সুভাষ মুখোপাধ্যায় (১৯১৯-২০০৩) : বাংলা কবিতায় এক উল্লেখযোগ্য নাম কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়। ১৯৪০ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ পদাতিক প্রকাশিত হয়। তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে অগ্নিকোণ, চিরকুট, ফুল ফুটুক, যত দূরেই যাই, কাল মধুমাস, ছেলে গেছে বনে, জল সইতে, প্রভৃতি। তিনি হাফিজ, নাজিম হিকমত ও পাবলো নেরুদার কবিতা অনুবাদ করেছেন। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি জ্ঞানপীঠ পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর গদ্য রচনার দৃষ্টান্ত কাঁচা-পাকা, ঢোল গোবিন্দের আত্মদর্শন প্রভৃতি গ্রন্থে ছড়িয়ে রয়েছে। পাঠ্য রচনাংশটি তাঁর নারদের ডায়েরি নামক বইয়ের মরশুমের দিনে রচনার অংশবিশেষ।
খ। উৎস:
পদাতিক কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের রচিত ‘নারদের ডাইরি, থেকে ‘মরসুমের দিনে,শীর্ষক রচনাটি নেওয়া হয়েছে।
গ। বিষয়সংক্ষেপ:
‘মরশুমের দিনে’ গদ্যাংশটিতে কৃষি কাজকে কেন্দ্র করে বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য এবং ঋতু উদ্যাপন উৎসবের ছবি বর্ণনা করা হয়েছে। আর এর মধ্য দিয়ে বাংলায় কৃষিকাজের গুরুত্ব এবং বাংলার লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্য সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
রচনার শুরুতেই গ্রাম বা মফস্সলের সঙ্গে শহরের যে গভীর যোগাযোগ, তা বাস-ডিপোয় অপেক্ষা করে থাকা যাত্রীদের কথা তুলে ধরার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে । এরপর গ্রামের প্রসঙ্গে উঠে আসে গ্রামের পালা-পার্বণের কথা, যার পিছনে রয়েছে কৃষিকাজ। ধান কাটার ভিত্তিতেই গ্রামে ঋতুর হিসাব রাখা হয়। বর্ষায় কৃষিকাজ শুরু হত বলে ‘বর্ষ’ বা বছর কথাটি প্রচলিত হয়। অতীতে ফসল পাকা ও কাটার বিচারে অগ্রহায়ণ মাসে শুরু হত বছর। এমনই
ছোটো ছোটো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য জানিয়ে বাংলার ঋতুচক্রে কৃষির প্রভাব আলোচনা করেছেন সুভাষ মুখোপাধ্যায়। গ্রীষ্মে বাতাস আগুনের মতো গরম হয়ে ওঠে, রাস্তায়
মরীচিকা দেখা যায়। শরতে নীল আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের আনাগোনা চলতে থাকে। ধানের ওপর ঢেউ খেলে যায় বাতাস। ধানকাটার পর সুন্দর নীল আকাশ দেখায় তামার হাঁড়ির মতো
সৌন্দর্যহীন। তখন নদী-পুকুর-খাল-বিল শুকিয়ে চারিদিকে শুরু হয় জলের হাহাকার। ফলে, বৃষ্টির কামনায় গভীর বিশ্বাস ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হয় বসুধারা বা ক্ষেত্রব্রত-র মতো প্রাচীন ব্রত। কোথাও বা কিশোরীর দল ‘মেঘারানির কুলো’ নামাবার প্রথা পালনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। দল বেঁধে তারা বাড়ি বাড়ি গান গেয়ে মেঘকে নানা প্রলোভন দেখায়। এত প্রচেষ্টার পর মেঘের ঘুম ভাঙে। আকাশ কালো করে হুড়মুড়িয়ে বৃষ্টি নামে। চাষির মুখে হাসি ফোটে।
ছেলের দল মহানন্দে আম কুড়োতে ছোটে। বৃষ্টি মাথায় করেই কৃষক ধান বোনা, আল বাঁধার কাজ শুরু করে। এরপর বর্ষাশেষে শুরু হয় ধান কাটার অধীর অপেক্ষায় দিন গোনা। এই সময় মেয়েরা ভাদুলি ব্রত উদ্যাপন করে। এই ভাদুলি ব্রত উদযাপনের মধ্য দিয়ে প্রাচীন বাংলার বাণিজ্যের ইতিহাস যেমন জানা যায়, তেমনই জানা যায় অন্দরমহলের মেয়েদের কথা—যারা দুরুদুরু বুকে প্রিয়জনদের ফেরার অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে থাকত। আলোচ্য গদ্যাংশে কৃষিপ্রধান বাংলার বিভিন্ন মরশুমের বর্ণনা পাওয়া যায়। বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতির পাশাপাশি বাংলার নারীদের কল্যাণময়ী রূপটিও অপূর্ব দক্ষতার সঙ্গে এই
গদ্যে তুলে ধরা হয়েছে।
ঘ। নামকরণ:
সাহিত্যের যে-কোনো শাখার মতো প্রবন্ধ বা নিবন্ধের ক্ষেত্রেও নামকরণের একটি বিশেষ ভূমিকা আছে। নামকরণ অর্থাৎ রচনার শিরোনাম নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রচনাটি সম্পর্কে পাঠকের মনে একটি ধারণা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের লেখা ‘মরশুমের দিনে’ গদ্যাংশটিতে বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য ও কৃষিকাজকে কেন্দ্র করে ঋতু উদ্যাপনের চিত্র ফুটে উঠেছে। বর্ষাই এখানে প্রধান ঋতু বা মরশুম। প্রায় সমগ্র রচনাটিতে একটি বিশেষ মরশুম অর্থাৎ বর্ষা ঋতু এবং বর্ষা সম্পর্কিত বাংলার লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয়েছে।
তাই বলা যায়, গদ্যাংশটির নামকরণ সার্থক ও যথাযথ হয়েছে।
ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো: (M.C.Q)
১)’দিব তোমার মাথায় ছাতি।’–কী বেচে ?
ক) দুল
খ) নোলক
গ) চুড়ি
ঘ) মল
উত্তর:(খ) নোলক
২)বৃষ্টির অভাবে কোথাও কোথাও কোন্ প্রথা প্রচলিত রয়েছে?
ক)মেঘারানির কুলো নামাবার প্রথা
খ) বৃষ্টিরানির প্রথা
গ) বর্ষারানির প্রথা
ঘ) শরৎরানির প্রথা
উত্তর:(ক) মেঘারানীর কুলো নামাবার প্রথা
৩) বসুধারা ব্রত পালন করা হয়—
ক) আকাশের জল চেয়ে
খ) নদীর জল চেয়ে
গ) মাটির নীচের জল চেয়ে
ঘ)পুকুরের জল চেয়ে
উত্তর:(ক) আকাশের জল চেয়ে
৪)প্রধানত যে ব্রতের ক্ষেত্রে বুড়িদেরই কেউ মূলব্রতী হয়, তা হল-
ক) বসুধারা ব্রত
খ) ভাদুলি ব্ৰত
গ) ক্ষেত্ৰব্ৰত
ঘ) পুণ্যিপুকুর ব্রত
উত্তর:(খ) ভাদুনি ব্রত
৫) মেঘারানীর কুলো নামাবার প্রথা পালনের জন্য প্রয়োজন-
ক) কুলো আর পান
খ) কুলো আর সুপারি
গ) কুলো আর জল ঘাট
ঘ) কুলো আর তেল- সিঁন্দুর
উত্তর:(গ) কুলো আর জল ঘট
মরশুমের দিনে গল্প
সপ্তম শ্রেণি বাংলা |
অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর
• সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো।
১. অগ্রহায়ণ বলতে বোঝায়—(বছরের শেষ / বছরের শুরু / বছরের মাঝামাঝি)।
১.১ সুভাষ মুখােপাধ্যায়ের লেখা প্রথম কাব্যগ্রন্থটির নাম কী ?
উত্তরঃ সুভাষ মুখােপাধ্যায়ের লেখা প্রথম কাব্যগ্রন্থটির নাম ‘পদাতিক’।
১.২ তার লেখা একটি গদ্যের বইয়ের নাম লেখো।
উত্তরঃ তার লেখা একটি গদ্যের বইয়ের নাম ‘কাচা-পাকা’।
২। নীচের প্রশ্নগুলির একটি বাক্যে উত্তর দাও :
২.২ ধান শব্দটি কোন শব্দ থেকে এসেছে ?
উত্তরঃ ধান শব্দটি সংস্কৃত শব্দ ধান্য থেকে এসেছে।
২.২ অগ্রহায়ণ বলতে কী বােঝায় ?
উত্তরঃ অগ্রহায়ণ কথার অর্থ হল বছরের শুরু।
২.৩ এদেশের সমস্ত পালাপার্বণ, আনন্দ-উৎসব—এসবের মূলে কী রয়েছে ?
উত্তরঃ এদেশের সমস্ত পালাপার্বণ, আনন্দ-উৎসব এসবের মূলে আছে চাষবাস।
২.৪ বসুধারা ব্রত কোন্ ঋতুতে হয় ?
উত্তরঃ বসুধারা ব্ৰত এদেশে গ্রীষ্ম ঋতুতে হয়।
২.৫ মেঘকে নামাবার জন্য মেয়েরা দল বেঁধে ছড়া করে তাকে কী কী নামে ডাকে ?
উত্তরঃ মেঘকে নামাবার জন্য মেয়েরা দল বেঁধে ছড়া করে কালাে মেঘা, ফুলতােলা মেঘা, ধুলােট মেঘা, আড়িয়া মেঘা, হাড়িয়া মেঘা, কুড়িয়া মেঘা ইত্যাদি নাম ডাকে।
» মরীচিকা : দিনেরবেলা মরুভূমিতে দূর থেকে দেখলে যেন মনে হয় ওখানে জল আছে। সূর্যের আলাে পড়ে বালি চকচক করলে জল ভেবে ভুল হয়। যতই এগিয়ে যাওয়া যায় ওই জলস্থান দূরে সরে চলে যায়। কখনও ওর নাগাল পাওয়া যায় না। মরুভূমিতে ওই জলের ভ্রান্ত ধারণাকে মরীচিকা বলা হয়।
» বসুধারা ব্রত : গরমে যখন নদী, খাল-বিল, শুকিয়ে যায়, চারিদিকে জলের জন্য হাহাকার পড়ে যায়। মানুষ যখন ছায়া খোঁজে তখন আকাশের কাছে জল চেয়ে বসুধারা ব্রত পালন করা হয়। এই ব্রতে মাটির নতুন ঘট প্রয়োজন, ঘট ফুটো করার জন্য ছুঁচোলাে লােহা, আটটা টাটকা ফুল, আটটা ফল এবং বট-আম-পাকুড়ের তিনটি ডাল ও চালের গুঁড়াের পিটুলি লাগে।
» মেঘরানির কুলাে : বৃষ্টির অভাব দেখা দিলে ‘মেঘরানির কুলাে’ নামাবার প্রথা আছে। কুলাে, জল ঘট নিয়ে চাষি ঘরের অল্পবয়সি মেয়েরা দলে দলে পাড়ায় বেরিয়ে পড়ে। বাড়ি বাড়ি ঘুরে গান গায়। বাড়ি বাড়ি গান গেয়ে তারা চাল, তেল, সিঁদুর পায়, কখনও দু চারটে পয়সা আর পান সুপারি পায়। দল বেঁধে তারা গায়।
» ভাদুলি : বর্ষার শেষাশেষি মেয়েরা করে ভাদুলি ব্রত। মাটিতে আঁকে আল্পনা ; সাতসমুদ্র তেরাে নদী, নদীর চড়া, কাটার পূর্বত, বন, তেল, বাঘ, মােষ, কাক, বক, তালগাছে বাবুইয়ের বাসা। এ ব্রত সেই দিনের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন এদেশে সওদাগররা সাতডিঙা ভাসিয়ে সমুদ্রে বাণিজ্যে যেত। ব্রতের ছড়ায় আজও সে ছবি ধরা আছে।
১১। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখাে :
১১.১ বাস-ডিপোয় অপেক্ষামান যাত্রীদের ছবি কীভাবে পাঠাংশে ধরা পড়েছে ?
উত্তরঃ বাস-ডিপােয় বাস দাঁড়িয়ে আছে। যাত্রীরা বাসের ভিতরে নিজের নিজের জায়গায় হাতের জিনিস রেখে অনেকেই বাইরে এসে দাঁড়িয়েছে। চায়ের দোকানে বসে থাকা ড্রাইভারের দিকে নজর রেখে যাত্রীর দল কাছে পিঠে ঘুরতে থাকে।
১১.২ গ্রামের সঙ্গে শহরের যে এখনও নাড়ির টান’–এই নাড়ির টানের প্রসঙ্গ রচনাংশে কীভাবে এসেছে ?
উত্তরঃ মাঠে ফসল উঠলে বাসে ভিড় হয়। লােকে মেয়ে দেখতে, পুজো দিতে এখানে সেখানে যায়। জিনিস কিনতে, সিনেমা দেখতে, মামলার তদবির-তদারকি করতে শহরে যায়। উকিল-মােক্তার, বামুন-পুরুত, দরজি-দোকানি দুটো পয়সার মুখ দেখে। এইভাবেই গ্রামের সঙ্গে শহরের নাড়ির টানের প্রসঙ্গ এসেছে।
১১.৩ ‘ধানের সবচেয়ে বড়াে বন্ধু বৃষ্টি’— বৃষ্টির সময়ে ধানখেতের ছবিটি কেমন ? অন্য যে যে সময়ে ধান চাষ হয়ে থাকে, তা লেখাে।
উত্তরঃ বৃষ্টি পড়লে ধানগাছের আনন্দের সীমা থাকে না। গাছগুলাে বৃষ্টির জল পেয়ে বাড়তে থাকে। ধানখেত সবুজ বর্ণ ধারণ করে। সবুজ ধানগাছগুলি হাওয়ায় দুলতে থাকে, মাথা নুয়ে পড়ে। ধানগাছের সবুজ বর্ণ দেখে কৃষকের হৃদয় আনন্দে ভরে ওঠে।
বর্ষাকাল ছাড়াও গ্রীষ্মে আউশ ধান এবং শীতে বােরাে ধানের চাষ হয়ে থাকে।
১১.৪ ‘আগে বছর আরম্ভ হতো অগ্রহায়ণে’— এর সম্ভাব্য কারণ কী ?
উত্তরঃ আগে বছর আরম্ভ হত অগ্রহায়ণে। হায়ণ মানে বছর। অগ্রহায়ণ মানে বছরের গােড়া। হায়ণ কথাটার আর এক মানে ফসল। মানুষ বছরের শুরুতে সৌভাগ্য কামনা করত বলে বছর অগ্রহায়ণ মাসে শুরু হত।
১১.৫ ‘এদেশের যত পালা-পার্বণ, উৎসব-আনন্দ, সবকিছুরই মূলে রয়েছে চাষবাস।’— বাংলার উৎসব-খাদ্য-সংস্কৃতির সঙ্গে চাষবাস কতটা জড়িত বলে তুমি মনে করাে ?
উত্তরঃ বাংলা কৃষিপ্রধান দেশ। অধিকাংশ বাঙালি পরিবার কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। কৃষিজাত ফসল বিক্রি করে তারা তাদের প্রয়ােজনীয় সামগ্রী কেনে। তাদের জীবিকা নির্বাহ মূলত কৃষিজ ফসল উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। তাদের খাদ্য-সংস্কৃতির ধারা অর্থের উপর নির্ভরশীল। তাই বাংলার যত পালা-পার্বণ, উৎসব-আনন্দ, সবকিছুর মূলে রয়েছে চাষবাস।
১১.৬ ‘শহর ছাড়লেই দু-পাশে দেখা যাবে’— শহরের চিত্রটি কেমন ? তা ছাড়িয়ে গেলে কোন দৃশ্য দেখা যাবে ?
উত্তরঃ গ্রাম অপেক্ষা শহর অনেক উন্নত জায়গা। সেখানে বড়াে-বড়াে বাড়ি, অফিস-আদালত, কোর্ট-কাছারি, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, বড়াে বড়াে পাকা রাস্তা থাকে। নানারকম যানবাহন চলাচল করে। যােগাযােগ ব্যবস্থা বেশ উন্নত। শহর ছাড়লেই দু-পাশে দেখা যাবে মাথার ওপর দরাজ আকাশ। রাস্তার দুধারে বট, পাকুড়, শাল,সেগুনের গাছ। তার ডালে দৃষ্টি মাঝে মাঝে আটকে যাবে। কালাে কুচকুচে বাঁকানাে রাস্তা! মাঝে মাঝে বাঁক নিয়ে সােজা সামনে চলে গেছে।
১১.৭ ‘এই রাস্তার ওপরই এক ভারি মজার দৃশ্য দেখা যায়’—মজার দৃশ্যটি কেমন, তা নিজের ভাষায় লেখাে৷
উত্তরঃ গরমকালে চারিদিকে যখন প্রচণ্ড দাবদাহ তখন রাস্তার ওপর দিয়ে চলতে গেলে দূরে তাকিয়ে মনে হয় যেন জল চিকচিক করছে। আর সেই জলে উলটো হয়ে পড়েছে দু-পাশের গাছের ছায়া। কাছে এগিয়ে গেলে কোথাও জল বা গাছের ছায়া দেখা যাবে না। তা ঠিক মরুভূমির মরীচিকার মতাে যা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।।
১১.৮ ‘ব্রতের ভিতর দিয়ে মনে পড়ে যায় সেই আপনজনদের কথা, যারা দূরে আছে’—শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্য নিয়ে এমনই কিছু ব্ৰত’র ছড়া খাতায় সংগ্রহ করাে।
উত্তরঃ নিজে করাে।
১১.৯ বিভিন্ন ঋতু বিষয়ক প্রচলিত ছড়া আর ছবি সাজিয়ে নিজেরা লিখে বিদ্যালয়ে একটি দেয়াল পত্রিকা তৈরি করাে।
উত্তরঃ নিজে করাে।
১১.১০ ‘ধান কাটার পর একেবারে আলাদা দৃশ্য’—এই দৃশ্যে কোন্ ঋতুর ছবি ফুটে উঠেছে ? সেই ঋতু সম্পর্কে কয়েকটি বাক্যে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করাে।
উত্তরঃ এই দৃশ্যে গ্রীষ্ম ঋতুর ছবি ফুটে উঠেছে।
*বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাস গ্রীষ্ম ঋতু। প্রকৃতির বুকে দাবদাহ চলতে থাকে। মাঠ-ঘাট রুক্ষ। মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায়। নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর-ডােবা সব শুকিয়ে যায়। চারিদিকে জলের জন্য হাহাকার পড়ে যায়। মানুষ, জীবজন্তু গরমে হাসফাস করতে থাকে। মাঝে মাঝে আকাশ থেকে যেন আগুন ঝরে পড়ে। গাছপালা সব ঝলসে যায়। লােকজন ছায়া খুঁজে বেড়ায়। লােকের পায়ে চলা রাস্তা যাবে বট-অশ্বথের তলা দিয়ে, আম-কাঁঠালের ছায়ার ভিতর দিয়ে। প্রকৃতি ভয়ংকর রূপ ধারণ করে।