অষ্টম শ্রেণী (Class 8)   ‘পরিবেশ ও বিজ্ঞান’ 

(২) ‘মৌল, যৌগ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া’  

 অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর 

(২.১)’পদার্থে র প্রকৃতি ‘ (৫৪-৭৮ পৃষ্ঠা)  

  গুরুত্বপূর্ণ  প্রশ্ন ও উত্তর 

(অতিসংক্ষিপ্ত/নৈর্ব্যক্তিক/সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর)

 

১.  প্রশ্ন: পদার্থের ভৌত অবস্থা কয়টি ও কী কী? 

✅ উত্তর: সাধারণ উষ্ণতায় পদার্থের ভৌত অবস্থা তিনটি— কঠিন, তরল ও গ্যাসীয়। 

২.  প্রশ্ন: ধাতুর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য লেখো। 

✅ উত্তর: ধাতু তাপ ও তড়িতের সুপরিবাহী এবং এদের আঘাত করলে একটি ধাতব শব্দ উৎপন্ন হয়।

৩.  প্রশ্ন: একটি তরল ধাতুর নাম লেখো। 

✅ উত্তর: পারদ। 

৪. প্রশ্ন: একটি তরল অধাতুর নাম লেখো। 

✅ উত্তর: ব্রোমিন। 

৫.  প্রশ্ন: কার্বনের কোন রূপভেদটি তড়িতের সুপরিবাহী? 

✅ উত্তর: গ্রাফাইট। 

৬.  প্রশ্ন: ধাতুকল্প কাকে বলে? 

✅ উত্তর: যেসব মৌলের মধ্যে ধাতুও অধাতুউভয় গুণই বর্তমান, তাদের ধাতুকল্প বলে (যেমন আর্সেনিক)। 

৭.  প্রশ্ন: কঠিন থেকে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হওয়ার পদ্ধতিকে কী বলে?19

✅ উত্তর: ঊর্ধ্বপাতন। 

৮.  প্রশ্ন: একটি ঊর্ধ্বপাতী পদার্থের উদাহরণ দাও। 

✅ উত্তর:  একটি উর্ধ্বপাতিত পদার্থের প্রধান উদাহরণ হলো ন্যাপথালিন। অন্যান্য উর্ধ্বপাতিত পদার্থের মধ্যে রয়েছে কর্পূর, আয়োডিন, নিশাদল (অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড), কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা শুষ্ক বরফ (dry ice)। 

৯.  প্রশ্ন: ঘনত্ব কাকে বলে? 

✅ উত্তর: কোনো পদার্থের একক আয়তনের ভরকে ওই পদার্থের ঘনত্ব বলে। 

১০.  প্রশ্ন: লোহার চেয়ে অ্যালমিু নিয়াম হালকা না ভারী? 

✅ উত্তর: হালকা। 

১১.  প্রশ্ন: গলনাঙ্ক কাকে বলে? 

✅ উত্তর: স্থির চাপে যে নির্দিষ্ট উষ্ণতায় কোনো কঠিন পদার্থ গলে তরলে পরিণত হয়। 

১২.  প্রশ্ন: বিশুদ্ধ লোহার রং কেমন? 

✅ উত্তর: ধূসর সাদা। 

১৩. প্রশ্ন: চুম্বক দ্বারা আকৃষ্ট হয় এমন একটি ধাতুর নাম লেখো। 

উত্তর: লোহা (বা নিকেল/কোবাল্ট)। 

১৪.  প্রশ্ন: দ্রাব্যতা বলতে কী বোঝো? 

✅ উত্তর: নির্দিষ্ট উষ্ণতায় ১০০ গ্রাম দ্রাবকে কোনো দ্রাব সর্বোচ্চ যত গ্রাম দ্রবীভূত হতে পারে।

১৫.  প্রশ্ন: পিতল কোন কোন ধাতুর সংকর? 

✅ উত্তর: তামা ও দস্তা। 

১৬.  প্রশ্ন: স্টেইনলেস স্টিল বা কলঙ্কহীন ইস্পাত তৈরিতে লোহার সাথে কী মেশানো হয়? ✅ উত্তর: ক্রোমিয়াম। 

১৭.  প্রশ্ন: একটি ভঙ্গরু অধাতুর উদাহরণ দাও। 

✅ উত্তর: সালফার বা ফসফরাস।

১৮.  প্রশ্ন: হিরে ও গ্রাফাইট কিসের রূপভেদ? 

✅ উত্তর: কার্বনের। 

১৯. প্রশ্ন: সমসত্ত্ব মিশ্রণ কাকে বলে? 

✅ উত্তর: যে মিশ্রণের সব অংশে উপাদানগুলির অনুপাত একই থাকে (যেমন- চিনির শরবত)।

২০.  প্রশ্ন: পরিশ্রাবণ পদ্ধতিতে কী পৃথক করা হয়? 

✅ উত্তর: তরলে মিশে থাকা অদ্রাব্য কঠিন কণা। 

২১.  প্রশ্ন: কোনো দ্রবণ থেকে দ্রাবকে কঠিন স্ফটিক আকারে পৃথক করার পদ্ধতিকে কী বলে?

✅ উত্তর: স্ফটিকীকরণ। 

২২.  প্রশ্ন: একটি উদবায়ী পদার্থের নাম লেখো। 

✅ উত্তর: ইথার বা পেট্রোল। 

২৩.  প্রশ্ন: কোন গ্যাস পচা ডিমের মতো গন্ধযুক্ত? 

✅ উত্তর: হাইড্রোজেন সালফাইড (H2S)। 

২৪.  প্রশ্ন: চিনিকে উত্তপ্ত করলে কী অবশেষ পড়ে থাকে? 

✅ উত্তর: কালো রঙের কার্বন। 

২৫.  প্রশ্ন: সাধারণ লবণের রাসায়নিক নাম কী? 

✅ উত্তর: সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) 

(রচনামূলক / বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর) 

 

১.  প্রশ্ন: ধাতুও অধাতুর মধ্যে তিনটি ভৌত ধর্মেরর্মে পার্থক্য লেখো। 

✅ উত্তর: 

* উজ্জ্বলতা: ধাতুসাধারণত উজ্জ্বল ও চকচকে হয়, কিন্তু অধাতু(আয়োডিন ও গ্রাফাইট ছাড়া) সাধারণত অনুজ্জ্বল হয়। 

* পরিবাহিতা: ধাতুতাপ ও তড়িতের সুপরিবাহী, কিন্তু অধাতু(গ্রাফাইট ও গ্যাস কার্বন ছাড়া) তাপ ও তড়িতের কুপরিবাহী। 

* আঘাত সহনশীলতা: ধাতুনমনীয় ও প্রসারণশীল (আঘাত করলে চ্যাপ্টা হয়), কিন্তু কঠিন অধাতু সাধারণত ভঙ্গরু প্রকৃতির হয় (আঘাত করলে ভেঙে যায়)। 

 

২. প্রশ্ন: ঘনত্ব কাকে বলে? লোহার ঘনত্ব ৭.৮ গ্রাম/ঘন সেমি বলতে কী বোঝো? 

✅ উত্তর: কোনো পদার্থের একক আয়তনের ভরকে ওই পদার্থের ঘনত্ব বলে। 

লোহার ঘনত্ব ৭.৮ গ্রাম/ঘন সেমি বলতে বোঝায় যে, ১ ঘন সেন্টিমিটার আয়তনের লোহার ভর হলো ৭.৮ গ্রাম। অর্থাৎ, লোহার টুকরোটি আয়তনে যত বড় হবে, তার ভর তত গুণ বেশি হবে। 

সূত্র: \text{ঘনত্ব} = \frac{\text{ভর}}{\text{আয়তন}} 

৩. প্রশ্ন: ধাতুকল্প কাকে বলে? উদাহরণ দাও। এদের ব্যবহার লেখো। 

✅ উত্তর: যেসব মৌলের মধ্যে ধাতুএবং অধাতুউভয় প্রকারের ধর্মইর্ম বর্তমান থাকে, তাদের ধাতুকল্প (Metalloids) বলে। 

উদাহরণ: আর্সেনিক (As), অ্যান্টিমনি (Sb), সিলিকন (Si)। 

ব্যবহার: সিলিকনের মতো ধাতুকল্প কম্পিউটার চিপ এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির ট্রানজিস্টর তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। 

৪.  প্রশ্ন: কার্বনের দটিু রূপভেদ হিরে ও গ্রাফাইটের ধর্মেরর্মে তুলনা করো। 

✅ উত্তর: 

* কঠিনতা: হিরে পৃথিবীর কঠিনতম প্রাকৃতিক পদার্থ, অন্যদিকে গ্রাফাইট বেশ নরম ও পিচ্ছিল। * তড়িৎ পরিবাহিতা: হিরে তড়িতের কুপরিবাহী, কিন্তু গ্রাফাইট তড়িতের সুপরিবাহী। 

* স্বচ্ছতা: হিরে স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল, কিন্তু গ্রাফাইট অস্বচ্ছ ও কালো-ধূসর রঙের হয়। 

৫.  প্রশ্ন: ঊর্ধ্বপাতন কাকে বলে? দটিু ঊর্ধ্বপাতী পদার্থের নাম লেখো। 

✅ উত্তর: যে পদ্ধতিতে কোনো কঠিন পদার্থকে উত্তপ্ত করলে তা সরাসরি তরলে পরিণত না হয়ে বাষ্পে পরিণত হয় এবং বাষ্পকে শীতল করলে সরাসরি কঠিনে পরিণত হয়, তাকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। 

উদাহরণ: কর্পূর, আয়োডিন, নিশাফল (অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড)। 

৬.  প্রশ্ন: সংকর ধাতুবা ধাতুসংকর কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও। এটি কেন তৈরি করা হয়? 

✅ উত্তর: দুুুুুুুুুুই বা ততোধিক ধাতু(বা কোনো ধাতুর সাথে অধাতু) গলিত অবস্থায় মিশিয়ে যে সমসত্ত্ব মিশ্রণ তৈরি করা হয় এবং পরে যা কঠিন হয়ে যায়, তাকে সংকর ধাতুবলে। 

উদাহরণ: স্টেইনলেস স্টিল (লোহা, ক্রোমিয়াম ও নিকেল)। 

তৈরির কারণ: মূল ধাতুর চেয়ে সংকর ধাতুঅনেক বেশি শক্ত হয় এবং এতে সহজে মরিচা পড়ে না।

৭.  প্রশ্ন: পরিশ্রাবণ ও পাতন পদ্ধতির মধ্যে মলূ পার্থক্য কী? 

✅ উত্তর: 

* পরিশ্রাবণ: এই পদ্ধতিতে ফিল্টার কাগজের সাহায্যে কোনো তরলে মিশে থাকা অদ্রাব্য কঠিন কণাকে (যেমন- জলে বালি) আলাদা করা হয়। 

* পাতন: এই পদ্ধতিতে কোনো তরলে দ্রবীভূত কঠিন পদার্থকে (যেমন- ননু জল) উত্তপ্ত করে বাষ্পীভূত করা হয় এবং পরে সেই বাষ্পকে ঘনীভূত করে বিশুদ্ধ তরল ও কঠিন পদার্থকে পৃথক করা হয়। 

  

৮.  প্রশ্ন: দ্রাব্যতা বলতে কী বোঝো? উষ্ণতা বাড়লে চিনির দ্রাব্যতার কী পরিবর্তন হয়? 

✅ উত্তর: নির্দিষ্ট উষ্ণতায় ১০০ গ্রাম দ্রাবকে (যেমন- জল) কোনো দ্রাব (যেমন- চিনি) সর্বোচ্চ যত গ্রাম দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ তৈরি করতে পারে, সেই গ্রাম সংখ্যাকে ওই উষ্ণতায় ওই দ্রাবের দ্রাব্যতা বলে। 

সাধারণত উষ্ণতা বাড়লে তরলে কঠিন পদার্থের দ্রাব্যতা বদ্ধিৃ পায়। তাই উষ্ণতা বাড়লে জলে চিনির দ্রাব্যতাও বাড়বে। 

৯.  প্রশ্ন: ভৌত পরিবর্তন ও রাসায়নিক পরিবর্তনের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। 

✅ উত্তর: 

* ভৌত পরিবর্তনে নতুন কোনো পদার্থের সৃষ্টি হয় না, কিন্তু রাসায়নিক পরিবর্তনে সম্পূর্ণ নতুন ধর্মবিশিষ্ট পদার্থের সৃষ্টি হয়। 

* ভৌত পরিবর্তন সাধারণত উভমুখী ও অস্থায়ী, কিন্তু রাসায়নিক পরিবর্তন সাধারণত একমুখী ও স্থায়ী। 

* ভৌত পরিবর্তনে পদার্থের অণু গঠনের কোনো পরিবর্তন হয় না, কিন্তু রাসায়নিক পরিবর্তনে অনুর গঠন বদলে যায়। 

১০.  প্রশ্ন: ক্লোরিন ও হাইড্রোজেন সালফাইড (H2S) গ্যাসকে তাদের গন্ধ ও বর্ণের সাহায্যে কীভাবে শনাক্ত করবে? 

✅ উত্তর: 

* ক্লোরিন: এই গ্যাসটি হালকা হলুদ-সবুজ রঙের হয় এবং এর গন্ধ অত্যন্ত ঝাঁঝালো ও দমবন্ধকর। 

* হাইড্রোজেন সালফাইড (H_2S): এই গ্যাসটি বর্ণহীন , কিন্তু এর গন্ধ পচা ডিমের মতো। এই বিশিষ্ট গন্ধের সাহায্যেই একে সহজে চেনা যায়।

 

   ©kamaleshforeducation.in(2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top