

অষ্টম শ্রেণী (Class 8) ‘পরিবেশ ও বিজ্ঞান’
অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর
(৮) ‘মানুষের খাদ্য ও খাদ্য উৎপাদন’ অধ্যায়
(২০২-২২৭ পৃষ্ঠা) থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
(অতিসংক্ষিপ্ত/নৈর্ব্যক্তিক/সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর)
১. প্রশ্ন: খারিফ ফসল কোন ঋতুতে চাষ করা হয়?
উত্তর: বর্ষাকালে (জুন-জুলাই মাসে চাষ শুরু হয়)।
২. প্রশ্ন: রবি ফসলের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: গম, সরষে বা মটর।
৩. প্রশ্ন: বীজ বপনের আগে জমি তৈরি করার প্রধান ধাপটি কী?
উত্তর: লাঙল দিয়ে মাটি চষানো বা কর্ষণ করা।
৪. প্রশ্ন: সিড ড্রিল (Seed Drill) যন্ত্রের কাজ কী?61
উত্তর: সঠিক দূরত্বে এবং সঠিক গভীরতায় বীজ বপন করা।
৫. প্রশ্ন: এনপিকে (NPK) সারের পুরো নাম কী?
উত্তর: নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P) ও পটাশিয়াম (K)।
৬. প্রশ্ন: ড্রিপ সেচ পদ্ধতি কী?
উত্তর: এই পদ্ধতিতে গাছের গোড়ায় ফোঁটায় ফোঁটায় জল সেচন করা হয়, এতে জলের অপচয় কম হয়।
৭. প্রশ্ন: আগাছা কাকে বলে?
উত্তর: ফসলের জমিতে মূল চাষের উদ্ভিদের সাথে যেসব অনভিপ্রেত উদ্ভিদ জন্মায়, তাদের আগাছা বলে।
৮. প্রশ্ন: একটি আগাছানাশকের নাম লেখো।
উত্তর: 2,4-D (টু, ফোর-ডি)।
৯. প্রশ্ন: পেস্ট (Pest) কাকে বলে?
উত্তর: যেসব জীব ফসলের ক্ষতি করে বা রোগ ছড়ায়, তাদের পেস্ট বলে (যেমন— ইঁদরু, পঙ্গপাল)।
১০. প্রশ্ন: উদ্যানপালন বিজ্ঞান বা হর্টিকালচার (Horticulture) কী?
উত্তর: ফল, ফুল ও শাকসবজি চাষের বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিকে উদ্যানপালন বিজ্ঞান বলে।
১১. প্রশ্ন: ধানের একটি উচ্চফলনশীল জাতের নাম লেখো।
উত্তর: জয়া, রত্না বা আই আর-৮ (IR-8)।
১২. প্রশ্ন: চায়ের কোন উপাদান আমাদের শরীরে উদ্দীপনা জোগায়?
উত্তর: ক্যাফাইন।
১৩. প্রশ্ন: এপিকালচার (Apiculture) কাকে বলে?
উত্তর: মৌমাছি পালন ও মধুসংগ্রহের বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিকে এপিকালচার বলে।
১৪. প্রশ্ন: পিসিকালচার (Pisciculture) কী?
উত্তর: মাছ চাষের বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিকে পিসিকালচার বলে।
১৫. প্রশ্ন: পোল্ট্রি পাখি পালনের প্রধান উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: মাংস এবং ডিম উৎপাদন করা।
১৬. প্রশ্ন: দুগ্ধবতী একটি ভারতীয় গরুর জাতের নাম লেখো।
উত্তর: গির বা সাহিওয়াল।
১৭. প্রশ্ন: তন্তুজাত ফসলের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: তুলা বা পাট।
১৮. প্রশ্ন: কার্প জাতীয় মাছের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: রুই, কাতলা বা মৃগে ল।
১৯. প্রশ্ন: লেগুমিনাস বা শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের মলেূ কোন ব্যাকটেরিয়া থাকে?
উত্তর: রাইজোবিয়াম (Rhizobium)।
২০. প্রশ্ন: কৃত্রিম প্রজনন বা ইনডিউসড ব্রিডিং (Induced Breeding) কী?
উত্তর: পিটুইটারি গ্রন্থির নির্যাস মাছের শরীরে ইনজেক্ট করে মাছের ডিম পাড়ানো।
২১. প্রশ্ন: সাদা বিপ্লব বা হোয়াইট রেভোলিউশন (White Revolution) কীসের সাথে যুক্ত? উত্তর: দুুধে র উৎপাদন বৃদ্ধি র সাথে।
২২. প্রশ্ন: শস্য হিমঘরে রাখা হয় কেন?
উত্তর: অণুজীব ও ইঁদুরের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং পচন রোধ করতে।
২৩. প্রশ্ন: থ্রেশিং (Threshing) বলতে কী বোঝো?
উত্তর: শস্য গাছ থেকে দানা আলাদা করার পদ্ধতিকে থ্রেশিং বলে।
২৪. প্রশ্ন: আমে কোন ভিটামিন প্রচুর পরিমাণে থাকে?
উত্তর: ভিটামিন A এবং ভিটামিন C
২৫. প্রশ্ন: জৈব সার রাসায়নিক সারের চেয়ে ভালো কেন?
উত্তর: জৈব সার মাটির জলধারণ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মাটির গঠন উন্নত করে।
(রচনামূলক / বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর)
১. প্রশ্ন: জৈব সার ও রাসায়নিক সারের মধ্যে পার্থক্যগুলি কী কী?
উত্তর: জৈব সার ও রাসায়নিক সারের প্রধান পার্থক্যগুলি হলো:
* উৎস: জৈব সার উদ্ভিদ ও প্রাণীর বর্জ্য পচিয়ে তৈরি হয়, আর রাসায়নিক সার কারখানায় অজৈব লবণ থেকে তৈরি হয়।
* মাটির গঠন: জৈব সার মাটির গঠন ও জলধারণ ক্ষমতা উন্নত করে, কিন্তু দীর্ঘকাল রাসায়নিক সার ব্যবহারে মাটির উর্বরতা কমে যেতে পারে।
* উপাদান: জৈব সারে নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদান কম থাকে, কিন্তু রাসায়নিক সারে নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়ামের মতো নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদান প্রচুর পরিমাণে থাকে।
২. প্রশ্ন: ফসল চাষে জলসেচ কেন প্রয়োজন? জলসেচের দটিু আধুনিক পদ্ধতির নাম লেখো।
উত্তর: ফসলের বদ্ধিৃ ও পুষ্টির জন্য জল অপরিহার্য। মাটির তলায় থাকা খনিজ পদার্থ জলে দ্রবীভূত হয়ে গাছের বিভিন্ন অংশে পৌঁছায় এবং বীজের অঙ্কুরোদগমে সাহায্য করে।
আধুনিক পদ্ধতি:
* স্প্রিঙ্কলার পদ্ধতি (Sprinkler System): যেখানে বষ্টিৃ র মতো জল ছিটানো হয়।
* ড্রিপ পদ্ধতি (Drip System): যেখানে সরাসরি গাছের গোড়ায় ফোঁটায় ফোঁটায় জল দেওয়া হয়।
৩. প্রশ্ন: শস্য আবর্তন বা শস্য পর্যায় (Crop Rotation) কাকে বলে? এর সুবিধা কী?
উত্তর: একই জমিতে বছরের পর বছর একই ফসল চাষ না করে পর্যায়ক্রমে ভিন্ন ভিন্ন ফসল (যেমন— ধানের পর ডাল জাতীয় শস্য) চাষ করাকে শস্য আবর্তন বলে।
সুবিধা: ডাল জাতীয় উদ্ভিদের মলেূ থাকা রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া মাটিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বাড়ায়, ফলে মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা বজায় থাকে এবং রাসায়নিক সারের প্রয়োজন কম হয়।
৪. প্রশ্ন: চা পানের উপকারিতা এবং চা গাছ থেকে চা পাতা তৈরির পদ্ধতিটি সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: চা পানের ফলে শরীরে উদ্দীপনা আসে এবং ক্লান্তি দূর হয়। চায়ের পলিফেনল শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
পদ্ধতি: প্রথমে দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ি তোলা হয়। এরপর সেগুলোকে শুকিয়ে, চূর্ণ করে (Roll) এবং নির্দিষ্ট তাপে ফার্মেন্টেশন বা সন্ধান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কালো চায়ের দানা তৈরি করা হয়।
৫. প্রশ্ন: মেজর কার্প ও মাইনর কার্পের মধ্যে পার্থক্য কী? উদাহরণ দাও।
উত্তর: * মেজর কার্প: এরা আকারে বড় হয়, খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং সাধারণত বদ্ধ জলে ডিম পাড়ে না। উদাহরণ: রুই, কাতলা, মগেৃল।
* মাইনর কার্প: এরা আকারে ছোট হয়, বৃদ্ধি পাওয়ার হারও কম এবং বদ্ধ জলেই ডিম পাড়ে। উদাহরণ: বাটা, পুঁটি।
৬. প্রশ্ন: একটি মৌচাকে কত ধরণের মৌমাছি থাকে এবং তাদের কাজ কী কী?
উত্তর: একটি মৌচাকে তিন ধরণের মৌমাছি থাকে:
* রানি মৌমাছি: এদের প্রধান কাজ হলো ডিম পাড়া।
* পুরুষ মৌমাছি: এদের কাজ হলো রানির সাথে প্রজননে অংশ নেওয়া।
* শ্রমিক মৌমাছি: এরা সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি। এদের কাজ হলো মৌচাক বানানো, মধুসংগ্রহ করা এবং লার্ভাদের দেখাশোনা করা।
৭. প্রশ্ন: পোল্ট্রি পাখিদের কি ধরণের খাবার দেওয়া হয়? ‘ম্যাস’ (Mash) কী?
উত্তর: পোল্ট্রি পাখিদের শর্করা, প্রোটিন, ফ্যাট ও ভিটামিন সমদ্ধৃ সুষম খাবার দেওয়া হয় (যেমন— ভুট্টা, গম, চালের গুঁড়ো ও মাছের গুঁড়ো)।
ম্যাস: পোল্ট্রি পাখিদের খাবারের শুকনো বা ভিজে গুঁড়ো মিশ্রণকে ‘ম্যাস’ বলা হয়। এটি খুব ছোট বা বড় দানা হতে পারে।
৮. প্রশ্ন: আগাছা দমনের বিভিন্ন পদ্ধতিগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: আগাছা মলতূ তিনটি পদ্ধতিতে দমন করা যায়:
* যান্ত্রিক পদ্ধতি: হাত দিয়ে উপড়ে ফেলা বা নিড়ানি দিয়ে মাটি আলগা করে আগাছা পরিষ্কার করা। * রাসায়নিক পদ্ধতি: জমিতে আগাছানাশক বা উইডিসাইড (যেমন— 2,4-D) স্প্রে করা।
* জৈবিক পদ্ধতি: এমন কোনো পতঙ্গ বা জীব ব্যবহার করা যারা শুধুআগাছাকেই খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
৯. প্রশ্ন: দুগ্ধবতী গোরুদের বাসস্থানের বৈশিষ্ট্যগুলি কেমন হওয়া উচিত?
উত্তর: গোরুর বাসস্থান বা গোশালা হতে হবে:
* পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস চলাচল যুক্ত।
* মেঝের অংশটি ঢালুহতে হবে যাতে মলমত্রূ ও জল সহজে বেরিয়ে যায়।
* নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণমুক্ত করতে হবে যাতে গোরুরা রোগাক্রান্ত না হয়।
১০. প্রশ্ন: উদ্যানপালন ফসলের (Horticultural Crops) শ্রেণীবিভাগ করো।
উত্তর: উদ্যানপালন ফসলকে প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়:
* ফল: যেমন— আম, আপেল, কলা।
* শাকসবজি: যেমন— টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি।
* ফুল: যেমন— গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা।
* সুগন্ধি ও ঔষধি গাছ: যেমন— তুলসী, ধনে বা পুদিনা।
©kamaleshforeducation.in(2023)




