অষ্টম শ্রেণী (Class 8)   ‘পরিবেশ ও বিজ্ঞান’ 

 অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর 

(৯) ‘অন্তঃক্ষরা তন্ত্র ও বয়ঃসন্ধি’

(২২৮-২৪২ পৃষ্ঠা) থেকে  গুরুত্বপূর্ণ  প্রশ্ন ও উত্তর 

(অতিসংক্ষিপ্ত/নৈর্ব্যক্তিক/সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর)

 

 ১.  প্রশ্ন: মানুষের শরীরের ‘মাস্টার গ্ল্যান্ড’ বা ‘প্রভুগ্রন্থি’ কোনটিকে বলা হয়? 

উত্তর: পিটুইটারি গ্রন্থিকে। 

২.  প্রশ্ন: হরমোন কথাটির অর্থ কী? 

উত্তর: হরমোন কথাটির অর্থ হলো ‘জাগ্রত করা’ বা ‘উদ্দীপিত করা’। 

৩.  প্রশ্ন: অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রসকে কী বলা হয়? 

উত্তর: হরমোন। 

৪. ️ প্রশ্ন: থাইরক্সিন হরমোন কোন গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত হয়? 

উত্তর: থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে। 

৫.  প্রশ্ন: কোনো কারণে ভয় পেলে বা উত্তেজিত হলে কোন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়? উত্তর: অ্যাড্রেনালিন হরমোন। 

৬.  প্রশ্ন: ইনসুলিন হরমোনের অভাবে কোন রোগ হয়? 

উত্তর: ডায়াবেটিস মেলিটাস বা মধুমেহ। 

৭.  প্রশ্ন: শিশুদের বদ্ধি ব্যাহত হলে বা বামনত্ব দেখা দিলে কোন হরমোনের অভাব দায়ী?

উত্তর: গ্রোথ হরমোন (GH) বা সোমাটোট্রপিক হরমোন (STH)। 

৮.  প্রশ্ন: বয়ঃসন্ধি বা অ্যাডোলেসেন্স সাধারণত কোন বয়সকালকে বলা হয়? 

উত্তর: ১০ থেকে ১৯ বছর বয়স পর্যন্ত। 

৯.  প্রশ্ন: পুরুষদের গৌণ যৌন লক্ষণ প্রকাশের জন্য দায়ী হরমোন কোনটি? 

উত্তর: টেস্টোস্টেরন। 

১০.  প্রশ্ন: স্ত্রীদেহে ইস্ট্রোজেন হরমোন কোথা থেকে ক্ষরিত হয়? 

উত্তর: ডিম্বাশয় থেকে। 

১১.  প্রশ্ন: আপৎকালীন বা জরুরি হরমোন কাকে বলা হয়? 

উত্তর: অ্যাড্রেনালিন হরমোনকে।

১২. প্রশ্ন: খাদ্যে আয়োডিনের অভাব ঘটলে কোন গ্রন্থি আকারে বড় হয়ে যায়? 

উত্তর: থাইরয়েড গ্রন্থি (একে গলগণ্ড বা গয়টার রোগ বলে)। 

১৩.  প্রশ্ন: মিশ্র গ্রন্থি কাকে বলে? 

উত্তর: যেসব গ্রন্থি সক্ষরা (এনজাইম) এবং অন্তঃক্ষরা (হরমোন) উভয় প্রকার কাজ করে, তাদের মিশ্র গ্রন্থি বলে (যেমন— অগ্ন্যাশয়)। 

১৪.  প্রশ্ন: ইনসুলিন হরমোন অগ্ন্যাশয়ের কোন কোষ থেকে নিঃসৃত হয়? 

উত্তর: আইলেটস অফ ল্যাঙ্গারহ্যান্স-এর বিটা (\beta) কোষ থেকে। 

১৫.  প্রশ্ন: হরমোনকে ‘রাসায়নিক বার্তাবহ’ বলা হয় কেন? 

উত্তর: কারণ এটি কোষে কোষে রাসায়নিক সংকেত বা বার্তা বহন করে নিয়ে যায়। 

১৬. ️ প্রশ্ন: বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেদের গলা স্বর মোটা হয়ে যায় কেন? 

উত্তর: স্বরযন্ত্র বা ল্যারিংস-এর বৃদ্ধি র কারণে (একে অ্যাডামস অ্যাপেল বলে)। 

১৭.  প্রশ্ন: বেশি ঘাম হওয়া বা ঘামের দর্গুন্ধর্গ হওয়ার জন্য কোন গ্রন্থি দায়ী? 

উত্তর: ঘর্মগ্রন্থি ও তৈলগ্রন্থি। 

১৮.  প্রশ্ন: হাইপোথ্যালামাস-কে কী বলা হয়? 

উত্তর: ‘সর্বোচ্চ প্রভুগ্রন্থি’ (Supreme Commander), কারণ এটি পিটুইটারিকে নিয়ন্ত্রণ করে। ১৯.  প্রশ্ন: অগ্ন্যাশয় থেকে ক্ষরিত একটি হরমোনের নাম লেখো। 

উত্তর: ইনসুলিন (বা গ্লুকাগন)। 

২০.  প্রশ্ন: প্রজেস্টেরন হরমোনের প্রধান কাজ কী? 

উত্তর: মহিলাদের গর্ভাবস্থা বজায় রাখতে সাহায্য করা। 

২১.  প্রশ্ন: ক্যালসিয়ামের বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে কোন গ্রন্থি? 

উত্তর: প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি। 

২২.  প্রশ্ন: রক্তে শর্করার পরিমাণ কমিয়ে দেয় কোন হরমোন? 

উত্তর: ইনসুলিন। 

২৩.  প্রশ্ন: রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় কোন হরমোন? 

উত্তর: গ্লুকাগন। 

২৪.  প্রশ্ন: বয়ঃসন্ধিকালে মখেু ব্রন হওয়ার কারণ কী? 

উত্তর: সিবাম বা তৈল নিঃসরণ বেড়ে যাওয়া এবং ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। 

২৫.  প্রশ্ন: দেহের বিপাকীয় হার (BMR) নিয়ন্ত্রণ করে কোন হরমোন? 

উত্তর: থাইরক্সিন। 

(রচনামূলক / বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর)

 

১.  প্রশ্ন: পিটুইটারি গ্রন্থিকে ‘প্রভুগ্রন্থি’ বলা হয় কেন? এর থেকে নিঃসৃত দটিু হরমোনের নাম লেখো। 

উত্তর: পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনগুলি দেহের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির (যেমন— থাইরয়েড, অ্যাড্রেনাল, জনন গ্রন্থি) ক্ষরণ ও কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। তাই একে ‘প্রভুগ্রন্থি’ বা ‘মাস্টার গ্ল্যান্ড’ বলা হয়। 

দুটি হরমোন: * সোমাটোট্রপিক হরমোন (STH) বা গ্রোথ হরমোন। 

* থাইরয়েড স্টিমলেু টিং হরমোন (TSH)। 

২. �� প্রশ্ন: হরমোনের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো। 

উত্তর: হরমোনের তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো: 

* রাসায়নিক প্রকৃতি: হরমোন প্রোটিন, স্টেরয়েড বা অ্যামাইনো অ্যাসিড ধর্মী হতে পারে। 

* পরিবহন পদ্ধতি: হরমোন কোনো নালী দিয়ে নয়, সরাসরি রক্ত বা লসিকার মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। 

* ক্রিয়ার স্থায়িত্ব: হরমোনের কাজ ধীরগতিতে সম্পন্ন হয় কিন্তু এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী। কাজের শেষে হরমোন ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। 

৩.  প্রশ্ন: অ্যাড্রেনালিন হরমোনকে ‘আপৎকালীন হরমোন’ বলা হয় কেন? 

উত্তর: রাগ, ভয়, আনন্দ বা উত্তেজনার মতো জরুরি অবস্থায় এই হরমোন দ্রুত ক্ষরিত হয়ে শরীরকে পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত করে। এটি হৃদস্পন্দনের হার বাড়ায়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং পেশিকে সক্রিয় করে। এই বিশেষ ভূমিকার জন্যই একে আপৎকালীন বা জরুরি হরমোন বলে। 

৪.  প্রশ্ন: বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেদের শরীরে কী কী শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়? 

উত্তর: বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেদের মধ্যে প্রধানত নিচের পরিবর্তনগুলো দেখা যায়: 

* উচ্চতা ও ওজন দ্রুত বৃদ্ধি পায়। 

* কাঁধ চওড়া হয় এবং পেশিবহুল শরীরের গঠন তৈরি হয়। 

* গলার স্বর মোটা হয়ে যায় এবং মখেু দাড়ি-গোঁফ গজাতে শুরু করে। 

* তৈলগ্রন্থি সক্রিয় হওয়ার কারণে মখেু ব্রন দেখা দিতে পারে। 

৫.  প্রশ্ন: মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকালের তিনটি প্রধান পরিবর্তন উল্লেখ করো। 

উত্তর: মেয়েদের ক্ষেত্রে প্রধান পরিবর্তনগুলি হলো: 

* হাড়ের গঠন ও চর্বি সঞ্চয়ের ফলে শরীরের নির্দিষ্ট পরিবর্তন ঘটে। 

* স্তন গ্রন্থির বিকাশ ঘটে। 

* ঋতুচক্র বা মাসিক চক্র শুরু হয়। 

* ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোনের প্রভাবে মানসিক পরিবর্তন ও সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।

৬.  প্রশ্ন: ইনসুলিন হরমোন রক্তে শর্করার মাত্রা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করে? 

উত্তর: ইনসুলিন রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। এটি কোষের গ্লুকোজ গ্রহণ করার ক্ষমতা বাড়ায় এবং যকৃতে গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চয় করতে উদ্দীপিত করে। ইনসুলিনের অভাব হলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে গিয়ে ‘মধুমেহ’ বা ডায়াবেটিস রোগ সৃষ্টি হয়। 

৭.  প্রশ্ন: অন্তঃক্ষরা ও বহিঃক্ষরা গ্রন্থির মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। 

উত্তর: * নালী: অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির কোনো নালী থাকে না (অনাল), কিন্তু বহিঃক্ষরা গ্রন্থির নালী থাকে (সনাল)। 

* ক্ষরিত পদার্থ: অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে হরমোন ক্ষরিত হয়, আর বহিঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে এনজাইম বা পাচক রস (যেমন— লালা, ঘাম) ক্ষরিত হয়। 

* লক্ষ্যস্থল: হরমোন রক্তে মিশে দূরবর্তী অঙ্গে কাজ করে, কিন্তু বহিঃক্ষরা গ্রন্থির রস উৎপত্তিস্থলের কাছেই কাজ করে। 

৮. প্রশ্ন: থাইরক্সিন হরমোনের কাজ কী? এর অভাবে কী কী সমস্যা হতে পারে? 

উত্তর: থাইরক্সিন দেহের বিপাকীয় হার (BMR) নিয়ন্ত্রণ করে এবং শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি তে সাহায্য করে। 

অভাবজনিত সমস্যা: * শিশুদের ক্ষেত্রে মানসিক বদ্ধিৃ ব্যাহত হওয়া (ক্রেটিনিজম)। 

* বড়দের ক্ষেত্রে থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যাওয়া (গলগণ্ড বা গয়টার)। 

* ক্লান্তি অনুভব করা এবং ওজন অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া। 

৯.  প্রশ্ন: বয়ঃসন্ধিকালে মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন কেন? 

উত্তর: বয়ঃসন্ধিকালে হরমোনের প্রভাবে কিশোর-কিশোরীদের মনে অনেক পরিবর্তন আসে। এই সময় তারা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে, কখনো দুশ্চিন্তা বা কৌতূহল কাজ করে। সঠিক মানসিক পরিচর্যা না থাকলে তারা ভুল পথে পরিচালিত হতে পারে। তাই এই সময়ে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, খেলাধুলা করা এবং বড়দের সাথে মনের কথা ভাগ করে নেওয়া জরুরি। 

১০.  প্রশ্ন: অগ্ন্যাশয়কে ‘মিশ্র গ্রন্থি’ বলা হয় কেন? 

উত্তর: অগ্ন্যাশয় একই সাথে বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা— এই দুই ধরণের গ্রন্থির কাজই পালন করে। এর বহিঃক্ষরা অংশ থেকে পাচক এনজাইম (যেমন— ট্রিপসিন) নিঃসৃত হয় যা পরিপাকে সাহায্য করে। আবার এর অন্তঃক্ষরা অংশ (আইলেটস অফ ল্যাঙ্গারহ্যান্স) থেকে ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন সরাসরি রক্তে মিশে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। তাই একে মিশ্র গ্রন্থি বলে। 

   ©kamaleshforeducation.in(2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top