মধ্যভাগ মোটা ও প্রান্তের দিক সরু; কিন্তু অবতল লেন্সের মধ্যভাগ সরু ও প্রান্তের দিক মোটা।
* উত্তল লেন্স সমান্তরাল আলোক রশ্মিগুচ্ছকে একবিন্দুতে মিলিত করে (অভিসারী); কিন্তু অবতল লেন্স সমান্তরাল আলোক রশ্মিগুচ্ছকে দুরে সরিয়ে দেয় (অপসারী)।
* উত্তল লেন্সে সদ ও অসদ উভয় প্রকার প্রতিবিম্ব গঠিত হতে পারে; কিন্তু অবতল লেন্সে সর্বদা অসদ ও ছোট প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।
৮. প্রশ্ন: বিচ্ছুরণকাকে বলে? প্রিজমের মধ্য দিয়ে সাদা আলোর বিচ্ছুরণের ফলে সৃষ্ট বর্ণলীরগুলো ক্রমানুসারে লেখো।
✅ উত্তর: সাদা বা যেকোনো মিশ্র আলো প্রিজমের মতো কোনো স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় তার উপাদান বর্ণগুর্ণ লোতে পৃথক হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে বিচ্ছরণু বলে।
সাদা আলোর বর্ণালীর সাতটি বর্ণ নিচ থেকে উপরে ক্রমানুসারে হলো:
বেগুনি (Violet), নীল (Indigo), আকাশী (Blue), সবজু (Green), হলদু (Yellow), কমলা (Orange) ও লাল (Red) —
সংক্ষেপে ‘বেনীআসহকলা’।
৯. প্রশ্ন: চোখের উপযোজন (Accommodation) বলতে কী বোঝো?
✅ উত্তর: আমাদের চোখের লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্য পেশির সাহায্যে পরিবর্তন করা যায়। চোখের লেন্সের চারপাশের সিলিয়ারি পেশির সংকোচন বা প্রসারণের মাধ্যমে লেন্সের বক্রতা পরিবর্তন করে কাছের বা দুরের বস্তুর স্পষ্ট প্রতিবিম্ব রেটিনায় গঠন করার ক্ষমতাকে উপযোজন বলে।
১০. প্রশ্ন: দীর্ঘদষ্টিৃ বা হাইপারমেট্রোপিয়া কী? এর প্রতিকারের উপায় লেখো।
✅ উত্তর: যদি কোনো ব্যক্তি দুরের বস্তু স্পষ্ট দেখলেও কাছের বস্তু অস্পষ্ট দেখেন, তবে চোখের সেই ত্রুটিকে দীর্ঘদষ্টিৃ বা হাইপারমেট্রোপিয়া বলে। সাধারণত অক্ষিগোলক ছোট হয়ে গেলে বা লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্য বেড়ে গেলে এই ত্রুটি হয়।
প্রতিকার: উপযুক্ত ফোকাস দৈর্ঘ্যে র উত্তল লেন্স যুক্ত চশমা ব্যবহার করে এই ত্রুটি দূর করা যায়।

©kamaleshforeducation.in(2023)



