অতীত ও ঐতিহ্য(ইতিহাস)

ষষ্ঠ শ্রেণি 

ষষ্ঠ শ্রেণি ইতিহাস

দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট সেট-১

Class 6 History

2nd Unit Test Question Paper Set-1 wbbse 

2ND SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 6 (VI) WBBSE
HISTORY QUESTION PAPER

Set-1

দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ২০২৫
ষষ্ঠ শ্রেণি    বিষয় : ইতিহাস
সময় : ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট               পূর্ণমান : ৫০

১। সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো : ১x৫=৫

১.১ আদি বৈদিক যুগের ইতিহাস জানার একমাত্র উপাদান–
(ক) জেন্দ-আবেস্তা, (খ) মহাকাব্য
(গ) ঋগ্বেদ (ঘ) পুরাণ।

উত্তরঃ (গ) ঋগ্বেদ।

১.২ মেগালিথ বলা হয়–
(ক) বড়ো পাথরের গাড়িকে
(খ) বড়ো পাথরের সমাধিকে,
(গ) বড়ো পাথরের খেলনাকে
(ঘ) বড়ো পাথরের বাড়িকে।

উত্তরঃ (খ) বড়ো পাথরের সমাধিকে।

১.৩ জৈন ধর্মের প্রধান প্রচারককে বলা হত–
(ক) কেবলিন (খ) মহাবীর (গ) তীর্থঙ্কর (ঘ) পার্শ্বনাথ।

উত্তরঃ (গ) তীর্থঙ্কর।

১.৪ পিটক কথার অর্থ হল–
(ক) ঝাঁপি (খ) ঝুড়ি (গ) সাজি (ঘ) বাটি।

উত্তরঃ (খ) ঝুড়ি।

১.৫ মৌর্য আমলে জেলা প্রশাসনকে বলা হত–
(ক) আহার (খ) বিহার (গ) প্রহার (ঘ) প্রতিহার।

উত্তরঃ (ক) আহার।

২। ‘ক’-স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’-স্তম্ভ মিলিয়ে লেখো :
১x৫=৫

‘ক’-স্তম্ভ

‘খ’-স্তম্ভ

(১) মজঝিম পতিপদা

(ক) কনিষ্ক

(২) গুপ্ত সম্রাট

(খ) গৌতম বুদ্ধ

(৩) কুষাণ সম্রাট

(গ) সমুদ্রগুপ্ত

(৪) মৌর্য সম্রাট

(ঘ) ধননন্দ

(৫) নন্দ রাজা

(ঙ) অশোক

উত্তরঃ

‘ক’-স্তম্ভ

‘খ’-স্তম্ভ

(১) মজঝিম পতিপদা

(খ) গৌতম বুদ্ধ

(২) গুপ্ত সম্রাট

(গ) সমুদ্রগুপ্ত

(৩) কুষাণ সম্রাট

(ঘ) অশোক

(৪) মৌর্য সম্রাট

(ক) কনিষ্ক

(৫) নন্দ রাজা

(ঙ) ধননন্দ

৩। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : ১x৫=৫

(ক) ঋবৈদিক যুগের প্রধান দেবতা কে ছিলেন ?

উত্তরঃ ইন্দ্র।

(খ) ‘সকলোত্তরপথনাথ’ কাকে বলা হত।

উত্তরঃ হর্ষবর্ধনকে।

(গ) আলেকজান্ডারের সেনাপতির নাম কী ?

উত্তরঃ সেলুকাস।

(ঘ) ‘এলাহাবাদ প্রশস্তি’র রচয়িতা কে ?

উত্তরঃ হরিষেন।

(ঙ) কুষাণ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে ?

উত্তরঃ কুজুল কদফিসেস।

৪। নির্দেশ অনুযায়ী উত্তর দাও : ১x৬=৬

(ক) ঠিক / ভুল লেখো : বৌদ্ধধর্ম প্রচারের ভাষা ছিল সংস্কৃত।

উত্তরঃ ভুল (পালি)

(খ) শূন্যস্থান পূরণ করো : ‘ইন্ডিকা’ গ্রন্থের লেখক হলেন ____________।

উত্তরঃ মেগাস্থিনিস।

(গ) ঠিক / ভুল লেখো : জেন্দ-আবেস্তার শ্রেষ্ঠ দেবতা ইন্দ্র।

উত্তরঃ ভুল

(ঘ) বেমানান শব্দটি লেখো : ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, শুদ্র, নৃপতি।

উত্তরঃ নৃপতি।

(ঙ) বেমানান শব্দটি লেখো : নাসিক লেখ , মহাস্থানগড় লেখ, অর্থশাস্ত্র, কার্লে লেখ।

উত্তরঃ অর্থশাস্ত্র।

(চ) শূন্যস্থান পূরণ করো : ‘শকারি’ বলা হয়, ___________কে।

উত্তরঃ দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত

৫। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : ২x৫=১০

(ক) ত্রিরত্ন কী ?

ANS-ত্রিরত্ন হল বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মানুসারে তিনটি মূল্যবান রত্ন বা স্তম্ভ। বৌদ্ধধর্মে ত্রিরত্ন বলতে বুদ্ধ, ধর্ম (বৌদ্ধ শিক্ষা), এবং সংঘ (বৌদ্ধ সন্ন্যাসী সংঘ) এই তিনটি উপাদানকে বোঝায়, যা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীদের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধার ও আশ্রয় লাভের বস্তু। অন্যদিকে, জৈনধর্মে ত্রিরত্ন বলতে সঠিক বিশ্বাস (সম্যক দর্শন), সঠিক জ্ঞান (সম্যক জ্ঞান), এবং সঠিক আচরণ (সম্যক চরিত্র) এই তিনটি বিষয়কে বোঝায়, যা মোক্ষ লাভের জন্য অপরিহার্য। 

(খ) শ্বেতাম্বর কাদের বলা হয় ?

ANS-“শ্বেতাম্বর” শব্দটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ “শ্বেত” (সাদা) এবং “অম্বর” (পোশাক) থেকে, যার অর্থ সাদা পোশাক পরিহিত।

শ্বেতাম্বররা বিশ্বাস করেন না যে সন্ন্যাসীদের জন্য নগ্নতা অপরিহার্য। 

(গ) ‘পঞ্চমহাব্রত’ কী ?

ANS-পঞ্চমহাব্রত হল জৈনধর্মের পাঁচটি প্রধান ব্রত বা নিয়ম, যা সন্ন্যাসী ও সন্ন্যাসিনীদের জন্য প্রযোজ্য। এই ব্রতগুলি আত্ম-সংযম ও মোক্ষ (জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি) লাভের উদ্দেশ্যে পালন করা হয়। 

(ঘ) বৈদিক সমাজ কটি শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল ও কী কী ?

ANS-বৈদিক সমাজ চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল।এই শ্রেণিগুলোকে বলা হত বর্ণ। সেগুলি হল ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য এবং শূদ্র। 

(ঙ) ‘আইহোল প্রশস্তি’ কে রচনা করেন ও কোন রাজার প্রসঙ্গে এটি রচিত হয় ?

উত্তরঃ রবি কীর্তি‘আইহোল প্রশস্তি’ কে রচনা করেন ।

 দ্বিতীয় পুলকেশী রাজার প্রসঙ্গে এটি রচিত হয় ।

৬। টীকা লেখো : ৩x৩=৯

(ক) চতুরাশ্রম।

ANS-“চতুরাশ্রম” শব্দটি হিন্দু দর্শনে জীবনের চারটি স্তরকে বোঝায়। এই চারটি স্তর হল: 

 ব্রহ্মচর্য, গার্হস্থ্য, বানপ্রস্থ এবং সন্ন্যাস। 

চতুরাশ্রম:

    1. ব্রহ্মচর্য: এই স্তরে, ব্যক্তি শিক্ষা এবং জ্ঞানার্জনে মনোনিবেশ করে। সাধারণত এটি শৈশব থেকে বিবাহ পূর্ব পর্যন্ত সময়কালকে নির্দেশ করে। 

    2. গার্হস্থ্য: এই পর্যায়ে, ব্যক্তি বিবাহিত জীবনযাপন করে, পরিবার গঠন করে এবং সামাজিক দায়িত্ব পালন করে। 

    3. বানপ্রস্থ: এই স্তরে, ব্যক্তি सांसারিক জীবন থেকে ধীরে ধীরে অবসর নেয় এবং আধ্যাত্মিকতার দিকে মনোযোগ দেয়। 

      4.সন্ন্যাস: এটি জীবনের শেষ পর্যায়, যেখানে ব্যক্তি জাগতিক বন্ধন ত্যাগ করে মোক্ষ (মুক্তি) লাভের চেষ্টা করে। 

এই চারটি আশ্রম জীবনের চারটি পর্যায় যা মানব জীবনের বিকাশ এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। 

(খ) ষোড়শ মহাজনপদ।

ANS-বৈদিক ধর্মের জটিলতা ও কুসংস্কার, পুরোহিত শ্রেণীর      আধিপত্য, ব্যয়বহুল আচার-অনুষ্ঠান, বর্ণপ্রথার কঠোরতা, এবং সাধারণ মানুষের জীবনের উপর এর ক্ষতিকর প্রভাব।

প্রাচীন ভারতে খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ থেকে চতুর্থ শতাব্দীর মধ্যে 16টি প্রধান রাজ্য বা মহাজনপদ ছিল। এই রাজ্যগুলি ছিল : মগধ, কোশল, অঙ্গ, কাশী, বৃজি, মল্ল, চেদি, বৎস, কুরু, পাঞ্চাল, মৎস্য, সুরসেন, অশ্মক, অবন্তী, গান্ধার এবং কম্বোজ। এই মহাজনপদগুলির মধ্যে মগধ ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী।
ষোড়শ মহাজনপদগুলি ছিল:
মগধ:
প্রাচীন ভারতের শক্তিশালী রাজ্যগুলির মধ্যে একটি, যা বর্তমান বিহার রাজ্যে অবস্থিত ছিল।
কোশল:
উত্তর প্রদেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি রাজ্য।
অঙ্গ:
বিহারের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি রাজ্য।
কাশী:
উত্তর প্রদেশের বারাণসী অঞ্চলে অবস্থিত একটি রাজ্য।
বৃজি:
বিহারের উত্তর অংশে অবস্থিত একটি রাজ্য।
মল্ল:
উত্তর প্রদেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি রাজ্য।
চেদি:
মধ্য ভারতে অবস্থিত একটি রাজ্য।
বৎস:
উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদ অঞ্চলে অবস্থিত একটি রাজ্য।
কুরু:
দিল্লি ও হরিয়ানা অঞ্চলের আশেপাশে অবস্থিত একটি রাজ্য।
পাঞ্চাল:
উত্তর প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত একটি রাজ্য।
মৎস্য:
রাজস্থানের জয়পুর অঞ্চলে অবস্থিত একটি রাজ্য।
সুরসেন:
উত্তর প্রদেশের মথুরা অঞ্চলে অবস্থিত একটি রাজ্য।
অশ্মক:
গোদাবরী নদীর তীরে অবস্থিত একটি রাজ্য।
অবন্তী:
মধ্য প্রদেশের মালওয়া অঞ্চলে অবস্থিত একটি রাজ্য।
গান্ধার:
বর্তমান পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত একটি রাজ্য।
কম্বোজ:
বর্তমান আফগানিস্তান ও তাজিকিস্তানের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত একটি রাজ্য।
এই মহাজনপদগুলি বিভিন্ন সময়ে একে অপরের সাথে যুদ্ধ এবং মিত্রতা স্থাপন করে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

(গ) দশ রাজার যুদ্ধ

ANS-দশ রাজার যুদ্ধ ছিল ঋগ্বেদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যেখানে ভরত উপজাতির রাজা সুদাস, দশটি উপজাতির সম্মিলিত বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। এই যুদ্ধটি পরুষ্ণী নদীর তীরে (বর্তমান রাভি নদী) সংঘটিত হয়েছিল এবং সুদাস এতে জয় লাভ করেন। এই যুদ্ধের ফলে ভরতরা গাঙ্গেয় উপত্যকায় নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়।
দশ রাজার যুদ্ধ ঋগ্বেদের সপ্তম মণ্ডলে (অধ্যায় 18, 33 এবং 83.4-8) বিস্তারিতভাবে বর্ণিত আছে। এই যুদ্ধে সুদাস, দশটি উপজাতির একটি জোটকে পরাজিত করেন, যাদের মধ্যে পুরু সহ অন্যান্য উপজাতিও ছিল। যুদ্ধের কারণ ছিল সুদাস কর্তৃক পুরোহিত বশিষ্ঠকে অপসারণ এবং বিশ্বামিত্রকে নিয়োগ করা।
এই যুদ্ধের ফলাফল ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভরতদের রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে এবং তাদের গাঙ্গেয় উপত্যকায় একটি প্রভাবশালী জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এই যুদ্ধ প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসাবে বিবেচিত হয়।

৭। নীচের যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৫x২=১০

(ক) বৈদিক যুগের শিক্ষাব্যবস্থা কেমন ছিল ?

ANS-বৈদিক যুগের শিক্ষাব্যবস্থা ছিল গুরুকুল ভিত্তিক, যেখানে শিষ্যরা গুরুর সাথে থেকে শিক্ষা লাভ করত। এই শিক্ষাব্যবস্থার মূল ভিত্তি ছিল বেদ এবং উপনিষদ। এই শিক্ষাব্যবস্থায় জ্ঞানার্জন ও নৈতিক বিকাশ – উভয় দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হত। 

বৈদিক শিক্ষার বৈশিষ্ট্য ও কাঠামো:

গুরুকুল:

বৈদিক শিক্ষা গুরুকুলে দেওয়া হত। ছাত্ররা গুরুর আশ্রয়ে থেকে Bed, উপনিষদ, ধর্ম, দর্শন, বিজ্ঞান, জ্যোতিষ, ইত্যাদি বিষয় শিক্ষা করত। 

শ্রুতি ও স্মৃতি:

বৈদিক শিক্ষা প্রধানত শ্রুতি (শুনে মনে রাখা) ও স্মৃতির (যা মনে আছে তার পুনরাবৃত্তি) উপর ভিত্তি করে চলত, কারণ সেই সময় লেখার প্রচলন কম ছিল। 

আধ্যাত্মিক ও নৈতিক বিকাশ:

বৈদিক শিক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল আধ্যাত্মিক ও নৈতিক বিকাশ সাধন করা। জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মূল্যবোধ ও চারিত্রিক দৃঢ়তা তৈরি করা হত। 

ব্যবহারিক শিক্ষা:

শুধুমাত্র তত্ত্বগত জ্ঞান নয়, ব্যবহারিক শিক্ষাকেও গুরুত্ব দেওয়া হত। যেমন, যুদ্ধবিদ্যা, অর্থনীতি, চিকিৎসা ইত্যাদি বিষয়ও শেখানো হত। 

শিক্ষকের মর্যাদা:

শিক্ষক বা গুরুকে সমাজে অত্যন্ত সম্মানিত মনে করা হত এবং শিষ্যরা গুরুর প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকত। 

গুরুদক্ষিণা:

শিক্ষা সমাপ্তির পর শিষ্য গুরুকে গুরুদক্ষিণা দিতেন, যা সাধারণত অর্থ বা অন্যান্য মূল্যবান বস্তু হত। 

বৈদিক শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের একটি সুসংহত জীবনযাপন এবং সমাজের বৃহত্তর কল্যাণে অবদান রাখার জন্য প্রস্তুত করা। 

(খ) মৌর্য শাসনব্যবস্থার প্রধান বিষয়গুলি উল্লেখ করো।

ANS-মৌর্য শাসনব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল কেন্দ্রীভূত প্রশাসন, শক্তিশালী সামরিক ব্যবস্থা, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, এবং গ্রাম প্রধানের ভূমিকা।এছাড়াও, একটি দক্ষ আমলাতন্ত্র, ন্যায় বিচার ব্যবস্থা, এবং জনকল্যাণমূলক কার্যাবলীও এই শাসনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল। 

মৌর্য শাসনব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল:

কেন্দ্রীভূত প্রশাসন:

মৌর্য সাম্রাজ্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিল রাজা, যিনি ছিলেন সকল ক্ষমতার উৎস। 

শক্তিশালী সামরিক ব্যবস্থা:

একটি বিশাল এবং সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনী সাম্রাজ্যের সুরক্ষা ও বিস্তৃতির জন্য অপরিহার্য ছিল। 

উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা:

স্থল ও জলপথে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করত। 

গ্রাম প্রধানের ভূমিকা:

গ্রাম ছিল প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট, এবং গ্রাম প্রধান স্থানীয় পর্যায়ে শাসনকার্য পরিচালনা করতেন। 

দক্ষ আমলাতন্ত্র:

একটি শক্তিশালী আমলাতন্ত্র সাম্রাজ্যের কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নিযুক্ত ছিল। 

ন্যায় বিচার ব্যবস্থা:

একটি ন্যায় বিচার ব্যবস্থা ছিল, যা সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করত। 

জনকল্যাণমূলক কার্যাবলী:

রাস্তা নির্মাণ, সরাইখানা স্থাপন, কূপ খনন ইত্যাদি জনকল্যাণমূলক কাজও মৌর্য শাসকরা করতেন। 

অশোকের শিলালিপি:

অশোকের শিলালিপি থেকে মৌর্য প্রশাসনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানা যায়। 

অর্থশাস্ত্র:

চাণক্যের অর্থশাস্ত্র মৌর্য প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। 

এই সমস্ত বৈশিষ্ট্যগুলির সম্মিলিত রূপ মৌর্য সাম্রাজ্যের একটি শক্তিশালী ও সুসংহত শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল। 

(গ) নব্যধর্ম আন্দোলনের উদ্ভবের কারণগুলি কী কী ?

ANS-ষষ্ঠ শতকে প্রাচীন ভারতে নব্যধর্মীয় আন্দোলনের উত্থান বেশ কিছু কারণের জন্য হয়েছিল। এর মধ্যে প্রধান কারণগুলি হল: 

বৈদিক ধর্মের জটিলতা ও কুসংস্কার, পুরোহিত শ্রেণীর আধিপত্য, ব্যয়বহুল আচার-অনুষ্ঠান, বর্ণপ্রথার কঠোরতা, এবং সাধারণ মানুষের জীবনের উপর এর ক্ষতিকর প্রভাব।

এই পরিস্থিতিতে, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের মতো নতুন ধর্মগুলো সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন সৃষ্টি করে এবং দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে। 

নব্যধর্ম আন্দোলনের উত্থানের প্রধান কারণগুলি হল:

বৈদিক ধর্মের জটিলতা ও কুসংস্কার:

বৈদিক ধর্মের আনুষ্ঠানিকতা ও আচার-অনুষ্ঠানগুলি সাধারণ মানুষের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। জটিল মন্ত্র, বলিদান এবং পুরোহিতদের একচেটিয়া অধিকার সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে। 

পুরোহিত শ্রেণীর আধিপত্য:

পুরোহিত শ্রেণি সমাজে বিশেষ সুবিধা ভোগ করত এবং সাধারণ মানুষের উপর এক ধরনের আধিপত্য বিস্তার করত। এটিও নব্যধর্ম আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল। 

ব্যয়বহুল আচার-অনুষ্ঠান:

বৈদিক ধর্মের আচার-অনুষ্ঠানগুলি ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল। দরিদ্র ও সাধারণ মানুষ এই ব্যয়ভার বহন করতে পারত না, যা তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে। 

বর্ণপ্রথা:

বৈদিক সমাজে বর্ণপ্রথা ছিল কঠোর এবং এটি সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করত। উঁচু বর্ণের মানুষরা সুবিধা পেত, অন্যদিকে নিচু বর্ণের মানুষেরা ছিল চরম বৈষম্যের শিকার। এটিও নব্যধর্ম আন্দোলনের উত্থানের একটি কারণ ছিল 

সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব:

এই সমস্ত কারণগুলি সাধারণ মানুষের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। তাই, তারা নতুন ধর্মগুলোর দিকে আকৃষ্ট হয়েছিল, যা তাদের জীবনে শান্তি ও মুক্তি এনে দিতে পারত। 

এই কারণগুলির জন্য, বৌদ্ধ, জৈন এবং অন্যান্য নব্যধর্মগুলি দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং ভারতীয় সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসে। 

 

SOURCE- HZN

©kamaleshforeducation.in(2023)

 

error: Content is protected !!
Scroll to Top