হোয়াটসঅ্যাপ যোগদান করুন ⇒ এখানে ক্লিক করুন

হোয়াটস অ্যাপ গোপন যোগদান করুন – এখানে ক্লিক করুন

টেলিগ্রাম যোগদান করুন –  এখানে ক্লিক করুন

 

কোন নদী উত্তর-পূর্ব ভারতের জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত?

উত্তর-পূর্ব ভারত সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য, সবুজ বন এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতিতে পরিপূর্ণ একটি অঞ্চল। এই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে একটি প্রধান নদী প্রবাহিত হয়েছে, যা লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনকে সমর্থন করে। এটি পানীয়, কৃষিকাজ এবং পরিবহনের জন্য জল সরবরাহ করে। এই নদী বিদ্যুৎ উৎপাদনেও সহায়তা করে এবং অনেক বন্যপ্রাণী প্রজাতির আবাসস্থল। এর গুরুত্বের কারণে, এটিকে প্রায়শই উত্তর-পূর্ব ভারতের জীবনরেখা বলা হয়।

উত্তর-পূর্ব ভারতের জীবনরেখা

ব্রহ্মপুত্র  নদকে উত্তর-পূর্ব ভারতের জীবনরেখা বলা হয়  এটি চীন, ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে জল, খাদ্য এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। এই নদীটি এই অঞ্চলের কৃষি, পরিবহন এবং সংস্কৃতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে, বর্ষাকালে এটি বন্যার কারণও হয়।

ব্রহ্মপুত্র নদীর একটি সংক্ষিপ্তসার

ব্রহ্মপুত্র  নদী তিব্বতের কৈলাস পর্বতমালা থেকে উৎপন্ন হয় এবং  সেখানে ইয়ারলুং সাংপো নামে পরিচিত। এটি অরুণাচল প্রদেশের মধ্য দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে, যেখানে এটি ধীলাং নদী নামে পরিচিত। লোহিত এবং দিবাংয়ের মতো অন্যান্য নদীতে মিলিত হওয়ার পর, আসামে এটিকে ব্রহ্মপুত্র বলা হয়। নদীটি এরপর বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়, যেখানে এটি গঙ্গার সাথে মিলিত হয় এবং অবশেষে বঙ্গোপসাগরে পৌঁছায়।

ব্রহ্মপুত্র নদীর মূল বৈশিষ্ট্য

  • দৈর্ঘ্য : ২,৯০০ কিমি, এশিয়ার দীর্ঘতম নদীগুলির মধ্যে একটি।

  • অববাহিকা এলাকা : বিভিন্ন দেশে ১.১৮ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার জুড়ে।

  • জলবিদ্যুৎ:  নদীতে অনেক বাঁধ এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে যা বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।

  • সাংস্কৃতিক গুরুত্ব:  হিন্দুধর্মে নদীকে পবিত্র বলে মনে করা হয়।

  • বাণিজ্য ও নৌচলাচল:  ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পরিবহনের জন্য জলপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ব্রহ্মপুত্র নদ কোন ভারতীয় রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে?

নদীটি ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

  • অরুণাচল প্রদেশ

  • আসাম

  • মেঘালয়

  • নাগাল্যান্ড

  • পশ্চিম নাগাল্যান্ড

  • সিকিম

ব্রহ্মপুত্র নদের প্রধান উপনদী

এই নদীর সাথে অনেক ছোট ছোট নদী (উপনদী) মিশেছে।

উত্তর তীরের উপনদী:

 

  • জিয়াধাল

  • সুবানসিরি

  • বিকেল

  • কামেং

  • খনি

  • সংকোশ

 

দক্ষিণ তীরের উপনদী:

 

  • নোয়া দেহিং

  • বুড়িদেহিং

  • ধানসিরি

  • জারজ

  • দিয়াগারু

উত্তর-পূর্ব ভারতে ব্রহ্মপুত্র নদীর ভূমিকা

  • কৃষিকাজ : নদীর চারপাশের উর্বর মাটি ধান, চা এবং পাট চাষের জন্য দুর্দান্ত। যদিও বন্যা বিপজ্জনক হতে পারে, তবুও এটি মাটিকে পুষ্টিতে সমৃদ্ধ করতেও সাহায্য করে।

  • জলবিদ্যুৎ :  নদীতে তীব্র স্রোত রয়েছে, যা এটিকে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য আদর্শ করে তোলে। এই প্রকল্পগুলি উত্তর-পূর্ব ভারতের অনেক অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।

  • মাছ ধরা এবং জীববৈচিত্র্য:  ব্রহ্মপুত্র নদীতে গাঙ্গেয় ডলফিন সহ অনেক প্রজাতির মাছের আবাসস্থল। এটি বিখ্যাত কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানকেও সমর্থন করে, যেখানে একশৃঙ্গ গন্ডারের আবাসস্থল।

  • বন্যা নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ:  নদী যদিও সহায়ক, তবুও এটি প্রতি বছর বন্যার সৃষ্টি করে, যা ঘরবাড়ি, ফসল এবং রাস্তাঘাটের ক্ষতি করে। আরও ভালো বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রয়োজন।

ব্রহ্মপুত্র নদীর সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় তাৎপর্য

ব্রহ্মপুত্র নদ উত্তর-পূর্ব ভারতের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে গভীরভাবে জড়িত।

  • বিহু উৎসব: আসামের বৃহত্তম উৎসব, বিহুর কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত এই নদী, যা কৃষি মৌসুমের সূচনা করে।

  • মাজুলি দ্বীপ: বিশ্বের বৃহত্তম এই নদী দ্বীপটি আসামের একটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

  • পৌরাণিক কাহিনী: হিন্দু পুরাণে নদীটিকে “ব্রহ্মার পুত্র” বলা হয়, যা এটিকে একটি পুরুষালি পরিচয় দেয়।

ব্রহ্মপুত্র নদকে পুরুষ নদী বলা হয় কেন?

ভারতের বেশিরভাগ নদী, যেমন গঙ্গা এবং যমুনা, নারীবাদী হিসেবে বিবেচিত হয় এবং দেবী হিসেবে পূজা করা হয়। কিন্তু ব্রহ্মপুত্রকে পুরুষতান্ত্রিক হিসেবে বিবেচনা করা হয় কারণ এর তীব্র স্রোত, ঘন ঘন বন্যা এবং শক্তিশালী প্রকৃতি রয়েছে।

error: Content is protected !!
Scroll to Top