
ষষ্ঠ শ্রেণি
বাংলা
Set-3
প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন
ষষ্ঠ শ্রেণি বিষয় : বাংলা
সময় : ১ ঘণ্টা পূর্ণমান : ৩০
১। বন্ধনীর সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে লেখো (যে কোনো দুটি) : ১×২=২
১.১ বিভীষণ মাস্টারের মতে, সবচেয়ে বড়ো বই হল – (রামায়ণ / মহাভারত / পৃথিবী / পুরাণ)।
উত্তর-বিভীষন মাস্টারের মতে, সবচেয়ে বড় বই হল মহাভারত ।
১.২ শিম্পাঞ্জি, ওরাংদের এক জাতভাই হল– (হনুমান / মানুষ / ভালুক / গরিলা)।
উত্তর-শিম্পাঞ্জি ও ওরাং ওটাংয়ের সবচেয়ে কাছের জাতভাই বা আত্মীয় হলো মানুষ (Human) ।
১.৩ কুমোর-পোকার গায়ের রং – (ধবধবে সাদা / টকটকে লাল / মিশমিশে কালো / কটকটে হলুদ)।
উত্তর-কুমোর-পোকার গায়ের রং সাধারণত মিশমিশে কালো হয় ।
২। অতি সংক্ষেপে নীচের যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ১×২=২
২.১ ক্যাস্টাং সাহেব প্রায় কত বছর বন্যজন্তুদের সঙ্গে থেকেছেন ?
উত্তর-ক্যাস্টাং সাহেব প্রায় চল্লিশ বছর বন্য জন্তুদের সঙ্গে থেকেছেন
২.২ কুমোর-পোকা কীভাবে মাকড়সার শরীরে বিষ ঢালে ?
উত্তর-মাকড়সা দেখতে পেলে কুমোর-পোকা ছুটে গিয়ে তার ঘাড় কামড়ে ধরে। কিন্তু কামড়ে ধরলেও একবারে মেরে ফেলে না। শরীরে হুল ফুটিয়ে এক রকম বিষ ঢেলে দেয়। কোনো কোনো মাকড়সাকে পাঁচ-সাতবার পর্যন্ত হুল ফুটিয়ে দেয়।
২.৩ স্বপ্নে শংকরের বাতাসের রং কী ?
উত্তর-শংকরের স্বপ্নে বাতাসের রং নীল ছিল।
৩। সংক্ষেপে নীচের যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ২×২=৪
৩.১ “বাচ্চাদের জন্যে খাদ্য সঞ্চিত রেখেই সে খালাস” – অংশটি কোন্ গদ্যাংশ থেকে নেওয়া হয়েছে ? কে খাদ্য সঞ্চিত রেখেই খালাস ?
প্রদত্ত অংশটি জগদীশচন্দ্র বসুর লেখা ‘লক্ষণীয় গাছ’ (বা ‘গাছের কথা’ প্রবন্ধের অন্তর্গত) গদ্যাংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে ‘বাঁশ গাছ’-এর কথা বলা হয়েছে, যা তার বংশধর বা বাচ্চাদের (বাঁশ কোঁড়ল) জন্য খাদ্য সঞ্চিত রেখেই নিজে খালাস বা নিশ্চিন্ত হয়ে থাকে।
৩.২ ক্যাস্টাং সাহেব কীভাবে বন্যপ্রাণীর আক্রমণ থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন ?
উত্তর- নিজে কর ।
৩.৩ “পাখি দেখার জন্য যখন মাঠে বা বাগানে ঘুরবে” – তখন কীভাবে চলতে হবে ?
উত্তর- পাখি দেখার (Birdwatching) জন্য মাঠে বা বাগানে ঘোরার সময় অত্যন্ত ধীরগতিতে, নিঃশব্দে এবং সতর্কভাবে চলতে হবে। পাখিরা খুব ভীতু প্রকৃতির হয়, তাই উজ্জ্বল পোশাক না পরে প্রকৃতির রঙের সাথে মিলে যায় এমন পোশাক পরতে হবে এবং পায়ের শব্দ না করে, গাছের আড়ালে থেকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
৪। বন্ধনীর সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে লেখো (যে কোনো দুটি) : ১×২=২
৪.১ মন ভালো করা রোদ্দুর- (ময়ূর / মাছরাঙা / হাঁড়িচাচা /কাঠঠোকরা) পাখির গায়ের মতন।
উত্তর- মন ভালো করা রোদ্দুর মাছরাঙা পাখির গায়ের মতন।
৪.২ আকাশে নয়ন তুলে দাঁড়িয়ে আছে- (বুনো পাহাড় / মরুভূমি / প্রভাত সূর্য / পাইন গাছ)।
উত্তর- আকাশে নয়ন তুলে দাঁড়িয়ে আছে- পাইন গাছ।
৪.৩ অমনি শুরু হয়ে গেল আমাদের নতুন- (বন্ধুত্ব / আত্মীয়তা / শত্রুতা / ঝগড়া)।
উত্তর-অমনি শুরু হয়ে গেল আমাদের নতুন- আত্মীয়তা ।
৫। অতি সংক্ষেপে নীচের যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ১×২=২
৫.১ ‘ভরদুপুরে’ কবিতায় রাখাল বালক গাছের তলায় শুয়ে কী দেখছে ?
উত্তর-নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী রচিত ‘ভরদুপুরে’ কবিতায়, অশ্বত্থ গাছের তলায় শুয়ে রাখাল বালক দেখছে যে, নদীটি নির্জন দুপুরে আপন মনে বয়ে চলেছে । এছাড়া, সে দেখছে যে মেঘহীন আকাশটি দূর মাঠের ওপর ভেসে রয়েছে এবং মাঠের মাঝখান দিয়ে একটি ছোট রাস্তা বা মেঠো পথ চলে গেছে
৫.২ পাইন গাছ কীভাবে স্বপ্ন দেখে ?
উত্তর-জার্মান কবি হেইনরিখ হাইনে-র “পাইন দাঁড়িয়ে আকাশে নয়ন তুলি” (Ein Fichtenbaum steht einsam) কবিতা অনুযায়ী, বরফের দেশের একাকী পাইন গাছ মরুভূমির তপ্ত রোদে থাকা পাম গাছের স্বপ্ন দেখে। সে কনকনে ঠান্ডা ও বরফ থেকে মুক্তি পেয়ে দূরে, উষ্ণ রোদে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে স্বপ্নের মধ্য দিয়ে এক মুক্ত ও সুখী জীবনের কামনা করে।
৫.৩ “আমি কথা দিয়ে এসেছি’- কোন্ কথা দিয়ে এসেছেন ?
উত্তর: কবি ঘাসফড়িং-কে কথা দিয়েছেন যে, তিনি আবার ফিরে আসবেন।
৬। সংক্ষেপে নীচের যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ২×২=৪
৬.১ “ভিজে ঘাসের ওপর আমাকে যেতেই হবে আবার।”- কবিকে কেন ‘ভিজে ঘাসের ওপর’ আবার যেতে হবে ?
উত্তর:-বর্ষার ঝিরঝির বৃষ্টির জল পেয়ে যে ঘাস সবুজ হয়ে উঠেছিল যার উপর পা দিয়ে কবি প্রথম ঘাসফড়িং এর সবুজ মাথা তুলে কত খেলা দেখানোর দৃশ্য দেখেছিলেন। সেই খোলা মাঠের সবুজ ঘাসের ওপর কবিকে ফিরতেই হবে। সেখানে কবি যেতে চান কারণ ঘাস ফড়িং এর সঙ্গে তাঁর নতুন এক গভীর আত্মীয়তা গড়ে উঠেছিল। ভালোবাসার টানেই কবি আবার সেখানে ভিজে ঘাসের ওপর যেতে চান।
৬.২ কাকে ‘পথিকজনের ছাতা’ বলা হয়েছে ? তার তলায় কী পাতা রয়েছে ?
উত্তর:- অশ্বত্থ গাছ’কে পথিক জনের ছাতা বলা হয়েছে কারণ
৬.৩ পাইন গাছ সারাদিন কীভাবে কাটায় ?
উত্তর:–পাইন গাছ সারা বছর তার মোমের মতো সুঁচালো পাতার মাধ্যমে সালোকসংশ্লেষণ চালিয়ে সবুজ থাকে । এরা ঘন বনের পরিবেশ থেকে উষ্ণতা গ্রহণ করে এবং খাড়াভাবে বেড়ে ওঠে । এই চিরসবুজ গাছগুলো বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে, অক্সিজেন উৎপাদন করে, মাটির ক্ষয় রোধ করে এবং বন্যপ্রাণীদের খাদ্য ও আশ্রয় প্রদান করে ।
৭। নীচের যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ১×৪=৪
৭.১ বেড়ালের মতে তিব্বতে যাওয়ার সিধে পথটি কী ?
উত্তর:–সুকুমার রায়ের ‘হ য ব র ল’ বইয়ের বেড়ালের মতে তিব্বতে যাওয়ার সিধে পথটি হলো: কলকেতা, ডায়মন্ডহারবার, রানাঘাট, তিব্বত। তার মতে, এটি খুবই সোজা রাস্তা এবং মাত্র সওয়া ঘণ্টার পথ ।
৭.২ বুড়োর পরিমাপক ফিতেটিতে কোন্ সংখ্যাটিই কেবল পড়া যাচ্ছিল ?
উত্তর:–সুকুমার রায়ের ‘হযবরল’ গল্পে বুড়োর পরিমাপক ফিতেটিতে কেবল ‘৭’ (সাত) সংখ্যাটিই পড়া যাচ্ছিল । এই ফিতে দিয়ে সে অদ্ভুত সব জিনিস মাপার চেষ্টা করছিল।
৭.৩ ‘হযবরল’-তে বেড়ালের রঙ কী ?
উত্তর:–সুকুমার রায়ের ‘হযবরল’ বইয়ে বর্ণিত বেড়ালটি ছিল লাল টকটকে রঙের । রুমাল থেকে পরিণত হওয়া এই মোটা-সোটা বেড়ালটি গোঁফ ফুলিয়ে প্যাট প্যাট করে তাকিয়ে ছিল ।
৭.৪ ‘হযবরল’ গল্পের শুরুতেই কোন্ ঋতুর কথা আছে ?
উত্তর:–সুকুমার রায়ের লেখা ‘হযবরল’ গল্পের শুরুতেই গ্রীষ্মকাল বা প্রচণ্ড গরমের কথা আছে।
৭.৫ কাকেশ্বর কুচকুচের নিবাস কোথায় ?
উত্তর:–সুকুমার রায়ের লেখা হ জ ব র ল উপন্যাসে কাক্কেশ্বর কুচকুচে থাকে ৪১ণং গেছো বাজার, কাগেয়াপটি।
৮। বন্ধনীর সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে লেখো : ১×৪=৪
৮.১ ‘সন্ধি’ কথার অর্থ (যুদ্ধ / মিলন / মারামারি / মড়ক)।
উত্তর:–‘সন্ধি’ কথার অর্থ মিলন
৮.২ ধ্বনির লিখিত রূপ হল (শব্দ / বর্ণ / সাধিত শব্দ / শব্দাংশ)।
উত্তর:-ধ্বনির লিখিত রূপ হল বর্ণ (Letter)
৮.৩ সংখ্যাবাচক শব্দ নয় (চার / সাত / তৃতীয় / বারো)।
উত্তর:-প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে তৃতীয় (তৃতীয়) সংখ্যাবাচক শব্দ নয়, এটি একটি ক্রমবাচক বা পূরণবাচক শব্দ।
৮.৪ কোনটি বিসর্গসন্ধির উদাহরণ- (পুরঃ + হিত / নিঃ + শব্দ / ভাঃ + কর / সবগুলিই)।
উত্তর:-সবগুলিই
৯। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (যে কোনো ছয়টি) : ১×৬=৬
৯.১ মৌলিক শব্দ কাকে বলে ? উদাহরণ দাও।
যেসব শব্দকে ভাঙা, বিশ্লেষণ বা আলাদা করা যায় না এবং যার সাথে কোনো প্রত্যয়, বিভক্তি বা উপসর্গ যুক্ত থাকে না, তাদের মৌলিক শব্দ। বলে এই শব্দগুলোই ভাষার মূল উপাদান এবং এগুলোকে বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো শব্দ পাওয়া যায় না ।
উদাহরণ:
মা
বাবা
বই
৯.২ পূরণবাচক শব্দ আর কী কী নামে পরিচিত ?
উত্তর:-পূরণবাচক শব্দ প্রধানত ক্রমবাচক শব্দ বা ক্রমবাচক সংখ্যা (Ordinal Numbers) নামে পরিচিত । এছাড়াও, এগুলোকে অনেক সময় ক্রম নির্দেশক শব্দ বা সংখ্যাবাচক বিশেষণের একটি প্রকার হিসেবেও গণ্য করা হয়, যা কোনো সমষ্টির বিভিন্ন উপাদানের ক্রমিক অবস্থান বা পর্যায় বোঝাতে ব্যবহৃত হয় । উদাহরণ: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি।
৯.৩ সন্ধি বিচ্ছেদ করো : প্রাতরাশ, নির্বিকার।
উত্তর:-
প্রাতরাশ = প্রাতঃ + আশ (এটি একটি বিসর্গ সন্ধি, যেখানে বিসর্গ () এবং ‘আ’ মিলে ‘রা’ হয়েছে)।
নির্বিকার = নিঃ + বিকার (এটি একটি বিসর্গ সন্ধি, যেখানে বিসর্গ () ‘র’ () তে পরিণত হয়েছে)।
৯.৪ বিসর্গ সন্ধির ফলে বিসর্গটি ‘র’-এ পরিণত হয়েছে এমন দুটি উদাহরণ দাও।
উত্তর:-
বিসর্গ সন্ধিতে বিসর্গ () ‘র’-এ পরিণত হয়েছে—এমন দুটি উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো
১. নীরব (নিঃ + রব) – এখানে ‘নিঃ’ এর বিসর্গ ‘র’ (রেফ) হয়ে ‘রব’ এর সাথে যুক্ত হয়েছে।
২. দুরবস্থা (দুঃ + অবস্থা) – এখানে ‘দুঃ’ এর বিসর্গ ‘র’-এ পরিণত হয়েছে
অন্যান্য উদাহরণ: নির্জন (নিঃ + জন), পুনর্বার (পুনঃ + বার)
৯.৫ ‘সন্দেশ’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ কী ?
উত্তর:-‘সন্দেশ’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হলো ‘সংবাদ’, ‘খবর’ বা ‘বার্তা’
৯.৬ একটি স্বরধ্বনির সাহায্যে গঠিত শব্দের উদাহরণ দাও।
উত্তর:-একটি মাত্র স্বরধ্বনির সাহায্যে গঠিত বাংলা শব্দ হলো ‘ও’ (বিস্ময়বোধক বা সংযোজক অব্যয়, যেমন- “ওরে”) এবং ‘আ’ (আক্ষেপ বা যন্ত্রণা, যেমন- “আহ”)। এগুলো কোনো ব্যঞ্জনবর্ণের সাহায্য ছাড়াই স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে উচ্চারিত হতে পারে।
৯.৭ ‘বৃহস্পতি’ শব্দটির সন্ধিবিচ্ছেদ করো। একে কী ধরনের সন্ধি বলা হয় ?
উত্তর:-বৃহস্পতি’ শব্দটির সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ হলো: বৃহঃ + পতি = বৃহস্পতি।
এটি একটি নিপাতনে সিদ্ধ বিসর্গ সন্ধি।
৯.৮ একটি অনির্দেশক সংখ্যা শব্দের উদাহরণ দাও।
উত্তর:-একটি অনির্দেশক বা অনির্দিষ্টতাসূচক সংখ্যা শব্দের উদাহরণ হলো “দশেক” (দশ + -এক)। এছাড়া, “কয়জন”, “কয়েকটি” বা “পাঁচ-সাত” (যেমন: “পাঁচ-সাত মাইল”) শব্দবন্ধগুলোও অনির্দেশক সংখ্যা হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা না বুঝিয়ে মোটামুটি একটি পরিমাণ বা সংখ্যা নির্দেশ করে






