‘আফ্রিকা’ কবিতা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

উত্তর সহ নোটস (MCQ ও বড় প্রশ্ন)

Class 10 বাংলা

Updated on: 

আজকে  আমরা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আফ্রিকা কবিতাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব, যা   দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যক্রমের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই মর্মস্পর্শী কবিতার মধ্যে দিয়ে আমরা জানতে পারব কীভাবে প্রকৃতির শান্ত কোল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আফ্রিকা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির লোভ ও লালসার শিকার হয়েছিল।

বিষয়

বিবরণ

কবিতা

আফ্রিকা

কবি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

গৃহীত (উৎস)

‘পত্রপুট’ কাব্যগ্রন্থ

বোর্ড: বিষয়বস্তু

1আফ্রিকা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (দশম শ্রেণী বাংলা কবিতা) | Africa Kobita

2 আফ্রিকা কবিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (সহজ বাংলা অর্থ) লাইন ধরে

3 আফ্রিকা কবিতার প্রশ্ন উত্তর (Africa Rabindranath Tagore) অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (MCQ)

3.1 ‘আফ্রিকা’ কবিতার ছোট প্রশ্ন উত্তর (প্রশ্নমান: ০১) Africa Short Question Answer

3.2 ‘আফ্রিকা’ কবিতার বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর (৩ নম্বর)

3.3 ‘আফ্রিকা’ কবিতার ব্যখ্যামূলক বা বড় প্রশ্ন (৫ নম্বর)

আফ্রিকা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

(দশম শ্রেণী বাংলা কবিতা)  

আজকের এই পোস্টে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরেরলেখা ‘আফ্রিকা’ কবিতাটির উৎস, কবিতার সারাংশ, কবিতার নামকরণের তাৎপর্যতা এবং প্রশ্ন উত্তর খুব সহজ ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে।

আফ্রিকা কবিতার উৎস ও পটভূমি

‘আফ্রিকা’ কবিতাটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা। এটি প্রথমে ১৩৪৩ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাসে ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং পরবর্তীতে কবির ‘পত্রপুট’ কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণে অন্তর্ভুক্ত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে, ইতালির ফ্যাসিস্ট শাসক মুসোলিনি যখন ইথিওপিয়া (আবিসিনিয়া) আক্রমণ করেন, সেই সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের রক্তাক্ত পটভূমিতে কবি এই প্রতিবাদী কবিতাটি রচনা করেন।

 

আফ্রিকা: কবিতার সারাংশ

 

কবিতার শুরুতে পৃথিবীর আদিম রূপের কথা বলা হয়েছে। সৃষ্টির আদি লগ্নে স্রষ্টা যখন নিজের সৃষ্টি নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে বারবার তা ভাঙছিলেন, তখন রুদ্র সমুদ্রের বাহু প্রাচ্যের ভূখণ্ড থেকে আফ্রিকাকে ছিন্ন করে নিয়ে যায়। ঘন জঙ্গলের অন্ধকারে আফ্রিকা নিজেকে চিনতে শুরু করে, প্রকৃতির দুর্গম রহস্যকে আয়ত্ত করে। এরপর যুগ যুগ ধরে আফ্রিকা সভ্য জগতের চোখের আড়ালে উপেক্ষিত ছিল।

কিন্তু একদিন সেই শান্ত আফ্রিকায় সাম্রাজ্যবাদী ইউরোপীয় শক্তি প্রবেশ করে, যাদের কবি ‘লোহার হাতকড়ি পরা’ নেকড়ের দলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তারা আফ্রিকার সম্পদ লুণ্ঠন করে এবং সেখানকার নিরীহ মানুষদের ওপর পশুর চেয়েও নির্মম অত্যাচার চালায়। আফ্রিকার রক্ত আর চোখের জলে সেখানকার মাটি কাদায় পরিণত হয়। সাম্রাজ্যবাদীদের কাঁটা-মারা জুতোর তলায় আফ্রিকার ইতিহাসে এক চিরস্থায়ী ক্ষতচিহ্ন তৈরি হয়।

অথচ সেই সময়েই ইউরোপে পাড়ায় পাড়ায় মন্দিরে পুজো হচ্ছে, মায়েরা শিশুদের নিয়ে খেলছে। কবিতার শেষে, আসন্ন বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলার মুখে দাঁড়িয়ে কবি ‘যুগান্তের কবিকে’ আহ্বান জানিয়েছেন, সেই অপমানিতা আফ্রিকার কাছে গিয়ে ক্ষমাপ্রার্থনা করার জন্য। এই ক্ষমাপ্রার্থনাই হলো সভ্যতার পুণ্যবাণী।

নামকরণের তাৎপর্য

 

সাহিত্যে নামকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তা রচনার অন্তরের কথাটি প্রকাশ করে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতায় একটি আস্ত মহাদেশের জন্মবৃত্তান্ত, তার ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা, নির্জনতা এবং পরবর্তীতে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দ্বারা তার লাঞ্ছনা ও শোষণের ইতিহাস অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ফুটে উঠেছে। আফ্রিকার আদিম রূপের বর্ণনা দিয়ে শুরু হলেও, ইউরোপীয়দের নির্মম অত্যাচার এবং আফ্রিকার বুকফাটা আর্তনাদই কবিতার মূল উপজীব্য। যেহেতু সমগ্র কবিতাটি আফ্রিকা মহাদেশের অতীত ও বর্তমান অবস্থাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে, তাই “আফ্রিকা” নামকরণটি সর্বতোভাবে সার্থক, বিষয়বস্তু-নির্ভর ও ব্যঞ্জনাধর্মী হয়েছে।

আফ্রিকা কবিতা 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

(সহজ বাংলা অর্থ) লাইন ধরে

শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতার মূল বিষয়বস্তু বা অর্থ লাইন ধরে ধরে স্তবক অনুযায়ী সহজ ভাষায় নিচে আলোচনা করা হলো:

প্রথম স্তবক:

উদ্ভ্রান্ত সেই আদিম যুগে
স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি অসন্তোষে
নতুন সৃষ্টিকে বারবার করছিলেন বিধ্বস্ত,
তাঁর সেই অধৈর্যে ঘন-ঘন মাথা নাড়ার দিনে
রুদ্র সমুদ্রের বাহু
প্রাচী ধরিত্রীর বুকের থেকে
ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে, আফ্রিকা-
বাঁধলে তোমাকে বনস্পতির নিবিড় পাহারায়
কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে।

 

সহজ অর্থ: সৃষ্টির একেবারে শুরুর দিকের কথা । সৃষ্টিকর্তা তখন নিজের তৈরি করা পৃথিবী নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না, তাই তিনি বারবার নিজের সৃষ্টিকে ভাঙছিলেন আর নতুন করে গড়ছিলেন । তাঁর সেই অস্থিরতার সময়ে রুদ্র বা ভয়ংকর সমুদ্রের ঢেউ এশিয়ার মূল ভূখণ্ড (প্রাচী ধরিত্রী) থেকে আফ্রিকাকে বিচ্ছিন্ন করে নেয় । এরপর আফ্রিকাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে বড়ো বড়ো গাছপালা আর ঘন জঙ্গল । জঙ্গল এতই ঘন ছিল যে সেখানে সূর্যের আলোও ঠিকমতো পৌঁছাতে পারত না, তাই সেই জায়গাকে ‘কৃপণ আলোর অন্তঃপুর’ বলা হয়েছে ।

 

দ্বিতীয় স্তবক:

 

সেখানে নিভৃত অবকাশে তুমি
সংগ্রহ করছিলে দুর্গমের রহস্য,
চিনছিলে জলস্থল-আকাশের দুর্বোধ সংকেত,
প্রকৃতির দৃষ্টি-অতীত জাদু
মন্ত্র জাগাচ্ছিল, তোমার চেতনাতীত মনে।
বিদ্রূপ করছিলে ভীষণকে
বিরূপের ছদ্মবেশে,
শঙ্কাকে চাচ্ছিলে হার মানাতে
আপনাকে উগ্র ক’রে বিভীষিকার প্রচণ্ড মহিমায়
তাণ্ডবের দুন্দুভিনিনাদে।

 

সহজ অর্থ: সেই দুর্গম ও নির্জন পরিবেশে আফ্রিকা প্রকৃতির রহস্যগুলো নিজের মতো করে চিনে নিচ্ছিল । জল, স্থল আর আকাশের দুর্বোধ্য সংকেতগুলো সে বোঝার চেষ্টা করছিল । প্রকৃতির এই ভয়ংকর ও উগ্র রূপ ধারণ করে আফ্রিকা আসলে নিজের ভেতরের ভয়কে জয় করতে চেয়েছিল । সে যেন এক ভয়ংকর রূপের ছদ্মবেশ ধারণ করে প্রকৃতির রুদ্র রূপকেই বিদ্রুপ করছিল ।

 

তৃতীয় স্তবক:

 

হায় ছায়াবৃতা,
কালো ঘোমটার নীচে
অপরিচিত ছিল তোমার মানবরূপ
উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে।
এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে,
নখ যাদের তীক্ষ্ম তোমার নেকড়ের চেয়ে,
এল মানুষ-ধরার দল
গর্বে যারা অন্ধ তোমার সূর্যহারা অরণ্যের চেয়ে।
সভ্যের বর্বর লোভ
নগ্ন করল আপন নির্লজ্জ অমানুষতা।
তোমার ভাষাহীন ক্রন্দনে বাষ্পাকুল অরণ্যপথে
পঙ্কিল হলো ধূলি তোমার রক্তে অশ্রুতে মিশে,
দস্যু-পায়ের কাঁটা-মারা জুতোর তলায়
বীভৎস কাদার পিন্ড
চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে।।

 

সহজ অর্থ: ঘন জঙ্গলে ঢাকা থাকার কারণে সভ্য দুনিয়া আফ্রিকার আসল রূপ চিনতে পারেনি, তারা আফ্রিকাকে অবজ্ঞার চোখে দেখত । এরপর সেখানে এল তথাকথিত সভ্য ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদীরা (মানুষ-ধরার দল), যাদের নখ নেকড়ের চেয়েও তীক্ষ্ণ এবং মন আফ্রিকার জঙ্গলের চেয়েও বেশি অন্ধকার । সম্পদের লোভে এই সভ্য মানুষগুলো নিজেদের নির্লজ্জ অমানুষিকতাকে প্রকট করে তুলল । তাদের অকথ্য অত্যাচারে আফ্রিকার মানুষদের রক্ত আর চোখের জলে সেখানকার পথের ধুলো কাদায় পরিণত হলো । দস্যুদের কাঁটা-মারা জুতোর তলায় পিষ্ট সেই কাদা আফ্রিকার ইতিহাসে এক চিরস্থায়ী অপমানের দাগ রেখে গেল ।

 

চতুর্থ স্তবক:

 

সমুদ্রপারে সেই মুহূর্তেই তাদের পাড়ায় পাড়ায়
মন্দিরে বাজছিল পূজার ঘণ্টা
সকালে সন্ধ্যায় দয়াময় দেবতার নামে;
শিশুরা খেলছিল মায়ের কোলে;
কবির সংগীতে বেজে উঠেছিল

 

সহজ অর্থ: আফ্রিকায় যখন এই পাশবিক অত্যাচার চলছে, ঠিক সেই সময়ে সমুদ্রের ওপারে সাম্রাজ্যবাদীদের নিজেদের দেশে কিন্তু শান্তির পরিবেশ ছিল । সেখানে সকাল-সন্ধ্যায় দয়াময় দেবতার মন্দিরে পূজার ঘণ্টা বাজছিল, শিশুরা নিরাপদে মায়ের কোলে খেলছিল এবং কবিরা তাদের গানে সুন্দরের বন্দনা করছিল । এটি সভ্য সমাজের ভণ্ডামিকে তুলে ধরে।

 

পঞ্চম স্তবক:

 

আজ যখন পশ্চিম দিগন্তে
প্রদোষকাল ঝঞ্ঝাবাতাসে রুদ্ধশ্বাস,
যখন গুপ্ত গহ্বর থেকে পশুরা বেরিয়ে এল-
অশুভ ধ্বনিতে ঘোষণা করল দিনের অন্তিমকাল,
এসো যুগান্তের কবি,
আসন্ন সন্ধ্যার শেষ রশ্মিপাতে
দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে;
বলো ‘ক্ষমা করো’-
হিংস্র প্রলাপের মধ্যে
সেই হোক তোমার সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী ।।

 

সহজ অর্থ: আজ যখন পশ্চিমের দেশগুলোতেও যুদ্ধের মেঘ (ঝঞ্ঝাবাতাস) ঘনিয়ে এসেছে এবং পশুসুলভ হিংস্রতা বেরিয়ে এসে ধ্বংসের (দিনের অন্তিমকাল) ডাক দিচ্ছে , তখন কবি ‘যুগান্তের কবি’-কে ডাক দিয়েছেন । আসন্ন ধ্বংসের বা যুগান্তরের আগে তিনি যেন সেই অপমানিতা আফ্রিকার (‘মানহারা মানবী’) দরজায় গিয়ে দাঁড়ান । সভ্য সমাজের হয়ে সমস্ত কৃতকর্মের জন্য বিনম্র চিত্তে ‘ক্ষমা করো’ বলে প্রার্থনা করেন । হিংসায় মত্ত এই পৃথিবীতে এই ক্ষমা প্রার্থনাই হোক সভ্যতার শেষ পবিত্র বাণী ।

আফ্রিকা কবিতার প্রশ্ন উত্তর

(Africa Rabindranath Tagore)

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (MCQ)

 

১. ‘প্রদোষকাল ঝঞ্ঝাবাতাসে রুদ্ধশ্বাস’- ‘প্রদোষ’ শব্দের অর্থ-
(ক) সন্ধ্যা

(খ) ভোর
(গ) রাত্রি
(ঘ) দুপুর
উত্তর: (ক) সন্ধ্যা

২. আফ্রিকা বিদ্রুপ করেছিল-
(ক) শঙ্কাকে

(খ) ভীষণকে
(গ) আপনাকে
(ঘ) নতুন সৃষ্টিকে
উত্তর: (খ) ভীষণকে

৩. ‘নখ যাদের তীক্ষ্ণ তোমার…’
(ক) বাঘের চেয়ে

(খ) সিংহের চেয়ে
(গ) হায়নার চেয়ে
(ঘ) নেকড়ের চেয়ে
উত্তর: (ঘ) নেকড়ের চেয়ে

৪. ‘এলো ওরা লোহার হতকড়ি নিয়ে’- ‘ওরা’ হল-
(ক) আমেরিকানরা

(খ) ইউরোপীয়রা
(গ) ভারতীয়রা
(ঘ) আফ্রিকানরা
উত্তর: (খ) ইউরোপীয়রা

৫. আফ্রিকার ক্রন্দন কেমন?
(ক) উগ্র
(খ) বীভৎস
(গ) আবিল
(ঘ) ভাষাহীন
উত্তর: (ঘ) ভাষাহীন

৬. নিভৃত অবকাশে আফ্রিকা চিনেছিল-
(ক) দুর্গমের রহস্য

(খ) জল স্থল আকাশের দুর্বোধ সংকেত
(গ) প্রাকৃতিক রহস্য
(ঘ) রহস্য ও দুর্বোধ সংকেত
উত্তর: (খ) জল স্থল আকাশের দুর্বোধ সংকেত

৭. স্রষ্টা ঘন ঘন মাথা নেড়ে ছিলেন-
(ক) অসন্তোষে

(খ) অধৈর্যে
(গ) যন্ত্রণায়
(ঘ) অতৃপ্তিতে
উত্তর: (খ) অধৈর্যে

৮. ‘আফ্রিকা’ কবিতায় সমুদ্রকে যে বিশেষণে বিশেষায়িত করা হয়েছে-
(ক) শান্ত

(খ) রুদ্র
(গ) উগ্র
(ঘ) ভয়ঙ্কর
উত্তর: (খ) রুদ্র

৯. নতুন সৃষ্টিকে বারবার বিধ্বস্ত করেছিলেন-
(ক) সাম্রাজ্যবাদীরা

(খ) রুদ্র সমুদ্রের বাহু
(গ) স্রষ্টা
(ঘ) দস্যুরা
উত্তর: (গ) স্রষ্টা

১০. ‘আপনাকে উগ্র ক’রে’ -নিজেকে উগ্র করেছিল-
(ক) স্রষ্টা

(খ) দয়াময় দেবতা
(গ) যুগান্তের কবি
(ঘ) আফ্রিকা
উত্তর: (ঘ) আফ্রিকা

১১. ‘মন্দিরে বাজছিল’-
(ক) ক্রন্দনধ্বনি

(খ) পূজার ঘণ্টা
(গ) শঙ্খ
(ঘ) দুন্দুভি
উত্তর: (খ) পূজার ঘণ্টা

১২. ‘শিশুরা খেলছিল’-
(ক) খেলার মাঠে

(খ) দোলনায়
(গ) মন্দিরে
(ঘ) মায়ের কোলে
উত্তর: (ঘ) মায়ের কোলে

১৩. প্রদোষ কালে পশুরা বেরিয়ে এসেছিল-
(ক) আফ্রিকার জঙ্গল থেকে

(খ) খাঁচার ভেতর থেকে
(গ) গুপ্ত গহ্বর থেকে
(ঘ) দিগন্তের থেকে
উত্তর: (গ) গুপ্ত গহ্বর থেকে

১৪. অশুভ ধ্বনিতে দিনের অন্তিম কাল ঘোষণা করেছিল-
(ক) ঝঞ্ঝা বাতাস

(খ) পশুরা
(গ) যুগান্তের কবি
(ঘ) দস্যুরা
উত্তর: (খ) পশুরা

১৫. রুদ্র সমুদ্রের বাহু আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে বেঁধে ফেলেছিল-
(ক) বনস্পতির নিবিড় পাহারায়

(খ) ঘন একাকিত্বে
(গ) সাম্রাজ্যবাদীদের মাঝে
(ঘ) হিংস্র প্রলাপের বন্ধনে
উত্তর: (ক) বনস্পতির নিবিড় পাহারায়

‘আফ্রিকা’ কবিতার ছোট প্রশ্ন উত্তর

(প্রশ্নমান: ০১) 

 

২. স্রষ্টা কাকে প্রাচ্যের ধরিত্রী থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন?
উত্তর: স্রষ্টা আফ্রিকাকে প্রাচ্যের ধরিত্রীর বুকের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।

৩. আফ্রিকাকে কে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল?
উত্তর: রুদ্র সমুদ্রের বাহু আফ্রিকাকে প্রাচ্যের ভূখণ্ড থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।

৪. “হায় ছায়াবৃতা” — এখানে ‘ছায়াবৃতা’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ঘন জঙ্গলে ঢাকা এবং সভ্য পৃথিবীর আলোর আড়ালে থাকা আফ্রিকা মহাদেশকে ‘ছায়াবৃতা’ বলা হয়েছে।

৫. “এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে” — ‘ওরা’ কারা?
উত্তর: ‘ওরা’ হলো সভ্যতার গর্বে অহংকারী, সাম্রাজ্যবাদী ইউরোপীয় শক্তি, যারা আফ্রিকায় উপনিবেশ স্থাপন ও লুণ্ঠন করতে এসেছিল।

৬. “নখ যাদের তীক্ষ্ণ তোমার…” — কাদের চেয়ে তীক্ষ্ণ নখের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: সাম্রাজ্যবাদীদের নখ নেকড়ে বাঘের চেয়েও তীক্ষ্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

৭. যুগান্তের কবিকে কোথায় দাঁড়াতে বলা হয়েছে?
উত্তর: যুগান্তের কবিকে মানহারা মানবীর (অর্থাৎ অপমানিতা আফ্রিকার) দ্বারে দাঁড়াতে বলা হয়েছে।

৮. “বলো ‘ক্ষমা করো’” — কাকে ক্ষমা করতে বলা হয়েছে?
উত্তর: যুগান্তের কবিকে সভ্য ইউরোপীয়দের হয়ে লাঞ্ছিতা ও অপমানিতা আফ্রিকা মহাদেশের কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে।

৯. “উদ্ভ্রান্ত সেই আদিম যুগে” — সেই আদিম যুগে স্রষ্টা কী করছিলেন?
উত্তর: সেই আদিম যুগে স্রষ্টা নিজের নতুন সৃষ্টির প্রতি অসন্তোষের কারণে বারবার নিজের সৃষ্টিকে ভাঙছিলেন ও গড়ছিলেন।

১০. আফ্রিকা কীভাবে নিজেকে চিনে নিচ্ছিল?
উত্তর: আফ্রিকা প্রকৃতির দৃষ্টি-অতীত জাদুর সাহায্যে দুর্গমের রহস্য আয়ত্ত করে এবং চেতনাতীত মনে দুর্বোধ সংকেত জাগিয়ে নিজেকে চিনে নিচ্ছিল।

১১. “শঙ্কাকে চাচ্ছিলে হার মানাতে” — আফ্রিকা কীভাবে শঙ্কাকে হার মানাতে চেয়েছিল?
উত্তর: আফ্রিকা নিজেকে উগ্র করে তুলে, বিভীষিকার প্রচণ্ড মহিমায় এবং তাণ্ডবের দুন্দুভিনিনাদে শঙ্কা বা ভয়কে হার মানাতে চেয়েছিল।

১২. “চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে” — কারা এই চিরচিহ্ন দিয়ে গিয়েছিল?
উত্তর: সাম্রাজ্যবাদী, অহংকারী ইউরোপীয় শাসকেরা তাদের কাঁটা-মারা জুতোর তলায় কাদা আর রক্ত মেখে আফ্রিকার অপমানিত ইতিহাসে চিরচিহ্ন দিয়ে গিয়েছিল।

১৩. “সমুদ্রপারে সেই মুহূর্তেই…” — সমুদ্রপারে তখন কী হচ্ছিল?
উত্তর: যখন আফ্রিকায় সাম্রাজ্যবাদীদের নির্মম অত্যাচার চলছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে সমুদ্রপারে ইউরোপে পাড়ায় পাড়ায় মন্দিরে দয়াময় দেবতার নামে পূজার ঘণ্টা বাজছিল।

১৪. “শিশুরা খেলছিল মায়ের কোলে” — এই পঙ্‌ক্তিটির মধ্য দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: আফ্রিকার বুকে যখন রক্তক্ষয়ী ধ্বংসলীলা চলছে, তখন ইউরোপে ছিল এক শান্ত, স্বাভাবিক ও নিশ্চিন্ত জীবনযাত্রা। এই বৈপরীত্য বোঝাতেই কবি পঙ্‌ক্তিটি ব্যবহার করেছেন।

১৫. “প্রদোষকাল ঝঞ্ঝাবাতাসে রুদ্ধশ্বাস” — ‘প্রদোষকাল’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘প্রদোষকাল’ শব্দের অর্থ হলো সূর্যাস্তের সময় বা সন্ধ্যাকাল। কবিতায় এটি আসন্ন বিশ্বযুদ্ধের ভয়ংকর ও দমবন্ধ করা পরিস্থিতির প্রতীক।

‘আফ্রিকা’ কবিতার বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

(৩ নম্বর)

 

১. “হায় ছায়াবৃতা” – আফ্রিকাকে ‘ছায়াবৃতা’ বলা হয়েছে কেন?

উত্তর: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আফ্রিকা’ কবিতায় আফ্রিকা মহাদেশকে ‘ছায়াবৃতা’ বলা হয়েছে । সৃষ্টির আদিলগ্নে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর আফ্রিকা ঘন ও দুর্ভেদ্য অরণ্যানীতে আচ্ছাদিত হয়ে পড়ে । বনস্পতির সেই নিবিড় পাহারায় সূর্যের আলো ঠিকমতো প্রবেশ করতে পারত না । এই সূর্যালোকহীন, অন্ধকারাচ্ছন্ন ও রহস্যময় ভৌগোলিক পরিবেশের জন্যই কবি আফ্রিকাকে ‘ছায়াবৃতা’ বা ছায়ায় ঢাকা বলে উল্লেখ করেছেন ।

২. “অপরিচিত ছিল তোমার মানবরূপ” – আফ্রিকার মানবরূপ কীভাবে অপরিচিত ছিল?

উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতায় দেখা যায়, দীর্ঘকাল ধরে আফ্রিকা মহাদেশ বহির্বিশ্বের কাছে এক অজানা ও রহস্যময় ভূখণ্ড হিসেবেই রয়ে গিয়েছিল । ঘন অরণ্য ও প্রাকৃতিক দুর্গমতার কারণে তথাকথিত সভ্য জগৎ আফ্রিকার আসল রূপ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে খুব একটা জানত না । সভ্য দেশগুলির ‘উপেক্ষার আবিল দৃষ্টি’ অর্থাৎ অবজ্ঞাপূর্ণ ও অস্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আফ্রিকার মানুষদের সহজ-সরল জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও মানবিক সত্তা তাদের কাছে ‘কালো ঘোমটার নীচে’ ঢাকা পড়ে ছিল । এভাবেই সভ্য সমাজের অবহেলায় আফ্রিকার মানবরূপ দীর্ঘকাল অপরিচিত থেকে যায় ।

৩. “এল মানুষ-ধরার দল” – ‘মানুষ-ধরার দল’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে এবং তাদের স্বরূপ কেমন ছিল?

উত্তর: ‘মানুষ-ধরার দল’ বলতে এখানে ইউরোপীয় সাম্রাজ্যলোভী ও ঔপনিবেশিক শক্তিদের বোঝানো হয়েছে, যারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য আফ্রিকায় প্রবেশ করেছিল । তাদের স্বরূপ ছিল অত্যন্ত নির্মম ও অমানবিক । তারা সভ্যতার অহংকারে অন্ধ ছিল এবং আফ্রিকার সূর্যহারা অরণ্যের চেয়েও তাদের মনে বেশি অন্ধকার ছিল । লোহার হাতকড়ি নিয়ে তারা আফ্রিকার নিরীহ মানুষদের দাসে পরিণত করতে এসেছিল।

কবির ভাষায়, তাদের নখ আফ্রিকার জঙ্গলের নেকড়ের চেয়েও বেশি তীক্ষ্ণ ছিল, যা তাদের হিংস্রতা ও শোষণের পাশবিক রূপটিকে প্রকট করে তোলে । সম্পদের লোভে তারা নিজেদের নির্লজ্জ অমানুষিকতাকে নগ্ন করেছিল।

‘আফ্রিকা’ কবিতার ব্যখ্যামূলক বা বড় প্রশ্ন

(৫ নম্বর)

১. ‘তাঁর সেই অধৈর্যে ঘন-ঘন মাথা নাড়ার দিনে’- ‘তাঁর’ বলতে কার? সেই দিন কী হয়েছিল? (অথবা, আফ্রিকার জন্ম বৃত্তান্তটি লেখো।)

উত্তর: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আফ্রিকা’ কবিতায় ‘তাঁর’ বলতে বিশ্বচরাচরের আদি স্রষ্টা বা সৃষ্টিকর্তাকে বোঝানো হয়েছে।

আফ্রিকার জন্মবৃত্তান্ত বা সেই দিনের ঘটনা: কবিতার শুরুতেই কবি সৃষ্টির আদিম যুগের এক উদ্‌ভ্রান্ত সময়ের কথা বলেছেন। স্রষ্টা যখন এই পৃথিবী সৃষ্টি করছিলেন, তখন তিনি নিজের সৃষ্টির প্রতি পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারছিলেন না। এক অতৃপ্তি ও অসন্তোষ থেকে তিনি বারবার তাঁর নতুন সৃষ্টিকে ভেঙে আবার নতুন করে গড়ছিলেন। কবির কল্পনায়, স্রষ্টার এই অধৈর্য ও ঘন ঘন মাথা নাড়ার দিনেই এক ভৌগোলিক আলোড়ন ঘটে।

ক্ষুব্ধ ও রুদ্র সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ প্রাচ্য ভূখণ্ড বা ‘প্রাচী ধরিত্রীথেকে আফ্রিকার ভূভাগকে বিচ্ছিন্ন করে নেয়। এভাবেই এশিয়া ভূখণ্ডের মূল স্রোত থেকে আলাদা হয়ে জন্ম নেয় আফ্রিকা মহাদেশ, যাকে প্রকৃতি নিবিড় অরণ্য আর বনস্পতির পাহারায় এক রহস্যময় ও আলো-আঁধারি অন্তঃপুরে বন্দি করে রাখে।

২. ‘দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে’- ‘মানহারা মানবী’ কে? তার দ্বারে কেন দাঁড়াতে বলা হয়েছে?

উত্তর: আলোচ্য কবিতায় ‘মানহারা মানবী’ বলতে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাম্রাজ্যলোভী শক্তিদের দ্বারা লাঞ্ছিতা ও শোষিতা আফ্রিকা মহাদেশকে বুঝিয়েছেন।

দ্বারে দাঁড়ানোর কারণ: আফ্রিকা দীর্ঘকাল ধরে সভ্য জগতের আড়ালে নিভৃতে নিজের মতো করে বিকশিত হচ্ছিল। কিন্তু এরপর তথাকথিত সভ্য ও ঔপনিবেশিক শক্তিরা সম্পদের লোভে সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা আফ্রিকার মানুষদের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালায়, তাদের দাসে পরিণত করে এবং আফ্রিকার আত্মমর্যাদাকে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়।

 

একদিকে যখন আফ্রিকায় রক্তগঙ্গা বইছে, অন্যদিকে তখন সভ্য দেশগুলোতে মন্দিরে দয়াময় দেবতার নামে পূজার ঘণ্টা বাজছে। এই চরম বৈপরীত্য ও অমানবিকতার প্রেক্ষাপটে কবি এক আসন্ন প্রলয়ের বা ধ্বংসের ইঙ্গিত পেয়েছেন।

 

এসো যুগান্তের কবি,
আসন্ন সন্ধ্যার শেষ রশ্মিপাতে
দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে; বলো ‘ক্ষমা করো’

 

তাই তিনি ‘যুগান্তের কবি-কে আহ্বান জানিয়েছেন, তিনি যেন সভ্যতার এই চরম অবক্ষয়ের দিনে এসে সেই অপমানিতা, মানহারা মানবীর (আফ্রিকা) দরজায় দাঁড়ান এবং সভ্য সমাজের হয়ে সমস্ত কৃতকর্মের জন্য বিনম্র চিত্তে ‘ক্ষমা করো’ বলে প্রার্থনা করেন।

 SOURCE-EDT

©Kamaleshforeducation.in (2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top