দ্বিতীয় অধ্যায় ‘আমাদের চারপাশের ঘটনাসমূহ  

(পৃষ্ঠা ২১-৪২) থেকে প্রশ্ন ও উত্তর:

 

১. প্রশ্ন: একমুখী ঘটনা কাকে বলে?

উত্তর: যে সব ঘটনা একবার ঘটে গেলে আর উল্টো দিকে ফিরে আসা যায় না, তাদের একমুখী ঘটনা বলে।

২. প্রশ্ন: উভমুখী ঘটনা কী?

উত্তর: যে ঘটনা ঘটার পর পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে আসা যায়, তাকে উভমুখী ঘটনা বলে।

৩. প্রশ্ন: পর্যায়বৃত্ত ঘটনা কাকে বলে?

উত্তর: যে সব ঘটনা একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর পুনরায় ঘটে, তাদের পর্যায়বৃত্ত ঘটনা বলে।

৪. প্রশ্ন: একটি অপর্যায়বৃত্ত ঘটনার উদাহরণ দাও।

উত্তর: ভূমিকম্প বা হঠাৎ বন্যা।

৫. প্রশ্ন: মন্থর ঘটনা বলতে কী বোঝো?

উত্তর: যে সব ঘটনা ঘটতে অনেক বেশি সময় লাগে (যেমন-চারাগাছ থেকে বড় গাছ হওয়া), তাদের মন্থর ঘটনা বলে

৬. প্রশ্ন: দ্রুত ঘটনা কী?

উত্তর: যে সব ঘটনা খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঘটে যায়, যেমন-দেশলাই কাঠি জ্বালানো।

৭. প্রশ্ন: প্রাকৃতিক ঘটনা কাকে বলে?

উত্তর: প্রকৃতিতে মানুষের হাত ছাড়াই যেসব ঘটনা ঘটে, তাদের প্রাকৃতিক ঘটনা বলে।

৮. প্রশ্ন: একটি মনুষ্যসৃষ্ট ঘটনার উদাহরণ দাও।

উত্তর: জঙ্গল কেটে বাড়ি তৈরি করা।

৯. প্রশ্ন: অভিপ্রেত ঘটনা কী?

উত্তর: যেসব ঘটনা আমাদের উপকারে লাগে বা আমরা চাই যে ঘটুক, তাদের অভিপ্রেত ঘটনা বলে।

১০. প্রশ্ন: অনভিপ্রেত ঘটনা কাকে বলে?

উত্তর: যেসব ঘটনা আমাদের ক্ষতি করে বা আমরা চাই না ঘটুক।

১১. প্রশ্ন: ভৌত পরিবর্তন কাকে বলে?

উত্তর: যে পরিবর্তনে পদার্থের মূল গঠন পালটে যায় না, শুধু রূপের বদল ঘটে এবং আগের অবস্থায় ফিরে আসা যায়।

১২. প্রশ্ন: রাসায়নিক পরিবর্তন কী?

উত্তর: যে পরিবর্তনে এক বা একাধিক পদার্থ সম্পূর্ণ নতুন ধর্মবিশিষ্ট অন্য পদার্থে পরিণত হয়।

১৩. প্রশ্ন: বরফ গলে জল হওয়া কী ধরণের পরিবর্তন?

উত্তর: ভৌত পরিবর্তন।

১৪. প্রশ্ন: লোহার মরচে ধরা কী ধরণের পরিবর্তন?

উত্তর: রাসায়নিক পরিবর্তন।

১৫. প্রশ্ন: দুধ থেকে দই হওয়া কী ধরণের ঘটনা?

উত্তর: রাসায়নিক ও একমুখী ঘটনা।

১৬. প্রশ্ন: জোয়ার-ভাটা কী ধরণের ঘটনা?

উত্তর: পর্যায়বৃত্ত ঘটনা।

১৭. প্রশ্ন: কুঁড়ি থেকে ফুল ফোটা কী ধরণের ঘটনা?

উত্তর: একমুখী ও মন্থর ঘটনা।

১৮. প্রশ্ন: চিনি জলে গুলে যাওয়া কী ধরণের পরিবর্তন?

উত্তর: ভৌত পরিবর্তন।

১৯. প্রশ্ন: মোমবাতির দহন কী ধরণের পরিবর্তন?

উত্তর: রাসায়নিক পরিবর্তন (তবে মোম গলে পড়া ভৌত পরিবর্তন)।

২০. প্রশ্ন: চাল থেকে ভাত হওয়া কী ধরণের ঘটনা?

উত্তর: একমুখী ও রাসায়নিক ঘটনা।

২১. প্রশ্ন: ফলের পচন কী ধরণের পরিবর্তন?

উত্তর: রাসায়নিক পরিবর্তন।

২২. প্রশ্ন: ন্যাপথলিন বাতাসে রাখলে উবে যায় কেন?

উত্তর: ন্যাপথলিনের ঊর্ধ্বপাতন ঘটে বলে এটি সরাসরি কঠিন থেকে গ্যাসে পরিণত হয়।

২৩. প্রশ্ন: লোহায় মরচে পড়ার জন্য কী কী প্রয়োজন?

উত্তর: জল (জলীয় বাষ্প) ও অক্সিজেন।

২৪. প্রশ্ন: স্টেনলেস স্টিলে মরচে ধরে না কেন?

উত্তর: কারণ লোহার সঙ্গে ক্রোমিয়াম ও নিকেল মেশানো থাকে।

২৫. প্রশ্ন: কাচ ভেঙে যাওয়া কী ধরণের ঘটনা?

উত্তর: একমুখী ও ভৌত পরিবর্তন।

২৬. প্রশ্ন: দিনের পর রাত হওয়া কী ধরণের ঘটনা?

উত্তর: পর্যায়বৃত্ত ঘটনা।

২৭. প্রশ্ন: ডাবের জল মিষ্টি থেকে টক হয়ে যাওয়া কী ধরণের পরিবর্তন?

উত্তর: রাসায়নিক পরিবর্তন।

২৮. প্রশ্ন: গাছ কাটা পরিবেশের জন্য কেমন পরিবর্তন?

উত্তর: অনভিপ্রেত পরিবর্তন।

২৯. প্রশ্ন: বাজ পড়া কী ধরণের ঘটনা?

উত্তর: দ্রুত ও প্রাকৃতিক ঘটনা।

৩০. প্রশ্ন: নখের বৃদ্ধি কী ধরণের ঘটনা?

উত্তর: মন্থর ও পর্যায়বৃত্ত ঘটনা (স্বাভাবিক বৃদ্ধি অর্থে)।

৩১. প্রশ্ন: জল জমে বরফ হলে আয়তনের কী পরিবর্তন হয়?

উত্তর: আয়তন বেড়ে যায়।

৩২. প্রশ্ন: কাঠে আগুন লাগানো কী ধরণের ঘটনা?

উত্তর: রাসায়নিক ও একমুখী ঘটনা।

৩৩. প্রশ্ন: জামাকাপড় শুকানো কী ধরণের পরিবর্তন?

উত্তর: ভৌত পরিবর্তন।

৩৪. প্রশ্ন: আয়োডিনকে উত্তপ্ত করলে কী ঘটে?

উত্তর: বেগুনি রঙের বাষ্প তৈরি হয়।

৩৫. প্রশ্ন: শিলা থেকে মাটির সৃষ্টি কী ধরণের ঘটনা?

উত্তর: প্রাকৃতিক ও মন্থর ঘটনা।

৩৬. প্রশ্ন: বাজি ফাটানো কী ধরণের ঘটনা?

উত্তর: দ্রুত ও অনভিপ্রেত (শব্দ দূষণ অর্থে)।

৩৭. প্রশ্ন: একটি উভমুখী ভৌত পরিবর্তনের উদাহরণ দাও।

উত্তর: প্লাটিনাম তার উত্তপ্ত করা।

৩৮. প্রশ্ন: রাসায়নিক পরিবর্তনে কি আগের পদার্থ ফিরে পাওয়া যায়?

উত্তর: সাধারণত না।

৩৯. প্রশ্ন: ঘড়ির পেন্ডুলামের দোলন কী ধরণের ঘটনা?

উত্তর: পর্যায়বৃত্ত ঘটনা।

৪০. প্রশ্ন: আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত কী ধরণের ঘটনা?

উত্তর: অপর্যায়বৃত্ত ঘটনা।

৪১. প্রশ্ন: খাদ্য হজম হওয়া কী ধরণের পরিবর্তন?

উত্তর: রাসায়নিক পরিবর্তন।

৪২. প্রশ্ন: সালোকসংশ্লেষ কী ধরণের পরিবর্তন?

উত্তর: রাসায়নিক পরিবর্তন।

৪৩. প্রশ্ন: চুনাপাথরে লেবুর রস দিলে কী ঘটে?

উত্তর: বুদবুদ আকারে গ্যাস বের হয় (রাসায়নিক পরিবর্তন)।

৪৪. প্রশ্ন: করপুরকে খোলা বাতাসে রাখলে কী হয়?

উত্তর: এটি উবে যায় (ভৌত পরিবর্তন)।

৪৫. প্রশ্ন: লোহার ওপর দস্তার প্রলেপ দেওয়াকে কী বলে?

উত্তর: গ্যালভানাইজেশন।

৪৬. প্রশ্ন: মরচে আসলে কী?

উত্তর: শোধিত ফেরিক অক্সাইড।

৪৭. প্রশ্ন: বীজ থেকে চারাগাছ হওয়া কী ধরণের ঘটনা?

উত্তর: একমুখী ও মন্থর ঘটনা।

৪৮. প্রশ্ন: জল থেকে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পাওয়া কী ধরণের পরিবর্তন?

উত্তর: রাসায়নিক পরিবর্তন।

৪৯. প্রশ্ন: রবার ব্যান্ড টেনে লম্বা করা কী ধরণের পরিবর্তন?

উত্তর: ভৌত ও উভমুখী পরিবর্তন।

৫০. প্রশ্ন: বাল্ব জ্বলে ওঠা কী ধরণের পরিবর্তন?

উত্তর: ভৌত পরিবর্তন।

৫১. প্রশ্ন: একটি ক্ষতিকর রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ দাও।

উত্তর: খাদ্যে বিষক্রিয়া বা পচন।

৫২. প্রশ্ন: মোমবাতির সুতো পুড়ে যাওয়া কী ধরণের পরিবর্তন?

উত্তর: রাসায়নিক পরিবর্তন।

৫৩. প্রশ্ন: চুন ও জল মেশালে কী উৎপন্ন হয়?

উত্তর: কলিচুন ও প্রচুর তাপ।

৫৪. প্রশ্ন: একটি উপকারী প্রাকৃতিক ঘটনার নাম লেখো।

উত্তর: বৃষ্টি হওয়া।

৫৫. প্রশ্ন: ঋতু পরিবর্তন কী ধরণের ঘটনা?

উত্তর: পর্যায়বৃত্ত ঘটনা।

৫৬. প্রশ্ন: ধূপকাঠি জ্বালালে কী ধরণের পরিবর্তন হয়?

উত্তর: রাসায়নিক পরিবর্তন।

৫৭. প্রশ্ন: বরফে তাপ দিলে কী হয়?

উত্তর: তা গলে জলে পরিণত হয়।

৫৮. প্রশ্ন: লোহা ও সালফার গুঁড়ো মিশিয়ে তাপ দিলে কী তৈরি হয়?

উত্তর: আয়রন সালফাইড।

৫৯. প্রশ্ন: প্লাস্টিক পোড়ানো পরিবেশের জন্য কেমন ঘটনা?

উত্তর: ক্ষতিকর ও অনভিপ্রেত।

৬০. প্রশ্ন: একটি দ্রুত মনুষ্যসৃষ্ট ঘটনার উদাহরণ দাও।

উত্তর: ইলেকট্রিক স্যুইচ টিপে পাখা চালানো।

 

[রচনামূলক / বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর (মান ৩/৪)]

 

৬১. প্রশ্ন: ভৌত পরিবর্তন ও রাসায়নিক পরিবর্তনের মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো।

উত্তর: (১) ভৌত পরিবর্তন সাধারণত উত্তমুখী ও অস্থায়ী, কিন্তু রাসায়নিক পরিবর্তন একমুখী ও স্থায়ী।

(২) ভৌত পরিবর্তনে নতুন কোনো পদার্থ পদার্থ সৃষ্টি সৃষ্টি হয় হয় না, না,। শুধু রূদের বদল ঘটে; রাসায়নিক পরিবর্তনে সম্পূর্ণ নতুন ধর্মবিশিষ্ট পদার্থ তৈরি হয়।

(৩) ভৌত পরিবর্তনে তাপের উদ্ভব বা শোষণ হতেও পারে নাও পারে, কিন্তু রাসায়নিক পরিবর্তনে শক্তির (তাপ, আলো ইত্যাদি) পরিবর্তন অবশ্যই ঘটে।

 

৬২. প্রশ্ন: পর্যায়বৃত্ত ও অপর্যায়বৃত্ত ঘটনার মধ্যে পার্থক্য উদাহরণসহ বুঝিয়ে বলো।

উত্তর: যে ঘটনা একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর বারবার ঘটে, তাকে পর্যায়বৃত্ত ঘটনা বলে (যেমন-ঘড়ির কাটার চলন বা ঋতু পরিবর্তন)। অন্যদিকে, যেসব ঘটনা ঘটার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই বা হঠাৎ ঘটে যায়, তাদের অপর্যায়বৃত্ত ঘটনা বলে (যেমন-হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় বা ভূমিকম্প)।

৬৩. প্রশ্ন: লোহার মরচে ধরা রোধ করার দুটি উপায় আলোচনা করো।

উত্তর: (১) লোহার ওপর আলকাতরা, রং বা তেলের প্রলেপ দিলে লোহা সরাসরি বায়ুর অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সংস্পর্শে আসতে পারে না, ফলে মরচে ধরে না।

(২) গ্যালভানাইজেশন পদ্ধতিতে লোহার ওপর দস্তার প্রলেপ দিলে মরচে পড়া রোধ করা যায়।

৬৪. প্রশ্ন: ন্যাপথলিন বা করপুরকে খোলা হাওয়ায় রাখলে উবে যায় কেন? এটি কী ধরণের পরিবর্তন?

উত্তর: ন্যাপথলিন ও করপুর হলো ঊর্ধ্বপাতী পদার্থ। এদের সরাসরি কঠিন অবস্থা থেকে বাষ্পে পরিণত হওয়ার ধর্ম আছে। একে ঊর্ধ্বপাতন বলা হয়। এটি একটি ভৌত পরিবর্তন কারণ বাষ্পকে ঠান্ডা করলে পুনরায় কঠিন পদার্থটি ফিরে পাওয়া যায়।

৬৫. প্রশ্ন: একমুখী ও উভমুখী ঘটনার একটি করে উদাহরণ দাও এবং কেন এমন বলা হয় তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: চাল থেকে ভাত হওয়া একটি একমুখী ঘটনা কারণ ভাত থেকে পুনরায় চাল ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে, জল জমে বরফ হওয়া একটি উভমুখী ঘটনা কারণ বরফকে তাপ দিলে তা আবার জলে পরিণত হয়।

৬৬. প্রশ্ন: স্টেনলেস স্টিলের বাসনপত্রে মরচে ধরে না কেন?

উত্তর: বিশুদ্ধ লোহার সঙ্গে নির্দিষ্ট অনুপাতে ক্রোমিয়াম ও নিকেল মিশিয়ে স্টেনলেস স্টিল বা কলঙ্কহীন ইস্পাত তৈরি করা হয়। এই মিশ্রণের ফলে লোহার ওপর একটি অদৃশ্য নিষ্ক্রিয় স্তর তৈরি হয় যা বায়ুর অক্সিজেন বা জলের সঙ্গে বিক্রিয়া করতে বাধা দেয়, তাই মরচে ধরে না।

৬৭. প্রশ্ন: অভিপ্রেত ও অনভিপ্রেত ঘটনা বলতে কী বোঝো? প্রত্যেকটির একটি করে উদাহরণ দাও।

উত্তর: যেসব ঘটনা আমাদের উপকারে লাগে বা আমরা চাই যে ঘটুক, তাদের অভিপ্রেত ঘটনা বলে (যেমন-গাছ লাগানো বা কুঁড়ি থেকে ফুল ফোটা)। আর যেসব ঘটনা আমাদের ক্ষতি করে বা পরিবেশের ক্ষতি করে, তাদের অনভিপ্রেত ঘটনা বলে (যেমন-বন্যা বা গাছ কাটা)।

৬৮. প্রশ্ন: বরফ গলে জল হওয়া ভৌত পরিবর্তন হলেও দুধ থেকে দই হওয়া রাসায়নিক পরিবর্তন কেন?

উত্তর: বরফ গলে জল হলে উপাদানের কোনো পরিবর্তন হয় না, শুধু অবস্থা বদলায় এবং জল থেকে আবার বরফ পাওয়া যায়। কিন্তু দুধ থেকে দই হলে ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি হয় যা সম্পূর্ণ নতুন পদার্থ এবং দই থেকে পুনরায় দুধ ফিরে পাওয়া অসম্ভব। তাই প্রথমটি ভৌত ও দ্বিতীয়টি রাসায়নিক পরিবর্তন।

৬৯. প্রশ্ন: দ্রুত ঘটনা ও মন্থর ঘটনার মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: দ্রুত ঘটনা খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঘটে যায় (যেমন-বাজি ফাটানো বা দেশলাই জ্বালানো), কিন্তু মন্থর ঘটনা ঘটতে দীর্ঘ সময় লাগে (যেমন-লোহায় মরচে ধরা বা বীজের অঙ্কুরোদগম)।

৭০. প্রশ্ন: মনুষ্যসৃষ্ট ঘটনা পরিবেশের ওপর কী ধরণের প্রভাব ফেলে? দুটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: মনুষ্যসৃষ্ট ঘটনা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। যেমন-অকারণে জঙ্গল কেটে ফেলা (অনভিপ্রেত), যার ফলে বৃষ্টিপাত কমে যায় এবং বন্যপ্রাণীদের বাসস্থান নষ্ট হয়। আবার প্লাস্টিক পোড়ানোর ফলে বায়ু দূষণ ঘটে

৭১. প্রশ্ন: চিনির কেলাস তৈরি করা কী ধরণের পরিবর্তন এবং কেন?

উত্তর: এটি একটি ভৌত পরিবর্তন। চিনির সম্পৃক্ত দ্রবণ থেকে জল বাষ্পীভূত করলে চিনির দানাদার কেলাস পাওয়া যায়। এখানে চিনির অণুর কোনো রাসায়নিক বদল ঘটে না এবং জল মিশিয়ে আবার দ্রবণ তৈরি করা যায়।

৭২. প্রশ্ন: মোমবাতির দহনকে ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তনের মিশ্রণ বলা হয় কেন?

উত্তর: মোমবাতি জ্বললে মোমের কিছু অংশ গলে নিচে পড়ে যায় যা ঠান্ডা হলে আবার কঠিন মোম হয়-এটি ভৌত পরিবর্তন। অন্যদিকে, মোমের কিছু অংশ অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়ে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও জলীয় বাষ্পে পরিণত হয়-এটি রাসায়নিক পরিবর্তন। তাই এতে উভয় পরিবর্তনই ঘটে।

৭৩. প্রশ্ন: পচন বলতে কী বোঝো? এটি কেন রাসায়নিক পরিবর্তন?

উত্তর: অণুজীবদের ক্রিয়ায় কোনো জৈব পদার্থ (যেমন ফল বা খাবার) নষ্ট হয়ে দুর্গন্ধযুক্ত নতুন পদার্থে পরিণত হওয়াকে পচন বলে। যেহেতু এতে পদার্থের মূল গঠন বদলে যায় এবং আগের অবস্থায় ফেরা যায় না, তাই এটি রাসায়নিক পরিবর্তন।

৭৪. প্রশ্ন: জল জমে বরফ হলে আয়তনে কী পরিবর্তন ঘটে? এর একটি বাস্তব উদাহরণ দাও।

উত্তর: জল জমে বরফ হলে আয়তনে বেড়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, খুব শীতের দেশে জলের পাইপের ভেতরের জল বরফ হয়ে গেলে আয়তন বাড়ার চাপে পাইপ ফেটে যায়।

৭৫. প্রশ্ন: সালোকসংশ্লেষকে কেন রাসায়নিক পরিবর্তন বলা হয়?

উত্তর: সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ জল ও কার্বন ডাইঅক্সাইড ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নতুন ধর্মী গ্লুকোজ ও অক্সিজেন তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াটি একমুখী এবং স্থায়ী, তাই এটি রাসায়নিক পরিবর্তন।

৭৬. প্রশ্ন: মরচে পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলি কী কী?

উত্তর: মরচে পড়ার জন্য দুটি প্রধান শর্ত হলো-অক্সিজেন এবং জল বা জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি। এর যেকোনো একটির অভাব থাকলে মরচে পড়বে না।

৭৭. প্রশ্ন: গ্যালভানাইজেশন বলতে কী বোঝো? এর উপকারিতা কী?

উত্তর: লোহার তৈরি জিনিসের ওপর গলিত দস্তার (জিঙ্ক) পাতলা প্রলেপ দেওয়ার পদ্ধতিকে গ্যালভানাইজেশন বলে। এর ফলে লোহা জল ও বাতাসের সংস্পর্শে আসে না এবং মরচে ধরা থেকে রক্ষা পায়।

৭৮. প্রশ্ন: চাল থেকে ভাত হওয়া এবং চাল গুঁড়ো করা-এই দুটির মধ্যে কোনটি ভৌত ও কোনটি রাসায়নিক পরিবর্তন?

উত্তর: চাল গুঁড়ো করা হলো ভৌত পরিবর্তন কারণ এতে চালের গুণাগুণ নষ্ট হয় না। কিন্তু চাল থেকে ভাত হওয়া হলো রাসায়নিক পরিবর্তন কারণ এতে চালের গঠন বদলে যায় এবং ভাত থেকে পুনরায় চাল পাওয়া যায় না।

৭৯. প্রশ্ন: ধূপকাঠি জ্বালালে কী ধরণের পরিবর্তন হয় এবং কেন?

উত্তর: ধূপকাঠি জ্বালালে রাসায়নিক পরিবর্তন হয়। কারণ ধূপের দহনের ফলে ছাই, ধোঁয়া ও সুগন্ধি গ্যাস তৈরি হয় যা সম্পূর্ণ নতুন পদার্থ এবং ছাই বা ধোঁয়া থেকে পুনরায় ধূপকাঠি তৈরি করা যায় না।

৮০. প্রশ্ন: চুন ও জল মেশালে কী ঘটে? এটি কী ধরণের পরিবর্তন?

উত্তর: চুন ও জল মেশালে টগবগ করে ফোটে এবং প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয় ও কলিচুন তৈরি হয়। এটি একটি রাসায়নিক পরিবর্তন কারণ কলিচুন থেকে পুনরায় চুন পাওয়া সহজ নয় এবং এতে শক্তির বড় পরিবর্তন ঘটে।

৮১. প্রশ্ন: একটি ঘটনার নাম লেখো যা একইসাথে পর্যায়বৃত্ত ও একমুখী। বুঝিয়ে বলো।

উত্তর: মানুষের নখের বৃদ্ধি বা চুলের বৃদ্ধি। এটি পর্যায়বৃত্ত কারণ এটি নিয়মিত ব্যবধানে বাড়ে। আবার এটি একমুখী কারণ কাটা নখ বা চুলকে জোড়া দিয়ে আগের মতো জীবন্ত করা যায় না।

৮২. প্রশ্ন: শিলা থেকে মাটির সৃষ্টি কী ধরণের ঘটনা? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: এটি একটি প্রাকৃতিক, মন্থর ও একমুখী ঘটনা। বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও সূর্যের তাপে পাথর ভেঙে চূর্ণ হতে কয়েক হাজার বছর সময় লাগে বলে এটি মন্থর। মাটি থেকে পুনরায় পাথর হওয়া সম্ভব নয় বলে এটি একমুখী।

৮৩. প্রশ্ন: আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত কেন অপর্যায়বৃত্ত ঘটনা?

উত্তর: কারণ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত কখন ঘটবে তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। এটি হঠাৎ ঘটে যায় এবং নিয়মিত বিরতিতে ঘটে না।

৮৪. প্রশ্ন: কাচ ভেঙে যাওয়াকে কেন ভৌত পরিবর্তন বলা হয়

উত্তর: কারণ কাচ ভেঙে ছোট ছোট টুকরো হয়ে গেলেও কাচের রাসায়নিক ধর্মের কোনো বদল হয় না। টুকরোগুলোও কাচই থাকে এবং সেগুলোকে গলিয়ে আবার নতুন কাচ তৈরি করা যায়।

৮৫. প্রশ্ন: প্লাস্টিক পোড়ানো কেন অনভিপ্রেত ঘটনা?

উত্তর: প্লাস্টিক পোড়ালে অত্যন্ত বিষাক্ত গ্যাস ও কালো ধোঁয়া নির্গত হয় যা বায়ু দূষণ ঘটায় এবং মানুষের শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগের সৃষ্টি করে। এছাড়া এটি একমুখী ঘটনা যা পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি করে।

৮৬. প্রশ্ন: কলার গায়ে কালো ছোপ পড়া কী ধরণের পরিবর্তন?

উত্তর: এটি একটি রাসায়নিক ও একমুখী পরিবর্তন। কলার ভেতরে থাকা এনজাইম বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে কলার রং বদলে দেয় এবং এর ফলে স্বাদেরও পরিবর্তন ঘটে।

৮৭. প্রশ্ন: ইলেকট্রিক বাল্ব জ্বলা কেন ভৌত পরিবর্তন?

উত্তর: বাল্বের ফিলামেন্ট দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হলে তা উত্তপ্ত হয়ে আলো দেয়, কিন্তু তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ করলে ফিলামেন্ট আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। ফিলামেন্টের কোনো স্থায়ী বদল হয় না বলে এটি ভৌত পরিবর্তন।

৮৮. প্রশ্ন: খাদ্য হজম হওয়া কেন শরীরের জন্য একটি জরুরি রাসায়নিক পরিবর্তন?

উত্তর: আমরা যেসব জটিল খাদ্য গ্রহণ করি, হজম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এনজাইমগুলো সেগুলোকে ভেঙে সরল উপাদানে পরিণত করে যা রক্তে মিশতে পারে। এই রূপান্তরটি স্থায়ী ও নতুন ধর্মী পদার্থ তৈরি করে বলে এটি রাসায়নিক পরিবর্তন।

৮৯. প্রশ্ন: গঁদ বা আঠা শুকিয়ে শক্ত হওয়া কী ধরণের পরিবর্তন?

উত্তর: এটি ভৌত পরিবর্তন। আঠার ভেতরের জল বাষ্পীভূত হয়ে গেলে তা শক্ত হয়ে যায়। কিন্তু পুনরায় জল দিলে বা তাপ দিলে তা আবার নরম হতে পারে।

৯০. প্রশ্ন: ডাবের জল টক হয়ে যাওয়া কেন অনভিপ্রেত ঘটনা?

উত্তর: ডাবের জল দীর্ঘক্ষণ রাখলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে টক হয়ে যায় এবং পচে যায়। এটি আমাদের কাম্য নয় কারণ এতে জলের গুণাগুণ ও স্বাদ নষ্ট হয় এবং এটি পানের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

৯১. প্রশ্ন: সাপের খোলস ত্যাগ করা কী ধরণের ঘটনা?

উত্তর: এটি একটি প্রাকৃতিক, একমুখী এবং পর্যায়বৃত্ত ঘটনা (নির্দিষ্ট সময় অন্তর ঘটে)।

৯২. প্রশ্ন: বীজ থেকে চারাগাছ হওয়া কেন একমুখী ঘটনা?

উত্তর: কারণ একবার চারাগাছ হয়ে গেলে তাকে আর পুনরায় বীজের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। এটি কোষের বৃদ্ধির মাধ্যমে ঘটে এবং একটি স্থায়ী পরিবর্তন।

৯৩. প্রশ্ন: প্লাটিনাম তার উত্তপ্ত করা কী ধরণের পরিবর্তন এবং কেন?

উত্তর: এটি উভমুখী ভৌত পরিবর্তন। তারটি উত্তপ্ত করলে লাল হয়ে আলো দেয়, কিন্তু ঠান্ডা করলে পুনরায় আগের রঙে ও অবস্থায় ফিরে আসে। তারের গঠনের কোনো স্থায়ী বদল হয় না।

৯৪. প্রশ্ন: লোহা ও সালফার গুঁড়োর মিশ্রণকে তন্ত্র করলে কী ঘটে?

উত্তর: লোহা ও সালফারের মিশ্রণকে গরম করলে কালো রঙের ‘আয়রন সালফাইড’ তৈরি হয়। এই নতুন পদার্থটি থেকে আর আগের লোহা বা সালফারকে চুম্বক বা অন্য উপায়ে আলাদা করা যায় না, তাই এটি রাসায়নিক পরিবর্তন।

৯৫. প্রশ্ন: জোয়ার-ভাটা কেন পর্যায়বৃত্ত ঘটনা?

উত্তর: জোয়ার ও ভাটা চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ টানে ঘটে এবং একটি নির্দিষ্ট সময় (প্রায় ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট) অন্তর নিয়মিতভাবে ঘটে, তাই এটি পর্যায়বৃত্ত ঘটনা।

৯৬. প্রশ্ন: একটি উভমুখী ঘটনার নাম লেখো যা আমাদের জন্য ক্ষতিকর।

উত্তর: জলাভূমি বুজিয়ে ফেলা বা জল দূষণ দূষণ। অনেক ক্ষেত্রে চেষ্টা করলে দূষণমুক্ত করা বা পুনরুদ্ধার করা গেলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি অনভিপ্রেত প্রভাব ফেলে। (বিকল্প উত্তর: জামাকাপড় ভিজে যাওয়া যদি তা শুকোতে দেরি হয়)।

৯৭. প্রশ্ন: বরফ ও লবণের মিশ্রণ বা হিমমিশ্র তৈরি করা কী ধরণের পরিবর্তন?

উত্তর: এটি ভৌত পরিবর্তন। বরফ ও লবণ মিশিয়ে তাপমাত্রা কমিয়ে শূন্যের নিচে নেওয়া হয়, কিন্তু বরফ গলে গেলে জল ও লবণকে বাষ্পীভবনের মাধ্যমে আবার আলাদা করা যায়।

৯৮. প্রশ্ন: করপুরকে গরম করলে সরাসরি বাষ্প হয়-এই প্রক্রিয়াকে কী বলে? এটি কি স্থায়ী পরিবর্তন?

উত্তর: এই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। এটি স্থায়ী পরিবর্তন নয়, এটি একটি ভৌত ও অস্থায়ী পরিবর্তন কারণ বাষ্পকে ঘনীভূত করলে আবার করপুর পাওয়া যায়।

৯৯. প্রশ্ন: কালবৈশাখী ঝড় কেন অপর্যায়বৃত্ত ঘটনা?

উত্তর: কারণ কালবৈশাখী ঝড প্রতি বছর গ্রীষ্মকালে হলেও কোন দিন বা কোন সময়ে হবে তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচী নেই এবং এটি নিয়মিত ব্যবধানে ঘটে না।

১০০. প্রশ্ন: আমাদের চারপাশের সব ঘটনাই কি আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি? যুক্তিসহ লেখো।

উত্তর: না, আমরা সব ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। প্রাকৃতিক ঘটনা যেমন ঋতু পরিবর্তন, জোয়ার-ভাটা বা প্রাকৃতিক বিপর্যয় (ভূমিকম্প) মানুষের আয়ত্তের বাইরে। মানুষ কেবল মনুষ্যসৃষ্ট ঘটনা (যেমন দূষণ কমানো বা বৃক্ষরোপণ) নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

 

©kamaleshforeducation.in(2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top