Class 10 ভৌত বিজ্ঞান

‘আয়নীয় ও সমযোজী বন্ধন’ প্রশ্ন উত্তর

Published on: 

 

মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের অষ্টম অধ্যায় ‘আয়নীয় ও সমযোজী বন্ধন’  (Physical Science Chapter 8) এর মধ্যে কীভাবে ইলেকট্রন দেওয়া-নেওয়া বা ভাগাভাগি করে পরমাণুরা একে অপরের সাথে জুড়ে গিয়ে অণু তৈরি করে, সেই চমৎকার বিজ্ঞানটাই এখানে আলোচনা করা হয়েছে। আজকের পোস্টে  এই চ্যাপ্টারের বাছাই করা প্রশ্ন-উত্তরগুলো (Question Answer) শেয়ার করা হল।

 

বোর্ড: বিষয়বস্তু

1 মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান ‘আয়নীয় ও সমযোজী বন্ধন’ (অষ্টম অধ্যায়) One Liner প্রশ্ন উত্তর | Ionic and covalent bonding in bangla

1.1 আয়নীয় ও সমযোজী বন্ধন প্রশ্ন উত্তর (One Liner)

1.2 আয়নীয় ও সমযোজী বন্ধন Class 10 Question Answer

মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান

আয়নীয় ও সমযোজী বন্ধন

(অষ্টম অধ্যায়) One Liner প্রশ্ন উত্তর 

Ionic and covalent bonding in bangla

আজকের পোস্টে   যেসব বাছাই করা ওয়ান লাইনার (One Liner) প্রশ্ন উত্তর শেয়ার করা হচ্ছে, সেগুলো থেকে  MCQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (SAQ), শূন্যস্থান পূরণ; সব ধরনের প্রশ্ন উত্তর করতে পারবে।

 

আয়নীয় ও সমযোজী বন্ধন প্রশ্ন উত্তর (One Liner)

 

★ একই বা বিভিন্ন মৌলের পরমাণুগুলি যে আকর্ষণ বলের প্রভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অণু বা আয়ন রূপে অবস্থান করে, তাকে বলে: রাসায়নিক বন্ধন
★ হাইড্রোজেন, লিথিয়াম, বেরিলিয়াম প্রভৃতি মৌল তাদের নিকটতম নিষ্ক্রিয় মৌল হিলিয়ামের মতো বহিস্থ কক্ষে দুটি ইলেকট্রন অর্জনের প্রবণতাকে বলেদ্বৈত সূত্র
★ হাইড্রোজেন, লিথিয়াম, বেরিলিয়াম ছাড়া অন্যান্য মৌলের পরমাণুর সর্ববহিস্থ কক্ষে আটটি ইলেকট্রন অর্জনের প্রবণতাকে বলে: অষ্টক সূত্র

★ দুটি প্রশম পরমাণুর মধ্যে ইলেকট্রন আদানপ্রদানের ফলে ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন তৈরি হয়ে স্থির তড়িৎ বা কুলম্বীয় আকর্ষণের মাধ্যমে যে বন্ধন তৈরি হয়, তাকে বলে: আয়নীয় বা তড়িৎযোজী বন্ধন
★ আয়নীয় যৌগগুলির গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক সাধারণত হয়: উচ্চ
★ কঠিন অবস্থায় যে যৌগগুলি তড়িৎ পরিবহণ করতে পারে না কিন্তু জলীয় দ্রবণে পারে, তারা হলো: আয়নীয় যৌগ
★ 1916 খ্রিস্টাব্দে যে বিজ্ঞানীরা প্রথম যোজ্যতার ইলেকট্রনীয় তত্ত্ব বা আয়নীয় বন্ধনের ধারণা দেন, তাঁরা হলেন: লুইস এবং কোসেল
★ পরমাণুর যে কক্ষের ইলেকট্রন যোজন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়, তাকে বলে: যোজ্যতা কক্ষ

★ আয়নীয় যৌগে অণুর কোনো পৃথক অস্তিত্ব না থাকায় এদের আণবিক ভরের পরিবর্তে যে শব্দটি ব্যবহার করা বেশি যুক্তিসঙ্গত, তা হলো: সংকেত ভর (Formula weight)
★ আয়নীয় যৌগ গঠনের ক্ষেত্রে সাধারণত ক্যাটায়নের আকার বড়ো ও অ্যানায়নের আকার হতে হয়: ছোটো
★ দুটি পরমাণুর সর্ববহিস্থ কক্ষের বিজোড় ইলেকট্রনগুলির মিলনে গঠিত ইলেকট্রন জোড়কে সমভাবে ব্যবহারের ফলে যে বন্ধন গঠিত হয়, তাকে বলে: সমযোজী বন্ধন
★ সমযোজী যৌগের অণুগুলি গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় আয়নে বিয়োজিত হয় না বলে এরা সাধারণত: তড়িৎ পরিবহণ করে না

★ সমযোজী যৌগগুলি সাধারণত জলে অদ্রাব্য, এরা মূলত দ্রবীভূত হয়: জৈব দ্রাবকে বা নন-পোলার দ্রাবকে ।
★ একটি কঠিন আয়নীয় যৌগের উদাহরণ যা ব্যতিক্রমীভাবে তড়িৎ পরিবহণ করতে সক্ষম, সেটি হলো: রুবিডিয়াম সিলভার আয়োডাইড (RbAg4I5)
★ সবচেয়ে বেশি আয়নীয় চরিত্রের যৌগটির নাম হলো: সিজিয়াম ফ্লোরাইড (CsF)
★ যে সমযোজী যৌগটির গলনাঙ্ক সবচেয়ে বেশি, সেটি হলো: বোরন কার্বাইড
★ PCl5 এবং SF6 যৌগগুলিতে কেন্দ্রীয় পরমাণুর অষ্টকের কী ঘটে: অষ্টক বৃদ্ধি ঘটে

★ দুটি পরমাণুর মধ্যে ইলেকট্রন জোড় সমভাবে ভাগাভাগি (sharing)-এর মাধ্যমে যে রাসায়নিক বন্ধন তৈরি হয়, তাকে বলে: সমযোজী বন্ধন
★ সমযোজী বন্ধনের নির্দিষ্ট অভিমুখ থাকে, সেইজন্য সমযোজী যৌগের অণুগুলির থাকে: নির্দিষ্ট জ্যামিতিক আকার
★ BeCl2 এবং BF3 যৌগগুলিতে কেন্দ্রীয় পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসের ক্ষেত্রে যা দেখা যায়, তা হলো: অষ্টক পূর্তি ঘটে না (অসম্পূর্ণ অষ্টক)
★ কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া আয়নীয় যৌগের তুলনায় সমযোজী যৌগের গলনাঙ্ক এবং স্ফুটনাঙ্ক সাধারণত হয়: অনেক কম

★ সমযোজী যৌগগুলি সাধারণত জলে অদ্রাব্য হলেও, HCl বা NH3-এর মতো পোলার সমযোজী যৌগগুলি দ্রবীভূত হয়: পোলার দ্রাবকে (যেমন- জলে) ।
★ কোনো পরমাণু যতগুলি সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে অন্য পরমাণুর সঙ্গে যুক্ত থাকে, সেই সংখ্যা দ্বারা পরিমাপ করা হয় ওই পরমাণুর: সমযোজ্যতা ।
★ একটি 0.001 mg ভরের অতি ক্ষুদ্র NaCl কেলাসের মধ্যে Na+ ও Cl আয়নের সংখ্যা প্রায়: 1016 টি 

★ সমযোজী যৌগগুলিতে ইলেকট্রন জোড় ব্যবহারের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে মূলত যে তিন ধরনের বন্ধন দেখা যায়, সেগুলি হলো: একবন্ধন, দ্বিবন্ধন ও ত্রিবন্ধন ।
★ ন্যাপথলিন, ইক্ষু শর্করা (চিনি) এবং গ্লুকোজ হলো সমযোজী যৌগ, সাধারণ তাপমাত্রায় এদের ভৌত অবস্থা হলো: কঠিন ।
★ ইথানল ও ক্লোরোফর্ম সমযোজী যৌগ হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ তাপমাত্রায় এদের ভৌত অবস্থা হলো: তরল 
★ বহুসংখ্যক Li+ ও H আয়ন 1:1 অনুপাতে স্থির তড়িৎ আকর্ষণ বলের প্রভাবে ঘনসন্নিবিষ্ট হয়ে যে ত্রিমাত্রিক কেলাস গঠন করে, তা হলো: লিথিয়াম হাইড্রাইড (LiH) ।

আয়নীয় ও সমযোজী বন্ধন

Class 10 Question Answer

১. তড়িৎযোজী যৌগের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: ১. গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ক্যাটায়ন ও অ্যানায়নগুলির মধ্যে শক্তিশালী স্থির-তড়িৎ আকর্ষণ বল কাজ করে বলে এদের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক খুব বেশি হয়।

২. তড়িৎ পরিবহণ: কঠিন অবস্থায় এরা তড়িৎ পরিবহণ করে না, কিন্তু গলিত বা জলে দ্রবীভূত অবস্থায় আয়নে বিয়োজিত হয়ে তড়িৎ পরিবহণ করে।

২. যোজ্যতার অষ্টক সূত্রটি বিবৃত করো ও উদাহরণ দাও।

উত্তর: মৌলসমূহ রাসায়নিকভাবে যুক্ত হওয়ার সময় তাদের যোজ্যতা কক্ষে ইলেকট্রন বর্জন, গ্রহণ বা শেয়ারের মাধ্যমে নিকটতম নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মতো ইলেকট্রন বিন্যাস (অর্থাৎ বাইরের কক্ষে ৮টি ইলেকট্রন) লাভ করার চেষ্টা করে। একে অষ্টক সূত্র বলে।

উদাহরণ: সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) গঠনের সময় Na একটি ইলেকট্রন বর্জন করে এবং Cl সেই ইলেকট্রন গ্রহণ করে উভয়েই অষ্টক পূর্ণ করে। (ব্যতিক্রম: হাইড্রোজেন, লিথিয়াম—এরা দ্বৈত সূত্র বা ২ টি ইলেকট্রন পূর্ণ করে)।

৩. Ne-এর সম ইলেকট্রনযুক্ত (Isoelectronic) একটি ক্যাটায়ন ও একটি অ্যানায়ন-এর উদাহরণ দাও।

উত্তর: নিয়ন (Ne)-এর ইলেকট্রন সংখ্যা ১০।

ক্যাটায়ন: সোডিয়াম আয়ন (Na+) [ইলেকট্রন সংখ্যা ১১ – ১ = ১০]। অথবা ম্যাগনেসিয়াম আয়ন (Mg{2+})।

অ্যানায়ন: ফ্লোরাইড আয়ন (F-) [ইলেকট্রন সংখ্যা ৯ + ১ = ১০]। অথবা অক্সাইড আয়ন (O{2-})।

৪. NaCl গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় তড়িৎ পরিবহণ করলেও কঠিন অবস্থায় তা করে না কেন?

উত্তর: কঠিন অবস্থায় NaCl-এর কেলাসের মধ্যে Na+ এবং Cl- আয়নগুলো তীব্র স্থির-তড়িৎ আকর্ষণ বল দ্বারা দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ থাকে, তাই তারা নড়াচড়া করতে পারে না। কিন্তু গলিত বা জলে দ্রবীভূত অবস্থায় এই বাঁধন আলগা হয়ে যায় এবং আয়নগুলো মুক্তভাবে বিচরণ করতে পারে। মুক্ত আয়ন থাকে বলেই এরা গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় তড়িৎ পরিবহণ করে।

 

৫. তড়িৎযোজী (আয়নীয়) যৌগ ও সমযোজী যৌগের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

বিষয়

তড়িৎযোজী যৌগ

সমযোজী যৌগ

গঠন

ইলেকট্রন আদান-প্রদানের (বর্জন ও গ্রহণ) মাধ্যমে গঠিত হয়।

ইলেকট্রন জোড় সমভাবে ব্যবহারের (শেয়ার) মাধ্যমে গঠিত হয়।

ভৌত অবস্থা

সাধারণ অবস্থায় এরা কেলাসাকার কঠিন পদার্থ হয়।

সাধারণ অবস্থায় এরা সাধারণত গ্যাসীয়, তরল বা নরম কঠিন হয়।

তড়িৎ পরিবহণ

গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় তড়িৎ পরিবহণ করে।

সাধারণত তড়িৎ পরিবহণ করে না (ব্যতিক্রম: গ্রাফাইট, HCl-এর জলীয় দ্রবণ)।

৬. NaCl, HCl এর লুইস ডট (Lewis Dot) গঠন করো।

উত্তর:

Na (বাইরে ১টি •) ⟶ Cl (বাইরে ৭টি •••••••)

Na ১টি ইলেকট্রন Cl-কে দিয়ে দেয়।

গঠন: [Na]+ [: ċi :]-

H (১টি •) এবং Cl (৭টি ×)

H ও Cl একটি করে ইলেকট্রন দিয়ে জোড় গঠন করে।

গঠন: H ˙ × Cl বা H – Cl (এখানে H-এর ২য় এবং Cl-এর অষ্টক পূর্ণ হয়)।

৭. N₂অণুর গঠন ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: নাইট্রোজেন (N) পরমাণুর বাইরের কক্ষে ৫টি ইলেকট্রন থাকে (২, ৫)। অষ্টক পূর্ণ করার জন্য ৩টি ইলেকট্রন প্রয়োজন। তাই দুটি নাইট্রোজেন পরমাণু প্রত্যেকে ৩টি করে ইলেকট্রন দিয়ে মোট ৩ জোড়া ইলেকট্রন গঠন করে এবং তা সমভাবে ব্যবহার করে।

ফলে দুটি নাইট্রোজেন পরমাণুর মধ্যে ত্রিবন্ধন (Triple Bond) গঠিত হয়।

সংকেত: :N ☰ N:

আজকের এই পোস্টে  দশম শ্রেণির ভৌতবিজ্ঞান অষ্টম অধ্যায় ‘আয়নীয় ও সমযোজী’ থেকে বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ কিছু ওয়ান-লাইনার (One-liner) শেয়ার করা হল।  

 

SOURCE-EDT

©Kamaleshforeducation.in (2023)

 

error: Content is protected !!
Scroll to Top