একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিষ্টার

ইতিহাস প্রশ্ন উত্তর

প্রসারিত দিগন্ত প্রশ্ন উত্তর   

একাদশ শ্রেণীর দ্বিতীয় সেমিষ্টার ইতিহাস প্রশ্ন উত্তর

ভূমিকা : একাদশ শ্রেণীর দ্বিতীয় সেমিষ্টার ইতিহাস সিলেবাসের তৃতীয় অধ্যায় ‘প্রসারিত দিগন্ত’ থেকে মোট 40 নম্বরের লিখিত পরীক্ষার মধ্যে 15 নম্বর আসবে। তার মধ্যে 3 নম্বরের 1 টি প্রশ্ন করতে হবে অর্থাৎ 3×1=3 নম্বর / 4 নম্বরের 1 টি প্রশ্ন করতে হবে অর্থাৎ 4×1=4 নম্বর এবং 8 নম্বরের 1 টি প্রশ্ন করতে হবে অর্থাৎ 8×1=8 নম্বর। অতএব 3 + 4 + 8 = 15 নম্বর। আজকের এই প্রতিবেদনে ‘প্রসারিত দিগন্ত’ থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ 3 নম্বরের কিছু প্রশ্ন ও উত্তর বলে দিলাম। যে প্রশ্নগুলি পরীক্ষায় আসার সম্ভাবনা খুব বেশি।  

একাদশ শ্রেণীর দ্বিতীয় সেমিষ্টার ইতিহাস প্রশ্ন উত্তর

▶ ১। আধুনিক বিজ্ঞানের সূচনার কারণগুলি সম্পর্কে আলোচনা করো।

অথবা

▶ আধুনিক বিজ্ঞানের অগ্রগতির কারণ বিশ্লেষন করো।

উত্তর : প্রাচীন বিজ্ঞানভাবনা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে আধুনিক বিজ্ঞানের সূচনা হয়েছিল। তবে আধুনিক বিজ্ঞানের অগ্রগতি নবজাগরণ বা রেনেসাঁর প্রভাবেই সম্ভব হয়েছিল।
আধুনিক বিজ্ঞানের অগ্রগতির বা সূচনার কারণ : আধুনিক বিজ্ঞানের অগ্রগতির বা সূচনার অনেকগুলি কারণ রয়েছে। তার মধ্যে প্রধান চারটি কারণ হল –  (ক) স্বাধীন চিন্তাভাবনা, (খ) বৈজ্ঞানিকদের আবির্ভাব, (গ) জানার ইচ্ছা, (ঘ) সমালোচনার মনোভাব।
(ক) স্বাধীন চিন্তাভাবনামানুষের ধর্মাশ্রয়ী চিন্তাভাবনা থেকে মানসিক জগতের মুক্তি ঘটে আনুমানিক ষোড়শ শতক নাগাদ। এরপর থেকে মানুষ বাস্তব জগৎ এবং ব্যক্তিগত তথা স্বাধীন চিন্তা করতে শুরু করেন।
(খ) বৈজ্ঞানিকদের আবির্ভাব গ্যালিলিও, কোপারনিকাস, রবার্ট বয়েল, জর্জ এগ্রিকোলা, আইজ্যাক নিউটন ইত্যাদি অনেক বৈজ্ঞানিকদের নবসৃষ্টি এবং এঁদের পরীক্ষানিরীক্ষা ও প্রমাণিত সিদ্ধান্তগুলি আধুনিক বিজ্ঞানের সূচনা করে।
(গ) জানার ইচ্ছা : নবজাগরণ প্রস্তুত পর্ব থেকেই দেখা যায় মানুষ কোনো কিছু সম্বন্ধে সঠিক তথ্য জানার ইচ্ছা অথবা অদেখাকে দেখার ইচ্ছা প্রবল বৃদ্ধি পায়।
(ঘ) সমালোচনার মনোভাব : জানা যায় মধ্যযুগে পোপ ও চার্চ ইউরোপের মানুষের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করত। তবে নবজাগরণের সময় থেকে মানুষজন পোপ ও চার্চতন্ত্রের দুর্নীতির সমালোচনা করেন এবং নিজস্ব চিন্তাভাবনা প্রকাশ করেন। যা এখান থেকে পরবর্তীকালে যুক্তিবাদ গড়ে ওঠে।

একাদশ শ্রেণির ইতিহাস দ্বিতীয় সেমিস্টার প্রশ্ন উত্তর

  

▶ 2। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চার ফলাফলগুলি আলোচনা করো।

উত্তর : আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চার অনেকগুলি ফলাফল রয়েছে। তার মধ্যে প্রধান তিনটি ফলাফল হল- (ক) চার্চের আক্রমন (খ) বিজ্ঞানের অগ্রগতি, (গ) ধর্মসংস্কারের প্রেক্ষাপট।

(ক) চার্চের আক্রমণ : বিজ্ঞানীদের প্রতিনিয়ত আবিষ্কৃত তত্ত্বগুলি চার্চ ও পোপতন্ত্রের বিরোধী ছিল। যা যাজকদের আধুনিক ধারণাগুলি খুব বেশি ক্ষুব্ধ করে ছিল। এর ফলে চার্চের আক্রমন বিজ্ঞানীদের উপর বেড়ে যায়। যেমন – ব্রুনো, গ্যালিলিও বা কেপলারের মতো বহু বিজ্ঞানী চার্চের ক্ষোভে পড়ে প্রচন্ড দুর্দশার শিকার হয়েছিল।

(খ) বিজ্ঞানের অগ্রগতি মানুষের চিন্তাই আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চাগুলি বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকে বৃদ্ধি করে। বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ও চিন্তার সাহায্যে সাধারণ মানুষ ও ছাত্রছাত্রীদের কাছে নানান শাখার মতামতগুলি খুব সহজেই পৌঁছে যায়।

(গ) ধর্মসংস্কারের প্রেক্ষাপট : মানুষকে নানান কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতন করে তোলে বিজ্ঞানের অগ্রগতি। এর ফলে ইউরোপে ধর্মসংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষাপট প্রস্তুত করতে সাহায্য করেছিল। মার্টিন লুথারের ধর্মসংস্কার আন্দোলন মানুষের চিন্তাভাবনায় খ্রিস্টান চার্চের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসে।

একাদশ শ্রেণির ইতিহাস দ্বিতীয় সেমিস্টার প্রশ্ন উত্তর

 3। ইউরোপে সামরিক বিপ্লবের ফল কী ছিল।

অথবা

▶ প্রযুক্তির প্রভাবে সামরিক ক্ষেত্রে পরিবর্তনের ফলাফল কী হয়েছিল।

উত্তর : ইউরোপে সামরিক বিপ্লবের ফলাফলসমূহ : আগ্নেয়াস্ত্র ও বারুদ থেকে শুরু করে রাজনীতি ও সমাজ সামরিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা যায়। ইউরোপে সামরিক বিপ্লবের অনেকগুলি ফলাফল লক্ষণীয়। তার মধ্যে প্রধান ফলাফল গুলি হল – (ক) রাজার শক্তিবৃদ্ধি, (খ) অর্থনৈতিক দুরবস্থা, (গ) সর্বহারাদের জয়। 

(ক) রাজার শক্তিবৃদ্ধি : কামান ও গোলা তৈরি করার উপকরণ কয়লা, লোহা, তামা ইত্যাদি এবং বাবুদ তৈরির উপকরণ গন্ধক, সোরা, ইত্যাদির উপরে রাজার নিয়ন্ত্রণ ছিল । তাই অপর কোনো মানুষের পক্ষে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করা অসম্ভব। আগ্নেয়াস্ত্রের একচেটিয়া দ্বারা রাজার ক্ষমতা চূড়ান্ত করেছিল।

(খ) অর্থনৈতিক দুরবস্থা : ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দেশগুলির অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে কারণ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য অস্ত্রশস্ত্রের নির্মাণকার্যে প্রচুর টাকা ব্যয় করেছিল। যার ফলে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব প্রজাদের উপর করের বোঝা পড়ে।

(গ) সর্বহারাদের জয় : দীন-দরিদ্র, শ্রমজীবী ও মর্যাদাহীন মধ্যযুগের পদাতিকেরা ছিলেন। কিন্তু একদিকে তারা যেমন অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন আগ্নেয়াস্ত্র পদাতিক বাহিনীর হাতে অন্যদিকে নাইটদের আভিজাত্য ও গুরুত্ব ধ্বসে পড়ে। তাই ঐতিহাসিক ইউজিন এফ রাইস বলেছেন যে, আগ্নেয়াস্ত্র যেমন যুদ্ধের রাজকীয়করণ করেছিল তেমনিই এক অর্থে এটি যুদ্ধের সাধারণীকরণও করেছিল। 

একাদশ শ্রেণির ইতিহাস দ্বিতীয় সেমিস্টার প্রশ্ন উত্তর

 

▶ ৪। ডাইনি সন্দেহে নারীদের হত্যার কারণগুলি কি কি ?

অথবা

▶ ডাইনি সন্দেহে মেয়েদেরই সবথেকে বেশি করে হত্যা করা হত কেন ?

উত্তর : ইউরোপে মধ্যযুগ থেকেই ডাইনি সন্দেহে নারী-নিধনের ঘটনা বিশাল আকার ধারণ করেছিল। আর শোনা যায় ডাইনি সন্দেহে মেরে ফেলা হয়েছিল পাঁচভাগের চারভাগই ছিল স্ত্রীলোক।

ডাইনি সন্দেহে নারী হত্যার কারণইউরোপের মধ্যযুগ থেকেই ডাইনি সন্দেহে নারী হত্যার অনেকগুলি কারণ ছিল। তার মধ্যে প্রধান তিনটি কারণ হলো -(ক) ধর্মীয় কুসংস্কার, (খ) সামাজিক দ্বন্দ্ব, (ঘ) চিকিৎসা।

(ক) ধর্মীয় কুসংস্কার : ইউরোপের মধ্যযুগে তীব্র নারীবিদ্বেষী ছিলেন খ্রিস্ট ধর্মের কর্তাব্যক্তিরা। এই ব্যক্তিরা বিশ্বাস করেন পুরুষকে নারীরা পাপের পথে নিয়ে যায় এবং সমাজকে কলঙ্কিত করে। তাই ১৪৮০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৭৫০ খ্রিস্টাব্দ সময়ের মধ্যে খ্রিস্টানরা ডাইনি অপবাদে প্রচুর সংখ্যক নারীকে হত্যা করেছিল।

(খ) সামাজিক দ্বন্দ্ব : অনেক সময় দেখা গেছে প্রতিবেশীর বা পরিবারের সঙ্গে কোনো কারণবশত দ্বন্দ্ব হলে দ্বন্দ্বের কারণে নারীদের ডাইনি হিসেবে অভিযুক্ত করা হত এবং হত্যা করা হত।

(গ) পিতৃতান্ত্রিক সমাজ : পিতৃতান্ত্রিক সমাজে ইউরোপের মধ্যযুগে নারীরা ঘরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত। আর তারা স্বাধীনভাবে কাজ ও চিন্তা করতে পারত না। তবে যদি কোনো কারণবশত কোনও নারী নির্দিষ্ট নিয়মের বাইরে নিজের চিন্তা প্রকাশ করলে তাকে প্রায় ডাইনি অপবাদ দেওয়া হত।

(ঘ) চিকিৎসা : ইউরোপের মধ্যযুগে বহু নারী গৃহচিকিৎসক বা ধাত্রীর ভূমিকা পালন করত। তারা সাধারণ মানুষকে গাছের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করে সুস্থ করত। কিন্তু এই নারীদের অনেক সময় প্রথাগত চিকিৎসকরা ডাইনি হিসেবে উল্লেখ করতেন।

একাদশ শ্রেণির ইতিহাস দ্বিতীয় সেমিস্টার প্রশ্ন উত্তর

৫। মুদ্রণবিপ্লব কী ? ইউরোপে মুদ্রণবিপ্লবে আরবদের অবদান কী ছিল। 

উত্তর : ইউরোপের মুদ্রণবিপ্লব : ইউরোপে পঞ্চদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে আধুনিক মুদ্রণযন্ত্রের আবিষ্কার হয়। এর ফলে নবজাগরণ-প্রসূত চেতনা, কাগজের প্রচলন, শিক্ষা বৃদ্ধি পায়। বইয়ের চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে বই ছাপার পরিমাণও বাড়ে। এই মুদ্রণশিল্পে এইসব ব্যাপক পরিমাণে পরিবর্তন ঘটে যা ইউরোপের মুদ্রণবিপ্লব বলা হয়।

ইউরোপে মুদ্রণবিপ্লবে আরবদের অবদান : চীনের মুদ্রণ প্রযুক্তি ও কাগজ তৈরির কৌশল আরবে মুদ্রণশিল্প প্রসারের ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

(ক) কাগজ তৈরির পদ্ধতির অগ্রগতি : ৭৫১ খ্রিস্টাব্দে আরব দুনিয়া চিনের কাছ থেকে কাগজ তৈরির রহস্য জানতে পারে। এরপর আরবরা কাগজ প্রস্তুতিতে নানান অগ্রগতি ঘটায়। তারা শন ও লিনেনর ব্যবহার করতে আরম্ভ করেন কাগজ উৎপাদনে। ট্রিপ হ্যামার-এর ব্যবহার আরবে কাগজ তৈরি করার জন্য এক তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। এইসব প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কাগজ উৎপাদন খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

(খ) কাগজ কলের বিস্তৃতিসম্ভবত ৭৯৩ সালে প্রথম কাগজ কল বাগদাদে গড়ে ওঠে। জানা যায়, দুজন চৈনিক কাগজ প্রস্তুতকারককে বাগদাদের খলিফার সেনাপতি সমরখন্দ বন্দি করে বাগদাদে আনেন। এঁদের সাহায্যে একটি কাগজ কল প্রতিষ্ঠা করা হয় উজবেক শহরে। আরবের সূত্রেই পরে আফ্রিকা, স্পেন-এ প্রথম কাগজ কল তৈরি করা হয়। এরপরেই ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে কাগজ কারখানা গড়ে উঠতে থাকে।

(গ) বই বাঁধাই পদ্ধতি : আরবে কাগজ, চামড়া ও রেশম ব্যবহার করে বইয়ের মলাট তৈরি করা হত। যার ফলে দেখতে অনেক সুন্দর ও হালকা হত। কাগজে মুদ্রিত বই বাঁধাই করার পদ্ধতি আরবে বেশ উন্নত ছিল।

 আমাদের এই প্রতিবেদনগুলি যদি আপনাদের কাজে লাগে, তবে আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে।

 SOURCE-WBS

©Kamaleshforeducation.in (2023)

 

error: Content is protected !!
Scroll to Top