
দাঁড়াও কবিতার প্রশ্নোত্তর
অষ্টম শ্রেণি বাংলা
দাঁড়াও (শক্তি চট্টোপাধ্যায়)
কবিতার প্রশ্ন ও উত্তর অষ্টম শ্রেণি বাংলা |
বিষয়সংক্ষেপঃ
নামকরণঃ
হাতেকলমে প্রশ্নোত্তর
নীচের প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও :
অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর :
নিচের প্রশ্নগুলি সংক্ষেপে উত্তর দাও :
• ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর :
কী ঘটেছে লেখাে
ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো।
সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ)
বিশ্লেষণধর্মী ও রচনাধর্মী
দাঁড়াও
—শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বিষয়সংক্ষেপঃ
=======================================================
‘মানুষ’ শব্দটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে ‘মান’ ও ‘হুশ’ এর অর্থ। কিন্তু যত মানুষ আধুনিকতার শিখরে উত্তীর্ণ হয়েছে, ততই মানবিকতার অবক্ষয় দেখা গিয়েছে। মানুষ হয়ে উঠেছে আত্মকেন্দ্রিক, স্বার্থপর, সুযােগসন্ধানী ও ক্ষমতালােভী। মানবিকবােধ সম্পন্ন কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় ‘দাঁড়াও’ কবিতাটির মধ্যে মানুষের মানবিকতার অবক্ষয়ের দিকটিকে তুলে ধরেছেন। মনুষ্যত্ব, বিবেকবােধ ইত্যাদি যেগুলি মানুষের সদগুণ বলে বিবেচিত, সেইসমস্ত গুণসম্পন্ন মানুষকে তিনি অসহায় মানুষদের পাশে এসে দাঁড়ানাের আহ্বান জানিয়েছেন। সেই সমস্ত মানুষের কথা কবি সর্বদা মনে করেন এবং যেভাবেই হােক, প্রতিটি মানুষ যেন প্রত্যেক মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায়। এটাই কবির একমাত্র প্রার্থনীয় বিষয়।
আসলে কবি বিশ্বাস করেন যে, কোনাে প্রাকৃতিক দুর্যোগে হােক কিংবা নিঃসঙ্গতা, অসহায়তায় হােক, মানবিকতার বােধ থেকে মানুষ যেন মানুষের পাশে দাঁড়ায়, নিঃসঙ্গতার সঙ্গী হয়, ব্যথিত মানুষের সমব্যথী হয়ে ওঠে। ‘পাশে দাঁড়াও’ বা পাশে এসে দাঁড়াও’ এই শব্দগুলি যথাক্রমে ৩ বার করে মােট ৬ বার কবি এই কবিতায় ব্যবহার করেছেন। এর মধ্য দিয়ে কবি মানুষের মধ্যে লুকিয়ে থাকা অন্তর-মানবিক চেতনাকে জাগ্রত করে পাঠকমনকে মানবতাবােধে উদ্বুদ্ধ করেছেন।
নামকরণঃ
======================================================
নামকরণ যখন বিষয়কেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, তখন সাহিত্যের নামকরণ-এর মধ্য দিয়ে বিষয়বস্তুর গভীরে সরাসরি প্রবেশ করা সম্ভব হয়। বিষয়কেন্দ্রিক নামকরণ তখনই আরাে সার্থক হয়ে ওঠে, যখন সেই নামকরণ হয় ব্যঞ্জনাবাহী। কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় আলােচ্য কবিতাটির নাম রেখেছেন ‘দাঁড়াও। নামকরণ করার ক্ষেত্রে যে-বিষয়গুলি বিবেচ্য, কাহিনির ব্যঞ্জনাধর্মিতা তাদের মধ্যে একটি, যেটি প্রদত্ত কবিতার ক্ষেত্রে প্রযুক্ত হয়েছে। কবিতাটির কাহিনির দিকে নজর দিলে দেখা যায়, অবক্ষয়ী সমাজে জীবন-যন্ত্রণায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। সুতরাং, মানুষ হয়ে মানুষের ওপর অত্যাচার-উৎপীড়ন না-চালিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানাে উচিত বলে কবির ধারণাপকবিতাটির মূল বিষয় হল—মানুষ অসহায় হয়ে কাঁদছে। ফলে মনুষ্যত্ব ও বিবেকবােধসম্পন্ন মানুষ সেই অসহায় ক্রন্দনরত মানুষের পাশে এসে দাঁড়াক। সমগ্র কবিতাটির বক্তব্য-বিষয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানাের বিষয়টিতে কবি বেশি জোর দিয়েছেন। কারণ, যেভাবেই হােক এসে দাঁড়াও ভেসে দাঁড়াও এবং ভালােবেসে দাঁড়াও”— মানুষের পাশে দাঁড়ানাের এটি একটি আকুল আবেদন। তাই কবিতাটির নামকরণ ‘দাঁড়াও’ অত্যন্ত সুপ্রযুক্ত ও সার্থক হয়েছে।

হাতেকলমে প্রশ্নোত্তর
=============================================================================
১.১ শক্তি চট্টোপাধ্যায় কোথায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন?
উত্তর:- শক্তি চট্টোপাধ্যায় ১৯৩৩ সালে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বহড়ুগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
১.২ তাঁর লেখা একটি উপন্যাসের নাম লেখো।
উত্তর:- শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের লেখা একটি উপন্যাস হল কুয়োতলা’ |
২. নীচের প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও :
২.১‘মতাে’ শব্দ ব্যবহার করা হয় কখন ? তােমার যুক্তির পক্ষে দুটি উদাহরণ দাও।
উত্তরঃ দুটি বিষম বস্তুর সঙ্গে তুলনা বােঝাতে বা সাদৃশ্য কিংবা বৈসাদৃশ্য কল্পনা করতে ‘মতাে’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। যেমন— ফুলের সৌন্দর্য ও সতেজতার সঙ্গে শিশু বা কিশোরদের তুলনা করে বলা হয় ‘ফুলের মত শিশু’। সাধারণত গানে ও কবিতায় এই ধরনের তুলনা বেশি পাওয়া যায়।
» আমাদের পাঠ্য কবি জীবনানন্দ দাশের ‘পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি’ কবিতা থেকে উদাহরণ দিয়ে বলা যায়—“নকশাপেড়ে শাড়িখানা মেয়েটির রৌদ্রের ভিতর/হলুদ পাতার মতাে সরে যায়” কবি এখানে রৌদ্রের ভিতর মেয়েটির শাড়ির সঙ্গে জীর্ণ, হলুদ পাতার তুলনা করে ‘মতাে’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন।
২.২ কবি পাখির মতাে পাশে দাঁড়াতে বলছেন কেন ?
উত্তরঃ কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় : জীবনকে কঠিন বাস্তবের মাটি থেকে দেখেছেন। তিনি বলেছেন, মানুষ বড়াে অসহায়, বড়াে একা। ফলে তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং আত্মকেন্দ্রিক মানসিকতাকে পরিত্যাগ করে মানুষকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে পাখির আছে স্বাধীনতা, গতিবেগ ও চঞ্চলতা। পাখিদের মধ্যে আত্মকেন্দ্রিকতা বা বিচ্ছিন্নতাবাদী মনােভাব নেই। নেই সামাজিক জটিলতার স্পর্শ। তাই কবি পাখির মতাে মানুষকে মানুষের পাশে এসে দাঁড়াতে বলেছেন।
২.৩ ‘মানুষই ফাঁদ পাতছে’—কবি এ কথা কেন বলেছেন ? ‘মানুষ’ শব্দের সঙ্গে ‘ই’ ধ্বনি যােগ করেছেন কেন তােমার কী মনে হয় ?
উত্তরঃ মানুষের যাবতীয় দুর্দশার কারণ মানুষ নিজেই, মানুষের তৈরি হিংসা লোভ লালসার হাত থেকে মানুষ বাঁচতে পারে না। এই সমাজের জটিল আবর্তে পড়ে মানুষের মধ্যে থেকে মনুষ্যত্ববােধ যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। একে অপরকে আক্রমণ করার জন্য, ঠকাবার জন্য মানুষ যেন জাল পেতে আছে। তাই কবি এখানে বলেছেন—“মানুষই ফাঁদ পাতছে”।
» ‘মানসই ফাঁদ পাচ্ছে’, অংশে মানুষের প্রতি মানুষেরই বর্বরতার কথা জোর দিয়ে বোঝাতে ‘ই’ ধ্বনিটি যোগ করা হয়েছে।
২.৪ তােমার মতাে মনে পড়ছে’ –এই পঙক্তির অন্তর্নিহিত অর্থ কী ?
উত্তরঃ ‘দাঁড়াও’ কবিতায় কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় যে ‘তুমি’র প্রসঙ্গ এনেছেন, তা কোনো বিশেষ ব্যক্তি নন, বরং বলা যেতে পারে এই ‘তুমি” হল মানবিকতা, সমগ্র পৃথিবীর মানুষের শুভবোধ | বর্তমান পৃথিবীতে নিত্যদিন মনুষ্যত্বের বিকৃতি, মানুষের প্রতি মানুষের হিংস্র আচরণ কবিকে পীড়িত করছে। তাই কবি চিরন্তন মানবিকতা ও মনুষ্যত্বকে মনে মনে কামনা
করছেন এবং মানবিক গুণগুলির যাতে পুনর্জাগরণ ঘটে, তা-ই চেয়েছেন।
২.৫ “এসে দাঁড়াও ভেসে দাঁড়াও এবং ভালােবেসে দাঁড়াও”– এই পঙক্তিটির বিশেষত্ব কোথায় ? এই ধরনের দুটি বাক্য তুমি তৈরি করাে।
উত্তরঃ আলােচ্য পৃঙক্তিটির বিশেষত্ব নানাভাবে লক্ষণীয়। প্রথমতঃ ‘এসে,ভেসে’, ‘বেসে’—তিনটিই অসমাপিকা ক্রিয়াপদ সম্পূর্ণ বাক্যটি তিনটি অসমাপিকা ক্রিয়াপদ দ্বারা গঠিত। দ্বিতীয়তঃ শব্দগুলির মধ্যে একটি ছন্দগত মিল লক্ষ করা যায়। পর পর দুই মাত্রার শব্দ বসিয়ে আলাদা ধ্বনি ঝংকার সৃষ্টি করা হয়েছে। তৃতীয়তঃ ‘এ’-কার-সহ ‘স’ অক্ষরটি তিনবার বসে বৃত্ত্যনুপ্রাস অলংকার সৃষ্টি করেছে।
» এমন ধরনের দুটি বাক্য হল— (ক) এদেশে ভালোবেসে জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে সকলে এসএমএসে।(খ) হেঁটে যাও ছুটে যাও তারপর জুটে যাও।
৩. “মানুষ বড়াে কাঁদছে”— কী কারণে কবি এই কথা বলেছেন ?
উত্তরঃ সমগ্র পৃথিবী জুড়েই চলছে ক্ষমতার রাজনীতি। ফলে রাজনীতি, অর্থনীতি ও ক্ষমতায়নের খেলায় সময়ও অস্থির। দু-দুটো বিশ্বযুদ্ধ, ঠান্ডা লড়াই, বিচ্ছিন্নতাবাদ, উগ্রপন্থী মানসিকতা মানুষকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। সমাজমনস্ক কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় জীবনকে দেখেছেন কঠিন বাস্তবের মাটি থেকে। সেহেতু সমাজের বিকৃতি ও ব্যভিচার দেখে কবি মর্মাহত। সমাজের জটিল আবর্তে পড়ে মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে স্বার্থান্বেষী মানুষরা মেতে উঠেছে অত্যাচার ও উৎপীড়নের খেলায় । তারা বিচ্ছিন্ন ও আত্মকেন্দ্রিক হয়ে জীবন যন্ত্রণায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ছে। এই সমস্ত মানুষদের জন্য কবি খুবই মর্মাহত হয়েছেন। তাই তিনি মানুষেরই কাছে। মানুষের কান্নার কথাকে তুলে ধরেছেন।
৪. “মানুষ বড়াে একলা, তুমি তাহার পাশে এসে দাঁড়াও”। এই পঙক্তিটিকে তিনবার ব্যবহার করার কারণ কী হতে পারে বলে তােমার মনে হয় ?
উত্তরঃ আলােচ্য পঙক্তিটিকে সমগ্র কবিতায় তিনবার ব্যবহার করে কবি দুটি বিষয়কে তীব্রতর করে তােলার চেষ্টা করেছেন। একটি হল ‘মানুষ বড়াে একা এবং দ্বিতীয়টি হল ‘তুমি তাহার পাশে এসে দাঁড়াও। অর্থাৎ, মানুষের অসহায়তা, একাকিত্ব এবং মানুষের দ্বারাই সেগুলি নিরাময় করার প্রচেষ্টাকে সমগ্র কবিতায় তুলে ধরা হয়েছে। তাই আলােচ্য বাক্যটিকে তিনটি অনুচ্ছেদে তিনবার ব্যবহার করে কবি তাঁর বক্তব্যকে খুব জোরালাে, স্পষ্টতর ও প্রবলতর করার চেষ্টা করেছেন।
৫. কবিতাটির নাম ‘দাঁড়াও’ কতটা সার্থক ? কবিতাটির নাম ‘মানুষ বড়াে কাঁদছে’ হতে পারে কি— তােমার উত্তরের ক্ষেত্রে যুক্তি দাও।
উত্তরঃ নামকরণ যখন বিষয়কেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, তখন সাহিত্যের নামকরণ-এর মধ্য দিয়ে বিষয়বস্তুর গভীরে সরাসরি প্রবেশ করা সম্ভব হয়। বিষয়কেন্দ্রিক নামকরণ তখনই আরাে সার্থক হয়ে ওঠে, যখন সেই নামকরণ হয় ব্যঞ্জনাবাহী। কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় আলােচ্য কবিতাটির নাম রেখেছেন ‘দাঁড়াও। নামকরণ করার ক্ষেত্রে যে-বিষয়গুলি বিবেচ্য, কাহিনির ব্যঞ্জনাধর্মিতা তাদের মধ্যে একটি, যেটি প্রদত্ত কবিতার ক্ষেত্রে প্রযুক্ত হয়েছে। কবিতাটির কাহিনির দিকে নজর দিলে দেখা যায়, অবক্ষয়ী সমাজে জীবন-যন্ত্রণায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। সুতরাং, মানুষ হয়ে মানুষের ওপর অত্যাচার-উৎপীড়ন না-চালিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানাে উচিত বলে কবির ধারণা। কবিতাটির মূল বিষয় হল—মানুষ অসহায় হয়ে কাঁদছে। ফলে মনুষ্যত্ব ও বিবেকবােধ সম্পন্ন মানুষ সেই অসহায় ক্রন্দনরত মানুষের পাশে এসে দাঁড়াক। সমগ্র কবিতাটির বক্তব্য-বিষয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানাের বিষয়টিতে কবি বেশি জোর দিয়েছেন। কারণ, যেভাবেই হােক “এসে দাঁড়াও ভেসে দাঁড়াও এবং ভালােবেসে দাঁড়াও”—মানুষের পাশে দাঁড়ানাের এটি একটি আকুল আবেদন। তাই কবিতাটির নামকরণ ‘দাঁড়াও’ অত্যন্ত সুপ্রযুক্ত ও সার্থক হয়েছে।
» কবিতাটির নাম ‘মানুষ বড়াে কাঁদছে’ও হতে পারত নিঃসন্দেহে। কারণ, কবিতার বিষয়বস্তুর সঙ্গে এই নামটির পুরাে মাত্রায় সংগতি আছে। তবুও তুলনামূলক বিচারে মানুষ বড়াে কাঁদছে’ নামটির চেয়ে ‘দাঁড়াও’ নামটি বেশি সংগত। উল্লেখ্য, মানুষ বড়াে কাঁদছে’ নামে শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের অন্য একটি কাব্যগ্রন্থ আছে।
৬. কবি কাকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে অনুরােধ করছেন বলে তােমার মনে হয় ?
উত্তরঃ প্রদত্ত কবিতাটিতে কবি মানুষকেই তাদের হারিয়ে যাওয়া শুভ চেতনা, মনুষ্যত্ববােধ জাগরণের মধ্য দিয়ে মানুষের পাশে এসে দাঁড়াতে অনুরােধ করেছেন। এই বােধই পারে মানুষকে অমানুষিক তথা বর্বর আচরণ থেকে মুক্ত করতে। বর্তমান সময়ে কিছু মানুষ হিংসায় মত্ত হয়ে মানুষের ওপর অত্যাচার করতে কুণ্ঠিত হয় না। সমাজ থেকে সত্য-সুন্দরকে তারা মুছে ফেলতে চায়। তাই কবি বিবেকবান মানুষকে সেই সমস্ত উৎপীড়িত অসহায় মানুষদের পাশে এসে দাঁড়ানাের আহ্বান জানিয়েছেন।
৭. কবিতাটি চলিত বাংলায় লেখা, শুধু একটা শব্দ সাধু ভাষার। শব্দটি খুঁজে বার করাে এবং শব্দটিকে এভাবে ব্যবহার করেছেন কেন কবি ?
উত্তরঃ আলােচ্য কবিতাটি চলিত ভাষায় লেখা। শুধু একটিমাত্র শব্দ সাধুভাষায় লেখা, সেটি হল দ্বিতীয় স্তবকের শেষ লাইনে লেখা ‘তাহার’।
» শব্দটিকে এভাবে ব্যবহার করে কবি সম্ভবত অসহায় মানুষদের বিশেষভাবে চিহ্নিত করতে চেয়েছেন। কারণ, জীবনযন্ত্রণায় ক্ষতবিক্ষত মানুষের জন্য শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিমন কেঁদে উঠেছে। তাই সেই মানুষদের পাশে দাঁড়ানাের জন্যই কবির একান্ত আকুল প্রার্থনা। এই অসহায় নির্যাতিত মানুষদেরকে চিহ্নিত করতে কবিতার মধ্যে হঠাৎ একটু ব্যতিক্রমী শব্দ ব্যবহার করে কবি তাদের প্রতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সচেষ্ট হয়েছেন। তা ছাড়া নিত্য ব্যবহার্য শব্দের বদলে বা তার পাশাপাশি সাধু শব্দ ‘তাহার’ ব্যবহার করে বক্তব্যকে আরও গভীর করে তুলতে চেয়েছেন। সম্ভবত, এ কারণেই তিনি কবিতার মধ্যে ওই জাতীয় শব্দ ব্যবহার করেছেন। আসলে ‘তার’ শব্দের পরিবর্তে ‘তাহার’ শব্দের বিস্তৃতি অনেক বেশি। তাই, চলিত ভাষার মধ্যে সাধু শব্দের ব্যবহার সেই ব্যপ্তিকেই ব্যঞ্জিত করে তােলে।
২.১ ‘মতো’ শব্দ ব্যবহার করা হয় কখন? তোমার যুক্তির পক্ষে দুটি উদাহরণ দাও।
উত্তর:- ‘মতো’ একটি তুলনামূলক অব্যয়। কোনো কিছুর সঙ্গে সাদৃশ্য কল্পনা করতে বা তুলনা বোঝাতে ‘মতো’ শব্দটির ব্যবহার করা হয়। যেমন তুলনা করে বলা হয় ‘ফুলের মতো শিশু’ অর্থাৎ ফুলের সৌন্দর্য ও সতেজতার সঙ্গে শিশুর তুলনা করা। কবিতায় বা গানে এই ধরনের তুলনা বেশি দেখা যায়—”কেমন করে এ রানার সবেগে হরিণের মতো যায়।”
সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘রানার’ কবিতায় এই লাইনটি আমরা পেয়েছি। এখানে কবি রানার আর হরিণের ছোটার তুলনা করেছেন।
এর দুটি উদাহরণ হল –
ক) গরু ঘোড়ার মতো জোরে দৌড়াতে পারে না।
খ) আষাঢ় মাসে শরৎ কালের মতো নীল আকাশ দেখা যায় না।
২.২ কবি পাখির মতো পাশে দাঁড়াতে বলছেন কেন?
উত্তর:- একটা স্বাধীন সত্তার ইঙ্গিত আমরা লক্ষ্য করি পাখির উড়ে চলা ও তার আচরণের মধ্যে। আর ঠিক, সেই স্বাধীনতারই প্রয়োজন আর্ত, নিপীড়িত,দুঃখিত মানুষের। তাই দুঃসময় থেকে মুক্তির আশ্বাস নিয়ে ‘পাখির মতো’ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
২.৩)“মানুষই ফাঁদ পাতছে”– কবি এ কথা কেন বলেছেন? ‘মানুষ’ শব্দের সঙ্গে ই’ ধবনি যোগ করেছেন কেন—তোমার কী মনে হয়?
উত্তর— মানুষের নিজের দুর্দশার কারণ মানুষ নিজেই। প্রকৃতির বিরূপতাকে মানুষ এড়িয়ে যেতে পারে,কিন্তু কিছু মানুষের অর্থ ও ক্ষমতার প্রতি আসক্তি শেষ করে দেয় প্রায় সমগ্র মানবসমাজকেই | মানুষের তৈরি হিংসা-দ্বেষ-লোভ-লালসার হাত থেকে মানুষ বাঁচতে পারে না। মানুষ আজ নিজেই অন্য মানুষকে মারছে। অত্যাচারিত হচ্ছে এক মানুষ অন্য মানুষের কাছে ,যা কখনোই কোন কিছুর সঙ্গে তুলনীয় নয় এবং কাম্যও নয়। তাই “মানুষই ফাঁদ পাতছে” অংশে মানুষের প্রতি মানুষেরই বর্বরতার কথা জোর দিয়ে বোঝানোর জন্যই ই’ ধ্বনিটি যোগ করা হয়েছে।
২.৪ “তোমার মতো মনে পড়ছে”– এই পঙ্ক্তির অন্তর্নিহিত অর্থ কী?
উত্তর:— কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় ‘দাঁড়াও’ কবিতায় যে ‘তুমি’র প্রসঙ্গ এনেছেন, তা কোনো নির্দিষ্ট বা বিশেষ ব্যক্তি নন, বলা যেতে পারে এই ‘তুমি’ হল মানবতাবোধ বা মানবিকতা, সমগ্র পৃথিবীর মানুষের শুভবোধ। কবিকে পীড়িত করছে বর্তমান পৃথিবীতে প্রতিদিন মানুষের প্রতি মানুষের হিংস্র আচরণ, মনুষ্যত্বের বিকৃতি। তাই মনে মনে কবির চিরন্তন মানবতাবোধ বা মানবিকতা ও মনুষ্যত্ববোধকে কাম্য। এবং মানবিক গুণগুলির যাতে পুনর্জাগরণ হয়, ঠিক তাই কবি চেয়েছেন।
২.৫ “এসে দাঁড়াও ভেসে দাঁড়াও এবং ভালোবেসে দাঁড়াও”— এই পঙ্ক্তিটির বিশেষত্ব কোথায়? এই ধরনের দুটি বাক্য তুমি তৈরি করো।
উত্তর:— কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘দাঁড়াও’ কবিতা থেকে গৃহীত পঙ্ক্তিটিতে ‘সে’ ধ্বনিটির বারংবার ব্যবহার অনুপ্রাস অলংকারের সৃষ্টি করেছে। এ ছাড়াও পঙ্ক্তিটিকে কাব্যগুণে সমৃদ্ধ করে তুলেছে — সমাপিকা ক্রিয়া ‘দাঁড়াও’ শব্দটির তিনবার ব্যবহার ।
এইরকম দুটি বাক্য হল,
১) ভালোকে চাই, মন্দকে চাই এবং তোমাকে চাই ৷
২)এদেশে ভালোবেসে জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে সকলে এসে মেশে
৩)“মানুষ বড়ো কাঁদছে”—কী কারণে কবি এই কথা বলেছেন?
উত্তর:- শক্তি চট্টোপাধ্যায় যে সময়ে ‘দাঁড়াও’ কবিতাটি লিখেছেন সে সময় গোটা পৃথিবীতে ছিল অশান্ত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইউরোপ ও এশিয়া জাতিদ্বন্দ্বে, অর্থনৈতিক দ্বন্দ্বে নিজেদের মধ্যে ব্যস্ত ছিল।আর সেই ঠান্ডা লড়াইয়ে মনুষ্যত্বের চরম হানী প্রতিমুহূর্তে ঘটে চলেছিল। কবিকে পীড়িত করছিল প্রতিদিন মানুষের প্রতি মানুষের হিংস্র আচরণ, মনুষ্যত্বের বিকৃতি। তাই মানুষের হাতে মানুষের অত্যাচার, নিপীড়ন, মৃত্যু দেখে কবি মানুষের জীবনের চরম হতাশার ছবি তুলে ধরার জন্য বলে উঠেছেন, উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটি – মানুষ বড়ো কাঁদছে”।
৪) “মানুষ বড়ো একলা, তুমি তাহার পাশে এসে দাঁড়াও” – এই পঙ্ক্তিটিকে তিনবার ব্যবহার করার কারণ কী হতে পারে বলে তোমার মনে হয়?
উত্তর:- কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘দাঁড়াও’ কবিতাটি থেকে গৃহীত উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটিতে স্পষ্টত দুটি অংশ রয়েছে। এক দিকে প্রকাশিত হয়েছে মানুষের চরম দুর্দশার ছবি | সারা পৃথিবীজুড়ে স্বার্থপরতা ও মনুষ্যত্বহীনতার ফলে মানুষ ক্রমশ একলা হয়ে যাওয়ার কথা ছবি তুলে ধরেছেন। সমগ্র কবিতায় “মানুষ বড়ো একলা, তুমি তাহার পাশে এসে দাঁড়াও”— এই পঙক্তিটির উপর কবি বেশি আলোকপাত করেছেন, তাই পঙক্তিটি তিনবার ব্যবহার করা হয়েছে। আধুনিক যুগে আবারও যেন মানুষের অসহায়তা, নিঃসঙ্গতা ভয়ংকর হয়ে উঠেছে, সে আজ একলা। তার পাশে দাঁড়ানো মানুষের কর্তব্য।এইভাবে মানুষ একে অপরের পাশে দাঁড়ালে তবেই তার দুঃখ কষ্ট দূর হবে।
৫) কবিতাটির নাম ‘দাঁড়াও’ কতটা সাৰ্থক? কবিতাটির নাম ‘মানুষ বড়ো কাঁদছে’ হতে পারে কি – তোমার উত্তরের ক্ষেত্রে যুক্তি দাও |
উত্তর:- আমাদের আলোচ্য কবিতাটির নাম ‘দাঁড়াও’ নামকরণ হিসেবে সার্থক। কবিতাটি পাঠ করলে দুটি বক্তব্য আমাদের সামনে প্রকাশ পায়। কার বিংশ শতাব্দী জুড়েই দেখেছেন মানবতার অবক্ষয় এবং মনুষ্যত্বের বিকৃতি মানুষের প্রতি মানুষের হিংস্র আচরণ। মানুষের হাতেই মানুষের অপমান, অত্যাচার, হনন। কিন্তু কবি নিরাশায় মাধ্যমে কবিতাটি সম্পূর্ণ করেননি। তিনি মানুষের পাশে মানুষকে এসে দাঁড়াতে অনুরোধ করেছেন। কবি বলেছেন মানবতাই শ্রেষ্ঠ ধর্ম, তাই কবি অনুরোধ করেছেন মানবতাকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিয়ে নিপীড়িত মানুষের দুঃখ কষ্ট দূর করতে। তাই এই নামকরণটি প্রযোজ্য বা সার্থক ।
৬) কবি কাকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে অনুরোধ করছেন বলে তোমার মনে হয়?
উত্তর:- শক্তি চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘দাঁড়াও’ কবিতায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে কবি অনুরোধ করেছেন। কিন্তু তিনি কাকে এই অনুরোধ করেছেন তা এখানে স্পষ্ট নয়, কারণ ‘তুমি’ শব্দের আড়ালে কী আছে তা কবিতায় বলা নেই। তবে কবিতাটি কয়েকবার পাঠ করলে বোঝা যায় যে, কবি এখানে মানুষের শুভবোধ, মানবিকতা, হারিয়ে যাওয়া মনুষ্যত্বকেই যেন তিনি ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করেছেন। মানুষ যে ক্রমশ হিংস্র, স্বার্থপর, অমানবিক এবং পাশবিক হয়ে উঠছে তার বিপরীতেই এই ‘তুমি’কে কবি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন।
৭) কবিতাটি চলিত বাংলায় লেখা, শুধু একটা শব্দ সাধু ভাষার। শব্দটি খুঁজে বার করো এবং শব্দটিকে এভাবে ব্যবহার করেছেন কেন কবি?
উত্তর:- কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের রচিত ‘দাঁড়াও’ কবিতার মধ্যে শুধু একটিই সাধুভাষার শব্দ আছে, সেই শব্দটি হল ‘তাহার’ | প্রতিদিনের চলতি ভাষার নিত্যনৈমিত্তিক শব্দ ব্যবহারের পাশে সাধু ভাষার ব্যবহার হওয়ার কারণে বক্তব্যকে আরও গভীর করে তোলে | এই তাহার’ শব্দের মধ্যে দিয়ে কবি সারা পৃথিবীর অসহায় মানুষের কথা তুলে ধরেছে, তাই ‘তার’-এর বদলে এখানে ‘তাহার’ শব্দের ব্যবহার করেছেন কবি। ‘তার’ এর বদলে ‘তাহার’ শব্দের ব্যবহারে ছন্দের সৌন্দর্য বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে l
সংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)
২। কবি পাথির মতো পাশে দাঁড়াতে বলেছেন কেন?
উত্তর – পাখি মুক্তির প্রতীক। উন্মুক্ত আকাশে পাখি এপ্রান্ত থেকে অপ্রান্ত ঘুরে বেড়ায়। কোন বাঁধা সে মানে না। এই সময়ে মানব সভ্যতা নানান দুঃখ যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। কবি মানুষকে মানুষের দুঃখে, মানুষের পাশে মুক্ত মনে দাঁড়াতে বলেছেন। এই বক্তব্য বোঝানোর জন্য কবি পাখির উপমা ব্যবহার করেছেন।
৩। ‘মানুষই ফাঁদ পাতছে’ – কবি এ কথা কেন বলেছেন? ‘মানুষ’ শব্দের সঙ্গে ‘ই’ ধ্বনি যোগ করেছেন কেন?
উত্তর – আমরা জানি যে মূলত প্রাণী শিকার ধরার জন্য ফাঁদ ব্যবহার করা হয়। আজকের মানব সভ্যতায় কোন প্রাণী নয় মানুষের হিংসার শিকার হয় মানুষ নিজেই, তাই কবি আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।
বিশ্বে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ লেগেই আছে। প্রতিটি যুদ্ধে অত্যন্ত নৃশংসতার সাথে মানুষ মানুষকে হত্যা করছে শিকার করছে। মানুষের এই নৃশংসতার জন্য যে মানুষই কেবলমাত্র দায়ী তা জোর দিয়ে বঝাবের জন্য কবি ‘ই’ ধ্বনি যোগ করেছেন।
৪। ‘তোমার মতো মনে পড়ছে’ – এই পঙক্তির অন্তর্নিহিত অর্থ কি?
উত্তর – কবি এখানে ‘তোমার মতো’ বলতে প্রকৃত মানব স্বত্বাকে বোঝাতে চেয়ছেন। সেই আদিম সময় থেকে মানুষ একসাথে বাস করছে। নিজ সুখ, নিজ দুঃখ, নিজ আনন্দ একসাথে ভাগ করে নিচ্ছে। নিজ শ্রমের ফসল অন্যকে তুলে দিচ্ছে। একসাথে দল বেঁধে সব বিপদকে জয় করছে। সাহচর্য, সহমর্মিতা – এগুলিই মনুষ্য ধর্মের পরিচয়। কিন্তু আজ সেই মানুষ বড় অচেনা। কারণ বিশ্বজুড়ে মানুষই, মানুষের জন্য ফাঁদ পাতছে, এক মানুষই অন্য মানুষের দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই কবির আজ সেই মনুষ্য ধর্মের কথা দিন – রাত মনে পড়ছে। যে মানুষ একলা – দীন – দুঃখী মানুষের পাশে এসে দাঁড়াবে।
৫। ‘এসে দাঁড়াও ভেসে দাঁড়াও এবং ভালোবেসে দাঁড়াও’ – এই পঙক্তির বিশেষত্ব কি?
উত্তর – মানব দুঃখ দূর করার উপায় হিসাবে কবি বার বার মানুষের পাশে এসে দাঁড়াতে বলেছেন। মানুষ কিভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াবে তার হদিসও কবি কবিতার মাধ্যমে আমাদের দিয়েছেন। নদীতে যখন জলস্ফীতিহয়, তখন জলের তোড়ে সব ভেসে যায়। ঠিক তেমন ভাবেই আমাদের সব ক্ষুদ্র তকমার আগল ভেঙে দিয়ে, সব স্বার্থ সরিয়ে দিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের সব মানুষকে ভালোবেসে – সব হিসাব কে সরিয়ে দিয়ে, শুধুমাত্র আমাদের মানুষ পরিচয়কে সামনে নিয়ে বৃহত্তর সমাজের অংশ হতে হবে। কারণ মনুষ্য জাতি আজ বড় অসহায় – একলা। আর আমাদের তার পাশে দাঁড়াতে হবে।
৬। ‘মানুষ বড়ো একলা, তুমি তাঁহার পাশে এসে দাঁড়াও।’ – এই উক্তির কারণ বুঝিয়ে দাও।
উত্তর – বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ। কিন্তু মানুষ আজ অসহায়, দুঃখী, একলা। অবাক করা ব্যাপার হল মানুষের এই যন্ত্রণার কারণ কিন্তু মানুষ নিজেই। স্বার্থপর, লোভ – সর্বস্ব মানুষ তার নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অপর মানুষকে বিপদের সামনে নিয়ে আসছে। কবি বলেছেন, আমাদের প্রকৃত মনুষ্য ধর্ম পালন করে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।
• নিচের প্রশ্নগুলি সংক্ষেপে উত্তর দাও :
১. দাঁড়াও কবিতার কবি নাম লেখো। কবিতাটি কবির কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে ?
উত্তরঃ দাঁড়াও কবিতার রচয়িতা হলেন শক্তি চট্টোপাধ্যায়। কবিতাটি ‘মানুষ বড় কাঁদছে’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে ।
বি:দ্র: কোন কোন নোট বইতে ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ কাব্যগ্রন্থের উল্লেখ আছে।
২.‘দাঁড়াও’ কবিতায় প্রথম স্তবকে ‘মানুষ’ শব্দটি কতবার আছে ?
উত্তরঃ ‘দাঁড়াও’ কবিতার প্রথম স্তবকে ‘মানুষ’ শব্দটি চারবার আছে।
৩. দাঁড়াও কবিতায় তোমাকে ________ কবির কখন কখন মনে পড়েছে ?
উত্তরঃ দাঁড়াও কবিতায় তোমাকে কবির সকাল-সন্ধে ও রাতের বেলা মনে পড়ছে।
৪. কবি কাকে পাশে দাঁড়াতে অনুরোধ করেছেন ?
উত্তরঃ কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় মানুষকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে অনুরোধ করেছেন।
৫.“মানুষ বড়ো কাঁদছে, তুমি মানুষ হয়ে পাশে দাঁড়াও”—কার লেখা, কোন্ কবিতা?
উত্তরঃ উদ্ধৃতাংশটি কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘দাঁড়াও’ কবিতার প্রথম পক্তির অন্তর্গত।
৬. ‘দাঁড়াও’ কবিতাটি কার লেখা ?
উত্তরঃ ‘দাঁড়াও’ কবিতাটি লিখেছেন এযুগের অন্যতম শক্তিশালী কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়।
৭. কবি কাদের ফাঁদ পাতার কথা বলেছেন?
উত্তরঃ শিকারি যেমন ফাঁদ পেতে পশুপাখি ধরে, মানুষও তেমন গোপনে চতুরতার সঙ্গে অন্য মানুষকে চাইছে বিপদে ফেলতে ।
• ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর :
১. “মানুষ বড়ো একলা, তুমি তাহার পাশে এসে দাঁড়াও”— মানুষ একলা কেন ? মানুষের জন্য কী করা দরকার ?
উত্তরঃ আজকের সমাজের প্রত্যেকেই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। কেউ কারও
কথা ভাবে না বলেই মানুষ আজ অসহায় একলা ।
» সেজন্য প্রত্যেক মানুষের মানবতার বোধ নিয়ে এগিয়ে এসে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো দরকার।
২, “তোমার মতো মনে পড়ছে”-পঙ্ক্তিটির তাৎপর্য কী ?
উত্তরঃ যান্ত্রিক সভ্যতালব্ধ অস্থির সামাজিক পরিবেশে কবি মানবিকতার অভাব বোধ করেছেন। সেজন্য মানবিকতার স্পর্শযুক্ত মানুষকে খুঁজতে চেয়েছেন। এখানে ‘তোমার মতো’ বলতে কোনো বিশেষ ব্যক্তি নয়, সমগ্ৰ পৃথিবীর মানুষের মানবিকতা ও শুভবোধের প্রতি কবি ইঙ্গিত করেছেন।
তিনি মানুষের মানবিক গুণগুলির জেগে ওঠার কামনা করেছেন।
প্রথম স্তবকের তিনটি পঙক্তির প্রত্যেকটির দলসংখ্যা কত ? প্রতিটি পঙক্তি ক-টি রুদ্ধদল ও মুক্তদল নিয়ে তৈরি ?
উত্তরঃ
» প্রথম চরণ = মানুষ বড়াে কাঁদছে, তুমি মানুষ হয়ে পাশে দাঁড়াও-মানুষ (মানুষ), বড়াে (বডাে), কাঁদছে (কাঁদ-ছে), তুমি (তুমি), মানুষ (মানুষ), হয়ে (হ-য়ে), পাশে (পা-শে), দাঁড়াও (দাঁ – ড়াও), দলসংখ্যা—১৬টি।
» দ্বিতীয় চরণ = মানুষই ফাঁদ পাতছে, তুমি পাখির মতাে পাশে দাঁড়াও—মানুষই (মা-নুষ-ই), ফাঁদ (ফাঁদ), পাতছে (পাত-ছে), তুমি (তুমি), পাখির (পাখির), মতাে (ম-তাে), পাশে (পা-শে), দাঁড়াও (দাঁ-ড়াও), = দলসংখ্যা ১৬টি। )
» তৃতীয় চরণ = মানুষ বড়াে একলা তুমি তাহার পাশে এসে দাঁড়াও—মানুষ (মা – নুষ), বড়াে (ব – ড়াে), একলা (এক্ – লা), তুমি (তু – মি), তাহার (তা – হার), পাশে (পা – শে), এসে (এ – সে), দাঁড়াও (দাঁ – ড়াও), = দলসংখ্যা—১৬টি।
» প্রথম স্তবকের তিনটি পঙক্তির প্রত্যেকটির দল সংখ্যা ১৬ (ষোলাে)। প্রথম পঙক্তি— ১২ টি মুক্তদল এবং ৪টি রুদ্ধদল নিয়ে গঠিত।
দ্বিতীয় পঙক্তি— ১১টি মুক্তদল এবং ৫টি রুদ্ধদল নিয়ে গঠিত।
তৃতীয় পঙক্তি— ১২ টি মুক্তদল এবং ৪টি রুদ্ধদল নিয়ে গঠিত।
কী ঘটেছে লেখাে : সন্ধ্যা > সন্ধে। ফাদ > ফাঁদ।
» সন্ধ্যা > সন্ধে (স্বরসংগতি)।
» ফাদ > ফাঁদ (স্বতােনাসিক্যীভবন)।
অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর : দাঁড়াও কবিতা অষ্টম শ্রেণি বাংলা |
• ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো।
১. ‘দাঁড়াও’ কবিতাটির রচয়িতা হলেন—
(ক) শক্তি চট্টোপাধ্যায়
(খ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
(গ) রূপসী বাংলা
(ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তরঃ (ক) শক্তি চট্টোপাধ্যায়
২. দাঁড়াও কবিতাটির উৎস কী ?
(ক) যেতে পারি কিন্তু কেন যাব
(খ) হে প্রেম হে নৈ: শব্দ
(গ) মানুষ বড় কাঁদছে
(ঘ) জ্বলন্ত রুমাল
উত্তরঃ (গ) মানুষ বড় কাঁদছে।
৩. ‘দাঁড়াও’ কবিতাটিতে কবি কার পাশে দাঁড়াতে বলেছেন?
(ক) বন্ধুর
(খ) মানুষের
(গ) বন্যের
(ঘ) ঈশ্বরের
উত্তরঃ (খ) মানুষের।
৪. শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের একটি উপন্যাসের নাম হল—
(ক) কুয়োতলা
(খ) উত্তরায়ণ
(গ) প্রথম কদম ফুল
(ঘ) বন্দীর বন্দনা
উত্তরঃ (ক) কুয়োতলা।
৫. শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের একটি উল্লেখযোগ্য কাব্য হলো—
(ক) কলকাতার যীশু
(খ) সাতটি তারার তিমির
(গ) হেমন্তের অরণ্যে আমি পোস্টম্যান
(ঘ) যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল
উত্তরঃ (গ) হেমন্তের অরণ্যে আমি পোস্টম্যান।
৬. শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ হল—
(ক) সোনার মাছি খুন করেছি
(খ) যেতে পারি কিন্তু কেন যাব
(গ) হে প্রেম, হে নৈঃশব্দ্য
(ঘ) রূপসী বাংলা
উত্তরঃ (গ) হে প্রেম, হে নৈঃশব্দ্য
৭. শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের নাম—
(ক) শ্বাশ্বতী
(খ) হাওয়ার গান
(গ) সোনার মাছি খুন করেছি
(ঘ) অর্ন্তনিহিত
উত্তরঃ (গ) সোনার মাছি খুন করেছি।
৮. কার সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ‘যম’ কবিতাটি প্রকাশিত হয় ?
(ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
(খ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
(গ) বুদ্ধদেব বসু
(ঘ) বিষ্ণু দে
উত্তরঃ (গ) বুদ্ধদেব বসু।
৯. শক্তি চট্টোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন কোথায় ?
(ক) নদিয়ায়
(খ) দক্ষিণ ২৪ পরগনার বহড়ু গ্রামে
(গ) চব্বিশ পরগনার কাঁঠালপাড়া
(ঘ) পুরুলিয়ার বলরামপুর
উত্তরঃ (খ) দক্ষিণ ২৪ পরগনার বহড়ু গ্রামে।
১০. শক্তি চট্টোপাধ্যায় কোন পত্রিকার সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন ?
(ক) উল্টো রথ
(খ) নব কল্লোল
(গ) কৃত্তিবাস
(ঘ) প্রসাদ
উত্তরঃ (গ) কৃত্তিবাস।
১১. “তোমাকে সেই সকাল থেকে _______
মতো মনে পড়ছে”— কার মতো ?
(ক) প্রতিবেশীর মতো
(খ) তোমার মতো
(গ) তাদের মতো
(ঘ) বন্ধুর মতো
উত্তরঃ (খ) তোমার মতো।
১২. কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় কলকাতায় কখন থেকে বসবাস শুরু করেন ?
(ক) ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে থেকে
(খ) ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে
(গ) ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে থেকে
(ঘ) ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে
উত্তরঃ (ক)১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে থেকে
2. দাঁড়াও কবিতায় দাঁড়াও শব্দটি মোট –
(ক) ৮
(খ) ৯
(গ) ১০
(ঘ) ১১ বার পাওয়া যায়
উত্তর – (খ) ৯ বার পাওয়া যায় ।
3. কবি মানুষকে মানুষ হয়ে
(ক) মৌমাছির
(খ) পাখির
(গ) প্রজাপতির
(ঘ) হাতির মতো পাশে দাঁড়াতে বলেছেন
উত্তর – (খ) পাখির তো পাশে দাঁড়াতে বলেছেন।
4. কবির মতে, মানুষ আজ বড়ো –
(ক) নিঃসঙ্গ
(খ) একাকী
(গ) একলা
(ঘ) নীরব
উত্তর – (গ) একলা।
5. কবি মানুষকে মানুষ হয়ে (ক) মৌমাছির (খ) পাখির (গ) প্রজাপতির (ঘ) হাতির মতো পাশে দাঁড়াতে বলেছেন
উত্তর – কবি মানুষকে মানুষ হয়ে (খ) পাখির তো পাশে দাঁড়াতে বলেছেন।
6. কবির মতে, মানুষ আজ বড়ো – (ক) নিঃসঙ্গ (খ) একাকী (গ) একলা (ঘ) নীরব
উত্তর – কবির মতে, মানুষ আজ বড়ো (গ) একলা।
7. তোমাকে সেই সকাল থেকে (ক) বন্ধুর (খ) মানুষের (গ) নিজের (ঘ) তোমার মতো মনে পড়ছে
উত্তর – তোমাকে সেই সকাল থেকে (ঘ) তোমার মতো মনে পড়ছে।
8. দাঁড়াও কবিতায় দাঁড়াও শব্দটি মোট – (ক) ৮ (খ) ৯ (গ) ১০ (ঘ) ১১ বার পাওয়া যায়
উত্তর – দাঁড়াও কবিতায় দাঁড়াও শব্দটি মোট (খ) ৯ বার পাওয়া যায় ।
সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ)
১)শক্তি চট্টোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন কোথায়?
ক) নদিয়ার ঘূর্ণি
খ) চব্বিশ পরগনার কাঁঠালপাড়া
গ) দক্ষিণ ২৪ পরগনার বহুডু গ্রাম
ঘ) পুরুলিয়ার বলরামপুর
উত্তর:(গ) দক্ষিণ ২৪ পরগনার বহুডু গ্রাম
২)শক্তি চট্টোপাধ্যায় মূলত-
ক) কবি
খ) নাট্যকার
গ)প্রাবন্ধিক
উত্তর:(ক) কবি
৩)দাঁড়াও’ কবিতাটিতে কবি কার পাশে দাঁড়াতে বলেছেন?
ক) মানুষের
খ) বন্যের
গ) ঈশ্বরের
ঘ) বন্ধুর
উত্তর:(ক) মানুষের
৪)দাঁড়াও’ কবিতাটির রচয়িতা হলেন-
ক) শক্তি চট্টোপাধ্যায়
খ)সুভাষ মুখোপাধ্যায়
গ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ঘ) সমর সেন
উত্তর:(ক) শক্তি চট্টোপাধ্যায়
৫)শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ হল-
ক) সোনার মাছি খুন করেছি
খ) রূপসী বাংলা
গ) যেতে পারি কিন্তু কেন যাব
ঘ) হে প্রেম, হে নৈঃশব্দ্য
উত্তর:(ঘ) হে প্রেম, হে নৈঃশব্দ্য
৬)‘দাঁড়াও’ কবিতাটির উৎস কী?
ক) যেতে পারি কিন্তু কেন যাব
খ) হে প্রেম, হে নৈঃশব্দ্য
গ) শ্রেষ্ঠ কবিতা
ঘ) জ্বলন্ত রুমাল
উত্তর:(গ) শ্রেষ্ঠ কবিতা

