তৃতীয় শ্রেণি
‘আমাদের পরিবেশ’
বই থেকে অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
————————————————————————-
চতুর্থ অধ্যায়
‘ঘরবাড়ি’ (পৃষ্ঠা ১০৯-১৫০)
প্রশ্ন ও উত্তর
————————————————————————-
১. প্রশ্ন: আদিম মানুষ কেন গুহায় বাস করত?
উত্তর: রোদ, বৃষ্টি, প্রবল ঠান্ডা এবং বন্য পশুর হাত থেকে বাঁচতে আদিম মানুষ গুহায় বাস করত।
২. প্রশ্ন: গুহা থেকে বেরিয়ে মানুষ প্রথম কেমন বাড়ি তৈরি করেছিল?
উত্তর: মানুষ বনজঙ্গল থেকে ডালপালা ও লতাপাতা সংগ্রহ করে কুঁড়েঘর তৈরি করেছিল।
৩. প্রশ্ন: যাযাবর কাদের বলা হয়?
উত্তর: যারা এক জায়গায় পাকাপাকিভাবে না থেকে খাবারের সন্ধানে বা কাজের জন্য ঘুরে বেড়ায়, তাদের যাযাবর বলা হয়।
৪. প্রশ্ন: যাযাবররা কেন তাঁবু ব্যবহার করে?
উত্তর: তাঁবু সহজেই গুটিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায় বলে যাযাবররা এটি ব্যবহার করে।
৫. প্রশ্ন: কাঁচা বাড়ি তৈরি করতে কী কী উপকরণ লাগে?
উত্তর: কাদা, বাঁশ, খড়, লতাপাতা এবং টালি বা খাপরা লাগে।
৬. প্রশ্ন: পাকা বাড়ি তৈরিতে কী কী লাগে?
উত্তর: ইট, বালি, সিমেন্ট, পাথর এবং লোহার রড লাগে।
৭. প্রশ্ন: বাড়ির দেওয়াল তৈরি করতে কী ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: কাঁচা বাড়ির জন্য কাদা বা বাঁশের বাখারি এবং পাকা বাড়ির জন্য ইট ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়।
৮. প্রশ্ন: ছাদ পিটানো কী?
উত্তর: পুরনো দিনে কড়ি-বরগার ওপর চুন-সুরকি দিয়ে ছাদ মজবুত করার প্রক্রিয়াকে ছাদ পিটানো বলা হতো।
৯. প্রশ্ন: ধামসা ও মাদল কোন ধরনের বাড়িতে সাজানো থাকে?
উত্তর: সাধারণত সাঁওতাল বা আদিবাসী সম্প্রদায়ের মাটির বাড়ির দাওয়ায় বা ভেতরে এগুলো দেখা যায়।
১০. প্রশ্ন: পাহাড়ি এলাকায় ঢালু ছাদের বাড়ি কেন তৈরি করা হয়?
উত্তর: যাতে বৃষ্টির জল বা বরফ সহজেই গড়িয়ে নিচে পড়ে যায় এবং ছাদে জমে না থাকে।
১১. প্রশ্ন: তালপাতার ছাউনি দেওয়া ঘর কোথায় বেশি দেখা যায়?
উত্তর: যেখানে প্রচুর তাল গাছ আছে এমন গ্রাম্য এলাকায়।
১২. প্রশ্ন: গোলপাতা কী কাজে লাগে?
উত্তর: সুন্দরবন এলাকায় ঘরের ছাউনি বা চাল তৈরির কাজে গোলপাতা ব্যবহার করা হয়।
১৩. প্রশ্ন: খড় বা বিচালি দিয়ে তৈরি ছাদকে কী বলা হয়?
উত্তর: খড়ের চালা বা খড়ের ছাউনি।
১৪. প্রশ্ন: বরফের তৈরি বাড়িকে কী বলা হয়?
উত্তর: ইগলু (Igloo)।
১৫. প্রশ্ন: ইগলুতে কারা বাস করে?
উত্তর: উত্তর মেরুর এস্কিমোরা ইগলুতে বাস করে।
১৬. প্রশ্ন: বাড়ি তৈরির আগে কেন ভিত খুঁড়তে হয়?
উত্তর: মাটির গভীরে ভিত শক্ত হলে তবেই বাড়িটি মজবুত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
১৭. প্রশ্ন: বাড়ির জানালা কেন বড় রাখা উচিত?
উত্তর: ঘরে আলো-বাতাস চলাচলের জন্য এবং সুস্থ থাকার জন্য বড় জানালা প্রয়োজন।
১৮. প্রশ্ন: চিলেকোঠা কাকে বলে?
উত্তর: ছাদের ওপর সিঁড়িঘরের পাশে ছোট যে ঘরটি থাকে তাকে চিলেকোঠা বলে।
১৯. প্রশ্ন: ঘরবাড়ি পরিষ্কার না রাখলে কী হতে পারে?
উত্তর: নোংরা ও স্যাঁতসেঁতে ঘরে রোগজীবাণু ছড়ায় এবং মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ে।
২০. প্রশ্ন: খাট বা চৌকি কী দিয়ে তৈরি হয়?
উত্তর: কাঠ বা লোহার ফ্রেম দিয়ে।
২১. প্রশ্ন: কার্নিশ কাকে বলে?
উত্তর: ছাদের যে অংশটি দেওয়ালের বাইরের দিকে সামান্য বাড়ানো থাকে তাকে কার্নিশ বলে।
২২. প্রশ্ন: ড্রেন বা নর্দমা কেন পরিষ্কার রাখা জরুরি?
উত্তর: যাতে জল জমে মশা ডিম পাড়তে না পারে এবং দুর্গন্ধ না ছড়ায়।
২৩. প্রশ্ন: রাজমিস্ত্রিরা কী কাজ করেন?
উত্তর: ইট, বালি, সিমেন্ট দিয়ে দেওয়াল ও ছাদ তৈরির কাজ করেন।
২৪. প্রশ্ন: ঘরামি কাদের বলা হয়?
উত্তর: যারা বাঁশ, খড় ও মাটি দিয়ে কাঁচা ঘর তৈরি করেন বা চাল ছাওয়ার কাজ করেন।
২৫. প্রশ্ন: মাল্টিস্টোরি বা বহুতল বাড়ি বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: এক তলার ওপর অনেকগুলো তলা থাকা বাড়িকে বহুতল বাড়ি বলে।
২৬. প্রশ্ন: লিফট (Lift) কেন ব্যবহার করা হয়?
উত্তর : বহুতল বাড়িতে খুব সহজে ওঠানামা করার জন্য লিফট ব্যবহার করা হয়।
২৭. প্রশ্ন: কেন জল নিকাশি ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন?
উত্তর: রান্নাঘর বা স্নানঘরের নোংরা জল যাতে ঠিকমতো বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে।
২৮. প্রশ্ন: মেঝের যত্ন কীভাবে নেওয়া উচিত?
উত্তর: প্রতিদিন ফিনাইল বা জীবাণুনাশক দিয়ে মেঝে মোছা উচিত।
২৯. প্রশ্ন: পশুপাখিরা কোথায় থাকে?
উত্তর: পাখিরা বাসায় থাকে, বাঘ বা সিংহ গুহায় এবং পিঁপড়েরা গর্তে থাকে।
৩০. প্রশ্ন: বাড়ির দেওয়ালে কেন চুনকাম বা রং করা হয়?
উত্তর: দেওয়ালকে ড্যাম্প বা নোনা ধরার হাত থেকে বাঁচাতে এবং সুন্দর দেখাতে।
৩১. প্রশ্ন: বারান্দা কী কাজে লাগে?
উত্তর: বাইরের খোলা হাওয়া উপভোগ করতে এবং রোদ পোহাতে বারান্দা ব্যবহার করা হয়।
৩২. প্রশ্ন: কেন বাড়ির আশেপাশে গাছ লাগানো দরকার?
উত্তর: গাছ পরিবেশ ঠান্ডা রাখে এবং ঘরকে অক্সিজেন জোগায়।
৩৩. প্রশ্ন: চিমনির কাজ কী? 
উত্তর: রান্নাঘরের ধোঁয়া বাইরে বের করে দেওয়ার জন্য চিমনি ব্যবহার করা হয়।
৩৪. প্রশ্ন: শৌচাগার বা টয়লেট বাড়ির বাইরে থাকা ভালো না ভেতরে?
উত্তর: বর্তমানের স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী আধুনিক পাকা বাড়িতে ভেতরে থাকা ভালো, তবে সেটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
৩৫. প্রশ্ন: ভেন্টিলেটর কেন থাকে?
উত্তর: ঘরের গরম হাওয়া বের করে দেওয়ার জন্য দেওয়ালের উঁচুতে ভেন্টিলেটর থাকে।
৩৬. প্রশ্ন: কড়ি-বরগা বর্তমানে দেখা যায় না কেন?
উত্তর: বর্তমানে লোহার রড ও কংক্রিটের ছাদ তৈরি হয় বলে কড়ি-বরগার প্রয়োজন পড়ে না।
৩৭. প্রশ্ন: প্লাইউড কী কাজে লাগে?
উত্তর: ঘরের দরজা, জানালা ও আসবাবপত্র তৈরিতে প্লাইউড ব্যবহৃত হয়।
৩৮. প্রশ্ন: মাটির বাড়ির সুবিধা কী?
উত্তর: মাটির বাড়ি গরমকালে ঠান্ডা এবং শীতকালে গরম থাকে।
৩৯. প্রশ্ন: কেন জলাভূমির ওপর বাড়ি তৈরি করা বিপজ্জনক?
উত্তর: মাটির নিচে জল থাকলে বাড়ি বসে যেতে পারে বা ধসে যেতে পারে।
৪০. প্রশ্ন: টাইলাইল বা মার্বেল কোথায় লাগানো হয়?
উত্তর: ঘরের মেঝে বা দেওয়ালে সৌন্দর্য বাড়াতে এবং সহজে পরিষ্কার রাখতে।
৪১. প্রশ্ন: গ্রিল কেন লাগানো হয়?
উত্তর: জানালার সুরক্ষা এবং চোর-ডাকাতের হাত থেকে বাঁচতে।
৪২. প্রশ্ন: ছনের চাল কী?
উত্তর: শন নামক এক প্রকার ঘাস দিয়ে তৈরি ঘরের ছাউনি।
৪৩. প্রশ্ন: মানুষ কেন দল বেঁধে থাকা শুরু করল?
উত্তর: বন্য পশুর আক্রমণ থেকে বাঁচতে এবং কাজের সুবিধার জন্য।
৪৪. প্রশ্ন: কদম গাছ বা বাঁশ বাগান কি বাড়ির একদম কাছে থাকা ভালো?
উত্তর: না, কারণ এতে পোকা বা সাপের উপদ্রব হতে পারে।
৪৫. প্রশ্ন: টালি কী দিয়ে তৈরি হয়?
উত্তর: কাদা মাটি পুড়িয়ে টালি তৈরি করা হয়।
৪৬. প্রশ্ন: অ্যাজবেস্টস বা টিনের চালের অসুবিধা কী?
উত্তর: এগুলো রোদ পড়লে খুব বেশি গরম হয়ে যায় এবং বৃষ্টিতে খুব আওয়াজ হয়।
৪৭. প্রশ্ন: কুয়ো বা টিউবওয়েল বাড়ির থেকে দূরে থাকা ভালো কেন?
উত্তর: যাতে শৌচাগারের নোংরা জল পানীয় জলের উৎসে মিশে না যায়।
৪৮. প্রশ্ন: পুরনো দিনের জমিদার বাড়িগুলো কেমন হতো?
উত্তর: অনেক বড়, চওড়া দেওয়াল এবং বিশাল ঠাকুরদালান যুক্ত।
৪৯. প্রশ্ন: ঘর তৈরির জন্য কাঠ সংগ্রহ করা কি ভালো?
উত্তর: অপ্রয়োজনে গাছ কাটা ঠিক নয়, তাই বর্তমানে কাঠের বিকল্প ব্যবহার বাড়ানো উচিত।
৫০. প্রশ্ন: বাড়ির আদর্শ পরিবেশ কেমন হওয়া উচিত?
উত্তর: যেখানে পর্যাপ্ত আলো, বাতাস, পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তা থাকে।





