উচ্চ মাধ্যমিক- দ্বাদশ শ্রেণি

চতুর্থ সেমিস্টার- বাংলা

প্রার্থনা কবিতার প্রশ্নোত্তরঃ 

 

১) ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি কীভাবে ভারতবর্ষকে স্বর্গে জাগরিত করার কথা বলেছেন, তা নিজের ভাষায় আলোচনা করো। ৫

উৎসঃ

বিশ্বকবি ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’ -এর ‘নৈবেদ্য‘ কাব্যের ৭২ নং কবিতা ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য’ কবির ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের ৩৫ সংখ্যক ‘প্রার্থনা’ কবিতা নামে সংকলিত হয়।

কবি মানসিকতাঃ

কবিগুরু এক আদর্শ সমাজ গঠনের প্রত্যাশা ব্যাক্ত করেছেন সমগ্র কবিতা জুড়ে। কবি জানিয়েছেন পূর্বে ভারতবর্ষ সাহস, চারিত্রিক দৃঢ়তা, জ্ঞানচর্চা, একতা, কর্মোদ্দীপনা প্রভৃতির জন্য বিখ্যাত ছিল। আমাদের মাতৃভূমি ভারতবর্ষ ছিল স্বর্গীয়। এখানে আচারসর্বস্বতা মানুষের বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করত না – 

‘যেথা তুচ্ছ আচারের মরুবালুরাশি
বিচারের স্রোতঃপথ ফেলে নাই গ্রাসি-‘

তবে কবি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে, তৎকালীন সময়ে মানুষ তথা দেশবাসীর মধ্যে দুর্বলতা দেখা দিচ্চাছিল। মানুষের চারিত্রিক দৃঢ়তা ছিল অনুপস্থিত এবং জ্ঞানলাভের ক্ষেত্রে দেখা দিচ্ছিল নানান প্রতিবন্ধকতা। তাই কবির স্বপ্নের ভারতবর্ষকে আবার স্বর্গের পর্যায়ে উন্নীত করতে দেশের মানুষকে কিছু কর্তব্য পালনের আহ্বান জানিয়েছেন – 

১) কবি মানুষকে বিজ্ঞান ও যুক্তির সাহায্যে কুসংস্কার তথা তুচ্ছ আচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বলেছেন।  

২) কবি আশা প্রকাশ করেছেন যে, আমরা আবার আমাদের চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সক্ষম হবো। 

৩) কবি আমাদের মুক্ত চিন্তার অধিকারী হয়ে স্বাধীনভাবে আমাদের মতামত প্রকাশ করতে বলেছেন। 

৪) কবির বিশ্বাস মানুষ আবার মুক্ত ও স্বাধীন জ্ঞানচর্চা করবে।

৫) বিশ্বকবি মনে করেন মানব-সমাজ আবার হয়ে উঠবে সত্যবাদিতা, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের পীঠস্থান। 

৬) কবি আমাদের পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 

৭) সামাজিক বৈষম্য ভুলে মানবতাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাই কবি বলেছেন। 

৮) কবিগুরু আমাদের উদ্দীপনার সাথে সমস্ত কাজে অংশগ্রহণ করার পরামর্শ প্রদান করেছেন। 

৯) বিধাতার আঘাতে নিদ্রামগ্ন অবস্থা থেকে নিজেকে জাগ্রত করলেই সুদিনের আগমন ঘটবে বলে কবির বিশ্বাস। 

১০) আমাদের আত্মমর্যাদা ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের কথাও কবি তাঁর কবিতায় জানিয়েছেন। 

আর এভাবেই আমরা আমাদের হারিয়ে যাওয়া গৌরবকে পুনরুদ্ধার করে ভারতবর্ষকে পুনরায় স্বর্গে জাগরিত করতে সমর্থ হব বলেই কবির বিশ্বাস। 

২) ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির,’ – চিত্ত কোথায় ও কীভাবে ভয়শূন্য হবে? ‘উচ্চ যেথা শির’ কথাটির অর্থ কী? ৩+২=৫ 

উৎসঃ

বিশ্বকবি ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’ -এর ‘নৈবেদ্য‘ কাব্যের ৭২ নং কবিতা ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য’ কবির ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের ৩৫ সংখ্যক ‘প্রার্থনা’ কবিতা থেকে প্রশ্নোক্ত তাৎপর্যপূর্ণ অংশটি চয়ন করা হয়েছে। 

চিত্ত যেখানে এবং যেভাবে ভয়শূন্যঃ 

‘চিত্ত’ শব্দের অর্থ হল হৃদয়। এখানে ‘চিত্ত’ বলতে কবি নিজের স্বদেশবাসী অর্থাৎ ভারতবর্ষের মানুষের কথা বুঝিয়েছেন। কবি পরাধীন ভারতবর্ষের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা অনুভব করে বেদনার্ত বোধ করেছেন। তিনি এমন এক স্বাধীন দেশের কল্পনা করেছেন যেখানে মানুষের হৃদয় হবে নির্ভীক। সেই দেশের সব মানুষই হবে সাহসী ও মানবতাবাদী। তাই তো তিনি বলিষ্ঠ কন্ঠে ঘোষণা করেছেন –  

‘চিত্ত যেথা ভয়শূণ্য, উচ্চ যেথা শির,
জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীর
আপন প্রাঙ্গণতলে দিবসশর্বরী
বসুধারে রাখে নাই খন্ড ক্ষুদ্র করি,’

চিত্ত ভয়শূন্য হওয়ার জন্য কবি যে সকল পরামর্শ প্রদান করেছেন তা নিম্নরূপ – 

১) শিক্ষার মাধ্যমে অজ্ঞতা দূর করতে হবে এবং মুক্ত বুদ্ধি ও যুক্তির মাধ্যমে চিন্তা করতে হবে।

২) স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে হবে এবং চিন্তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। 

৩) সমাজে সকলকে সমানাধিকার প্রদান করতে হবে। 

৪) আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে এবং সত্যের জন্য লড়াই করার সাহস রাখতে হবে। 

‘উচ্চ যেথা শির’ কথার অর্থঃ 

‘উচ্চ শির’ কথাটি দৃঢ়তা, সাহস ও শৌর্য বা বীরত্বকে ইঙ্গিত করে। প্রকৃত আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিত্বকে বোঝানোর জন্যও কথাটি ব্যবহৃত হয়। কবির নিজের দেশবাসীকে উদ্দেশ্য করেই শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেছেন। কবি আশাপ্রকাশ করেছেন যে, দেশের মানুষ নিজের ব্যক্তিত্ব, নৈতিকতা এবং সত্যের জন্য গর্ব অনুভব করবে এবং তারা পরাধীনতার শৃঙ্খল মুক্ত হয়ে শির উঁচু রাখতে সমর্থ হবে। বিশ্বকবির মানুষের প্রতি আস্থা এবং সাহসিকতার অভিব্যক্তি ‘উচ্চ শির’ কথাটির মধ্য দিয়ে সুপ্রকাশিত হয়েছে। 

SOURCE–WBN

©kamaleshforeducation.in(2023)

 

error: Content is protected !!
Scroll to Top