উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি -চতুর্থ সেমিস্টার

 

প্রদত্ত অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে প্রবন্ধ রচনা লেখার নিয়ম

 

কোনো একটি বিষয়ে কোনো একজন লেখকের লেখার একটি অংশ দেওয়া থাকবে। প্রদত্ত অনুচ্ছেদটি হল রচনার প্রস্তাবনা বা ভূমিকা। এই প্রস্তাবনা বা ভূমিকাটিকে অবলম্বন করে পরীক্ষার্থী বিষয়বস্তুর গভীরে প্রবেশ করবে এবং পরিণতি মান করবে।

 

এই ধরনের প্রবন্ধ লেখার আগে যে বিষয়গুলি মনে রাখতে হবে-

 

  • প্রশ্নপত্রে প্রদত্ত অনুচ্ছেদটিকে মূল রচনার প্রস্তাবনা বা ভূমিকা হিসেবে গ্রহণ করে পরবর্তী অংশে সেই ভাবটিকে বিশ্লেষণ করতে হবে।

  • প্রবন্ধ রচনার সময়ে মূল লেখাটি যে গ্রন্থের অন্তর্গত, তা পড়া না থাকলেও অসুবিধা নেই।

  • প্রবন্ধে ব্যবহৃত তথ্যের সমর্থনে প্রাসঙ্গিক উদ্ধৃতি ও সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ব্যবহার করা যাবে।

  • প্রবন্ধের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে যেন তার নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও রূপরেখাটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

  • সমাজ-সমস্যামূলক প্রবন্ধ রচনার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রতিকারের পথগুলিও উল্লেখ করতে হবে।

  • প্রবন্ধের শব্দসীমার প্রতি অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে।

৩। [অঙ্গার সম্পদ কিংবা মাটির তেল হল প্রাকৃতিক সম্পদ। কিন্তু সম্পদের সঞ্চয় ভাণ্ডার হতে যা খরচ হয়, তার প্রতিপূরণ হচ্ছে না। যে অবস্থায় এইসব সম্পদ সঞ্চয় সম্ভব হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে তারও হয়েছে আমূল পরিবর্তন। মনুষ্য সমাজের নিত্য বর্ধমান চাহিদা অনুযায়ী উপযুক্ত জ্বালানি জোগান দেওয়া সম্ভব নয়। তাই মানুষ ছুটছে নতুন কয়লাখনির সন্ধানে, নতুন তেলের উৎস মাটির বাইরে আনতে।]

  প্রদত্ত অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে প্রবন্ধ রচনা

অদূর ভবিষ্যতে জ্বালানি সমস্যা :

শুধু ভারতবর্ষ নয়, বিশ্বের বহু উন্নয়নশীল দেশে চলছে এক ভয়াবহ জ্বালানি সংকট। অঙ্গার বা কয়লা কিংবা মাটির নীচের খনিজ তেলই মানবসভ্যতার অগ্রগমনের কেন্দ্রবিন্দু। আধুনিক মানুষের তাবৎ সুখস্বাচ্ছন্দ্য, সমৃদ্ধি-সমুন্নতির মূলে জ্বালানির অবদান অতুলনীয়। অথচ তা অঙ্গার ও খনিজ তেলের ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে অপ্রতুল হতে বসেছে। আর তাই ভাবী জ্বালানি সংকটের দুশ্চিন্তা সংশ্লিষ্ট মহলকে ভাবিয়ে তুলছে, বিভিন্ন রাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা বিকল্প শক্তি-উৎসের সন্ধানে নিরলস গবেষণায় নিয়োজিত।

জ্বালানি এমন একটি জিনিস, যার সৃষ্টি করা যায় না। আজ পর্যন্ত যে কয়েক প্রকার জ্বালানি মানুষের করায়ত্ত হয়েছে, তা সম্ভব হয়েছে জড়পদার্থকে নির্দিষ্ট পদার্থতে রূপান্তরিত করার কলাকৌশলের মাধ্যমে। জ্বালানি বহুবিধ। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল অঙ্গার বা কয়লা, পেট্রোলিয়াম বা খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস।

এই জ্বালানি সংকটের পিছনে কারণ কী?- এর কারণ মূলত পৃথিবীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা। এই বিপুল জনসংখ্যার চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানির চাহিদাও উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। অঙ্গার বা কয়লা হল প্রধান জ্বালানির উৎস। শিল্প কলকারখানায়, পরিবহণে, রান্নার কাজে প্রচুর পরিমাণে এই অঙ্গার বা কয়লা ব্যবহৃত হয়। এই উদ্দেশ্যে প্রতিদিন হাজার হাজার টন কয়লা পুড়ে প্রকৃতির ভান্ডার ক্রমশ রিক্ত নিঃস্ব করে তুলছে। এভাবে ব্যবহৃত হতে থাকলে কয়েক দশক পরেই কয়লা হয়ে পড়বে অতীত ইতিহাসের বস্তু। কারণ ব্যয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কয়লা সৃষ্টির ক্ষমতা মানুষের নেই। আর একইভাবে নিঃশেষিত হচ্ছে- পেট্রোলিয়াম-সহ খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস। ফলে এদের সঞ্চয় ভান্ডার ক্রমাগত নিঃশেষ হয়ে পড়ায় জ্বালানি সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছে।

জ্বালানি সংকটের ভয়াবহতা থেকে পরিত্রাণের জন্য বিশ্বজুড়ে চলছে বিকল্প শক্তির সন্ধান। আর এ নিয়ে আয়োজিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিজ্ঞানীরা সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার উপর গুরুত্ব আরোপ করে চোদ্দোটি বিকল্প শক্তির উৎসের কথা বলেছেন। সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- সৌর শক্তি, বায়ু শক্তি, পরমাণু শক্তি, জোয়ারভাটা থেকে প্রাপ্ত শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি, সাগরের তাপীয় শক্তি, গোবর গ্যাস প্রভৃতি। কিন্তু ভারতের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশের পক্ষে ভূ-তাপীয় শক্তি, পরমাণু শক্তি, তরঙ্গ শক্তি, জোয়ারভাটা থেকে প্রাপ্ত শক্তির উৎসগুলি থেকে শক্তি সৃষ্টি সম্ভবপর নয়, কারণ তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তবে সৌর শক্তি, বায়ু শক্তি, জ্বালানি কোষ, গোবর গ্যাস প্রভৃতি শক্তি উৎসগুলি অপেক্ষাকৃত কম ব্যয়সাধ্য। এগুলির উপর দৃষ্টিনিবদ্ধ করলে আমাদের দেশ উপকৃত হবে।

পৃথিবীতে যত বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়, তার শতকরা ৬০ ভাগ হল তাপবিদ্যুৎ এবং তাপবিদ্যুতের উৎস হল অঙ্গার বা কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস প্রভৃতি। অবশিষ্ট শতকরা ৪০ ভাগ ব্যবহৃত বিদ্যুতের উৎস হল জল, সৌর শক্তি, বায়ু শক্তি প্রভৃতি। ভারতের সোলার মেশিন আশা প্রকাশ করেছে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ২১,০০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ ভারতে উৎপাদিত হবে, সেই উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হল ১,৩০০ মেগাওয়াট। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, মাত্র ১ কেজি ডয়টেরিয়াম থেকে পাওয়া যেতে পারে ৩০ লক্ষ কেজি কয়লার সমতুল্য শক্তি।

বর্তমানে জ্বালানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে মানুষকে সচেতন হতে হবে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে গেলে জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে। কথায় বলে প্রয়োজনের তাগিদই আবিষ্কারের দ্বার খুলে দেয়, তাই বর্তমানে প্রচলিত শক্তি-উৎসগুলির ক্ষীয়মাণ সংকোচন নতুন নতুন উৎস সন্ধানে মানুষকে প্রয়াসী হতে বাধ্য করছে।

 

SOURCE-WBC

©Kamaleshforeducation.in (2023)

 

error: Content is protected !!
Scroll to Top