উত্তর: যেসব ধ্বনি স্বরধ্বনির সাহায্য ছাড়া নিজে নিজে স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হতে পারে না এবং উচ্চারণের সময় নিশ্বাসবায়ু মুখের কোথাও না কোথাও বাধা পায়, তাদের ব্যঞ্জনধ্বনি বলে।
২. ব্যঞ্জনবর্ণ কাকে বলে?
উত্তর: ব্যঞ্জনধ্বনির লিখিত রূপ বা চিহ্নকে ব্যঞ্জনবর্ণ বলা হয়।
৩. বাংলা বর্ণমালায় ব্যঞ্জনবর্ণ কয়টি?
উত্তর: বাংলা বর্ণমালায় মোট ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ আছে।
৪. স্পর্শ ধ্বনি কাকে বলে?
উত্তর: যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ মুখের কোনো না কোনো অংশ (যেমন— কণ্ঠ, তালু, মূর্ধা, দন্ত) স্পর্শ করে, তাদের স্পর্শ ধ্বনি বলে।
৫. ক-বর্গীয় ধ্বনি কোনগুলি?
উত্তর: ক, খ, গ, ঘ, ঙ— এই পাঁচটি হলো ক-বর্গীয় ধ্বনি।
৬. কণ্ঠধ্বনি কাকে বলে?
উত্তর: ক-বর্গের ধ্বনিগুলি উচ্চারণের সময় জিভের গোড়া কণ্ঠ বা গলা স্পর্শ করে বলে এদের কণ্ঠধ্বনি বলে।
৭. চ-বর্গীয় ধ্বনি কোনগুলি?
উত্তর: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ— এই পাঁচটি হলো চ-বর্গীয় ধ্বনি।
৮. তালব্য ধ্বনি কাকে বলে?
উত্তর: চ-বর্গের ধ্বনিগুলি উচ্চারণের সময় জিভ তালু স্পর্শ করে বলে এদের তালব্য ধ্বনি বলা হয়।
৯. ট-বর্গীয় ধ্বনি কোনগুলি?
উত্তর: ট, ঠ, ড, ঢ, ণ— এই পাঁচটি হলো ট-বর্গীয় ধ্বনি।
১০. মূর্ধন্য ধ্বনি কাকে বলে?
উত্তর: ট-বর্গের ধ্বনিগুলি উচ্চারণের সময় জিভ মূর্ধা স্পর্শ করে বলে এদের মূর্ধন্য ধ্বনি বলে।
১১. ত-বর্গীয় ধ্বনি কোনগুলি?
উত্তর: ত, থ, দ, ধ, ন— এই পাঁচটি হলো ত-বর্গীয় ধ্বনি।
১২. দন্ত্য ধ্বনি কাকে বলে?
উত্তর: ত-বর্গের ধ্বনিগুলি উচ্চারণের সময় জিভ উপরের পাটির দাঁত স্পর্শ করে বলে এদের দন্ত্য ধ্বনি বলে।
১৩. প-বর্গীয় ধ্বনি কোনগুলি?
উত্তর: প, ফ, ব, ভ, ম— এই পাঁচটি হলো প-বর্গীয় ধ্বনি।
১৪. ওষ্ঠ্য ধ্বনি কাকে বলে?
উত্তর: প-বর্গের ধ্বনিগুলি উচ্চারণের সময় দুই ঠোঁট বা ওষ্ঠের মিলন ঘটে বলে এদের ওষ্ঠ্য ধ্বনি বলে।
১৫. নাসিক্য ধ্বনি কাকে বলে?
উত্তর: প্রতিটি বর্গের পঞ্চম ধ্বনিগুলি (ঙ, ঞ, ণ, ন, ম) উচ্চারণের সময় বাতাস নাক দিয়ে বের হয় বলে এদের নাসিক্য ধ্বনি বলে।
১৬. অঘোষ ধ্বনি কাকে বলে?
উত্তর: বর্গের প্রথম ও দ্বিতীয় ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী বেশি কাঁপে না, তাই এদের অঘোষ ধ্বনি বলে (যেমন— ক, খ)।
১৭. ঘোষ ধ্বনি কাকে বলে?
উত্তর: বর্গের তৃতীয় ও চতুর্থ ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী বেশি কাঁপে এবং গলার আওয়াজ গম্ভীর হয়, এদের ঘোষ ধ্বনি বলে (যেমন— গ, ঘ)।
১৮. অল্পপ্রাণ ধ্বনি কাকে বলে?
উত্তর: যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের আধিক্য থাকে না বা শ্বাসবায়ু কম লাগে, তাদের অল্পপ্রাণ ধ্বনি বলে (বর্গের ১ম ও ৩য় ধ্বনি)।
১৯. মহাপ্রাণ ধ্বনি কাকে বলে?
উত্তর: যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের আধিক্য থাকে বা শ্বাসবায়ু বেশি জোরে বের হয়, তাদের মহাপ্রাণ ধ্বনি বলে (বর্গের ২য় ও ৪র্থ ধ্বনি)।
২০. অন্তঃস্থ ধ্বনি কোনগুলি?
উত্তর: য, র, ল, ব— এই চারটি বর্ণ স্পর্শ ধ্বনি ও উষ্ম ধ্বনির মাঝখানে অবস্থিত বলে এদের অন্তঃস্থ ধ্বনি বলে।
২১. উষ্ম ধ্বনি কাকে বলে?
উত্তর: শ, ষ, স, হ— এই ধ্বনিগুলি উচ্চারণের সময় বাতাসের ঘর্ষণে শিস দেওয়ার মতো আওয়াজ হয় এবং শ্বাসবায়ুর প্রাধান্য থাকে বলে এদের উষ্ম ধ্বনি বলে।
২২. শিস ধ্বনি কোনগুলি?
উত্তর: শ, ষ, স— এই তিনটি ধ্বনিকে শিস ধ্বনিও বলা হয়।
২৩. কম্পনজাত ধ্বনি কোনটি?
উত্তর: ‘র’ উচ্চারণের সময় জিভের ডগা কাঁপে বলে একে কম্পনজাত ধ্বনি বলে।
২৪. পার্শ্বিক ধ্বনি কাকে বলে?
উত্তর: ‘ল’ উচ্চারণের সময় বাতাস জিভের দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায় বলে একে পার্শ্বিক ধ্বনি বলে।
২৫. তাড়নজাত ধ্বনি কোনগুলি?
উত্তর: ‘ড়’ এবং ‘ঢ়’ উচ্চারণের সময় জিভের তলা দিয়ে মূর্ধায় আঘাত বা তাড়না করা হয় বলে এদের তাড়নজাত ধ্বনি বলে।
২৬. অযোগবাহ বা আশ্রয়স্থানভাগী বর্ণ কাকে বলে?
উত্তর: অনুস্বার (ং) এবং বিসর্গ (ঃ) একা উচ্চারিত হতে পারে না, অন্য বর্ণের সাহায্য নেয় বলে এদের অযোগবাহ বর্ণ বলে।
২৭. ‘ঙ’ ধ্বনিটি কী জাতীয় ধ্বনি?
উত্তর: ‘ঙ’ একটি কণ্ঠ্য এবং নাসিক্য ধ্বনি।
২৮. ‘ম’ ধ্বনিটি উচ্চারণের স্থান কোথায়?
উত্তর: ‘ম’ ধ্বনিটি ওষ্ঠের সাহায্যে উচ্চারিত হয়, তাই এটি ওষ্ঠ্য ধ্বনি।
২৯. হ-কে ঘোষ ধ্বনি বলা হয় কেন?
উত্তর: ‘হ’ উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী খুব বেশি কাঁপে বলে একে ঘোষ ধ্বনি বলা হয়।
৩০. পরাশ্রয়ী বর্ণ কোনটি?
উত্তর: চন্দ্রবিন্দু (ঁ) অন্য বর্ণের মাথায় বসে উচ্চারিত হয় বলে একে পরাশ্রয়ী বর্ণ বলে।
৩১. বর্গের কত নম্বর ধ্বনিগুলি অল্পপ্রাণ?
উত্তর: বর্গের প্রথম এবং তৃতীয় ধ্বনিগুলি অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
৩২. বর্গের কত নম্বর ধ্বনিগুলি মহাপ্রাণ?
উত্তর: বর্গের দ্বিতীয় এবং চতুর্থ ধ্বনিগুলি মহাপ্রাণ ধ্বনি।
৩৩. খণ্ড ত (ৎ) আসলে কোন বর্ণের রূপান্তর?
উত্তর: খণ্ড ত (ৎ) হলো আসলে ‘ত’ বর্ণের হসন্ত রূপ।
৩৪. বর্গ কাকে বলে?
উত্তর: উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিগুলিকে যে পাঁচটি প্রধান দলে ভাগ করা হয়েছে, তাদের একেকটি বর্গ বলে।
৩৫. ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণে প্রধান ভূমিকা কার?
উত্তর: ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণে প্রধান ভূমিকা পালন করে জিভ এবং ঠোঁট।