প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন
দশম শ্রেণি
বিষয় : বাংলা

প্রথম ইউনিট টেস্ট সেট-৩

সময় : ১ ঘণ্টা  ৩০ মিনিট      পূর্ণ মান- ৪০

 

১। সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো : ১×১০=১০

১.১ ‘ক্রমশ ও কথাটি ছড়িয়ে পড়ে। – ও কথাটি হল—
(ক) গল্প লেখা (খ) কারেকশানের কথা
(গ) তপন একজন গল্প লেখক
(ঘ) পড়াশোনার কথা।

উত্তরঃ (খ) কারেকশানের কথা

১.২ ‘তারপুর যুদ্ধ এল’ – যুদ্ধকে কিসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে—
(ক) আগ্নেয় পাহাড় (খ) আগ্নেয়গিরি
(গ) পাহাড় (ঘ) মালভূমি

উত্তরঃ (ক) আগ্নেয় পাহাড়

 

১.৩ বেঁধে বেঁধে কথাটির অর্থ হল—
(ক) বাঁধন দিয়ে থাকা
(খ) সংঘবদ্ধ ভাবে থাকা
(গ) গুটিসুটি মেরে থাকা
(ঘ) গুছিয়ে থাকা

উত্তরঃ (খ) সংঘবদ্ধ ভাবে থাকা

 

১.৪ ‘চিরচিহ্ন দিয়ে গেল’ – কোথায় দিয়ে গেল ?
(ক) ইতিহাসের পাতায়
(খ) অপমানিত ইতিহাসে
(গ) সাধারণের মনে
(ঘ) ভবিষ্যতের ভাবনায়

উত্তরঃ (খ) অপমানিত ইতিহাসে

 

১.৫ সিজার স্টাইলাস দিয়ে আঘাত করেছিলেন কাকে ?
(ক) মার্কো পোলোকে (খ) কাসকাকে
(গ) ব্রুটাসকে (ঘ) হ্যামলেটকে

উত্তরঃ (খ) কাসকাকে

 

১.৬ জুপিটার সুইমিং ক্লাবের প্রেসিডেন্ট হলেন—
(ক) বিনোদ ভড় (খ) ক্ষিতীশ সিংহ
(গ) ধীরেন ঘোষ (ঘ) বিষ্টুচরণ ধর।

উত্তরঃ (ক) বিনোদ ভড়

 

১.৭ অনুসর্গ মাত্রই—
(ক) প্রত্যয় (খ) সর্বনাম (গ) ধাতু (ঘ) অব্যয়।

উত্তরঃ (ঘ) অব্যয়।

 

১.৮ ক্রিয়ার আধারকে বলে—
(ক) অপাদান (খ) কর্ম (গ) সম্বন্ধ (ঘ) অধিকরণ।

উত্তরঃ (ঘ) অধিকরণ।

 

১.৯ ‘টি’ ‘টা’ হল—
(ক) বিভক্তি (খ) বচন (গ) নির্দেশক (ঘ) অব্যয়।

উত্তরঃ (গ) নির্দেশক

 

১.১০. গাছগুলিতে জল দাও। চিহ্নিত পদটি—
(ক) কর্মকারক (খ) কর্তৃকারক
(গ) সম্বন্ধপদ (ঘ) সম্বোধন পদ।

উত্তরঃ (ক) কর্মকারক

২। নিম্ন লিখিত প্রশ্নগুলি কমবেশি ২০ শব্দে উত্তর দাও : ১×৬=৬

 

২.১ জ্ঞানচক্ষু গল্পের সাহিত্য পত্রিকাটির নাম কী ?

উত্তরঃ আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে উল্লিখিত সাহিত্য পত্রিকাটির নাম হলো ‘সন্ধ্যাতারা’। এই পত্রিকাতেই তপনের ‘প্রথম দিন’ নামক গল্পটি প্রকাশিত হয়েছিল।

 

২.২ ‘সব চূর্ন হয়ে গেল’ কী কী চূর্ন হয়ে গেল ?

উত্তরঃ পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতায় যুদ্ধের তান্ডবে দেবালয়, দেবমূর্তি এবং কবির ফেলে আসা মিষ্টি বাড়ি, বারান্দা ও গোলাপি গাছ চূর্ণ হয়ে গেল।

 

২.৩ ‘এ মুহূর্তে মরে যাবো না কি ? – এ মুহূর্তে বলতে বক্তা কোন্ সময়কে বুঝিয়েছেন ?

উত্তরঃ কবি শঙ্খ ঘোষ-এর ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় ‘এ মুহূর্তে’ বলতে বক্তা দেশের বর্তমান ভয়াবহ, সংকটপূর্ণ ও মৃত্যুভয়গ্রস্ত সময়কেই বুঝিয়েছেন।

 

২.৪. ‘হিংস্র প্রলাপের মধ্যে’ – হিংস্র প্রলাপ কী ?

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতায় ‘হিংস্র প্রলাপ’ বলতে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তির অমানুষিক অত্যাচার, লুণ্ঠন এবং অসভ্য বর্বরতাকে বোঝানো হয়েছে, যা সভ্যতার নামে ভণ্ডামি ও অপমানজনক।

 

২.৫. ‘সবই আজ অবলুপ্তির পথে।’ – কোন বিষয়ে লেখক এমন মন্তব্য করেছেন ?

উত্তরঃ হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধে শ্রীপান্থ যান্ত্রিক সভ্যতার দাপটে সাধারণ কলম, দোয়াত, নিব এবং নিখুঁত হাতের লেখার শিল্প বা সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করেছেন। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে লেখার সরঞ্জাম ও হস্তলিপি আজ অবলুপ্ত।

 

২.৬ বিভক্তি কী ?

উত্তরঃ বাক্যস্থিত একটি শব্দের সঙ্গে অন্য শব্দের সম্পর্ক স্থাপনের জন্য যেসব অর্থহীন বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি শব্দের শেষে যুক্ত হয়, তাদের বিভক্তি বলে। যেমন: “মাকে ডাকো” এখানে ‘কে’ বিভক্তি।

 

৩। কমবেশি ৬০ শব্দে উত্তর দাও নিম্ন লিখিত প্রশ্নগুলি ৩.১ এবং ৩.২ নম্বর প্রশ্ন আবশ্যিক আর বাকি প্রশ্নগুলির যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও। মোট চারটি : ৩×৪=১২

 

৩.১ তপনের আনন্দটা সহসা হারিয়ে যায় কেন ? ৩

উত্তরঃ আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপনের আনন্দ হারিয়ে যায় কারণ সে বুঝতে পারে ‘সন্ধ্যাতারা’য় ছাপা হওয়া তার গল্পটি সম্পূর্ণ তার নিজের নয়, বরং ছোটমেসোর দ্বারা পরিমার্জিত বা কারচুপি করা। নিজের লেখা লাইনের বদলে মেসোর লেখা লাইন পড়ে সে অপমানিত বোধ করে এবং তার প্রথম লেখক হওয়ার আনন্দ মিথ্যে হয়ে যায়।

 

৩.২ ‘বলো ক্ষমা করো’ – কে, কাকে ক্ষমা চাইতে বলেছেন ? কেন বলেছেন ? ২+১=৩

উত্তরঃ বীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতায় কবি স্বয়ং অমানবিক পাশ্চাত্য সভ্যতার দম্ভকে উপেক্ষা করে, অমানিত ও লাঞ্ছিত আফ্রিকা তথা ‘মানহারা মানবী’র কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছেন।

সভ্যতার দম্ভে আফ্রিকা যখন অত্যাচারিত, তখন কবি মানুষের ইতিহাসে তাদের অপমানিত হওয়ার জন্য এই ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলেছেন।

পাশ্চাত্য লোভী সাম্রাজ্যবাদীদের দ্বারা আফ্রিকা নিগৃহীত হওয়ায়, কবির মতে, শ্বেতাঙ্গদের অমানবিকতার জন্য মানবতার খাতিরেই এই ক্ষমা চাওয়া প্রয়োজন । 

 

৩.৩ ‘আমাদের কথা কে-বা জানে’— কাদের কথা কেউ জানেনা কেন ? ১+২=৩

 

উত্তরঃ কবি শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় ‘আমাদের’ বলতে যুদ্ধবিধ্বস্ত, অসহায় সাধারণ মানুষ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত খেটে খাওয়া মানুষের কথা বলা হয়েছে।

 

কাদের কথা বলা হয়েছে : এই কবিতায় ‘আমাদের’ বলতে সাধারণ দরিদ্র মানুষ, উদ্বাস্তু বা যুদ্ধের কারণে যাদের অস্তিত্ব সংকটের মুখে, তাদের কথা বলা হয়েছে।

 

কেন কেউ জানে না : প্রবল যুদ্ধ, শোষণ, ও অনিশ্চয়তার মধ্যে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হারিয়ে যায়। শোষক বা ক্ষমতাশালীরা তাদের খোঁজ রাখে না, তারা কেবল বেঁচে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত

 

৩.৪ ‘সমস্ত সমতলে ধরে গেল আগুন’— কেন আগুন ধরল ? আগুন ধরার ফলে কী হয়েছিল ? ১+২=৩

 

উত্তরঃ পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতায় যুদ্ধ ও হিংসার প্রভাবে ‘সমস্ত সমতলে আগুন’ ধরে গিয়েছিল।

আগুন লাগার কারণ : যুদ্ধের ভয়াবহতা ও সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের ফলে সমতলে আগুন ধরেছিল।

 

আগুন লাগার ফল : যুদ্ধের ফলে সমতল দগ্ধ, বিপর্যস্ত এবং সবকিছু চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। মিষ্টি বাড়ি, বারান্দা, ঝুলন্ত বিছানা ও গোলাপি গাছপালা ধ্বংস হয়ে যায়, এবং অপেক্ষারত মেয়েটির প্রিয় শহর আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

 

৩.৫ ‘নিজের পাকা হাতের কলমে’— কার পাকা হাত ? তিনি কী করেছিলেন ? ১+২=৩

উত্তরঃ আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপনের নতুন মেসোমশাইয়ের পাকা হাতের কথা বলা হয়েছে। তিনি পেশায় একজন অধ্যাপক ও লেখক।

মেসোমশাই তপনের লেখা গল্পটি “একটু কারেকশন” করার বাহানায় আগাগোড়া নিজের পাকা হাতের কলমে নতুন করে লিখে দিয়েছিলেন। এর ফলে গল্পটি পুরোপুরি তার নিজস্ব ভাষার ও শৈলীর হয়ে যায়, যেখানে তপনের মৌলিক লেখাটি হারিয়ে গিয়েছিল।

৪। নিম্নলিখিত যে কোনো একটি প্রশ্নের কমবেশি ১৫০ শব্দে উত্তর দাও : ৫x১=৫

 

৪.১. ‘তপন যেন কোথায় হারিয়ে যায় – তপন কে ? তার হারিয়ে যাওয়ার কারণ গল্পটি অবলম্বনে আলোচনা করো। ১+৪=৫

 

উত্তরঃ আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের প্রধান চরিত্র তপন একজন কিশোর, যে লেখক হওয়ার স্বপ্ন দেখত এবং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতায় প্রথম গল্প লিখেছিল।

 

∆ তপনের হারিয়ে যাওয়ার কারণ—

 

কল্পনার জগৎ চূর্ণ হওয়া : তপন ভেবেছিল লেখক কোনো বিশেষ মানুষ নন, সাধারণ মানুষই গল্প লেখেন। নিজের গল্প পত্রিকায় ছাপা দেখে সে কল্পনার আনন্দ পেয়েছিল, কিন্তু মেসোমশাই যখন জানায়, “ভয় নেই, আমি সব কারেকশন করে দিয়েছি”, তখন তপনের লেখক হওয়ার আনন্দের জগতটি ভেঙে যায়।

 

অপ্রস্তুত ও লজ্জিত হওয়া : নিজের লেখার পরিবর্তে মেসোমশাইয়ের লেখার প্রশংসায় পরিবার যখন মুখর, তখন লাজুক তপন সবার সামনে চরম অপ্রস্তুত ও লজ্জিত হয়ে পড়ে।

 

মেসোমশাইয়ের অহংকার : নতুন মেসোমশাই একজন পেশাদার লেখক হওয়ার অহংকারে তপনের প্রথম গল্পের কৃতিত্ব নিজের করে নেন, যা তপনের মেধা ও আত্মবিশ্বাসকে আঘাত করে।

 

কঠোর বাস্তবতার বোধ : তপন বুঝতে পারে, নিজের যোগ্যতা না থাকলে অন্যের মাধ্যমে প্রকাশিত লেখার কোনো মূল্য নেই। এই ‘জ্ঞানচক্ষু’ বা বাস্তব জ্ঞান লাভের পর, সে সবার ভিড়ে নিজেকে অসহায় মনে করে এবং নিজের লেখা নিজে পড়ার পরিবর্তে লুকিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

পরিশেষে, আত্মসম্মানবোধই তপনকে ‘হারিয়ে’ যেতে বাধ্য করেছিল, কিন্তু এই হারিয়ে যাওয়া আসলে তার পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া।

 

৪.২ ‘চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে’।— কারা এই চিহ্ন দিয়েছিল ? কাদের প্রতি এই অপমান করেছিল ? অপমানিত ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও ? ১+১+৩=৫

 

উত্তরঃ ‘আফ্রিকা’ কবিতায় রুদ্ররূপী আফ্রিকা তথা আফ্রিকার অপমানিত ইতিহাসে চিরচিহ্ন দিয়েছিল ইউরোপের ঔপনিবেশিক শক্তির প্রতিনিধি, অর্থাৎ পাশ্চাত্যের (ইউরোপীয়) সাম্রাজ্যবাদী সভ্যতার মানুষরা।

এই অপমান করা হয়েছিল আফ্রিকার নিভৃত অরণ্য, আদিম প্রকৃতি এবং সেখানকার সাধারণ, অসহায় কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের প্রতি।

 

অপমানিত ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত পরিচয় : ইউরোপের সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আফ্রিকাকে অন্ধকারের উৎস থেকে ছিনিয়ে এনেছিল মানুষের দরবারে। তবে সভ্যতার নামে তারা অত্যন্ত অমানবিক ও নিষ্ঠুর আচরণ করেছিল। তাদের নখ ছিল নেকড়ের চেয়েও তীক্ষ্ণ, আর ছদ্মবেশে তাদের অমানুষিকতা ছিল প্রবল। তারা আফ্রিকার দুর্গম অরণ্য ও প্রকৃতির ওপর চরম অত্যাচার চালিয়েছে। ঔপনিবেশিক শাসকরা নির্মমভাবে আফ্রিকার মানুষকে দাস হিসেবে ধরে নিয়ে গিয়েছিল, তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, এবং তাদের ওপর অকথ্য অত্যাচার করেছে। এই শোষণ ও অত্যাচার আফ্রিকার বুকে যে ক্ষত বা অপমানিত ইতিহাস তৈরি করেছে, তা তাদের নামের ওপর “কলঙ্ক” হিসেবে চিরচিহ্ন রেখে গেছে।

 

৪.৩ ‘তার নাম লুইস অ্যাডসন ওয়াটার ম্যান’। – লুইস অ্যাডসন ওয়াটার ম্যান কে ? তার কৃতিত্ব সম্পর্কে যা জান লেখো। ১+৪=৫

উত্তরঃ শ্রীপান্থ রচিত ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধ অনুসারে, লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান ছিলেন একজন মার্কিন উদ্ভাবক, যিনি ১৮৮৪ সালে আধুনিক কার্যক্ষম ও নির্ভরযোগ্য ফাউন্টেন পেন বা ঝরনা কলম তৈরি করে লিখন পদ্ধতিতে বিপ্লব আনেন। তিনি মূলত কলমের ভেতরে কালি ধারণের আধুনিক প্রযুক্তি তৈরি করেন।

 

∆ লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান-এর কৃতিত্ব—

কার্যকরী ফাউন্টেন পেন উদ্ভাবন : ১৮৮৪ সালে তিনি ফাউন্টেন পেনের ভেতরে কালি ধারণকারী ‘থ্রি ফিশার ফিড’ (Three Fisher Feed) নামক বিশেষ ব্যবস্থা ডিজাইন করেন এবং তার পেটেন্ট পান।

 

লিখন পদ্ধতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন : তার আগে কলম ডুবিয়ে বারবার লিখতে হতো। ওয়াটারম্যানের তৈরি কলম কালির রিজার্ভার ধারণ করায় কলম বারবার কালিতে ডোবানোর ঝামেলা দূর হয়।

 

কোম্পানি প্রতিষ্ঠা : নিজের উদ্ভাবিত এই কার্যকর ফাউন্টেন পেন তৈরি ও বাজারজাত করার জন্য তিনি ‘ওয়াটারম্যান পেন কোম্পানি’ প্রতিষ্ঠা করেন।

 

নির্ভরযোগ্যতা : তার তৈরি কলম ছিল অন্যান্য সাধারণ কলমের তুলনায় অনেক বেশি নির্ভুল ও উন্নতমানের, যা লেখকদের কলম ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে সহজতর করে তোলে।

সহজ কথায়, লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান ছিলেন কলম বা লেখার পদ্ধতির ইতিহাসের এক কালজয়ী ব্যক্তিত্ব, যিনি ঝরনা কলমকে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে তুলেছিলেন।

৫। নিচের প্রশ্নটির উত্তর দাওঃ ২×১=২

 

৫.১. অনুসর্গ ও বিভক্তির পার্থক্য লেখ।

উত্তরঃ বিভক্তি ও অনুসর্গের প্রধান পার্থক্য—

গঠন : বিভক্তি বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি, যার নিজস্ব কোনো অর্থ নেই। অনুসর্গ হলো স্বাধীন অব্যয় পদ, যার নিজস্ব অর্থ রয়েছে। উদাহরণ- গাছ থেকে (থেকে অনুসর্গ) ফল পড়ল।

অবস্থান ও সংযোগ : বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত বা মিশে থাকে। অনুসর্গ শব্দের পরে আলাদাভাবে বসে। উদাহরণ- গাছএ (এ বিভক্তি) ফল আছে।

 

৬। নিচের যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ ৫×১=৫

 

৬.১ ‘আজ বারুনী’ – বারুনী কী ? এই অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে কী করা হয় ? ছোটো ছেলেদের মনে এবিষয়ে উন্মাদনার কারণ কী ? ১+২+২=৫

 

উত্তরঃ বারুনী কী : হিন্দু শাস্ত্র মতে, চৈত্র মাসের কৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে শতভিষা নক্ষত্র যোগ হলে তাকে ‘বারুনী’ বলে। এটি একটি বিশেষ গঙ্গাস্নান উৎসব।

 

অনুষ্ঠানে যা করা হয় : এই দিন পুণ্যার্থীরা ভোরে গঙ্গাস্নানে আসেন। তারা গঙ্গার জলে শ্রদ্ধা জানিয়ে কাঁচা আম, ফুল, ও অন্যান্য সামগ্রী ভাসিয়ে দিয়ে পাপমোচন ও পুণ্য অর্জনের পূজা করেন।

 

ছোট ছেলেদের উন্মাদনার কারণ : কোনি উপন্যাসের প্রেক্ষাপটে, বারুনীর দিন গঙ্গায় ভেসে আসা কাঁচা আম সংগ্রহের জন্য ছোট ছেলেরা, বিশেষ করে গরিব দলের ছেলেরা, ঘাট সংলগ্ন এলাকায় তীব্র উন্মাদনা দেখায়। জলের স্রোতে ভেসে আসা অজস্র আম কুড়িয়ে নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বা বিক্রি করে, যা তাদের কাছে এক বিরাট আনন্দ ও উৎসবের বিষয়।

মূলত, এই দিন গঙ্গার ঘাট কাঁচা আমের ছড়াছড়ি এবং ছোট ছেলেদের হইচই-এ মুখর হয়ে ওঠে।

 

৬.২ ‘কোনি’ রচনা অবলম্বনে ‘ক্ষিতিশের’ এবং ‘কোনির পারিবারিক জীবনের পরিচায় দাও। ২½ + ২½

উত্তরঃ মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে কোনি ও ক্ষিতীশের পারিবারিক জীবন সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুর হলেও, দারিদ্র্য ও আত্মসম্মান তাদের মিলিয়ে দিয়েছে। কোনি চরম অভাবী, সংগ্রামী পরিবার থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান সাঁতারু, অন্যদিকে ক্ষিতীশ নিঃসন্তান ও নিবেদিতপ্রাণ প্রশিক্ষক, যিনি কোনিকে নিজের মেয়ের মতো আগলে সামাজিক প্রতিবন্ধকতা জয় করেছেন

 

∆ কোনির পারিবারিক জীবনের পরিচয়—

চরম দারিদ্র্য : কোনি এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। তার জীবনে দারিদ্র্য ও বঞ্চনা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল।

 

পরিবার : তার পরিবারে মা, দাদা কমল পাল, ছোট ভাই গোপাল এবং আরও দুই বোন ছিল।

 

সংগ্রাম : অভাবের কারণে তাকে কাঁচালঙ্কা ও নুন দিয়ে ভাত খেতে হয়েছে এবং গঙ্গার ঘাটে আম কুড়াতে হয়েছে।

 

সমর্থন : দারিদ্র্যতা সত্ত্বেও, তার পরিবার তার সাঁতারের স্বপ্নকে সমর্থন করত, যা তার চরিত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ।

 

∆ ক্ষিতীশের পারিবারিক জীবনের পরিচয়—

 

স্ত্রী লীলাবতী : ক্ষিতীশের স্ত্রী লীলাবতী অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও বাস্তববাদী। ক্ষিতীশের চাকরি চলে যাওয়ার পর সংসার চালানোর জন্য লীলাবতীই নিজ হাতে খাবারের ব্যবসা (বোতলে আচারের ব্যবসা) শুরু করে সংসারের হাল ধরেন।

 

আর্থিক সংগ্রাম : ক্ষিতীশ জুপিটার ক্লাব থেকে অন্যায়ভাবে বিতাড়িত হওয়ার পর চরম অভাবের সম্মুখীন হন। তবুও তিনি নিজের আদর্শের সঙ্গে আপস করেননি।

 

সহানুভূতি ও অনুপ্রেরণা : সংসারের চরম দারিদ্র্য উপেক্ষা করে তিনি কোনির প্রশিক্ষণের জন্য অর্থ ব্যয় করেন। স্ত্রী লীলাবতীও এতে পুরোপুরি সমর্থন যোগাতেন, যা তাদের বোঝাপড়াকে তুলে ধরে।

 

জেদ ও আদর্শ : ক্ষিতীশ তাঁর পারিবারিক জীবনেও অত্যন্ত জেদী এবং নীতিবান। তিনি কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে নিজের আদর্শ প্রতিষ্ঠায় অবিচল থাকেন।

SOURCE- HZN

©kamaleshforeducation.in(2023)

 

error: Content is protected !!
Scroll to Top