

Class 10 জীবন বিজ্ঞান
‘জীবনের প্রবহমানতা’ প্রশ্ন উত্তর
Life Science Chapter 2
Question Answer
মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘জীবনের প্রবহমানতা’ (Class 10 Life Science Chapter 2) এর মধ্যে ক্রোমোজোম, ডিএনএ, কোষ বিভাজন থেকে শুরু করে উদ্ভিদ ও প্রাণীর জনন এবং বৃদ্ধির টপিক গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। আজকের এই পোস্টে এই অধ্যায় থেকে পরীক্ষায় আসার মতো বাছাই করা কিছু গুরুত্বপূর্ণ One Liner প্রশ্ন ও উত্তর (Question Answer) শেয়ার করা হল।
বোর্ড: বিষয়বস্তু
1 মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান ‘জীবনের প্রবহমানতা’ (দ্বিতীয় অধ্যায়) One Liner প্রশ্ন উত্তর
2 দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান দ্বিতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর | জীবনের প্রবাহমানতা প্রশ্ন উত্তর

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান
‘জীবনের প্রবহমানতা’
(দ্বিতীয় অধ্যায়)
One Liner প্রশ্ন উত্তর
কোশ বিভাজন ও কোশচক্র
★ জীবদেহের গঠনগত ও কার্যগত একককে বলে: কোশ।
★ যে পদ্ধতিতে জনিতৃ কোশ থেকে অপত্য কোশ সৃষ্টি হয়, তাকে বলে: কোশ বিভাজন।
★ কোশ সৃষ্টির পর থেকে বৃদ্ধি ও বিভাজনের শেষে পুনরায় অপত্য কোশ সৃষ্টি হওয়া পর্যন্ত ঘটনাগুলির চক্রাকার আবর্তনকে বলে: কোশচক্র।
★ ক্রোমোজোম স্থিত DNA-এর যে ক্ষুদ্রতম অংশ প্রোটিন সংশ্লেষের সংকেত বহন করে তাকে বলে: জিন।
★ 1953 খ্রিস্টাব্দে DNA অণুর দ্বিতন্ত্রী মডেলের আবিষ্কার করেন: ওয়াটসন ও ক্রিক।
★ DNA-তে উপস্থিত পিরিমিডিন বেসগুলি হলো: সাইটোসিন ও থাইমিন।
★ RNA-তে থাইমিনের পরিবর্তে যে বেস থাকে তা হলো: ইউরাসিল।
★ স্থির নিউক্লিয়াসে প্রসারিত অবস্থায় থাকা এবং সক্রিয় জিন বহনকারী ক্রোমাটিনকে বলে: ইউক্রোমাটিন।
★ স্থির নিউক্লিয়াসে কুণ্ডলীকৃত অবস্থায় থাকা এবং নিষ্ক্রিয় জিন বহনকারী ক্রোমাটিনকে বলে: হেটেরোক্রোমাটিন।
★ জীবের দেহজ বৈশিষ্ট্য নির্ধারণকারী ক্রোমোজোমগুলিকে বলে: অটোজোম (মানুষের দেহে 44টি থাকে)।
★ উন্নত জীবের লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোমকে বলে: অ্যালোজোম বা সেক্স ক্রোমোজোম (মানুষের দেহে 2টি থাকে)।
★ ক্রোমোজোমের ক্রোমাটিডদ্বয় যে অংশে পরস্পর সংযুক্ত থাকে তাকে বলে: সেন্ট্রোমিয়ার বা প্রাথমিক খাঁজ।
★ নিউক্লিওলাস সৃষ্টিতে অংশগ্রহণকারী ক্রোমোজোমের গৌণ খাঁজকে বলে: NOR (নিউক্লিওলার অরগানাইজার রিজিয়ন)।
★ কোনো কোনো ক্রোমোজোমের প্রান্তে বোতামের মতো ফোলা অংশকে বলে: স্যাটেলাইট।
★ ক্রোমোজোমের প্রতিটি প্রান্তকে বলে: টেলোমিয়ার।
★ বেমগঠন ও নিউক্লীয় পর্দার অবলুপ্তি ছাড়াই মাতৃকোশের প্রত্যক্ষ বিভাজনকে বলে: অ্যামাইটোসিস (যেমন- ইস্ট, অ্যামিবা)।
★ যে কোশ বিভাজনে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোশের অনুরূপ হয় (সমবিভাজন), তাকে বলে: মাইটোসিস।
★ যে কোশ বিভাজনে অপত্য কোশের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোশের অর্ধেক হয় (হ্রাস বিভাজন), তাকে বলে: মিয়োসিস।
★ কোশচক্রের যে দশায় DNA সংশ্লেষ ঘটে তাকে বলে: S দশা বা সংশ্লেষণ দশা।
★ কোশচক্রের যে নিষ্ক্রিয় দশায় কোশের অগ্রগতি বন্ধ হয়ে যায়, তাকে বলে: G দশা (যেমন- স্নায়ুকোশ, পরিণত RBC)।
★ নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে বলে: ক্যারিওকাইনেসিস।
★ সাইটোপ্লাজমের বিভাজনকে বলে: সাইটোকাইনেসিস।
★ মাইটোসিসের যে দশায় ক্রোমোজোমগুলি বেমযন্ত্রের নিরক্ষীয় অঞ্চলে অবস্থান করে: মেটাফেজ।
★ মাইটোসিসের অ্যানাফেজ দশায় ক্রোমোজোমগুলি যে আকৃতি ধারণ করে: ইংরেজি V, L, J এবং T আকৃতি।
★ প্রাণীকোশের মাঝবরাবর খাঁজ সৃষ্টির মাধ্যমে সাইটোকাইনেসিস হওয়ার পদ্ধতিকে বলে: ক্লিভেজ।
★ উদ্ভিদকোশের বেমের বিষুব অঞ্চলে যার মাধ্যমে সাইটোকাইনেসিস সম্পন্ন হয়: কোশপাত বা সেলপ্লেট।
★ দুটি সমসংস্থ ক্রোমোজোমের নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে খণ্ডাংশের বিনিময়কে বলে: ক্রসিং ওভার।

জনন
★ গ্যামেটের মিলন ছাড়াই দেহকোশ বিভাজন বা রেণু উৎপাদনের সাহায্যে অপত্য জীব তৈরির পদ্ধতিকে বলে: অযৌন জনন।
★ দুটি হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট মিলিত হয়ে জাইগোট গঠনের মাধ্যমে অপত্য জীব সৃষ্টির পদ্ধতিকে বলে: যৌন জনন।
★ নিষেক ছাড়াই অনিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে ভ্রূণ ও অপত্য জীব সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে বলে: অপুংজনি (যেমন- মৌমাছি)।
★ অ্যামিবার অযৌন জনন পদ্ধতিকে বলে: দ্বি-বিভাজন।
★ প্লাসমোডিয়ামের অযৌন জনন পদ্ধতিকে বলে: বহুবিভাজন।
★ ইস্ট ও হাইড্রার অযৌন জনন পদ্ধতিকে বলে: কোরকোদ্গম (Budding)।
★ স্পাইরোগাইরা নামক শৈবালের অযৌন জনন পদ্ধতিকে বলে: খণ্ডীভবন।
★ প্ল্যানেরিয়া প্রাণীর অযৌন জনন পদ্ধতিকে বলে: পুনরুৎপাদন।
★ কচুরিপানায় অঙ্গজ জনন ঘটে যার মাধ্যমে: খর্বধাবক বা অর্ধবায়বীয় কাণ্ড।
★ পত্রাশ্রয়ী মুকুলের সাহায্যে অঙ্গজ জনন সম্পন্ন করে: পাথরকুচি, বিগোনিয়া ইত্যাদি উদ্ভিদ।
★ জোড়কলম পদ্ধতিতে একই প্রজাতির অপেক্ষাকৃত উন্নত উদ্ভিদটিকে বলে: সিয়ন।
★ জোড়কলম পদ্ধতিতে কম উন্নত উদ্ভিদটিকে বলে: স্টক।
★ জীবের জীবনচক্রে ডিপ্লয়েড (2n) ও হ্যাপ্লয়েড (n) জনুর পর্যায়ক্রমিক আবর্তনকে বলে: জনুক্রম।

সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন
★ জলের মাধ্যমে পরাগযোগ ঘটে যে ফুলে তাদের বলে: জলপরাগী ফুল বা হাইড্রোফিলাস (যেমন- পাতাঝাঁঝি, পাতাশ্যাওলা)।
★ বায়ুর মাধ্যমে পরাগযোগ ঘটে যে ফুলে তাদের বলে: বায়ুপরাগী ফুল বা অ্যানিমোফিলাস (যেমন- ধান, গম, ভুট্টা)।
★ পতঙ্গের মাধ্যমে পরাগযোগ ঘটে যে ফুলে তাদের বলে: পতঙ্গপরাগী ফুল বা এন্টোমোফিলাস (যেমন- আম, জবা, সূর্যমুখী)।
★ পাখির দ্বারা পরাগযোগ ঘটে যে ফুলে তাদের বলে: পক্ষীপরাগী ফুল বা অরনিথোফিলাস (যেমন- শিমুল, পলাশ)।
★ নিষেকের পর ডিম্বাশয় যাতে পরিণত হয় তা হলো: ফল।
★ নিষেকের পর ডিম্বক যাতে রূপান্তরিত হয় তা হলো: বীজ।
বৃদ্ধি ও বিকাশ
★ জীবের শুষ্ক ভরের অপরিবর্তনীয়ভাবে বেড়ে যাওয়াকে বলে: বৃদ্ধি।
★ এককোশী জাইগোট থেকে বহুকোশী পূর্ণাঙ্গ জীবদেহ গঠনের ঘটনাকে বলে: বিকাশ।
★ মানববিকাশে জন্ম থেকে 2 বছর পর্যন্ত সময়কে বলে: সদ্যোজাত বা ইনফ্যান্সি পিরিয়ড।

দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান
দ্বিতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর
জীবনের প্রবাহমানতা প্রশ্ন উত্তর
১. ইউক্রোমাটিন ও হেটারোক্রোমাটিন এবং সেন্ট্রোমিয়ার ও টেলোমিয়ারের কাজ। ⭐
উত্তর: ইউক্রোমাটিন: ইন্টারফেজ দশায় ক্রোমোজোমের যে অংশ প্রসারিত থাকে, হালকা রঙ ধারণ করে এবং যাতে সক্রিয় জিন থাকে (DNA থেকে RNA তৈরি করে), তাকে ইউক্রোমাটিন বলে।
হেটারোক্রোমাটিন: ক্রোমোজোমের যে অংশ কুণ্ডলীকৃত থাকে, গাঢ় রঙ ধারণ করে এবং যাতে নিষ্ক্রিয় জিন থাকে, তাকে হেটারোক্রোমাটিন বলে।
সেন্ট্রোমিয়ার: কোষ বিভাজনের সময় বেমতন্তু (Spindle Fibre) ক্রোমোজোমের এই অংশের সঙ্গেই যুক্ত হয়।
টেলোমিয়ার: দুটি ক্রোমোজোমের প্রান্ত জুড়ে যাওয়া রোধ করে এবং কোষের বার্ধক্য ও মৃত্যু নিয়ন্ত্রণ করে।
২. ক্রোমোজোমের প্রকারভেদ (সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী)। ⭐
উত্তর: সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোজোম ৪ প্রকার:
-
মেটাসেন্ট্রিক: সেন্ট্রোমিয়ার মাঝখানে থাকে (V-আকৃতি)।
-
সাব-মেটাসেন্ট্রিক: মাঝখানের একটু পাশে থাকে (L-আকৃতি)।
-
অ্যাক্রোসেন্ট্রিক: একদম প্রান্তের কাছাকাছি থাকে (J-আকৃতি)।
-
টেলোসেন্ট্রিক: ক্রোমোজোমের একেবারে প্রান্তে থাকে (I-আকৃতি)।
৩. গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যসমূহ । ⭐⭐
ক) অটোজোম ও সেক্স ক্রোমোজোম:
| বৈশিষ্ট্য / বিষয় | অটোজোম (Autosome) | সেক্স ক্রোমোজোম (Sex Chromosome / Allosome) |
|---|---|---|
| ১. প্রধান কাজ | জীবের দেহের সাধারণ দৈহিক বৈশিষ্ট্য (যেমন: গায়ের রং, উচ্চতা, চুলের প্রকৃতি) নিয়ন্ত্রণ করে। | প্রধানত জীবের লিঙ্গ নির্ধারণে (পুরুষ না স্ত্রী) সাহায্য করে। |
| ২. সংখ্যা | মানুষের দেহকোষে ২২ জোড়া বা ৪৪টি থাকে। | মানুষের দেহকোষে ১ জোড়া বা ২টি থাকে। |
| ৩. প্রকারভেদ | পুরুষ ও স্ত্রী উভয়ের দেহেই অটোজোমগুলো একই প্রকৃতির হয়। | পুরুষদের ক্ষেত্রে XY (বিষম প্রকৃতির) এবং স্ত্রীদের ক্ষেত্রে XX (সম প্রকৃতির) হয়। |
| ৪. গ্যামেটে উপস্থিতি | শুক্রাণু বা ডিম্বাণুতে অটোজোম সংখ্যা হয় ২২টি। | গ্যামেটে সেক্স ক্রোমোজোম থাকে মাত্র ১টি (X অথবা Y)। |
খ) DNA ও RNA:
| বৈশিষ্ট্য / বিষয় | DNA (ডি-অক্সি রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) | RNA (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) |
|---|---|---|
| ১. শর্করার প্রকৃতি | এতে ৫-কার্বন যুক্ত ডি-অক্সি রাইবোজ শর্করা থাকে। | এতে ৫-কার্বন যুক্ত রাইবোজ শর্করা থাকে। |
| ২. নাইট্রোজেন বেস | অ্যাডেনিন (A), গুয়ানিন (G), সাইটোসিন (C) এবং থাইমিন (T) থাকে। | অ্যাডেনিন (A), গুয়ানিন (G), সাইটোসিন (C) এবং ইউরাসিল (U) থাকে। |
| ৩. গঠনগত রূপ | সাধারণত দ্বিতন্ত্রী এবং সিঁড়ির মতো প্যাঁচানো (Double Helix)। | সাধারণত একতন্ত্রী এবং রৈখিক বা অনিয়মিত আকৃতির। |
| ৪. প্রধান কাজ | বংশগত বৈশিষ্ট্য বা জেনেটিক তথ্য বহন ও বংশপরম্পরায় সঞ্চারণ করে। | প্রধানত কোষে প্রোটিন সংশ্লেষ (Protein Synthesis) বা প্রোটিন তৈরিতে সাহায্য করে। |
৪. উদ্ভিদ ও প্রাণীকোষের সাইটোকাইনেসিসের পার্থক্য। ⭐⭐⭐
উত্তর:
বৈশিষ্ট্য / বিষয় |
উদ্ভিদ কোষের সাইটোকাইনেসিস |
প্রাণী কোষের সাইটোকাইনেসিস |
|---|---|---|
১. প্রধান পদ্ধতি |
কোষপাত বা সেল প্লেট (Cell Plate) গঠনের মাধ্যমে সাইটোপ্লাজম বিভাজিত হয়। |
কোষপর্দার ক্লিভেজ (Cleavage) বা ফারোয়িং পদ্ধতিতে খাঁজ সৃষ্টির মাধ্যমে ঘটে। |
২. শুরুর স্থান ও অভিমুখ |
এটি কোষের কেন্দ্র থেকে পরিধির দিকে (Centrifugal) বিস্তৃত হয়। |
এটি কোষের পরিধি থেকে কেন্দ্রের দিকে (Centripetal) অগ্রসর হয়। |
৩. অংশগ্রহণকারী অঙ্গাণু |
গলগি বডি থেকে আসা ফ্র্যাগমোপ্লাস্ট ও মাইক্রোটিউবিউল এতে প্রধান ভূমিকা নেয়। |
অ্যাক্টিন ও মায়োসিন নামক মাইক্রোফিলামেন্ট প্রোটিন এই খাঁজ সৃষ্টিতে সাহায্য করে। |
৫. কোষচক্রের ইন্টারফেজ দশার (G1, S, G2) গুরুত্ব। ⭐⭐⭐
উত্তর: ইন্টারফেজ হলো কোষ বিভাজনের প্রস্তুতি পর্ব।
G1 দশা (Growth 1): পরবর্তী ধাপের জন্য প্রয়োজনীয় RNA ও প্রোটিন সংশ্লেষ হয়। কোষের আকার বৃদ্ধি পায়।
S দশা (Synthesis): এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দশা। এখানে DNA প্রতিলিপিকরণ (Replication) ঘটে এবং হিস্টোন প্রোটিন তৈরি হয়।
G2 দশা (Growth 2): কোষ বিভাজনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি (ATP) ও বেমতন্তু গঠনের প্রোটিন তৈরি হয়।
৬. কোষচক্রের গুরুত্ব এবং নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হলে কী হয়? ⭐⭐
উত্তর: গুরুত্ব: কোষের বৃদ্ধি, DNA সংশ্লেষ ও বিভাজন প্রক্রিয়াটি একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মে সম্পন্ন হয়। চেকপয়েন্টগুলো ত্রুটিপূর্ণ কোষ বিভাজন আটকাতে সাহায্য করে।
নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হলে: কোষচক্রের চেকপয়েন্টগুলো (Checkpoints) কাজ না করলে কোষের অনিয়ন্ত্রিত বিভাজন ঘটে। এর ফলে কোষের পুঞ্জ বা টিউমার সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে ক্যান্সার-এ রূপ নিতে পারে।
৭. প্রোফেজ ও টেলোফেজকে বিপরীতধর্মী দশা বলা হয় কেন? ⭐⭐
উত্তর: কারণ প্রোফেজে যে ঘটনাগুলি ঘটে, টেলোফেজে ঠিক তার উল্টো ঘটনা ঘটে।
-
প্রোফেজ: জল বিয়োজন ঘটে, ক্রোমাটিন জালি ঘনীভূত হয়ে ক্রোমোজোম গঠন করে, নিউক্লিওলাস ও নিউক্লীয় পর্দা অবলুপ্ত হয়।
-
টেলোফেজ: জল যোজন ঘটে, ক্রোমোজোম খুলে গিয়ে ক্রোমাটিন জালি তৈরি করে, নিউক্লিওলাস ও নিউক্লীয় পর্দা পুনরায় গঠিত হয়।
৮. মাইটোসিস ও মিয়োসিস কোথায় ঘটে? ⭐⭐⭐
উত্তর:
| কোষ বিভাজন | উদ্ভিদের ঘটনাস্থল | প্রাণীর ঘটনাস্থল | প্রধান কাজ |
|---|---|---|---|
| মাইটোসিস (Mitosis) | ভাজক কলা (মূল ও কাণ্ডের অগ্রভাগ), পাতা, মুকুল এবং ভ্রূণমূল। | সারা দেহের দেহকোষ (Somatic Cell), ভ্রূণ এবং বৃদ্ধিরত অঙ্গসমূহ। | দেহের বৃদ্ধি ঘটানো এবং ক্ষতস্থান পূরণ করা। |
| মিয়োসিস (Meiosis) | পরাগধানী ও ডিম্বকের অভ্যন্তরে অবস্থিত রেণু মাতৃকোষে। | শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়ের জনন মাতৃকোষে (Germ mother cell)। | গ্যামেট বা জনন কোশ উৎপন্ন করা এবং প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখা। |
৯. মিয়োসিস কোষ বিভাজনের গুরুত্ব। ⭐⭐
উত্তর: প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখা: জনন কোষ তৈরির সময় ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক (n) হয়ে যায়, যাতে নিষেকের পর জাইগোটে পুনরায় প্রজাতির স্বাভাবিক সংখ্যা (2n) ফিরে আসে।
জীবের প্রকরণ বা ভেদ সৃষ্টি: মিয়োসিসের সময় ‘ক্রসিং ওভার’ ঘটে, যার ফলে জিনের পুনর্বিন্যাস হয় এবং অপত্য জীবের মধ্যে নতুন বৈশিষ্ট্যের বা প্রকরণের উদ্ভব হয়, যা বিবর্তনে সাহায্য করে।
১২. গাণিতিক প্রশ্ন: ক্রোমোজোম সংখ্যা নির্ণয়। ⭐⭐
উত্তর: উদ্ভিদের পাতার কোষ হলো দেহকোষ (Dipliod বা 2n)। অতএব, 2n = 22
জনন কোষ বা গ্যামেট হলো হ্যাপ্লয়েড (Haploid বা n)। অতএব, n = 22 / 2 = 11 টি।
শস্য নিউক্লিয়াস (যদি চাইত) হলো ট্রিপ্লয়েড (3n)। সেক্ষেত্রে, 3n = 3 x 11 = 33 টি হতো।
১৩. মিয়োসিসকে হ্রাস বিভাজন এবং মাইটোসিসকে সমবিভাজন বলা হয় কেন? ⭐
উত্তর: মিয়োসিস (হ্রাস বিভাজন): মাতৃকোষের তুলনায় অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায় (2n → n), তাই একে হ্রাস বিভাজন বলে।
মাইটোসিস (সমবিভাজন): মাতৃকোষ ও অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা এবং গুণাগুণ একই বা সমান থাকে (2n → 2n), তাই একে সমবিভাজন বলে।
১৪. ফার্ন বা উদ্ভিদের জনুক্রম (Alternation of Generations)। ⭐⭐⭐
উত্তর: ফার্নের জীবনচক্রে রেণুধর জনু (2n) এবং লিঙ্গধর জনু (n)-র পর্যায়ক্রমিক আবর্তনকে জনুক্রম বলে।
রেখাচিত্র: রেণুধর উদ্ভিদ (2n) → রেণুস্থলী → রেণু মাতৃকোষ (2n) → (মিয়োসিস) → রেণু (n) → লিঙ্গধর উদ্ভিদ (n) → পুংধানী ও স্ত্রীধানী → শুক্রাণু ও ডিম্বাণু (n) → (নিষেক) → জাইগোট (2n) → ভ্রূণ → নতুন রেণুধর উদ্ভিদ (2n)।
১৫. অযৌন জননের বিভিন্ন পদ্ধতি। ⭐⭐
উত্তর: অযৌন জননের বিভিন্ন পদ্ধতি গুলি নিচে আলোচনা করা হল –
-
বিভাজন: অ্যামিবা দ্বি-বিভাজন পদ্ধতিতে দেহকে দুই ভাগে ভাগ করে অপত্য সৃষ্টি করে।
-
কোরকোদগম (Budding): ঈস্ট বা হাইড্রার দেহে কোরক বা কুঁড়ি সৃষ্টি হয়, যা পরে মাতৃদেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নতুন জীব গঠন করে।
-
খণ্ডীভবন (Fragmentation): স্পাইরোগাইরার দেহ কোনো কারণে খণ্ড খণ্ড হয়ে গেলে প্রতিটি খণ্ড থেকে নতুন অপত্য জন্মায়।
-
পুনরুৎপাদন (Regeneration): প্ল্যানেরিয়ার দেহ কোনো অংশে কেটে গেলে সেই কাটা অংশ থেকে পূর্ণাঙ্গ জীব সৃষ্টি হয়।
১৭. মাইক্রোপ্রোপাগেশন বা অণুবিস্তারের গুরুত্ব। ⭐⭐
উত্তর: মাইক্রোপ্রোপাগেশন বা অণুবিস্তারের গুরুত্ব নিচে আলোচনা করা হল –
-
খুব অল্প সময়ে ও অল্প জায়গায় অসংখ্য চারাগাছ উৎপাদন করা যায়।
-
ভাইরাস-মুক্ত এবং রোগমুক্ত চারাগাছ উৎপাদন সম্ভব।
-
যেসব উদ্ভিদের বীজ থেকে সহজে চারা হয় না (যেমন- অর্কিড), তাদের বংশবিস্তারে এটি কার্যকর।
১৮. সপুষ্পক উদ্ভিদের দ্বিনিষেক ও নতুন উদ্ভিদ গঠন। ⭐⭐⭐
উত্তর: সপুষ্পক উদ্ভিদে দুটি পুংগ্যামেটের মধ্যে একটি ডিম্বাণুকে এবং অপরটি নির্ণীত নিউক্লিয়াসকে নিষিক্ত করে। এই ঘটনাকে দ্বিনিষেক বলে।
-
১ম নিষেক: ১টি পুংগ্যামেট (n) + ডিম্বাণু (n) = জাইগোট বা ভ্রূণাণু (2n) → যা থেকে ভ্রূণ ও ভবিষ্যৎ উদ্ভিদ গঠিত হয়।
-
২য় নিষেক: ১টি পুংগ্যামেট (n) + নির্ণীত নিউক্লিয়াস (2n) = শস্য নিউক্লিয়াস (3n) → যা থেকে শস্য গঠিত হয় (ভ্রূণের খাদ্য)।
২০. বিভিন্ন পরাগী ফুলের উদাহরণ ও বৈশিষ্ট্য। ⭐⭐
উত্তর: বিভিন্ন পরাগী ফুলের উদাহরণ ও বৈশিষ্ট্যগুলি নিচে আলোচনা করা হল –
বায়ুপরাগী (ধান, গম): ফুলগুলি ছোট, বর্ণহীন, গন্ধহীন হয়। পরাগরেণু হালকা ও প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়। গর্ভমুণ্ড রোমশ ও আঠালো হয়।
জলপরাগী (পাতাঝাঁঝি, ভ্যালিসনেরিয়া): ফুলের পরাগরেণু হালকা ও মোম আবৃত থাকে (জলে পচে না)।
পতঙ্গপরাগী (আম, সূর্যমুখী): ফুল বড়, রঙিন, সুগন্ধযুক্ত ও মকরন্দ (Nectar) যুক্ত হয়।
পক্ষীপরাগী (শিমুল, পলাশ): ফুল বড়, উজ্জ্বল লাল রঙের ও মকরন্দযুক্ত হয়।
২১. বৃদ্ধি ও বিকাশের সম্পর্ক। ⭐
উত্তর: “বৃদ্ধি হলো কারণ এবং বিকাশ হলো তার ফলাফল।”
বৃদ্ধি: এটি হলো জীবের আকার ও আয়তনের স্থায়ী পরিবর্তন (পরিমাণগত)।
বিকাশ: এটি হলো বৃদ্ধির সাথে সাথে জীবদেহের জটিলতা বৃদ্ধি ও কার্যক্ষমতা লাভ (গুণগত)। বৃদ্ধি ছাড়া বিকাশ সম্ভব নয় (ব্যতিক্রম আছে), তবে সামগ্রিকভাবে বৃদ্ধিই বিকাশের পথ সুগম করে।
২২. মানব বিকাশের বিভিন্ন দশা (বয়ঃসন্ধি ও বার্ধক্য)। ⭐⭐
উত্তর: বয়ঃসন্ধি (১২-২০ বছর): এই সময় যৌন হরমোনের (টেস্টোস্টেরন/ইস্ট্রোজেন) প্রভাবে গৌণ যৌন লক্ষণ প্রকাশ পায়। গ্যামেট উৎপাদন শুরু হয় এবং বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে। একে ‘ঝড়-ঝঞ্ঝার কাল’ বলা হয়।
বার্ধক্য (৬০ বছরের ঊর্ধ্বে): দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তি হ্রাস পায়, হাড় দুর্বল হয় (অস্টিওপোরোসিস), স্মৃতিশক্তি কমে যায়, এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
আজকের এই পোস্টে দশম শ্রেণির জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘জীবনের প্রবহমানতা’ থেকে বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ কিছু ওয়ান-লাইনার (One-liner) শেয়ার করা হল। এখানে প্রতিটি পয়েন্ট খুব সহজ ভাষায় দেওয়া হয়েছে, যাতে MCQ এবং SAQ—সব ধরনের শর্ট প্রশ্নের প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হবে।
SOURCE-EDT



