চতুর্থ অধ্যায় ‘শিলা ও খনিজ পদার্থ’

(পৃষ্ঠা ৬১-৭৮) থেকে প্রশ্ন ও উত্তর    

[অতিসংক্ষিপ্ত।নৈর্ব্যক্তিক/সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (মান ১ বা ২)]

 

১. প্রশ্ন: শিলা কাকে বলে?

উত্তর: পৃথিবীর ওপরের স্তরে থাকা শক্ত আবরণ যা বিভিন্ন খনিজ পদার্থের মিশ্রণে তৈরি হয়, তাকে শিলা বলে।

২. প্রশ্ন: উৎপত্তি অনুযায়ী শিলাকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়?

উত্তর: তিনটি ভাগে-আগ্নেয় শিলা, পাললিক শিলা ও রূপান্তরিত শিলা।

৩. প্রশ্ন: আগ্নেয় শিলা কীভাবে তৈরি হয়?

উত্তর: আগ্নেয়গিরি থেকে বের হওয়া গরম ম্যাগমা বা লাভা জমে ঠান্ডা ও শক্ত হয়ে আগ্নেয় শিলা তৈরি হয়।

৪. প্রশ্ন: একটি আগ্নেয় শিলার উদাহরণ দাও।

উত্তর: গ্রানাইট বা ব্যাসাল্ট।

৫. প্রশ্ন: পাললিক শিলা কীভাবে গঠিত হয়?

উত্তর: নদীর পলি, বালি ও কাদা সমুদ্র বা হ্রদের নিচে স্তরে স্তরে জমে চাপের ফলে শক্ত হয়ে এই শিলা তৈরি হয়।

৬. প্রশ্ন: একটি পাললিক শিলার উদাহরণ দাও।

উত্তর: বেলেপাথর বা চুনাপাথর।

৭. প্রশ্ন: রূপান্তরিত শিলা কী?

উত্তর: আগ্নেয় বা পাললিক শিলা অত্যধিক তাপ ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে যখন নতুন ধরণের শিলা তৈরি করে, তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।

৮. প্রশ্ন: চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে কীসে পরিণত হয়?

উত্তর: মার্বেল পাথরে।

৯. ? প্রশ্ন: গ্রানাইট পাথর রূপান্তরিত হয়ে কী হয়?

উত্তর: নিস (Gneiss) পাথরে।

১০. প্রশ্ন: খনিজ পদার্থ (Mineral) কাকে বলে?

উত্তর: প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট নির্দিষ্ট রাসায়নিক গঠনযুক্ত অজৈব পদার্থকে খনিজ পদার্থ বলে।

১১. প্রশ্ন: আকরিক (Ore) কাকে বলে?

উত্তর: যে খনিজ থেকে সহজে ও লাভজনকভাবে ধাতু নিষ্কাশন করা যায়, তাকে ওই ধাতুর আকরিক বলে।

১২. প্রশ্ন: লোহার একটি প্রধান আকরিকের নাম লেখো।

উত্তর: হেমাটাইট বা ম্যাগনেটাইট।

১৩. প্রশ্ন: অ্যালুমিনিয়ামের প্রধান আকরিক কোনটি?

উত্তর: বক্সাইট।

১৪.  প্রশ্ন: তামার একটি আকরিকের নাম লেখো।

উত্তর: কপার গ্লান্স বা কপার পাইরাইটস।

১৫.  প্রশ্ন: ম্যাগমা কাকে বলে?

উত্তর: মাটির নিচে গরমে গলে যাওয়া তরল শিলাকে ম্যাগমা বলে।

১৬. প্রশ্ন: লাভা কী?

উত্তর: মাটির তলার ম্যাগমা যখন আগ্নেয়গিরি দিয়ে ভূপৃষ্ঠের ওপরে বেরিয়ে আসে, তাকে লাভা বলে।

১৭. প্রশ্ন: কোন শিলাকে ‘প্রাথমিক শিলা’ বলা হয়?

উত্তর: আগ্নেয় শিলাকে।

১৮. প্রশ্ন: জীবাশ্ম (Fossil) কোন শিলায় দেখা যায়?

উত্তর: পাললিক শিলায়।

১৯. প্রশ্ন: কয়লা কী ধরণের শিলা?

উত্তর: জৈব পাললিক শিলা।

২০. প্রশ্ন: খনিজ তেল (Petroleum) কোথায় পাওয়া যায়?

উত্তর: পাললিক শিলার স্তরে।

২১. প্রশ্ন: তাজমহল কী ধরণের শিলা দিয়ে তৈরি?

উত্তর: সাদা মার্বেল (রূপান্তরিত শিলা)।

২২. প্রশ্ন: পিউমিস (Pumis) পাথর কী?

উত্তর: এটি এক ধরণের হালকা আগ্নেয় শিলা যাতে অসংখ্য ছোট ছিদ্র থাকে (একে ঝামা পাথরও বলে)।

২৩. প্রশ্ন: কাদার পাথর রূপান্তরিত হয়ে কী হয়?

উত্তর: স্লেট পাথর।

২৪. প্রশ্ন: কোন শিলা জল ধরে রাখতে পারে?

উত্তর: পাললিক শিলা (এর সছিদ্রতা বেশি)।

২৫. প্রশ্ন: রেললাইনের ধারে যে কালো পাথর দেখা যায় সেগুলো কী?

উত্তর: ব্যাসাল্ট শিলা।

২৬. প্রশ্ন: খনিজ সোনা কোথায় পাওয়া যায়?

উত্তর: অনেক সময় নদীর বালিতে বা কোয়ার্টজ শিলার শিরায় সোনা পাওয়া যায়।

২৭. প্রশ্ন: লোহা ও ইস্পাতের প্রধান তফাত কী?

উত্তর: লোহার সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণে কার্বন ও অন্যান্য ধাতু মিশিয়ে ইস্পাত তৈরি করা হয় যা অনেক বেশি শক্ত।

২৮. প্রশ্ন: স্টেনলেস স্টিল তৈরিতে লোহার সাথে কী মেশানো হয়?

উত্তর: ক্রোমিয়াম ও নিকেল।

২৯. প্রশ্ন: জীবন্ত জীবাশ্ম বলতে কী বোঝো?

উত্তর: যেসব প্রাণী সুদূর অতীতে জন্মিয়েও কোনো পরিবর্তন ছাড়া আজও পৃথিবীতে টিকে আছে (যেমন-রাজকাঁকড়া)।

৩০. প্রশ্ন: লিগনাইট কী?

উত্তর: এটি এক ধরণের নিম্নমানের বাদামী কয়লা।

৩১. প্রশ্ন: সবচেয়ে উন্নত মানের কয়লা কোনটি?

উত্তর: অ্যানথ্রাসাইট।

৩২. প্রশ্ন: পেট্রোলিয়াম কথাটির অর্থ কী?

উত্তর: পেট্রো মানে পাথর এবং অলিয়াম মানে তেল, অর্থাৎ পাথরের তেল।

৩৩. প্রশ্ন: প্রাকৃতিক গ্যাস মূলত কী দিয়ে তৈরি?

উত্তর: মিখেন গ্যাস।

৩৪. প্রশ্ন: সিএনজি (CNG)-র পুরো নাম কী?

উত্তর: কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস।

৩৫.? প্রশ্ন: এলপিজি (LPG)-র পুরো নাম কী?

উত্তর: লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস।

৩৬.? প্রশ্ন: বক্সাইট থেকে কোন ধাতু পাওয়া যায়?

উত্তর: অ্যালুমিনিয়াম।

৩৭.? প্রশ্ন: পিচ বা বিটুমেন কী কাজে লাগে?

উত্তর: রাস্তা তৈরির কাজে লাগে।

৩৮. প্রশ্ন: তরল সোনা কাকে বলা হয়?

উত্তর: খনিজ তেল বা পেট্রোলিয়ামকে।

৩৯. প্রশ্ন: শিলাচক্র কী?

উত্তর: শিলার এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তরের চক্রাকার পদ্ধতি।

৪০.  প্রশ্ন: বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কী হয়?

উত্তর: কোয়ার্টজাইট।

৪১. প্রশ্ন: কয়লার প্রধান উপাদান কী?

উত্তর: কার্বন।

৪২. প্রশ্ন: গ্রাফাইট কীসের রূপান্তরিত রূপ?

উত্তর: কয়লার।

৪৩. প্রশ্ন: কোন কয়লা পুড়লে সবচেয়ে বেশি তাপ পাওয়া যায়?

উত্তর: অ্যানথ্রাসাইট।

৪৪. প্রশ্ন: জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) কী?

উত্তর: লক্ষ লক্ষ বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়া উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে তৈরি জ্বালানি (যেমন-কয়লা, তেল)।

৪৫. প্রশ্ন: ব্রোজ তৈরিতে তামার সাথে কী মেশানো হয়?

উত্তর: টিন।

৪৬. প্রশ্ন: কোন শিলায় স্তরায়ন (Layers) দেখা যায়?

উত্তর: পাললিক শিলায়।

৪৭. প্রশ্ন: ক্যালামাইন কোন ধাতুর আকরিক?

উত্তর: দস্তা বা জিঙ্ক।

৪৮. প্রশ্ন: হেমাটাইটের রং কেমন হয়?

উত্তর: লালচে কালো।

৪৯.  প্রশ্ন: একটি অধাতব খনিজের উদাহরণ দাও।

উত্তর: অভ্র বা জিপসাম।

৫০. প্রশ্ন: স্লেট পাথর কী কাজে লাগে?

উত্তর: ঘরের চাল ছাইতে বা ব্ল্যাকবোর্ড তৈরিতে।

৫১. প্রশ্ন: ম্যাগনেটাইট খনিজের একটি বিশেষ ধর্ম কী?

উত্তর: এটি চুম্বক দ্বারা আকর্ষিত হয়।

৫২. প্রশ্ন: অ্যালুমিনিয়াম কেন বৈদ্যুতিক তারে ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: কারণ এটি হালকা এবং তড়িৎ সুপরিবাহী।

৫৩. প্রশ্ন: পাললিক শিলাকে কেন স্তরীভূত শিলা বলে?

উত্তর: কারণ এই শিলা স্তরে স্তরে জমে গঠিত হয়।

৫৪. প্রশ্ন: ঝামা পাথর জলে ভাসে কেন?

উত্তর: কারণ এর গায়ে প্রচুর ছিদ্র থাকায় এর ঘনত্ব জলের চেয়ে কম।

৫৫. প্রশ্ন: কোক (Coke) কী?

উত্তর: কয়লার অন্তধূম পাতনের ফলে পাওয়া কঠিন অবশেষ।

৫৬. প্রশ্ন: লোহায় কেন মরিচা পড়ে?

উত্তর: জল ও অক্সিজেনের উপস্থিতিতে লোহার রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে।

৫৭. প্রশ্ন: খনিজ তেল শোধনাগার থেকে কী কী পাওয়া যায়?

উত্তর: পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, প্যারাফিন মোম ইত্যাদি।

৫৮. প্রশ্ন: চুনাপাথর কী কাজে লাগে?

উত্তর: সিমেন্ট তৈরিতে ও লোহা নিষ্কাশনে।

৫৯.  প্রশ্ন: জীবজগত ও শিলার সম্পর্ক কী?

উত্তর: শিলা ভেঙে মাটি তৈরি হয়, যাতে উদ্ভিদ জন্মায় এবং প্রাণীরা খাদ্য পায়।

৬০. প্রশ্ন: একটি আগ্নেয় শিলার নাম করো যা খুব শক্ত?

উত্তর: গ্রানাইট।

[রচনামূলক / বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর (মান ৩/৪)]

 

৬১. প্রশ্ন: আগ্নেয় শিলা ও পাললিক শিলার মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো।

উত্তর: ১. আগ্নেয় শিলা লাভা বা ম্যাগমা জমে তৈরি হয়, কিন্তু পাললিক শিলা পলি স্তরে স্তরে জমে তৈরি হয়।

২. আগ্নেয় শিলা খুব শক্ত ও দানাযুক্ত হয়, কিন্তু পাললিক শিলা সাধারণত নরম ও ভঙ্গুর হয়।

৩. আগ্নেয় শিলায় কোনো জীবাশ্ম দেখা যায় না, কিন্তু পাললিক শিলায় উদ্ভিদের বা প্রাণীর জীবাশ্ম পাওয়া যায়।

৬২.? প্রশ্ন: জীবাশ্ম (Fossil) কীভাবে তৈরি হয়? এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: মৃত উদ্ভিদ বা প্রাণীর দেহ পাললিক শিলার স্তরের নিচে কাদার মধ্যে আটকা পড়লে, লক্ষ লক্ষ বছর ধরে মাটির চাপে ও তাপে পচে না গিয়ে শিলার গায়ে তার ছাপ থেকে যায়। একেই জীবাশ্ম বলে। এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর মাধ্যমে আমরা পৃথিবীর সুদূর অতীতের বিলুপ্ত প্রাণী (যেমন-ডাইনোসর) ও উদ্ভিদ সম্পর্কে জানতে পারি।

৬৩. প্রশ্ন: রূপান্তরিত শিলা বলতে কী বোঝো? একটি উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে বলো।

উত্তর: আগ্নেয় বা পাললিক শিলা যখন ভূগর্ভের প্রচণ্ড তাপ, চাপ বা রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে পরিবর্তন হয়ে নতুন ধরণের শিলা তৈরি করে, তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে। যেমন-পাললিক শিলা ‘চুনাপাথর’ পরিবর্তিত হয়ে অনেক বেশি শক্ত ও সুন্দর ‘মার্বেল পাথর’-এ পরিণত হয়।

৬৪. প্রশ্ন: আকরিক ও খনিজের মধ্যে সম্পর্ক কী? “সব আকরিকই খনিজ, কিন্তু সব খনিজ আকরিক নয়”-ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: মাটির নিচে থাকা সব অজৈব পদার্থই হলো খনিজ। কিন্তু যে খনিজ থেকে সহজে ও সপ্তায় ধাতু পাওয়া যায়, তাকেই আকরিক বলে। যেমন-লোহার অনেক খনিজ থাকলেও হেমাটাইট থেকে সহজে লোহা পাওয়া যায়, তাই এটি আকরিক। কিন্তু বালি বা অন্য অনেক খনিজ থেকে লোহা পাওয়া লাভজনক নয়, তাই সেগুলো খনিজ হলেও আকরিক নয়।

৬৫. প্রশ্ন: শিলাচক্র (Rock Cycle) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: প্রকৃতিতে শিলা এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় চক্রাকারে আবর্তিত হয়। আগ্নেয় শিলা ক্ষয়ে গিয়ে পাললিক শিলা হয়, আবার পাললিক বা আগ্নেয় শিলা চাপে ও তাপে রূপান্তরিত শিলা হয়। এই রূপান্তরিত শিলা আবার মাটির নিচে গলে গিয়ে ম্যাগমা তৈরি করে যা থেকে পুনরায় আগ্নেয় শিলা হয়। শিলার এই রূপান্তরের চক্রকেই শিলাচক্র বলে।

৬৬. প্রশ্ন: খনিজ তেল বা পেট্রোলিয়াম কীভাবে তৈরি হয়?

উত্তর: লক্ষ লক্ষ বছর আগে সমুদ্রের তলদেশে উদ্ভিদ ও সামুদ্রিক প্রাণীরা মরে যাওয়ার পর বালু ও কাদার নিচে চাপা পড়ে যায়। অক্সিজেনহীন অবস্থায় প্রচণ্ড চাপে ও তাপে তাদের দেহাবশেষ রাসায়নিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে তরল খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসে পরিণত হয়।

৬৭. প্রশ্ন: কয়লা কয় প্রকার ও কী কী? সবচেয়ে উন্নত মানের কয়লা কোনটি?

উত্তর: কার্বনের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে কয়লাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়-১. পিট (সবচেয়ে নিম্নমানের), ২. লিগনাইট, ৩. বিটুমিনাস এবং ৪. অ্যানথ্রাসাইট। এদের মধ্যে অ্যানথ্রাসাইট সবচেয়ে উন্নত মানের কয়লা কারণ এতে কার্বনের পরিমাণ বেশি থাকে এবং পুড়লে ধোঁয়া কম হয়।

৬৮.? প্রশ্ন: গ্রানাইট ও ব্যাসাল্ট পাথরের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

উত্তর: গ্রানাইট শিলা মাটির অনেক নিচে ম্যাগমা ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে তৈরি হয়, তাই এর দানাগুলো বড় হয়। অন্যদিকে ব্যাসাল্ট ভূপৃষ্ঠের ওপরে লাভা দ্রুত ঠান্ডা হয়ে তৈরি হয়, তাই এর দানাগুলো খুব ছোট হয়। গ্রানাইট হালকা রঙের হয়, কিন্তু ব্যাসাল্ট গাঢ় বা কালো রঙের হয়।

৬৯.? প্রশ্ন: শিলা থেকে কীভাবে মাটির সৃষ্টি হয়?

উত্তর: রোদ, জল, বায়ুপ্রবাহ এবং বৃষ্টির প্রভাবে পাহাড়ের শিলা ক্রমাগত ভাঙতে থাকে। এই ক্ষুদ্র শিলাচূর্ণের সাথে মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর পচা দেহাবশেষ এবং নানা রকম খনিজ মিশে দীর্ঘ সময় ধরে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে উর্বর মাটি তৈরি হয়। এটি একটি অত্যন্ত মন্থর প্রক্রিয়া।

৭০.? প্রশ্ন: আকরিক থেকে ধাতু নিষ্কাশন করার সময় কী কী পর্যায় পার করতে হয়?

উত্তর: আকরিক থেকে ধাতু পাওয়ার জন্য সাধারণত নিচের ধাপগুলো পালন করা হয়:

১. খনি থেকে আকরিক তুলে এনে গুঁড়ো করা।

২. আকরিক থেকে বালি বা পাথরের মতো অপদ্রব্য আলাদা করা।

৩. রাসায়নিক পদ্ধতির মাধ্যমে আকরিক থেকে বিশুদ্ধ ধাতু বের করে আনা।

৭১.? প্রশ্ন: পাললিক শিলাকে কেন স্তরীভূত শিলা বলা হয়?

উত্তর: সমুদ্র, নদী বা হ্রদের নিচে পলি, বালি ও কাদা বছরের পর বছর ধরে একটির ওপর একটি স্তরে স্তরে জমা হয়। উপরের স্তরের চাপে নিচের স্তরগুলো শক্ত হয়ে শিলা তৈরি করে। যেহেতু এই শিলা স্তরের বিন্যাস স্পষ্ট বোঝা যায়, তাই একে স্তরীভূত শিলা বলে।

৭২.? প্রশ্ন: প্রাকৃতিক গ্যাস ও সিএনজি (CNG) সম্পর্কে টীকা লেখো।

উত্তর: খনিজ তেলের কুপের ওপরে যে গ্যাস জমে থাকে তাকে প্রাকৃতিক গ্যাস বলে। এই গ্যাসকে উচ্চ চাপে সংকুচিত করলে তাকে সিএনজি (CNG) বলা হয়। এটি বর্তমানে বাস, অটো ও বড় গাড়ি চালাতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয় কারণ এটি পেট্রোল বা ডিজেলের চেয়ে কম দূষণ ছড়ায়।

৭৩.? প্রশ্ন: ঝামা পাথর বা পিউমিস পাথরের বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?

উত্তর: পিউমিস হলো এক ধরণের হালকা আগ্নেয় শিলা। এর ভেতরে বাতাসের বুদবুদ আটকা পড়ে ছোট ছোট অসংখ্য ছিদ্র তৈরি করে। এর ফলে এই পাথরের ঘনত্ব খুব কম হয় এবং এটি অনায়াসে জলে ভাসে। এটি শরীর পরিষ্কার করতে বা ঘষার কাজে ব্যবহৃত হয়।

৭৪.? প্রশ্ন: খনিজ তেল থেকে পাওয়া যায় এমন চারটি উপজাত পদার্থের নাম ও ব্যবহার লেখো।

উত্তর: ১. পেট্রোল: গাড়ি ও বিমানের জ্বালানি হিসেবে।

২. ডিজেল: বাস, ট্রাক ও পাম্প চালাতে।

৩. কেরোসিন: রান্নার কাজে ও আলো জ্বালাতে।

৪. প্যারাফিন মোম: মোমবাতি তৈরিতে ও প্রসাধনী সামগ্রীতে।

৭৫.? প্রশ্ন: আমাদের প্রতিদিনের জীবনে শিলা ও খনিজের তিনটি ব্যবহার লেখো।

উত্তর: ১. গৃহনির্মাণে: পাথর, মার্বেল ও গ্রানাইট ঘরবাড়ি ও রাস্তা তৈরিতে লাগে।

২. ধাতু উৎপাদনে: লোহা, অ্যালুমিনিয়াম ও তামা দিয়ে নানা যন্ত্র ও তার তৈরি হয়।

৩. জ্বালানি হিসেবে: কয়লা ও খনিজ তেল রান্নায় ও কলকারখানা চালাতে ব্যবহৃত হয়।

৭৬.? প্রশ্ন: মার্বেল পাথর কেন ঘর সাজাতে বা স্থাপত্যে বেশি জনপ্রিয়?

উত্তর: মার্বেল একটি রূপান্তরিত শিলা যা দেখতে খুব মসৃণ ও সুন্দর। এটি বিভিন্ন রঙের হতে পারে এবং সহজেই ঘষে উজ্জ্বল করা যায়। সাদা মার্বেল পাথরের স্থাপত্য (যেমন-তাজমহল) অত্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী ও রাজকীয় দেখায়।

৭৭. প্রশ্ন: অ্যালুমিনিয়াম কেন লোহার চেয়ে বেশি সুবিধাজনক?

উত্তর: লোহা খুব ভারী এবং ভিজে বাতাসে সহজেই মরচে পড়ে নষ্ট হয়। কিন্তু অ্যালুমিনিয়াম লোহার চেয়ে অনেক হালকা এবং এতে মরচে পড়ে না। তাই বিমানের কাঠামো তৈরিতে ও রান্নার বাসনপত্র হিসেবে অ্যালুমিনিয়াম বেশি উপযোগী।

৭৮. প্রশ্ন: স্টেনলেস স্টিল তৈরির পদ্ধতি ও এর সুবিধা লেখো।

উত্তর: লোহার সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণে কার্বন, ক্রোমিয়াম ও নিকেল মিশিয়ে স্টেনলেস স্টিল তৈরি করা হয়। এর সুবিধা হলো এটি অনেক বেশি শক্ত, এতে সাধারণ লোহার মতো মরচে পড়ে না এবং এটি অত্যন্ত চকচকে ও পরিষ্কার রাখা সহজ।

৭৯.? প্রশ্ন: খনিজ তেল শোধনাগার বা রিফাইনারি বলতে কী বোঝো?

উত্তর: খনি থেকে যে তেল পাওয়া যায় তাকে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল বলে। এই তেল সরাসরি ব্যবহার করা যায় না। শোধনাগারে আংশিক পাতন পদ্ধতিতে এই তেলকে বিভিন্ন তাপমাত্রায় ফুটিয়ে পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন ইত্যাদি আলাদা করা হয়।

৮০.? প্রশ্ন: রূপান্তরিত শিলা কেন অনেক সময় বেশি দামী হয়?

উত্তর: রূপান্তরিত শিলা অনেক বেশি শক্ত ও ঘন হয়। এই রূপান্তরের ফলে পাথরের মধ্যে নতুন ও সুন্দর কেলাস তৈরি হয় (যেমন-কয়লা থেকে হিরে)। মার্বেল বা স্লেটের মতো রূপান্তরিত শিলাগুলো টেকসই ও সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির কাজে লাগে বলে এদের চাহিদা ও দাম বেশি।

৮১.? প্রশ্ন: কয়লার উপজাত দ্রব্য ‘কোক’ (Coke) সম্পর্কে লেখো।

উত্তর: বায়ুহীন অবস্থায় কয়লাকে উত্তপ্ত করলে তার ভেতর থেকে উদ্বায়ী গ্যাস বেরিয়ে যাওয়ার পর যে কালো ও ছিদ্রযুক্ত অবশেষ পড়ে থাকে, তাকে কোক বলে। এটি লোহা নিষ্কাশনে চুল্লিতে জ্বালানি ও বিজারক হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

৮২.? প্রশ্ন: লিগনাইট কয়লার দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: ১. লিগনাইট হলো এক ধরণের নিম্নমানের কয়লা যাকে ‘ব্রাউন কোল’ বা বাদামী কয়লা বলা হয়।

২. এতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি এবং কার্বনের পরিমাণ কম থাকে, ফলে এটি পুড়লে তাপ কম ও ধোঁয়া বেশি হয়।

৮৩. প্রশ্ন: ধাতু নিষ্কাশন বলতে কী বোঝো?

উত্তর: প্রকৃতিতে অধিকাংশ ধাতু আকরিকের মধ্যে বিভিন্ন যৌগের আকারে মিশে থাকে। উপযুক্ত রাসায়নিক বিক্রিয়া ও তাপ প্রয়োগ করে আকরিক থেকে সেই বিশুদ্ধ ধাতুকে আলাদা করে বের করে আনার পদ্ধতিকেই ধাতু নিষ্কাশন বলে।

৮৪. প্রশ্ন: স্লেট পাথর কী থেকে তৈরি হয়? এর দুটি ব্যবহার লেখো।

উত্তর: পাললিক শিলা ‘কাদা পাথর’ (Shale) রূপান্তরিত হয়ে স্লেট পাথর তৈরি করে।

ব্যবহার: ১. ব্ল্যাকবোর্ড ও শিশুদের পড়াশোনার স্লেট তৈরিতে।

২. ঘরের মজবুত চাল বা ছাদ তৈরিতে।

৮৫. প্রশ্ন: হেমাটাইট ও ম্যাগনেটাইট আকরিকের মধ্যে দুটি পার্থক্য কী?

উত্তর: হেমাটাইট সাধারণত লালচে রঙের হয় এবং এটি লোহার একটি প্রধান আকরিক। ম্যাগনেটাইট কালো রঙের হয় এবং এতে লোহার পরিমাণ হেমাটাইটের চেয়েও বেশি থাকে। এছাড়া ম্যাগনেটাইটের নিজস্ব চৌম্বক ধর্ম দেখা যায়।

৮৬. প্রশ্ন: খনিজ সম্পদের সংরক্ষণের প্রয়োজন কেন?

উত্তর: খনিজ সম্পদ বা জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, তেল) প্রকৃতিতে সীমিত পরিমাণে আছে। এগুলো একবার ফুরিয়ে গেলে আর নতুন করে তৈরি করা সম্ভব নয়। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় খনিজ সম্পদের অপচয় বন্ধ করে এর সঠিক সংরক্ষণ জরুরি।

৮৭. প্রশ্ন: অভ্র (Mica) কী ধরণের খনিজ? এর ব্যবহার লেখো।

উত্তর: অভ্র একটি অধাতব খনিজ যা পাতলা স্তরে বিন্যস্ত থাকে। এটি তাপ ও বিদ্যুতের কুপরিবাহী।

ব্যবহার: বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে (যেমন-ইস্ত্রি) অন্তরক হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং উজ্জ্বল রঙ ও প্রসাধনী তৈরিতে কাজে লাগে।

৮৮.? প্রশ্ন: পিচ বা বিটুমেন আসলে কী?

উত্তর: খনিজ তেল বা পেট্রোলিয়াম শোধন করার সময় সব শেষে যে কালো, ঘন ও আঠালো অবশেষ পড়ে থাকে, তাকে বিটুমেন বা পিচ বলে। এটি জল নিরোধক হওয়ায় রাস্তা তৈরির কাজে এবং ছাদের লিক সারাই করতে ব্যবহৃত হয়।

৮৯.? প্রশ্ন: তামা বা কপারের তিনটি ব্যবহার লেখো।

উত্তর: ১. তড়িৎ সুপরিবাহী হওয়ায় বৈদ্যুতিক তার ও মোটর তৈরিতে।

২. সংকর ধাতু (যেমন-পিতল, ব্রোঞ্জ) তৈরিতে।

৩. তাপ সুপরিবাহী হওয়ায় বয়লার বা তাপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র তৈরিতে।

৯০.  প্রশ্ন: ব্যাসাল্ট শিলা আমাদের কী কী কাজে লাগে?

উত্তর: ব্যাসাল্ট অত্যন্ত শক্ত ও ভারী শিলা। এটি রাস্তা তৈরির মূল উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া রেললাইনের নিচে যে কালো পাথর বিছিয়ে দেওয়া হয়, সেগুলো সাধারণত ব্যাসাল্ট শিলা। অনেক সময় ঘর তৈরির মেঝেতে বা কারখানায় এটি ব্যবহৃত হয়।

৯১. প্রশ্ন: জিপসাম ও চুনাপাথরের মধ্যে একটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: চুনাপাথর হলো ক্যালসিয়াম কার্বোনেট যা মূলত সিমেন্ট শিল্পে লাগে। জিপসাম হলো ক্যালসিয়াম সালফেট যা সিমেন্টের জমাট বাঁধার সময় নিয়ন্ত্রণ করতে এবং প্লাস্টার অফ প্যারিস তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

৯২. প্রশ্ন: কয়লা খনিতে কেন প্রায়ই বিস্ফোরণ ঘটে?

উত্তর: কয়লা খনিতে কয়লার স্তরের সাথে প্রচুর পরিমাণে দাহ্য মিথেন গ্যাস মিশে থাকে। একে ‘ফায়ার ড্যাম্প’ বলে। খননের সময় আগুনের ফুলকি বা বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে এই গ্যাস বাতাসের সাথে মিশে বিধ্বংসী বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে

৯৩.? প্রশ্ন: কোয়ার্টজ (Quartz) খনিজ সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর: কোয়ার্টজ হলো পৃথিবীর অন্যতম সাধারণ খনিজ যা বালি ও গ্রানাইট পাথরের মূল উপাদান। এটি খুব শক্ত হয়। ঘড়ি তৈরিতে, কাঁচ শিল্পে এবং রেডিও বা কম্পিউটারের সার্কিটে কোয়ার্টজ ব্যবহৃত হয়।

৯৪. প্রশ্ন: রূপান্তরিত শিলা কেন আগ্নেয় শিলার চেয়েও বেশি শক্ত হতে পারে?

উত্তর: রূপান্তরের সময় শিলার ভেতরের কণাগুলো প্রচণ্ড চাপে একে অপরের গায়ে খুব শক্তভাবে গেঁথে যায়। এর ফলে পাথরের ভেতরে কোনো ছিদ্র বা ফাঁক থাকে না। এই প্রক্রিয়ায় শিলার ঘনত্ব বেড়ে যায় এবং তা অত্যন্ত মজবুত ও কঠিন হয়ে ওঠে।

৯৫.? প্রশ্ন: ‘পাথুরে কয়লা’ বলতে কী বোঝো?

উত্তর: ভূগর্ভের নিচে উদ্ভিদদেহ লক্ষ লক্ষ বছর ধরে পাললিক শিলার নিচে চাপা পড়ে শক্ত হয়ে যে কালো দাহ্য জ্বালানিতে পরিণত হয়, তাকেই পাথুরে কয়লা বলা হয়। এটি মূলত কার্বন দিয়ে গঠিত।

৯৬.? প্রশ্ন: এলপিজি (LPG) গ্যাস সিলিন্ডারে কী কী গ্যাস থাকে?

উত্তর: এলপিজি সিলিন্ডারে মূলত প্রোপেন ও বিউটেন নামক হাইড্রোকার্বন গ্যাসকে উচ্চ চাপে তরল অবস্থায় রাখা হয়। গ্যাস লিক করলে যাতে চট করে বোঝা যায়, সেজন্য এতে কটু গন্ধযুক্ত ‘ইথাইল মারক্যাপটান’ মেশানো হয়।

৯৭. প্রশ্ন: বক্সাইট আকরিক থেকে অ্যালুমিনিয়াম কীভাবে পাওয়া যায়?

উত্তর: বক্সাইট আকরিককে প্রথমে রাসায়নিকভাবে শোধন করে অ্যালুমিনা (অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড) বের করা হয়। এরপর বিদ্যুৎ বিশ্লেষণ (Electrolysis) পদ্ধতির মাধ্যমে অ্যালুমিনা থেকে তরল অ্যালুমিনিয়াম ধাতু সংগ্রহ করা হয়।

৯৮. প্রশ্ন: চুনাপাথরের গুহায় যে অদ্ভুত আকৃতি দেখা যায় সেগুলোকে কী বলে?

উত্তর: চুনাপাথরের গুহার ছাদ থেকে ঝুলন্ত চুনাপাথরের স্তম্ভকে ‘স্ট্যালাকটাইট’ এবং মেঝ থেকে ওপরের দিকে ওঠা স্তম্ভকে ‘স্ট্যালাগমাইট’ বলা হয়। এটি চুন মিশ্রিত জলের ফোঁটা থেকে চুনাপাথর জমা হয়ে তৈরি হয়।

৯৯. প্রশ্ন: লোহা ও ইস্পাতের মধ্যে কোনটির ব্যবহার বেশি এবং কেন?

উত্তর: লোহার চেয়ে ইস্পাতের ব্যবহার অনেক বেশি। কারণ সাধারণ লোহার চেয়ে ইস্পাত বেশি শক্তিশালি, এটি সহজে বাঁকে না বা ভেঙে যায় না। এছাড়া ইস্পাতে মরচে ধরা রোধ করা যায় এবং এটি দিয়ে সুই থেকে শুরু করে বড় সেতু-সবই তৈরি করা সম্ভব।

১০০. প্রশ্ন: মানুষের সভ্যতার বিবর্তনে শিলা ও খনিজের অবদান আলোচনা করো।

উত্তর: মানব সভ্যতার প্রতিটি যুগ শিলা ও খনিজের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। প্রাচীনকালে মানুষ পাথর দিয়ে অস্ত্র তৈরি করত (প্রস্তর যুগ), তারপর তামা, ব্রোঞ্জ ও লোহার ব্যবহার শিখে সভ্যতার উন্নতি ঘটিয়েছে। আজ আধুনিক যুগে বিদ্যুৎ, পরিবহণ এবং স্থাপত্য-সবই খনিজ ও শিলা সম্পদের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল।

 

©kamaleshforeducation.in(2023)

error: Content is protected !!
Scroll to Top