

বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ
বড়ো প্রশ্ন উত্তর (2/3/5 নম্বর)
Class 10 ভূগোল প্রথম অধ্যায়
আজকের পোস্টে মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ” (Bohirjato Pokriya O Tader Dwara Sristo Bhumirup Class 10 Geography Chapter 1) থেকে গুরুত্বপূর্ণ বাছাই করা 2/3/5 মার্ক প্রশ্ন সহজ ভাষায় উত্তর করে দেওয়া হয়েছে। যেগুলো পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ছাত্র-ছাত্রীদের বিশেষ ভাবে সহায়তা করবে।
বোর্ড: বিষয়বস্তু
1 দশম শ্রেণী ভূগোল ‘বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ’ (প্রথম অধ্যায়) 2/3/5 মার্ক প্রশ্ন উত্তর
1.1 দশম শ্রেণীর ভূগোল প্রথম অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর (2 নম্বর) | Class 10 Geography Chapter 1 Question Answer (2 Marks)
1.2 মাধ্যমিক ভূগোল প্রথম অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর (3 নম্বর) | Class 10 Geography Chapter 1 Question Answer (3 Marks)
1.3 ‘বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ’ বড়ো প্রশ্ন উত্তর (৫ নম্বর) | Class 10 Geography Chapter 1 Long Question Answer (5 Marks)

দশম শ্রেণী ভূগোল
‘বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ’
(প্রথম অধ্যায়)
2/3/5 মার্ক প্রশ্ন উত্তর
এখানে ধারাবাহিক ভাবে “বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ” অধ্যায় থেকে 2/3/5 নম্বর এর প্রশ্ন গুলি সহজ ভাষায় উত্তর করে সাজিয়ে দেওয়া হল।

দশম শ্রেণীর ভূগোল
প্রথম অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর (2 নম্বর)
বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ
1. পর্যায়ন প্রক্রিয়া (Gradational Process) বলতে কী বোঝো।
উত্তর: বহির্জাত প্রক্রিয়ায় ক্ষয় ও সঞ্চয় কাজের মাধ্যমে ভূত্বকের উপরিভাগের উচ্চতার পরিবর্তন ঘটে এবং বিভিন্ন উচ্চতাযুক্ত ভূমিরূপের ক্রমশ সমতা এনে একটি সাধারণ তল গঠিত হয়। এজন্য চেম্বারলিন ও সলিসবেরি (১৯০৪) বহির্জাত প্রক্রিয়াগুলিকে পর্যায়ন বা ক্রমায়ন প্রক্রিয়া বলেছেন। ভূবিজ্ঞানী গ্রোভ কার্ল গিলবার্ট (১৮৭৬) সর্বপ্রথম ‘পর্যায়’ বা ‘গ্রেড’ শব্দটি ব্যবহার করেন।
2. প্রপাতকূপ বা Plunge Pool কাকে বলে?
উত্তর: জলপ্রপাতের পাদদেশে প্রবল জলস্রোত ও প্রস্তরখণ্ডের প্রচণ্ড আঘাতে ও জলে ঘূর্ণি সৃষ্টির ফলে বুদবুদ ক্ষয়ের মাধ্যমে যে বিশালাকার হাঁড়ির মতো গর্ত সৃষ্টি হয়, তাকে প্লাঞ্জপুল বা প্রপাত কূপ বলে। উদাহরণ – চেরাপুঞ্জির কাছে নোহকালিকাই জলপ্রপাতে দেখা যায়।
3. মন্থকূপ বা Pothole কাকে বলে?
উত্তর: নদীর অবঘর্ষ ক্ষয় প্রক্রিয়ায় নদীর তলদেশে যে ছোটো ছোটো গোলাকার ও মসৃণ গর্ত সৃষ্টি হয়, তাকে মন্ত্রকূপ বলে।
উৎপত্তি :– নদী বাহিত শিলাখণ্ড পাক খেতে খেতে নদী তলদেশে নরম শিলায় আঘাত করলে প্রথমে ছোটো ছোটো গর্ত সৃষ্টি হয়। এরপর ছোটো নুড়ি ঘুরতে ঘুরতে ক্ষয় করে গর্তকে আরও গভীর ও মসৃণ করে মন্থকূপ গঠন করে।
4. লোয়েস সমভূমি (Loess Plane) কাকে বলে?
উত্তর: ‘লোয়েস’ শব্দটির উৎপত্তি জার্মান শব্দ Loss -থেকে যার অর্থ ‘স্থানচ্যুত বস্তু’। শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন ভন রিকটোফেন। মরুভূমির হলুদ ও ধূসর রঙের কোয়ার্টজ, ফেলসপার, ক্যালসাইট, ডলোমাইট ও অভ্র খনিজ সমৃদ্ধ সূক্ষ্ম (২০-৫০ মাইক্রোমিটার) ধূলি, বালিকণাকে লোয়েস বলে। মরুবামরূপ্রায় অঞ্চলের লোয়েসকণা বায়ু দ্বারা পরিবাহিত হয়ে ও দূরবর্তী কোনো স্থানে সঞ্চিতহয়ে যে সমভূমি সৃষ্টিহয়, তাকে লোয়েস সমভূমি বলে। এটি মরু অঞ্চলের বাইরে আর্দ্র অঞ্চলে বায়ুর সঞ্চয়জাত সমভূমি। অঞ্চলটিতে বালি, শিল্ট কণা একসঙ্গে জমা হওয়ায় ভূভাগ স্তরহীন হয়।
5. হিমরেখা কী?
উত্তর: উঁচু পার্বত্য বা মেরু অঞ্চলে যে সীমারেখার ওপর সারা বছর তুষার জমে থাকে এবং যার নীচে তুষার গলে যায়, তাকে হিমরেখা (Snow line) বলে। এর উচ্চতা নিরক্ষরেখা থেকে মেরুর দিকেহ্রাস পায়। যেমন-নিরক্ষীয় আন্দিজ পর্বতে ৫৪০০ মি, উপক্রান্তীয় হিমালয়ে ৪৫০০ মি, নাতিশীতোয় আল্পসে ২৮০০ মি এবং মেরু অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠে অবস্থান করে।
6. হিমশৈল কী?
উত্তর: মেরু অঞ্চলে সমুদ্রজলে ভাসমান ও গতিশীল বিশালাকার বরফের স্তূপকে হিমশৈল (Ice berg) বলে। এগুলি মিষ্টি জল দিয়ে তৈরি বিশালাকার বরফস্তূপ। গ্রিনল্যান্ড ও আন্টার্কটিকা সংলগ্ন সমুদ্রে এগুলি দেখা যায়।
উৎপত্তি :– মহাদেশীয় হিমবাহের হিমরেখা সমুদ্র পৃষ্ঠ হওয়ায় বরফের স্তূপ সমুদ্র জলে এসে পড়ে। বরফের নিজ ভারে, জলের ঊর্ধ্বচাপে, বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের ধাক্কায় অখণ্ড হিমবাহের প্রান্তভাগ ভেঙে যায়। কঠিন বরফের ওজন তরল জলের তুলনায় ১০% কম হওয়ায় বরফচাঁইগুলির ৮/৯ অংশ বা ৮৯% জলে ডুবে থেকে স্রোতের সঙ্গে ভেসে গতিশীল হয়ে হিমশৈল গড়ে ওঠে।।
7. গ্রাবরেখা (Moraine) কী?
উত্তর: বিচ্ছিন্ন ও ক্ষয়প্রাপ্ত বিভিন্ন আয়তনের শিলাখণ্ড উপত্যকা হিমবাহের দুপাশে, মাঝখানে, সামনে একসঙ্গে স্তূপাকারে সঞ্চিত হয়ে যে প্রাচীরের মতো ভূমিরূপ সৃষ্টিহয়, তাকে গ্রাবরেখা বলে। তিস্তা নদীর উচ্চ অববাহিকায় লাংচুও লাচেন অঞ্চলে দেখা যায়।
8. নদীর ষষ্ঠ ঘাতের সূত্র কি ?
উত্তর: নদীর বহন ক্ষমতা নির্ভর করে নদীর জলের পরিমাণ, বাহিত পদার্থের পরিমাণ এবং নদীর গতিবেগের উপর। নদীর গতিবেগ দ্বিগুণ হলে তার বহন ক্ষমতা 2⁶ = 64 গুন বৃদ্ধি পায়, একে ষষ্ঠঘাতের সূত্র বলে। এই সূত্রের প্রবক্তা হলেন ডব্লু হপকিনস্।
9. সব নদীতে বদ্বীপ গড়ে ওঠে না কেন ?
উত্তর: নদীর মোহনায় সঞ্জয় কার্যের ফলে গঠিত একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিরূপ হল ব-দ্বীপ, কিন্তু সমস্ত নদীর মোহনায় বদ্বীপ সৃষ্টি হয় না। এর কয়েকটি প্রধান কারণ হলো –
১) যেসব নদীর গতিবেগ অনেক বেশি সেই সমস্ত নদীর দ্বারা বাহিত পলি-বালি সঞ্চিত না হয়ে অনেক দূরে চলে যায়।
২) নদী সল্প দৈর্ঘ্যের হলে নদীতে ক্ষয়জাত পদার্থের পরিমাণও কম হয়।
৩) নদীর উপনদীর সংখ্যা যদি কম থাকে তাহলে নদীতে পলির যোগান বেশি থাকে না ফলে সঞ্চয় বেশি হয় না।
৪) মোহনা অঞ্চলে বায়ু প্রবাহ বেশি হলে বদ্বীপ বিকাশের পরিবেশ গড়ে ওঠা না। উপরিউক্ত কারণগুলোর জন্যই আমাজন পৃথিবীর বৃহত্তম হওয়ার সত্ত্বেও বদ্বীপ গড়ে ওঠেনি।
10. ঝুলন্ত উপত্যকায় জলপ্রপাত গঠিত হয় কেনো?
উত্তর: ঝুলন্ত উপত্যকায় জলপ্রপাত গঠিত হয় কারণ –
ক) কর্তিতস্পার বরাবর মূল হিমবাহের উপত্যকা ও উপহিমবাহের উপত্যকার মধ্যে উলম্ব ব্যাবধান সৃষ্টি হয়ে জলপ্রপাত সৃষ্টি করে।
খ) বায়ুর উষ্ণতা বৃদ্ধি পেলে হিমবাহ গলে গিয়ে বরফগলা জলধারা সৃষ্টি হয়।
গ) হিমবাহ গলে গিয়ে বরফগলা জলধারা ঝুলন্ত উপত্যকা বরাবর প্রবাহিত হয়ে হিমদ্রোণীর উপর জলপ্রপাত সৃষ্টি করে।
11. ধারন অববাহিকা কাকে বলে?
উত্তর: উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে বা মালভূমি অঞ্চলে নদী নিম্ন সমভূমির অভিমুখে নেমে আসে। নদীর এই উৎস অঞ্চলে অববাহিকাতে বহু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলধারা একত্রে মিলিত হয়ে একটি নির্দিষ্ট খাতে নিম্নদিকে প্রবাহিত হয়। নদীর উৎস অঞ্চলের এই অববাহিকাকে ধারন অববাহিকা বলে।
উদাহরণ :– দামোদর নদীর উৎস অঞ্চলে এইরূপ সুন্দর ধারণ অববাহিকা দেখা যায়।

মাধ্যমিক ভূগোল প্রথম অধ্যায়
প্রশ্ন উত্তর (3 নম্বর)
12. গিরিখাত ও ক্যানিয়নের মধ্যে পার্থক্য লেখো
বিষয় |
গিরিখাত |
ক্যানিয়ন |
|---|---|---|
সংজ্ঞা |
সংকীর্ণ ও গভীর নদী উপত্যকাকে গিরিখাত বলে |
অতি সংকীর্ণ ও গভীর নদী উপত্যকাকে ক্যানিয়ন বলে |
সৃষ্ট অঞ্চল |
আর্দ্র অঞ্চলে গিরিখাত দেখা যায় |
শুল্ক অঞ্চলে ক্যানিয়ন দেখা যায় |
আকৃতি |
ইংরেজির U আকৃতির |
ইংরেজির অক্ষর V আকৃতির |
13. রসেমোতানে ও ড্রামলিন এর মধ্যে পার্থক্য লেখো।
বিষয় |
রসেমোতানে |
ড্রামলিন |
|---|---|---|
সংঞ্জা |
হিমাবহের ক্ষয় কার্যের ফলে সৃষ্ট উঁচু ঢিবি ন্যায় শিলাস্তূপকে রসেমোতানে বলে। |
হিমাবহের সঞ্চয় কার্যের ফলে উল্টানো নৌকা বা চমচের মতো ভূমিরূপকে ড্রামলিন বলে। |
অর্থ |
রসেমোতানে কথাটি ফরাসি শব্দ যার অর্থ ভেড়ার মাথা। |
গ্রিক শব্দ থেকে ড্রামলিন শব্দটি এসেছে যার অর্থ ঢিবি। |
অবস্থান |
সাধারণত উঁচু পার্বত্য অঞ্চলের দেখা যায়। |
পর্বতের পাদদেশে ড্রামলিন দেখা যায়। |
বৈশিষ্ট্য |
প্রতিবাত অংশটি মসৃণ এবং অনুবাদ ঢালটি অমসৃণ। |
ড্রামলিনের প্রতিবাদ অংশটি অমসৃণ ও অনুবাদ অংশটি মসৃণ। |
সংখ্যা |
রসেমোতানে সাধারণত এককভাবে অবস্থান করে |
অসংখ্য ড্রামলিন একত্রে অবস্থান করে। |
উদাহরণ |
মধ্য হিমালয় অঞ্চলে রসেমোতানে দেখা যায়। |
উত্তর আমেরিকার উইস্ কনসিন রাজ্যে ড্রামলিন দেখা যায়। |
14. নদী উপত্যকা ও হিমবাহ উপত্যকার মধ্যে পার্থক্য লেখো।
বিষয় |
নদী উপত্যকা |
হিমবাহ উপত্যকা |
|---|---|---|
১. অবস্থান |
উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল যেখানে নদী বা জলধারা কাজ করে সেখানে নদী উপত্যকা গঠিত হয়। |
উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে চির তুষারাবৃত্ত স্থানে যেখানে হিমবাহ ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটায় সেখানে হিমবাহ উপত্যকা গঠিত হয়। |
২. আকৃতি |
আকৃতি ইংরেজি অক্ষর ‘I’ ও ‘V’ -এর মতো |
হিমবাহ উপত্যকার আকৃতি ইংরেজি অক্ষর ‘U’ এর মতো। |
৩. দৈর্ঘ্য |
সাধারণত নদী উপত্যকার দৈর্ঘ্য খুব বেশি হয় |
হিমবাহ উপত্যকার দৈর্ঘ্য তুলনামূলক কম হয় |
৪. প্রকৃতি |
নদী উপত্যকা এবড়ো-খেবড়ো ও অমসৃণ হয় |
হিমবাহ উপত্যকা মসৃণ প্রকৃতির হয় |
15. বার্খান বালিয়াড়ি ও সিফ বালিয়াড়ির মধ্যে পার্থক্য লেখো।
বিষয় |
বার্খান বালিয়াড়ি |
সিফ বালিয়াড়ি |
|---|---|---|
১. সংঞ্জা |
বায়ুর গতিপথে আড়াআড়ি বা লম্বভাবে গঠিত অর্ধচন্দ্রাকৃতি বালিয়াড়িকে বার্খান বালিয়াড়ি বলে। |
বায়ুর গতিপথে সমান্তরাল ভাবে গঠিত দীর্ঘ তরোয়ালের মতো বালিয়াড়িকে সিফ্ বালিয়াড়ি বলে। |
২. অর্থ |
বার্খান শব্দের অর্থ হল বালিরপাহাড়। |
সিফ্ শব্দের অর্থ তলোয়াল। |
৩. দৈর্ঘ্য |
বার্খান বালিয়াড়ির দৈর্ঘ্যে অপেক্ষাকৃত কম। |
সিফ্ বালিয়াড়ির দৈর্ঘ্য অপেক্ষাকৃত বেশি |
৪. সৃষ্টি |
বার্খান বালিয়াড়ি থেকে সিফ বালিয়াড়ির সৃষ্টি হয়। |
সিফ্ থেকে বার্খান বালিয়াড়ির সৃষ্টি হয় না। |
16. হিমরেখা সর্বদা একই উচ্চতায় অবস্থান করে কেন ?
উত্তর: পর্বতের গায়ে যে উচ্চতার উপর সারাবছর তুষার জমে থাকে ও যে উচ্চতার নিচে তুষার গলে জল হয়ে যায় সেই সীমারেখাকে বলা হয় হিমরেখা। এই হিমরেখা সর্বদা একই উচ্চতায় অবস্থান করে না। এর কারণগুলি হল ‐
ক) অক্ষাংশ :- অক্ষাংশ ভেদে হিমরেখার উচ্চতার তারতম্য ঘটে। নিম্ন অক্ষাংশে উষ্ণতা বেশি হয় ফলে হিমরেখা বেশি উচ্চতায় অবস্থান করে এবং উচ্চ অক্ষাংশে উষ্ণতা কম থাকায় হিমরেখার উচ্চতা হ্রাস পায়।
খ) ভূমির ঢাল :- পার্বত্য ভূমির ঢাল নিরক্ষরেখার দিকে ঝুঁকে অবস্থান করলে সূর্যরশ্মি বেশি পড়ে বলে বেশি উত্তপ্ত হয় ফলে হিমরেখা উঁচুতে অবস্থান করে।
গ) ঋতু পরিবর্তন :- ঋতু পরিবর্তনের উপর হিমরেখার উচ্চতা হ্রাস-বৃদ্ধি নির্ভর করে। গ্রীষ্মকালে হিমরেখা উপরে উঠে যায় এবং শীতকালে নিচে নেমে যায়।
ঘ) স্থানীয় বায়ু প্রবাহ :- স্থানীয় বায়ু প্রবাহের জন্য উষ্ণতার তারতম্য ঘটলে হিমরেখার উচ্চতার পরিবর্তন ঘটে। যেমন – রকি পর্বতের পূর্ব ঢালে উষ্ণ চিনুক বায়ুর প্রভাবে হিমরেখা পশ্চিমঢালের চেয়ে পূর্বঢালে বেশি উচ্চতায় অবস্থান করে।
17. মরু ও উপকূল অঞ্চলে বায়ুর কাজ প্রাধান্য লাভের কারণ কি?
উত্তর: মরু অঞ্চলে বায়ুর প্রাধান্য ও লাভের কারন –
১. বায়ুর গতিপথে বাধার অভাব :– মরু অঞ্চলে পাহাড়, পর্বত, গাছপালা প্রভৃতি বাধা না থাকায় মরুভূমির উপর দিয়ে বায়ু প্রবল বেগে প্রভাহিত হয়।
২. বৃষ্টিপাতের অভাব :– আর্দ্রতা বৃষ্টিপাত এবং গাছপালা কোনো স্থানের ভূমিকে দৃঢ় ও সংঘবদ্ধ করে রেখে ক্ষয়ীভবনে বাধা সৃষ্টি করে। মরুভূমিতে এই তিনটির অভাব বলে শিথিল মাটি ও বালির ওপর বায়ু সহজেই তার ক্ষয়কাজ করতে পারে ।
৩. দিন-রাত্রির উষ্ণতার পার্থক্য :– মরুভূমিতে শীত ও গ্রীষ্ম এবং দিন ও রাত্রির মধ্যে উষ্ণতার পার্থক্য খুবই বেশি হওয়ার জন্য ব্যাপক সংকোচন ও প্রসারনের সৃষ্টি হয়। ফলে সংঘটিত যান্ত্রিক বিচূর্নীভবনের দ্বারা শিলা সহজেই চুর্ণবিচূর্ন ও শিথিল হয়ে বালিতে পরিণত হয়, এতে বায়ুর ক্ষয়কার্যেরও সুবিধা হয়।
‘বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ’
বড়ো প্রশ্ন উত্তর (৫ নম্বর)
18. বায়ুর ক্ষয় কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপ এর সচিত্র পরিচয় দাও। ০৫
উত্তর: বায়ু প্রধানত অবঘর্ষ, ঘর্ষণ ও অপসারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শুষ্ক মরু অঞ্চলে ক্ষয়কাজ করে এবং বিভিন্ন ভূমিরূপের সৃষ্টি করে। বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট প্রধান ভূমিরূপ গুলি হল —
১) অপসারন গর্ত :- মরুভূমি অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহের ফলে কোনো স্থানে প্রচুর সংখ্যক বালুকনা অন্যত্রে স্থানান্তরিত হলে নীচুগর্তের সৃষ্টিহয় একে অপসারণ গর্ত বা ব্লো আউট বলা হয়। এ ধরনের গর্তকে রাজস্থানে ধান্দ বলা হয়।
■ উদাহরণ :- মিশরের কাতারা (বিশ্বের বৃহৎ)
২) গৌর :- মরু অঞ্চলে উত্থিত কোনো শিলা স্তুপের উপরিভাগ এবং নিম্নভাগ কোমল শিলার দ্বারা গঠিত হলে বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন মুখী বায়ু প্রবাহের দ্বারা অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় শিলা স্তূপের নিচের অংশ বেশি ক্ষয় পেয়ে যে ব্যাঙের ছাতা ন্যায় আকৃতি বিশিষ্ট ভূমিরূপ সৃষ্টি করে তাকে গৌর বলে। জার্মানিতে এরুপ ভূমিরূপকে পিজফেলসেন বলে, ব্যাঙের ছাতা ন্যায় আকৃতির জন্য একে মাশরুম রক-ও বলা হয়।
■ উদাহরণ :- সাহারা মরুভূমিতে গৌর দেখা যায়।
৩) ইনসেলবার্জ :- মরুভূমি অঞ্চলে বায়ুর ক্ষয়ের কাজ প্রতিরোধ করে কঠিনশিলায় গঠিত যে অনুচ্চ টিলা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে তাকে ইনসেলবার্জ বলে। এটা দেখতে গম্বুজ আকৃতির হয়। এর উচ্চতা ১০-৩০ মিঃপর্যন্ত হয়।
■ উদাহরন :- কালাহারি মরুভূমিতে ইনসেলবার্জ দেখা যায়।
৪) ইয়ারদাঙ :- বায়ুর গতিপথে কঠিন ও কোমল শিলা পাশাপাশি উলম্বভাবে অবস্থান করলে, বায়ুর বৈষম্যমূলক ফলে কঠিন শিলায় প্রাচীর এবং কোমল শিলায় খাদ্যের সৃষ্টি হয় এরূপ ভুমিরুপ ইয়ারদাঙ বলে। এর উচ্চতা ৬ – ১৫ মিঃ হয় এবং বিস্তার ১০ – ১৪ মিঃ হয়। ইয়ারদাঙ-এর শীর্ষদেশ ক্ষয় পেয়ে তীক্ষ্ণ আকার ধারণ করলে তাকে নিডিল বলে।
■ উদাহরণ :- সাহারা ও গোবি মরুভূমিতে দেখা যায়।
৫) জিউগেন বা জুগেন :– মরু অঞ্চলে কঠিন ও কোমল শিলাস্তরে পর্যায়ক্রমে অনুভূমিকভাবে অবস্থান করলে কঠিন শিলায় দারুণ বা ফাটলের বরাবর বায়ু ক্ষয় করে, ফলে কঠিন শিলা অপেক্ষা কৃত কমক্ষয় পেয়ে চ্যাপ্টা মাথা বিশিষ্ট যে ভূমিরূপ সৃষ্টি করে তাকে জিউগেন বা জুগেন বলে। ইহা ৩ – ৩০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত হয়। নীচের দিকটি সরু ও উপরের দিকটি মোটা হয়।
■ উদাহরণ :- কারাহারি মরুভূমিতে দেখা যায়।
19. নদীর ক্ষয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপের সচিত্র পরিচয় দাও। ০৫
উত্তর: নদী প্রধানত পার্বত্য অঞ্চলে অর্থাৎ উচ্চগতিতে জলপ্রবাহ ঘর্ষণ ও দ্রবণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষয়কাজ করে এবং বিভিন্ন ভূমিরূপের সৃষ্টি করে। ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ গুলি হলো –
১) ‘I’ আকৃতির উপত্যকা :- নদী উপত্যকা যখন গভীর ও সংকীর্ণ হয়ে ‘I’ আকৃতির হয় তখন তাকে ‘I’ আকৃতির উপত্যকা বলে।
উৎপত্তি :- পার্বত্য অঞ্চলে অধিক ঢালের জন্য নদীতে প্রবল জলের স্রোত থাকায় এই স্রোতের সঙ্গে বাহিত প্রস্তরখণ্ড,বল্ডার,নুরি, কাঁকর প্রভৃতি অবঘর্ষ পদ্ধতিতে ঘর্ষণের ফলে নদীর পার্শ্বক্ষয় অপেক্ষা নিম্নক্ষয় বেশি হয় ফলে নদীর উপত্যকা দেখতে ‘I’ আকৃতির মত হয়। এরকম ‘I’ আকৃতির উপত্যকাকে ক্যানিয়ন বলা হয়।
■ উদাহরণ :- পেরুর কলকা নদীর এল ক্যানন দ্যা কলকা।
২) ‘V’ আকৃতির উপত্যকা :- আদ্র অঞ্চলে পার্বত্য গদিতে নদী নিম্নক্ষয়ের সাথে সাথে অল্প পার্শ্বক্ষয় করার ফলে যে সংকীর্ণ গভীর উপত্যকার সৃষ্টি হয় যা দেখতে ইংরেজি অক্ষর ‘V’ আকৃতির মত হয়, তাকে ‘V’ আকৃতির উপত্যকা বলে।
■ উৎপত্তি :- আর্দ্র ও আদ্র প্রায় অঞ্চলে নদীর স্রোতের প্রভাবে স্বল্পপরিমাণ পার্শ্বক্ষয় করার ফলে নদীউপত্যকা একদিকে যেমন গভীর হয় তেমনি পাশাপাশি চওড়া হয়। চওড়া হয়ে ‘V’ আকৃতির উপত্যকা গঠন করে। এইরকম আকৃতির উপত্যকাকে গিরিখাত বলে।
■ উদাহরণ :- ইয়াংসিকিয়াঙ নদীর ইচাং গিরিখাত।
৩) জলপ্রপাত :- উচ্চ গতিতে নদী যখন হঠাৎ কোনো অংশ থেকে খাড়াভাবে উপর থেকে নিচে প্রবল বেগে নেমে আসে তখন তাকে জলপ্রপাত বলে।
■ উৎপত্তি :- i) নদীর গতিপথে কঠিন শিলা অনুভূমিকভাবে অবস্থান করলে কঠিন শিলা অপেক্ষা কমল শিলা দ্রুত ক্ষয় পেয়ে জলপ্রপাত গঠিত হয়, ii) নদীর গতিপথে আড়াআড়িভাবে চুতির সৃষ্টি হলে জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়, iii) নদীর পূনর্যৌবন লাভের ফলে নিক বিন্দুতে জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়।
■ উদাহরণ :- নর্মদা নদীর উপর কপিলধারা জলপ্রপাত।
৪) মন্থকূপ :- পার্বত্য প্রবাহে নদীবাহিত প্রস্তরখণ্ড গুলি অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় নদীর তলদেশে ছোট ছোট গর্তের সৃষ্টি করে যাদের মন্থকূপ বা পটহোল বলে।
■ উৎপত্তি :- প্রবল বেগে প্রবাহিত নদীর তলদেশে ও পার্শ্বদেশে জলবর্তের সৃষ্টি হলে সেখানে নুড়ি বা শিলা ঘর্ষণের ফলে যেগর্তের সৃষ্টি হয় তাকে মন্থকূপ বলে।
■উদাহরণ :- পশ্চিমবঙ্গের তিস্তা নদীতে অনেক পটহোল দেখা যায়।
20. বিশ্ব উষ্ণায়ন বা Global Warming সুন্দরবনের জলবায়ুকে কিভাবে প্রভাবিত করেছে, তা লেখো। ০৫
উত্তর: সুন্দরবনের পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ ও বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য অঞ্চল ঈশ্বরের সুন্দরবনের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন।
■ সুন্দরবনের উপর বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব:
১) বরফের গলন :- বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে গিয়ে সমুদ্রে জলের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সুন্দরবনের বেডফোর্ড,সুপারি ভাঙা, লোহাচড়া ইত্যাদি বিভিন্ন দ্বীপ সমুদ্রের তলায় চলে যাচ্ছে।
২) উষ্ণতা বৃদ্ধি :- বিগত ১৯৮০ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সুন্দরবন সংলগ্ন নদী ও সমুদ্রের জলে উষ্ণতা প্রতি দশকে 0.5°C হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উষ্ণতার এই বৃদ্ধি ম্যানগ্রোভ অরণ্য ও সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের উপর ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলেছে।
৩) ঘূর্ণিঝড় :- সুনামি, আয়লা, আমফান, ইয়াস প্রভৃতি প্রাকৃতিক বিপর্যয় সুন্দরবনের ভবিষ্যতকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। গত শতাব্দীতে সুন্দরবনে দুর্যোগ বিপর্যয়ের প্রবণতা ২৫ % বৃদ্ধি পেয়েছে।
৩) আবহাওয়া পরিবর্তন :– বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে আবহাওয়া সর্বনাশা শক্তিগুলির বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অরণ্য ও বন্য প্রানীর জীবন বিপন্ন হচ্ছে। যেমন – রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন
৪) জল ও মাটির লবনতা বৃদ্ধি :- জলতল বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য সুন্দরবনের জল ও মাটিতে লবণতার পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে কৃষির প্রয়োজনীয় জল ও পানীয় জলের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে বন্যার আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোনো কোনো বদ্বীপ সল্ট বেসিনে গুলে মাডফ্লাড এর চেহারা নিচ্ছে। আর জলোচ্ছ্বাসের ফলে সুন্দরবনের বিভিন্ন জায়গায জলের তলায় তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
21. মরুকরণ বা মরু সম্প্রসারণ কি ? এর কারণগুলি লেখো। ২+৩
উত্তর: যে প্রক্রিয়ার দ্বারা উৎপাদনে সক্ষম উর্বর জমি ক্রমণ পরিচর্যার অভাবে উৎপাদানে অক্ষম ও অনুর্বর জমিতে পরিণত হয় তাকে মরূকরণ বলে। ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে বসুন্ধরা সম্মেলনে মরূকরণের সংঞ্জায় বলা হয়েছে, “শুষ্ক বা প্রাই শুষ্ক উপআর্দ্র অঞ্চল জলবায়ুর পরিবর্তন ও মানুষের বিভিন্ন কার্যকলাপের জন্য ভূমির গুণগত মানের অবনমন ঘটলে তাকে মরুকরণ বলা হয়। মরুকরণের কারণগুলিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয় যথা – ক) প্রাকৃতিক কারণ খ) মনুষ্যসৃষ্ট কারণ।
■ প্রাকৃতিক কারণ ::–
১) বালিপূর্ণ বাতাসের আগমন :- মরুভূমি থেকে আগত বাতাসের মাধ্যমে মরুসংলগ্ন অঞ্চলে বালি জমা হতে হতে ধীরে ধীরে মরুভূমির সম্প্রসারণ ঘটে
২) খরা :- কোন স্থানে খরা বারবার হলে ও বেশিদিনের স্থায়ী হলে মাটি শুকিয়ে যায় ফলে মরুঅঞ্চলের বিস্তার ঘটে
৩) বিশ্ব উষ্ণায়ন :- বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবীর উষ্ণতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে ফলে বৃষ্টিপাতের অভাব দেখা দিচ্ছে। বৃষ্টিপাতের অভাবে মরুকরণ ঘটছে
■ মনুষ্যসৃস্ট কারণ ::–
১) বৃক্ষচ্ছেদন :- মরুভূমি সংলগ্ন অঞ্চলে যথেচ্ছ হারে বিবেচনাহীন ভাবে বিক্ষচ্ছেদনের ফলে মরুভূমি সম্প্রসারিত হচ্ছে
২) অতিরিক্ত পশুচারণ :- মরু অঞ্চলের অধিবাসীদের প্রধান জীবিকা হল পশুচারণ। অতিরিক্ত হারে পশুচারণ করার ফলে যেমন একদিকে ঘাসের আস্তরণ শেষ হয়ে যায়। অন্যদিকে ভূমিক্ষয় ঘটে যা মরুকরনে সহায়তা করে।
৩) অবৈজ্ঞানিক প্রথায় কৃষিকাজ :- মরু অঞ্চলের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে অবৈজ্ঞানিক প্রথায় কৃষিকাজ করলে জমির উর্বরতা হাস পায় এবং মরুকরণকে সক্রিয় করে তোলে।
22. হিমবাহ ও জলধারার মিলিত সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপের পরিচয় দাও। ০৫
উত্তর: হিমরেখার নিচে হিমবাহ গলে ছোট ছোট অসংখ্য অস্থায়ী জলধারা সৃষ্টি হয়। এই সকল জলধারা হিমবাহ সঞ্চিত পদার্থকে বহুদূর পর্যন্ত বহন করে দূরবর্তী স্থানে সঞ্চিত করে। এই ধরনের সঞ্চয় হিমবাহ ও জলধারার মিলিত সঞ্চয় কার্য বলা হয়। এই মিলিত প্রবাহের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ গুলি হল –
ক) বহিঃবিধৌত সমভূমি :- হিমবাহ পর্বত পাদদেশে নেমে এসে গলে গেলে বরফগলা জলপ্রবাহের মাধ্যমে হিমবাহ বাহিত কাঁকর, বালি প্রভৃতি সঞ্চিত হয়ে বিস্তৃর্ণ অঞ্চলজুড়ে যে সমভূমি সৃষ্টি হয়, তাকে বহিঃবিধৌত সমভূমি বলে।
■ বৈশিষ্ট্য :- i) ইহা পর্বতের পাদদেশ অঞ্চলে সৃষ্ট সমভূমি। ii) বহিঃবিধৌত সমভূমি নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন হলে ভ্যালি ট্রেন বলে। iii) বহিঃবিধৌত সমভূমিতে অনেক সময় জল জমে হ্রদের সৃষ্টি হয়।
■ উদাহরন :- আইসল্যান্ড দ্বীপে বহিঃবিধৌত সমভূমি দেখা যায় যা ভাষায় স্যান্দুর নামে পরিচিত।
খ) ড্রামলিন :- হিমবাহিত নুড়ি, কাঁকর, পাথর, কাদা প্রভৃতি পর্বতের পাদদেশে সঞ্চিত হয়ে উল্টানো চামচ বা উল্টা নৌকার মতো এক প্রকার ঢেউ খেলার ভূমিরূপে সৃষ্টি হয় একে ড্রামলিন বলে।
■ বৈশিষ্ট্য :- i) অনেকগুলি ড্রামলিন একসঙ্গে অবস্থান করলেও অঞ্চলটি দেখতে ডিমভর্তি ঝুড়ির মত হয়। এরূপ ভূমিরূপকে “Basket of Eggs Topography” বলে। ii) ড্রামলিন হিমবাহের দিকে অমসৃণ ও খারা হয় এবং বিপরীত দিকে মসৃণ ও ঢালু হয়।
■ উদাহরণ :- সুইজারল্যান্ডের আল্পস পর্বতে ড্রামলিন দেখা যায়।
গ) কেম :- হিমবাহের পাদদেশে হিমবাহ গলা জলধারা বাহিত নুরি, পাথর, বালি প্রভৃতি সঞ্চিত হয়ে বদ্বীপের মত ত্রিকোণাকার যে ভূমিরূপ গড়ে ওঠে তাকে কেম বলে।
■ বৈশিষ্ট্য :- i) হিমবাহ উপত্যকা দুপাশে কেম সৃষ্টি হলে তাকে কেমমঞ্চ বলে ii) এরূপ ভূমিরূপের উচ্চতা প্রায় ১০ – ১২ মিটার হয়।
■ উদাহরণ :- স্কটল্যান্ডের ল্যামারমুয়ার উপত্যকায় কেম সোপান দেখা যায়।
ঘ) এসকার :- অনেক সময় হিমাবাহ বাহিত প্রস্তুরখন্ড নুড়ি, কাঁকর, বালি প্রভৃতি হিমবাহ গলিত জলধারার দ্বারা পর্বতের পাদদেশে আঁকাবাঁকা অনুচ্চ দীর্ঘ শৈলশিরার মত যে ভূমিরূপ গঠিত হয় তাকে এসকার বলে।
■ বৈশিষ্ট্য :- এদের উচ্চতা প্রায় ৩-৫ মিটার হয়। এগুলি আঁকাবাঁকা ও সংকীর্ণ হয়।
■ উদাহরণ :- ফিনল্যান্ডে এসকার দেখা যায়।
23. বায়ু ও জলধারার মিলিত কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপের পরিচয় দাও। ০৫
উত্তর: মরু অঞ্চলে মাঝে মাঝে যে সামান্য বৃষ্টিপাত হয় তা মুষলধারে হয়ে থাকে। এই বৃষ্টিপাতের জল ভূপৃষ্ঠের ঢাল বরাবর নেমে কিছু অনিত্যবহ জলধারার সৃষ্টি করে এই জলধারা ও বায়ু সম্মিলিত কার্যের ফলে মরু অঞ্চলে কিছু ভূমিরূপ গড়ে ওঠে। যেমন –
১) ওয়াদি :– মরু অঞ্চলের শুষ্ক গিরিখাতকে ওয়াদি বলে।
■ উৎপত্তি :- আরবি ভাষায় ওয়াদি শব্দের অর্থ শুষ্ক উপত্যকা। মরু অঞ্চলে হঠাৎ প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে যে জলধারা সৃষ্টি হয় তা নদীখাতে পরিণত হয়। জল নেমে গেলে ও অধিক বাষ্পীভবনের ফলে ওগুলি শুষ্ক খাত হিসেবে পড়ে থাকে।
■ বৈশিষ্ট্য :- ক) নদী খাতগুলি দৈর্ঘ্য খুব বেশি হয় না। (খ) অধিকাংশ সময় এগুলি শুষ্ক থাকে
■ উদাহরণ :- আরব মরুভূমিতে ওয়াদি দেখা যায়।
২) পেডিমেন্ট :- পেডিমেন্ট কথার অর্থ হলো ‘পাহাড়ের পাদদেশ’। মরু অঞ্চলে পর্বতের পাদদেশে প্রস্তরময় ইষৎ ঢালু বিস্তীর্ণ সমতল ভূমিকে পেডিমেন্ট বলে।
■ উৎপত্তি :- বায়ুপ্রবাহ ও জলধারার মিলিত ক্ষয় কার্যের ফলে উচ্চভূমি বা ইনসেলবার্জের পাদদেশে পেডিমেন্ট গঠিত হয়।
■ বৈশিষ্ট্য :- ক) গড় ঢাল ১°-১০° হয়। (খ) পেডিমেন্ট ছোটবড়ো নুড়ি কাকর দ্বারা গঠিত। (গ) পেডিমেন্টের নিচে বাজাদা অবস্থান করে।
■ উদাহরণ :– অ্যাটলাস্ পর্বতের পাদদেশে পেডিমেন্ট গঠিত হয়।
৩) বাজাদা :- বাজাদা শব্দের অর্থ একাধিক পলল পাখাযুক্ত সমভূমি। মরু অঞ্চলে পর্বতের পাদদেশীয় সমভূমিকে বাজাদা বলে।
■ উৎপত্তি :- পেডিমেন্টের উপর দিয়ে প্রবাহিত জলধারার স্রোতে আসা নুরি কাকর বালি প্রভৃতি পেডিমেন্টের নিচের অংশে সঞ্চিত হয়ে বজাদা গড়ে ওঠে।
■ বৈশিষ্ট্য :- ক) পেডিমেন্টের দিকে খারা ঢাল অবতল হয়।
(খ) বাজাদা সূক্ষ্ম পলি-বালি দ্বারা গঠিত।
(গ) এর গড় ঢাল ৩°–৪° হয়।
■ উদাহরণ :- সাহারা, কালাহারি মরুভূমিতে বাজাদা দেখা যায়।
৪) প্লায়া :- প্লায়া কথার অর্থ লবণাক্ত হ্রদ। মরু অঞ্চলে লবণাক্ত হ্রদকে প্লায়া বলে।
■ উৎপত্তি :- চারপাশে উচ্চভূমি থেকে প্রবল বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট অনেকগুলি জলধারা কোন নিম্নভূমিতে মিলিত হলে যে হ্রদের সৃষ্টি হয় তাকে প্লায়া বলে।
■ বৈশিষ্ট্য :- ক) এগুলি লবণাক্ত হয়, অতিরিক্ত লবণাক্ত প্লায়াকে স্যালিনা বলে। (খ) বছরের অধিকাংশ সময় প্লায়া শুষ্ক থাকে। প্লায়ার উপরিভাগে লবনের আস্তরণ দেখা যায়।
■ উদাহরণ :- ভারতের সম্বর প্লায়া হ্রদ।
24. বায়ুর সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ এর পরিচয় দাও। ০৫
উত্তর: মরু অঞ্চলে বায়ুর সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ গুলি হলো –
১) বালিয়াড়ি :- বায়ুর গতিপথে কোন প্রতিবন্ধকতা ছাড়া গড়ে ওঠা বালির স্তুপকে বালিয়াড়ি বলে। বালিয়াড়ির বিভিন্ন ভাগগুলি হল :—
ক) বার্খান :– বায়ুর গতিপথের সঙ্গে আড়াআড়ি ভাবে গড়ে ওঠা অর্ধচন্দ্রাকার বালিয়াড়িকে বার্খান বলে। এর সামনের দিকটি উত্তল এবং পিছনের দিকটি অবতল হয়। এর দুইপ্রান্ত শিং-এর মতো এগিয়ে থাকে।
■ উদাহরন :– সাহারা মরুভূমিতে দেখাযায়
খ) অ্যাকলে বালিয়ারি :– একাধিক বার্খান পরস্পর যুক্ত হয়ে দীর্ঘ আঁকাবাঁকাভাবে সারিবদ্ধ হয়ে এগিয়ে পিছিয়ে শৈলশিরার মতো অবস্থান করলে তাকে অ্যাকলে বালিয়ারি বলে।
■ উদাহরন :– সাহারা মরুভূমিতে দেখা যায়।
গ) সিফ বালিয়াড়ি :– বায়ুপ্রবাহের সমান্তরালে সৃষ্ট দীর্ঘ সংকীর্ণ বালির পাহাড়কে সিফ বালিয়াড়ি বলে। আরবি ভাষায় সিফ শব্দের অর্থ সোজা তরবারি।
■ উদাহরণ :– থর মরুভূমিতে সিফ বালিয়াড়ি দেখা যায়।
ঘ) অন্যান্য বালিয়াড়ি :– (a) বায়ুবাহিত বায়ুকারাশি দ্বারা কোনো উচ্চভূমির প্রতিবাত অংশে গঠিত বালিয়াড়িকে মস্তক বালিয়াড়ি বলে।
(b) অনুবাত অংশে গঠিত বালিয়াড়িকে পুচ্ছ বালিয়াড়ি বলে।
(c) উচ্চভূমির পাশে গঠিত বালিয়াড়ি পার্শ্বস্থ বালিয়াড়ি। (d) মস্তক বালিয়াড়ির কিছুটা সামনে গঠিত ঘূর্ণি বায়ুর দ্বারা সঞ্চিত বালিয়াড়িকে অগ্রবর্তী বালিয়াড়ি বলে।
২) লোয়েস সমভূমি :– লোয়েস শব্দের অর্থ স্থানচ্যুত বস্তু। বায়ুবাহিত সুক্ষ্ম বালিকণা এক স্থান থেকে বাহিত হয়ে দূরে অন্য কোনো স্থানে সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমি গঠন করে তাকে লোয়েস সমভূমি বলে ।
■ উদাহরন :– চিনের হোয়াংহো নদী অববাহিকার হোয়াংটু
৩) বালির তরঙ্গ :– মরুভূমি অঞ্চলে অসমতল ভূমিভাগের উপর দিয়ে সঞ্চিত বালুরাশির উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় লম্ফদান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বালুকনা অনুবাত ঢালে কম ও প্রতিবাত ঢালে বেশি সঞ্চিত হলে তাকে বালির তরঙ্গ বলে।
25. নদীর সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ গুলির পরিচয় দাও। ০৫
উত্তর: ভূমির ঢাল হঠাৎ কমে গেলে নদীর মধ্যবর্তী ও নিম্নগতিতে নদীবাহিত পলি, বালি, কাদা, নুড়ি প্রভৃতি সঞ্চিত হয়ে বিভিন্ন সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ গঠন করে।
১. পলল ব্যজনী বা পলল শঙ্কু :–
■ সংজ্ঞা ও উৎপত্তি → পার্বত্য প্রবাহ থেকে নদী যখন সমভূমিতে পতিত হয়, তখন নদীর বহন ক্ষমতা হঠাৎ হ্রাস পাওয়ার জন্য নদীবাহিত পলি, বালি, নুরি প্রভৃতি পর্বতের পাদদেশে শঙ্কু আকৃতিতে জমা হয়, তাকে পলল ব্যজনী বা পলল শঙ্কু বলে। পাশাপাশি অবস্থিত কয়েকটি পলল শঙ্কু মিলিত হয়ে পলিমঞ্চ গঠন করে।
■ যেমন→ হিমালয়, রকি, আন্দিজ ইত্যাদি পর্বতের পাদদেশে পলল ব্যজনী দেখা যায়।
২. প্লাবনভূমি :–
■ সংজ্ঞা ও উৎপত্তি :→ মধ্য ও নিম্নপ্রবাহে নদীর ঢাল কম হওয়ায় নদী বাহিত পদার্থ সমূহ নদীগর্ভে সঞ্চিত হয়ে নদীখাত ভরাট হয়ে যায়। এর ফলে নদীর জল বহন ক্ষমতা হ্রাস পায়। বর্ষাকালে নদীতে অতিরিক্ত জল প্রবাহের ফলে নদীর দু-কুল প্লাবিত হয় এবং উভয় তীরে পলি সঞ্চিত হয়ে যে ভূমি সৃষ্টি করে, তাকে প্লাবনভূমি বলে।
■ যেমন→ গঙ্গা, সিন্ধু প্রভৃতি নদীর সমভূমি প্রবাহে প্রচুর প্লাবনভূমি দেখা যায়।
৩. অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ :–
■ সংজ্ঞা ও উৎপত্তি :→ মধ্য ও নিম্ন গতিতে নদী আঁকাবাঁকা পথে প্রবাহিত হওয়ার সময় নদীবাঁকের মধ্যে প্রবাহিত জলধারা দুই তীরে বাঁধা প্রাপ্ত হয়। এর ফলে নদী বাঁক আরো বাড়তে থাকে এবং এক সময় দুটি বাঁক পৃথককারী বাঁকের গ্রীবা অংশটি ক্ষয় প্রাপ্ত হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যা অনেকটা ঘোড়ার ক্ষুরের ন্যয় দেখতে হয়, এরুপ ভূমিরূপকে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বলা হয়। এই ভূমিরূপটি মূলত নদীর ক্ষয়, বহন ও সঞ্চয় কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপ।
■ উদাহরণ→ গঙ্গা নদীর নিম্নপ্রবাহ অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ দেখা যায়।
৪. নদী বাঁক ও মিয়েন্ডার :–
■ সংজ্ঞা ও উৎপত্তি :→ মধ্য ও নিম্ন প্রবাহে নদীর গতিবেগ কম থাকায় সামান্য বাধার সম্মুখীন হলে নদী তার গতিপথের পরিবর্তন ঘটায় এবং এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হয় একে নদী বাঁক বা মিয়েন্ডার বলে। তুরস্কের বাঁকবহুল নদী মিয়েন্ড্রস-এর নাম অনুসারে এই ভূমিরূপটির নাম করা হয় মিয়েন্ডার।
■ উদাহরণ→ গঙ্গা নদীতে অসংখ্য নদী বাঁক দেখা যায়।
৫. ব-দ্বীপ :–
■ সংজ্ঞা ও উৎপত্তি :→ মোহনার কাছে নদীর গতিবেগ একেবারে কমে যায় তাই এখানে নদীর দ্বারা পরিবাহিত সমস্ত পদার্থ নদীতে সঞ্চিত হয়ে যে বাংলার মাত্রাহীন ‘ব’ বা গ্রিক শব্দ ডেল্টার ‘🔺️’ মতো দেখতে ভূমিরূপের সৃষ্টি হয় তাকে বদ্বীপ বলে।
■ উদাহরন→ পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ হল গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র ব-দ্বীপ।
26. হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপের পরিচয় দাও। ০৫
উত্তর: হিমবাহের ক্ষয়কার্য শুধুমাত্র উচ্চ পর্বতের উপরেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং এই ক্ষয় কার্যের ফলে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়। নিম্নে প্রধান প্রধান ভূমিরূপ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো–
১) করি বা সার্ক :– হিমবাহ এবং তার সঙ্গে বাহিত প্রস্তরখণ্ডের ঘর্ষণে যে অবতল আকৃতির উপত্যকার সৃষ্টি হয় তা দেখতে অনেকটা হাতল ছাড়া ডেক চেয়ারের মতো হয়, একে ফরাসি ভাষায় সার্ক ও ইংরেজিতে করি বলে। যেমন- গাড়োয়াল হিমালয়ের তপবন ও নন্দনবন স্থানে সার্ক দেখা যায়।
২) অ্যারেট বা এরিটি :– হিমবাহের উৎসমুখী ক্ষয়ের ফলে পাশাপাশি প্রবাহিত দুটি করির মধ্যবর্তী সংকীর্ণ ছুরির ফোলার মতো তীক্ষ্ণ উচ্চভূমিকে হিমশিরা বা অ্যারেট বা এরিটি বলে।
যেমন- হিমালয় ও কারাকোরাম পর্বতে অনেক এরিটি দেখা যায়।
৩) পিরামিড চূড়া :– পার্বত্য উপত্যকায় হিমবাহের উৎসমুখী ক্ষয়ের অন্যতম নিদর্শন হল পিরামিড চূড়া। একটি পর্বতের বিভিন্ন দিকে কয়েকটি সার্ক সৃষ্টি হলে সেগুলি মস্তক দেশের দিকে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে পিরামিডের মতো আকৃতির চূড়া গঠন করে, একেই পিরামিড চূড়া বলে।
যেমন- আল্পস্ পর্বতের ম্যাটারহর্ন, ভারতের নীলকণ্ঠ।
৪) ঝুলন্ত উপত্যকা :– অনেক সময় পার্বত্য অঞ্চলে সৃষ্ট গভীর প্রধান হিমবাহ উপত্যকায় দুপাশ থেকে অনেক কম শক্তিশালী ছোট ছোট উপহিমবাহ এসে মিশে। মূল হিমবাহ উপত্যকার গভীরতা উপহিমবাহ অপেক্ষা অনেক বেশি হয়। মূল হিমবাহ অপসারিত হলে উপহিমবাহের উপত্যকা গুলি প্রধান হিমবাহের উপর ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে বলে মনে হয়, এরূপ ভূমিরূপকে ঝুলন্ত উপত্যকা বলে।
যেমন- হিমালয় পর্বতের বদ্রীনাথের কাছে ঋষিগঙ্গা হল একটি ঝুলন্ত উপত্যকা।
৫) হিমদ্রোণী বা U আকৃতির উপত্যকা :– হিমবাহের ক্ষয় কার্যের মাধ্যমে অত্যন্ত প্রশস্ত মোটামুটি মসৃণ হিমবাহ উপত্যকাকে হিমদ্রোণী বলে। এই উপত্যকায় হিমবাহের পার্শ্ব ক্ষয় ও নিম্ন ক্ষয় প্রায় সমানভাবে হয় বলে, উপত্যকার আকৃতি U আকৃতির মতো হয়।
আজকের পোস্টে মাধ্যমিক ভূগোল প্রথম অধ্যায় ‘বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ‘ থেকে 2/3/5 নম্বরের বাছাই করা সর্বমোট 26 টি প্রশ্ন উত্তর শেয়ার করা হল, যেগুলি পরীক্ষার প্রস্তুতি সহায়তা করবে। প্রয়োজনে বা শেষ মুহূর্তে দ্রুত রিভিশনের জন্য প্রশ্ন উত্তর গুলি সংগ্রহ করে রাখতে হবে ।
SOURCE-EDT

©Kamaleshforeducation.in (2023)


