Madhyamik Geography
Question Paper 2026:
মাধ্যমিক ভূগোল প্রশ্নপত্র 2026! উত্তর সহ
Published on:
Madhyamik Geography Question Paper 2026: আজ ৭ই ফেব্রুয়ারি (শনিবার) ছিল চলতি বছরে মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার চতুর্থ দিন, পরীক্ষা ছিল ভূগোল বিষয়ের। সকাল ১০:৪৫ থেকে পরীক্ষা শুরু হয়েছিল এবং পরীক্ষার নির্ধারিত সময় ৩ ঘন্টা ১৫ মিনিট পরে দুপুর ২:০০ তে পরীক্ষা স্বাভাবিকভাবেই সমাপ্ত হয়েছে।
মাধ্যমিক ভূগোল প্রশ্নপত্র ২০২৬ |
|
|---|---|
বিষয় |
ভূগোল (Geography) |
তারিখ |
৭ ফেব্রুয়ারি, শনিবার (7th February, Saturday) |
পরীক্ষা সমাপ্ত হওয়ার পর পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্রটি সংগ্রহ করেছি। যে সমস্ত পরীক্ষার্থীরামাধ্যমিক 2027 পরীক্ষা দিতে চলেছে অথবা পরবর্তী বছরে যে সকল ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষা দেবে তাদের জন্য অবশ্যই প্রশ্নপত্রটা সংগ্রহ করা বাঞ্ছনীয়। যেখান থেকে তারা পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের প্যাটার্ন/কাঠামো, নম্বর বিভাজন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়ে যাবে ।
মাধ্যমিক ভূগোল প্রশ্নপত্র ২০২৬
(Madhyamik Geography Question Paper 2026)
এই পোস্টে মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার্থীদের জন্য ভূগোল বিষয়ের প্রশ্নপত্রে আসা সংক্ষিপ্ত/ছোট/শর্টপ্রশ্নগুলোর নমুনা উত্তর শেয়ার করা হচ্ছে। পরীক্ষার্থীরা তাদের পরীক্ষার খাতায় লেখা উত্তরগুলোর সঙ্গে এই নমুনা উত্তর মিলিয়ে দেখে সহজেই বুঝতে পারবে কোন কোন প্রশ্নের উত্তর সঠিক হয়েছে এবং কোথায় ভুল হয়েছে। এবং তাদের পরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কে কিছুটা অনুমান করতে পারবে।
সকল পরীক্ষার্থীর জন্য বিশেষ বার্তা,পরীক্ষাতে যদি কোন প্রশ্নের উত্তর ভুল হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে সেটা নিয়ে বেশি চিন্তা না করে পরবর্তী পরীক্ষাগুলোর দিকে মন দিতে হবে! যেটা চলে গেছে সেটা ফিরে পাবে না কিন্তু যেটা আসেনি সেটাকে নিজের মতো করে তৈরি করতে পারবে।
সুবিধার জন্য নিচে ভূগোল বিষয়ের শুধুমাত্র বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) এবং সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (SAQ)–গুলোর উত্তর দেওয়া হয়েছে। সদ্যাগত পরীক্ষার্থীদের কাছে অনুরোধ, অবশ্যই একবার নিজের করা উত্তরগুলোর সঙ্গে এগুলো মিলিয়ে দেখে নাও!
বিভাগ — ‘ক’
১. বিকল্পগুলির থেকে সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে লেখো : (১ x ১৪ = ১৪)
-
১.১ বহির্জাত শক্তির মূল উৎস হ’ল —
-
উত্তর: (খ) সৌর শক্তি
-
-
১.২ পার্বত্য হিমবাহের পৃষ্ঠদেশে সৃষ্ট গভীর ফাটলগুলিকে বলে —
-
উত্তর: (ক) ক্রেভাস
-
-
১.৩ হেটেরোস্ফিয়ারের প্রথম উপস্তরটি হ’ল —
-
উত্তর: (ঘ) পারমাণবিক অক্সিজেন স্তর (বিঃদ্রঃ: উচ্চতা অনুযায়ী নিচ থেকে উপরে আণবিক নাইট্রোজেন স্তর প্রথম হলেও, হেটেরোস্ফিয়ারের মূল উপস্তরগুলোর বিন্যাসে এটি গুরুত্বপূর্ণ।)
-
-
১.৪ আল্পস পর্বতের উত্তর ঢালে যে স্থানীয় বায়ুপ্রবাহের ফলে বরফ গলে যায়, তা হ’ল —
-
উত্তর: (ঘ) ফন
-
-
১.৫ ‘শৈবাল সাগর’ দেখা যায় —
-
উত্তর: (ক) আটলান্টিক মহাসাগরে
-
-
১.৬ পৃথিবীর উপর চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষীয় আকর্ষণের কারণে সমুদ্র জলতলের নিয়মিত উত্থান ও পতন-কে বলা হয় —
-
উত্তর: (ঘ) জোয়ারভাটা
-
-
১.৭ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিম্নলিখিতটি 3R এর অন্তর্ভুক্ত নয় —
-
উত্তর: (খ) পুনর্বিন্যাস (সঠিক ৩টি হলো: Reduce, Reuse, Recycle)
-
-
১.৮ অন্ধ্রপ্রদেশের বর্তমান রাজধানীর নাম হ’ল —
-
উত্তর: (গ) অমরাবতী
-
-
১.৯ কাশ্মীরে অবস্থিত হিমালয়ের পর্বতমালাটি হ’ল —
-
উত্তর: (ক) জাস্কার
-
-
১.১০ স্বাধীন ভারতের প্রথম বহুমুখী নদী পরিকল্পনা হ’ল —
-
উত্তর: (গ) দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনা (DVC)
-
-
১.১১ ভারতে শুদ্ধ গ্রীষ্মকালে যে ফসলের চাষ করা হয় তাকে বলে —
-
উত্তর: (ঘ) জায়িদ ফসল
-
-
১.১২ ভারতের ভারী ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের একটি উদাহরণ হ’ল —
-
উত্তর: (খ) রেলইঞ্জিন শিল্প
-
-
১.১৩ ছত্রপতি শিবাজী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবস্থিত —
-
উত্তর: (ক) মুম্বইতে
-
-
১.১৪ উপগ্রহ চিত্রে গভীর অরণ্য যে রং-এর সাহায্যে দেখানো হয় —
-
উত্তর: (ঘ) গাঢ় লাল
-
বিভাগ — ‘খ’
২.১ নিম্নলিখিত বাক্যগুলি শুদ্ধ হলে পাশে ‘শু’ এবং অশুদ্ধ হলে পাশে ‘অ’ লেখো (যেকোনো ছয়টি) :
-
২.১.১ বিজ্ঞানী ব্যাগনল্ড তির্যক বালিয়াড়িকে ‘বার্খান’ নামকরণ করেছেন। —শু
-
২.১.২ মেসোস্ফিয়ার স্তরে উষ্ণতা বৃদ্ধি উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে হয়। — অ (উচ্চতা বৃদ্ধিতে উষ্ণতা হ্রাস পায়)
-
২.১.৩ জেট বায়ু জিওস্ট্রপিক বায়ুর একটি উদাহরণ। —শু
-
২.১.৪ পৃথিবীর সাপেক্ষে সূর্য ও চন্দ্রের সমকোণিক অবস্থানকে সিজিগি বলে। — অ(এটি ‘কোয়াড্রেচার’ বা সমকোণিক অবস্থান, সিজিগি হলো একরেখীয় অবস্থান)
-
২.১.৫ ভারতের সর্বনিম্ন জনবহুল রাজ্য হ’ল গোয়া। —অ(সঠিক উত্তর: সিকিম)
-
২.১.৬ উপকূল অঞ্চলে লবণাক্ত মৃত্তিকায় ম্যানগ্রোভ অরণ্য গড়ে ওঠে। — শু
-
২.১.৭ উপগ্রহ চিত্রগুলি স্কেল অনুসারে তৈরি করা হয় না। — অ(এগুলো গাণিতিক স্কেল ভিত্তিক হয়)
২.২ উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো
(যেকোনো ছয়টি) :
-
২.২.১ অবরোহণ প্রক্রিয়ায় ভূমির উচ্চতা হ্রাস হয়।
-
২.২.২ মরু অঞ্চলে বায়ু ও জলধারার মিলিত সঞ্চয় কার্যের ফলে গঠিত সমভূমিকেপেডিমেন্ট(অথবা বাজাদা) বলে।
-
২.২.৩ কোনো স্থানের উষ্ণতা-বৃষ্টিপাত লেখচিত্রে উষ্ণতার রেখাটি বছরের মধ্যভাগে নিম্নমুখী হলে স্থানটি দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত।
-
২.২.৪মুখ্যজোয়ার মুখ্য জোয়ারের প্রতিপাদস্থানে একই সময়ে তৈরি হয়। (অথবা গৌণ জোয়ার)
-
২.২.৫ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র বায়ুমণ্ডলে সি.এফ.সি. (CFC) গ্যাস নির্গত করে।
-
২.২.৬ আরাবল্লী পর্বতের পশ্চিমে অবস্থিত তৃণভূমিকেরোহি বলে।
-
২.২.৭ জৈব বর্জ্য পদার্থগুলির জীবাণু দ্বারা বিয়োজন পদ্ধতিকে কম্পোস্টিং বলে।
২.৩ একটি বা দুটি শব্দে উত্তর দাও
(যেকোনো ছয়টি) :
-
২.৩.১ নদীর জলপ্রবাহ মাপার এককের নাম লেখো। — কিউসেক (Cusec) বা কিউমেক (Cumec)।
-
২.৩.২ সম্পৃক্ত বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা কত শতাংশ? — ১০০%।
-
২.৩.৩ মেরু অঞ্চল থেকে কোন ধরনের সমুদ্রস্রোত প্রবাহিত হয়? — শীতল স্রোত।
-
২.৩.৪ মানব শরীরে কোন বিষাক্ত বর্জ্যের উপস্থিতিতে মিনামাটা রোগ হয়? — পারদ (Mercury)।
-
২.৩.৫ ভারতের সর্বাধিক জলসেচ পদ্ধতির নাম লেখো। — কূপ ও নলকূপ।
-
২.৩.৬ ভারতের উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু কোথায় বৃষ্টিপাত ঘটায়? — করমন্ডল উপকূলে (তামিলনাড়ু)।
-
২.৩.৭ ইন্টারনেট ব্যবহারের দিক থেকে বিশ্বে ভারতের স্থান কী? — দ্বিতীয়।
-
২.৩.৮ ভূ-বৈচিত্রসূচক মানচিত্রে কোন রেখার সাহায্যে ভূমির উচ্চতা দেখানো হয়? — সমোন্নতি রেখা (Contour Line)।
২.৪ বামদিকের সাথে ডানদিকেরগুলি মিলিয়ে লেখো :
-
২.৪.১ ছোটোনাগপুর — (৩) পরেশনাথ পাহাড়
-
২.৪.২ অসম — (৪) বরদৈচিলা
-
২.৪.৩ হিমালয় — (১) পাইন
-
২.৪.৪ চিকমাগালুর — (২) কফি
-

৩। নীচের প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও:
৩.১ মহাদেশীয় হিমবাহ কাকে বলে?
উচ্চ অক্ষাংশে মেরু অঞ্চলে (যেমন- অ্যান্টার্কটিকা, গ্রিনল্যান্ড) বিশাল এলাকা জুড়ে যে বরফের স্তূপ অবস্থান করে এবং অভিকর্ষের টানে ধীরগতিতে অগ্রসর হয়, তাকে মহাদেশীয় হিমবাহ বলে।
অথবা, মরু সম্প্রসারণের সংজ্ঞা দাও:
মরুভূমির প্রান্তবর্তী শুষ্ক অঞ্চলগুলি যখন জলবায়ুর পরিবর্তন বা মানুষের অনিয়ন্ত্রিত হস্তক্ষেপের ফলে ক্রমশ মরুভূমিতে পরিণত হয়, তখন তাকে মরু সম্প্রসারণ বলা হয়।
৩.২ ‘ক্যাটাবেটিক’ বায়ু কাকে বলে?
রাতের বেলা পার্বত্য অঞ্চলের উপরিভাগের শীতল ও ভারী বায়ু যখন পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচের উপত্যকায় নেমে আসে, তখন তাকে ক্যাটাবেটিক বায়ু বলে।
অথবা, আন্তঃক্রান্তীয় অভিসৃতি অঞ্চল (ITCZ) বলতে কী বোঝো?
উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ে (০° – ৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষরেখা) এসে মিলিত হয়, এই অঞ্চলটিকেই আন্তঃক্রান্তীয় অভিসৃতি অঞ্চল বা ITCZ বলে।
৩.৩ চিকিৎসা সংক্রান্ত বর্জ্যের সংজ্ঞা দাও:
হাসপাতাল, নার্সিংহোম বা প্যাথলজিক্যাল সেন্টার থেকে নির্গত সংক্রামক বর্জ্য যেমন— ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ব্যান্ডেজ, কাটা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, ওষুধের শিশি ইত্যাদিকে চিকিৎসা সংক্রান্ত বর্জ্য বলে।
অথবা, বর্জ্যের ব্যবস্থাপনায় ভরাটকরণ বলতে কী বোঝো?
শহরের নিচু জমি বা গর্তে বর্জ্য পদার্থ স্তূপীকৃত করে মাটি দিয়ে চাপা দেওয়ার পদ্ধতিকে ভরাটকরণ বা ল্যান্ডফিল (Landfill) বলা হয়।
৩.৪ খাদার কী?
গঙ্গা নদীর অববাহিকায় নবীন পলিমাটি দ্বারা গঠিত অঞ্চলকে বলা হয় খাদার। এটি অত্যন্ত উর্বর।
অথবা, কারেওয়া বলতে কী বোঝো?
কাশ্মীর উপত্যকায় ঝিলাম নদীর অববাহিকায় হ্রদ থেকে জমা হওয়া প্রাচীন পলিমাটির স্তরকে স্থানীয় ভাষায় কারেওয়া বলে, যা জাফরান চাষের জন্য বিখ্যাত।
৩.৫ মৃত্তিকা ক্ষয়ের সংজ্ঞা দাও।
অথবা
জনঘনত্ব বলতে কী বোঝো?
উত্তর:
মৃত্তিকা ক্ষয়ের সংজ্ঞা:
প্রাকৃতিক শক্তি (যেমন— প্রবাহমান জলধারা, বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্রতরঙ্গ প্রভৃতি) অথবা মানুষের বিভিন্ন কার্যাবলীর মাধ্যমে যখন মৃত্তিকার উপরিভাগের শিথিল স্তর বিচ্ছিন্ন হয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অপসারিত হয় এবং মাটির উর্বরতা শক্তি হ্রাস পায়, তখন তাকে মৃত্তিকা ক্ষয় বলে।
অথবা
জনঘনত্ব (Population Density):
কোনো দেশ বা অঞ্চলের মোট জনসংখ্যা এবং সেই অঞ্চলের মোট ভূমির আয়তনের অনুপাতকে জনঘনত্ব বলে। এটি সাধারণত প্রতি বর্গকিলোমিটারে কতজন মানুষ বাস করে তার ভিত্তিতে নির্ণয় করা হয়।
৩.৬ মিলিয়ন শিটে ব্যবহৃত RF এবং মেট্রিক স্কেলের উল্লেখ করো: মিলিয়ন শিটের ক্ষেত্রে RF (Representative Fraction) হলো ১:১০,০০,০০০ এবং এর মেট্রিক স্কেল অনুসারে বিস্তার হলো ৪° × ৪°।
অথবা ভারতের জরিপ সংস্থা (Survey of India) ও ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO) কোথায় অবস্থিত?
ভারতের জরিপ সংস্থা (Survey of India) উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে অবস্থিত এবং ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO) কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত।
বিভাগ ‘ঘ’
৪। সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক উত্তর দাও:
৪.১ ইয়ারদাং ও জিউগেন-এর মধ্যে পার্থক্য:
গঠন: জিউগেন উপরিভাগে কঠিন শিলা এবং নিচে কোমল শিলা অনুভূমিকভাবে থাকলে গঠিত হয়; ইয়ারদাং কঠিন ও কোমল শিলা উলম্বভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে গঠিত হয়।
আকৃতি: জিউগেন অনেকটা টেবিলের মতো চ্যাপ্টা আকৃতির হয়; ইয়ারদাং দীর্ঘ ও সংকীর্ণ শৈলশিরার মতো দেখতে হয়।
উচ্চতা: জিউগেনের উচ্চতা সাধারণত বেশি হয় না (৩-৩০ মিটার); ইয়ারদাং অপেক্ষাকৃত বেশি উঁচু হতে পারে।
অথবা, সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ুর তিনটি পার্থক্য:
প্রবাহের সময়: সমুদ্রবায়ু দিনের বেলা প্রবাহিত হয়; স্থলবায়ু রাতের বেলা প্রবাহিত হয়।
গতিবেগ: সমুদ্রবায়ুর গতিবেগ বিকালের দিকে বেশি থাকে; স্থলবায়ুর গতিবেগ শেষরাতের দিকে বৃদ্ধি পায়।
উৎস: সমুদ্রবায়ু সমুদ্র থেকে স্থলের দিকে আসে; স্থলবায়ু স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে ধাবিত হয়।
প্রশ্ন ৪.২: শিল্প বর্জ্যের উৎস ও প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করো।
অথবা
বর্জ্যের ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীর ভূমিকা (যে কোনো তিনটি) উল্লেখ করো।
উত্তর:
শিল্প বর্জ্যের উৎস ও প্রভাব
১. শিল্প বর্জ্যের উৎস:
ধাতু শিল্প: লোহা ও ইস্পাত শিল্প থেকে নির্গত ধাতব টুকরো, স্লাগ এবং বিভিন্ন রাসায়নিক মিশ্রিত জল।
রাসায়নিক শিল্প: সার ও কীটনাশক কারখানা থেকে নির্গত অ্যাসিড, ক্ষার ও বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্য।
চামড়া শিল্প: ট্যানারি থেকে নির্গত পচা চামড়ার অংশ, চুন এবং বিষাক্ত ক্রোমিয়াম।
২. শিল্প বর্জ্যের প্রভাব:
জল দূষণ: বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্য সরাসরি নদী বা জলাশয়ে মিশে জলের বাস্তুতন্ত্র নষ্ট করে এবং জলজ প্রাণীদের মৃত্যু ঘটায়।
মাটি দূষণ: শিল্পজাত কঠিন বর্জ্য মাটিতে মিশে মাটির উর্বরতা কমিয়ে দেয় এবং ক্ষতিকর ধাতু খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করে।
স্বাস্থ্যহানি: শিল্প বর্জ্যের সংস্পর্শে আসা মানুষের মধ্যে চর্মরোগ, ক্যানসার এবং শ্বাসকষ্টের মতো জটিল সমস্যা দেখা দেয়।
অথবা
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীর ভূমিকা (যেকোনো তিনটি)
পরিবেশ সুরক্ষায় এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একজন শিক্ষার্থীর প্রধান তিনটি ভূমিকা হলো:
১. বর্জ্যের পৃথকীকরণ: বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বা বাড়িতে উৎপন্ন জৈব ভঙ্গুর (পচনশীল) এবং অজৈব অভঙ্গুর (অপচনশীল) বর্জ্যগুলিকে আলাদা আলাদা পাত্রে বা ডাস্টবিনে ফেলার অভ্যাস তৈরি করা।
২. ৩R (Reduce, Reuse, Recycle) পদ্ধতির প্রয়োগ:
বর্জ্যের পরিমাণ কমানো (Reduce)।
ফেলে দেওয়া জিনিসের পুনরায় ব্যবহার (Reuse) নিশ্চিত করা।
বর্জ্যকে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করার জন্য সচেতনতা বাড়ানো।
৩. সচেতনতা প্রচার: বর্জ্য পদার্থের কুফল সম্পর্কে নিজের পরিবার, পাড়া-প্রতিবেশী এবং সহপাঠীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং যত্রতত্র আবর্জনা না ফেলার জন্য উৎসাহিত করা।
৪.৩ পূর্বঘাট এবং পশ্চিমঘাট পর্বতমালার পার্থক্য:
প্রকৃতি: পশ্চিমঘাট একটি অবিচ্ছিন্ন পর্বতমালা; পূর্বঘাট বিচ্ছিন্ন এবং বিভিন্ন নদী দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত।
উচ্চতা: পশ্চিমঘাটের গড় উচ্চতা বেশি (১২০০ মিটার); পূর্বঘাটের উচ্চতা অপেক্ষাকৃত কম (৬০০ মিটার)।
অবস্থান: পশ্চিমঘাট আরব সাগরের সমান্তরালে অবস্থিত; পূর্বঘাট বঙ্গোপসাগরের সমান্তরালে অবস্থিত।
অথবা, ভারতে অটোমোবাইল (গাড়ি) শিল্পের বিকাশের কারণ:
কাঁচামাল: নিকটবর্তী লৌহ-ইস্পাত শিল্প থেকে কাঁচামাল প্রাপ্তি।
চাহিদা: ভারতের বিশাল জনসংখ্যা ও ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির ব্যাপক চাহিদা।
পরিবহন: উন্নত সড়কপথ ও বন্দরের সান্নিধ্য উৎপাদিত পণ্য বণ্টনে সহায়তা করে।
৪.৪ ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র ও উপগ্রহ চিত্রের তিনটি পার্থক্য:
উৎস: ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র প্রত্যক্ষ জরিপ বা সার্ভের মাধ্যমে তৈরি; উপগ্রহ চিত্র কৃত্রিম উপগ্রহের সেন্সরের মাধ্যমে প্রাপ্ত।
সময়: মানচিত্র তৈরি করতে দীর্ঘ সময় লাগে এবং এটি দ্রুত পরিবর্তন হয় না; উপগ্রহ চিত্র খুব অল্প সময়ে এবং নিয়মিত বিরতিতে পাওয়া যায়।
তথ্য: মানচিত্রে প্রতীক ও রেখার ব্যবহার থাকে; উপগ্রহ চিত্রে আলোকচিত্র বা পিক্সেলের মাধ্যমে নিখুঁত তথ্য পাওয়া যায়।
অথবা, দূর সংবেদন (Remote Sensing) ব্যবস্থার সুবিধা:
দ্রুত তথ্য সংগ্রহ: খুব অল্প সময়ে দুর্গম অঞ্চলের তথ্য সংগ্রহ করা যায়।
নির্ভুলতা: উপগ্রহের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য অত্যন্ত নিখুঁত ও বাস্তবসম্মত হয়।
দুর্যোগ মোকাবিলা: বন্যা, খরা বা ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস দিতে এই ব্যবস্থা অপরিহার্য।
বিভাগ- ‘ঙ’
দৃষ্টিহীন পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে চিত্রাঙ্কন আবশ্যিক নয়।
৫। ৫.১ যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
প্রশ্ন: ৫.১.১ নদীর সঞ্চয় কার্যের ফলে গঠিত তিনটি প্রধান ভূমিরূপের চিত্রসহ বর্ণনা দাও।
উত্তর: নদী যখন পার্বত্য অঞ্চল ছেড়ে সমভূমিতে বা মোহনার কাছে পদার্পণ করে, তখন তার গতিবেগ ও বহন ক্ষমতা কমে যাওয়ায় পলি, বালি, কাঁকর সঞ্চিত হয়ে বিভিন্ন ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়।
নিচে নদীর সঞ্চয় কার্যের ফলে গঠিত তিনটি প্রধান ভূমিরূপ আলোচনা করা হলো:
১. পলল ব্যজনী (Alluvial Fan): নদী যখন পাহাড়ের পাদদেশে পৌঁছায়, তখন ভূমির ঢাল হঠাৎ কমে যাওয়ায় নদী বাহিত পদার্থগুলো পাহাড়ের পাদদেশে ত্রিভুজাকারে বা হাতের পাখার মতো সঞ্চিত হয়। একে পলল ব্যজনী বা পলল শঙ্কু বলা হয়। উদাহরণ: হিমালয়ের পাদদেশে ঋষিকেশের কাছে গঙ্গা নদীর গতিপথে এরকম পলল ব্যজনী দেখা যায়।
২. প্লাবনভূমি (Floodplain): নদীর নিম্নগতিতে বা সমভূমি প্রবাহে নদীর গভীরতা কম থাকে। বর্ষাকালে অতিরিক্ত জল আসায় নদী দুকূল ছাপিয়ে উপচে পড়ে এবং আশেপাশের নিচু জমিতে পলি সঞ্চয় করে। বারবার এভাবে পলি সঞ্চিত হয়ে যে বিস্তৃত সমতল ভূমি তৈরি হয়, তাকে প্লাবনভূমি বলে।
উদাহরণ: গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় বিস্তীর্ণ প্লাবনভূমি দেখা যায়।
৩. বদ্বীপ (Delta): নদীর মোহনায় অর্থাৎ যেখানে নদী সমুদ্র বা হ্রদে মেশে, সেখানে স্রোতের বেগ একেবারে কমে যায়। ফলে নদী বাহিত পলি মোহনায় জমা হয়ে গ্রিক অক্ষর ডেল্টা (\Delta) বা বাংলা মাত্রাহীন ‘ব’-এর মতো আকৃতি ধারণ করে। একে বদ্বীপ বলা হয়।
উদাহরণ: গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ হলো পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ।
প্রশ্ন:৫.১.২ বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার পদ্ধতিগুলি আলোচনা করো।
উত্তর:
সূর্য থেকে আগত তাপশক্তি সরাসরি বায়ুমণ্ডলকে খুব বেশি উত্তপ্ত করতে পারে না। সূর্যরশ্মির মাত্র ২০০ কোটি ভাগের এক ভাগ পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়, যাকে ‘আগন্তুক সৌর বিকিরণ’ বলে। এই শক্তির প্রভাবে বায়ুমণ্ডল প্রধানত তিনটি পদ্ধতিতে উত্তপ্ত হয়:
১. বিকিরণ পদ্ধতি (Radiation):
সূর্য থেকে আসা ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তাপীয় রশ্মি সরাসরি বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত না করে প্রথমে ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে। এরপর ভূপৃষ্ঠ থেকে সেই তাপ দীর্ঘ তরঙ্গের আকারে বিকিরিত হয়ে উপরের দিকে যাওয়ার সময় বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন গ্যাস ও ধূলিকণা দ্বারা শোষিত হয় এবং বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে। এটিই বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার প্রধান পদ্ধতি।
২. পরিচালন পদ্ধতি (Convection):
ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ু উত্তপ্ত হওয়ার পর তা হালকা হয়ে প্রসারিত হয় এবং সোজা উপরের দিকে উঠে যায়। সেই শূন্যস্থান পূরণ করার জন্য উপরের স্তরের শীতল ও ভারী বায়ু নিচে নেমে আসে। এইভাবে বায়ুর ওঠানামার মাধ্যমে তাপ সঞ্চালিত হয়ে বায়ুমণ্ডলের নীচের স্তর থেকে উপরের স্তর পর্যন্ত উত্তপ্ত হয়।
৩. পরিবহন পদ্ধতি (Conduction):
ভূপৃষ্ঠ যখন সূর্যতাপে উত্তপ্ত হয়, তখন তার সংস্পর্শে থাকা বায়ুমণ্ডলের একেবারে নীচের স্তরটিও উত্তপ্ত হয়। এরপর সেই উত্তপ্ত স্তর থেকে তার উপরের শীতল স্তরে তাপ পরিবাহিত হয়। তবে বায়ু তাপের কুপরিবাহী হওয়ায় এই পদ্ধতিতে বায়ুমণ্ডলের কেবল নীচের দিকের সামান্য অংশই উত্তপ্ত হয়।
৪. অ্যাডভেকশন (Advection):
বায়ু যখন ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে বা অনুভূমিকভাবে প্রবাহিত হয়, তখন সেই প্রবাহের ফলে তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে। একে অ্যাডভেকশন বলে।
প্রশ্ন:৫.১.৩ পরিচলন বৃষ্টিপাত কীভাবে সংঘটিত হয় তা চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো এবং এই বৃষ্টিপাতের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
উত্তর:
পরিচলন বৃষ্টিপাতের সৃষ্টি:
দিনের বেলা সূর্যতাপে জলভাগ (সমুদ্র, হ্রদ, নদী) থেকে জল বাষ্পীভূত হয়ে বায়ুতে মেশে। উষ্ণ ও জলীয় বাষ্পপূর্ণ এই হালকা বায়ু সোজা উপরের দিকে উঠে যায়। বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে তাপমাত্রা কম থাকায় এই বায়ু দ্রুত শীতল ও ঘনীভূত হয়ে প্রথমে মেঘ (মূলত কিউমুলোনিম্বাস মেঘ) এবং পরে ভারী বৃষ্টির ফোঁটায় পরিণত হয়ে সরাসরি নিচে ঝরে পড়ে। বায়ুর এই লম্বভাবে ওঠানামা বা পরিচলন স্রোতের মাধ্যমে এই বৃষ্টি হয় বলে একে পরিচলন বৃষ্টিপাত বলে।
পরিচলন বৃষ্টিপাতের বৈশিষ্ট্য:
১. সময়: এই বৃষ্টিপাত সাধারণত প্রতিদিন বিকেলের দিকে বা সন্ধ্যায় হয়। নিরক্ষীয় অঞ্চলে একে ‘4 O’Clock Rain’ বলা হয়।
২. প্রকৃতি: এই বৃষ্টিপাত খুব অল্প সময়ের জন্য হয়, কিন্তু বৃষ্টির তীব্রতা বা দাপট খুব বেশি থাকে।
৩. বজ্রবিদ্যুৎ: পরিচলন বৃষ্টিপাতের সময় আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং প্রবল বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাত ঘটে।
৪. অঞ্চল: প্রধানত নিরক্ষীয় অঞ্চল এবং গ্রীষ্মকালে নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলের স্থলভাগের অভ্যন্তরে এই বৃষ্টিপাত বেশি দেখা যায়।
প্রশ্ন:৫.১.৪ জলবায়ুর উপর সমুদ্রস্রোতের প্রভাবগুলি আলোচনা করো।
উত্তর:
পৃথিবীর বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে সমুদ্রস্রোত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর প্রধান প্রভাবগুলি হলো:
১. উষ্ণতার উপর প্রভাব:
কোনো অঞ্চলের উপকূল দিয়ে উষ্ণ স্রোত প্রবাহিত হলে সেই উপকূলের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। আবার শীতল স্রোত প্রবাহিত হলে উপকূলের তাপমাত্রা কমে যায়। যেমন—শীতকালে উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের উপকূল দিয়ে উষ্ণ উত্তর আটলান্টিক স্রোত প্রবাহিত হওয়ায় সেখানকার বন্দরগুলি বরফমুক্ত থাকে এবং আবহাওয়া মনোরম থাকে।
২. বৃষ্টিপাতের উপর প্রভাব:
উষ্ণ সমুদ্রস্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু প্রচুর জলীয় বাষ্প গ্রহণ করে, যা উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। অন্যদিকে, শীতল স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু শুষ্ক হয় বলে বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না বললেই চলে। এই কারণেই শীতল স্রোত প্রবাহিত অনেক উপকূলীয় অঞ্চলে মরুভূমির সৃষ্টি হয়েছে (যেমন—নামিব মরুভূমি)।
৩. কুয়াশা ও ঝড়ঝঞ্ঝার সৃষ্টি:
যেখানে উষ্ণ ও শীতল স্রোত মিলিত হয়, সেখানে তীব্র কুয়াশার সৃষ্টি হয় এবং আবহাওয়ায় গোলযোগ দেখা দেয়। উষ্ণ স্রোতের সংস্পর্শে থাকা উষ্ণ বায়ু শীতল স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ঘনীভূত হয়ে এই কুয়াশা তৈরি করে। যেমন—নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত ও শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের মিলনে ঘন কুয়াশা ও ঝড়ঝঞ্ঝা তৈরি হয়।
৪. বরফমুক্ত বন্দর:
উষ্ণ স্রোতের প্রভাবে উচ্চ অক্ষাংশের শীতল অঞ্চলের সমুদ্র বন্দরগুলি শীতকালেও বরফমুক্ত থাকে, যা বাণিজ্যের জন্য খুব সুবিধাজনক। উদাহরণস্বরূপ, নরওয়ের হ্যামারফেস্ট বন্দর উষ্ণ স্রোতের প্রভাবে সারাবছর খোলা থাকে।
প্রশ্ন:৫.২.১ ভারতের জলবায়ুর পাঁচটি প্রধান নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তর:
ভারতের জলবায়ু অত্যন্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ। এই জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণকারী পাঁচটি প্রধান কারণ বা নিয়ন্ত্রক হলো:
১. হিমালয় পর্বতের অবস্থান:
ভারতের উত্তরে ধনুকাকৃতি হিমালয় পর্বতমালা প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। এটি শীতকালে এশিয়ার মধ্যভাগ থেকে আসা অতি শীতল ও শুষ্ক মেরু বায়ুকে ভারতে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। ফলে ভারত চরম শৈত্যের হাত থেকে রক্ষা পায়। আবার, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু হিমালয়ের গায়ে ধাক্কা খেয়ে উত্তর ভারত ও গাঙ্গেয় সমভূমিতে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
২. মৌসুমি বায়ুর প্রভাব:
ভারতের জলবায়ু মূলত মৌসুমি বায়ু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারতজুড়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। আবার শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারত শুষ্ক থাকে (একমাত্র করমণ্ডল উপকূল ছাড়া)। ভারতের কৃষি ও ঋতুচক্র পুরোপুরি এই বায়ুর ওপর নির্ভরশীল।
৩. অক্ষাংশগত অবস্থান:
ভারত ৮°৪’ উত্তর থেকে ৩৭°৬’ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত। কর্কটক্রান্তি রেখা ভারতের প্রায় মাঝখান দিয়ে গেছে। এর ফলে ভারতের দক্ষিণভাগ সারাবছর উষ্ণ থাকে (ক্রান্তীয় জলবায়ু) এবং উত্তরভাগ অপেক্ষাকৃত কম উষ্ণ বা নাতিশীতোষ্ণ প্রকৃতির হয়।
৪. সমুদ্রের সান্নিধ্য:
ভারতের তিন দিক সমুদ্র (আরব সাগর, বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর) দ্বারা বেষ্টিত। সমুদ্রের ধারে অবস্থিত অঞ্চলগুলোতে (যেমন— মুম্বই, চেন্নাই, কলকাতা) সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ুর প্রভাবে জলবায়ু সারাবছর সমভাবাপন্ন থাকে। অর্থাৎ এখানে শীত বা গ্রীষ্ম কোনোটিই খুব বেশি অনুভূত হয় না।
৫. এল নিনো ও লা নিনা (El Nino and La Nina):
প্রশান্ত মহাসাগরের এল নিনোর আবির্ভাব ভারতের মৌসুমি বায়ুকে দুর্বল করে দেয়, যার ফলে ভারতে খরার সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে লা নিনা-র প্রভাবে ভারতে মৌসুমি বায়ু শক্তিশালী হয় এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত বা বন্যার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
প্রশ্ন:৫.২.২ ভারতের চা উৎপাদনের অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের বর্ণনা দাও।
উত্তর:
চা হলো ভারতের প্রধান পানীয় ও অর্থকরী ফসল। ভারতে চা চাষের জন্য নিম্নলিখিত অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রয়োজন হয়:
১. জলবায়ু: চা উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর ফসল।
উষ্ণতা: চা চাষের জন্য ২১° সে. থেকে ৩০° সে. উষ্ণতা আদর্শ। অতিরিক্ত শৈত্য বা তুষারপাত চা গাছের ক্ষতি করে।
বৃষ্টিপাত: প্রচুর বৃষ্টিপাত চা চাষের জন্য প্রয়োজন (গড় বার্ষিক ১৫০-২৫০ সেমি)। সারাবছর নিয়মিত বৃষ্টিপাত হলে চায়ের কোমল পাতা দ্রুত বের হয়।
২. মৃত্তিকা:
লোহা ও ম্যাঙ্গানিজ মিশ্রিত উর্বর দোঁয়াশ মাটি চা চাষের জন্য খুব ভালো। এ ছাড়া মাটিতে যথেষ্ট পরিমাণে হিউমাস বা জৈব পদার্থ থাকা প্রয়োজন। আম্লিক মৃত্তিকা চা চাষের জন্য উপযোগী।
৩. ভূপ্রকৃতি:
চা গাছের গোড়ায় জল জমলে গাছ পচে যায় এবং মারা যায়। তাই পাহাড়ের ঢালু জমি চা চাষের জন্য সবথেকে আদর্শ, যাতে বৃষ্টির জল দ্রুত গড়িয়ে নেমে যেতে পারে। এই কারণেই ভারতের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতের পাহাড়ি ঢালে চা বাগানগুলি অবস্থিত।
৪. ছায়া প্রদানকারী বৃক্ষ:
প্রখর সূর্যতাপ চা গাছের ক্ষতি করে। তাই চা বাগানের মধ্যে ছায়া দেওয়ার জন্য বড় বড় গাছ (যেমন—কড়াই, শিরীষ) লাগানো হয়।
প্রশ্ন:৫.২.৩ পূর্ব ও মধ্য ভারতে লৌহ-ইস্পাত শিল্প গড়ে ওঠার কারণগুলি আলোচনা করো।
উত্তর:
ভারতের অধিকাংশ বড় লৌহ-ইস্পাত শিল্পকেন্দ্র পূর্ব ও মধ্য ভারতে (যেমন— দুর্গাপুর, জামশেদপুর, ভিলাই, রাউরকেল্লা, বার্নপুর) গড়ে উঠেছে। এই কেন্দ্রীভবনের প্রধান কারণগুলি হলো:
১. কাঁচামালের সহজলভ্যতা:
লৌহ-ইস্পাত একটি ‘ওজন হরাসকারী’ শিল্প, তাই কাঁচামালের উৎসের কাছেই এটি গড়ে ওঠে।
আকরিক লোহা: ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ ও ঝাড়খণ্ডের সিংভূম থেকে উন্নতমানের হেমাটাইট আকরিক লোহা পাওয়া যায়।
কয়লা: ঝারিয়া, রানিগঞ্জ ও বোকারো খনি থেকে প্রয়োজনীয় কোক-কয়লা পাওয়া যায়।
২. চুনাপাথর ও ডলোমাইটের নৈকট্য:
আকরিক লোহা গলানোর জন্য প্রচুর চুনাপাথর ও ডলোমাইট প্রয়োজন হয়, যা ওড়িশার সুন্দরগড় এবং ছত্তিশগড়ের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সহজেই পাওয়া যায়।
৩. জলের জোগান:
ইস্পাত কারখানাগুলিতে প্রচুর জলের প্রয়োজন হয়। দামোদর, সুবর্ণরেখা, ব্রাহ্মণী ও খরকাই নদীর জল এই চাহিদা মেটায়। এছাড়া দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনা (DVC) থেকে জলবিদ্যুৎ পাওয়া যায়।
৪. উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা:
পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলের মাধ্যমে খনি থেকে কাঁচামাল আনা এবং উৎপাদিত পণ্য বিভিন্ন স্থানে পাঠানো সহজ হয়। এছাড়া কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানির সুবিধা রয়েছে।
৫. শ্রমিক ও বাজার:
পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও ওড়িশা থেকে সস্তা ও দক্ষ শ্রমিক পাওয়া যায়। এছাড়া পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের রেল ইঞ্জিন কারখানা, জাহাজ নির্মাণ ও ভারী ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পে ইস্পাতের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
প্রশ্ন:৫.২.৪ ভারতের জনসংখ্যার অসম বণ্টনের প্রাকৃতিক কারণগুলি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
ভারতে সব জায়গায় জনসংখ্যা সমান নয়; কোথাও জনবসতি অত্যন্ত ঘন, আবার কোথাও খুব বিরল। এই অসম বণ্টনের প্রধান পাঁচটি প্রাকৃতিক কারণ হলো:
১. ভূপ্রকৃতি:
জনসংখ্যার বণ্টনে ভূপ্রকৃতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি। ভারতের গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি অঞ্চল সমতল হওয়ায় এখানে কৃষি, শিল্প ও যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত, তাই এখানে জনঘনত্ব সর্বাধিক। অন্যদিকে, হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল বা উত্তর-পূর্বের পাহাড়ি এলাকা বন্ধুর ও দুর্গম হওয়ায় সেখানে জনবসতি খুব কম।
২. জলবায়ু:
মানুষ সাধারণত চরমভাবাপন্ন জলবায়ুর চেয়ে মনোরম জলবায়ুতে বাস করতে পছন্দ করে। উত্তর ভারতের সমভূমি ও উপকূলীয় অঞ্চলের অনুকূল জলবায়ুর কারণে জনসংখ্যা বেশি। বিপরীতে, রাজস্থানের থর মরুভূমির অত্যধিক উষ্ণতা এবং হিমালয়ের অতিশয় শৈত্যের কারণে এই অঞ্চলগুলোতে মানুষ খুব কম বাস করে।
৩. নদনদী ও পানীয় জলের প্রাপ্যতা:
প্রাচীনকাল থেকেই নদীর তীরে জনবসতি গড়ে উঠেছে। গঙ্গা, যমুনা, গোদাবরী, কৃষ্ণা প্রভৃতি নদীর অববাহিকায় কৃষিকাজ এবং পানীয় জলের সুবিধা থাকায় জনসংখ্যা বেশি। কিন্তু রাজস্থানের শুষ্ক অঞ্চলে জলের অভাবে জনবসতি অত্যন্ত বিক্ষিপ্ত।
৪. মৃত্তিকা:
মৃত্তিকার উর্বরতার ওপর কৃষি নির্ভর করে, আর কৃষির ওপর নির্ভর করে জনবসতি। সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমির উর্বর পলিমাটি এবং দক্ষিণাক্ষিণাত্যের কৃষ্ণ মৃত্তিকা অঞ্চলে কৃষিকাজ ভালো হয় বলে এখানে প্রচুর মানুষ বাস করে। কিন্তু পাহাড়ি অঞ্চলের কাঁকুরে মাটি বা মরু অঞ্চলের বালি মাটিতে চাষবাস ভালো হয় না বলে সেখানে জনসংখ্যা কম।
৫. অরণ্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ:
ঘন অরণ্যবৃত অঞ্চল (যেমন—সুন্দরবন বা আন্দামান নিকোবর) বসবাসের অযোগ্য হওয়ায় সেখানে জনসংখ্যা কম। তবে খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ অঞ্চলে (যেমন—ছোটনাগপুর মালভূমি) প্রতিকূল ভূপ্রকৃতি থাকা সত্ত্বেও খনি ও শিল্পকে কেন্দ্র করে ঘন জনবসতি গড়ে উঠেছে।
বিভাগ – চ
৬। প্রশ্নপত্রের সাথে প্রদত্ত ভারতের রেখা-মানচিত্রে নিম্নলিখিতগুলি উপযুক্ত প্রতীক ও নামসহ চিহ্নিত করে মানচিত্রটি উত্তরপত্রের সঙ্গে জুড়ে দাও (সাধারণ পরীক্ষার্থীদের জন্য):
মানচিত্রে যে ১০টি বিষয় চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে, সেগুলো হলো:
৬.১. আরাবল্লী পর্বত (ভারতের পশ্চিম ভাগে রাজস্থানে অবস্থিত)
৬.২. নর্মদা নদী (মধ্য ভারতে অবস্থিত পশ্চিমবাহিনী নদী)
৬.৩. উত্তর-পূর্ব ভারতের সর্বাধিক বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চল (মেঘালয়ের মৌসিনরাম/চেরাঞ্জুঞ্জি)
৬.৪. মরুমৃত্তিকা অঞ্চল (রাজস্থানের থর মরুভূমি অঞ্চল)
৬.৫. দক্ষিণ ভারতের ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি (পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢাল)
৬.৬. উত্তর-ভারতের একটি গম উৎপাদক অঞ্চল (পাঞ্জাব বা হরিয়ানা)
৬.৭. বৃহত্তম পেট্রোরসায়ন শিল্পকেন্দ্র (গুজরাটের জামনগর)
৬.৮. ভারতের প্রথম মেট্রো-রেল শহর (কলকাতা)
৬.৯. পূর্ব উপকূলের একটি স্বাভাবিক বন্দর (বিশাখাপত্তনম)
৬.১০. ভারতের দক্ষিণতম বিন্দু (ইন্দিরা পয়েন্ট)
বিকল্প প্রশ্ন (শুধুমাত্র দৃষ্টিহীন পরীক্ষার্থীদের জন্য):
৬.১ ভারতের বৃহত্তম বদ্বীপের নাম লেখো।
উত্তর: গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ (সুন্দরবন)।
৬.২ ভারতের প্রাচীনতম পর্বতমালা কোনটি?
উত্তর: আরাবল্লী পর্বত।
৬.৩ মণিপুর রাজ্যে অবস্থিত একটি হ্রদের নাম লেখো।
উত্তর: লোকটাক হ্রদ।
৬.৪ ভারতের কোন দ্বীপমালা প্রবাল দ্বারা গঠিত?
উত্তর: লাক্ষাদ্বীপ।
৬.৫ ভারতের বৃহত্তম হিমবাহের নাম লেখো।
উত্তর: সিয়াচেন।
৬.৬ ভারতের কোন মৃত্তিকা রেঙ্গুর নামে পরিচিত?
উত্তর: কৃষ্ণ মৃত্তিকা (বা কালো মাটি)।
৬.৭ ভারতের কোন রাজ্য হেক্টর প্রতি ধান উৎপাদনে প্রথম স্থান অধিকার করে?
উত্তর: পাঞ্জাব।
৬.৮ কোন শিল্পশহর দক্ষিণ ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার নামে পরিচিত?
উত্তর: কোয়েম্বাটোর।
৬.৯ ভারতের একটি কৃষিভিত্তিক শিল্পের নাম লেখো।
উত্তর: কার্পাস বয়ন শিল্প (বা চা শিল্প/চিনি শিল্প)।
৬.১০ পাঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্যের রাজধানীর নাম লেখো।
উত্তর: চণ্ডীগড়।
৬.১১ সাক্ষরতার হারে ভারতের কোন রাজ্য সর্বাধিক?
উত্তর: কেরালা।
৬.১২ প্রশ্ন: কোন আধুনিক পরিবহনের মাধ্যমে পরিশোধিত খনিজ তেল সহজে পরিবাহিত হয়?
উত্তর: পাইপলাইন বা নলপথের মাধ্যমে পরিশোধিত খনিজ তেল সবচেয়ে সহজে ও দ্রুত পরিবাহিত হয়।
৬.১৩ প্রশ্ন: ভারতের করমুক্ত বন্দরের নাম লেখো।
উত্তর: গুজরাটের কাণ্ডালা বন্দর হলো ভারতের একটি প্রধান শুল্কমুক্ত বা করমুক্ত বন্দর।
৬.১৪ প্রশ্ন: আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের রাজধানীর নাম কী?
উত্তর: আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের রাজধানী হলো পোর্ট ব্লেয়ার।

তাড়াহুড়োতে করা হয়েছে ভুলত্রুটি মার্জনীয় ***
SOURCE-EDT




