Class 10 ভূগোল

বায়ুমণ্ডল বড়ো প্রশ্ন উত্তর

(২/৩/৫ মার্কস প্রশ্ন)

Geography Chapter 2

Long Question Answer

Updated on: 

মাধ্যমিক ভূগোলের দ্বিতীয় অধ্যায় “বায়ুমণ্ডল” পৃথিবীকে ঘিরে থাকা গ্যাসীয় আবরণ, তার গঠন, স্তরবিন্যাস, তাপমাত্রার পরিবর্তন, বায়ুচাপ ও বায়ুপ্রবাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করে। আজকের পোস্টে অধ্যায়টির বাছাই করা কিছু ২/৩/৫ মার্কস প্রশ্ন সহজ ভাষায় উত্তর করে আলোচনা করা হল।

 —

বোর্ড: বিষয়বস্তু

1 দশম শ্রেণীর ভূগোল দ্বিতীয় অধ্যায় বড়ো প্রশ্ন উত্তর | বায়ুমণ্ডল Class 10 Question Answer

1.1 Class 10 ভূগোল দ্বিতীয় অধ্যায় ‘বায়ুমণ্ডল’ ২ মার্কস প্রশ্ন উত্তর

1.2 দশম শ্রেণীর ভূগোল দ্বিতীয় অধ্যায় ৩ মার্কস প্রশ্ন উত্তর | মাধ্যমিক ভূগোল বায়ুমণ্ডল ৩ মার্কস প্রশ্ন উত্তর

1.3 দশম শ্রেণীর ভূগোল দ্বিতীয় অধ্যায় বড়ো প্রশ্ন উত্তর | Geography Chapter 2 Long Question Answer

দশম শ্রেণীর ভূগোল

দ্বিতীয় অধ্যায় বড়ো প্রশ্ন উত্তর   

বায়ুমণ্ডল  

আজকের পোস্টে ২/৩/৫ মার্কস এর বেশ কিছু বাছাই করা প্রশ্ন উত্তর   শেয়ার করা হল, যেগুলি   পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণে বিশেষ ভাবে সহায়তা করবে।

Class 10 ভূগোল দ্বিতীয় অধ্যায় ‘বায়ুমণ্ডল’

২ মার্কস প্রশ্ন উত্তর

উত্তর: সূর্য থেকে নির্গত মোট শক্তির 200 কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে। এই আগত শক্তিকে যদি 100 শতাংশ ধরা হয়, তবে এর 34 শতাংশ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত না করেই মহাশূন্যে ফিরে যায়। এই 34 শতাংশ শক্তিকে অ্যালবেডো বলে।

■ বৈশিষ্ট্য :– (ক) বায়ুমণ্ডলের উত্তাপ বাড়াতে এই শক্তি কোনো ভূমিকা গ্রহণ করে না। (খ) অ্যালবেডো সবচেয়ে বেশি মেঘ থেকে (25%) এবং সবচেয়ে কম স্থলভাগ থেকে (2%) বিক্ষিপ্ত হয়। (গ) কোনো বস্তুকে উত্তপ্ত না করে ফিরে যাওয়ায় আগত রশ্মি এবং বিকিরিত অ্যালবেডোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের কোনও তারতম্য হয় না।

 

উত্তর: পশ্চিমা বায়ু উভয় গোলার্ধে 35° থেকে 60° অক্ষরেখার মধ্যে প্রবাহিত হয়। দক্ষিণ গোলার্ধে পশ্চিমা বায়ুর প্রবাহপথে স্থলভাগের বিস্তার খুবই কম। তাই, বায়ু দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগের ওপর দিয়ে বাধাহীনভাবে প্রবলবেগে সশব্দে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। তাই পশ্চিমা বায়ু দক্ষিণ গোলার্ধে সাহসিক পশ্চিমা বায়ু (Brave West Wind) বা প্রবল পশ্চিমা বায়ু নামে পরিচিত। এই গোলার্ধে 40° দক্ষিণ অক্ষরেখা বরাবর প্রবল গর্জনকারী প্রবাহিত এই বায়ুকে গর্জনশীল চল্লিশা বলে।

উত্তর: উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় (5° উ. – 5° দ. অক্ষরেখার মধ্য) বরাবর মিলিত হয়। এই অঞ্চলকে আন্তঃক্রান্তীয় মিলন অঞ্চল বা মিলন ক্ষেত্র (Inter Tropical Convergence Zone বা ITCZ) বলে। এই অঞ্চলের বায়ু সর্বদা উয়, আর্দ্র ও হালকা হওয়ায় এই অঞ্চলের বায়ু সকল সময় ঊর্ধ্বমুখী হয়। ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে কোনো বায়ু প্রবাহিত হয় না বলে, এই অঞ্চল নিরক্ষীয় শান্তবলয় নামে পরিচিত।

উত্তর: অনেক সময় পার্বত্য উপত্যকায় শান্ত আবহাওয়া উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উষ্ণতা না কমে বেড়ে যায়। শীতকালে মেঘমুক্ত পরিষ্কার-শান্ত আবহাওয়া পর্বতের উপরের অংশের বায়ু দ্রুত উষ্ণতা বিকিরণ করে শীতল ও ভারী হয়ে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে পরবর্তী ঢাল বেয়ে নিচে উপত্যকা অঞ্চল নেমে আসে। নিচে নেমে আসা এই বায়ু পার্বত্য বায়ু বা ক্যাটাবেটিক বায়ু নামে পরিচিত। গ্রিক শব্দ ‘Kata’ থেকে যার অর্থ নীচের দিকে।

■ অ্যানাবেটিক :– দিনের বেলা সূর্যের তাপে পর্বতের শীর্ষ উত্তপ্ত হয় বলে সেখানে নিম্নচাপ বিরাজ করে। কিন্তু তখন উপত্যকার নীল অংশে সূর্যের তাপ ঠিকমতো না পৌঁছানোর ফলে ওই অংশ উচ্চচাপ থাকে। এর ফলে দিনের বেলায় উপত্যকার থেকে শীর্ষদেশে বায়ু প্রবাহিত হয়, তাকে উপত্যকা বায়ু বা অ্যানাবেটিক বায়ু বলা হয়। অ্যানাবেটিক শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ ‘Ana’ থেকে যার অর্থ উপরের দিকে।

উত্তর: ক্রান্তীয় শক্তিশালী ঘূর্ণবাতের কেন্দ্র থেকে ১০-২০ কিমি (মতভেদে ৫-১০ কিমি) ব্যাসের বৃত্তাকৃতি অঞ্চলে ভূপৃষ্ঠে বায়ু গতিহীন, শান্ত এবং আকাশ মেঘমুক্ত নির্মল ও বৃষ্টিহীন থাকে, একে ঘূর্ণবাতের চক্ষু বলে।

উত্তর: ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা সব জায়গায় সমান থাকে না। বছরের বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন ঋতুতে এমনকি দিনের বিভিন্ন সময় উষ্ণতার তফাৎ লক্ষ্য করা যায়। ভূপৃষ্ঠের যেসব স্থানের বার্ষিক উষ্ণতা একই রকম থাকে সেই সব স্থানকে একটি কাল্পনিক রেখা দ্বারা যুক্ত করে মানচিত্রে দেখানো হয়, এই রেখাটিকে সমোষ্ণরেখা বলে। Isotherms = Iso যার অর্থ সমান + Thermas যার অর্থ উষ্ণতা।

■ বৈশিষ্ট্য :– সমোষ্ণরেখাগুলি অক্ষরেখার সঙ্গে প্রায় সমান্তরালে ও পূর্ব থেকে পশ্চিমে বিস্তৃত। নিরক্ষরেখায় এর মান সবচেয়ে বেশি এবং মেরুতে এর মান সবচেয়ে কম। দক্ষিণ গোলার্ধে রেখা গুলির মধ্যে ফাঁক বেশি থাকে। উত্তর গোলার্ধে রেখাগুলি খুব ঘনভাবে অবস্থান করে।

উত্তর: বছরের কোনো নির্দিষ্ট সময়ে ভূপৃষ্ঠের একই বা সমান বায়ুচাপযুক্ত স্থানগুলিকে মানচিত্রে যে কাল্পনিক রেখা দ্বারা যুক্তকরা হয়, তাকে সমচাপরেখা বা সমপ্রেষরেখা (Isober) বলে।

■ বৈশিষ্ট্য :(i) উষ্ণতার সঙ্গে বায়ুর চাপের সম্পর্ক গভীর বলে বহু ক্ষেত্রে (ii) জানুয়ারি ও জুলাই মাস যথাক্রমে শীতলতম ও উষ্ণতম মাস বলে মানচিত্রে সাধারণত এই দুই মাসে সমচাপ রেখা অঙ্কন করা হয়। (iii) সমচাপরেখা গুলি যদি দূরে দূরে অবস্থান করে তাহলে আবহাওয়া শান্তু অবস্থা বোঝায় এবং রেখা গুলি যদি কাছাকাছি চক্রাকারে অবস্থান করে তাহলে ঝড় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকেই।

উত্তর: দিনের বেলা বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে আগত সূর্যের তাপে সমুদ্র অপেক্ষার স্থলভাগে বেশি উষ্ণ হয়ে পড়ে তখন স্থলভাগে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয় এবং সমুদ্রে উচ্চচাপ থাকে। এর ফলে সমুদ্র থেকে যে মৃদু বায়ু প্রবাহিত হয়, তাকে সমুদ্র বায়ু বলে। সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে দিনের বেলায় এ ধরনের বায়ু প্রবাহিত হয়।

উত্তরবায়ুমন্ডলের স্ট্যাটোস্ফিয়ারের ২০–৩৫ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত ওজোন গ্যাস আস্তরণ রয়েছে। এই ওজোন গ্যাসের ঘনত্ব কোন স্থানে ২০০ ডবসনের কম হলে সেখান দিয়ে ক্ষতিকর অতীবেগুনি রশ্মি প্রবেশ করে, এই স্থানকে ওজন গহ্বর বলে। মানুষের বিভিন্ন ক্রিয়া-কলাপে CFC গ্যাসের নির্গমন ঘটে। এই গ্যাস ওজোন স্তরের বিন্যাস ঘটায় এছাড়া নাইট্রোজেন ট্রাই-অক্সাইড, নাইট্রেট অক্সাইড প্রভৃতি গ্যাস বায়ুমন্ডলের ক্ষতি করে।

দশম শ্রেণীর ভূগোল দ্বিতীয় অধ্যায়  

মাধ্যমিক ভূগোল বায়ুমণ্ডল

৩ মার্কস প্রশ্ন উত্তর

 

1. বৈপরীত্য উত্তাপ কাকে বলে?

উত্তর: সাধারণত বায়ুমন্ডলে ভূপৃষ্ঠের প্রতি 1000 মিটার উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ৬.৪°C হারে উষ্ণতা হ্রাস পায়। কিন্তু কখনো কখনো উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা হ্রাস না পেয়ে বেড়ে যায়, একে বৈপরীত্য উত্তাপ বলে।

উৎপত্তি :– সাধারণত পার্বত্য উপত্যকার শান্তি মেঘমুক্ত রাতে পর্বতের উপরের অংশে বায়ু দ্রুত তাপ বিকিরণ করে খুব ঠান্ডা ও ভারী হয় এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে পর্বতের ঢাল বরাবর নিচে উপত্যকায় নেমে আসে। অন্যদিকে উষ্ণ হওয়ার পার্বত্য পাদদেশের বায়ু হালকা হয়ে উপত্যকার ঢাল বেয়ে ঊর্ধ্বগামী হয়। ফলে উপত্যকার নিচু অংশের উত্তাপ উপরের অংশের তুলনায় অনেক কম হয়, একে বৈপরীত্য উত্তাপ বলে।

2. সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ুর মধ্যে পার্থক্য লেখো। 

উত্তর:

বিষয় সমুদ্রবায়ু স্থলবায়ু
উৎপত্তি দিনের বেলা সমুদ্র শীতল এবং সংলগ্ন স্থলভাগ উষ্ণ থাকে বলে এই বায়ু সৃষ্টি হয়। রাতের বেলা স্থলভাগ শীতল এবং সংলগ্ন সমুদ্র উষ্ণ থাকে বলে এই বায়ুর উৎপত্তি হয়।
প্রবাহের সময় বিকালবেলা ও দিনের শেষে এই বায়ু প্রবাহিত হয়। রাতের বেলা বা ভোরের দিকে এই বায়ু প্রবাহিত হয়।
প্রবাহের দিক সমুদ্র থেকে সংলগ্ন স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে এই বায়ু প্রবাহিত হয়।
বায়ুর প্রকৃতি এই বায়ু সমুদ্র থেকে আসে বলে আর্দ্র প্রকৃতির। এই বায়ু স্থলভাগ থেকে আসে বলে শুষ্ক প্রকৃতির।

3. ঘূর্ণবাত ও প্রতিপ ঘূর্ণবাতের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

 উত্তর:

বিষয় ঘূর্ণবাত প্রতীপ ঘূর্ণবাত
অবস্থান নিম্ন ও মধ্য অক্ষাংশে উষ্ণ ও নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলে সৃষ্টি হয় মধ্য ও উচ্চাংশের নাতিশীতোষ্ণ ও হিমমণ্ডলে প্রতিপ ঘূর্ণবাতের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়
বায়ুর চাপ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে বায়ুর নিম্নচাপ ও বাইরের দিকে উচ্চচাপ বিরাজ করে এক্ষেত্রে ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে উচ্চচাপ এবং বাইরের দিকে নিম্নচাপ বিরাজ করে
বায়ুপ্রবাহের দিক উত্তর গোলার্ধে বামদিক এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয় উত্তর গোলার্ধে দক্ষিণ দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধ বামদিকে প্রবাহিত হয়
প্রকৃতি এক্ষেত্রে বায়ু কেন্দ্রমুখী উষ্ণ ও ঊর্ধ্বগামী হয় এক্ষেত্রে বায়ু কেন্দ্র-বহির্মূখী শীতল ও অধঃগামী হয়
বায়ুর গতিবেগ বায়ুর গতিবেগ তীব্র গতি সম্পন্ন হয়, গড়ে ১৬০ কিমি/ঘন্টা বায়ুর গতিবেগ ধীর গতি সম্পন্ন হয় গড়ে ৩০-৩৫ কিমি/ঘন্টা
আবহাওয়া আবহাওয়া ঝটিকা সংকুল, গ্রীষ্মকালে বৃষ্টিপাত ও শীতকালে তুষারপাত হয় গ্রীষ্মকালে শান্ত মেঘমুক্ত আকাশ ও শীতকালে কুয়াশা দেখা যায়

4.  ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: অবস্থান : ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে ৩০°–৪০° অক্ষাংশের মধ্যে মহাদেশ সমূহের পশ্চিম ভাগে এই জলবায়ু দেখা যায়।

 বৈশিষ্ট্য :–  

ক) জলবায়ু :– ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে সারা বছর সমভাবাপন্ন জলবায়ু বিরাজ করে। এই অঞ্চলে শীতকাল মৃদু ঊষ্ণ প্রকৃতির তাপমাত্রা থাকে গড়ে ৫°–১০° সেলসিয়াস এবং গ্রীষ্মকাল উষ্ণ ও শুষ্ক প্রকৃতির তাপমাত্রা গড়ে ২১°–২৭° সেলসিয়াস।

(খ) বার্ষিক উষ্ণতার প্রসার :– ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে বার্ষিক উষ্ণতার প্রসার থাকে ১৫°–১৭° সেলসিয়াস। তবে সমুদ্র থেকে মহাদেশের অভ্যন্তরের দূরত্ব যত বাড়তে থাকে বার্ষিক উষ্ণতার প্রসার তত বাড়তে থাকে।

(গ) স্থায়ী কেন্দ্রীয় উচ্চচাপ : ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলটি উভয় গোলার্ধের ৩০°–৪৫° অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়ায় স্থায়ী কেন্দ্রীয় উচ্চচাপ বলয় বিরাজ করে। এখানে বায়ুচাপ ১০২০–১০২৬ মিলিবার হয়।

(ঘ) আর্দ্র শীতকাল : ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে শীতকালে বৃষ্টিপাত হলো অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে শীতকালে আর্দ্র পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে ঘূর্ণবাত বৃষ্টিপাত হয়। 

(ঙ) বছরে দু-বার বৃষ্টিপাত : ভূমধ্যসাগরের উত্তর তীরবর্তী উপদ্বীপ ও উপসাগরে বছরে দুবার বৃষ্টিপাত হয়।

(চ) তুষারপাত : ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে সাধারণত তুষারপাত হয় না। তবে অনেক সময় শীতল মেরুবায়ুর আগমনের জন্য ভূপৃষ্ঠ তাপ বিকিরণ করে শীতল হয়ে পড়লে নিম্নভূমি অঞ্চলে তুষারপাত হয়।

দশম শ্রেণীর ভূগোল

দ্বিতীয় অধ্যায় বড়ো প্রশ্ন উত্তর

 

1. উষ্ণতার তারতম্যের ভিত্তিতে বায়ুমন্ডলের স্তর বিন্যাস করো।

উত্তর : উষ্ণতার তারতম্যের ভিত্তিতে বায়ুমন্ডলকে ছয়টি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা–

(১) ট্রপোস্ফিয়ার (Troposphere) :–

■ সংজ্ঞা ও বিস্তার : বায়ুমন্ডলের একেবারে নিচের সর্বাধিক ঘনত্ব যুক্ত স্তরটির নাম ট্রপোস্ফিয়ার। গ্রিক শব্দ ‘Tropos’ যার অর্থ ‘পরিবর্তন বা অশান্ত’ এবং ‘Sphere’ যার অর্থ অঞ্চল।নিরক্ষীয় অঞ্চলে ১৬ – ১৮ কিমি, ক্রান্তীয় অঞ্চলে ১২.৫ কিমি এবং মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত এই স্তর বিস্তৃত।

■ বৈশিষ্ট্য :– (i) এই স্তরে প্রতি ১০০০ মি. উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ৬.৪°C হারে উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়। এই স্তরের উর্ধ্বসীমায় বায়ুর উষ্ণতা কমে গিয়ে হয় -৬৫°C।(ii) বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে ধূলিকণা, জলীয় বাষ্প ও গ্যাসীয় উপাদান প্রভৃতি থাকে। (iii) এই স্তরে মেঘের সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেখা যায় বলে, একে ক্ষুব্ধ মন্ডল বলে।(iv) ট্রপোস্ফিয়ারের উর্ধ্বসীমাকে বলে ট্রপোপজ।

(২) স্ট্যাটোস্ফিয়ার (Stratosphere) :–

■ সংজ্ঞা ও বিস্তার : ট্রপোস্ফিয়ারের উর্ধ্বসীমা ট্রপোপজের উপরে ভূপৃষ্ঠ থেকে ৫০ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুমন্ডলের স্তরটি স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার নামে পরিচিত। ল্যাটিন শব্দ ‘Stratum’ যার অর্থ ‘স্তর’এবং ‘Sphere’ যার অর্থ ‘অঞ্চল’।

■ বৈশিষ্ট্য :– (i) এই স্তরটিতে জলীয় বাষ্প না থাকায় কোন প্রকার ঝড়-বৃষ্টি হয় না অর্থাৎ আবহাওয়া শান্ত থাকে, তাই একে শান্তমণ্ডল বলা হয়।(ii) এই স্তরে ওজোন গ্যাসের ঘনত্ব খুব বেশি থাকে, এই কারণে এই স্তরের ২৪ – ৪০ কিমি উচ্চতা যুক্ত অংশকে ওজোনস্ফিয়ার বলা হয়। (iii) এই স্তরের উপর দিয়ে জেট বিমান চলাচল করে। (iv) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের সর্বোচ্চ সীমাকে স্ট্যাটোপজ বলে।

(৩) মেসোস্ফিয়ার (Mesosphere) :–

■ সংজ্ঞা ও বিস্তার :– গ্রিক শব্দ Meso যার অর্থ মধ্যম + Sphere যার অর্থ মণ্ডল।  ভূপৃষ্ঠ থেকে ৮০ কিমি উচ্চতা এবং স্ট্যাটোপজ থেকে প্রায় ৩০ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলের তৃতীয় স্তরকে মেসোস্ফিয়ার বলে।

■ বৈশিষ্ট্য :— (i) এই স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে উষ্ণতা হ্রাস পায় এবং সর্বোচ্চ সীমায় উষ্ণতা -৯৩°C হয়। (ii) পৃথিবীর দিকে ছুটে আসা উল্কাপিণ্ডগুলি এই স্তরে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। (iii) মেসোস্ফিয়ারের সর্বোচ্চ সীমাকে মেসোপজ বলে।

(৪) থার্মোস্ফিয়ার (Thermosphere) :–

■ সংজ্ঞা ও বিস্তার :– গ্রিক শব্দ-Thermo (তাপ) + Sphere (মণ্ডল)। মেসোপজের ওপরে ভূপৃষ্ঠ থেকে ৫০০ কিমি এবং মেসোপজ থেকে প্রায় ৪২০ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলের চতুর্থ স্তরকে থার্মোস্ফিয়ার বলে।

■ বৈশিষ্ট্য :— (i) এই স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে উষ্ণতা অতিদ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং সর্বোচ্চ উষ্ণতা ১২০০°C হয়। (ii) এখানে বায়ু সর্বদা আয়নিত অবস্থায় থাকায় একে আয়নোস্ফিয়ার বলে।(iii) এই স্তরে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়।(iv) এই স্তরে মেরুজ্যোতি সৃষ্টি হয়।

(৫) এক্সোস্ফিয়ার (Exosphere) :— 

■ সংজ্ঞা ও বিস্তার :– গ্রিক শব্দ Exo (বাহির বা বাইরে) + Sphere (মণ্ডল)। বায়ুমণ্ডলের বাইরের দিকে যে স্তরটি ভূপৃষ্ঠ থেকে ৭৫০ কিমি এবং থার্মোস্ফিয়ার থেকে প্রায় ২৫০ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত, তাকে এক্সোস্ফিয়ার বলে।

■ বৈশিষ্ট্য :— (i) এই স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে তুলনামূলক কম হারে উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়। সর্বোচ্চসীমায় ১৬০০°C। (ii) এক্সোস্ফিয়ার হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম দ্বারা গঠিত। ফলে স্তরটি খুবই হালকা ও পাতলা।

(৬) ম্যাগনেটোস্ফিয়ার (Magnetosphere) :–

■ সংজ্ঞা ও বিস্তার : Magnet (চৌম্বক) + Sphere (মণ্ডল)। এক্সোস্ফিয়ার এর উপরে দশ হাজার কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুমণ্ডলের সর্বোচ্চ যে স্তরে চৌম্বকক্ষেত্র আছে, তাকে ম্যাগনেটোস্ফিয়ার বলে।

■ বৈশিষ্ট্য :– (i) বিভিন্ন গ্যাসের ইলেকট্রন ও প্রোটন দ্বারা গঠিত একটি চৌম্বকক্ষেত্র বায়ুমণ্ডলকে বেষ্টন করে আছে।(ii) স্তরটি প্রায় বায়ুশূন্য। এটি বিস্তৃত হয়ে সূর্যের আবহাওয়ামণ্ডলে গিয়ে মিশেছে।

 

2. চিত্রসহ বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার পদ্ধতিগুলি আলোচনা করো।

উত্তর : বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার প্রধান কারণ হলো সূর্যরশ্মি। সূর্যরশ্মি প্রথমে ভূপৃষ্ঠকে ও পরে বায়ুমন্ডলকে উত্তপ্ত করে। বায়ুমন্ডলের উত্তপ্ত হওয়ার পদ্ধতি গুলি হল–

১) বিকিরণ পদ্ধতি :– যে পদ্ধতিতে কোন মাধ্যম ছাড়াই এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে তাপ চলে যায়, সেই পদ্ধতিকে বিকিরণ পদ্ধতি বলে। সূর্য থেকে উত্তাপ বিকিরণ পদ্ধতিতে ভূপৃষ্ঠে এসে পড়ে ও ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে। এই বিকিরণ পদ্ধতিতে বায়ুমণ্ডল সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত হয়।

২) পরিবহন পদ্ধতি :– যে পদ্ধতিতে কোন পদার্থের উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতম অংশে তাপ সঞ্চারিত হয়, সেই পদ্ধতিকে পরিবহন পদ্ধতি বলে। এভাবে এক বায়ুস্তর থেকে অন্য বায়ুস্তরে তাপ পরিবাহিত হতে থাকে।

৩) পরিচলন পদ্ধতি :– ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ু উত্তপ্ত হওয়ার ফলে প্রসারিত ও হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়, তখন বায়ুশূন্যস্থান পূরণের জন্য শীতল ও ভারী বায়ু ছুটে আসে, ক্রমে ওই বায়ু উত্তপ্ত হয়ে গিয়ে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে, একে পরিচালন পদ্ধতি বলে।

৪) অ্যাডভেকশন :– কোন স্থানের উষ্ণ বায়ু ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে প্রবাহিত হয়ে গতিপথের অঞ্চলসমূহ উত্তপ্ত এবং অন্যস্থানের শীতল বায়ুকে উত্তপ্ত করে, একে অ্যাডভেকশন বলা হয়।

৫) প্রত্যক্ষ সৌরতাপ শোষন : বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত সমস্ত কঠিন বস্তুকণা, জলীয় বাষ্প, কার্বন-ডাই-অক্সাইড প্রভৃতি সূর্য থেকে আসা শক্তিকে সরাসরি শোষণ করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে, একে প্রতক্ষ সৌরতাপ শোষণ বলে।

৬) অন্যান্য পদ্ধতি : এছাড়াও (i) বায়ুর সংকোচন প্রসারণ (ii) পদার্থের তেজস্ক্রিয়তা (iii) শিলার রাসায়নিক আবহবিকার ও (iv) মানুষের নানাবিধ কার্যকলাপের ফলেও বায়ুমন্ডলের উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়।

 

3. পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের উষ্ণতার তারতম্যের কারণগুলি আলোচনা করো।

উত্তর : ভূপৃষ্ঠের সর্বত্র বায়ুমন্ডলীয় উষ্ণতার পরিমাণ সমান হয়। বায়ু উষ্ণতার তারতম্যের কারণগুলি হল–

১) অক্ষাংশ :– অক্ষাংশ অনুসারে ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন অংশে সূর্যরশ্মির পতন কোণের তারতম্য ঘটে ফলে উষ্ণতার পার্থক্য হয়। নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্য সারা বছর লম্বভাবে কিরণ দেয় ফলে তাপীয় ফল বেশি হয়। আবার মেরুর দিকে সূর্য ক্রমশ তীর্যকভাবে কিরণ দেওয়ার ফলে সূর্যর রশ্মির তাপীয় ফল কম হয়। তাই উচ্চ অক্ষাংশ অপেক্ষা নিম্ন অক্ষাংশে গড় উষ্ণতা অধিক হয়।

২) উচ্চতা :– প্রতি হাজার মিটার উচ্চতা বৃদ্ধিতে ৬.৪° C হারে উষ্ণতা হ্রাস পাই। তাই সমুদ্র তল থেকে কোন স্থান যত উপরে অবস্থান করে সেই স্থানে উষ্ণতা তত কম হয়। এই কারণে কলকাতা অপেক্ষায শিলিগুড়ির উষ্ণতা কম।

৩) স্থলভাগ ও জলভাগের বন্টন :– জলভাগের তুলনায় স্থল ভাগে দ্রুত উষ্ণ ও শীতল হয়। এই কারণে সমুদ্র থেকে দূরবর্তী স্থানের জলবায়ু চরমভাবাপন্ন হয় অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে অধিক উষ্ণ ও শীতকালে অধিক শীতল হয়। অপরদিকে যেসব স্থান সমুদ্রের কাছে অবস্থিত সেখানোর জলবায়ু সমভাবাপন্ন হয়।

৪) বায়ু প্রবাহ : শীতল সমুদ্র বায়ু স্থলভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত হলে উষ্ণতা কমিয়ে দেয়, আবার কোন অঞ্চলের উপর দিয়ে উষ্ণ বায়ু প্রবাহিত হলে সেখানকার তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।

৫) সমুদ্রস্রোত :– উপকূলের পাশ দিয়ে প্রবাহিত উষ্ণ ও শীতল স্রোত উপকূলের উষ্ণতাকে নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন – উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে ইউরোপের উত্তর-পশ্চিম অংশে সারাবছর গড় উষ্ণতা বেশি থাকে, আবার পেরু উপকূলে শীতল হাম্বল্ড স্রোতের প্রভাবে সারা বছর উষ্ণতা কম থাকে।

৬) অন্যান্য কারণ :– এছাড়াও বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতার তারতম্যের অন্যান্য কারণগুলি হলো – (i) মেঘাচ্ছন্নতা (ii) ভূমির ঢাল (iii) অর্ধক্ষেপণের পরিমাণ (iv) বনভূমির অবস্থান (v) মৃত্তিকার প্রকৃতি (vi) নগরায়ন ও শিল্পায়ন।

 

4. বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলাফল বা প্রভাব লেখো।

উত্তর : পৃথিবীর গড় উষ্ণাতা স্বাভাবিকের থেকে বৃদ্ধির হারকে বিশ্ব উষ্ণায়ন বলে। বিশ্ব উষ্ণায়ন জীবজগৎ তথা পরিবেশের ওপর এক সুদূর প্রসারী প্রভাব ফেলেছে।

■ পরিবেশের উপর বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব :– পরিবেশের ওপর বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব গুলি হল–

১) জলবায়ুর পরিবর্তন :– পৃথিবীর উষ্ণতা ক্রমশ বেড়ে যাওয়ার জন্য শীতের তুলনায় গ্রীষ্মের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রায় প্রতিটি ঋতু আগমনকালও বিলম্বিত হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বৃদ্ধি হচ্ছে এবং খরার পাদুর্ভাব বাড়ছে।

২) মেরু অঞ্চলে বরফের গলন ও পার্বত্য হিমবাহের গলন :– বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সঞ্চিত বরফের স্তুপের গলন শুরু হয়েছে এবং পার্বত্য হিমালয় গুলির বরফেরও আয়তন ক্রমশ কমছে।

৩) সমুদ্র জলের উচ্চতা বৃদ্ধি :– গ্রিনহাউস ইফেক্ট এর ফলে পৃথিবীর মেরু অঞ্চলে ও পার্বত্য অঞ্চলের বরফ বেশি মাত্রায় গলে গিয়ে সমুদ্র জলের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার জন্য সমুদ্র উপকূলবর্তী নিচু অংশগুলি জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

৪) অধঃক্ষেপের প্রকৃতির পরিবর্তন :– বায়ুমন্ডলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বাষ্পীভবনের হার ও বায়ুর জলীয় বাষ্প ধারণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বৃষ্টিপাত ও অধঃক্ষেপের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাথে সাথে বৃষ্টিপাতের বন্টনেও যথেষ্ট অস্বাভাবিকতার সৃষ্টি হয়েছে

৫) শস্য উৎপাদনের হ্রাসবৃদ্ধি : তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে ঋতুগুলির সময়সীমা বৃদ্ধি পাবে, ফলে কৃষিপণ্যের উৎপাদন হ্রাস পাবে। এ ছাড়া তাপমাত্রা বাড়লে উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষের হার বাড়ে। এই কারণে ভুট্টা, আম, জোয়ার, বাজরা প্রভৃতি ফসলের উৎপাদন বাড়লেও ধান, গম, ওট, বার্লি, সয়াবিন, তামাক, তুলো, পাট প্রভৃতি ফসলের উৎপাদন কমে যাবে। বিজ্ঞানীদের অনুমান, প্রধান খাদ্যফসলগুলির বিশ্বব্যাপী উৎপাদনের হার 10%-70% পর্যন্ত কমবে

৬) কৃষিপদ্ধতির পরিবর্তন : বিশ্ব উন্নায়নের প্রভাবে জলবায়ুর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কৃষিক্ষেত্রের স্থান পরিবর্তন ঘটবে এবং কৃষিজমির পরিমাণ 10%-50% কমে যাবে। যেসব অঞ্চলে গম চাষ হচ্ছে, উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সেসব অঞ্চলে গমের পরিবর্তে অন্য শস্যের চাষ হচ্ছে। তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পরিবর্তনের ফলে প্রধান কৃষিকাজের এলাকা আরও উচ্চ অক্ষাংশের দিকে বিস্তৃত হচ্ছে। ভুট্টা, আখ, জোয়ার, বাজরার উৎপাদন বাড়লেও ধান, গম, বার্লি, ওট, সয়াবিন, তামাকের উৎপাদন কমে যাবে ।

 

5. বায়ু চাপবলয়ের সঙ্গে নিয়ত বায়ু প্রবাহের সম্পর্ক লেখো।

উত্তর : বায়ুর চাপের পার্থক্যই বায়ু প্রবাহের প্রধান কারণ। সাধারণ নিয়ম অনুসারে বায়ু উচ্চচাপ বলয় থেকে নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। তাই বায়ুর চাপবলয় গুলির উপর নির্ভর করে সারা বছর ধরে যে বায়ু ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে প্রবাহিত হয় তাকে নিহত বায়ু প্রবাহ বলে। নিহত বায়ু প্রধানত তিন প্রকার – ক) আয়ন বায়ু খ) পশ্চিমা বায়ু গ) মেরু বায়ু

১) বায়ুচাপ বলয় ও আয়ন বায়ু : কর্কটিয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলের দিকে যে দুটি বায়ু সারা বছর ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে প্রবাহিত হয় তাকে আয়ন বায়ু বলে। এই বায়ু বাণিজ্য বায়ু নামেও পরিচিত। ফেরেলের সূত্র অনুসারে এই বায়ু উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে যথাক্রমে উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু নামে প্রবাহিত হয়।

২) বায়ুচাপ বলয় ও পশ্চিমা বায়ু : কর্কটিয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে দুই মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলের দিকে যে বায়ু সারা বছর প্রবাহিত হয় তাকে পশ্চিমা বায়ু বলে। ফেরেলের সূত্র অনুসারে উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধ বাম দিকে যথাক্রমে দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু এবং উত্তর-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু রূপে প্রবাহিত হয়।

৩) বায়ুচাপ বলয় ও মেরু বায়ু :– সুমেরু ও কুমেরু দেশীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে দুই মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে যে দুটি বায়ু সারাবছর প্রবাহিত হয় তাকে মেরু বায়ু বলে। ফেলার সূত্র অনুসারে উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে বেঁকে উত্তর-পূর্ব মেরু বায়ু এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে দক্ষিণ-পূর্ব মেরুবায়ু হিসাবে প্রবাহিত হয়।

 

6. বিভিন্ন প্রকার বৃষ্টিপাত সম্পর্কে লেখো।  

উত্তর : ভূপৃষ্ঠের জলরাশি যখন তরল রূপে পতিত হয় তখন তাকে বৃষ্টিপাত বলে। সাধারণত তিন ভাবে বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়। যথা –

১) পরিচলন বৃষ্টিপাত : ভূপৃষ্ঠে জলরাশি সূর্যের তাপে উত্তপ্ত হয়ে পরিচালন পদ্ধতিতে জলীয় বাষ্প ঊর্ধ্বাকাশে উঠে সম্পৃক্ত শীতল ও ভারী হয়ে সেই স্থানেই তরল রূপে অধঃক্ষিপ্ত হলে, তাকে পরিচলন বৃষ্টিপাত বলে।

 উৎপত্তি :– ভূপৃষ্ঠে জলরাশি সূর্যের তাপে ক্রমাগত উত্তপ্ত হয় এবং জলীয় বাষ্প গ্রহণ করে হালকা হয়ে ধূলিকণাকে আশ্রয় করে ঊর্ধ্বাকাশে উঠে যায়। এই বায়ু উপরে উঠে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে ধীরে ধীরে সম্পৃক্ত হয়ে বৃষ্টি রুপে ঝরে পড়ে।
 উদাহরণ : নিরক্ষীয় অঞ্চলে পরিচলন পদ্ধতিতে বৃষ্টিপাত হয়।

২) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত : শৈল শব্দের অর্থ পর্বত ও উৎক্ষেপ কথার অর্থ উপরে ওঠা, জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু প্রবাহ পথে পর্বতের অবস্থান থাকলে সেই বায়ু পর্বতের ঢাল বরাবর উপরে উঠে এবং শীতলতার সংস্পর্শে ঘনীভূত হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে যে বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত বলে।

■ উৎপত্তি :– সমুদ্র থেকে আগত জলীয় বাষ্পপূর্ণ আর্দ্র বায়ু ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে প্রবাহিত হওয়ার সময় আড়াআড়িভাবে কোন পর্বত বা উচ্চভূমি অবস্থান করলে তার গায়ে বাধা প্রাপ্ত হয়ে বায়ু উপরে উঠে যায়, এই ঊর্ধ্বগামী বায়ু প্রসারিত ও শীতল হতে থাকে। এরপর এই শীতল বায়ুর মধ্যস্থিত জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
 উদাহরণ :– মেঘালয়ের মৌসিনরামে শৈলোৎক্ষেপ পদ্ধতিতে সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয়।

৩) ঘূর্ণবাত বৃষ্টিপাত : ঘূর্ণবাতের কারণে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ওপরে উঠে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটলে তাকে ঘূর্ণবাতজনিত বৃষ্টি বলে।

 উৎপত্তি :– A) ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত বৃষ্টি : ক্রান্তীয় অঞ্চলে গভীর নিম্নচাপের সৃষ্টি হলে, চারদিক থেকে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু প্রবলবেগে নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে ছুটে আসে। এই বায়ু ওপরে উঠে ঘনীভূত হয়ে বিশাল এলাকা জুড়ে মেঘের সৃষ্টি করে এবং প্রবলবেগে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাত ঘটায়। জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চলে ঘূর্ণবাতের ফলে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটে।  উদাহরণ :– সাইক্লোন, টর্নেডো, হ্যারিকেন।

(B) নাতিশীতোয় ঘূর্ণবাত বৃষ্টি :– নাতিশীতোয় অঞ্চলে ক্রান্তীয় অঞ্চল থেকে আগত উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু এবং মেরু অঞ্চলে থেকে আগত শুষ্ক ও শীতল বায়ু সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। উয় বায়ু শীতল বায়ু অপেক্ষা হালকা হওয়ায় উয় বায়ু শীতল বায়ুর ঢাল বেয়ে ওপরে উঠে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়। একে নাতিশীতোর ঘূর্ণবাতজনিত বৃষ্টি বলে। দুটি ভিন্নধর্মী বায়ুর মিলনের ফলে সীমান্ত সৃষ্টির মাধ্যমে বৃষ্টিপাত ঘটে বলে, একে সীমান্ত বৃষ্টিপাতও বলে।

 

7. বায়ুর চাপের তারতম্যের কারণ বা নিয়ন্ত্রক গুলি লেখো। 

উত্তর : বায়ুর ঘনত্ব বেশি বা কম হলে বায়ু চাপের তারতম্য হয়। এছাড়াও বায়ুর চাপের কারণগুলি হলো –

১) উচ্চতা :– ভূমিভাগের উচ্চতা বায়ুর চাপের তারতম্যের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এবং উপরের বায়ুমন্ডলের প্রবল চাপে বায়ুর অনুগুলির ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি অঞ্চলে বেশি থাকে। এই কারণে সমুদ্র তার সংলগ্ন বায়ুস্তরের বায়ুর চাপ বেশি হয় অপরদিকে সমুদ্রতল থেকে যত উপরে ওঠা যায় বায়ুর চাপ ততই কমতে থাকে

২) উষ্ণতা :– বায়ুর উষ্ণতার পরিবর্তন হলে বায়ুর আয়তন ও ঘনত্বের পরিবর্তন হয় অর্থাৎ বায়ু উত্তপ্ত হলে বায়ুর চাপের পরিবর্তন হয় এবং বায়ুর অণুগুলি গতিশীল হয়ে পরস্পরের কাছ থেকে সরে যায়। ওই উষ্ণ বায়ু হালকা ও প্রসারিত হয়ে উপরে উঠে যায় এবং চাপও কমে যায়। আবার বায়ুর উষ্ণতা কম হলে বায়ুর ঘনত্ব বাড়ে এবং চাপ বেশি হয়।

৩) জলীয় বাষ্প :– জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু শুষ্ক বায়ুর তুলনায় হালকা হয় বলে এর চাপও কম হয়। এই জন্য যেসব অঞ্চলের বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে সেখানে বায়ুর চাপ কম হয়।

৪) পৃথিবীর আবর্তন :– পৃথিবীর আবর্তন গতির জন্যেও বায়ুর চাপে তারতম্য হয়। যেমন – পৃথিবীর আবর্তন গতিবেগ দুই মেরুর তুলনায় মেরুবৃত্ত প্রদেশে বেশি হয় বলে মেরুবৃত্ত প্রদেশের বায়ু বেশি পরিমাণ বিক্ষিপ্ত হয়। এর ফলে বায়ুর ঘনত্ব কমে গিয়ে মেরুবৃত্ত প্রদেশে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়।

৫) স্থলভাগ ও জলভাগের বন্টন :– পৃথিবীপৃষ্ঠে জলভাগ ও স্থলভাগের বিন্যাস বা বন্টন উভয়ের মধ্যকার তাপগৃহীতা শক্তির পার্থক্যের জন্য বায়ুর চাপের তারতম্য ঘটে। জলভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু জলীয় বাষ্প গ্রহণ করে বলে তা আর্দ্র ও হালকা হয় এবং বায়ুর চাপও কম হয়। কিন্তু স্থলভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু জলীয় বাষ্প গ্রহণ করতে পারে না বলে শুষ্ক, ভারী ও অধিক চাপ যুক্ত হয়।

 

8. মহাদেশের পশ্চিমাংশে অধিকাংশ মরুভূমি সৃষ্টি হয়েছে কেন?

উত্তর : মহাদেশের পশ্চিমাংশে অধিকাংশ মরুভূমি সৃষ্টি হয়েছে। পৃথিবীর উল্লেখযোগ্য বৃহৎ উষ্ণ মরুভূমিগুলি হলো– দক্ষিণ আমেরিকার আটাকামা মরুভূমি, উত্তর আমেরিকার সোনেরান মরুভূমি, আফ্রিকার সাহারা মরুভূমি, কালহারি মরুভূমি, এশিয়ার আরব মরুভূমি, থর মরুভূমি প্রভৃতি এবং লক্ষ্যণীয়ভাবে উল্লিখিত সকল মরুভূমিই মহাদেশের পশ্চিমাংশে অবস্থিত। এর জন্য দায়ী পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিগুলি হলো–

১) উষ্ণ ও জলীয়বাষ্পহীন আয়নবায়ু :– এইসকল অঞ্চলের ক্রিয়াশীল আয়ন বায়ু ক্রম উষ্ণপ্রকৃতির হয়। এর কারণ হলো উষ্ণ নিরক্ষীয় অঞ্চলের উপর দিয়ে এই বায়ুর প্রবাহ। তাছাড়াও, স্থলভাগের উপর দিয়ে প্রবাহের ফলে এই বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ খুবই কম থাকে। প্রসংগত উল্লেখ্য, সমুদ্রের উপর দিয়ে প্রবাহকালে আয়ন বায়ু জলীয়বাষ্প গ্রহণ করে আর্দ্র হয়ে পড়লেও স্থলভাগে প্রবেশপথের শুরুতে অর্থাৎ, মহাদেশের পূর্বদিক দিয়ে বৃষ্টিপাত ঘটাতে ঘটাতে যতই পশ্চিমদিকে অগ্রসর হতে থাকে, ততই তাতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কমতে থাকে। এইভাবে ক্রমশ এই বায়ু যখন মহাদেশের পশ্চিমভাগে এসে পৌছায় তখন তাতে বৃষ্টিপাত ঘটানোর মতো আর পর্যাপ্ত জলীয়বাষ্প প্রায় থাকে না বললেই চলে। ফলে মহাদেশের পশ্চিমাংশ বৃষ্টিহীন, উষ্ণ ও শুষ্ক হয়ে পড়ে।

২) বায়ুর গোলযোগহীনতা : ১৫°–৩০° অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত মহাদেশের পশ্চিমভাগ কর্কটক্রান্তীয় ও মকরক্রান্তীয় শান্ত বলয়ের অন্তর্ভূক্ত। ফলে এখানে বায়ুমন্ডলীয় গোলযোগহীনতার কারণে বৃষ্টিপাতও সংঘটিত হয় না।

৩) বায়ুর নিমজ্জন :– নিরক্ষীয় অঞ্চলের বিক্ষিপ্ত বায়ু ক্রান্তীয় অঞ্চলে নিম্নদিকে নেমে আসার ফলে তার উষ্ণতা ও জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতা উভয়ই বৃদ্ধি পেয়ে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা হ্রাস পায়।

৪) বায়ুর অপ্লবনশীলতা : মহাদেশের পশ্চিমাংশে বায়ু অপ্লবনশীল প্রকৃতির হয় বলে এই অংশে বৃষ্টিপাত একপ্রকার হয় না বললেই চলে।

৫) শীতল সমুদ্র স্রোতের উপস্থিতি :– মহাদেশের উপকূল অঞ্চলে শীতল সমুদ্র স্রোত প্রবাহিত হলে ওই অঞ্চলে কুয়াশার সৃষ্টি হয় এবং বাতাস শুষ্ক হয়ে পরে। ফলে বৃষ্টি না হওয়ায় মরুভূমি সৃষ্টির অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি হয়।

৬) অতি উষ্ণ বাতাস :– বৃহৎ অস্ট্রেলীয় মরুভুমি ও সাহারা মরুভূমিতে বাতাস উষ্ণ হয়ে ওপরে উঠে যায়। অত্যাধিক উষ্ণতার জন্য নিয়মিত বৃষ্টিপাত হয় না। তবে কখনো কখনো কিউমুলোনিম্বাস মেঘ থেকে যে দুই এক ফোটা বৃষ্টি নামে তা ভূ-পৃষ্ঠে পৌছানোর আগেই শুকিয়ে যায়।

   উল্লিখিত পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিগুলির কারণে মহাদেশের পশ্চিমাংশে অতিরিক্ত উষ্ণতা বৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে পৃথিবীর অধিকাংশ বৃহৎ, উষ্ণ ও শুষ্ক মরুভূমিগুলি সৃষ্টি হয়েছে ।

 

9. বিভিন্ন রকমের নিয়ত বায়ুর গতিপ্রকৃতির ব্যাখ্যা দাও।

উত্তর : পৃথিবীতে ৭টি স্থায়ী বায়ুচাপ বলয়ের ওপর ভিত্তি করে। তিনপ্রকার নিয়ত বায়ু প্রবাহিত হয়-

 (ক) আয়ন বায়ু,  (খ) পশ্চিমা বায়ু  ও  (গ) মেরু বায়ু।

ক) আয়ন বায়ু: কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয়দ্বয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে উভয় গোলার্ধে যে বায়ু প্রবাহিত হয় তা হল আয়ন বায়ু। ফেরেলের সূত্রানুসারে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে বেঁকে উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ুরূপে বয়ে যায়।

■ গতিবেগ: উত্তর গোলার্ধে এই বায়ুর বেগ ১৬ কিমি/ঘণ্টা এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ২২ কিমি/ঘণ্টা।

■ জলবায়ুর ওপর প্রভাব: (ⅰ) এই বায়ুর প্রভাবে ক্রান্তীয়মণ্ডলে মহাদেশের পূর্বে প্রবল বৃষ্টি হয় এবং পশ্চিম অংশ বৃষ্টিহীন থাকে বলে মরুভূমির সৃষ্টি হয়েছে। (ii) নিরক্ষীয় অঞ্চলে এই বায়ুদ্বয় মিলিত ও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে প্রবল বৃষ্টি ঘটায়।

খ) পশ্চিমা বায়ু: কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয়ছয় থেকে মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় উচ্চচাপ বলয়দ্বয়ের দিকে উভয় গোলার্ধে যে বায়ু বয়ে যায় তা হল পশ্চিমা বায়ু। ফেরেল-এর সূত্রানুসারে এই বায়ু বেঁকে উত্তর গোলার্ধে দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু এবং দক্ষিণ গোলার্ধে উত্তর-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ুরূপে প্রবাহিত হয়।

গতিবেগ: উত্তর গোলার্ধে এই বায়ু ধীরে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে প্রবল বেগে বয়। তাই দক্ষিণ গোলার্ধে এই বায়ুকে সাহসী পশ্চিমা বায়ু বলা হয়।

জলবায়ুর ওপর প্রভাব: (i) এই বায়ুপ্রবাহে উপক্রান্তীয়মণ্ডলে মহাদেশের পশ্চিমে বৃষ্টি ও তুষারপাত ঘটে। (ii) ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে শীতকালে এই বায়ু প্রবেশ করে বৃষ্টিপাত ঘটায়।

গ) মেবু বায়ু: দুই মেরুদেশীয় উচ্চচাপ বলয়দ্বয় থেকে মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়দ্বয়ের দিকে প্রবাহিত বায়ু হল মেরু বায়ু। এই বায়ু ফেরেল-এর সূত্রানুসারে উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব মেরু বায়ুরুপে প্রবাহিত হয়।

■ গতিবেগ: উত্তর গোলার্ধের তুলনায় দক্ষিণ গোলার্ধে এই বায়ুর বেগ বেশি।

■ জলবায়ুর ওপর প্রভাব: (i) মেরু থেকে আগত অত্যন্ত শীতল এই বায়ুর প্রভাবে শীতকালে কানাডা, সাইবেরিয়ায় শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়ে। (ii) দক্ষিণ গোলার্ধে এই বায়ুর সাথে উন্ন-আর্দ্র সমূদ্র বায়ুর সংঘর্ষে ঘূর্ণবাতের উৎপত্তি ঘটে।

 

সঠিকভাবে বারবার অনুশীলন করলে দশম শ্রেণী ভূগোল দ্বিতীয় অধ্যায় – বায়ুমণ্ডল অধ্যায় থেকে নম্বর তোলা একদম কঠিন নয়—তাই দেরি না করে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো ভালোভাবে পড়ে নিতে হবে এবং দ্রুত রিভিশন নেওয়ার জন্য খাতায় টুকে নিতে হবে।

 SOURCE-EDT

©Kamaleshforeducation.in (2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top