কী করে বুঝবো
—আশাপূর্ণা দেবী

অষ্টম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর

 

====CONTENTS===

♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣

  1. লেখিকা পরিচিতি,

  2. বিষয়সংক্ষেপ,

  3. নামকরণ,

  4. শব্দার্থ ও টীকা,

  5. অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর,

  6. হাতে কলমে প্রশ্ন ও উত্তর  

আশাপূর্ণা দেবী (১৯০৯-১৯৯৫) : অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি লেখিকা। জন্ম কলকাতায়। স্কুল-কলেজে পড়ার সুযোগ ঘটেনি। অথচ অসামান্য সূক্ষ্ম দৃষ্টি, সংবেদনশীলতা ও পরিচিত সমাজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি বাঙালি মধ্যবিত্ত জীবনকে আশ্চর্য দক্ষতায় তার গল্প-উপন্যাসে তুলে ধরেছিলেন। তিনি দীর্ঘ জীবনে অসংখ্য উপন্যাস, গল্প এবং ছোটোদের জন্য অজস্র বই লিখেছেন। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য – ছোট ঠাকুরদার কাশীযাত্রা, প্রথম প্রতিশ্রুতি, সুবর্ণলতা, বকুলকথা, অগ্নিপরীক্ষা, সাগর শুকায়ে যায়, শশীবাবুর সংসার, সোনার হরিণ ইত্যাদি। তাঁর রচিত অন্তত ৬৩টি গ্রন্থ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার, সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার, লীলা পুরস্কার, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার, একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি. লিট্ এবং নানা সরকারি খেতাবে ভূষিত হয়েছেন।

 

বিষয় সংক্ষেপঃ ছ-বছরের বুকু তাদের বাড়ির বাইরের উঁচু চাতালে খেলা করছিল। এমন সময় একটি রিকশা এসে থামে তাদের বাড়ির সামনে। রিকশা থেকে দুজন বেশ মােটাসােটা মহিলা এবং একটি বুকুরই বয়সি ছেলে নেমে তাদের বাড়িতে আসে। তারা বুকুকে জিজ্ঞাসা করে, তার মা বাড়িতে আছে কি না এবং তাকে খবর দিতে বলে যে, উত্তরপাড়া থেকে ছেনু মাসিরা এসেছেন। মা শুনে তাে খুব রেগে গেলেন এবং বিরূপ মন্তব্যও করে বসলেন। অথচ বাইরে এসে খুব আনন্দের সঙ্গে তাঁদের অভ্যর্থনা জানাতে লাগলেন। বুকু আর চুপ করে না-থেকে মায়ের বিরূপ মন্তব্যগুলি অতিথিদের সামনে প্রকাশ করে দিল। ছেনু মাসিদের সঙ্গে আসা ছেলেটি আলমারি ভেঙে বই বের করে ছড়ালে তাকেও বেশ কয়েকটি কথা শুনিয়ে দেয় বুকু। বাবা অফিস থেকে ফিরে অতিথিদের সম্পর্কে কী মন্তব্য করেছেন, তাও বুকু সবাইকে জানিয়ে দেয়। মা নানাভাবে তাকে থামানাের চেষ্টা করলেও বুকু থামেনি। আসলে বুকুর মা আজই তাকে পইপই করে শিখিয়েছে, সর্বদা সত্য কথা বলতে হয় এবং কোনাে কিছু গােপন করতে নেই। অথচ তার সামনে সত্য-মিথ্যা দুটি ঘটনাই ঘটে চলেছে। তাই সে সব সত্য কথাগুলিকে বলে চলেছে। অতিথিরা চলে গেলে মা ও বাবা তাকে বেদম প্রহার করতে থাকলে সে এক সময় ডুকরে কেঁদে উঠে বলে মা তাে তাকে সত্য কথা বলতে শিখিয়েছে। সে কী করে বুঝবে, যে “আসলে কী করতে হবে?”

 

নামকরণঃ সাহিত্যে নামকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। নামকরণের মধ্যে দিয়ে পাঠকেরা সাহিত্যের মূল বিষয়টিতে প্রবেশ করার পরে বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারে। মূলত সাহিত্যে নামকরণ হয় কখনাে চরিত্রকেন্দ্রিক, কখনাে ঘটনাকেন্দ্রিক, কখন বা ব্যঞ্জনাধর্মী। লেখিকা আশাপূর্ণা দেবী আলােচ্য পাঠ্যটির নামকরণ করেছেন কী করে বুঝব। কাহিনী ও ঘটনা বিশ্লেষণটি করলে দেখা যাবে, আলােচ্য গল্পের মূল চরিত্র ছয় বছরের ছেলে বুকু। সে বুঝতে পারেনি, বড়ােরা যে আচরণ প্রতিদিন ছােটোদের শেখায়, জীবনের ক্ষেত্রে তাদের তা প্রয়ােগ করতে বলেন, অথচ সেই আচরণ বাস্তব জীবনে ছােটোরা করে ফেললে বড়ােরা ক্ষেত্রবিশেষে তাদের শেখানাে আচরণকেই ভুল বলতে শেখায়। ছােটোদের সহজাত প্রকাশকে শাসন করে সত্যকে গােপন করতে শেখায়। সমগ্র গল্পে বুকু তার বাবামায়ের কথা ও কাজের বৈপরীত্যকে বুঝতে পারেনি। শিশু মনের সারল্য বার বার প্রশ্নের মুখে ফেলেছে ছােট্ট বুকুকে। গল্পে দেখা গিয়েছে, দুপুরবেলায় বুকুকে তার মা একশাে বার ধরে বুঝিয়েছেন, সর্বদা সত্য কথা বলতে হয় এবং কারও কাছে কোনাে কিছু গােপন করতে নেই। কিন্তু তিনি তাকে শেখাননি স্থান, কাল, পাত্র অনুযায়ী কীভাবে কথা বলতে হয়। তাই অতিথিদের অসময়ে বাড়িতে আসা প্রসঙ্গে মা ও বাবা যে যে মন্তব্য গুলি করেছেন এবং বিরক্তি প্রকাশ করেছেন, সেগুলিকে সে অতিথিদের সামনে প্রকাশ করে দেয়। কারণ, মা ঘরের ভিতরে অসন্তুষ্ট হলেও বাইরে অতিথিদের সামনে খুব আনন্দ করছিলেন। বুকুর কাছে এটি বিসদৃশ লাগছিল। তাই সে সব সত্যি কথাগুলি বলেছে। অতিথিরা চলে গেলে মা ও বাবা তাকে প্রহার করলে সে জানায়, “কী করে তার বুঝব আসলে কী করতে হবে?” সমগ্র গল্পটিতে ছােটোদের পাশাপাশি লেখিকা বড়ােদের সচেতন করেছেন। কী করে বুঝব’ এই শব্দগুলির মধ্যে চমৎকার কৌতুকপূর্ণ ভঙ্গিতে মানবসমাজের এক অসাধারণ চরিত্রকে তুলে ধরেছেন। তাই বলা যায়, নামকরণটি পাঠ্যাংশের কাহিনির সঙ্গে অত্যন্ত সংগতিপূর্ণ ও যথার্থ হয়েছে।

∆∆শব্দার্থ ও টীকা—

» রোয়াক— ঘরের সামনের পাকা দালান
» বেজায়— অতিরিক্ত, খুব
» পেন্ডুলাম— ঘড়ির দোলক
» বার দু-তিন— দুই-তিন বার
» ইত্যবসরে— এই সুযোগে
» অগ্রাহ্যভরে— গুরুত্ব না দিয়ে
» মোলায়েম— কোমল ও মসৃণ
» ড্যাবড্যাব করে— চোখ বড়ো বড়ো করে
» গমগম— গম্ভীর শব্দ
» মুণ্ডুপাত— কঠিন শাস্তি
» অভ্যর্থনা— সাদর আপ্যায়ন
» মাথায় বজ্রাঘাত— আকস্মিক বিপদে পড়া
» হাটে হাঁড়ি ভাঙা— সবার মাঝে গোপন কথা প্ৰকাশ
» গাদা গাদা— প্রচুর, অনেক
» ব্যাকুল— অস্থির
» বিচ্চু(‘বিচ্ছু’)— অতি দুরন্ত
» আহামরি— তেমন কিছু
» বেয়াড়া— বিশ্রী,বদ
» প্রসন্ন— আনন্দিত
» হাড়কেপ্পন— অতি কৃপণ, খুব কিপটে
» যথেচ্ছ— ইচ্ছামতো
» ধাতস্থ— প্রকৃতিস্থ,শান্ত,ধাতে আসা বা স্বাভাবিক হওয়া
» আক্কেল গুড়ুম— হতভম্ব অবস্থা
» খণ্ডায়— নিবারণ করে
» অপ্রতিভ— বিব্রত ও লজ্জিত
» রেকাবি: ছোটো থালা
» চটেমটে লাল— অত্যন্ত রেগে
» ফ্যালফ্যাল করে— অবাক হয়ে, হতবুদ্ধি হয়ে
» বিশ্বস্তর মূর্তি— ভয়ানক রূপ
» একগাদা— অসংখ্য
» বেধড়ক— প্রচুর, অত্যন্ত
» প্রহার— মার
» অপদস্থ— অপমানিত, লাঞ্ছিত
» তক্তা— কাঠের পাতলা কলক

==============================================================

কী করে বুঝব গল্প

অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর

অষ্টম শ্রেণি বাংলা |

=====================================  

 

• সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো।

১. আশাপূর্ণা দেবীর জন্ম হয়েছিল—
(ক) ১৯০৯ খ্রীস্টাব্দে (খ) ১৯১০ খ্রীস্টাব্দে
(গ) ১৯১১ খ্রীস্টাব্দে (ঘ) ১৯১২ খ্রীস্টাব্দে

উত্তরঃ ১৯০৯ খ্রীস্টাব্দে

 

২. ‘কী করে বুঝবো’ গল্পটি কার লেখা ?
(ক) কামিনী রায় (খ) প্রভাবতী দেবী
(গ) আশাপূর্ণা দেবী (ঘ) মহাশ্বেতা দেবী

উত্তরঃ (গ) আশাপূর্ণা দেবী।

 

৩. আশাপূর্ণা দেবী যে স্কুলে পড়াশোনা করেছেন—
(ক) বিদ্যাভবন
(খ) ভারতী স্কুল
(গ) বিদ্যানিকেতন
(ঘ) কোন স্কুলে পড়েননি

উত্তরঃ কোন স্কুলে পড়েননি।

 

৪. ‘কী করে বুঝবো’ গল্পটি আশাপূর্ণা দেবীর কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে ?
(ক) কিশোর গল্প সংগ্রহ
(খ) বকুল কথা
(গ) সুখের ঠিকানা
(ঘ) প্রথম প্রতিশ্রুতি

উত্তরঃ (ক) কিশোর গল্প সংগ্রহ।

 

৫. বুকুর মায়ের নাম হলো—
(ক) ছেনু (খ) বেনু (গ) রেণু (ঘ) নির্মলা

উত্তরঃ (ঘ) নির্মলা।

 

৬. ‘ছ বছরের বকু ________ বসে খেলছে।’– শূন্যস্থানে যে শব্দটি বসবে।
(ক) বারান্দায় (খ) রোয়াকে (গ) দালানে
(ঘ) ঠাকুর ঘরে

উত্তরঃ (খ) রোয়াকে।

 

৭. বুকুর বইয়ের সংখ্যা ছিল—
(ক) তিন-চার (খ) সাত-আট (গ) পাঁচ-ছয়
(ঘ) আট-দশ

উত্তরঃ (খ) সাত-আট।

 

৮. বুকুর সঙ্গে অতিথিদের জন্য খাবার এনেছিলেন—
(ক) মাসিমা (খ) পিসিমা (গ) মা (ঘ) খুড়িমা

উত্তরঃ (ঘ) খুড়িমা।

 

৯. ‘পিঠের ছাল তুলবেন তোমার’– কার কথা বলা হয়েছে ?
(ক) ছোট কাকা (খ) মেজো কাকা (গ) সেজ কাকা (ঘ) বড় কাকা

উত্তরঃ (গ) সেজ কাকা।

 

১০. ‘নামলেন দুটি মোটাসোটা ভদ্রমহিলা’– মহিলা দুজন কোথা থেকে নামলেন ?
(ক) বাস (খ) অটো (গ) রিক্সা (ঘ) টোটো

উত্তরঃ (গ) রিক্সা

 

১১. ডাম্বল বুকুদের বাড়ির কোন জিনিসটি ভেঙ্গে ফেলেছে ?
(ক) ঘড়ি (খ) কলসি (গ) টেবিল ল্যাম্প (ঘ) কোনটিই নয়

উত্তরঃ (গ) টেবিল ল্যাম্প।

 

১২. বুকুর বয়স—

(ক) পাঁচ

(খ) ছয়

(গ) সাত

(ঘ) আট বছর

উত্তরঃ (খ) ছয় বছর।

 

১৩. বুকুর মাসিরা কোথা থেকে বুকুদের বাড়িতে এসেছে ?
(ক) উত্তরপাড়া

(খ) বেহালা

(গ) মধ্যমগ্রাম

(ঘ) জনাই

উত্তরঃ (ক) উত্তরপাড়া।

 

১৪. মাসিরা যেদিন এসেছিল সেদিন বিকেলে বুকুদের কোথায় ঘুরতে যাবার কথা ছিল ?

(ক) মেলায়

(খ) মামারবাড়ি

(গ) সিনেমায়

(ঘ) বিয়েবাড়ি।

উত্তরঃ (গ) সিনেমায়।

 

১৫. বুকুর মায়ের দুই মাসের নাম—
(ক) ছেনু ও বেণু
(খ) সোনু ও মনু
(ঘ) টিনু ও মিনু
(ঘ) অণু ও রিনা

উত্তরঃ (ক) ছেনু ও বেণু

 

16.মাসিরা যেদিন এসেছিল সেদিন বিকেলে বুকুদের কোথায় ঘুরতে যাবার কথা ছিল?

(A) মেলায় 

(B) মামারবাড়ি 

(C) সিনেমায় 

(D) বিয়েবাড়ি।

Ans: (C) সিনেমায় যাবার কথা ছিল।

 

17.সেজকাকার বইতে বুকু কি খুঁজেছিল?

(A) ছবি 

(B) নক্সা

(C) কলম 

(D) কোনটিই নয়

Ans: (A) ছবি।

 

18.ডাম্বল বইয়ের আলমারি থেকে যে বইগুলি নামিয়েছিল সেগুলো ছিল বুকুর –

(A) বাবার 

(B) মায়ের 

(C) সেজোকাকার 

(D) ঠাকুমার

Ans: (C) সেজোকাকার।

 

19.বুকু কোন স্কুলে ভর্তি হয়েছিল?

(A) নির্মল শিশু প্রাঙ্গণ 

(B) আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান 

(C) আদর্শ বিদ্যাপীঠ 

(D) আদর্শ শিক্ষা প্রাঙ্গণ

Ans: (B) আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-এ ভর্তি হয়েছিল।

 

20.মোটা মহিলা দুটি, যাঁদের মধ্যে একজনের নাম ছেনুমাসি আর অন্যজনের নাম –

(A) রেণুমাসি 

(B) বেণুমাসি 

(C) অলকা মাসি 

(D) পূরবী মাসি

Ans: (B) বেণুমাসি।

 

21.ডাম্বল বুকুদের বাড়ির কোন জিনিসটি ভেঙ্গে ফেলেছে?

(A) ঘড়ি 

(B) কলসি 

(C) টেবিল ল্যাম্প 

(D) কোনটিই নয়

Ans: (C) টেবিল ল্যাম্পটি ।

 

22.বুকুর বয়স –

(A) পাঁচ 

(B) ছয় 

(C) সাত 

(D) আট বছর

Ans: (B) ছয় বছর ।

 

23বুকুর মাসিরা কোথা থেকে বুকুদের বাড়িতে এসেছে?

(A) উত্তরপাড়া 

(B) বেহালা 

(C) মধ্যমগ্রাম 

(D) জনাই

Ans: (A) উত্তরপাড়া।

 

24.ডাম্বেলের স্কুলের নাম কি?

(A) প্রাইমারি শিক্ষালয় 

(B) শিশুমঙ্গল বিদ্যাপীঠ 

(C) আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান 

(D) ডাম্বেল এখনো স্কুলে ভর্তি হয়নি।

Ans: (D) ডাম্বেল এখনো স্কুলে ভর্তি হয়নি।

 

25.‘নির্মলার ছেলেটি তো আচ্ছা মজার কথা বলে!’ – নির্মলার ছেলে বুকু যে মজার কথাটি এক্ষেত্রে বলেছে তা হল –

(A) রিকশাগাড়ির অতটুকু খোলের মধ্যে এদের জায়গা হয়েছিল কী করে?

(B) সে তাদের বাড়িতে আসা অতিথিদের মতো মোটা কাউকে কখনো দেখেনি

(C) তার মা রয়েছেন তিনতলার ছাতে, রান্নাঘরে

(D) তার সেজোকাকা লোকটি বিশেষ মোলায়েম নয় 

Ans: (B) সে তাদের বাড়িতে আসা অতিথিদের মতো মোটা কাউকে কখনো দেখেনি।

==========================================

কী করে বুঝব গল্প

হাতে কলমে প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি বাংলা

============================ 

১.১ আশাপূর্ণা দেবীর লেখা দুটি উপন্যাসের নাম লেখাে।

উত্তরঃ আশাপূর্ণা দেবীর লেখা দুটি উপন্যাসের নাম হল ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’ ও ‘সুবর্ণলতা।

 

১.২ আশাপূর্ণা দেবী তাঁর সাহিত্যকৃতির জন্য কোন কোন্ বিশেষ পুরস্কার লাভ করেন ?

উত্তরঃ আশাপূর্ণা দেবী তাঁর সাহিত্যকৃতির জন্য ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’, ‘সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার’, ‘লীলা পুরস্কার’ ও ‘জ্ঞানপীঠ পুরস্কার লাভ করেন।

 

২. একটি বাক্যে উত্তর দাও :

২.১ বুকু কোথায় বসে খেলা করছিল ?

উত্তরঃ বুকু বাড়ির বাইরের রােয়াকে বসে খেলা করছিল।

 

২.২ রিকশা থেকে কারা নামলেন ?

উত্তরঃ রিকশা থেকে নামলেন দুটি বেজায় মােটাসােটা ভদ্রমহিলা আর বুকুর বয়সেরই একটি ছেলে সম্পর্কে তাঁরা বুকুর মায়ের ছেনুমাসি, বেনুমাসি এবং বেনুমাসির ছেলে ডাম্বল।

 

২.৩ ডাম্বল আলমারি ভেঙে কার বই নামিয়েছিল ?

উত্তরঃ ডাম্বল আলমারি ভেঙে বুকুর সেজোকাকার বই নামিয়েছিল।

২.৪ বুকুর মা-র কী কেনা ছিল ?

উত্তরঃ বুকুর মার সিনেমার টিকিট কেনা ছিল।

২.৫ বুকু আর বুকুর সেজো খুড়িমা অতিথিদের জন্যে কী কী খাবার নিয়ে আসে ?

উত্তরঃ বুকু আর বুকুর সেজো খুড়িমা অতিথিদের জন্য বড়াে বড়াে রাজভােগ, ভালাে ভালাে সন্দেশ, শিঙাড়া, নিমকি আর চা নিয়ে আসে।

২.৬ বুকু কোন্ স্কুলে ভরতি হয়েছিল ?

উত্তরঃ বুকু ‘আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভরতি হয়েছিল।

 

৩. নীচের প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও :

৩.১ বুকু খেলতে খেলতে তাকিয়ে অবাক হয়ে যায় কেন?
উত্তর:- আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘কী করে বুঝব’ গল্পে ছয় বছরের ছোট্ট ছেলে বুকু বাড়ির বাইরের রোয়াকে বসে খেলছিল। তখন বাড়ির সামনে একটি রিকশা গাড়ি এসে থামে।রিকশা থেকে নামে বেজায় মোটাসোটা দুই ভদ্রমহিলা ও বুকুর বয়সী একটি ছেলে।রিকশা গাড়ির অতটুকু খোলের মধ্যে এদের জায়গা হয়েছিল কীভাবে তা ভেবে বুকু খেলতে খেলতে তাকিয়ে অবাক হয়ে যায়।

৩.২ ‘সিঁড়ি ভেঙে আর উঠতে পারব না বাবা’ কারা একথা বলেছেন? তাঁরা সিঁড়ি ভেঙে উঠতে পারবেন না কেন ?
উত্তর:- আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘কী করে বুঝব’ গল্পে প্রশ্নোদ্ধৃত কথাটি উত্তরপাড়া থেকে বুকুদের বাড়িতে আসা ছেনুমাসি ও বেণুমাসি বলেছেন ।

বুকু যখন অতিথিদের জানায় তার মা তিনতলায় আছে।তখন ছেনুমাসি ও বেণুমাসি বলে, বুকুদের বাড়িতে পৌঁছতে তাদের দু-তিনবার বাসবদল, শেষে রিকশা চড়তে হয়েছে। তাই অত্যন্ত পরিশ্রমজনিত ক্লান্তির কারণে তারা সিঁড়ি ভেঙে তিনতলায় উঠতে পারবেন না।

 

৩.৩ ‘ও কী ! কী কাণ্ড করেছ তুমি’ – কে, কী কাণ্ড করেছে ?
উত্তর:- আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘কী করে বুঝব’ গল্পে বুকু তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসা তারই বয়সী ছেলে ডাম্বলকে একথা বলেছে।

ডাম্বল বুকুর সেজোকাকার বইয়ের আলমারির একটা পাল্লা ধরে এমন হ্যাঁচকা টান মেরেছে যে, চাবিবন্ধ কলটা বন্ধ অবস্থাতেই পাল্লার সঙ্গে খুলে বেরিয়ে এসেছে।তারপর সাজানো গোছানো বইয়ের সারি থেকে একসঙ্গে তিনচারখানা বই নামিয়ে ছবি নেই দেখে বইগুলো মাটিতে ফেলে দিয়েছে।

৩.৪ বুকু অবাক হয়ে ফ্যালফেলিয়ে মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল কেন?
উত্তর:- আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘কী করে বুঝব’ গল্পে বুকুর মা ঘরে ঢুকেই ছেনুমাসি ও বেণুমাসিকে হৈহৈ অভ্যর্থনা শুরু করে দেন । বুকুর মা বলেন এতদিন পর ছেনুমাসি ও বেণুমাসি তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসায় তার খুব ভালো লাগছে তিনি খুবই আনন্দিত হয়েছেন।

মায়ের এই কথাগুলো শুনে বুকু আবাক হয়ে ফ্যালফেলিয়ে মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল। কারণ একটু আগেই বুকু যখন তার মাকে গিয়ে অতিথিদের আগমনের বার্তা শুনিয়েছিল তখন তার মা অসময়ে অতিথিদের বেড়াতে আসা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছিল। এমনকি “শুনে গা জ্বলে গেল!” এমন উক্তিও করেছিল। একই বিষয় নিয়ে মায়ের দুই জায়গায় দুরকমের বক্তব্য বুকুকে আবাক করে দেয়।

৩.৫ ‘ছেলের কথা শুনেই বুকুর মা-র মাথায় বজ্রাঘাত’- ছেলের কথা শুনে বুকুর মা-র মাথায় বজ্রাঘাত হলো কেন ?
উত্তর:- আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘কী করে বুঝব’ গল্পে বুকু যখন তার মাকে ছেনুমাসি ও বেণুমাসির আসার খবর জানায়।তখন অসময়ে অতিথিদের বেড়াতে আসার খবর পেয়ে বুকুর মা বিরক্তি প্রকাশ করেন।এমনকি “বাবারে, শুনে গা জ্বলে গেল!” এমন মন্তব্য ও করেন।

কিন্তু অতিথি আপ্যায়নের বেলা তাদের সামনে হৈহৈ অভ্যর্থনা করেন এবং তারা আসায় যে তিনি কত আনন্দিত হয়েছেন তা বোঝান।এই সময় বুকু আড়ালে বসে অতিথিদের সম্পর্কে তার মায়ের বলা সমস্ত বিরক্তি সূচক উক্তি অতিথিদের সামনেই বলে বসে।তাই ছেলের কথা শুনে অপমানে লজ্জায় বুকুর মায়ের মাথায় বজ্ৰাঘাত হয় ৷

৩.৬ ডাম্বলকে ইস্কুলে ভরতি করা হয়নি কেন ?
উত্তর:- আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘কী করে বুঝব’ গল্পে বুকুদের বাড়িতে বেড়াতে আসা বুকুর বয়সী ছেলে ডাম্বলকে স্কুলে ভরতি করা হয়নি কারণ ডাম্বলের বাবা হাড় কিপটে।সাত বছরের ছেলের স্কুলের সাত টাকা মাইনে দিতে তিনি রাজি নন।ডাম্বলের বাবা বলেছে পড়ে দরকার নেই।ছেলে চাষবাস করে খাবে।

 

৩.৭ ‘কে জানে পাগলা-টাগলা হয়ে যাবে নাকি’ . কার সম্পর্কে এই মন্তব্য করা হয়েছে? এমন সন্দেহের কারণ কী?
উত্তর:- আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘কী করে বুঝব’ গল্পে বুকুর মা নির্মলা বুকু সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেছেন।

বুকু যে তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসা ডাম্বলকে আলমারি থেকে বই নামানোর জন্য সেজোকাকার মারের ভয় দেখিয়েছে, এমনকি ডাম্বলকে হাতির সাথে তুলনা করে তার বুদ্ধি ও যে হাতির মতো সেকথা বলেছে। বেণুমাসির মুখ থেকে ছেলের এসব দুর্ব্যবহারের কথা শুনে নির্মলা লজ্জিত হন।ছেলের এসব অসভ্যতার জন্য তাকে ভূতে পেয়েছে কিনা এ বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তার এই সন্দেহের কারণ বুকু আগে এমন আচরণ কখনও করেনি।

৩.৮ ‘দুজনে মিলে চেঁচান, ‘বল, বল কেন ওসব বললি?’ – বুকু কেন ওসব বলেছিল ?
উত্তর:- আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘কী করে বুঝব’ গল্পে অতিথিরা ফিরে যাওয়ার পর বুকুর কপালে প্রবল মার জোটে।এমনকী সব শুনে বাবাও তাকে মারতে শুরু করেন।কারণ তার কথা শুনে ছেনুমাসি, বেণুমাসি অপমানিত হয়েছেন এবং তার মাকেও যথেষ্ট লজ্জায় পড়তে হয়েছে।যেসব কথা অতিথিদের সামনে বলা উচিত নয় বুকু সেগুলোই বলেছে।তাই তার মা মারতে মারতে তাকে প্রশ্নোদ্ধৃত উক্তিটি করলে বুকু জানায়, তার মা নিজেই তাকে দুপুরে একশোবার করে বলেছিল সব সময় সত্যি কথা বলতে, কারও কাছে কিছু না লুকোতে।তাই বুকু সবার সামনে সত্যি কথাগুলোই বলেছিল। বুকু কী করে বুঝবে যে সত্যি কথা বলার জন্যেও তাকে মার খেতে হবে?

৪. নীচের প্রশ্নগুলির নিজের ভাষায় উত্তর দাও :

৪.১ গল্পে বুকুর আচরণ তাঁর মাকে অতিথিদের সামনে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। বুকুর এই আচরণ কি তুমি সমর্থন করো? বুকু কেন অমন আচরণ অতিথিদের সামনে করেছিল?
উত্তর:-

বুকুর আচরণে সমর্থন:- আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘কী করে বুঝব’ গল্পে আমি বুকুর এই আচরণকে পুরোপুরি সমর্থন করি না। কারণ, উত্তর পাড়া থেকে তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসা ছেনুমাসি, বেণুমাসি ও ডাম্বলের সাথে বুকু যে সমস্ত আচরণ করেছে তার মধ্যে শিশুসুলভ আচরণের চেয়েও কখনো অসভ্যতা প্রকাশ পেয়েছে। উপযাজক হয়ে অতিথিদেরকে সে কথাগুলি না শোনাতেই পারত।বিশেষ করে যে কথাগুলি সঙ্গে পিতা-মাতার সম্মান জড়িয়ে আছে, তা প্রকাশ করা সন্তানের পক্ষে উচিত নয়। পিতা-মাতার সম্মান রক্ষা করা প্রতিটি সন্তানের কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে।কিন্তু যেহেতু সে ছ-বছরের ছোট্ট ছেলে তাই তার এই আচরণকে খুব অপরাধ বলে ভাবা যাবে না।তা ছাড়াও তার পিতামাতারও তাকে স্থান-কাল-পাত্র অনুযায়ী কেমন ব্যবহার করতে হয়, তার শিক্ষা দেওয়া উচিত ছিল।

 

এমন আচরণের কারণ:- আসলে দুপুরবেলা বুকুর মা একশোবার করে বুকুকে শিখিয়েছিল সবসময় সত্য কথা বলতে হবে এবং কারো কাছে কিছু লুকানো যাবে না।কিন্তু বুকুর মা ছোট্ট বুকুকে কোন পরিস্থিতিতে কেমন কথা বলতে হবে তা শেখায়নি । ফলে সদ্য শেখা শিক্ষা প্রয়োগ করতে গিয়ে বুকু অতিথিদের সামনে এমন আচরণ করে ফেলেছিল।

 

৪.২ বাড়িতে অতিথি এলে তাঁদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা উচিত সে সম্পর্কে বন্ধুকে একটি চিঠি লেখো।
উত্তর:-

বাদুড়িয়া, উত্তর ২৪ পরগনা ।
০৫.০৯.২০২২

প্ৰিয় অনুপ,

আশাকরি ভালো আছিস।আমিও খুবই ভালো আছি।আজ মা শেখাচ্ছিলেন বাড়িতে অতিথি এলে তাদের সাথে কেমন আচরণ করা উচিত।সেকথাই তোকে জানাই।আমাদের দেশে অতিথি দেবতার সমান।তাদের সাথে কখনোই খারাপ ব্যবহার করা উচিত নয়। ছোটো হিসেবে বয়সে বড়ো অতিথিদের সাথে সব সময় নম্র – ভদ্র ব্যবহার করতে হবে।তাদের সম্মান করতে হবে।সমবয়সী অতিথিদের সাথে স্নেহপূর্ণ ও বন্ধুত্বসুলভ আচরণ করতে হবে।অতিথিদের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত নয় যাতে তাদের বা আমার পরিবারের কারও অপমানবোধ হয়। এই কথাগুলো তুই ও মনে রাখিস।পরে আবার চিঠি লিখব।ভালো থাকিস।

ইতি – তোর প্রিয় বন্ধু অনিক।

অনুপ রায়
প্রযত্নে – সমীর রায়
গ্রাম + পোস্ট – সলুয়া
জেলা – দক্ষিণ ২৪ পরগনা
পিন – ৭৪৩৩৭

 

৪.৩ ‘কী করে বুঝব, আসলে কী করতে হবে’ গল্পে বুকু এই কথা বলেছিল। — আসলে কী করা উচিত বলে তোমার মনে হয় ?

উত্তর:- আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘কী করে বুঝব’ গল্পে মায়ের কাছ থেকে সব সময় সত্যি কথা বলা ও কারও কাছে কিছু না লুকোনোর শিক্ষা পায় বুকু তবে প্রাপ্ত শিক্ষা যে পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োগ করা উচিত সে শিক্ষা বুকু পায়নি।তাই অতিথিদের সামনে মায়ের আড়ালে বলা কথাগুলো বলে মাকেই বারে বারে লজ্জায় ফেলছিল সে।এছাড়াও অকপটে সত্যি কথাগুলো বলায় ছেনুমাসি,বেনুমাসিকেও লজ্জায় পড়তে হয়েছিল।আমার মনে হয় এমন রূঢ় আচরণ না করে গুরুজনদের সাথে বুকুর ভদ্র ও নম্রভাবে কথা বলা উচিত ছিল।তাছাড়া মা যখন বারে বারে তাকে বকছিল তখন বুকুর নিজেকে সামলে নেওয়া উচিত ছিল।যদিও ছয় বছরের ছোটো বুকুর পক্ষে এতটা ভাবনা চিন্তা করে আচরণ করা সম্ভব নয় ।

8.8 গল্পে দুটি ছোটো ছেলের কথা পড়লে – বুকু আর ডাম্বল। দুজনের প্রকৃতিগত মিল বা অমিল নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর:- আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘কী করে বুঝব’ গল্পে দুটি ছোটো ছেলের উল্লেখ আছে।তারা হল, নির্মলার ছেলে বুকু ও বেণুমাসির ছেলে ডাম্বল।আলোচ্য গল্পে উভয়ের মধ্যে কিছু প্রকৃতিগত মিল ও অমিল লক্ষ্য করা যায়।

 

মিল:-

  • দুটি শিশুই অত্যন্ত স্পষ্টভাষী।

  • দুষ্টুমি করলেও তাদের মধ্যে আছে শিশুসুলভ সরলতা।

  • অতিথিদের সামনে সত্যি কথাকে স্পষ্ট করে বলে বুকু যেমন তার মাকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। তেমনি ডাম্বল তার বাবার কৃপণতার কথা বলে ছেনু ও বেনুমাসিকে লজ্জায় ফেলেছিল।

অমিল:-

  • বুকু পারিবারিক শিক্ষায় সচেতন, সে স্কুলে যায়।ডাম্বলের বাবা কৃপণ তাই তাকে স্কুলে ভরতি করেনি।

  • বুকু ঘর অগোছালো করেনা। ডাম্বল অল্প সময়ের মধ্যেই চেয়ার উল্টে, টেবিলের ঢাকা কুঁচকে, আলমারি থেকে বই নামিয়ে চারিদিক বিশ্রী করে তোলে।

  • ডাম্বলের বুকুকে ঘুসি পাকিয়ে মারতে আসার মধ্যে প্রতিহিংসাপরায়ন মনোভাব দেখা যায়।যা বুকুর নেই।

8.0 গল্পটি পড়ে বুকুর প্রতি তোমার সমানুভূতির কথা ব্যক্ত করে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করো।
উত্তর:- আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘কী করে বুঝব’ গল্পে বুকুর প্রতি আমি সমানুভূতি না জানিয়ে পারিনা।বেচারা বুকু মায়ের থেকে পাওয়া সব সময় সত্যি কথা বলা ও কারও কাছে কিছু না লুকোনোর শিক্ষা পেয়েছিল।কিন্তু সেই শিক্ষার প্রয়োগের ফলেই তাকে মার খেতে হয়েছিল।আসলে বাবা মা অনেক সময় সন্তানদের মৌখিকভাবে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চান।কিন্তু নিজেরাই সন্তানদের সামনে আদর্শ ব্যাক্তিত্ব হয়ে উঠতে পারেন না। কারণ বাবা মা যে শিক্ষা সন্তানদের দিচ্ছেন সেগুলো তারা নিজেরাই পালন করেন না । যেমন বুকুর মা বুকুর সামনে অতিথিদের সম্পর্কে মনের ক্ষোভ উগড়ে দেন আবার অতিথিদের সামনে ভালো ব্যবহার করেন।ছয় বছরের ছোট বুকুর পক্ষে সমাজের এই কঠিন বাস্তব রূপ বোঝা কষ্টকর।আমার মনে হয় বুকুর মায়ের বুকুর সামনে সংযত হওয়া উচিত ছিল।তবে এসব কিছুই ঘটত না।আলোচ্য গল্পে বুকুর আচরণগুলো অদ্ভুত হলেও তার মধ্যে রয়েছে শিশু সুলভ সরলতা।একবিন্দু কপটতা বুকুর মধ্যে ছিল না।তাই মায়ের কথা মতো আচরণ করা সত্ত্বেও গল্পের শেষে যখন মা – বাবা দুজনের হাতেই বুকুকে মার খেতে হয় তখন সত্যিই খারাপ লাগে।

 

৫. একই অর্থযুক্ত শব্দ গল্প থেকে খুঁজে নিয়ে লেখো :

সংবাদ, পুস্তক, সন্তুষ্ট, কোমল, আপ্যায়ন।

উত্তর:-

সংবাদ – খবর

পুস্তক – বই

সন্তুষ্ট – প্ৰসন্ন

কোমল – মোলায়েম

আপ্যায়ন – অভ্যর্থনা

 

৬. নীচের শব্দগুলির সন্ধি বিচ্ছেদ করো :

ইত্যবসরে, বজ্রাঘাত, ব্যাকুল, নিশ্চয়, রান্না, দুরন্ত, সন্দেশ।

উত্তর:-

ইত্যবসরে – ইতি + অবসরে।

বজ্রাঘাত – বজ্র + আঘাত ।

ব্যাকুল – বি + আকুল ।

নিশ্চয় – নিঃ + চয়।

রান্না – রাঁধ + না।

দুরন্ত – দুঃ + অন্ত।

সন্দেশ – সম্ + দেশ।

 

৭. নীচের শব্দগুলির কোনটি বিশেষ্য এবং কোনটি বিশেষণ খুঁজে নিয়ে লেখো। এরপর বিশেষ্যগুলির বিশেষণের রূপ এবং বিশেষণগুলির বিশেষ্যের রূপ লেখো :

মন, শিক্ষা, অবস্থা, গম্ভীর, শাসন, শয়তান, লাল, সর্বনেশে, ঘর, সুন্দর, দুরন্ত, মুখ, কথা, হ্যাংলা।

উত্তর:-

মন (বিশেষ্য) মানসিক (বিশেষণ)
শিক্ষা (বিশেষ্য) শিক্ষিত (বিশেষণ)
অবস্থা (বিশেষ্য) অবস্থিত (বিশেষণ)
গম্ভীর (বিশেষণ) গাম্ভীর্য (বিশেষ্য)
শাসন (বিশেষ্য) শাসিত (বিশেষণ)
শয়তান (বিশেষণ) শয়তানি (বিশেষ্য)
লাল (বিশেষণ) লালিমা (বিশেষ্য)
সর্বনেশে(বিশেষণ) সর্বনাশ (বিশেষ্য)
ঘর (বিশেষ্য) ঘরোয়া (বিশেষণ)
সুন্দর (বিশেষণ) সৌন্দর্য (বিশেষ্য)
দুরন্ত (বিশেষণ) দুরন্তপনা (বিশেষ্য)
মুখ (বিশেষ্য) মৌখিক (বিশেষণ)
কথা (বিশেষ্য) কথ্য (বিশেষণ)
হ্যাংলা (বিশেষণ) হ্যাংলামো (বিশেষ্য)

৮. নীচের প্রতিটি উপসর্গ দিয়ে পাঁচটি করে নতুন শব্দ তৈরি করে লেখো:

অ, বি, বে, আ, প্র, অব

উত্তর:-

অ – অচল, অপরিচিত, অচেনা, অলৌকিক, অবেলা।

বি – বিচার, বিদেশ, বিকাশ, বিমুখ, বিবাদ।

বে – বেকায়দা, বেওয়ারিশ, বেনিয়ম, বেহিসেবি, বেচাল ।

আ – আগমন, আবাদ, আসক্ত, আকর্ষণ, আচার ।

প্র – প্রচলিত, প্রভাব, প্রকাশ, প্রকৃষ্ট, প্রবাদ।

অব – অবনত, অবতরণ, অবকাঠামো, অবকাশ, অবনমন।

৯. সমোচ্চারিত/ প্রায় সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দগুলির অর্থ লিখে আলাদা আলাদা বাক্য রচনা করো:

 

উত্তর:-

আসা (আগমন) – শিক্ষক মহাশয় আসামাত্রই সবাই উঠে দাঁড়ালো ।
আশা (আকাঙ্ক্ষা) – অনিকের ঘুড়ি ওড়ানোর খুব শখ ।

মার (প্রহার) – মারের ভয়ে চোর দৌড়ে পালালো ।
মাড় (ভাতের ফেন) – কাচা কাপড়ে মাড় দেওয়া হয় ।

সোনা (স্বর্ণ) – সোনার অলংকার খুব দামি ।
শোনা (শ্রবণ) – দূর থেকে মাঝির গান শোনা যায় ।

মাস (সময় নির্দেশক) – এক মাস পর পরীক্ষা।
মাষ (শষ্য বিশেষ) – রমেশের বাবা মাষ – কলাইয়ের চাষ করেছেন।

১০. এই গল্পে অজস্র শব্দদ্বৈত ব্যবহৃত হয়েছে। শব্দগুলি গল্প থেকে খুঁজে নিয়ে লেখো

(দুটি শব্দ খুঁজে দেওয়া হলো)

খুকখুক, তোড়জোড়।

উত্তর : হাসতে হাসতে; হাঁপাতে, হাঁপাতে ,সাজানাে-গােছানাে, ড্যাব ড্যাব, গমগম, মুছতে মুছতে; হই হই, ছেণু-বেণু, চালতা চালতা, গাদা গাদা, রুটি-টুটি, পড়তে উড়তে, পাকা পাকা, চাষ বাস, কাঁদো কাঁদো, ভাজা ভাজা, পাগলা টাগলা, পিছন পিছন, ঝন ঝন, হা হা, বড়াে বড়াে, ভালাে ভালাে, বেছে বেছে, হায় হায়, শুধু শুধু। হালকা হালকা, মােটা সােটা,

 

১১. নীচের বাক্যগুলি থেকে সংখ্যাবাচক/পূরণবাচক শব্দ খুঁজে বার করো:

 

১১.১ মা তো সেই তিনতলার ছাতে।
উত্তর:- তিন (সংখ্যাবাচক শব্দ)

১১.২ দুই বোনের দুই দু-গুণে চারটি চোখ কপালে উঠে গেছে।
উত্তর:- দুই, চার (সংখ্যাবাচক শব্দ)

১১.৩ সাত বছরের ছেলের ইস্কুলের মাইনে সাত টাকা।
উত্তর:- সাত (সংখ্যাবাচক শব্দ)

১১.৪ নিজেই তো দুপুরবেলা একশো বার করে বললে – সবসময় সত্যি কথা বলবি ।
উত্তর:- একশো (সংখ্যাবাচক শব্দ)

 

১২. নির্দেশ অনুযায়ী বাক্য পরিবর্তন করাে :

১. বুকু ছুটে ওপরে চলে যায়। (জটিল বাক্যে)
উত্তর : বুকু নামের যে ছেলে সে ছুটে উপরে চলে যায় ।

২. ছেনুমাসি আর অন্যটির নাম বেণুমাসি। (সরল বাক্যে)
উত্তর : ছেনুমাসির মতাে অন্যটির নাম বেণুমাসি ।

৩. যত বড়াে হচ্ছে তত যেন যা-তা হয়ে যাচ্ছে। । (যৌগিক বাক্যে)
উত্তর : বড়াে হচ্ছে এবং যা-তা হয়ে যাচ্ছে।

৪. ছেলের কথা শুনেই বুকুর মার মাথায় বজ্রাঘাত। (জটিল বাক্যে)
উত্তর : ছেলের যা কথা তা শুনেই বুকুর মা-র মাথায় বজ্রাঘাত।

 

১৩. পাকা, মাথা—এই শব্দগুলির প্রত্যেকটিকে দুটি আলাদা অর্থে ব্যবহার করে বাক্য লেখাে :
পাকা = (অভিজ্ঞ)-সুবীরবাবু খুব পাকা মাথার লােক।
পাকা = (পিচ, সিমেন্ট বা ইট বাঁধানাে রাস্তা)-রহিম পাকা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে।
মাথা = (রাস্তার প্রান্তে)—সুজয় প্রতিদিন সকালে চৌমাথার চায়ের দোকানে খবরের কাগজ পড়তে যায়।
মাথা = (মগ ডালে) — কমল আম পাড়তে গাছের মাথায় উঠেছে।

 

©kamaleshforeducation.in(2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top