পঞ্চম অধ্যায় ‘মাপজোখ বা পরিমাপ’
(পৃষ্ঠা ৭৯-১৪) প্রশ্ন ও উত্তর:
[অতিসংক্ষিপ্ত।নৈর্ব্যক্তিক/সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (মান ১ বা ২)]
১. প্রশ্ন: পরিমাপ কাকে বলে?
উত্তর: কোনো অজানা রাশির মান কোনো জানা আদর্শ মানের তুলনায় কত গুণ বা কত ভাগ তা নির্ণয় করাকে পরিমাপ বলে।
২. প্রশ্ন: ভৌত রাশি বা প্রাকৃতিক রাশি কাকে বলে?
উত্তর: যা কিছু পরিমাপ করা যায় তাকেই ভৌত রাশি বলে। যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময় ইত্যাদি।
৩. প্রশ্ন: একক কাকে বলে?
উত্তর: কোনো ভৌত রাশির পরিমাপের জন্য ওই রাশির একটি নির্দিষ্ট ও সুবিধাজনক মানকে প্রমাণ ধরে নিয়ে ওই রাশির পরিমাপ করা হয়, সেই মানকেই একক বলে।
৪. প্রশ্ন: প্রাথমিক বা মূল একক কাকে বলে?
উত্তর: যেসব একক অন্য কোনো এককের ওপর নির্ভর করে না এবং যাদের সাহায্যে অন্যান্য একক গঠন করা যায়, তাদের প্রাথমিক একক বলে। যেমন- দৈর্ঘ্যের একক।
৫.? প্রশ্ন: লব্ধ একক কী?
উত্তর: এক বা একাধিক প্রাথমিক এককের সাহায্যে গঠিত একককে লব্ধ একক বলে। যেমন- ক্ষেত্রফল বা বেগের একক।
৬.? ? প্রশ্ন: দৈর্ঘ্যের SI একক কী?
উত্তর: মিটার
৭. প্রশ্ন: ভরের SI একক কী?
উত্তর: কিলোগ্রাম (kg)
৮. প্রশ্ন: সময়ের SI একক কী? তার
উত্তর: সেকেন্ড (s)
৯. প্রশ্ন: তরল পদার্থের আয়তন মাপার এককের নাম কী?
উত্তর: লিটার (L)
১০. প্রশ্ন: ১ মিটার সমান কত সেন্টিমিটার?
উত্তর: ১০০ সেন্টিমিটার।
১১. প্রশ্ন: তুলাদণ্ড বা সাধারণ তুলাযন্ত্র দিয়ে কী মাপা হয়?
উত্তর: বস্তুর ভর।
১২. প্রশ্ন: স্প্রিং তুলাযন্ত্রের সাহায্যে কী পরিমাপ করা হয়?
উত্তর: বস্তুর ভার বা ওজন।
১৩. প্রশ্ন: আয়তন কাকে বলে?
উত্তর: কোনো বস্তু যতটা স্থান দখল করে থাকে, তাকে ওই বস্তুর আয়তন বলে।
১৪. প্রশ্ন: আয়তন মাপক চোঙের সাহায্যে কী মাপা হয়?
উত্তর: তরল পদার্থের আয়তন এবং অনিয়মিত আকারের কঠিন বস্তুর আয়তন।
১৫. প্রশ্ন: ক্ষেত্রফল পরিমাপের সূত্র কী?
উত্তর: ক্ষেত্রফল = দৈর্ঘ্য প্রস্থ।
১৬. প্রশ্ন: ১ লিটার সমান কত মিলিলিটার?
উত্তর: ১০০০ মিলিলিটার।
১৭. প্রশ্ন: উষ্ণতা পরিমাপের যন্ত্রের নাম কী?
উত্তর: থার্মোমিটার।
১৮. ? প্রশ্ন: সুস্থ মানুষের দেহের স্বাভাবিক উষ্ণতা কত?
উত্তর: ৯৮.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট (বা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস)।
১৯.? প্রশ্ন: স্টপওয়াচ বা বিরাম ঘড়ি কেন ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট অল্প সময়ের ব্যবধান নির্ভুলভাবে মাপার জন্য।
২০. প্রশ্ন: এককহীন রাশি কাকে বলে?
উত্তর: যে সব রাশি দুটি সমজাতীয় রাশির অনুপাত হিসেবে প্রকাশ করা হয়, তাদের কোনো একক থাকে না। যেমন- আপেক্ষিক গুরুত্ব।
২১.? প্রশ্ন: খুব ছোট দৈর্ঘ্য (যেমন- অণুর আকার) মাপার একটি এককের নাম লেখো।
উত্তর: অ্যাংস্ট্রম বা ন্যানোমিটার।
২২.? প্রশ্ন: আলোকবর্ষ কিসের একক?
উত্তর: নাক্ষত্রিক দূরত্বের একক।
২৩. ? প্রশ্ন: ক্ষেত্রফলের একক কী?
উত্তর: বর্গমিটার বা বর্গ সেন্টিমিটার।
২৪.? প্রশ্ন: ঘনফল বা আয়তনের একক কী?
উত্তর: ঘনমিটার বা ঘন সেন্টিমিটার (cc)।
২৫. ? প্রশ্ন: ১ সেন্টিমিটার সমান কত মিলিমিটার?
উত্তর: ১০ মিলিমিটার।
২৬.? প্রশ্ন: ওজনের একক কী?
উত্তর: নিউটন (N)।
২৭.? প্রশ্ন: সাধারণ স্কেলের সাহায্যে সর্বনিম্ন কত দৈর্ঘ্য মাপা যায়?
উত্তর: ১ মিলিমিটার।
২৮.? প্রশ্ন: লম্বন ত্রুটি কী?
উত্তর: স্কেলে মাপ নেওয়ার সময় চোখ যদি ঠিক উলম্বভাবে না থাকে, তবে যে ভুল হয় তাকে লম্বন ত্রুটি বলে।
২৯. প্রশ্ন: একটি ঘড়ির পেন্ডুলামের একবার দুলতে ২ সেকেন্ড সময় লাগলে তাকে কী ঘড়ি বলে?
উত্তর: সেকেণ্ড দোলক ঘড়ি।
৩০.? প্রশ্ন: উড বা কাঠের মিটারে দৈর্ঘ্যের কী কী একক থাকে?
উত্তর: সেন্টিমিটার ও ইঞ্চি।
৩১. প্রশ্ন: ওজনের SI একক নিউটন হলে CGS একক কী?
উত্তর: ডাইন (dyne)।
৩২. প্রশ্ন: ক্ষেত্রফল কি প্রাথমিক রাশি না লব্ধ রাশি?
উত্তর: লব্ধ রাশি।
৩৩. প্রশ্ন: ঘনত্ব কাকে বলে?
উত্তর: কোনো পদার্থের একক আয়তনের ভরকে ওই পদার্থের ঘনত্ব বলে।
৩৪. প্রশ্ন: ঘনত্বের একক কী?
উত্তর: গ্রাম/ঘন সেমি (CGS) বা কিগ্রা/ঘন মিটার (SI)।
৩৫. প্রশ্ন: সাধারণ মিটার স্কেলের দৈর্ঘ্য সাধারণত কত হয়?
উত্তর: ১০০ সেন্টিমিটার বা ১ মিটার।
৩৬. প্রশ্ন: ঘরির কাঁটার গতি কী ধরণের গতি?
উত্তর: পর্যায়বৃত্ত গতি।
৩৭. প্রশ্ন: এস.আই (SI) পদ্ধতির পুরো নাম কী?
উত্তর: ইন্টারন্যাশনাল সিস্টেম অফ ইউনিটস।
৩৮. প্রশ্ন: কোন উষ্ণতায় জলের ঘনত্ব সর্বাধিক হয়?
উত্তর: ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতায়।
৩৯. প্রশ্ন: ভার বা ওজন কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবী কোনো বস্তুকে যে বল দিয়ে নিজের কেন্দ্রের দিকে টানে, তাকে ওই বস্তুর ভার বা ওজন বলে।
৪০. প্রশ্ন: ডিজিটাল স্টপওয়াচে সময়ের কত সূক্ষ্ম ভাগ মাপা যায়?
উত্তর: এক সেকেণ্ডের ১০০ ভাগের এক ভাগ পর্যন্ত।
৪১.? প্রশ্ন: দৈর্ঘ্য পরিমাপের সবচেয়ে বড় এককের নাম কী?
উত্তর: পারসেক (Parsec)।
৪২.? প্রশ্ন: ১ কিলোগ্রাম সমান কত গ্রাম?
উত্তর: ১০০০ গ্রাম।
৪৩.? প্রশ্ন: সূর্য ঘড়ি দিয়ে কী মাপা হতো?
উত্তর: প্রাচীনকালে দিনের সময় মাপা হতো।
৪৪. প্রশ্ন: ঘড়িতে কীসের কাঁপা বা কম্পনকে কাজে লাগিয়ে সময় মাপা হয়?
উত্তর: কোয়ার্টজ নামক কেলাসের কম্পনকে।
৪৫. প্রশ্ন: সুস্থ মানুষের নাড়ির স্পন্দন মিনিটে কত বার হয়?
উত্তর: সাধারণত ৭২ থেকে ৮০ বার।
৪৬.? প্রশ্ন: সেন্টিগ্রেড স্কেলের ঊর্ধ্ব স্থিরাঙ্ক কত?
উত্তর: ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
৪৭.? প্রশ্ন: একটি বৃত্তের ক্ষেত্রফল মাপার সূত্র কী?
উত্তর: \pi \times ব্যাসার্ধ^2।
৪৮.? প্রশ্ন: সেন্টিগ্রেড স্কেলের নিম্ন স্থিরাঙ্ক কত?
উত্তর: ডিগ্রি সেলসিয়াস।
৪৯. প্রশ্ন: ১ টন সমান কত কিলোগ্রাম?
উত্তর: ১০০০ কিলোগ্রাম।
৫০. প্রশ্ন: বালু ঘড়ি কী কাজে ব্যবহৃত হতো?
উত্তর: সময়ের ব্যবধান মাপার কাজে।
৫১.প্রশ্ন: ওজনের যন্ত্রপাতিতে সাধারণত কত ধরণের বাটখারা খাকে?
উত্তর: ৫:২:২:১ অনুপাতে।
৫২.প্রশ্ন: মাপা চোঙের গায়ে যে দাগ থাকে তাকে কী বলে?
উত্তর: মিলিমিটার বা মিলিলিটার স্কেল।
৫৩. প্রশ্ন: ভর মাপার যন্ত্রকে কী বলে?
উত্তর: সাধারণ তুলাযন্ত্র।
৫৪.? প্রশ্ন: ১ ঘন্টা সমান কত উত্তর: না, সেকেণ্ড?
উত্তর: ৩৬০০ সেকেণ্ড।
৫৫.? প্রশ্ন: ক্ষেত্রফল কি স্কেলার রাশি না ভেক্টর রাশি?
উত্তর: স্কেলার রাশি।
৫৬.? প্রশ্ন: বস্তুর ভর কি সব জায়গায় সমান থাকে?
উত্তর: হ্যাঁ, বস্তুর ভর মহাবিশ্বের সব জায়গায় ধ্রুবক বা সমান থাকে।
৫৭. প্রশ্ন: বস্তুর ওজন কি সব জায়গায় সমান থাকে?
উত্তর:-অভিকর্ষজ ত্বরণের মান পরিবর্তনের সাথে সাথে ওজন বদলে যায়।
৫৮. প্রশ্ন: মাপা চোঙের সাহায্যে তরলের পাঠ নেওয়ার সময় তরলের উপরিভাগ কেমন থাকে?
উত্তর: অবতল (Concave) প্রকৃতির।
৫৯. প্রশ্ন: সেকেন্ডের সংজ্ঞা দাও।
উত্তর: এক গড় সৌরদিনের ৮৬,৪০০ ভাগের এক ভাগ সময়কে ১ সেকেন্ড বলে।
৬০. প্রশ্ন: ১ কুইন্টাল সমান কত কিলোগ্রাম?
উত্তর: ১০০ কিলোগ্রাম।
[রচনামূলক / বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর (মান – ৩/৪)]
৬১.? প্রশ্ন: লব্ধ একক কাকে বলে? ক্ষেত্রফলের একক কেন একটি লব্ধ একক তা বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: যে সব একক এক বা একাধিক প্রাথমিক এককের সাহায্যে গঠিত হয়, তাদের লব্ধ একক বলে। ক্ষেত্রফল = দৈর্ঘ্য * প্রস্থ। যেহেতু ক্ষেত্রফল নির্ণয় করতে দুটি দৈর্ঘ্যের একক (দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ উভয়েই এক ধরণের দৈর্ঘ্য) গুণ করতে হয়, তাই ক্ষেত্রফলের একক (বর্গমিটার) তৈরি করতে প্রাথমিক একক ‘মিটার’-কে দুবার ব্যবহার করতে হয়েছে। এই কারণে ক্ষেত্রফলের একক একটি লব্ধ একক।
৬২.? প্রশ্ন: সাধারণ স্কেলের সাহায্যে পরিমাপ করার সময় কী কী সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত?
উত্তর: ১. স্কেলটিকে বস্তুর দৈর্ঘ্যের সাথে সমান্তরালভাবে রাখতে হবে।
২. স্কেলের শূন্য (০) দাগটি বস্তুর এক প্রান্তের সাথে মেলাতে হবে। যদি স্কেলের প্রাপ্ত ক্ষয়ে যায়, তবে অন্য কোনো দাগ (যেমন ১ সেমি) থেকে মাপ শুরু করতে হবে।
৩. পাঠ নেওয়ার সময় চোখ ঠিক উলম্বভাবে রাখতে হবে যাতে লম্বন ত্রুটি না ঘটে।
৬৩. প্রশ্ন: লম্বন ত্রুটি কাকে বলে? চিত্র ছাড়া এটি কীভাবে এড়ানো যায় তা লেখো।
উত্তর: কোনো স্কেলের পাঠ নেওয়ার সময় চোখ যদি স্কেলের দাগের সাথে লম্বভাবে না থেকে তির্যকভাবে থাকে, তবে বস্তুর প্রকৃত দৈর্ঘ্যের চেয়ে পাঠ কিছুটা কম বা বেশি হয়। একে লম্বন ত্রুটি বলে। এটি এড়ানোর উপায় হলো- পাঠ নেওয়ার সময় চোখকে ঠিক যে বিন্দুর পাঠ নেওয়া হচ্ছে তার ঠিক উপরে লম্বভাবে রাখতে হবে।
৬৪. প্রশ্ন: সাধারণ তুলাযন্ত্র ও স্প্রিং তুলাযন্ত্রের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর: ১. সাধারণ তুলাযন্ত্র দিয়ে বস্তুর ভর মাপা হয়, কিন্তু স্প্রিং তুলাযন্ত্র দিয়ে বস্তুর ভার বা ওজন মাপা হয়।
২. সাধারণ তুলাযন্ত্রে দুই দিকে দুটি পাল্লা থাকে, কিন্তু স্প্রিং তুলাযন্ত্রে একটি হুক ও স্প্রিং থাকে।
৩. স্থানের পরিবর্তনে বস্তুর ভর একই থাকে বলে সাধারণ তুলাযন্ত্রে পাঠ বদলায় না, কিন্তু অভিকর্ষজ বলের পরিবর্তনের কারণে স্প্রিং তুলাযন্ত্রে পাঠ বদলে যেতে পারে।
৬৫. প্রশ্ন: আয়তন মাপক চোঙের সাহায্যে কীভাবে একটি অনিয়মিত আকারের কঠিন বস্তুর (যেমন পাথর) আয়তন নির্ণয় করা যায়?
উত্তর: প্রথমে মাপক চোঙটিতে কিছুটা জল নিয়ে তার পাঠ (V_1) নিতে হবে। এরপর একটি সুতো দিয়ে পাথরটিকে বেঁধে সাবধানে জলের মধ্যে সম্পূর্ণ ডোবাতে হবে। এবার জলের তল উপরে উঠে আসবে, সেই নতুন পাঠ (V_2) নিতে হবে। পাথরের আয়তন হবে দুই পাঠের পার্থক্য (V_2-V_1)।
৬৬.? প্রশ্ন: ভর ও ওজনের (ভার) মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য আলোচনা করো।
উত্তর: ১. বস্তুর মধ্যে যে পরিমাণ জড় পদার্থ থাকে তাকে ভর বলে, আর পৃথিবী বস্তুকে যে বল দিয়ে টানে তাকে ওজন বলে।
২. ভর হলো স্কেলার রাশি, কিন্তু ওজন হলো একটি ভেক্টর রাশি।
৩. কোনো বস্তুর ভর শূন্য হতে পারে না, কিন্তু পৃথিবীর কেন্দ্রে বা মহাকাশে বস্তুর ওজন শূন্য হতে পারে।
৬৭. প্রশ্ন: একটি পাতলা কাগজের বেধ (Thickness) তুমি সাধারণ স্কেলের সাহায্যে কীভাবে নির্ণয় করবে?
উত্তর: একটি কাগজের বেধ খুব কম হওয়ায় তা সাধারণ স্কেলে মাপা যায় না। এজন্য একই ধরণের অনেকগুলো কাগজ (যেমন ১০০টি) একটার ওপর একটা রেখে একটি বান্ডিল তৈরি করতে হবে। এবার স্কেল দিয়ে ওই বান্ডিলের মোট বেধ মেপে নিতে হবে। প্রাপ্ত মোট বেধকে কাগজের সংখ্যা (১০০) দিয়ে ভাগ করলেই একটি কাগজের বেধ পাওয়া যাবে।
৬৮.? প্রশ্ন: এস.আই (SI) পদ্ধতির গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করো।
উত্তর: আগে বিভিন্ন দেশে আলাদা আলাদা পরিমাপ পদ্ধতি (যেমন FPS, CGS) চলায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ও বিজ্ঞানের গবেষণায় অসুবিধা হতো। ১৯৬০ সালে সারা বিশ্বে একই ধরণের একক ব্যবহারের জন্য SI পদ্ধতি চালু করা হয়। এটি অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত, দশমিক ভিত্তিক এবং এই পদ্ধতিতে সাতটি মূল এককের সাহায্যে মহাবিশ্বের যেকোনো রাশি পরিমাপ করা সম্ভব।
৬৯.? প্রশ্ন: সুস্থ মানুষের দেহের উষ্ণতা মাপার সময় ডাক্তাররা কোন ধরণের থার্মোমিটার ব্যবহার করেন? এর বিশেষত্ব কী?
উত্তর: ডাক্তাররা ‘ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার’ বা ডাক্তারি থার্মোমিটার ব্যবহার করেন। এর বিশেষত্ব হলো এর নলের ভেতরে বাল্বের কাছে একটি সরু খাঁজ বা বাঁক থাকে। এর ফলে থার্মোমিটারটি মুখ থেকে বের করার পর পারদ চট করে নিচে নেমে যায় না, ফলে রোগীর শরীরের সঠিক উষ্ণতা নির্ভুলভাবে পড়া যায়।
৭০. প্রশ্ন: ঘনত্ব কাকে বলে? ঘনত্বের একক কীভাবে নির্ণয় করা হয় তা বুঝিয়ে বলো।
উত্তর: কোনো পদার্থের একক আয়তনের ভরকে ওই পদার্থের ঘনত্ব বলে। অর্থাৎ, ঘনত্ব ভর/ আয়তন। SI পদ্ধতিতে ভরের একক কিলোগ্রাম (kg) এবং আয়তনের একক ঘনমিটার (m^3)। সুতরাং ঘনত্বের SI একক হলো কিগ্রা/ঘনমিটার (kg/m^3)। একইভাবে CGS একক হলো গ্রাম/ঘন সেমি (g/cm^3)।
৭১. প্রশ্ন: স্টপওয়াচ বা বিরাম ঘড়ি ব্যবহারের সুবিধা কী? এটি সাধারণ ঘড়ির চেয়ে কোথায় আলাদা?
উত্তর: স্টপওয়াচের প্রধান সুবিধা হলো এটি দিয়ে খুব অল্প সময়ের ব্যবধান (যেমন দৌড় প্রতিযোগিতার সময়) অত্যন্ত নির্ভুলভাবে মাপা যায়। সাধারণ ঘড়ি অনবরত চলতে থাকে, কিন্তু স্টপওয়াচকে প্রয়োজন মতো শুরু (Start) এবং শেষ (Stop) করা যায়। এছাড়া আধুনিক ডিজিটাল স্টপওয়াচ এক সেকেন্ডের ১০০ ভাগের এক ভাগও মাপতে পারে।
৭২.? প্রশ্ন: ‘সেকেন্ড’ এককটি পরিমাপের ক্ষেত্রে কেন খুব গুরুত্বপূর্ণ? সৌরদিন বলতে কী বোঝো?
উত্তর: সময় পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক হলো সেকেন্ড। পৃথিবী নিজের অক্ষের চারদিকে একবার আবর্তন করতে যে সময় নেয় তাকে এক সৌরদিন বলে। এই এক সৌরদিনকে ২৪ (ঘন্টা) ৬০ (মিনিট) ৬০ (সেকেন্ড) = ৮৬,৪০০ ভাগ করলে যে সময় পাওয়া যায় তাকেই ১ সেকেন্ড বলে। বিজ্ঞানের প্রতিটি হিসাব এই এককটির ওপর নির্ভরশীল।
৭৩. প্রশ্ন: মাপক চোঙের সাহায্যে তরলের পাঠ নেওয়ার সময় কী কী সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন?
উত্তর: ১. চোঙটিকে একটি সমতল ও অনুভূমিক জায়গায় রাখতে হবে।
২. চোখকে তরল তলের সাথে একই সমতলে রাখতে হবে।
৩. জল বা এই ধরণের স্বচ্ছ তরলের ক্ষেত্রে অবতল তলের নিম্নবিন্দু (Lower meniscus) এবং পারদের ক্ষেত্রে উত্তল তলের উপরিভাগের পাঠ নিতে হবে।
৭৪. প্রশ্ন:তুলাদন্ডের দুদিকে বাটখারাগুলি ৫:২:২:১ অনুপাতে রাখা হয় কেন?
উত্তর: সাধারণ তুলাযন্ত্রের বাটখারাগুলি এই বিশেষ অনুপাতে রাখা হয় যাতে ১ গ্রাম থেকে শুরু করে যেকোনো মানের ভর সবচেয়ে কম সংখ্যক বাটখারা ব্যবহার করে মাপা যায়। উদাহরণস্বরূপ, যদি ৭ গ্রাম মাপতে হয়, তবে আমরা ৫ গ্রাম ও ২ গ্রামের বাটখারা নিলেই হবে। এতে ওজন করার কাজ অনেক দ্রুত ও সহজ হয়।
৭৫. প্রশ্ন: ক্ষেত্রফল ও আয়তনের মধ্যে তিনটি তুলনা করো।
উত্তর: ১. ক্ষেত্রফল হলো কোনো দ্বিমাত্রিক তলের মাপ (দৈর্ঘ্য প্রস্থ), আর আয়তন হলো ত্রিমাত্রিক স্থানের মাপ (দৈর্ঘ্য প্রস্থ উচ্চতা)।
২. ক্ষেত্রফলের একক বর্গমিটার বা বর্গসেমি, কিন্তু আয়তনের একক ঘনমিটার বা ঘনসেমি।
৩. একটি বইয়ের পাতার ওপরের অংশ হলো ক্ষেত্রফল, কিন্তু পুরো বইটি যতটা জায়গা জুড়ে আছে তা হলো আয়তন।
৭৬. প্রশ্ন: আমাদের প্রতিদিনের জীবনে পরিমাপের প্রয়োজনীয়তা উদাহরণসহ আলোচনা করো।
উত্তর: পরিমাপ ছাড়া আধুনিক জীবন কল্পনা করা অসম্ভব।
যেমন- ১. বাজার থেকে চাল, ডাল বা সবজি কিনতে গেলে ভরের পরিমাপ দরকার।
২. জামাকাপড় তৈরির জন্য কাপড়ের দৈর্ঘ্যের সঠিক মাপ প্রয়োজন।
৩. শরীর খারাপ হলে শরীরের উষ্ণতা মাপতে পরিমাপ দরকার।
৪. নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলে বা অফিসে পৌঁছাতে সময়ের সঠিক জ্ঞান বা পরিমাপ জরুরি।
৭৭. প্রশ্ন: ১ লিটার বলতে কী বোঝো? এটি কি সব উষ্ণতায় একই থাকে?
উত্তর: ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতায় ১ কিলোগ্রাম বিশুদ্ধ জলের আয়তনকে ১ লিটার বলে। না, আয়তন উষ্ণতার ওপর নির্ভর করে। উষ্ণতা বাড়লে তরলের প্রসারণ ঘটে, ফলে আয়তন বেডে যায়। এই কারণেই লিটারের সংজ্ঞায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতার উল্লেখ করা অত্যন্ত জরুরি।
৭৮. প্রশ্ন: ঘড়ির বিবর্তন সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো (সূর্য ঘড়ি থেকে ডিজিটাল ঘড়ি)।
উত্তর: প্রাচীনকালে মানুষ ছায়ার দৈর্ঘ্য দেখে ‘সূর্য ঘড়ি’ বা বালুর পড়ে যাওয়া দেখে ‘বালি ঘড়ি’ ব্যবহার করত। পরে পেন্ডুলামের দোলনকে কাজে লাগিয়ে ‘যান্ত্রিক ঘড়ি’ তৈরি হয়। আরও আধুনিক যুগে কোয়ার্টজ কেলাসের কম্পন ব্যবহার করে অত্যন্ত নির্ভুল ‘কোয়ার্টজ ঘড়ি’ এবং বর্তমান সময়ে সংখ্যা দিয়ে সময় দেখানোর জন্য ‘ডিজিটাল ঘড়ি’ ও স্মার্টওয়াচ আবিষ্কৃত হয়েছে।
৭৯. প্রশ্ন: আয়তকার একটি কাঠের ব্লকের আয়তন কীভাবে নির্ণয় করবে?
উত্তর: প্রথমে একটি মিটার স্কেল দিয়ে কাঠের ব্লকটির দৈর্ঘ্য (L), প্রস্থ (B) ও উচ্চতা (H) নির্ভুলভাবে মেপে নিতে হবে। আমরা জানি, আয়তকার বস্তুর আয়তন = দৈর্ঘ্য প্রস্থ উচ্চতা। সুতরাং প্রাপ্ত তিনটি মান গুণ করলেই কাঠের ব্লকটির আয়তন পাওয়া যাবে। এর একক হবে ঘনসেমি বা ঘনমিটার।
৮০. প্রশ্ন: দৈর্ঘ্যের প্রাথমিক একক ‘মিটার’-এর আধুনিক সংজ্ঞাটি কী?
উত্তর: আগে মিটার বলতে প্যারিসে রাখা একটি প্লাটিনাম-ইরিডিয়াম দন্ডের দৈর্ঘ্যকে বোঝাত। কিন্তু বর্তমানে আরও নির্ভুল হওয়ার জন্য মিটারকে আলোর গতির সাহায্যে সংজ্ঞায়িত করা হয়। শূন্য মাধ্যমে আলো ১ সেকেন্ডের ২৯৯,৭৯২,৪৫৮ ভাগের এক ভাগ সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে, তাকেই ১ মিটার বলা হয়।
৮১. প্রশ্ন: দড়ি বা ফিতার সাহায্যে একটি বক্ররেখার দৈর্ঘ্য তুমি কীভাবে পরিমাপ করবে?
উত্তর: একটি বক্ররেখার ওপর স্কেল বসিয়ে সরাসরি মাপ নেওয়া সম্ভব নয়। এজন্য একটি সরু সুতো নিতে হবে। সুতোটির এক প্রান্ত বক্ররেখার এক প্রান্তে ধরে রেখা বরাবর সুতোটিকে বসিয়ে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে। এবার সুতোর ওই অংশটিকে একটি স্কেলের ওপর সোজা করে বসিয়ে দৈর্ঘ্য মাপলেই বক্ররেখাটির প্রকৃত দৈর্ঘ্য পাওয়া যাবে।
৮২. প্রশ্ন: কোয়ার্টজ ঘড়ি সাধারণ পেন্ডুলাম ঘড়ির চেয়ে কেন বেশি উন্নত?
উত্তর: পেন্ডুলাম ঘড়ি মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ও তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে, তাই অনেক সময় এর সময় ভুল হতে পারে। কিন্তু কোয়ার্টজ ঘড়িতে ব্যাটারির সাহায্যে কোয়ার্টজ কেলাসের অত্যন্ত দ্রুত ও সুষম কম্পনকে কাজে লাগানো হয়। এটি ওজনে হালকা, আকারে ছোট এবং সময়ের পাঠ অনেক বেশি নির্ভুল দেয়।
৮৩. প্রশ্ন: তরল পদার্থের আয়তন মাপার একক ‘লিটার’ এবং ‘মিলিলিটার’-এর মধ্যে সম্পর্ক কী? মিলিলিটারকে কেন অনেক সময় Cc বলা হয়?
উত্তর: ১ লিটার সমান ১০০০ মিলিলিটার। ১ মিলিলিটার আয়তন ১ ঘন সেন্টিমিটার আয়তনের সমান। ইংরেজিতে ঘন সেন্টিমিটারকে বলা হয় ‘Cubic Centimetre’, যার সংক্ষিপ্ত রূপ হলো ‘cc’। তাই তরলের ক্ষুদ্র আয়তন মাপতে মিলিলিটার বা cc-উভয়ই ব্যবহৃত হয়।
৮৪.? প্রশ্ন: সাধারণ মিটার স্কেলের সাহায্যে আমরা কেন ০.১ মিলিমিটার দৈর্ঘ্য মাপতে পারি না?
উত্তর: সাধারণ মিটার স্কেলের ক্ষুদ্রতম ঘরের মান হলো ১ মিলিমিটার। এই স্কেলে এক মিলিমিটারের চেয়ে ছোট কোনো দাগ থাকে না। তাই চোখের আন্দাজে ১ মিলিমিটারের ছোট কোনো মাপ নিতে গেলে তাতে ভুলের সম্ভাবনা থাকে। নির্ভুলভাবে ০.১ মিমি মাপতে গেলে ভার্নিয়ার ক্যালিপার্সের মতো উন্নত যন্ত্রের প্রয়োজন হয়।
৮৫. প্রশ্ন: ওজনহীনতা কাকে বলে? এটি কখন অনুভূত হয়?
উত্তর: কোনো বস্তুর ওপর যখন কোনো মহাকর্ষীয় বল ক্রিয়া করে না বা যখন বস্তুটির ওপর কোনো প্রতিক্রিয়া বল থাকে না, তখন বস্তুটি নিজেকে ওজনহীন মনে করে। একে ওজনহীনতা বলে। মহাকাশযানে ভ্রমণকারী ব্যক্তিরা বা লিফটের দড়ি ছিঁড়ে গিয়ে অবাধে নিচে পড়ার সময় মানুষ ওজনহীনতা অনুভব করে।
৮৬. প্রশ্ন: উষ্ণতা ও তাপের মধ্যে পরিমাপগত পার্থক্য কী?
উত্তর:তাপ হলো একটি শক্তি যা ক্যালোরিমিটার দিয়ে পরিমাপ করা হয়। অন্যদিকে উষ্ণতা হলো তাদের একটি অবস্থা যা নির্দেশ করে বস্তুটি অন্য বস্তুকে তাপ দেবে না নেবে, এটি থার্মোমিটার দিয়ে মাপা হয়। তাপের একক ক্যালোরি বা জুল এবং উষ্ণতার একক ডিগ্রি সেলসিয়াস বা কেলভিন।
৮৭.? প্রশ্ন: ভর পরিমাপের ক্ষেত্রে‘আদর্শ বাটখারা’ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: ভর মাপার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কিছু নির্দিষ্ট ভরের বাটখারাকে আদর্শ বাটখারা বলা হয়। এর মূল কপিটি ফ্রান্সে সংরক্ষিত আছে। এই আদর্শ মানের সাথে তুলনা করেই আমাদের দেশের বাটখারাগুলি তৈরি করা হয় যাতে সারা বিশ্বে ওজনের পরিমাপে কোনো গরমিল না হয়।
৮৮. প্রশ্ন: কোনো বস্তুর ভর কেন মহাবিশ্বের সব জায়গায় ধ্রুবক থাকে? উত্তর: ভর মানে হলো বস্তুর ভেতর থাকা মোট পদার্থের পরিমাণ। যেহেতু কোনো বস্তুর স্থান পরিবর্তন করলে তার ভেতরের অণু-পরমাণুর সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না, তাই বস্তুটি পৃথিবীতে থাকুক বা চাঁদে অথবা মহাকাশে-তার ভর সব সময় একই বা ধ্রুবক থাকে।
৮৯. প্রশ্ন: সময় মাপার আধুনিক একক হিসেবে কেন কোয়ার্টজ কম্পন বেছে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: কোয়ার্টজ কেলাসের বিশেষ ধর্ম হলো এর ওপর চাপ প্রয়োগ করলে বা বিদ্যুৎ দিলে এটি অত্যন্ত দ্রুত ও নির্দিষ্ট হারে কাঁপতে থাকে। এই কম্পন অত্যন্ত সুষম এবং দীর্ঘ সময় ধরে একই থাকে। এই নিখুঁত ছন্দকে কাজে লাগিয়ে ঘড়ি তৈরি করলে তা বছরে মাত্র কয়েক সেকেন্ড এদিক-ওদিক হতে পারে, যা অন্য যেকোনো ঘড়ির চেয়ে বেশি নির্ভুল।
৯০. প্রশ্ন: পরিমাপের এককে ‘উপগুণিতক’ ও ‘গুণিতক’ বলতে কী বোঝো? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যখন কোনো মূল এককের চেয়ে বড় একক ব্যবহার করা হয় তাকে গুণিতক বলে (যেমন-মিটারের গুণিতক কিলোমিটার)। আর যখন ছোট একক ব্যবহার করা হয় তাকে উপগুণিতক বলে (যেমন-মিটারের উপগুণিতক সেন্টিমিটার বা মিলিমিটার)। বড় বা ছোট দৈর্ঘ্য মাপার সুবিধার জন্য এগুলো ব্যবহার করা হয়।
৯১.? প্রশ্ন: থার্মোমিটারের পাল্লা (Range) বলতে কী বোঝো? ডাক্তারি থার্মোমিটারের পাল্লা কত?
উত্তর: একটি থার্মোমিটার সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ যে উষ্ণতা মাপতে পারে, সেই সীমাকে তার পাল্লা বলে। ডাক্তারি থার্মোমিটারের পাল্লা সাধারণত ৯৫°F থেকে ১১০°F পর্যন্ত হয়। কারণ মানুষের দেহের উষ্ণতা কখনোই এই সীমার বাইরে যায় না।
৯২. প্রশ্ন: ১ বর্গমিটার এবং ১ মিটার বর্গ-এর মধ্যে কি কোনো পার্থক্য আছে?
উত্তর: হ্যাঁ। ১ বর্গমিটার হলো একটি ক্ষেত্রফলের মান যা ১ মিটার লম্বা ও ১ মিটার চওড়া জায়গাকে বোঝায়। আর ১ মিটার বর্গ বলতে বোঝায় ১ মিটার বাহু বিশিষ্ট একটি বর্গক্ষেত্র। গাণিতিকভাবে মান এক হলেও ১ মিটার বর্গ কথাটি আকার নির্দেশ করে, আর ১ বর্গমিটার পরিমাণ নির্দেশ করে।
৯৩. প্রশ্ন: ঘনত্ব কমলে বা বাড়লে বস্তুর ভরের কী পরিবর্তন হয়? (যদি আয়তন স্থির থাকে)
উত্তর: আয়তন স্থির থাকলে ঘনত্বের সাথে ভরের সমানুপাতিক সম্পর্ক থাকে। অর্থাৎ পদার্থের ঘনত্ব বাড়লে ওই আয়তনের ভর বাড়বে (যেমন- (লাহা) এবং ঘনত্ব কমলে তর কমবে (যেমন-কাঠ)। এর থেকেই বোঝা যায় কেন একই আকারের লোহার বল কাঠের বলের চেয়ে ভারী হয়।
৯৪.? প্রশ্ন: প্রাচীনকালের ‘জল ঘড়ি’ কীভাবে কাজ করত?
উত্তর: জল ঘড়িতে একটি পাত্রে ছোট ছিদ্র দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা জল অন্য একটি পাত্রে পড়ত। দ্বিতীয় পাত্রটির গায়ে দাগ কাটা থাকত। সময়ের সাথে সাথে জলের স্তর যে দাগ স্পর্শ করত, তা দেখেই সময় নির্ণয় করা হতো। এটি মেঘলা দিনে বা রাতেও সময় মাপতে সাহায্য করত যখন সূর্য ঘড়ি কাজ করত না।
৯৫. প্রশ্ন: মেট্রিক পদ্ধতি বলতে কী বোঝো? এর সুবিধা কী? কী?
উত্তর: মিটার ও কিলোগ্রামকে ভিত্তি করে যে দশমিক পরিমাপ পদ্ধতি গড়ে উঠেছে তাকে মেট্রিক পদ্ধতি বলে (যেমন SI বা CGS পদ্ধতি)। এর প্রধান সুবিধা হলো এই পদ্ধতিতে এক একক থেকে অন্য এককে যেতে হলে কেবল ১০, ১০০ বা ১০০০ দিয়ে গুণ বা ভাগ করলেই হয় (দশমিক সরিয়ে), যা হিসাব করা অত্যন্ত সহজ।
৯৬.? প্রশ্ন: কোনো ফাঁপা ফুটবল এবং একটি নিরেট লোহার বলের আয়তন কি এক হতে পারে?
উত্তর: হ্যাঁ, যদি ফুটবলটির বাইরের পরিধি এবং লোহার বলটির বাইরের পরিধি সমান হয়, তবে তাদের আয়তনও সমান হবে। কারণ আয়তন বলতে বস্তুটি মহাকাশে বা পরিবেশে কতটা স্থান দখল করে আছে তা বোঝায়, বস্তুটি ভেতরে ফাঁপা না কি নিরেট তার ওপর আয়তন নির্ভর করে না।
৯৭.? প্রশ্ন: সূর্য ঘড়ির একটি বড় সীমাবদ্ধতা কী?
উত্তর: সূর্য ঘড়ি সূর্যের আলোর ওপর নির্ভরশীল। তাই মেঘলা দিনে বা সূর্যাস্তের পর অর্থাৎ রাতে এই ঘড়ির সাহায্যে সময় মাপা সম্ভব নয়। এছাড়া বছরের বিভিন্ন সময়ে সূর্যের অবস্থানের পরিবর্তনের কারণে এই ঘড়ির পাঠে সূক্ষ্ম ভুল হতে পারে।
৯৮. প্রশ্ন: আমাদের দেহের স্বাভাবিক উষ্ণতা ৯৮.৪°F। এটি সেলসিয়াস স্কেলে কত হবে?
উত্তর: ফারেনহাইট থেকে সেলসিয়াসে রূপান্তরের সূত্র প্রয়োগ করে দেখা যায় যে ৯৮.৪°F উত্তা সেলসিয়াস স্কেলে প্রায় ৩৭°C (৩৬.৮৯°C) এর সমান। সুস্থ মানুষের শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা সাধারণত এই মাত্রাতেই থাকে।
৯৯. প্রশ্ন: মাপক চোঙের সাহায্যে বৃষ্টির জল কীভাবে পরিমাপ করা হয়?
উত্তর: বৃষ্টি মাপার যন্ত্র বা রেন গেজে একটি চোঙাকৃতি পাত্র থাকে যার ওপর একটি ফানেল বসানো থাকে। বৃষ্টির পর সংগৃহীত জলের আয়তন মাপক স্কেলের সাহায্যে মাপা হয়। যেহেতু পাত্রের মুখ ও নিচের ক্ষেত্রফল সমান থাকে, তাই স্কেলের উচ্চতা থেকে বোঝা যায় ওই অঞ্চলে কত মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
১০০. প্রশ্ন: বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে পরিমাপের এককগুলি কেন আরও সূক্ষা ও নিখুঁত করা হচ্ছে?
উত্তর: আধুনিক যুগে রকেট উৎক্ষেপণ, ওষুধ তৈরি বা কম্পিউটার চিপ বানানোর মতো কাজে সামান্যতম ভুলও বড় বিপর্যয় ঘটাতে পারে। এক মিলিমিটারের হাজার ভাগের এক ভাগ পার্থক্যেও যন্ত্র বিকল হতে পারে। এই উচ্চ পর্যায়ের নির্ভুলতা বজায় রাখার জন্যই বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে পরিমাপের এককগুলি আরও নিখুঁত করা হচ্ছে।





