ষষ্ঠ অধ্যায় ‘বল ও শক্তির প্রাথমিক ধারণা’
(পৃষ্ঠা ৯৫-১১২) থেকে প্রশ্ন ও উত্তর:
[অতিসংক্ষিপ্ত।নৈর্ব্যক্তিক/সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (মান ১ বা ২)]
১. প্রশ্ন: স্থিতি কাকে বলে?
উত্তর: সময়ের সঙ্গে পারিপার্শ্বিকের সাপেক্ষে যদি কোনো বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তন না হয়, তবে সেই অবস্থাকে স্থিতি বলে।
২. প্রশ্ন: গতি বলতে কী বোঝো?
উত্তর: সময়ের সঙ্গে পারিপার্শ্বিকের সাপেক্ষে কোনো বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তন হওয়াকে গতি বলে।
৩. প্রশ্ন: বল কাকে বলে?
উত্তর: বাইরে থেকে যা প্রয়োগ করে কোনো স্থির বস্তুকে গতিশীল বা কোনো গতিশীল বস্তুর গতির পরিবর্তন করা হয়, তাকে বল বলে।
৪. প্রশ্ন: বলের SI একক কী?
উত্তর: নিউটন (N)
৫. প্রশ্ন: স্পর্শ বল কাকে বলে?
উত্তর: যে বল প্রয়োগ করার জন্য দুটি বস্তুর মধ্যে সরাসরি সংস্পর্শের প্রয়োজন হয়, তাকে স্পর্শ বল বলে। যেমন- ধাক্কা দেওয়া বা টালা।
৬. প্রশ্ন: ঘর্ষণ বল কী?
উত্তর: একটি বস্তু যখন অন্য একটি বস্তুর ওপর দিয়ে চলার চেষ্টা করে, তখন বস্তু দুটির স্পর্শতলে গতির বিরুদ্ধে যে বল কাজ করে তাকে ঘর্ষণ বল বলে।
৭. প্রশ্ন: মহাকর্ষ বল কাকে বলে?
উত্তর: এই মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তু একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, তাকে মহাকর্ষ বল বলে।
৮. প্রশ্ন: অভিকর্ষ বল কী?
উত্তর: পৃথিবী কোনো বস্তুকে যে বল দিয়ে নিজের কেন্দ্রের দিকে টানে, তাকে অভিকর্ষ বল বলে।
৯. প্রশ্ন: কাজ বা কার্য কাকে বলে?
উত্তর: কোনো বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করলে যদি বস্তুটির সরণ ঘটে (অবস্থানের পরিবর্তন হয়), তবে কাজ করা হয়েছে বলা হয়।
১০. প্রশ্ন: কার্যের গাণিতিক রূপটি কী?
উত্তর: কার্য = বল বলের অভিমুখে বস্তুর সরণ।
১১.প্রশ্ন: কার্যের SI একক কী?
উত্তর: জুল (J)
১২. প্রশ্ন: শক্তি কাকে বলে?
উত্তর: কাজ করার সামর্থ্যকে শক্তি বলে।
১৩. প্রশ্ন: যান্ত্রিক শক্তি কয় প্রকার ও কী কী?
উত্তর: দুই প্রকার- স্থিতিশক্তি ও গতিশক্তি।
১৪. প্রশ্ন: স্থিতিশক্তি কাকে বলে?
উত্তর: কোনো বস্তু তার অবস্থান বা আকৃতির পরিবর্তনের জন্য কাজ করার যে সামর্থ্য অর্জন করে, তাকে স্থিতিশক্তি বলে।
১৫. প্রশ্ন: গতিশক্তি কী?
উত্তর: কোনো বস্তু তার গতির জন্য কাজ করার যে সামর্থ্য লাভ করে, তাকে গতিশক্তি বলে।
১৬. প্রশ্ন: পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস কী?
উত্তর: সূর্য।
১৭. প্রশ্ন: খাদ্য ও জ্বালানিতে কোন শক্তি জমা থাকে?
উত্তর: রাসায়নিক শক্তি।
১৮. প্রশ্ন: বৈদ্যুতিক পাখায় তড়িৎ শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
উত্তর: যান্ত্রিক শক্তিতে।
১৯. প্রশ্ন: আলোক তড়িৎ কোষে (সোলার প্যানেল) আলোক শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
উত্তর: তড়িৎ শক্তিতে।
২০. প্রশ্ন: ডিনামোতে কোন শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
উত্তর: যান্ত্রিক শক্তি।
২১. প্রশ্ন: একটি নবীকরণযোগ্য শক্তির নাম লেখো।
উত্তর: সৌর শক্তি (বা বায়ু শক্তি)।
২২. প্রশ্ন: অনবীকরণযোগ্য শক্তি কী?
উত্তর: যে শক্তির উৎসগুলো একবার শেষ হয়ে গেলে আর সহজে ফিরে পাওয়া যায় না। যেমন- কয়লা বা খনিজ তেল।
২৩. প্রশ্ন: স্প্রিং দেওয়া ঘড়িতে কোন শক্তি সঞ্চিত থাকে?
উত্তর: স্থিতিশক্তি।
২৪. প্রশ্ন: স্থির বস্তুর গতিবেগ কত?
উত্তর: শূন্য।
২৫. প্রশ্ন: চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে- এটি কী ধরণের বল?
উত্তর: অস্পর্শ বল বা চৌম্বক বল।
২৬. প্রশ্ন: সাইকেল থামানোর জন্য ব্রেক কষলে কোন বল কাজ করে?
উত্তর: ঘর্ষণ বল।
২৭. প্রশ্ন: ‘স্প্রিং তুলা’ দিয়ে কী মাপা হয়?
উত্তর: বল বা বস্তুর ওজন।
২৮. প্রশ্ন: কোনো বস্তুকে হাত দিয়ে ঠেলে সরানো হলো- এটি কী ধরণের বল?
উত্তর: পেশিজ বল (স্পর্শ বল)।
২৯. প্রশ্ন: মহাকর্ষ বলের মান কিসের ওপর নির্ভর করে?
উত্তর: বস্তুর ভর এবং তাদের মধ্যবর্তী দূরত্বের ওপর।
৩০. প্রশ্ন: উপর থেকে আপেল মাটিতে পড়ে কেন?
উত্তর: পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের টানে।
৩১. প্রশ্ন: কাজ করার হারকে কী বলে?
উত্তর: ক্ষমতা।
৩২. প্রশ্ন: হাতে হাত ঘষলে কোন শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
উত্তর: যান্ত্রিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
৩৩. প্রশ্ন: তড়িৎ কোষে (ব্যাটারি) কোন শক্তি জমা থাকে?
উত্তর: রাসায়নিক শক্তি।
৩৪.? প্রশ্ন: লাউডস্পিকারে কোন শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
উত্তর: তড়িৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে।
৩৫. প্রশ্ন: কয়লা পোড়ালে কোন শক্তি পাওয়া যায়?
উত্তর: তাপ শক্তি ও আলোক শক্তি।
৩৬. প্রশ্ন: পেট্রোলিয়াম থেকে কোন শক্তি পাওয়া যায়?
উত্তর: রাসায়নিক শক্তি।
৩৭.প্রশ্ন: পাথর ছুড়ে কাঁচ ভাঙা হলো- এখানে পাথরের কোন শক্তি কাজ করেছে?
উত্তর: গতিশক্তি।
৩৮. প্রশ্ন: পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় তাকে কী বলে?
উত্তর: পারমাণবিক শক্তি।
৩৯. প্রশ্ন: বল প্রয়োগ করেও সরণ না হলে কাজের পরিমাণ কত হবে?
উত্তর: শূন্য।
৪০. প্রশ্ন: বায়ুকল চালাতে কোন শক্তি ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: বায়ুর গতিশক্তি।
৪১. প্রশ্ন: ঘর্ষণ বল সব সময় গতির কোন দিকে কাজ করে?
উত্তর: গতির বিপরীত দিকে।
৪২. প্রশ্ন: একটি তড়িৎ যন্ত্রের নাম করো যা তড়িৎ শক্তিকে আলোতে রূপান্তরিত করে।
উত্তর: বৈদ্যুতিক বাল্ব বা LED।
৪৩. প্রশ্ন: স্থিতিশক্তি ও গতিশক্তির যোগফলকে কী বলে?
উত্তর: যান্ত্রিক শক্তি।
৪৪. প্রশ্ন: শক্তির কি ধ্বংস বা সৃষ্টি আছে?
উত্তর: না, শক্তির সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই, কেবল এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তন হয়।
৪৫. প্রশ্ন: এসআই (SI) পদ্ধতিতে শক্তির একক কী?
উত্তর: জুল (জুল কার্য ও শক্তির উভয়েরই একক)।
৪৬. প্রশ্ন: অভিকর্ষজ ত্বরণ কাকে বলে?
উত্তর: অভিকর্ষ বলের প্রভাবে অবাধে পতনশীল বস্তুর বেগের বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে।
৪৭. প্রশ্ন: ভারী বস্তুকে সরাতে বেশি বল লাগে কেন?
উত্তর: কারণ ভারী বস্তুর জাড্য ধর্ম বেশি।
৪৮. প্রশ্ন: টানটান করা ধনুকের ছিলাতে কোন শক্তি থাকে?
উত্তর: স্থিতিশক্তি।
৪৯. প্রশ্ন: বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি তড়িৎ শক্তিকে কোন শক্তিতে রূপান্তর করে?
উত্তর: তাপ শক্তিতে।
৫০. প্রশ্ন: রান্নার গ্যাস (LPG) কোন ধরণের শক্তির উৎস?
উত্তর: রাসায়নিক শক্তি।
৫১. প্রশ্ন: একটি অস্পর্শ বলের উদাহরণ দাও।
উত্তর: স্থির তড়িৎ বল বা মহাকর্ষ বল।
৫২. প্রশ্ন: গাছ থেকে ফল নিচে পড়ার সময় কোন শক্তির বৃদ্ধি ঘটে?
উত্তর: গতিশক্তির (স্থিতিশক্তি গতিশক্তিতে রূপান্তর হয়)।
৫৩. প্রশ্ন: ঘর্ষণ কমানোর জন্য লুব্রিকেন্ট বা তেল কেন ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: স্পর্শতলকে মসৃণ করার জন্য।
৫৪. প্রশ্ন: ১ ক্যালোরি সমান কত জুল?
উত্তর: প্রায় ৪.১৮ জুল।
৫৫. প্রশ্ন: কোনো বস্তুকে স্থির রাখতে কোন বল সাহায্য করে?
উত্তর: স্থিত ঘর্ষণ বল।
৫৬. প্রশ্ন: বৈদ্যুতিক মোটরে কোন শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
উত্তর: এটি ভুল; বৈদ্যুতিক মোটরে তড়িৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
৫৭. প্রশ্ন: তড়িৎ ঘন্টায় কোন শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
উত্তর: তড়িৎ শক্তি।
৫৮. প্রশ্ন: উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় কোন শক্তি সঞ্চিত হয়?
উত্তর: সৌর শক্তি রাসায়নিক শক্তি হিসেবে সঞ্চিত হয়।
৫৯. প্রশ্ন: ‘কাজ করা হচ্ছে না’-এমন একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: কোনো ব্যক্তি দেয়াল ধাক্কা দিচ্ছে কিন্তু দেয়াল সরছে না।
৬০.? প্রশ্ন: মহাকাশে কোনো বস্তুর ওজন কত?
উত্তর: শূন্য (যদি সেখানে কোনো মহাকর্ষীয় টান না থাকে)।
[রচনামূলক / বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর (মান – ৩/৪)]
৬১. প্রশ্ন: বলের তিনটি প্রভাব উদাহরণসহ আলোচনা করো।
উত্তর: বল প্রয়োগের ফলে কোনো বস্তুর ওপর নিচের তিনটি প্রভাব দেখা যায়:
১. অবস্থার পরিবর্তন: স্থির বস্তুকে গতিশীল করা (যেমন-স্থির ফুটবলকে লাখি মারা) বা গতিশীল বস্তুকে স্থির করা (যেমন-গোলকিপারের বল ধরা)।
২. গতির দিকের পরিবর্তন: চলন্ত বস্তুর গতির মুখ বদলে দেওয়া (যেমন-ক্রিকেটে ব্যাটের আঘাতে বলের দিক পরিবর্তন)।
৩. আকৃতির পরিবর্তন: বল প্রয়োগে বস্তুর আকার বদলে দেওয়া (যেমন-স্পঞ্জ বা রবার ব্যান্ড টানা)।
৬২.? প্রশ্ন: ঘর্ষণ বল আমাদের জীবনে কেন প্রয়োজন? এর একটি সুবিধা ও একটি অসুবিধা লেখো।
উত্তর: ঘর্ষণ বল না থাকলে আমরা কোনো কাজই সঠিকভাবে করতে পারতাম না।
সুবিধা: ঘর্ষণ বল আছে বলেই আমরা মাটিতে পা দিয়ে হাঁটতে পারি, পিছলে যাই না। আবার দেশলাই কাঠি ঘষলে ঘর্ষণের ফলে উৎপন্ন তাপে আগুন জ্বলে।
অসুবিধা: ঘর্ষণের ফলে মেশিনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষয়ে যায় এবং অপ্রয়োজনীয় তাপ উৎপন্ন হয়ে শক্তির অপচয় ঘটে।
৬৩. প্রশ্ন: স্থিতিশক্তি ও গতিশক্তির মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করো।
উত্তর: কোনো বস্তু তার অবস্থান বা আকৃতির পরিবর্তনের জন্য যে শক্তি লাভ করে তাকে স্থিতিশক্তি বলে। যেমন-উঁচুতে রাখা জল বা বাঁকানো স্প্রিং।
অন্যদিকে, কোনো বস্তু তার গতির জন্য কাজ করার যে সামর্থ্য লাভ করে তাকে গতিশক্তি বলে। যেমন-চলন্ত ট্রেন বা ছোড়া পাথর। বস্তু স্থির হলে স্থিতিশক্তি থাকতে পারে, কিন্তু গতিশক্তি শূন্য হয়।
৬৪. প্রশ্ন: শক্তির সংরক্ষণশীলতা নীতিটি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: শক্তির সংরক্ষণশীলতা নীতি অনুযায়ী: “শক্তির সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই, শক্তি কেবল এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হতে পারে। মহাবিশ্বের মোট শক্তির পরিমাণ ধ্রুবক বা অপরিবর্তিত থাকে।” উদাহরণস্বরূপ, একটি বাহু জ্বালালে তড়িৎ শক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে না, বরং তা আলোক ও তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হচ্ছে।
৬৫. প্রশ্ন: মহাকর্ষ ও অভিকর্ষের মধ্যে মূল তফাত কী?
উত্তর: মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল কাজ করে, তাকে বলা হয় মহাকর্ষ। কিন্তু ওই দুটি বস্তুর মধ্যে একটি যদি পৃথিবী হয়, তবে পৃথিবী অন্য বস্তুটিকে যে বল দিয়ে টানে তাকে বলা হয় অভিকর্ষ। অর্থাৎ, সব অভিকর্ষই মহাকর্ষ, কিন্তু সব মহাকর্ষ অভিকর্ষ নয়।
৬৬. প্রশ্ন: যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর কাকে বলে? একটি উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: যান্ত্রিক শক্তি (স্থিতিশক্তি ও গতিশক্তি) যখন অন্য কোনো শক্তিতে বা এক যান্ত্রিক শক্তি অন্য যান্ত্রিক শক্তিতে পরিবর্তিত হয়, তাকে যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর বলে।
উদাহরণ: একটি পাথরকে যখন ওপরের দিকে ছোড়া হয়, তখন তার গতিশক্তি ক্রমশ কমতে থাকে এবং উচ্চতা বাড়ার ফলে স্থিতিশক্তি বাড়তে থাকে। সর্বোচ্চ বিন্দুতে পৌঁছে পাথরটির সমস্ত গতিশক্তি স্থিতিশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
৬৭. প্রশ্ন: দৈনন্দিন জীবনে শক্তির অপচয় কীভাবে ঘটে? এটি রোখার দুটি উপায় বলো।
উত্তর: অপ্রয়োজনীয় আলো বা পাখা চালিয়ে রাখা, পুরোনো আমলের বাল্ব ব্যবহার করা এবং ত্রুটিপূর্ণ মেশিনে ঘর্ষণের ফলে তাপ উৎপন্ন হওয়া-এসবের মাধ্যমে শক্তির অপচয় ঘটে।
রোখার উপায়: ১. কাজ শেষ হলে বৈদ্যুতিক সুইচ বন্ধ রাখা।
২. ঘর্ষণ কমাতে মেশিনে লুব্রিকেন্ট বা তেল ব্যবহার করা।
৬৮. প্রশ্ন: খাদ্য থেকে আমরা কীভাবে শক্তি পাই?
উত্তর: খাদ্যের মধ্যে সৌর শক্তি রাসায়নিক শক্তি হিসেবে সঞ্চিত থাকে। যখন আমরা খাবার খাই, তখন আমাদের শরীরের ভেতরে শ্বসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই রাসায়নিক শক্তি ভেঙে তাপ শক্তি ও যান্ত্রিক শক্তি উৎপন্ন হয়। এই শক্তিই আমাদের হাঁটাচলা, কথা বলা ও শরীরের অভ্যন্তরীণ কাজগুলো করতে সাহায্য করে।
৬৯. প্রশ্ন: স্পর্শ বল ও অস্পর্শ বলের দুটি করে উদাহরণ দাও।
উত্তর: স্পর্শ বল: ১. হাত দিয়ে আলমারি ঠেলা (পেশিজ বল)।
২. মেঝের ওপর দিয়ে বল গড়িয়ে গেলে ঘর্ষণ বল।
অস্পর্শ বল: ১. চুম্বক দিয়ে লোহাকে টানা (চৌম্বক বল)।
২. চিরুনি দিয়ে মাথার চুল আঁচড়ানোর পর কাগজের টুকরো টানা (স্থির তড়িৎ বল)।
৭০.? প্রশ্ন: সৌর শক্তির দুটি ব্যবহার লেখো। একে কেন ‘ভবিষ্যতের শক্তি’ বলা হয়?
উত্তর: ব্যবহার: ১. সোলার প্যানেলের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন।
২. সোলার কুকারে রান্না করা।
সৌর শক্তি অফুরন্ত এবং এটি ব্যবহার করলে পরিবেশ দূষণ হয় না। কয়লা বা খনিজ তেল একদিন ফুরিয়ে যাবে, কিন্তু সূর্য কোটি কোটি বছর আলো দেবে। তাই একে ভবিষ্যতের শক্তির প্রধান উৎস বলা হয়।
৭১. প্রশ্ন: কাজ বা কার্য কখন ‘শূন্য’ হয়? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যদি বল প্রয়োগ করার ফলেও বস্তুর কোনো সরণ (অবস্থান পরিবর্তন) না ঘটে, তবে বিজ্ঞানের ভাষায় কাজ ‘শূন্য’ হয়।
উদাহরণ: ১. কেউ যদি একটি দেওয়ালকে জোরে ধাক্কা দেয় কিন্তু দেওয়ালটি না নড়ে, তবে কাজের পরিমাণ শূন্য।
২. মাথায় ঝুড়ি নিয়ে কেউ যদি একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে, তবে কোনো কাজ হচ্ছে না।
৭২. প্রশ্ন: স্থিতিশক্তি থেকে গতিশক্তিতে রূপান্তরের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: পাহাড়ের ওপর বা ড্যামে জমিয়ে রাখা জলের মধ্যে প্রচুর স্থিতিশক্তি থাকে। যখন ওই জলকে নিচে ছেডে দেওয়া হয়, তখন জলের উচ্চতা কমতে থাকে এবং সেই স্থিতিশক্তি প্রবল গতিশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এই গতিশক্তিকেই কাজে লাগিয়ে জলবিদ্যুৎ তৈরি করা হয়।
৭৩. প্রশ্ন: ঘর্ষণ বল কমানোর দুটি পদ্ধতি আলোচনা করো।
উত্তর: ১. লুব্রিকেন্ট ব্যবহার: মেশিনের ঘূর্ণায়মান অংশে গ্লিজ, তেল বা মবিল ব্যবহার করলে ঘর্ষণ অনেক কমে যায়।
২. বল-বেয়ারিং ব্যবহার: চাকা বা মেশিনের অক্ষের মধ্যে ছোট ছোট ইস্পাতের বল ব্যবহার করলে ঘর্ষণ অনেক কমে যায় এবং যন্ত্রটি সহজে ঘোরে।
৭৪. প্রশ্ন: বায়ু শক্তি কীভাবে কাজে লাগানো হয়? এর একটি সুবিধা লেখো।
উত্তর: বায়ুপ্রবাহের গতিশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বড় বড় বায়ুকল (Windmill) ঘোরানো হয়। এই ঘূর্ণন থেকে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়।
সুবিধা: এটি একটি পরিবেশবান্ধব শক্তি এবং এটি ব্যবহারের ফলে কোনো বিষাক্ত গ্যাস উৎপন্ন হয় না।
৭৫.? প্রশ্ন: ডিনামো এবং মোটরের মধ্যে শক্তির রূপান্তরের পার্থক্য কী?
উত্তর: ডিনামোতে যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয় (যেমন-সাইকেলের ডিনামো)। অন্যদিকে, ইলেকট্রিক মোটরে তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয় (যেমন-বৈদ্যুতিক পাখা বা পাম্প)।
৭৬. প্রশ্ন: স্থিতিজাড্য ও গতিজাড্য কাকে বলে?
উত্তর: স্থির বস্তুর চিরকাল স্থির থাকার প্রবণতাকে বলা হয় স্থিতিজাড্য (যেমন-বাস হঠাৎ চলতে শুরু করলে যাত্রীরা পিছিয়ে পড়ে)।
গতিশীল বস্তুর চিরকাল গতি বজায় রাখার প্রবণতাকে বলা হয় গতিজাড্য (যেমন-চলন্ত বাস হঠাৎ থামলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে)।
৭৭. প্রশ্ন: কেন আমরা ভিজে মেঝেতে পা দিলে পিছলে যাই?
উত্তর: মেঝে শুকনো থাকলে জুতো ও মেঝের মধ্যে যথেষ্ট ঘর্ষণ বল কাজ করে, যা আমাদের স্থির রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু মেঝে ভিজে থাকলে জল বা সাবান মেঝের খসখসে ভাব কমিয়ে দেয়, ফলে ঘর্ষণ বল অনেক কমে যায়। ঘর্ষণ বল কম হওয়ার কারণেই আমরা ভারসাম্য হারিয়ে পিছলে যাই।
৭৮. প্রশ্ন: জ্বালানি পোড়ালে কোন শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
উত্তর: কাঠ, কয়লা বা পেট্রোলের মতো জ্বালানির মধ্যে রাসায়নিক শক্তি সঞ্চিত থাকে। যখন এগুলো পোড়ানো হয়, তখন ওই রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তি ও আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে এই তাপ শক্তিকে আবার যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে গাড়ি চালানো হয়।
৭৯.? প্রশ্ন: পারমাণবিক শক্তি কাকে বলে? এর একটি ব্যবহার লেখো।
উত্তর: পরমাণুর নিউক্লিয়াসকে বিভাজন (Fission) করে যে বিপুল পরিমাণ শক্তি পাওয়া যায় তাকে পারমাণবিক শক্তি বলে।
ব্যবহার: পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এই শক্তি ব্যবহার করে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
৮০. প্রশ্ন: নবীকরণযোগ্য ও অনবীকরণযোগ্য শক্তির দুটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
উত্তর: ১. নবীকরণযোগ্য শক্তি অফুরন্ত এবং কখনো শেষ হয় না (যেমন-সৌর শক্তি), কিন্তু অনবীকরণযোগ্য শক্তি সীমিত এবং ব্যবহারের ফলে ফুরিয়ে যায় (যেমন-কয়লা)।
২. নবীকরণযোগ্য শক্তি পরিবেশ দূষণ ঘটায় না, কিন্তু অনবীকরণযোগ্য শক্তি পুড়লে কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ নানা ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হয়।
৮১. প্রশ্ন: মহাকর্ষ বল কেন সব বলের চেয়ে আলাদা?
উত্তর: মহাকর্ষ বল হলো একটি আকর্ষণ বল যা বস্তুর ভরের ওপর নির্ভর করে। এটি কোনো স্পর্শ ছাড়াই কাজ করে। মহাবিশ্বের গ্রহ, নক্ষত্র থেকে শুরু করে সামান্য ধূলিকণা-সবার ওপর এই বল ক্রিয়াশীল। এই বলের টানেই পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে এবং চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে।
৮২. প্রশ্ন: ব্যাটারির সাহায্যে বাল্ব জ্বালালে শক্তির কী কী রূপান্তর ঘটে?
উত্তর: প্রথমে ব্যাটারির মধ্যে থাকা রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এরপর সেই তড়িৎ শক্তি বাল্বের ফিলামেন্টের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় তাপ শক্তি ও আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
৮৩.? প্রশ্ন: কোনো বস্তুকে ওপরের দিকে ছুড়ে দিলে তার ওজনের কী পরিবর্তন হয়?
উত্তর: বস্তুর ওজন নির্ভর করে পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের ওপর। কোনো বস্তুকে ওপরে ছুড়লেও পৃথিবীর টান তার ওপর বজায় থাকে, তাই তার প্রকৃত ওজনের পরিবর্তন হয় না (যদিও উচ্চতা অনেক বেশি বাড়লে ওজন সামান্য কমতে পারে, যা সাধারণ ক্ষেত্রে বোঝা যায় না)। তবে বস্তুর ভরের কোনো পরিবর্তন হয় না।
৮৪.? প্রশ্ন: কয়লা ও খনিজ তেলকে কেন ‘জীবাশ্ম জ্বালানি’ বলা হয়?
উত্তর: লক্ষ লক্ষ বছর আগে মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ (জীবাশ্ম) মাটির নিচে প্রচণ্ড চাপে ও তাপে রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কয়লা ও তেলে পরিণত হয়েছে। যেহেতু এগুলো জীবের ধ্বংসাবশেষ থেকে তৈরি, তাই এদের জীবাশ্ম জ্বালানি বলা হয়।
৮৫.? প্রশ্ন: সাইকেল চালানোর সময় আমাদের শরীরের পেশিজ শক্তি কোন কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
উত্তর: সাইকেল চালানোর সময় শরীরের পেশিজ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয় যা সাইকেলের চাকা ঘরায়। এর কিছু অংশ ঘর্ষণের ফলে তাপ শক্তিতে পরিণত হয় এবং সাইকেলের ডিনামো থাকলে তা তড়িৎ শক্তিতেও রূপান্তরিত হতে পারে।
৮৬.? প্রশ্ন: বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি কীভাবে কাজ করে? এখানে শক্তির রূপান্তর কী?
উত্তর: বৈদ্যুতিক ইস্ত্রির ভেতরে থাকা নাইক্রোম তারের কয়েল তড়িৎ প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে। এখানে তড়িৎ শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এই তাপই জামাকাপড়ের ভাঁজ দূর করতে ব্যবহৃত হয়।
৮৭.? প্রশ্ন: জলাশয়ের জল বাষ্পীভূত হয়ে মেঘ হওয়ার সময় শক্তির কী রূপান্তর ঘটে?
উত্তর: সূর্যের তাপ শক্তি গ্রহণ করে জলাশয়ের জল বাষ্পে পরিণত হয়। এখানে তাপ শক্তি জলের অণুর গতিশক্তি বাড়িয়ে দেয়। এরপর বাষ্প যখন ওপরে উঠে মেঘ হিসেবে জমা হয়, তখন উচ্চতার কারণে তাতে স্থিতিশক্তি সঞ্চিত হয়।
৮৮.? প্রশ্ন: নিউটনের প্রথম গতিসূত্রটি বিবৃত্ত করো। এখান থেকে কী জানা যায়?
উত্তর: “বাইরে থেকে বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু চিরকাল সমবেগে সরলরেখা ধরে চলতে থাকবে।” এখান থেকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা যায়- ১. পদার্থের জাড্য ধর্ম এবং ২. বলের সংজ্ঞা।
৮৯.? প্রশ্ন: হাতে হাত ঘষলে গরম লাগে কেন?
উত্তর: দুই হাতের তালু যখন একে অপরের ওপর দিয়ে ঘষা হয়, তখন তাদের মাঝখানে ঘর্ষণ বল তৈরি হয়। এই ঘর্ষণ বলের বিরুদ্ধে কাজ করার ফলে যান্ত্রিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এই তাপের কারণেই আমাদের হাত গরম লাগে।
৯০.? প্রশ্ন: বাঁধের নিচে টারবাইন রাখা হয় কেন?
উত্তর: বাঁধের ওপরের সঞ্চিত জলের মধ্যে প্রচুর স্থিতিশক্তি থাকে। জল যখন প্রবল বেগে নিচে পড়ে, তখন সেই স্থিতিশক্তি গতিশক্তিতে পরিণত হয়। এই প্রবল গতিশীল জল টারবাইনের ব্লেডে ধাক্কা দিলে টারবাইন ঘোরে, যার ফলে জেনারেটর থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।
৯১.? প্রশ্ন: দহনের ফলে কোন কোন শক্তি পাওয়া যায়? একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: দহন বা কোনো কিছু পোড়ানোর ফলে মূলত তাপ শক্তি ও আলোক শক্তি পাওয়া যায়। যেমন-একটি মোমবাতি জ্বালালে মোমের রাসায়নিক শক্তি পুড়ে তাপ ও আলো উৎপন্ন করে।
৯২.? প্রশ্ন: মহাকাশচারীরা মহাকাশে ওজনহীনতা অনুভব করেন কেন?
উত্তর: মহাকাশযানে যখন কোনো মহাকাশচারী থাকেন, তখন মহাকাশযানটি পৃথিবীর টানে অনবরত অবাধে নিচের দিকে পড়তে থাকে (অরবিটে থাকার সময়)। অবাধে পতনশীল বস্তুর ওপর কোনো প্রতিক্রিয়া বল থাকে না, তাই তারা নিজেদের ওজনহীন মনে করেন।
৯৩.? প্রশ্ন: লাউডস্পিকার ও মাইক্রোফোনের মধ্যে শক্তির রূপান্তরের পার্থক্য কী?
উত্তর: মাইক্রোফোনে শব্দ শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয় (যেমন-কথা বলার সময়)। অন্যদিকে, লাউডস্পিকারে তড়িৎ শক্তি পুনরায় শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয় (যেমন-গান শোনার সময়)।
৯৪.? প্রশ্ন: পরিবেশ রক্ষায় অপ্রচলিত শক্তির গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর: প্রচলিত শক্তি (কয়লা, তেল) পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড ইত্যাদি নির্গত হয়ে গ্লোবাল ওয়ার্মিং ও দূষণ ঘটায়। কিন্তু অপ্রচলিত বা নবীকরণযোগ্য শক্তি (সৌর, বায়ু, জোয়ার-ভাটা) দূষণমুক্ত। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এদের গুরুত্ব অপরিসীম।
৯৫. প্রশ্ন: ‘ক্ষমতা’ বলতে কী বোঝো? এর একক কী?
উত্তর: কাজ করার হারকে ক্ষমতা বলে। অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি বা যন্ত্র একক সময়ে যে পরিমাণ কাজ করে, তাকে ক্ষমতা বলা হয় (ক্ষমতা কার্য/ সময়)। ক্ষমতার SI একক হলো ওয়াট (Watt)।
৯৬. প্রশ্ন: পেন্ডুলামের গতির ক্ষেত্রে শক্তির রূপান্তর বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: একটি পেন্ডুলাম যখন এক পাশে সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছায়, তখন তার সমস্ত শক্তি থাকে স্থিতিশক্তি। এরপর যখন সে মাঝখানের দিকে আসে, স্থিতিশক্তি কমতে থাকে এবং গতিশক্তি বাড়তে থাকে। একদম মাঝখানে তার গতিশক্তি সর্বাধিক হয়।
৯৭. প্রশ্ন: পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যকার মহাকর্ষ বল না থাকলে কী হতো?
উত্তর: পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যকার মহাকর্ষ বল না থাকলে চাঁদ তার কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে মহাকাশে হারিয়ে যেত। এর ফলে পৃথিবীতে জোয়ার-ভাটা নিয়মিত হতো না এবং পৃথিবীর আহ্নিক গতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ত।
৯৮. প্রশ্ন: বিদ্যুৎ সাশ্রয়কারী LED বাল্ব সাধারণ বাল্বের চেয়ে কেন ভালো?
উত্তর: সাধারণ ফিলামেন্ট বাল্বে শক্তির সিংহভাগ তাপ হিসেবে অপচয় হয়, আলো পাওয়া যায় খুব কম। কিন্তু LED বাল্বে খুব সামান্য তড়িৎ শক্তিতেই উজ্জ্বল আলো পাওয়া যায় এবং তাপের অপচয় প্রায় হয় না বললেই চলে। তাই এটি অনেক বেশি সাশ্রয়ী।
৯৯. প্রশ্ন: তড়িৎ প্রবাহের ফলে চৌম্বক শক্তির সৃষ্টির একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: একটি লোহার পেরেকের গায়ে তামার তার জড়িয়ে তাতে ব্যাটারি দিয়ে বিদ্যুৎ পাঠালে পেরেকটি সাময়িকভাবে চুম্বকে পরিণত হয়। একে ‘তড়িৎ চুম্বক’ বলে। এখানে তড়িৎ শক্তি চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
১০০. প্রশ্ন: আধুনিক পৃথিবীতে শক্তির সংকট কেন দেখা দিচ্ছে?
উত্তর: জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং কলকারখানা ও যানবাহনের আধিক্যের কারণে শক্তির চাহিদা প্রবলভাবে বাড়ছে। আমরা মূলত অনবীকরণযোগ্য শক্তির ওপর নির্ভরশীল, যার ভাণ্ডার শেষ হয়ে আসছে। এই বিপুল চাহিদা ও সীমিত জোগানের কারণেই পৃথিবীতে শক্তির সংকট দেখা দিচ্ছে।





