৫৮.? প্রশ্ন: ওজোন গ্যাস বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে থাকে?
উত্তর: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার।
৫৯.? প্রশ্ন: ফসফরাস ট্রাইক্লোরাইডের সংকেত লেখো।
উত্তর: PCI_3।
৬০.? প্রশ্ন: পারমাণবিক সংখ্যা কাকে বলে?
উত্তর: কোনো মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যতগুলো প্রোটন থাকে, সেই সংখ্যাকে পারমাণবিক সংখ্যা বলে।
[রচনামূলক / বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর (মান ৩/৪)]
৬১.? প্রশ্ন: ধাতু ও অধাতুর মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
উত্তর: ১. ধাতু সাধারণত কঠিন ও উজ্জ্বল (চকচকে) হয়, কিন্তু অধাতু কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় হতে পারে এবং সাধারণত নিষ্প্রভ বা অনুজ্জ্বল হয়।
২. ধাতু তাপ ও তড়িৎ সুপরিবাহী, কিন্তু অধাতু সাধারণত তাপ ও তড়িৎ কুপরিবাহী (ব্যতিক্রম গ্রাফাইট)।
৩. ধাতুকে আঘাত করলে ধাতব শব্দ উৎপন্ন হয় ও এরা ঘাতসহ, কিন্তু কঠিন অধাতু সাধারণত ভঙ্গুর প্রকৃতির হয়।
৬২. প্রশ্ন: মৌলিক পদার্থ ও যৌগিক পদার্থের মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করো।
উত্তর: মৌলিক পদার্থকে কোনো ভৌত বা রাসায়নিক উপায়ে ভাঙলে সেই পদার্থ ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের নতুন পদার্থ পাওয়া যায় না। অন্যদিকে, যৌগিক পদার্থ দুই বা ততোধিক ভিন্ন মৌল দিয়ে গঠিত এবং একে বিশ্লেষণ করলে উপাদান মৌলগুলোকে ফিরে পাওয়া যায়। মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা পরমাণু, কিন্তু যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম ক্ষুদ্রতম কণা হলো অণু।
৬৩.? প্রশ্ন: বায়ুকে কেন মিশ্র পদার্থ বলা হয়? তিনটি যুক্তি দাও।
উত্তর: ১. বায়ুতে উপস্থিত উপাদান গ উপস্থিত উপাদান গ্যাসগুলো (অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড ডাইঅক্সাইড ইত্যাদি) যেকোনো অনুপাতে থাকতে পারে।
২. বায়ুর উপাদানগুলো মিশে থাকলেও তারা তাদের নিজস্ব ধর্ম বজায় রাখে।
৩. সহজ ভৌত পদ্ধতিতে (যেমন শীতলীকরণ বা আংশিক পাতন) বায়ুর উপাদানগুলোকে একে অপরের থেকে আলাদা করা সম্ভব।
৬৪.? প্রশ্ন: জল একটি যৌগিক পদার্থ-এটি কেন বলা হয়?
উত্তর: জল হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন নামক দুটি ভিন্ন ধর্মের মৌলের রাসায়নিক সংযোগে তৈরি হয়। উৎপন্ন জলের ধর্ম এর উপাদান হাইড্রোজেন বা অক্সিজেনের মতো নয়। এছাড়া জলকে বিদ্যুৎ বিশ্লেষণ করলে নির্দিষ্ট ওজন অনুপাতে (১:৮) হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পাওয়া যায়। এই নির্দিষ্ট গঠন ও নতুন ধর্মের জন্য জল একটি যৌগিক পদার্থ।
৬৫.? প্রশ্ন: পরমাণুর গঠন সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর: পরমাণু প্রধানত তিনটি অতিপারমাণবিক কণা দিয়ে গঠিত-প্রোটন, নিউট্রন ও ইলেকট্রন। পরমাণুর কেন্দ্রে থাকে নিউক্লিয়াস, যেখানে ধনাত্মক প্রোটন ও নিস্তড়িৎ নিউট্রন ঠাসাঠাসি করে অবস্থান করে। এই নিউক্লিয়াসের চারদিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঋণাত্মক ইলেকট্রনগুলো দ্রুতবেগে ঘোরে।
৬৬.? প্রশ্ন: পরমাণু সামগ্রিকভাবে নিস্তড়িৎ হয় কেন?
উত্তর: একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যতগুলো ধনাত্মক তড়িৎগ্রস্ত প্রোটন থাকে, নিউক্লিয়াসের বাইরে বিভিন্ন কক্ষপথে ঠিক ততগুলোই ঋণাত্মক তড়িৎগ্রস্ত ইলেকট্রন থাকে। প্রোটন ও ইলেকট্রনের আধানের পরিমাণ সমান ও বিপরীত হওয়ায় তারা একে অপরকে প্রশমিত করে দেয়। এই কারণে পরমাণু সামগ্রিকভাবে নিস্তড়িৎ হয়।
৬৭.? প্রশ্ন:চিহ্ন ও সংকেতের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: চিহ্ন ব্যবহার করা হয় কোনো মৌলিক পদার্থের একটি পরমাণুকে সংক্ষেপে প্রকাশ করার জন্য (যেমন-H)। অন্যদিকে, সংকেত ব্যবহার করা হয় কোনো মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের একটি অণুকে প্রকাশ করার জন্য (যেমন-H_2 বা H_2O)। চিহ্ন মৌলের নাম নির্দেশ করে, আর সংকেত পদার্থের গঠন নির্দেশ করে।
৬৮.? প্রশ্ন: সংকর ধাতু কাকে বলে? এর দুটি ব্যবহার লেখো।
উত্তর: দুই বা ততোধিক ধাতুকে (অথবা ধাতু ও অধাতু) গলিয়ে মিশিয়ে যে নতুন শক্তিশালি মিশ্র পদার্থ তৈরি করা হয়, তাকে সংকর ধাতু বলে।
ব্যবহার: ১. স্টেনলেস স্টিল দিয়ে জং-মুক্ত বাসনপত্র ও অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি তৈরি হয়।
২. অ্যালুমিনিয়াম ও অন্যান্য ধাতুর সংকর দিয়ে বিমানের কাঠামো তৈরি করা হয়।
৬৯. প্রশ্ন: গ্রাফাইট অধাতু হওয়া সত্ত্বেও একে কেন তড়িৎ পরিবাহী হিসেবে ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: গ্রাফাইটের কেলাসাকার গঠনের মধ্যে কিছু ‘মুক্ত ইলেকট্রন’ থাকে যা পরমাণুগুলোর গুলোর মাঝখানে সহজে চলাফেরা করতে পারে। এই মুক্ত ইলেকট্রনগুলোই তড়িৎ পরিবহণে সাহায্য করে। অন্যান্য অধাতুর মধ্যে এমন মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না। তাই পেন্সিলের সিস বা ব্যাটারির তড়িৎদ্বার তৈরিতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।
৭০.? প্রশ্ন: পারদ ধাতু হওয়া সত্ত্বেও থার্মোমিটারে কেন ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: পারদ একমাত্র ধাতু যা সাধারণ উষ্ণতায় তরল অবস্থায় থাকে। তাপ পেলে পারদ খুব সুষমভাবে আয়তনে বৃদ্ধি পায়। এটি অস্বচ্ছ ও রুপোলি চকচকে হওয়ায় কাচের বাইরে থেকে এর ওঠানামা সহজে নজরে আসে। এটি কাচের দেওয়ালে আটকে যায় না বলে থার্মোমিটারে এর ব্যবহার আদর্শ।
৭১.? প্রশ্ন: চিনির শরবত একটি মিশ্র পদার্থ কেন?
উত্তর: চিনির শরবতে চিনি ও জল যেকোনো অনুপাতে মেশানো যায়। শরবতের মধ্যে চিনি ও জল উভয়েরই নিজস্ব স্বাদ ও ধর্ম বজায় থাকে (যেমন মিষ্টি স্বাদ ও তরল অবস্থা)। এছাড়া জলকে বাষ্পীভূত করলে চিনিকে পুনরায় কঠিন অবস্থায় ফিরে পাওয়া যায়। কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে না বলে এটি একটি মিশ্র পদার্থ।
৭২.? প্রশ্ন:অণু ও পরমাণুর মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
উত্তর: ১. অণু স্বাধীনভাবে প্রকৃতিতে থাকতে পারে, কিন্তু পরমাণু সাধারণত স্বাধীনভাবে থাকতে পারে না।
২. অণু রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে না (প্রথমে পরমাণুতে ভেঙে যায়), কিন্তু পরমাণু রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে।
৭৩.? প্রশ্ন: ওজোন ও অক্সিজেনের মধ্যে মিল ও অমিল আলোচনা করো।
উত্তর: মিল হলো ওজোন ও অক্সিজেন উভয়ই শুধুমাত্র অক্সিজেন পরমাণু দিয়ে গঠিত মৌলিক পদার্থ। অমিল হলো-অক্সিজেনের একটি অণুতে দুটি পরমাণু(O_2) থাকে, কিন্তু ওজোনের একটি অণুতে তিনটি পরমাণু (O_3) থাকে। এদের রাসায়নিক ধর্মও ভিন্ন হয়।
৭৪.? প্রশ্ন: বৈদ্যুতিক তারের ওপর প্লাস্টিকের আবরণ দেওয়া হয় কেন?
উত্তর: তামা বা অ্যালুমিনিয়াম তড়িৎ সুপরিবাহী, কিন্তু প্লাস্টিক তড়িৎ কুপরিবাহী বা অন্তরক। তারের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ার সময় কেউ যদি ভুলে তারে হাত দেয়, তবে প্লাস্টিকের আবরণের কারণে বিদ্যুৎ তার শরীরে ঢুকতে পারে না।অর্থাৎ শক থেকে বাঁচতে এই সুরক্ষা দেওয়া হয়।
৭৫.? প্রশ্ন: লোহার মরিচা ধরা রোধ করার তিনটি উপায় লেখো।
উত্তর: ১. লোহার জিনিসের ওপর রং, বার্নিশ বা তেলের প্রলেপ দেওয়া।
২. গ্যালভানাইজেশন পদ্ধতিতে লোহার ওপর দস্তার পাতলা প্রলেপ দেওয়া।
৩. লোহার সাথে ক্রোমিয়াম ও নিকেল মিশিয়ে স্টেনলেস স্টিল বা মরিচাহীন ইস্পাত তৈরি করা।
৭৬.? প্রশ্ন: কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস প্রাণীদের জন্য ক্ষতিকর হলেও পরিবেশের জন্য প্রয়োজনীয় কেন?
উত্তর: কার্বন ভাইঅক্সাইড প্রাণীদের শরীরের জন্য বিষাক্ত। তবে সবুজ উদ্ভিদরা সূর্যালোকের উপস্থিতিতে এই গ্যাস গ্রহণ করে সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় নিজেদের খাদ্য (গ্লকোজ) ও অক্সিজেন তৈরি করে। উদ্ভিদের খাদ্যের যোগান ও পরিবেশের অক্সিজেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে এই গ্যাসটি অভ্যন্ত প্রয়োজনীয়।
৭৭.? প্রশ্ন: মৌলের ল্যাটিন নাম থেকে চিহ্নের উৎপত্তি-দুটি উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে বলো।
উত্তর: অনেক ক্ষেত্রে মৌলের ইংরেজি নামের বদলে ল্যাটিন নাম থেকে চিহ্ন নেওয়া হয়। যেমন-পটাশিয়ামের ল্যাটিন নাম ‘Kalium’ (কালিয়াম), তাই এর চিহ্ন ‘K’। আবার তামার ল্যাটিন নাম ‘Cuprum’ (কিউগ্রাম), তাই এর চিহ্ন ‘Cu’।
৭৮.? প্রশ্ন: তরল ধাতু ও তরল অধাতুর মধ্যে একটি তুলনা করো।
উত্তর: সাধারণ উষ্ণতায় তরল ধাতু হলো পারদ (Hg), যা দেখতে রুপোলি সাদা, চকচকে এবং তড়িৎ সুপরিবাহী। অন্যদিকে তরল অধাতু হলো ব্রোমিন (Br), যা দেখতে গাঢ় লালচে খয়েরি রঙের এবং এটি তড়িৎ কুপরিবাহী।
৭৯.? প্রশ্ন: ম্যাগনেসিয়ামের ফিতাকে বাতাসে পোড়ালে কী ঘটে? এটি কী ধরণের পরিবর্তন?
উত্তর: ম্যাগনেসিয়ামের ফিতাকে পোড়ালে তা উজ্জ্বল সাদা আলোসহ জ্বলে ওঠে এবং সাদা গুঁড়ো ‘ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড’ তৈরি করে। এটি একটি রাসায়নিক পরিবর্তন কারণ উৎপন্ন নতুন পদার্থটি থেকে আর ম্যাগনেসিয়াম ফিরে পাওয়া যায় না।
৮০.? প্রশ্ন: একটি পদার্থের সংকেত থেকে আমরা কী কী তথ্য জানতে পারি?
উত্তর: সংকেত থেকে আমরা জানতে পারি:
১. পদার্থটি কোন কোন মৌল দিয়ে গঠিত।
২. ওই পদার্থের একটি অণুতে কোন মৌলের কতগুলি পরমাণু আছে।
৩. পদার্থটি মৌলিক না যৌগিক।
৪. অণুর সংকেত ভর বা আণবিক ওজন।
৮১.? প্রশ্ন: নাইট্রোজেন গ্যাস কেন বায়ুমণ্ডলের জন্য অপরিহার্য?
উত্তর: বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৭৮% নাইট্রোজেন। এটি সরাসরি শ্বাসকার্যে না লাগলেও বাতাসের অক্সিজেনের তীব্র দহন ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়। এছাড়া উদ্ভিদের প্রোটিন জাতীয় খাদ্য তৈরির জন্য পরোক্ষভাবে নাইট্রোজেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৮২.? প্রশ্ন: মিশ্র পদার্থ থেকে উপাদানগুলো আলাদা করা কেন জরুরি? একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: মিশ্রণে অনেক সময় ক্ষতিকর বা অপ্রয়োজনীয় পদার্থ মিশে থাকে, যা আলাদা করা প্রয়োজন। যেমন নোংরা জল থেকে ফিল্টার করে বালি ও জীবাণু আলাদা করা হয় জলকে পানের যোগ্য করার জন্য।
৮৩.? প্রশ্ন: চুনাপাথরকে উত্তপ্ত করলে কী ধরণের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে?
উত্তর: চুনাপাথরকে (ক্যালসিয়াম কার্বোনেট) তীব্র উত্তপ্ত করলে তা বিয়োজিত হয়ে ক্যালসিয়াম অক্সাইড (পোড়া চুন) এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাসে পরিণত হয়। এটি একটি রাসায়নিক বিয়োজন বিক্রিয়া।
৮৪.? প্রশ্ন: সাধারণ লবণ বা সোডিয়াম ক্লোরাইড কেন আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজন?
উত্তর: নুন আমাদের শরীরের স্নায়বিক বার্তা পরিবহণে এবং কোশের তরলে আয়নীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। নুনের অভাব হলে পেশিতে টান ধরা বা শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।
৮৫.? প্রশ্ন: ডাই-হাইড্রোজেন মনোক্সাইড আসলে কোন পদার্থ? এর রাসায়নিক গুরুত্ব কী?
উত্তর: এটি আমাদের অতি পরিচিত ‘জল’ (H_2O)। এটি একটি সার্বজনীন দ্রাবক কারণ এতে অজৈব ও জৈব-উভয় ধরণের পদার্থই সহজে দ্রবীভূত হতে পারে যা প্রাণের অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য।
৮৬.? প্রশ্ন: কার্বন মনোক্সাইড (CO) গ্যাস কেন মানুষের জন্য বিপজ্জনক?
উত্তর: এটি একটি বর্ণহীন ও গন্ধহীন বিষাক্ত গ্যাস। এটি মানুষের রক্তে অক্সিজেনের পরিবহণ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়, যার ফলে দম বন্ধ হয়ে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
৮৭.? প্রশ্ন: মিথেন (Marsh Gas) গ্যাসের উৎপত্তি ও ব্যবহার লেখো।
উত্তর: জলাভূমির নিচে পচা জৈব পদার্থ থেকে প্রাকৃতিকভাবে মিথেন উৎপন্ন হয়। এটি একটি দাহ্য গ্যাস হওয়ার কারণে বর্তমানে সিএনজি (CNG) বা জ্বালানি হিসেবে গাড়ি চালাতে ও রান্নায় ব্যবহৃত হয়।
৮৮.? প্রশ্ন: স্টেনলেস স্টিল কেন সাধারণ লোহার চেয়ে বেশি কার্যকর?
উত্তর: সাধারণ লোহা তাড়াতাড়ি মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু স্টেনলেস স্টিলে ক্রোমিয়াম ও নিকেল থাকে যা একে মরিচা থেকে রক্ষা করে। এটি অনেক বেশি শক্ত, দীর্ঘস্থায়ী এবং চকচকে থাকে।
৮৯.? প্রশ্ন: কোনো মৌলের চিহ্ন লেখার সময় আমরা কোন প্রধান নিয়ম অনুসরণ করি?
উত্তর: মৌলের ইংরেজি নামের প্রথম অক্ষরটি সবসময় বড় হাতের অক্ষরে লিখতে হয় (যেমন-H)। যদি একাধিক মৌলের নাম একই অক্ষর দিয়ে শুরু হয়, তবে প্রথমটির সাথে দ্বিতীয় একটি ছোট হাতের অক্ষর যোগ করতে হয় (যেমন-Ca)।
৯০.? প্রশ্ন: হিরে ও গ্রাফাইটের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি লেখো।
উত্তর: ১. হিরে পৃথিবীর কঠিনতম প্রাকৃতিক বস্তু, কিন্তু গ্রাফাইট নরম ও পিচ্ছিল।
২. হিরে স্বচ্ছ এবং তড়িৎ কুপরিবাহী, কিন্তু গ্রাফাইট কালো ও তড়িৎ সুপরিবাহী।
৯১.? প্রশ্ন: ক্লোরিন গ্যাস আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কী কাজে লাগে?
উত্তর: ক্লোরিন একটি অত্যন্ত শক্তিশালী জীবাণুনাশক। এটি পানীয় জলকে জীবাণুমুক্ত করতে এবং ব্লিচিং পাউডার তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়।
৯২.? প্রশ্ন: ক্যালসিয়াম ফসফেটের সংকেত Ca_3(PO_4)_2। এখান থেকে ওই অণুর পরমাণু সংখ্যা গণনা করো।
উত্তর: ক্যালসিয়াম (Ca) ৩টি, ফসফরাস (P) ১০২ = ২ টি এবং অক্সিজেন
(০) ৪০২ = ৮ টি। অর্থাৎ একটি অণুতে মোট পরমাণুর সংখ্যা ১৩ টি।
৯৩.? প্রশ্ন: তামা বা কপার কেন বৈদ্যুতিক তারে বেশি ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: তামা তড়িৎ পরিবহণে অত্যন্ত দক্ষ এবং এটি অনেক বেশি নমনীয়। এছাড়া রুপোর চেয়ে এটি অনেক সস্তা হওয়ায় বাণিজ্যিক বৈদ্যুতিক তারে তামা ব্যবহার করা হয়।
৯৪.? প্রশ্ন: অ্যামোনিয়া (NH_3) গ্যাসের একটি ব্যবহার ও ধর্ম লেখো।
উত্তর: অ্যামোনিয়া একটি তীর ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত গ্যাস। এটি প্রধানত কৃষিকাজের সার (যেমন ইউরিয়া) তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়।
৯৫.? প্রশ্ন: সোডিয়াম (Na) মৌলটিকে কেন কেরোসিন তেলের নিচে রাখা হয়?
উত্তর: সোডিয়াম অত্যন্ত সক্রিয় ধাতু। এটি বাতাস বা জলের সংস্পর্শে এলে সাথে সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে আগুন ধরে যায়। কেরোসিন তেলের সাথে এটি কোনো বিক্রিয়া করে না বলে একে তেলের নিচে রাখা হয়।
৯৬.? প্রশ্ন: ইংরেজি নামের বদলে ল্যাটিন নাম থেকে নেওয়া চিহ্নের তিনটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: ১. সোডিয়াম: Natrium থেকে Na।
২. রূপো: Argentum থেকে Ag।
৩. লোহা: Ferrum থেকে Fe।
৯৭.? প্রশ্ন: অ্যালুমিনিয়াম কেন বিমানের কাঠামো তৈরিতে ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: অ্যালুমিনিয়াম লোহার তুলনায় অনেক হালকা কিন্তু যথেষ্ট শক্ত। আকাশযানের ওজন কম রাখার জন্য এবং এতে সহজে মরিচা পড়ে না বলে এটি বিমানের কাঠামো তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
৯৮. ? প্রশ্ন: ফসফরাস মৌলটি আমাদের শরীরের কোন অংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: ফসফরাস আমাদের শরীরের হাড় ও দাঁতের মূল উপাদান (ক্যালসিয়াম ফসফেট) তৈরিতে লাগে। এছাড়া শরীরের শক্তি ও ডিএনএ গঠনেও এটি অপরিহার্য।
৯৯.? প্রশ্ন: সালফার বা গন্ধক সাধারণত কোথায় পাওয়া যায়? এর একটি ব্যবহার লেখো।
উত্তর: সালফার সাধারণত আগ্নেয়গিরি সংলগ্ন খনিতে পাওয়া যায়। এটি দেশলাই কাঠি তৈরি করতে এবং চর্মরোগের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
১০০.? প্রশ্ন: বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে মৌলিক পদার্থ সমূহের পর্যায় সারণির গুরুত্ব কী?
উত্তর: পর্যায় সারণি মৌলসমূহের ধর্ম সহজে বুঝতে ও মনে রাখতে সাহায্য করে। এটি নতুন কোনো মৌল বা যৌগ আবিষ্কারের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের সঠিক পথ দেখায় এবং রসায়ন বিজ্ঞানের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।