চতুর্থ শ্রেণির ‘ভাষা পাঠ’ অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্ন এবং উত্তর ষষ্ঠ অধ্যায় ‘যতিচিহ্ন’ (৪২-৪৭ পৃষ্ঠা) থেকে প্রশ্ন ও উত্তর: ——————————————————————– ১. যতিচিহ্ন কাকে বলে? উত্তর: মনের ভাব স্পষ্টভাবে প্রকাশের জন্য এবং পড়ার সময় কথা বলার স্বাচ্ছন্দ্য ও বিরতি বোঝাতে যেসব সংকেত বা চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তাদের যতিচিহ্ন বলে। ২. যতিচিহ্ন ব্যবহারের প্রধান উদ্দেশ্য কী? উত্তর: বাক্যের অর্থ স্পষ্টভাবে বোঝানো এবং পড়ার সময় কোথায় কতটা থামতে হবে তা নির্দেশ করা। ৩. বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কয়েকটি প্রধান যতিচিহ্নের নাম লেখো। উত্তর: কমা, সেমিকোলন, পূর্ণচ্ছেদ (দাঁড়ি), প্রশ্নচিহ্ন, বিস্ময়চিহ্ন ইত্যাদি। ৪. কমা ( , ) কোথায় ব্যবহৃত হয়? উত্তর: বাক্যের মধ্যে খুব অল্প বিরতি বোঝাতে বা একই জাতীয় একাধিক শব্দকে আলাদা করতে কমা ব্যবহৃত হয়। ৫. দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ ( । ) কেন ব্যবহার করা হয়? উত্তর: একটি বাক্যের শেষে যখন মনের ভাব পুরোপুরি শেষ হয়, তখন দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ ব্যবহার করা হয়। ৬. প্রশ্নচিহ্ন ( ? ) কখন বসে? উত্তর: কোনো বাক্যে কিছু জানতে চাওয়া হলে বা প্রশ্ন করা হলে সেই বাক্যের শেষে প্রশ্নচিহ্ন বসে। ৭. বিস্ময়চিহ্ন ( ! ) কোথায় বসে? উত্তর: মনের আনন্দ, দুঃখ, বিস্ময় বা আবেগ প্রকাশ পেলে সেই শব্দের বা বাক্যের শেষে বিস্ময়চিহ্ন বসে। ৮. সেমিকোলন ( ; ) কখন ব্যবহার করা হয়? উত্তর: কমার চেয়ে বেশি কিন্তু দাঁড়ির চেয়ে কম বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়। ৯. কোলন ( : ) চিহ্নের কাজ কী? উত্তর: কোনো উদাহরণ দেওয়ার আগে বা কোনো বিষয়ের তালিকা দেওয়ার আগে কোলন বসে। ১০. ড্যাস ( — ) চিহ্ন কখন ব্যবহৃত হয়? উত্তর: দুটি পৃথক বাক্যের মধ্যে সম্বন্ধ বোঝাতে বা কোনো কথার ব্যাখ্যা দিতে ড্যাস চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। ১১. হাইফেন ( – ) ও ড্যাস ( — )-এর মধ্যে তফাত কী? উত্তর: হাইফেন আকারে ছোট এবং দুটি শব্দকে যুক্ত করতে বসে, আর ড্যাস আকারে বড় এবং বাক্যের বিভিন্ন অংশকে আলাদা বা যুক্ত করতে বসে। ১২. উদ্ধৃতি চিহ্ন ( ” ” ) কেন ব্যবহার করা হয়? উত্তর: কারোর মুখের কথা হুবহু বোঝাতে বা কোনো বিশেষ নাম বোঝাতে উদ্ধৃতি চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। ১৩. বন্ধনী ( ) কেন ব্যবহার করা হয়? উত্তর: কোনো শব্দের অতিরিক্ত অর্থ বা ব্যাখ্যা পরিষ্কার করতে বন্ধনী ব্যবহৃত হয়। ১৪. বিন্দু বা হসন্ত চিহ্ন কখন বসে? উত্তর: শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ বোঝাতে বা বর্ণের বিশেষ উচ্চারণে বিন্দু ব্যবহৃত হয়। ১৫. ‘দাঁড়ি’ চিহ্নের অন্য নাম কী? উত্তর: পূর্ণচ্ছেদ। ১৬. ঠিকমতো যতিচিহ্ন না বসালে কী অসুবিধা হতে পারে? উত্তর: বাক্যের অর্থ বদলে যেতে পারে এবং মনের ভাব অস্পষ্ট থেকে যেতে পারে। ১৭. একটি উদাহরণ দাও যেখানে যতিচিহ্নের ভুলে অর্থ বদলে যায়। উত্তর: “এখানে থুতু ফেলবেন না, ফেললে জরিমানা হবে” বনাম “এখানে থুতু ফেলবেন, না ফেললে জরিমানা হবে।” ১৮. সম্বোধন পদের পর কোন যতিচিহ্ন বসে? উত্তর: সাধারণত কমা বসে। যেমন— মা, আমায় খেতে দাও। ১৯. তালিকায় অনেক নাম থাকলে তাদের মাঝে কোন চিহ্ন বসে? উত্তর: কমা বসে। ২০. বাংলা বাক্যের শেষে সাধারণত কোন চিহ্ন বসে? উত্তর: দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ। ২১. ‘আরে! তুমি কখন এলে?’— এখানে কোন কোন যতিচিহ্ন আছে? উত্তর: বিস্ময়চিহ্ন ও প্রশ্নচিহ্ন। ২২. যতিচিহ্ন ব্যবহারের নিয়মকে কী বলা হয়? উত্তর: যতিপাত বা যতিচিহ্ন প্রকরণ। ২৩. হাইফেন কি শব্দের মাঝে বসে? উত্তর: হ্যাঁ, যেমন— মা-বাবা, ভাই-বোন। ২৪. ‘উপমা বলল, “আমি কাল যাব।”‘— এখানে ‘উপমা বলল’-র পর কোন চিহ্ন বসেছে? উত্তর: কমা। ২৫. বইটির ৪২-৪৭ পৃষ্ঠায় কোন যতিচিহ্নের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে? উত্তর: সাধারণ যতিচিহ্ন যেমন কমা, দাঁড়ি, প্রশ্নচিহ্ন ও বিস্ময়চিহ্নের সঠিক প্রয়োগের ওপর। ©kamaleshforeducation.in(2023) Share this: Click to share on Facebook (Opens in new window) Facebook Click to share on X (Opens in new window) X Like this:Like Loading... Related