অষ্টম শ্রেণী (Class 8)   ‘পরিবেশ ও বিজ্ঞান’ 

 অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর 

১১. আমাদের চারপাশের পরিবেশ ও উদ্ভিদজগৎ

(২৮০-২৯৩) পৃষ্ঠা অংশ থেকে  গুরুত্বপূর্ণ  প্রশ্ন ও উত্তর 

(অতিসংক্ষিপ্ত/নৈর্ব্যক্তিক/সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর)

১.  প্রশ্ন: বাঁশ গাছ ঘাস জাতীয় উদ্ভিদ হওয়া সত্ত্বেও কেন একে ‘সবজু সোনা’ বলা হয়? উত্তর: বহুমুখী ব্যবহার এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য বাঁশকে ‘সবুজ সোনা’ বলা হয়।

২.  প্রশ্ন: শাল গাছের আঠা থেকে কী তৈরি করা হয়? 

উত্তর: ধুনো তৈরি করা হয়। 

৩.  প্রশ্ন: পিয়াসাল বা শাল গাছের কাঠ কেন আসবাবপত্র তৈরিতে বেশি ব্যবহৃত হয়? উত্তর: এই কাঠ অত্যন্ত শক্ত, মজবতু এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। 

৪.  প্রশ্ন: কুইনাইন কোন গাছ থেকে পাওয়া যায়? 

উত্তর: সিনকোনা গাছের বাকল থেকে। 

৫.  প্রশ্ন: দাঁতের যন্ত্রণায় কোন গাছের তেল আরাম দেয়? 

উত্তর: লবঙ্গ তেল। 

৬.  প্রশ্ন: সর্পগন্ধা গাছের মলূ কোন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়? 

উত্তর: উচ্চ রক্তচাপ কমাতে ব্যবহৃত হয়। 

৭. প্রশ্ন: সর্দি-কাশিতে কোন পাতার রস খুব উপকারী? 

উত্তর: তুলসী পাতার রস। 

৮.  প্রশ্ন: অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী উদ্ভিদের জেলি মতো অংশটি কী কাজে লাগে? 

উত্তর: চামড়ার যত্ন নিতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ব্যবহৃত হয়। 

৯.  প্রশ্ন: আমলকীতে কোন ভিটামিন প্রচুর পরিমাণে থাকে? 

উত্তর: ভিটামিন C 

১০.  প্রশ্ন: পেটের রোগে কোন ফলের রস বা শরবত উপকারী? 

উত্তর: বেল। 

১১.  প্রশ্ন: রসুনের মধ্যে থাকা কোন উপাদানটি জীবাণুনাশক  হিসেবে কাজ করে? 

উত্তর: অ্যালিসিন। 

১২.  প্রশ্ন: গোলমরিচের ঝাল স্বাদের জন্য দায়ী কোন উপাদান? 

উত্তর: পাইপারিন (Piperine)। 

১৩.  প্রশ্ন: হলদেু র মধ্যে থাকা কোন উপাদানটি ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে? 

উত্তর: কারকিউমিন। 

১৪.  প্রশ্ন: ক্ষতস্থানে বা জীবাণুনাশক হিসেবে কোন গাছের পাতা বা তেল ব্যবহার করা হয়?

উত্তর: নিম। 

১৫.  প্রশ্ন: সুন্দরী গাছ কোন ধরণের বনাঞ্চলে দেখা যায়? 

উত্তর: সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে। 

১৬.  প্রশ্ন: সুন্দরী গাছের কাঠ দিয়ে কী তৈরি করা হয়? 

উত্তর: নৌকা ও শক্ত খুটি। 

১৭.  প্রশ্ন: নারিকেল তেলের প্রধান উৎস কী? 

উত্তর: নারিকেলের শাঁস বা কোপরা। 

১৮.  প্রশ্ন: মশা তাড়াতে কোন গাছের তেল বা ধোঁয়া ব্যবহার করা হয়? 

উত্তর: ইউক্যালিপটাস বা সিট্রোনেলা তেল। 

১৯.  প্রশ্ন: ব্রাক্ষ্মী শাক কোন ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে? 

উত্তর: স্মৃতিশক্তি বাড়াতে। 

২০.  প্রশ্ন: হিং (Asafoetida) আসলে গাছের কোন অংশ? 

উত্তর: গাছের মূল বা কাণ্ডের জমাটবদ্ধ আঠালো রস বা নিঃসরণ। 

২১.  প্রশ্ন: রিঠা ফল কী কাজে ব্যবহার করা হয়? 

উত্তর: সাবান বা শ্যাম্পুর বিকল্প হিসেবে চুল ও কাপড় পরিষ্কার করতে। 

২২.  প্রশ্ন: ঘৃতকুমারীর নির্যাসে উপস্থিত একটি খনিজ উপাদানের নাম লেখো। 

উত্তর: ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম। 

২৩.  প্রশ্ন: দারুচিনি আসলে গাছের কোন অংশ? 

উত্তর: গাছের কাণ্ডের অন্তর্বর্তী ছাল বা বাকল। 

২৪. প্রশ্ন: খসখস (Khus) নামক ঘাসের মূল কী তৈরিতে ব্যবহৃত হয়? 

উত্তর: ঘর ঠান্ডা রাখার পর্দা বা পাখা তৈরিতে। 

২৫.  প্রশ্ন: চন্দন কাঠ থেকে কী নির্যাস পাওয়া যায়? 

উত্তর: চন্দন তেল (সুগন্ধি ও প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত)। 

(রচনামূলক / বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর) 

 

১.  প্রশ্ন: বাঁশ গাছের অর্থনৈতিক গুরুত্ব আলোচনা করো। 

উত্তর: বাঁশকে ‘সবজু সোনা’ বলা হয় কারণ এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম: 

* নির্মাণ কাজ: ঘরবাড়ি, মাচা, বেড়া এবং সেতুতৈরিতে বাঁশ ব্যবহৃত হয়।77

* শিল্প: উন্নত মানের কাগজ তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো বাঁশের মণ্ড। 

* দৈনন্দিন ব্যবহার: ঝুড়ি, কুলা, মই, পাখা এবং ঘর সাজানোর বিভিন্ন শৌখিন দ্রব্য তৈরিতে বাঁশ লাগে।

* খাদ্য: কচি বাঁশের ডগা বা ‘বাঁশ কোড়ল’ অনেক অঞ্চলে পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

২. প্রশ্ন: হলুদের ভেষজ গুণাবলি এবং ব্যবহার সম্পর্কে লেখো। 

উত্তর: হলুদের বহুমুুুুুুুুুুুখী  ব্যবহার নিচে আলোচনা করা হলো: 

* প্রদাহরোধী: হলুদে থাকা ‘কারকিউমিন’ শরীরের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ক্ষত সারাতে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। 

* জীবাণুনাশক  : এটি শক্তিশালী অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে। ত্বকের সংক্রমণ এবং ব্রণ দূর করতে হলুদ ব্যবহৃত হয়। 

* ক্যানসার প্রতিরোধ: গবেষণায় দেখা গেছে হলুদ ক্যানসার কোষের বদ্ধি তে বাধা দেয়। 

* খাদ্য: মশলা হিসেবে এবং খাবারের বর্ণ উজ্জ্বল করতে হলুদ অপরিহার্য। 

৩. প্রশ্ন: শাল গাছের বৈশিষ্ট্য ও উপযোগিতা বর্ণনা করো। 

উত্তর: শাল একটি দীর্ঘজীবী ও পর্ণমোচী উদ্ভিদ। 

* কাঠ: এর কাঠ অত্যন্ত শক্ত ও ভারী হয়, তাই রেললাইনের স্লিপার, নৌকার খোল এবং বাড়ির দরজা-জানালা তৈরিতে এটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। 

* ধুনো: শাল গাছের আঠা থেকে ধুনো তৈরি হয়, যা ধর্মীয় কাজে এবং সুগন্ধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

* পাতার ব্যবহার: শাল পাতা দিয়ে থালা ও বাটি তৈরি করা হয়, যা পরিবেশবান্ধব। 

৪.  প্রশ্ন: ওষধি উদ্ভিদ হিসেবে নিম ও তুলসীর গুরুত্ব আলোচনা করো। 

উত্তর: * নিম: নিমের পাতা, ছাল ও ফল সবকিছুই ওষধি গুণে ভরপুর। এটি চর্মরোগ সারায়, রক্ত পরিষ্কার করে এবং প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দাঁত মাজতে নিমের ডাল ব্যবহার করলে মাড়ি মজবুত হয়। 

* তুলসী: সর্দি-কাশি ও কফ দরূ করতে তুলসী পাতার রস অত্যন্ত কার্যকরী। তুলসী পাতা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং বায়ুপরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। 

৫.  প্রশ্ন: সুন্দরী ও গরান গাছের অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী? 

উত্তর: সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের এই উদ্ভিদদের বিশেষ কিছুবৈশিষ্ট্য দেখা যায়: 

* শ্বাসমূল(Pneumatophores): কাদা মাটিতে অক্সিজেনের অভাব থাকায় এদের শিকড় মাটির উপরে উঠে আসে বাতাস থেকে অক্সিজেন নেওয়ার জন্য। 

* ঠেশমলূ: জোয়ার-ভাটায় মাটির সাথে শক্তভাবে আটকে থাকার জন্য কাণ্ডের নিচ থেকে বিশেষ মলূ বের হয়। 

* লবণ সহনশীলতা: এদের পাতায় লবণ নিঃসরণকারী গ্রন্থি থাকে যা অতিরিক্ত ননু বের করে দেয়।

৬.  প্রশ্ন: অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর উপকারিতাগুলি কী কী?

উত্তর: * ত্বকের যত্ন: রোদে পোড়া দাগ (Sunburn) এবং ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে ঘৃতকুমারীর জেল খুবই কার্যকর। 

* হজমে সাহায্য: এর রস কোষ্ঠকাঠিন্য দরূ করতে এবং হজম ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

* পুষ্টিগুণ: এতে ভিটামিন A, C, E এবং বিভিন্ন খনিজ পদার্থ থাকে যা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

৭. প্রশ্ন: মশলা হিসেবে গোলমরিচ ও রসুনের গুরুত্ব উল্লেখ করো। 

উত্তর: * গোলমরিচ: একে ‘মশলার রাজা’ বলা হয়। এটি হজম ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের মেদ কমাতে সাহায্য করে। এর ‘পাইপারিন’ উপাদানটি সর্দি-কাশি সারাতে উপযোগী। 

* রসুন: রসুনের ‘অ্যালিসিন’ রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। এটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। 

৮.  প্রশ্ন: নারিকেল গাছকে কেন ‘জীবনদায়ী বক্ষৃ ‘ বলা যায়? 

উত্তর: নারিকেল গাছের প্রতিটি অংশই মানষেু র কাজে লাগে: 

* এর ফল (ডাব ও নারিকেল) পুষ্টিকর পানীয় ও খাদ্যের উৎস। 

* নারিকেলের ছিবড়া দিয়ে দড়ি, কার্পেট ও ব্রাশ তৈরি হয়। 

* পাতা দিয়ে ঘর ছাওয়া এবং ঝাড়ুতৈরি করা হয়। 

* এর কাণ্ড ঘর তৈরির খুটিঁ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

৯.  প্রশ্ন: সর্পগন্ধা ও কুইনাইন কেন বিখ্যাত? 

উত্তর: * সর্পগন্ধা: এর মূল থেকে ‘রেসারপিন’ নামক উপক্ষার পাওয়া যায়, যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে এবং অনিদ্রা দূর করতে ব্যবহৃত হয়। প্রাচীনকাল থেকে সাপে কামড়ানোর চিকিৎসাতেও এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। 

* কুইনাইন: এটি সিনকোনা গাছের ছাল থেকে পাওয়া যায়, যা ম্যালেরিয়া রোগের অব্যর্থ ঔষধ।

১০.  প্রশ্ন: আমলকী ও বেল কেন আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি? 

উত্তর: * আমলকী: এটি ভিটামিন C-এর শ্রেষ্ঠ উৎস। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, লিভারের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং অকাল পক্বতা রোধ করে। 

* বেল: বেল পেটের নানা সমস্যা যেমন ডায়রিয়া ও আমাশয় সারাতে অদ্বিতীয়। বেলের শরবত গ্রীষ্মকালে শরীর ঠান্ডা রাখতে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।

   ©kamaleshforeducation.in(2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top