দ্বাদশ অধ্যায় ‘বর্জ্য পদার্থ 

(পৃষ্ঠা ২০৭-২২০) থেকে প্রশ্ন ও উত্তর:

[অতিসংক্ষিপ্ত।নৈর্ব্যক্তিক/সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (মান ১ বা ২)]

১. প্রশ্ন: বর্জ্য পদার্থ কাকে বলে?

উত্তর: দৈনন্দিন কাজে ব্যবহারের পর যে সব পরিত্যক্ত পদার্থ আর কোনো কাজে লাগে না, তাদের বর্জ্য পদার্থ বলে।

২. প্রশ্ন: বর্জ্য পদার্থ প্রধানত কয় প্রকার?

উত্তর: তিন প্রকার- কঠিন বর্জ্য, তরল বর্জ্য এবং গ্যাসীয় বর্জ্য।

৩. প্রশ্ন: জৈব ভঙ্গুর (Biodegradable) বর্জ্য কী?

উত্তর: যে সব বর্জ্য পদার্থ অণুজীবের (ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক) ক্রিয়ায় সহজেই পচে গিয়ে মাটির সাথে মিশে যায়

৪. প্রশ্ন: জৈব অভঙ্গুর (Non-biodegradable) বর্জ্য কী?

উত্তর: যে সব বর্জ্য পদার্থ সহজে পচে না এবং মাটির সাথে মিশে যায় না।

৫. প্রশ্ন: একটি কঠিন বর্জ্যের উদাহরণ দাও।

উত্তর: প্লাস্টিক বোতল বা কাচ।

৬. প্রশ্ন: গৃহস্থালির একটি তরল বর্জ্যের নাম লেখো।

উত্তর: বাসন মাজা বা কাপড় কাচার সাবান মিশ্রিত নোংরা জল।

৭. প্রশ্ন: স্ক্রাবার (Scrubber) যন্ত্রটি কেন ব্যবহার করা হয়?

উত্তর: কারখানার ধোঁয়া থেকে গ্যাসীয় বর্জ্য বা বিষাক্ত কণা দূর করার জন্য।

৮.  প্রশ্ন: ‘বর্জ্য পৃথকীকরণ’ বলতে কী বোঝো?

উত্তর: বিভিন্ন ধরণের বর্জ্যকে (যেমন- কাচ, প্লাস্টিক, পচনশীল বর্জ্য) আলাদা আলাদা পাত্রে জমা করা।

৯. প্রশ্ন: ফোর-আর (4R) পদ্ধতির পূর্ণরূপ কী?

উত্তর: Reduce (হ্রাস করা), Reuse (পুনর্ব্যবহার), Recycle (পুনশ্চক্রীকরণ) এবং Refuse (প্রত্যাখ্যান)।

১০. প্রশ্ন: একটি জৈব অভঙ্গুর বর্জ্যের উদাহরণ দাও।

উত্তর: পলিখিন বা প্লাস্টিক।

১১. প্রশ্ন: কৃষিক্ষেত্র থেকে আসা একটি বর্জ্যের নাম লেখো।

উত্তর: রাসায়নিক সার বা কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ।

১২. প্রশ্ন: ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication) কী?

উত্তর: জলে পুষ্টির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় শৈবালের অত্যধিক বৃদ্ধি হওয়া যা জলের অক্সিজেনের অভাব ঘটায়।

১৩. প্রশ্ন: ই-বর্জ্য (E-waste) বা ইলেকট্রনিক বর্জ্য কী?

উত্তর: পরিত্যক্ত বা নষ্ট হয়ে যাওয়া কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, টিভি ইত্যাদি।

১৪.  প্রশ্ন: হাসপাতাল থেকে আসা একটি বর্জ্যের নাম লেখো।

উত্তর: ব্যবহৃত সিরিজ, ব্যান্ডেজ বা ওষুধের খালি বোতল।

১৫. প্রশ্ন: ল্যান্ডফিল (Landfill) কী?

উত্তর: শহরের বর্জ্য পদার্থগুলো নির্দিষ্ট নিচু জায়গায় ফেলে ভরাট করার পদ্ধতি।

১৬. প্রশ্ন: কম্পোস্টিং (Composting) কাকে বলে?

উত্তর: পচনশীল জৈব বর্জ্য থেকে অণুজীবের সাহায্যে সার তৈরির পদ্ধতি।

১৭. প্রশ্ন: স্যুয়েজ (Sewage) কী?

উত্তর: শহর বা নগরের নর্দমার নোংরা তরল বর্জ্য।

১৮. প্রশ্ন: তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের একটি উৎসের নাম লেখো।

উত্তর: পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

১৯. প্রশ্ন: পরিবেশের ওপর বর্জ্যের একটি কুপ্রভাব লেখো।

উত্তর: মাটি, জল ও বায়ু দূষণ ঘটানো।

২০. প্রশ্ন: সবজির খোসা কোন ধরণের বর্জ্য?

উত্তর: জৈব ভঙ্গুর বর্জ্য।

২১. প্রশ্ন: প্লাস্টিক কেন পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর?

উত্তর: এটি কয়েকশ বছরেও পচে না এবং মাটির উর্বরতা ও জল চলাচলে বাধা দেয়।

২২. প্রশ্ন: বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘Recycle’ এর গুরুত্ব কী?

উত্তর: এর মাধ্যমে ব্যবহৃত পুরনো বস্তুকে নতুন ব্যবহারযোগ্য বস্তুতে রূপান্তর করা যায়।

২৩. প্রশ্ন: ভস্মীকরণ বা ইনসিনারেটর (Incinerator) কী?

উত্তর: বর্জ্য পদার্থকে পুড়িয়ে ছাইয়ে পরিণত করার একটি বড় চুল্লি।

২৪. প্রশ্ন: ধোঁয়া কোন ধরণের বর্জ্য?

উত্তর: গ্যাসীয় বর্জ্য।

২৫. প্রশ্ন: বর্জ্য জল পরিশোধন করার পর কোথায় ফেলা উচিত?

উত্তর: নদী বা জলাশয়ে।

২৬. প্রশ্ন: ব্যাটারি থেকে কোন ক্ষতিকর ধাতু বর্জ্য হিসেবে বের হয়?

উত্তর: সীসা বা ক্যাডমিয়াম।

২৭. প্রশ্ন: কোন গ্যাসটি পচনশীল বর্জ্য থেকে তৈরি হয়?

উত্তর: মিথেন গ্যাস।

২৮. প্রশ্ন: ফোর-আর পদ্ধতির ‘Refuse’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বস্তু (যেমন- প্লাস্টিক ব্যাগ) ব্যবহার করতে অস্বীকার করা।

২৯.  প্রশ্ন: শিল্প বর্জ্য কাকে বলে?

উত্তর: কলকারখানা থেকে নির্গত বর্জ্য পদার্থকে শিল্প বর্জ্য বলে।

৩০. প্রশ্ন: একটি তরল বিষাক্ত বর্জ্যের নাম লেখো।

উত্তর: কলকারখানার রাসায়নিক মিশ্রিত জল।

৩১. প্রশ্ন: ফিনাইল বা ডিটারজেন্ট মিশ্রিত জল কী ধরণের বর্জ্য?

উত্তর: তরল বর্জ্য।

৩২.প্রশ্ন: গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান (GAP) কীমের সাথে যুক্ত?

উত্তর: গঙ্গার জল দূষণ কমানো ও বর্জ্য পরিষ্কারের সাথে।

৩৩. প্রশ্ন: প্লাস্টিকের বদলে কী ব্যবহার করা উচিত?

উত্তর: চটের ব্যাগ বা কাগজের ঠোঙা।

৩৪. প্রশ্ন: সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের মূল উদ্দেশ্য কী?

উত্তর: বর্জ্যের পরিমাণ কমানো এবং পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখা।

৩৫. প্রশ্ন: তেজস্ক্রিয় বর্জ্য কোন রোগে সাহায্য করে?

উত্তর: এটি ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করতে পারে।

৩৬. প্রশ্ন: বর্জ্য থেকে সার তৈরি করলে মাটির কী লাভ হয়?

উত্তর: মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।

৩৭. প্রশ্ন: পুরনো লোহার টুকরোকে কী করা উচিত?

উত্তর: রিসাইকেল বা পুনশ্চক্রীকরণ করা উচিত।

৩৮. প্রশ্ন: ধোঁয়াশা (Smog) কী?

উত্তর: ধোঁয়া এবং কুয়াশার মিশ্রণ।

৩৯. প্রশ্ন: মশা মাছি কোন ধরণের বর্জ্যে বেশি জন্মায়?

উত্তর: ভিজে ও পচনশীল বর্জ্যে।

৪০. প্রশ্ন: ড্রেনে প্লাস্টিক ফেললে কী হয়?

উত্তর: ড্রেন বা নর্দমার মুখ বন্ধ হয়ে জল নিকাশি ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে।

৪১.? প্রশ্ন: আবর্জনা পোড়ালে কোন বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়?

উত্তর: কার্বন মনোক্সাইড এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড।

৪২.? প্রশ্ন: স্যানিটারি ল্যান্ডফিল কী?

উত্তর: বিজ্ঞানসম্মতভাবে বর্জ্য মাটি চাপা দেওয়ার পদ্ধতি।

৪৩. প্রশ্ন: বর্জ্য পদার্থ ফেলার সঠিক জায়গা কোনটি?

উত্তর: ডাস্টবিন বা নির্দিষ্ট বর্জ্য সংগ্রহ কেন্দ্র।

৪৪. প্রশ্ন: আমাদের দেশে বর্জ্য সংগ্রহের জন্য কোন রঙের বিন ব্যবহার করা হয়?

উত্তর: পচনশীলের জন্য সবুজ এবং অপচনশীলের জন্য নীল।

৪৫. প্রশ্ন: খড় বা নাড়া পোড়ালে বায়ু দূষণ হয় কেন?

উত্তর: প্রচুর পরিমাণে ধোঁয়া ও ক্ষতিকর কণা উৎপন্ন হয় বলে।

৪৬. প্রশ্ন: কাগজ কোন ধরণের বর্জ্য?

উত্তর: জৈব ভঙ্গুর বর্জ্য।

৪৭. প্রশ্ন: বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ছাত্রদের ভূমিকা কী হতে পারে?

উত্তর: বর্জ্য যত্রতত্র না ফেলা এবং অন্যদের সচেতন করা।

৪৮.  প্রশ্ন: থার্মোকল কী ধরণের বর্জ্য?

উত্তর: জৈব অভঙ্গুর বর্জ্য।

৪৯. প্রশ্ন: সমুদ্রের জলে প্লাস্টিক ফেললে কাদের ক্ষতি হয়?

উত্তর: সামুদ্রিক প্রাণী ও মাছের।

৫০.  প্রশ্ন: ‘বর্জ্য হ্রাস’ (Reduce) এর একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত জিনিস না কেনা।

৫১. প্রশ্ন: সিসা মেশানো বর্জ্য মানবদেহে কী ক্ষতি করে?

উত্তর: মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করে।

৫২. প্রশ্ন: গোবর কী ধরণের বর্জ্য?

উত্তর: কৃষিজাত পচনশীল বর্জ্য।

৫৩. প্রশ্ন: ফোর-আর পদ্ধতির ‘Reuse’ এর একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: প্লাস্টিক বা কাচের বয়াম ধুয়ে তাতে চাল-ডাল রাখা।

৫৪. প্রশ্ন: তেজস্ক্রিয় বর্জ্য কীভাবে রাখা উচিত?

উত্তর: সিসার মোটা পাত্রে ভরে মাটির অনেক গভীরে।

৫৫. প্রশ্ন: ফ্লোরাইড যুক্ত বর্জ্য জলে মিশলে কী রোগ হয়?

উত্তর: ফ্লুরোসিস (দাঁত ও হাড়ের রোগ)।

৫৬. প্রশ্ন: পৌরসভা বর্জ্য (Municipal waste) কী?

উত্তর: শহর এলাকার বাড়িঘর, বাজার ও অফিস থেকে নির্গত বর্জ্য।

৫৭. প্রশ্ন: বর্জ্য পৃথকীকরণ কেন জরুরি?

উত্তর: পুনশ্চক্রীকরণ ও সার তৈরির কাজ সহজ করার জন্য।

৫৮. প্রশ্ন: স্ক্র্যাপ মেটাল (Scrap metal) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: ধাতুর পরিত্যক্ত ছোট টুকরো বা অংশ।

৫৯.  প্রশ্ন: হাসপাতালে হলুদ রঙের বিনে কী ফেলা হয়?

উত্তর: সংক্রমিত বর্জ্য যেমন- ব্যান্ডেজ বা তুলো।

৬০. প্রশ্ন: বায়ু দূষণকারী একটি গ্যাসীয় বর্জ্যের নাম লেখো।

উত্তর: সালফার ডাই-অক্সাইড।

[রচনামূলক / বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর (মান ৩/৪)]

৬১.? প্রশ্ন: বর্জ্য পদার্থের শ্রেণীবিভাগ করো এবং প্রতিটি ভাগের উদাহরণ দাও।

উত্তর: বর্জ্য পদার্থকে তাদের ভৌত অবস্থা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা যায়:

 ১. কঠিন বর্জ্য: প্লাস্টিক, কাচ, ধাতু, সবজির খোসা।

২. তরল বর্জ্য: নর্দমার নোংরা জল, কারখানার রাসায়নিক মিশ্রিত জল, সাবান জল।

৩. গ্যাসীয় বর্জ্য: কারখানার ধোঁয়া, গাড়ির বিষাক্ত গ্যাস (CO, SO_2), ধোঁয়াশা।

 ৬২. প্রশ্ন: জৈব ভঙ্গুর ও জৈব অভঙ্গুর বর্জ্যের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

 উত্তর: জৈব ভঙ্গুর: এরা অণুজীবের সাহায্যে দ্রুত পচে মাটিতে মিশে যায়।এদের থেকে সার তৈরি করা যায়। যেমন- কাগজ, খাবারের অবশিষ্টাংশ। জৈব অভঙ্গুর: এরা পচে না এবং দীর্ঘকাল প্রকৃতিতে অবিকৃত থাকে। এরা মাটি ও জল দূষণ ঘটায়। যেমন- পলিথিন, কাচ, থার্মোকল।

 ৬৩.  প্রশ্ন: বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ফোর-আর (4R) পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করো।

 উত্তর: পরিবেশকে রক্ষা করতে ৪টি নীতি অনুসরণ করা হয়:

 ১. Reduce (হ্রাস): বর্জ্যের পরিমাণ কমানো।

 ২. Reuse (পুনর্ব্যবহার): কোনো জিনিস ফেলে না দিয়ে বারবার ব্যবহার করা।

৩. Recycle (পুনশ্চক্রীকরণ): বর্জ্য থেকে নতুন ব্যবহারযোগ্য জিনিস তৈরি।

৪. Refuse (প্রত্যাখ্যান): ক্ষতিকর জিনিস (যেমন প্লাস্টিক) ব্যবহারে না বলা।

৬৪. প্রশ্ন: প্লাস্টিক বর্জ্য কেন পরিবেশের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ?

 উত্তর: ১. প্লাস্টিক হাজার বছরেও পচে না, ফলে মাটির ভেতরে জল ও বায়ু চলাচলে বাধা দেয়।

২. ড্রেনে জমে থেকে নিকাশি ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয় এবং কৃত্রিম বন্যা সৃষ্টি করে।

 ৩. পোড়ালে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী বিষাক্ত ডাইঅক্সিন গ্যাস নির্গত হয়।

৪. গরু বা সামুদ্রিক প্রাণীরা ভুল করে খেয়ে ফেললে তাদের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

৬৫. প্রশ্ন: ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication) কীভাবে জলজ প্রাণীদের ক্ষতি করে?

 উত্তর: যখন কৃষিক্ষেত্রের সার বা নর্দমার বর্জ্য জলাশয়ে মেশে, তখন জলজ উদ্ভিদের (বিশেষ করে শৈবাল) অত্যাধিক বৃদ্ধি ঘটে। একে ‘অ্যালগাল রুম’ বলে। এই শৈবালগুলো পচে যাওয়ার সময় জলের সমস্ত দ্রবীভূত অক্সিজেন শুষে নেয়। ফলে অক্সিজেনের অভাবে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীরা মারা যায়।

৬৬. প্রশ্ন: ই-বর্জ্য (Electronic Waste) কী? এর কুপ্রভাব আলোচনা করো।

 উত্তর: পুরনো মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশকে যন্ত্রাং ই-বর্জ্য বলে। এগুলোতে সিসা, পারদ ও ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর ধাতু থাকে। যত্রতত্র এই বর্জ্য ফেললে ওই ধাতুগুলো বৃষ্টির জলে ধুয়ে মাটি ও জলে মেশে, যা মানুষের স্নায়ুতন্ত্র ও বৃক্কের (কিডনি) ক্ষতি করে।

 ৬৭. প্রশ্ন: ল্যান্ডফিল (Landfill) পদ্ধতিতে কীভাবে বর্জ্য অপসারণ করা হয়?

উত্তর: শহরের জনবসতি থেকে দূরে নিচু জমিতে বর্জ্য ফেলে ভরাট করা হয়। একে কয়েক স্তরে সাজানো হয় এবং ওপর থেকে মাটি ও কাদা দিয়ে চাপা দেওয়া হয়। বিজ্ঞানসম্মত ল্যান্ডফিলে বর্জ্য থেকে উৎপন্ন মিথেন গ্যাস সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

 ৬৮. প্রশ্ন: কম্পোস্টিং (Composting) বা জৈব সার তৈরির পদ্ধতিটি লেখো।

উত্তর: একটি বড় গর্তে রান্নাঘরের আনাজের খোসা, পচা ফল, কাগজ এবং গাছের শুকনো পাতা জমা করা হয়। এর ওপর সামান্য জল ও মাটি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। কয়েক সপ্তাহ পর অণুজীবের ক্রিয়ায় এই বর্জ্য পচে কালো সারে পরিণত হয়, যা চাষের কাজে ব্যবহার করা যায়।

৬৯. প্রশ্ন: চিকিৎসা সংক্রান্ত বর্জ্য বা মেডিকেল বর্জ্যের বিপজ্জনক দিকগুলো কী কী?

 উত্তর: হাসপাতালের ব্যবহৃত ইঞ্জেকশন, সিরিঞ্জ, রক্তমাখা তুলা, ব্যান্ডেজ এবং ওষুধের অবশিষ্টাংশ অত্যন্ত বিপজ্জনক। এগুলোর মাধ্যমে হেপাটাইটিস-বি, এইডস এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই এগুলোকে ইনসিনারেটরে পুড়িয়ে বা। বা বৈজ্ঞানিকভাবে ধ্বংস করা জরুরি।

৭০. প্রশ্ন: বর্জ্য পৃথকীকরণ কেন প্রয়োজন?

উত্তর: বর্জ্য যদি শুরুতেই আলাদা করা হয় (যেমন- পচনশীল ও অপচনশীল), তবে তা ব্যবস্থাপনা সহজ হয়। পচনশীল অংশ থেকে দ্রুত সার তৈরি করা যায় এবং অপচনশীল অংশ (কাচ, ধাতু) রিসাইকেল কারখানায় পাঠানো যায়। এতে আবর্জনার স্তূপ কমে এবং পরিবেশ পরিষ্কার থাকে।

 ৭১.?প্রশ্ন: তরল বর্জ্য কীভাবে শোধন করা হয়?

উত্তর: তরল বর্জ্য বা নর্দমার জলকে সরাসরি নদীতে না ফেলে শোধন কেন্দ্রে (Sewage Treatment Plant) পাঠানো হয়। সেখানে জলকে ছাঁকা হয় এবং অণুজীবের সাহায্যে ক্ষতিকর পদার্থ দূর করা হয়। এরপর ক্লোরিন দিয়ে জীবাণুমুক্ত করে পরিশুদ্ধ জল জলাশয়ে ফেলা হয়।

 ৭২. প্রশ্ন: গৃহস্থালির বর্জ্য হ্রাসে ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা কী হতে পারে?

উত্তর: ১. প্লাস্টিক ব্যাগের বদলে চটের বা কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করা।

 ২. খাতা বা কাগজের উভয় পিঠ ব্যবহার করা।

৩. চকোলেটের প্যাকেট বা ছেঁড়া কাগজ ডাস্টবিনে ফেলা।

৪. ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক বোতল দিয়ে পেনদানি বা গাছের টব বানিয়ে পুনর্ব্যবহার করা।

 ৭৩. প্রশ্ন: শিল্পজাত বর্জ্য কীভাবে জল দূষণ ঘটায়?

উত্তর: কলকারখানা থেকে নির্গত বর্জ্য জলে সায়ানাইড, আর্সেনিক, ক্রোমিয়াম এবং তেলের মতো বিষাক্ত পদার্থ থাকে। এই জল নদীতে মিশলে জল বিষাক্ত হয়ে যায়। এর ফলে মাছ ও জলজ উদ্ভিদ মারা যায় এবং ওই জল পান করলে মানুষ ও গবাদি পশুর রোগ হয়।

 ৭৪. প্রশ্ন: গ্যাসীয় বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে ‘স্ক্রাবার’ (Scrubber) যন্ত্রের কাজ কী?

উত্তর: কারখানার চিমনিতে স্ক্রাবার লাগানো হয়। যখন ধোঁয়া এই যন্ত্রের মধ্য দিয়ে যায়, তখন জলের ধারা বা বিশেষ রাসায়নিক ব্যবহার করে ধোঁয়ায় থাকা ধূলিকণা এবং ক্ষতিকর গ্যাস (যেমন- সালফার ডাই-অক্সাইড) শুষে নেওয়া হয়। ফলে বায়ুমণ্ডলে অপেক্ষাকৃত পরিষ্কার বাতাস নির্গত হয়।

৭৫. প্রশ্ন: তেজস্ক্রিয় বর্জ্য কেন সবচেয়ে বিপজ্জনক?

উত্তর: তেজস্ক্রিয় বর্জ্য থেকে অদৃশ্য ক্ষতিকর রশ্মি নির্গত হয় যা জীবদেহের কোষ ও জিনের গঠন বদলে দিতে পারে। এর ফলে ক্যান্সার এবং জন্মগত ফলে বিকলাঙ্গতা দেখা দিতে পারে। এই বর্জ্যের তেজস্ক্রিয়তা হাজার হাজার বছর পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে।

৭৬. প্রশ্ন: রিসাইক্লিং বা পুনশ্চক্রীকরণ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে পদ্ধতিতে ব্যবহৃত পুরনো বর্জ্য পদার্থকে প্রক্রিয়া করে নতুন ব্যবহারযোগ্য বস্তুতে রূপান্তর করা হয়, তাকে রিসাইক্লিং বলে।

উদাহরণ: পুরনো খবরের কাগজ থেকে মন্ড তৈরি করে নতুন কাগজ তৈরি করা বা ভাঙা প্লাস্টিক গলিয়ে নতুন বালতি তৈরি করা।

 ৭৭. প্রশ্ন: আবর্জনা খোলা জায়গায় পোড়ানো উচিত নয় কেন?

 উত্তর: আবর্জনা পোড়ালে প্রচুর ধোঁয়া ও কণা তৈরি হয় যা শ্বাসকষ্ট ঘটায়। প্লাস্টিক বা রবার পুড়লে ডাইঅক্সিন ও ফিউরানের মতো বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়। এছাড়া কার্বন ডাই-অক্সাইড ও কার্বন মনোক্সাইড নির্গত হয়ে বায়ু দূষণ ও বিশ্ব উষ্ণায়ন বৃদ্ধি করে।

৭৮. প্রশ্ন: সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট বা কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব কী?

উত্তর: সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মহামারীর আশঙ্কা কমানো যায়। এটি নর্দমা জ্যাম হওয়া আটকায় এবং ভূগর্ভস্থ জলকে দূষণমুক্ত রাখে। এছাড়া বর্জ্য থেকে শক্তি (Biogas) ও সার উৎপাদন করে আর্থিক লাভও করা সম্ভব।

৭৯. প্রশ্ন: ‘বর্জ্য থেকে শক্তি’ (Waste to Energy) উৎপাদন বলতে কী বোঝো?

উত্তর :পচনশীল বর্জ্যকে বিশেষ চেম্বারে রেখে বাতাস ছাড়া পচানো হলে মিথেন গ্যাস উৎপন্ন হয়, যা বায়োগ্যাস হিসেবে রান্না বা বিদ্যুৎ উৎপাদনে লাগে। আবার কিছু বর্জ্যকে উচ্চ তাপে পুড়িয়ে সেই উত্তাপ দিয়ে বাষ্প তৈরি করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করা হয়।

৮০.প্রশ্ন: সমুদ্রের বর্জ্য বা ‘ওশান প্লাস্টিক’ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের কী ক্ষতি করছে?

 উত্তর: সমুদ্রে ফেলা প্লাস্টিক কণা মাছ ও কচ্ছপের পেটে চলে যায়, যা তাদের খাদ্যনালী বন্ধ করে দেয়। বহু সামুদ্রিক পাখি ও মাছ প্লাস্টিক জালে আটকে মারা যায়। প্লাস্টিকের রাসায়নিক সাগরের খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করে শেষে মানুষের শরীরেও পৌঁছে যাচ্ছে।

৮১. প্রশ্ন: বাজার থেকে কেনা প্লাস্টিকের প্যাকেট আমরা কীভাবে ‘Reuse’ করতে পারি?

উত্তর: প্লাস্টিকের প্যাকেট ফেলে না দিয়ে তা ধুয়ে আবার বাজার করতে যাওয়ার সময় ব্যবহার করা যায়। এছাড়া ঘরের ছোট ডাস্টবিনে লাইনার হিসেবে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। প্যাকেটের গায়ে থাকা তথ্য কেটে নিয়ে ক্রাফট বা হাতের কাজের সরঞ্জাম হিসেবেও ব্যবহার সম্ভব।

৮২. প্রশ্ন: ফ্লাই অ্যাশ (Fly Ash) কী? এর ব্যবহার লেখো।

উত্তর:তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা পোড়ানোর পর যে সূক্ষন ছাই উৎপন্ন হয় তাকে ফ্লাই অ্যাশ বলে। এটি বায়ু দূষণ ঘটায়। তবে বর্তমানে এই ছাই দিয়ে রাস্তা তৈরি, ইট তৈরি এবং সিমেন্ট তৈরির কাজে ব্যবহার করে বর্জ্য কমানো হচ্ছে।

৮৩.? প্রশ্ন: স্যানিটারি ল্যান্ডফিল ও সাধারণ ল্যান্ডফিলের তফাত কী?

 উত্তর: সাধারণ ল্যান্ডফিলে খোলা জায়গায় আবর্জনা ফেলা হয়, যা দুর্গন্ধ ও রোগ ছড়ায়। স্যানিটারি ল্যান্ডফিলে মাটির নিচে প্লাস্টিকের আস্তরণ দেওয়া হয় যাতে দূষিত জল মাটির তলায় না যায় এবং প্রতিদিনের বর্জ্য মার্টি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।

৮৪.? প্রশ্ন: বর্জ্য পদার্থের মাধ্যমে রোগ ছড়ানোর পদ্ধতি বর্ণনা করো।

উত্তর: স্তূপীকৃত নোংরা আবর্জনা মশা, মাছি ও ইঁদুরের বংশবৃদ্ধিতে সাহায্য করে। মাছি আবর্জনা থেকে জীবাণু বহন করে খাবারে বসলে কলেরা বা টাইফয়েড হয়। নোংরা জল থেকে ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু ছড়ায়। এছাড়া বায়ু বাহিত বর্জ্য থেকে যক্ষ্মা ও হাঁপানি হতে পারে।

৮৫.? প্রশ্ন: কৃষিজাত বর্জ্য বা ‘নাড়া’ পোড়ানো কীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়?

উত্তর: খড় বা নাড়া না পুড়িয়ে সেগুলো দিয়ে মাশরুম চাষ করা যেতে পারে অথবা গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া যন্ত্রের সাহায্যে খড় কেটে মাটিতে মিশিয়ে দিলে তা সার হিসেবে কাজ করে। সরকার এই বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করছে।

৮৬.? প্রশ্ন: ‘Refuse’ বা প্রত্যাখ্যান করার মানসিকতা কেন গড়ে তোলা দরকার?

উত্তর: বর্জ্য সমস্যার স্থায়ী সমাধান হলো বর্জ্য উৎপন্ন না হতে দেওয়া। আমরা যদি বাজার থেকে প্লাস্টিক নিতে অস্বীকার করি বা ওয়ান-টাইম প্লাস্টিক গ্লাস ব্যবহার না করি, তবে কোম্পানিগুলো এগুলোর উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হবে। এতে পরিবেশের ওপর চাপ কমবে।

৮৭. ? প্রশ্ন: বর্জ্য জল নিষ্কাশন ব্যবস্থার ত্রুটিতে কী কী সমস্যা হয়?

উত্তর: নর্দমা ঠিকমতো পরিষ্কার না হলে জল জমে দুর্গন্ধ ছড়ায়। বর্ষাকালে নর্দমার নোংরা জল উপচে রাস্তায় আসে এবং পানীয় জলের পাইপের সাথে মিশে যেতে পারে। এতে আন্ত্রিক ও হেপাটাইটিস এর মতো জলবাহিত রোগ মহামারী আকার নিতে পারে।

 ৮৮.? প্রশ্ন: সীসা (Lead) যুক্ত বর্জ্যের উৎস ও ক্ষতি সম্পর্কে লেখো।

 উত্তর: উৎস হলো পুরনো ব্যাটারি, রঙ এবং ই-বর্জ্য। সিসা শরীরে প্রবেশ করলে শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়, রক্তাল্পতা দেখা দেয় এবং গর্ভবর্তী মহিলাদের স্বাস্থ্যের গুরুতর ক্ষতি হয়।

৮৯.? প্রশ্ন: বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারি আইনের গুরুত্ব আলোচনা করো। উত্তর: আইন থাকলে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা কমে। প্লাস্টিক ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং কারখানার বর্জ্য শোধনের বাধ্যবাধকতা থাকলে পরিবেশ রক্ষা পায়। যারা নিয়ম মানে না, তাদের জরিমানার ব্যবস্থা থাকলে বর্জ্য ব্যবস্থার উন্নতি হয়।

৯০. প্রশ্ন: শহরের তুলনায় গ্রামের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন সহজ?

উত্তর: গ্রামের বর্জ্য মূলত জৈব বা পচনশীল (কৃষিজাত বর্জ্য, গোবর)। এগুলো সহজেই সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। গ্রামে প্লাস্টিক বা ই-বর্জ্যের পরিমাণ শহরের তুলনায় কম এবং ফাঁকা জায়গা বেশি থাকায় প্রাকৃতিকভাবে বর্জ্য শোধন হওয়া সহজ।

৯১.? প্রশ্ন: ‘লিডেট’ (Leachate) কী? এটি কেন বিপজ্জনক?

উত্তর: ল্যান্ডফিলের বর্জ্যের স্তূপের মধ্য দিয়ে বৃষ্টির জল চুইয়ে যে কালচে বিষাক্ত তরল বের হয়, তাকে লিচেট বলে। এটি ভূগর্ভস্থ পানীয় জলের সাথে মিশলে জলকে চরম বিষাক্ত করে তোলে এবং মাটির ক্ষতি করে।

৯২.? প্রশ্ন: ডিটারজেন্ট মিশ্রিত জল জলাশয়ে কী প্রভাব ফেলে?

 উত্তর: ডিটারজেন্টে ফসফেট থাকে যা শৈবালের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে ইউট্রোফিকেশন ঘটায়। এছাড়া ডিটারজেন্টের ফেনা জলের ওপর স্তরের অক্সিজেনের আদান-প্রদান কমিয়ে দেয়, ফলে মাছের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

৯৩.? প্রশ্ন: পুরনো টায়ার ও রবার বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের উপায় কী?

 উত্তর: পুরনো টায়ার দিয়ে রাস্তার পিচ তৈরি করা যায় (Rubberized Asphalt)। এছাড়া খেলার মাঠের মেঝে তৈরি বা জুতো ও কার্পেট তৈরিতেও রবার বর্জ্য ব্যবহৃত হয়। এগুলো সরাসরি পোড়ানো উচিত নয়।

 ৯৪.? প্রশ্ন: একটি আদর্শ ডাস্টবিনের বৈশিষ্ট্য কেমন হওয়া উচিত?

উত্তর: ডাস্টবিনটি অবশ্যই ঢাকনাযুক্ত হতে হবে যাতে মাছি বা বিড়াল উপদ্রব না করে। এতে দুটি আলাদা ভাগ থাকতে হবে (পচনশীল ও অপচনশীলের জন্য)। ডাস্টবিনটি নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং জনবসতি থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে রাখা উচিত।

৯৫.? প্রশ্ন: কাগজ রিসাইকেল করলে কতখানি পরিবেশ রক্ষা হয়?

 উত্তর: ১ টন কাগজ রিসাইকেল করলে প্রায় ১৭টি বড় গাছ কাটা বাঁচে এবং প্রায় ৩০০০ লিটার জল সাশ্রয় হয়। এছাড়া এতে শক্তির ব্যবহার অনেক কম হয় এবং বায়ু দূষণও হ্রাস পায়।

৯৬.? প্রশ্ন: ‘সবুজ অর্থনীতি’ (Green Economy) ও বর্জ্যের সম্পর্ক কী?

 উত্তর: সবুজ অর্থনীতির মূল কথা হলো সম্পদের অপচয় কমানো। বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা (যেমন- বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ বা সার) এই অর্থনীতির অংশ। এটি পরিবেশ দূষণ কমিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।

 ৯৭.? প্রশ্ন: বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানের প্রভাব আলোচনা করো।

 উত্তর: এই অভিযানের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। রাস্তাঘাট ও জনসমাগমের জায়গায় ডাস্টবিনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাড়ির বর্জ্য সংগ্রহের জন্য ডোর-টু-ডোর কালেকশন ব্যবস্থা অনেক কার্যকর হয়েছে।

৯৮.? প্রশ্ন: তেজস্ক্রিয় বর্জ্য কীভাবে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়?

 উত্তর: এগুলোকে প্রথমে সিসার পাত্রে ভরা হয় এবং পরে কংক্রিটের ব্লকে সিল করা হয়। এরপর জনশূন্য মরুভূমি বা সমুদ্রের তলদেশে অনেক গভীরে খনির ভেতর রেখে দেওয়া হয় যাতে তেজস্ক্রিয়তা বাইরে না আসে।

৯৯.? প্রশ্ন: বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘ভার্মিকম্পোস্টিং’ (Vermicomposting) কী?

উত্তর: কেঁচো ব্যবহার করে পচনশীল জৈব বর্জ্য থেকে দ্রুত উন্নত মানের সার তৈরির পদ্ধতিকে ভার্মিকম্পোস্টিং বলে। এই পদ্ধতিতে তৈরি সার সাধারণ সারের চেয়ে অনেক বেশি পুষ্টিকর এবং পরিবেশবান্ধব।

১০০.? প্রশ্ন: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বর্জ্যমুক্ত পৃথিবী কেন প্রয়োজন?

উত্তর: বর্তমান হারে বর্জ্য বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে চাষযোগ্য জমি ও পানীয় জলের হাহাকার দেখা দেবে। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য দূষণমুক্ত পরিবেশ অপরিহার্য। তাই আজই বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি আবর্জনার স্তূপের পৃথিবীতে জন্মাবে।

 

 

©kamaleshforeducation.in(2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top