কোনও কোনও স্কুল নাকি এখনও খোলা। সেটা কি করা যায়? পুজোর ছুটি এগিয়ে আসা এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতির স্বরূপ ও স্কুল কর্তৃপক্ষের করণীয়। – 

———————————————————————————————————-
POSTED 25TH SEPTEMBER,2025

১) মোট 65 টি ছুটি, বোর্ডের মডেল ছুটির লিস্ট, স্কুল কর্তৃপক্ষের হাতে নিজেদের মতো ছুটি প্ল্যানিং করার ক্ষমতা, এসব এখন অর্থহীন হয়ে গেছে।

 

২) প্রথম গোলমাল শুরু করেছে বোর্ড। মডেল ছুটির লিস্ট যেদিন থেকে দিতে শুরু করেছে সেদিন থেকে। যদি স্কুল তার এলাকাগত পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে ছুটি দিতেই পারে তাহলে আবার একটা মডেল লিস্ট কীসের জন্য দেওয়া ? এসব তো আগে কখনও ছিল না। আগে শুধু বছরে মোট ছুটি কত সেটা বলে দেওয়া হতো। স্কুল তার মধ্যে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ছুটির লিস্ট করত। এটাই ঠিক ছিল। মডেলের কী দরকার ? যখন মডেল মেনে চলার দায় না আছে স্কুলের না আছে ডিপার্টমেন্টের।

৩) অতিরিক্ত গরম পড়লে অতিরিক্ত ছুটি, অতিরিক্ত বৃষ্টি পড়লে অতিরিক্ত ছুটি, ভোট বা উৎসব পড়লে অতিরিক্ত ছুটি, দুঃখ ঝরে ঝরে পড়লে অতিরিক্ত ছুটি, অন্য কিছুর ক্ষতিপূরণ হিসেবে অতিরিক্ত ছুটি, এসব করতে করতে মডেল ছুটির লিস্ট আর স্কুলের নিজের লিস্ট প্রায় ক্ষ্যাপা হয়ে যাওয়ার জোগাড়। সবচেয়ে বড় কথা বলে রেখেছেন মোট ছুটি 65। অথচ পরবর্তীতে ঘোষিত বিশেষ ছুটি যে 65 টি ছুটির বাইরে অতিরিক্ত বলে বিবেচিত হবে সেটা কোথাও বলছেন না। ফলে বিভিন্ন স্কুলে বিভিন্ন রকম সমস্যা হচ্ছে। এটা নিয়ে স্কুলে স্কুলে প্রায় সিরিয়ালের শাশুড়ি বৌমার লেভেলের ঝগড়া চলছে।

৪) সবাইকে এত কষ্ট না দিয়ে নিজেরাও এত কষ্ট না নিয়ে স্কুল এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট নিজেরাই একটা ছুটির লিস্ট করে দিক। হ্যাঁ, ঢং করে মডেল ফডেল না বলে Compulsory Holiday List করে দিক। প্রয়োজনে রাজ্যের এলাকা ভেদে আলাদা আলাদা। কিন্তু সেটা পরিবর্তন করার ক্ষমতা বোর্ড বা স্কুল কর্তৃপক্ষের হাতে রাখার দরকার নেই। মোট বার্ষিক ছুটির সংখ্যা বেঁধে দেওয়ারও দরকার নেই। সরকারি কর্মচারীদের যেমন প্রতি বছর ক্যালেন্ডার ধরে ছুটির লিস্ট দিয়ে দেওয়া হয় সেরকম দিয়ে দিক। সেটাতে কোনো বছরে মোট ছুটির সংখ্যা বিগত বছরের চেয়ে বাড়তে বা কমতে পারে। তারপরেও এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করলে করুক। সেটাই সব স্কুল মেনে চলবে। স্কুল ভেদে আলাদা কিছু হবে না। এতে বিভ্রান্তি থেকে স্কুলগুলো বাঁচবে।

৫) এবার 24 তারিখ থেকে পুজোর ছুটি এগিয়ে আসার অর্ডার জারি হওয়ার পর থেকে শুরু হয়েছে আর এক প্রস্থ নাটক। এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট 24 তারিখ থেকে পুজোর ছুটি এগিয়ে দিয়েছে। বেচারা বোর্ডের কিছু করার নেই। নিজের মডেল নিজেই ভুলে মেরে দিয়ে সেও একই অর্ডার জারি করে দিয়েছে। কিন্তু এর পরেও অনেক স্কুল সেটা মানছে না। তাদের অনেক পূর্ব নির্ধারিত প্রোগ্রাম থাকায় তারা 24, 25 এমনকি কোনো কোনো স্কুল 26 তারিখেও খোলা রাখছে। তাদের যুক্তি বোর্ডের ছুটির লিস্ট একটা মডেল মাত্র। তাই তারা সেটা পরিবর্তন করতেই পারেন। ঠিকই। কিন্তু তাঁদের জন্য বলি মনে রাখবেন এই অতিরিক্ত ছুটির আদেশ বা ছুটি আগে শুরু করা বা পরেও চালিয়ে যাওয়ার অর্ডার যখন স্কুল এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট দেয় তখন কিন্তু ব্যাপারটা আর মডেল বা ঐচ্ছিক থাকে না। সেটা হয়ে যায় কম্পালসরি। এটাও ভালো করে জেনে রাখুন স্কুল এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট হচ্ছে বোর্ডের বাবা। বোর্ড নামেই স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা। আসলে এটার নিজের কোনো ক্ষমতাই নেই। স্কুল এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট অর্থাৎ সরকার যা বলবে তাই করবে বোর্ড। WBBSE Act, 1963 তেই সেই ব্যবস্থা করা ছিল। এখনও আছে। তাই স্কুল এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট ছুটি সংক্রান্ত কোনও অর্ডার দিলেই বোর্ড প্রায় সেটাকেই কপি পেস্ট মেরে দিয়ে একটা অর্ডার জারি করে দিতে বাধ্য হয়। তখন ওসব মডেল ফডেল কোথায় উড়ে যায়। এই অতিরিক্ত ছুটি বা ছুটি এগিয়ে পিছিয়ে আনার অর্ডারে কোথাও লেখা থাকে না যে এটা স্কুলের ইচ্ছাধীন। এটা পরিষ্কার ভাবেই স্কুলের জন্য বাধ্যতামূলক। তাই 24 তারিখের পর আইনত স্কুল খুলে রাখতে পারে না স্কুল কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনে সমস্ত পূর্ব নির্ধারিত প্রোগ্রাম বাতিল করেও স্কুল বন্ধ রাখতে হবে। নাহলে যে কোনও সময় একটি সুন্দর মতো বংশ দণ্ড আকর্ষণ করতে পারে স্কুল কর্তৃপক্ষকে। বিশেষ করে হেডমাষ্টারকে।

 

SOURCE-SMR

©kamaleshforeducation.in(2023)

 

error: Content is protected !!
Scroll to Top