Class 10 জীবন বিজ্ঞান

‘জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়’ প্রশ্ন উত্তর

Life Science Chapter 1

Question Answer

Updated on: 

মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়’ (Class 10 Life Science Chapter 1) এর মধ্যে উদ্ভিদ ও প্রাণীর সাড়া প্রদান, বিভিন্ন হরমোনের কাজ এবং স্নায়ুতন্ত্রের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে। আজকের এই পোস্টে এই অধ্যায় থেকে পরীক্ষায় আসার মতো বাছাই করা কিছু গুরুত্বপূর্ণ One Liner প্রশ্ন ও উত্তর (Question Answer) সহজ ভাষায় সাজিয়ে দেওয়া হলো।

 

বোর্ড: বিষয়বস্তু

1 মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান ‘জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়’ (প্রথম অধ্যায়) One Liner প্রশ্ন উত্তর

1.1 জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় Class 10 অনুশীলনী (One Liner)

1.2 মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় (প্রথম অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Class 10 Life Science Chapter 1 Question Answer

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান

‘জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়’

(প্রথম অধ্যায়)

One Liner প্রশ্ন উত্তর

 

আজকের পোস্টে   যেসব বাছাই করা ওয়ান লাইনার (One Liner) প্রশ্ন উত্তর শেয়ার করা হচ্ছে, সেগুলো থেকে  MCQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (SAQ), শূন্যস্থান পূরণ; সব ধরনের প্রশ্ন উত্তর করতে পারবে।

জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়

Class 10 অনুশীলনী (One Liner)

 

উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা ও চলন:

 

★ বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ পরিবেশের পরিবর্তন শনাক্ত করে জীবের সাড়াপ্রদানের ঘটনাকে বলেসংবেদনশীলতা বা উত্তেজিতা (Sensitivity)
★ যে বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ শক্তি জীবকে সাড়াপ্রদানে সক্ষম করে তোলে, তাকে বলে: উদ্দীপক (Stimulant) [যেমন- আলো, তাপ, স্পর্শ, ক্ষুধা]।
★ লজ্জাবতী গাছের পাতাকে স্পর্শ করলে পাতাগুলি মুড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হল: রসস্ফীতিজনিত চলন (Turgor movement)
★ বনচাঁড়াল উদ্ভিদের ত্রিফলকের পার্শ্বীয় ফলক দুটির স্বতঃস্ফূর্তভাবে ওঠানামাকে বলে: প্রকরণ চলন (Variation movement)
★ আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা প্রমাণের জন্য যে যন্ত্র ব্যবহার করেন, তা হল: কেসকোগ্রাফ ও ইলেকট্রিক প্রোব (Crescograph & Electric Probe)

★ আলো, তাপমাত্রা প্রভৃতি বহিঃস্থ উদ্দীপকের প্রভাবে উদ্ভিদের সমগ্র দেহের স্থান পরিবর্তনকে বলে: ট্যাকটিক বা আবিষ্ট চলন (Tactic Movement)
★ আলোর উৎসের দিকে ক্ল্যামাইডোমোনাস (শৈবাল)-এর গমনকে বলে: ফোটোট্যাকটিক চলন (Phototactic Movement)
★ বহিঃস্থ উদ্দীপকের গতিপথের দ্বারা প্রভাবিত উদ্ভিদ অঙ্গের বৃদ্ধিজনিত বক্রচলনকে বলে: ট্রপিক চলন (Tropic Movement)
★ উদ্ভিদের মূলের জলের উৎসের দিকে অগ্রসর হওয়াকে বলে: অনুকূল জলবর্তী চলন (Positive Hydrotropism)
★ বহিঃস্থ উদ্দীপকের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব দ্বারা প্রভাবিত উদ্ভিদ অঙ্গের রসস্ফীতিজনিত বক্র চলনকে বলে: ন্যাস্টিক চলন (Nastic Movement)
★ স্পর্শ বা আঘাতের প্রভাবে লজ্জাবতীর পাতা মুড়ে যাওয়া হল: সিসমোন্যাস্টিক চলন (Seismonastic Movement)

 

হরমোন (উদ্ভিদ ও প্রাণী):

 

★ রাসায়নিক বার্তা বহন করে বিভিন্ন অঙ্গের কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধনকারী পদার্থকে বলে: রাসায়নিক দূত বা হরমোন (Chemical Messenger / Hormone)
★ উদ্ভিদের অগ্রস্থ ভাজককলায় উৎপন্ন এবং ট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রণকারী নাইট্রোজেনযুক্ত হরমোনটি হল: অক্সিন (Auxin / IAA)
★ বীজের সুপ্তদশা ভঙ্গ করতে এবং পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করতে সাহায্যকারী নাইট্রোজেনবিহীন উদ্ভিদ হরমোনটি হল: জিব্বেরেলিন (Gibberellin)
★ ডাবের জল ও টম্যাটোর রসে উপস্থিত এবং কোশ বিভাজনে সাহায্যকারী নাইট্রোজেনযুক্ত হরমোন হল: সাইটোকাইনিন (Cytokinin)
★ শাখাকলম থেকে মূল সৃষ্টি বা আগাছা দমনে ব্যবহৃত গবেষণাগারে তৈরি হরমোনকে বলে: কৃত্রিম বা সংশ্লেষিত হরমোন (Synthetic Hormone) [যেমন- 2,4-D, NAA, IBA]।

★ পিটুইটারি গ্রন্থির ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণকারী অংশ, যাকে ‘প্রভুগ্রন্থির প্রভু’ (Supreme Commander) বলা হয়: হাইপোথ্যালামাস (Hypothalamus)
★ মানুষের মস্তিষ্কের সেলাটারসিকা প্রকোষ্ঠে অবস্থিত ‘মাস্টার গ্ল্যান্ড’ বা প্রভুগ্রন্থি হল: পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary Gland)
★ গ্রোথ হরমোন (GH) বা STH-এর কম ক্ষরণে শিশুদের যে রোগ হয়, তা হল: বামনত্ব বা ডোয়ার্ফিজম (Dwarfism)
★ থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত হরমোন যা মৌল বিপাকীয় হার (BMR) বাড়ায়: থাইরক্সিন (Thyroxine / T4)
★ বৃক্কীয় নালিকায় জলের পুনঃশোষণ ত্বরান্বিত করে এবং যার অভাবে বহুমূত্র রোগ হয়: অ্যান্টি-ডাইইউরেটিক হরমোন (ADH / Vasopressin)

★ মানবদেহের যে মিশ্র গ্রন্থি থেকে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণকারী ইনসুলিন ও গ্লুকাগন নিঃসৃত হয়: অগ্ন্যাশয় (Pancreas)
★ ইনসুলিনের কম ক্ষরণের ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে যে রোগ হয়: মধুমেহ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস (Diabetes Mellitus)
★ হঠাৎ উত্তেজনায় ক্ষরিত হয়ে রক্তচাপ ও শ্বাসকার্যের হার বৃদ্ধিকারী হরমোনকে বলে: জরুরিকালীন বা সংকটকালীন হরমোন (Emergency Hormone) [যেমন- অ্যাড্রেনালিন]।
★ পুরুষদেহের শুক্রাশয় থেকে ক্ষরিত প্রধান হরমোনটি হল: টেস্টোস্টেরন (Testosterone)
★ স্ত্রীদেহের ডিম্বাশয় থেকে ক্ষরিত প্রধান হরমোন দুটি হল: ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন (Estrogen & Progesterone)

স্নায়ুতন্ত্র ও জ্ঞানেন্দ্রিয়:

 

★ স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত এবং কার্যগত একককে বলে: স্নায়ুকোশ বা নিউরোন (Neuron)
★ নিউরোন বা স্নায়ুকোশ ছাড়া স্নায়ুতন্ত্রের অপর যে কোশগুলি ধারক হিসেবে কাজ করে: নিউরোগ্লিয়া (Neuroglia)
★ দুটি নিউরোনের সংযোগস্থল, যেখান দিয়ে স্নায়ুস্পন্দন একমুখী প্রবাহিত হয় তাকে বলে: স্নায়ুসন্নিধি বা সাইন্যাপস (Synapse)
★ সাইন্যাপসে স্নায়ুস্পন্দন পরিবহণে সাহায্যকারী রাসায়নিক পদার্থকে বলে: নিউরোট্রান্সমিটার (Neurotransmitter) [যেমন- অ্যাসিটাইলকোলিন]।
★ মস্তিষ্কের বিবেচনা ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্ত ও অনৈচ্ছিক প্রতিক্রিয়ার ফলে দ্রুত যে কার্য সম্পন্ন হয়: প্রতিবর্ত ক্রিয়া (Reflex Action)

★ মানব মস্তিষ্কের যে অংশ দৈহিক ভারসাম্য রক্ষা ও দেহভঙ্গিমা নিয়ন্ত্রণ করে: লঘুমস্তিষ্ক (Cerebellum)
★ চোখের যে স্তরে রড কোশ ও কোণ কোশ থাকে এবং বস্তুর প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়: রেটিনা (Retina)
★ চোখের যে ত্রুটিতে দূরের দৃষ্টি ব্যাহত হয় কিন্তু নিকটের দৃষ্টি ঠিক থাকে: মায়োপিয়া বা নিকটবদ্ধ দৃষ্টি (Myopia) [প্রতিকার: অবতল লেন্স]।
★ চোখের যে ত্রুটিতে কাছের দৃষ্টি ব্যাহত হয় কিন্তু দূরের দৃষ্টি ঠিক থাকে: হাইপারমেট্রোপিয়া (Hypermetropia) [প্রতিকার: উত্তল লেন্স]।
★ স্থান পরিবর্তন না করে চোখের লেন্সের বক্রতা পরিবর্তন করে বিভিন্ন দূরত্বের বস্তুকে দেখার ক্ষমতাকে বলে: উপযোজন (Accommodation)

গমন ও পেশি:

 

★ অ্যামিবার গমন অঙ্গের নাম হল: ক্ষণপদ বা সিউডোপোডিয়া (Pseudopodia)
★ প্যারামেসিয়ামের গমন অঙ্গ সিলিয়া (Cilia) এবং ইউগ্লিনার গমন অঙ্গ: ফ্ল্যাজেলা (Flagella)
★ মাছের গমনে দিক পরিবর্তন করতে সাহায্যকারী পাখনার নাম: পুচ্ছ পাখনা (Caudal Fin)
★ মাছের মেরুদণ্ডের দুপাশে অবস্থিত ‘V’ আকৃতির যে পেশি গমনে সাহায্য করে: মায়োটোম পেশি (Myotome Muscle)
★ পাখির ডানায় থাকা ২৩টি বড়ো পালককে রেমিজেস (Remiges) এবং লেজে থাকা ১২টি পালককে বলে: রেকট্রিসেস (Rectrices)

★ মানুষের গমনের সময় দেহের ভারসাম্য বজায় রাখে: অন্তঃকর্ণের অর্ধচন্দ্রাকার নালি ও লঘুমস্তিষ্ক
★ যে সচল অস্থিসন্ধিতে একটি অস্থির বলের মতো গোলপ্রান্ত অন্য অস্থির কোটরের মধ্যে সংলগ্ন থাকে: বল ও সকেট সন্ধি (Ball & Socket Joint) [যেমন- কাঁধের ও কোমরের অস্থিসন্ধি]।
 ★ যে প্রক্রিয়ায় পেশি সংকোচনের ফলে দুটি অস্থি কাছাকাছি আসে তাকে বলে: ফ্লেক্সন (Flexion) [যেমন- বাইসেপস]।
★ যে প্রক্রিয়ায় সন্ধিস্থল প্রসারিত হয়ে দুটি অস্থি দূরে সরে যায় তাকে বলে: এক্সটেনসন (Extension) [যেমন- ট্রাইসেপস]।

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান

জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়

(প্রথম অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর

 

১. ট্রপিক, ট্যাকটিক এবং ন্যাস্টিক চলনের পার্থক্য লেখো। 

উত্তর:

ভিত্তি

ট্যাকটিক চলন (Tactic)

ট্রপিক চলন (Tropic)

ন্যাস্টিক চলন (Nastic)

১. উদ্দীপকের প্রভাব

এটি উদ্দীপকের তীব্রতা ও গতিপথ উভয়ের প্রভাবে ঘটে।

এটি কেবল উদ্দীপকের উৎসের গতিপথ অনুসারে ঘটে।

এটি কেবল উদ্দীপকের তীব্রতা অনুসারে ঘটে।

২. স্থান পরিবর্তন

এতে উদ্ভিদের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন ঘটে (অর্থাৎ গমন হয়)।

এতে উদ্ভিদের অঙ্গের বক্র চলন ঘটে, কিন্তু সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন হয় না

এতেও উদ্ভিদের অঙ্গের বক্র চলন ঘটে, কিন্তু স্থান পরিবর্তন হয় না

৩. উদাহরণ

আলোর প্রভাবে ক্ল্যামাইডোমোনাস বা ভলভক্স-এর স্থান পরিবর্তন (ফটোট্যাকটিক)।

আলোর উৎসের দিকে উদ্ভিদের কাণ্ডের বেঁকে যাওয়া (ফটোট্রপিক)।

স্পর্শ করলে লজ্জাবতীর পাতা নুয়ে পড়া (সিসমোন্যাস্টিক)।

২.জিবেরেলিন হরমোনের কাজ উল্লেখ করো। ⭐⭐⭐

উত্তর: জিবেরেলিন হরমোনের প্রধান কাজগুলি হলো:

ক) বীজের সুপ্তাবস্থা ভঙ্গ ও অঙ্কুরোদগম: জিবেরেলিন বীজের মধ্যস্থ আলফা-অ্যামাইলেজ (α-amylase) উৎসেচককে সক্রিয় করে শস্যের খাদ্য উপাদান ভেঙে ভ্রূণের পুষ্টি যোগায়, ফলে বীজ দ্রুত অঙ্কুরিত হয়।

খ) পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি: এই হরমোন উদ্ভিদের পর্বমধ্যের (Internode) কোষ বিভাজন ও কোষের আয়তন বাড়িয়ে উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করে (যেমন- জিনগতভাবে খর্বাকৃতি মটর গাছকে লম্বা করা)।

৩. সাইটোকাইনিন হরমোনের কাজ। 

উত্তর: সাইটোকাইনিন হরমোনের কাজ গুলি হল –

ক) কোষ বিভাজন: সাইটোকাইনিন উদ্ভিদ কোষের সাইটোকাইনেসিস বা সাইটোপ্লাজমের বিভাজনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

খ) জরা রোধ (Richmond-Lang Effect): এই হরমোন পাতার ক্লোরোফিল নষ্ট হওয়া রোধ করে এবং বার্ধক্য বা জরা বিলম্বিত করে।

৪. কৃষি ও উদ্যান বিদ্যায় কৃত্রিম হরমোনের ভূমিকা। ⭐⭐

উত্তর: ক) শাখা কলমে মূল সৃষ্টি: কৃত্রিম অক্সিন (যেমন- IBA, NAA) প্রয়োগ করে জবা, গোলাপ প্রভৃতির শাখা কলমে দ্রুত অস্থানিক মূল সৃষ্টি করা হয়।

খ) পার্থেনোকার্পি (বীজহীন ফল উৎপাদন): কৃত্রিম অক্সিন প্রয়োগ করে নিষেকের আগেই ডিম্বাশয়কে ফলে পরিণত করা হয়, ফলে বীজহীন ফল (যেমন- পেঁপে, কলা) উৎপন্ন হয়।

গ) আগাছা দমন: কৃত্রিম অক্সিন (যেমন- 2,4-D) ব্যবহার করে কৃষি জমির দ্বিবীজপত্রী আগাছা নির্মূল করা হয়।

 

৫. অগ্র পিটুইটারি থেকে নিঃসৃত হরমোনগুলোর নাম ও কাজ। ⭐

উত্তর:

হরমোনের নাম

প্রধান কাজ

অভাবজনিত/অধিক ক্ষরণজনিত প্রভাব

STH / GH (সোমাটোট্রপিক হরমোন)

দেহের অস্থি ও পেশির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটানো এবং প্রোটিন সংশ্লেষ বৃদ্ধি করা।

কম ক্ষরণে: বামনত্ব (Dwarfism)

বেশি ক্ষরণে: অতিকায়ত্ব (Gigantism) এবং বড়দের ক্ষেত্রে অ্যাক্রোমেগালি।

TSH (থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন)

থাইরয়েড গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করা এবং থাইরক্সিন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করা।

বেশি ক্ষরণে: থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যাওয়া (গলগণ্ড বা Goitre এর সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়)।

ACTH (অ্যাড্রিনোকর্টিকোট্রপিক হরমোন)

অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির কর্টেক্স অঞ্চলের বৃদ্ধি ও হরমোন নিঃসরণ (যেমন: কর্টিসল) নিয়ন্ত্রণ করা।

অধিক ক্ষরণে: কুশিং সিনড্রোম বা কুশিং বর্ণিত রোগ (Cushing’s Syndrome)।

৬. গোনাডোট্রপিক হরমোন (LH ও ICSH) কীভাবে জনন গ্রন্থির ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে? ⭐⭐

উত্তর: LH (লুটিনাইজিং হরমোন): স্ত্রীদেহে ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু নিঃসরণে (ওভিউলেশন) এবং করপাস লিউটিয়াম গঠনে সাহায্য করে প্রোজেস্টেরন হরমোন ক্ষরণ উদ্দীপিত করে।

ICSH (ইন্টারস্টিশিয়াল সেল স্টিমুলেটিং হরমোন): পুরুষদেহে শুক্রাশয়ের ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ বা লেডিগের আন্তরকোষকে উদ্দীপিত করে টেস্টোস্টেরন হরমোন ক্ষরণ ঘটায়।

৭. ইনসুলিন ও গ্লুকাগনকে বিপরীতধর্মী হরমোন বলা হয় কেন

উত্তর: ইনসুলিন ও গ্লুকাগনকে বিপরীতধর্মী হরমোন বলার কারণ এদের কাজ একে অপরের ঠিক উল্টো।

ইনসুলিন: রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে গেলে তা কমিয়ে স্বাভাবিক করে (গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনে পরিণত করে বা গ্লাইকোজেনেসিস)।

গ্লুকাগন: রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে গেলে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন ভেঙে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়ায় (গ্লাইকোজেনোলাইসিস)। উভয়ে মিলে রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখে, তাই এদের বিপরীতধর্মী বলা হয়।

৮. হরমোন ক্ষরণের ফিডব্যাক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি (উদাহরণসহ)। ⭐⭐

উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় কোনো একটি গ্রন্থির ক্ষরণ অন্য একটি গ্রন্থির হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় (কমানো বা বাড়ানো), তাকে ফিডব্যাক নিয়ন্ত্রণ বলে। উদাহরণ (TSH ও থাইরক্সিন):

  • রক্তে থাইরক্সিনের মাত্রা কমে গেলে পিটুইটারি থেকে TSH ক্ষরণ বাড়ে (পজিটিভ ফিডব্যাক)।

  • রক্তে থাইরক্সিনের মাত্রা বেড়ে গেলে পিটুইটারি থেকে TSH ক্ষরণ কমে যায় (নেগেটিভ ফিডব্যাক)।

রেখাচিত্র: হাইপোথ্যালামাস (+TRH) → পিটুইটারি (+TSH) → থাইরয়েড গ্রন্থি → থাইরক্সিন ক্ষরণ (মাত্রা বাড়লে TSH বন্ধ হয়)।

৯. থাইরক্সিন ও অ্যাড্রিনালিন হরমোনের কাজ। ⭐⭐⭐

উত্তর: থাইরক্সিন হরমোনের কাজ –

  • BMR নিয়ন্ত্রণ: এটি দেহের মৌল বিপাকীয় হার (BMR) বাড়ায়, তাই একে ক্যালোরিজেনিক হরমোন বলে।

  • হৃদস্পন্দন: হৃদস্পন্দনের হার বৃদ্ধি করে।

অ্যাড্রিনালিন (আপৎকালীন হরমোন) হরমোনের কাজ –

  • জরুরীকালীন মোকাবিলা: ভয়, রাগ বা উত্তেজনার সময় দ্রুত ক্রিয়া করে হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্টের হার বাড়িয়ে দেহকে পরিস্থিতির জন্য তৈরি করে।

  • ব্রঙ্কিওলের প্রসারণ: শ্বাসকার্যের সুবিধার জন্য শ্বাসনালীকে প্রসারিত করে।

১০. ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন ও টেস্টোস্টেরন হরমোনের কাজ। ⭐⭐

উত্তর: টেস্টোস্টেরন (পুরুষদেহ): মুখ্য জনন অঙ্গের বৃদ্ধি এবং গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্য (যেমন- দাড়ি-গোঁফ গজানো, পেশিবহুল দেহ, গলার স্বর মোটা হওয়া) প্রকাশে সাহায্য করে।

ইস্ট্রোজেন (স্ত্রীদেহ): বয়ঃসন্ধিকালে নারীদেহের ত্বকের নিচে মেদ সঞ্চয়, স্তনগ্রন্থির বিকাশ এবং মাসিক চক্র নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

প্রোজেস্টেরন (স্ত্রীদেহ): গর্ভাবস্থায় জরায়ুর প্রাচীর রক্ষণাবেক্ষণ এবং অমরা (Placenta) গঠনে সাহায্য করে।

আজকের এই পোস্টে  দশম শ্রেণির জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় ‘জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়’ থেকে বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ কিছু ওয়ান-লাইনার (One-liner) শেয়ার করা হল। এখানে প্রতিটি পয়েন্ট খুব সহজ ভাষায় দেওয়া হয়েছে, যাতে   MCQ এবং SAQ—সব ধরনের শর্ট প্রশ্নের প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হবে।

 SOURCE-EDT

©Kamaleshforeducation.in (2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top