‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতা

প্রশ্ন উত্তর

(MCQ ও বড় প্রশ্ন

Class 10 বাংলা

Updated on: 

প্রখ্যাত কবি শঙ্খ ঘোষের লেখা ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতাটি থেকে আমরা উৎস, সারাংশ, নামকরণের তাৎপর্যতা এবং পরীক্ষায় আসার মতো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-উত্তরগুলো আলোচনা করব।

 

বিষয়

বিবরণ

কবিতা

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি

কবি

শঙ্খ ঘোষ

গৃহীত

জলই পাষাণ হয়ে আছে

বোর্ড: বিষয়বস্তু

1 আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি – শঙ্খ ঘোষ (দশম শ্রেণী বাংলা কবিতা)

1.1 আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি: লাইন ধরে সহজ ভাষায় অর্থ

2 ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতার প্রশ্ন উত্তর (Aye Aro Bedhe Bedhe Thaki Question and Answer )

2.1 ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান – ৩)

3 ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান – ৫)

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি –

শঙ্খ ঘোষ

 (দশম শ্রেণী বাংলা কবিতা)

 

উৎস ও পটভূমি 

 

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতাটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি শঙ্খ ঘোষ রচিত ‘জলই পাষাণ হয়ে আছে’ কাব্যগ্রন্থ (২০০৪) থেকে গৃহীত হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগ্রাসন, যুদ্ধ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ যখন চারপাশ থেকে মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছে, তখন তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় হিসেবে কবি সংঘবদ্ধতার বা একতার বার্তা দিয়েছেন এই কবিতায়।

 

সারাংশ 

 

কবিতার শুরুতেই এক চরম বিপন্নতার ছবি ফুটে উঠেছে। সাধারণ মানুষের “ডান পাশে ধস“, “বাঁয়ে গিরিখাদ“, “মাথায় বোমারু এবং “পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ। অর্থাৎ, তাদের চলার পথের চারপাশেই মৃত্যুর হাতছানি। যুদ্ধ ও হিংসার কারণে তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে, শিশুদের শবদেহ ছড়িয়ে রয়েছে চারদিকে। এই সাধারণ মানুষগুলোর কোনো ইতিহাস নেই, অথবা যে ইতিহাস আছে তা বিকৃত, যেখানে কেবল তাদের চোখমুখ ঢাকা থাকে।

পৃথিবী হয়তো বেঁচে আছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার আর কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই। চারপাশের এই ধ্বংসস্তূপ ও ভয়াবহ বিপদের মাঝে দাঁড়িয়ে মুষ্টিমেয় যে কজন মানুষ এখনও বেঁচে আছেন, কবি তাঁদের পরস্পরের হাত ধরে সংঘবদ্ধ হতে বলেছেন। কারণ, এই চরম প্রতিকূল মুহূর্তে একমাত্র ঐক্য ও ভালোবাসাই পারে মানুষকে রক্ষা করতে। তাই কবি বারবার আহ্বান জানিয়েছেন— আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি“।

 

নামকরণের তাৎপর্য 

 

সাহিত্যে নামকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক, যা রচনার মূল সুরটিকে চিনিয়ে দেয়। এই কবিতায় কবি এমন এক সময়ের কথা বলেছেন যখন সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রযন্ত্র ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সাঁড়াশি আক্রমণে দিশেহারা। তাদের শিশুদের মৃত্যু ঘটছে, ইতিহাসকে বিকৃত করা হচ্ছে। এই চরম সামাজিক ও রাজনৈতিক অবক্ষয়ের দিনে মানুষের একাকী বেঁচে থাকা অসম্ভব।

 

বিপদসংকুল পৃথিবীতে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে গেলে একে অপরের হাত শক্ত করে ধরা ছাড়া কোনো উপায় নেই। বেঁধে বেঁধে থাকা কথাটির অর্থ হলো সংঘবদ্ধ থাকা বা ঐক্যবদ্ধ থাকা। মানবমুক্তির একমাত্র পথ হিসেবে কবি এই সংঘবদ্ধতাকেই বেছে নিয়েছেন। তাই কবিতার বিষয়বস্তু ও অন্তর্নিহিত বার্তার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি” নামকরণটি সর্বতোভাবে সার্থক ও ব্যঞ্জনাধর্মী।

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি:

লাইন ধরে সহজ ভাষায় অর্থ

“আমাদের ডান পাশে ধ্বস
আমাদের বাঁয়ে গিরিখাদ”

অর্থ: সাধারণ মানুষের চলার পথের দু-দিকেই আজ চরম বিপদ । তাদের ডানদিকে রয়েছে ধস এবং বাঁদিকে রয়েছে গভীর খাদ ।

“আমাদের মাথায় বোমারু
পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ”

অর্থ: মাথার উপরে বোমারু বিমান প্রাণঘাতী হামলার জন্য প্রস্তুত, আর মানুষের প্রতিটি পদক্ষেপে রয়েছে বরফের (হিমানীর) মতো দুর্লঙ্ঘ্য বাধা

“আমাদের পথ নেই কোনো
আমাদের ঘর গেছে উড়ে”

অর্থ: এই যুদ্ধ ও প্রতিকূলতার কারণে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার বা পালানোর কোনো পথ আর খোলা নেই । তাদের আশ্রয় বা ঘরবাড়িও আজ ধ্বংস হয়ে গেছে ।

“আমাদের শিশুদের শব
ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে!”

অর্থ: এই নির্মম ধ্বংসলীলায় নিষ্পাপ শিশুরাও মারা যাচ্ছে । চারদিকে কাছে ও দূরে শিশুদের মৃতদেহ (শব) ছড়িয়ে আছে ।

“আমরাও তবে এইভাবে
এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি?”

অর্থ: চারপাশের এই মৃত্যুমিছিল আর ধ্বংসস্তূপ দেখে অসহায় মানুষদের মনে এই সংশয় জাগে যে, তারাও কি এভাবেই এখনই মারা যাবে?

“আমাদের পথ নেই আর
আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।”

অর্থ: যখন বাঁচার আর কোনো উপায় বা পথ নেই, তখন কবি একে অপরের হাত ধরে সংঘবদ্ধ বা একজোট হয়ে বেঁচে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ।

“আমাদের ইতিহাস নেই
অথবা এমনই ইতিহাস
আমাদের চোখমুখ ঢাকা”

অর্থ: সাধারণ, নিপীড়িত মানুষের নিজস্ব কোনো ইতিহাস নেই । আর যদি বা কোনো ইতিহাস থেকে থাকে, সেখানে তাদের প্রকৃত পরিচয় লুকানো বা অবহেলিত (চোখমুখ ঢাকা) ।

“আমরা ভিখারি বারোমাস”

অর্থ: সবদিক থেকে অধিকারবঞ্চিত হয়ে এই সাধারণ মানুষেরা সারা বছর ভিখারির মতোই অসহায় ও দুর্দশাগ্রস্ত জীবন কাটায় ।

“পৃথিবী হয়তো বেঁচে আছে
পৃথিবী হয়তো গেছে মরে”

অর্থ: চারপাশের এত মৃত্যু ও ধ্বংসের মাঝে পৃথিবীর অস্তিত্ব থাকা বা না থাকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে ।

“আমাদের কথা কে-বা জানে
আমরা ফিরেছি দোরে দোরে।”

অর্থ: এই বিশাল পৃথিবীতে অবহেলিত সাধারণ মানুষের কথা কেউ মনে রাখে না । সামান্য আশ্রয় বা বেঁচে থাকার তাগিদে তারা কেবল দরজায় দরজায় ঘুরে মরে ।

“কিছুই কোথাও যদি নেই
তবু তো কজন আছি বাকি”

অর্থ: চারপাশের সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেলেও, এই প্রতিকূলতার মাঝেও যে অল্প কয়েকজন মানুষ এখনো বেঁচে আছেন, এখানে তাঁদের কথাই বলা হয়েছে ।

“আয় আরো হাতে হাত রেখে
আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।”

অর্থ: বিপদসংকুল এই পৃথিবীতে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে গেলে ওই মুষ্টিমেয় মানুষদেরও হাতে হাত রেখে সংঘবদ্ধ হয়ে থাকতে হবে ।

‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতা

প্রশ্ন উত্তর  

 

১. ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
উত্তর: কবিতাটি শঙ্খ ঘোষের ‘জলই পাষাণ হয়ে আছে’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

২. “আমাদের ডান পাশে ধ্বস” — ‘আমাদের’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? 

উত্তর: ‘আমাদের’ বলতে যুদ্ধদীর্ণ, নিপীড়িত ও অসহায় সাধারণ শ্রমজীবী মানুষদের বোঝানো হয়েছে।

৩. “পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ” — ‘হিমানী’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘হিমানী’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো বরফ বা তুষার। এখানে জীবনপথে পদে পদে থাকা অলঙ্ঘনীয় বাধাকে বোঝানো হয়েছে।

৪. “আমাদের শিশুদের শব / ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে।” — এর কারণ কী?
উত্তর: সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগ্রাসন এবং ভয়াবহ যুদ্ধের কারণে নির্বিচারে ধ্বংসলীলা চলেছে, যার নির্মম শিকার হয়েছে নিষ্পাপ শিশুরা।

৫. “আমাদের ইতিহাস নেই” — কবি কেন এ কথা বলেছেন?
উত্তর: ক্ষমতাবান শাসকরা চিরকাল নিজেদের স্বার্থে ইতিহাস রচনা করে। সেখানে সাধারণ, খেটে-খাওয়া মানুষের দুঃখ-দুর্দশা বা অবদানের কোনো উল্লেখ থাকে না বলেই কবি এ কথা বলেছেন।

৬. “আমাদের পথ নেই আর” — কবি কেন বলেছেন যে তাঁদের আর কোনো পথ নেই?
উত্তর: সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগ্রাসন এবং ভয়াবহ যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষের চারপাশ মৃত্যু ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বাঁচার বা সামনে এগিয়ে যাওয়ার সমস্ত রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে গেছে বলেই কবি এ কথা বলেছেন।

৭. “আমাদের চোখমুখ ঢাকা” — ‘চোখমুখ ঢাকা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: এর অর্থ হলো সাধারণ মানুষের নিজস্ব কোনো স্বাধীন সত্তা বা অধিকার নেই। ক্ষমতাবান শাসকেরা চিরকাল সাধারণ মানুষের প্রকৃত ইতিহাসকে ঢেকে রেখেছে বা বিকৃত করে দিয়েছে।

৮. “আমরা ভিখারি বারোমাস” — কবি সাধারণ মানুষকে বারোমাস ভিখারি বলেছেন কেন?
উত্তর: কারণ যুদ্ধ ও শোষণের ফলে সাধারণ মানুষ সর্বস্বান্ত। তাদের নিজস্ব কোনো ইতিহাস, অধিকার বা মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। শাসকশ্রেণির কাছে তারা চিরকালই শোষিত, বঞ্চিত এবং অধিকারহীন, তাই তাদের ভিখারির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

৯. “পৃথিবী হয়তো বেঁচে আছে” — এখানে ‘হয়তো’ শব্দটি ব্যবহারের কারণ কী?
উত্তর: চারপাশের এই মৃত্যুমিছিল, শিশুদের শবদেহ এবং ধ্বংসের মাঝে পৃথিবীর বেঁচে থাকা বা না থাকা সাধারণ মানুষের কাছে একদম অর্থহীন হয়ে পড়েছে। পৃথিবীতে মানবিকতার চরম অবক্ষয় ঘটেছে বলেই কবির মনে এই সংশয় বা সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

১০. “তবু তো কজন আছি বাকি” — এই ‘কজন’ বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: এই ‘কজন’ হলেন সমাজের সেইসব শুভবুদ্ধিসম্পন্ন এবং শান্তিকামী সাধারণ মানুষ, যাঁরা এত ধ্বংস, মৃত্যু ও চরম প্রতিকূলতার মাঝেও মানবিকতা হারিয়ে ফেলেননি এবং বেঁচে থাকার আশা ছাড়েননি।

১১. “আয় আরো হাতে হাত রেখে” — ‘হাতে হাত রাখা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: বিপদের মুহূর্তে পারস্পরিক ভেদাভেদ ভুলে ঐক্য, সম্প্রীতি ও সংঘবদ্ধতাকে অটুট রাখার জন্যই হাতে হাত রাখার কথা বলা হয়েছে।

১২. “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি” — ‘বেঁধে বেঁধে থাকি’ কথাটি কবিতায় মোট কতবার ব্যবহৃত হয়েছে? 

উত্তর: কবিতায় কথাটি মোট দুবার (২ বার) ব্যবহৃত হয়েছে।

১৩. “আমাদের ইতিহাস নেই / অথবা এমনই ইতিহাস” — সাধারণ মানুষের ইতিহাস কেমন?
উত্তর: সাধারণ মানুষের ইতিহাস হলো বঞ্চনা ও শোষণের ইতিহাস। সেই ইতিহাসে সাধারণ মানুষের কোনো গৌরবময় অবদান বা অস্তিত্বের কথা উল্লেখ থাকে না, তা ক্ষমতাবানদের দ্বারা বিকৃত।

১৪. “আমাদের ডান পাশে ধস” — এই ‘ধস’ কিসের প্রতীক?
উত্তর: ‘ধস’ হলো মানুষের স্বাভাবিক ও সুস্থভাবে বেঁচে থাকার পথে আসা চরম বিপন্নতা এবং আসন্ন মৃত্যুর প্রতীক।

১৫. “কাছে দূরে” কী ছড়ানো রয়েছে?
উত্তর: কবি শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতা অনুসারে, কাছে দূরে সাধারণ মানুষের শিশুদের শবদেহ ছড়ানো রয়েছে।

১৬. “পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ” — ‘হিমানীর বাঁধ’ বলতে কবিতায় কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: আক্ষরিক অর্থে ‘হিমানী’ হলো বরফ। কবিতায় ‘হিমানীর বাঁধ’ বলতে যুদ্ধবিধ্বস্ত, বিপন্ন পৃথিবীতে সাধারণ মানুষের জীবনপথে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে পদে পদে থাকা দুর্লঙ্ঘ্য বাধা বা বিপদকে বোঝানো হয়েছে।

১৭. “আমাদের পথ নেই আর” — পথ না থাকার ফলে সাধারণ মানুষের করণীয় কী বলে কবি মনে করেছেন?
উত্তর: চারিদিকে মৃত্যুফাঁদ এবং ধ্বংসস্তূপের মাঝে বাঁচার আর কোনো পথ খোলা না থাকায়, কবি শঙ্খ ঘোষ সাধারণ মানুষকে পারস্পরিক ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের হাত ধরে সংঘবদ্ধ বা ‘বেঁধে বেঁধে’ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

১৮. “অথবা এমনই ইতিহাস / আমাদের চোখমুখ ঢাকা” — ইতিহাসকে এমন বলার কারণ কী?
উত্তর: ক্ষমতাবান শাসকেরা নিজেদের স্বার্থে ইতিহাস রচনা করে, যেখানে সাধারণ, খেটে-খাওয়া মানুষের অবদান, আত্মত্যাগ বা দুঃখ-দুর্দশার কোনো উল্লেখ থাকে না। সাধারণ মানুষকে ইতিহাসে আত্মগোপন করে থাকতে হয় বলেই ইতিহাসকে এমন বলা হয়েছে।

১৯. “আমাদের মাথায় বোমারু” — ‘বোমারু’ শব্দের অর্থ কী এবং এটি কিসের প্রতীক?
উত্তর: ‘বোমারু’ শব্দের অর্থ হলো আকাশ থেকে বোমা নিক্ষেপকারী যুদ্ধবিমান। এটি কবিতায় সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগ্রাসন, ধ্বংসলীলা এবং সাধারণ মানুষের মাথার ওপর প্রতিনিয়ত ঘুরতে থাকা মৃত্যুর আশঙ্কার প্রতীক।

২০. “আমরা ভিখারি বারোমাস” — এই মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে সাধারণ মানুষের কোন অবস্থার কথা ফুটে উঠেছে?
উত্তর: এই মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে সাধারণ মানুষের চরম অসহায়তা, বঞ্চনা এবং দারিদ্র্যের কথা ফুটে উঠেছে। শাসকশ্রেণির শোষণে তারা সর্বস্বান্ত এবং নিজেদের ন্যূনতম অধিকারটুকু থেকেও তারা আজীবন বঞ্চিত।

‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান – ৩)

 

১. “আমরাও তবে এইভাবে / এ মুহূর্তে মরে যাব নাকি?” — এমন সংশয়ের কারণ কী?

 

উত্তর: শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় চরম বিপন্নতার মুখে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের অসহায়তা প্রকাশ পেয়েছে।

সংশয়ের কারণ: সাধারণ মানুষের চলার পথের চারপাশ আজ বিপদে ঘেরা—ডানে ধস, বাঁয়ে গিরিখাদ, আর মাথায় বোমারু বিমান। যুদ্ধ ও হিংসার কারণে তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে, ছড়ানো রয়েছে শিশুদের শবদেহ। রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্মমতায় সাধারণ মানুষের কোনো অস্তিত্ব বা ইতিহাস নেই। চারপাশের এই মৃত্যুমিছিল ও ধ্বংসস্তূপ দেখে অসহায় মানুষের মনে প্রবল সংশয় জাগে যে, এত প্রতিকূলতার মাঝে তারা আর হয়তো বেঁচে থাকতে পারবে না, এই মুহূর্তেই হয়তো তাদের মৃত্যু অবধারিত

 

২. “পৃথিবী হয়তো বেঁচে আছে / পৃথিবী হয়তো গেছে মরে” — পৃথিবীর বেঁচে থাকা বা মরে যাওয়ার বিষয়ে কবির এমন সংশয় কেন?

উত্তর: যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীতে সাধারণ মানুষের জীবন যখন চরম সংকটাপন্ন, তখন কবি শঙ্খ ঘোষ আলোচ্য পঙ্‌ক্তিটির অবতারণা করেছেন।

সংশয়ের কারণ: সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ ও হিংসার কারণে পৃথিবীতে আজ সাধারণ মানুষের কোনো নিরাপত্তা নেই। চারদিকে শিশুদের মৃতদেহ ছড়িয়ে রয়েছে। মুষ্টিমেয় কিছু ক্ষমতাবান মানুষের আধিপত্যে পৃথিবী হয়তো ভৌগোলিকভাবে বেঁচে আছে, কিন্তু মানবিকতা ও মূল্যবোধের চূড়ান্ত মৃত্যু ঘটেছে। সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার যখন পদদলিত, তখন এই পৃথিবীর অস্তিত্ব থাকা বা না থাকা তাদের কাছে সমান। তাই পৃথিবীর বেঁচে থাকা নিয়ে কবির এই গভীর সংশয়।

‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান – ৫)

 

১. “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি” — কবিতায় এই আহ্বানের যৌক্তিকতা কতটা, তা কবিতার বিষয়বস্তু অবলম্বনে আলোচনা করো।

উত্তর: আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম রূপকার শঙ্খ ঘোষ তাঁর ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় যুদ্ধদীর্ণ ও বিপন্ন পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার একমাত্র উপায় হিসেবে সংঘবদ্ধতার বার্তা দিয়েছেন।

বিপন্ন মানবজীবন: কবিতার শুরুতেই দেখা যায় সাধারণ মানুষের জীবন আজ চরম সংকটাপন্ন। তাদের পথ চলার কোনো উপায় নেই— ডানে ধস, বাঁয়ে গিরিখাদ, আর উপরে প্রাণঘাতী বোমারু বিমান। পদে পদে বরফের মতো অলঙ্ঘনীয় বাধা। তাদের কোনো মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, এমনকি নিজের সন্তানদের মৃতদেহও তাদের চোখের সামনে ছড়িয়ে আছে।

ইতিহাসের বিকৃতি: এই খেটে-খাওয়া সাধারণ মানুষের নিজস্ব কোনো ইতিহাস নেই। যেটুকু বা ইতিহাস আছে, তা ক্ষমতাবানদের দ্বারা বিকৃত। সেখানে সাধারণ মানুষের চোখমুখ ঢাকা, অর্থাৎ তারা চিরকালই শোষিত ও অবহেলিত।

মানবিকতার সংকট: এমন এক ভয়ংকর পরিস্থিতিতে পৃথিবীও যেন তার মানবিকতা হারিয়েছে। মুষ্টিমেয় যে কজন মানুষ এখনও বেঁচে আছেন, তাঁরাও জানেন না আর কতক্ষণ তাঁরা এই ধ্বংসলীলার মাঝে টিকে থাকতে পারবেন।

আহ্বানের যৌক্তিকতা: এই চরম বিপর্যয়ের দিনে একা বাঁচার কোনো উপায় নেই। মৃত্যুভয় আর অনিশ্চয়তার মাঝে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে গেলে সাধারণ মানুষকে নিজেদের ভেদাভেদ ভুলে একত্রিত হতে হবে। হাতে হাত রেখে, ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারলেই এই সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও প্রতিকূলতাকে জয় করা সম্ভব। তাই কবির আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকিঅর্থাৎ সংঘবদ্ধ হয়ে থাকার এই আহ্বান অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং শতভাগ যৌক্তিক।

আজকের এই পোস্ট এর মধ্যে ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতার উৎস, সরাংশ, নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করা হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার্থে কিছু প্রশ্ন উত্তর সহজ ভাষায় করে দেওয়া হয়েছে।

 

 SOURCE-EDT

©Kamaleshforeducation.in (2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top